হারবালের শহর জয়পাড়া; চলছে চিকিৎসার নামে প্রতারণা

দোহার উপজেলায় হারবাল চিকিৎসার নামে চলছে অপচিকিৎসা। সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে হারবাল প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অশ্লীল ভাষায় পত্রপত্রিকা, ডিশ চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করে ব্যবসা জোরদার করছে। মানুষের  অজ্ঞতাকে পুজি করে  হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ১০০% গ্যারান্টি, নিশ্চিত ফলাফল। আর এতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে রোগীরা।

দোহারে প্রায় ১৫-২০টি হারবাল, ইউনানি, কবিরাজি-দাওয়াখানার চিকিৎসার নামে এ রকম ভূঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো যৌন সমস্যা, অর্শ্বগেজ, জন্ডিস, লিভারের সমস্যা, ডায়াবেটিস, আলসার, মুখের কালো দাগ, ব্রেস্ট ছোট বড়, চিকন ও মোটা স্বাস্থ্য করা, অনিদ্রা, কাশি, হাঁপানি, অ্যাজমা, পাইলস অজীর্ণ, পেট ফাঁপা, একজিমা, গ্যাস্ট্রিক ও চুল উঠে যাওয়া রোগের চিকিৎসার শতভাগ গ্যারান্টি দেয়ার কথা দেয়ার কথা বলে উপজেলা তিনটির ডিশ চ্যানেল ও পোস্টার লাগানোসহ বিভিন্ন কায়দায় বিজ্ঞাপন প্রচার করে প্রলুব্ধ করছে সাধারণ রোগীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোহার উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়ায় উপজেলা ও থানা প্রশাসনের নাকের ডগায় চলে হারবাল নামে প্রায় ৭-৮টি হারবাল নামে আজগুবি প্রতিষ্ঠান।

শিমুলিয়া গ্রামের চিকিৎসা নিতে আসা গৃহবধূ হাসিনা বেগম  জানান চিকিৎসার নামে তার কাছ থেকে হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হারবাল চিকিৎসক

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবদুল্লাহ দাওয়াখানার কথিত হাকিম মো. শফিকুল ইসলাম প্রথমে কার্তিকপুরে একটি দাওয়াখানা দিয়েছিলেন। সেখানে খুব বেশি সুবিধা করতে না পেরে পরে উপজেলার জয়পাড়া থানার মোড়ের বেগম আয়েশা মার্কেটের নিচতলায় তা স্থানান্তর করেন। এরপর সেখানেও রোগীপত্র না পাওয়ায় আবার তা স্থানান্তর করে চলে আসেন জয়পাড়া সরকারি হাসপাতাল রোডের কৃষি ব্যাংকের নিচে। সেখান থেকে খুচরা বিক্রয়সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফার্মেসিতে গিয়ে তিনি এসব বেনামি কোম্পানির দাওয়াই পাইকারি সরবরাহ করেন।

উপজেলার হাইস্কুল মার্কেটের দোতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ হারবাল মেডিকেলের বিরুদ্ধে রয়েছে হাজারও অভিযোগ। এ প্রতিষ্ঠানটি আগে ছিল কলকাতা হারবাল নামে। পরে বেকায়দায় পরে এর নাম পরির্বতন করে রাখা হয় বাংলাদেশ হারবাল মেডিকেল। প্র

তিষ্ঠানটির মালিক বরিশালের মেহিন্দীগঞ্জের জাকির হোসেন (৬৫)। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন তার ছেলে সুজন। দীর্ঘদিন দোহার উপজেলায় এ হারবাল প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় রোগীদের অপচিকিৎসা দিয়ে বেশ লাভবান হওয়ায় পরে নবাবগঞ্জ উপজেলায়ও একটি হারবাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। তবে কিছুদিন পরে বেশ কয়েকজন রোগী ঐ হারবাল চেম্বার থেকে প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতিবাদ করায় তা বন্ধ করে দেয় স্থানীয় জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, আটা-ময়দার গোলা ও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করা কথিত ওষুধ প্লাস্টিক ও কাঁচের বোতলে ভরে লাখ লাখ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ডিশ চ্যানেলে প্রতি মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করে মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা হয়।

দোহার পৌরসভা ৩ নং ওয়ার্ড: সমস্যার কোন শেষ নেই

দোহার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড উত্তর জয়পাড়া, সাহেব বাজার, ব্যাঙ্গার চক,এবং ইসলাম পুর নিয়ে গঠিত। এলাকাটিতে প্রায় ৪ হাজার লোকের বাস। এদের মধ্যে অধিকাংশই কারিকর সম্প্রদায়ের। এখানে রয়েছে ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,৮ টি মসজিদ এবং ২ টি মন্দির এবং ২ টি বাজার।

দোহার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের জনগণের অভিযোগ তারা পৌর এলাকায় দীর্ধদিন ধরে বসবাস করলেও পৌরসভার তেমন কোন সুযোগ সুবিধাই পাচ্ছেনা। তাদের মাঝে মাঝে কেউ কেউ বলেন “আমরা প্রতি বছর কর দিয়ে আসছি কিন্তু পৌরসভার কোন সুযোগ সুবিধা পাই না”

সরজমিনে এলাকায় পরিদর্শন করে দেখা গেছে। এখানে রয়েছে ড্রেনেজ সমস্যা। অল্প কিছু জায়গা নিয়ে ড্রেন তৈরি করা হলেও তা যথেষ্ট নয়। ফলে অল্প বৃস্টিতেই এলাকার বেশীর ভাগ স্থানে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ফলে বিপাকে পড়ে সাধারণ জনগণ। এছাড়াও রয়েছে মশা,সুপেয় পানি,পাবলিক টয়েলেট, খেলার মাঠ,ভাঙ্গা রাস্তাসহ মাদকের মত ভয়াবহ অন্যান্য সমস্যা।

সড়কে বাতি থাকলেও বেশীর ভাগ বাতিই রাতের বেলা জ্বলেনা। ফলে অন্ধকারে ঘটছে চুরি,ছিনতাইয়ের মত ঘটনা। এ বিষয়ে ৩নং ওয়ার্ডের কমিশনার এস এম কুদ্দুসের সাথে নিউজ ৩৯ থেকে বারবার যোগাযোগের চেস্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে সংরক্ষিত মহিলা কমিশনার খালেদা আক্তার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজ ৩৯ কে বলেন ” সব সমস্যা এক সাথে সমাধান করা যায় না। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাতে জনগণের দুর্ভোগ কমানো যায়। কিন্তু দু:খের বিষয় হল আমাদের কাজের জন্য যে পরিমাণ টাকা দরকার তা আমরা পাই না। জনগণ কর দেয়না। তাই টাকাও পাওয়া যায়না। এ কারনে কাজও ঠিকমত হয়না।তবে আমরা চেস্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা গুলোর সমাধান করতে।

থানার মোড়ে আগুনে কনফেকশনারী ভস্মীভূত

দোহারের জয়পাড়ার থানার মোড়ে অবস্থিত হারুন মেম্বারের সুপার মার্কেটে রাকিব স্টোর নামে এক কনফেকশনারি দোকানে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে। এতে দোকানে রাখা মালামাল নগদ অর্থ পুড়ে  যায়।  শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে এলাকাবাসী জানান।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার  রাতের কোনো এক সময় উপজেলার জয়পাড়া থানার মোড়ে অবস্থিত রাকিব স্টোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাত ৩টার দিকে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস তাত্ক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময়ে দোহার থানা পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জাপানের তিমি শিকারের সিদ্ধান্ত

0

আগামী বছর থেকে আবারও অ্যান্টার্কটিকায় তিমি শিকার শুরু করবে বলে এক ঘোষণায় জানিয়েছে জাপান। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) জাপানকে সব ধরনের তিমি শিকার বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও দেশটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাপান সরকার জানিয়েছে, সংশোধিত নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ছোট আকারের মিঙ্কি তিমি শিকার বছরে দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনবে। অর্থাৎ আগে যেখানে এক হাজার মিঙ্কি তিমি শিকার করতো তা কমিয়ে ৩শ’ ৩৩-য়ে নামিয়ে আনা হচ্ছে এবং আদালতের রায় বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জাপানের দাবি, তাদের এই পরিকল্পনা বৈজ্ঞানিকভাবেই পরিমিত ও গ্রহণযোগ্য।

তবে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন এবং অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের সরকার জাপানের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, “জাপান সরকারের আবারও তিমি শিকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছিনা। আন্তর্জাতিকভাবে যে তিমি শিকার নিষিদ্ধ এটার অবমাননা করে এ সিদ্ধান্ত”।

অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ মন্ত্রী গ্রেগ হান্ট বলেন, “তথাকথিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হিসেবে তিমি শিকারের এই ধারণা আমরা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারিনা”।

১৯৮৭ সাল থেকে জাপান তিমি শিকার কর্মসূচি চালু করে। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিকভাবে এই কর্মসূচি সমালোচনার মুখে পড়ে। ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে জাপানের বিরুদ্ধে তিমি শিকার সম্পর্কিত একটি মামলায় জয়ী হয় অস্ট্রেলিয়া। জাপানের ‘বৈজ্ঞানিক তিমি শিকার’ কর্মসূচি যে আসলে বৈজ্ঞানিক নয় এটি আদালতে রায়ে বলা হয়। আইসিজে জাপানকে সব ধরনের তিমি শিকার বন্ধের নির্দেশ দিয়ে জানায়, দেশটি ২০০৫ সাল থেকে প্রতি বছর ৩৬০০ মিঙ্কি তিমি শিকার করে আসছে

প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার রেশ রাজনীতিতেই বেশি থাকে; স্মৃতিতে দোহারের রাজনীতি

0

রাজনীতি শব্দের মূল অর্থ অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। স্বীয় অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে অনুসৃত নীতির নাম রাজনীতি।এককালে ছিল রাজা। তিনি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে প্রণয়ন করতেন নীতি। সেখান থেকেই রাজনীতি শব্দের জন্ম। আজকে রাজা নেই, আছে রাজনীতি। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক নেতাই তার নিজ নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে কিছু নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করে রাজনীতিতে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা চালায়। যে যত বেশী অন্যের মেধা, যোগ্যতা, প্রভাব প্রতিপত্তি ব্যবহার করতে পারবে সে তত কৌশলী নেতায় পরিনত হবে।সব শ্রেণী-পেশার মানুষ তথা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে রাজনৈতিক সংগঠন বা রাজনৈতিক দল গড়ে উঠলেও রাজনৈতিক দলের নেতারা এখন জনগনের বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে নিজ স্বার্থে বেশী ব্যস্ত। এক সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবিরাম চলত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এখন চলে নিজ স্বার্থ রক্ষার অবিরাম যুদ্ধ।যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য সেনাপতি যেভাবে প্রণয়ন করেন রণকৌশল ঠিক একইভাবে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেও চলে ধোঁকাবাজি। তবে সেটা নিজ অস্তিত্ব রক্ষার মাঝে এখন সীমাবদ্ধ।আগে ছিল দলীয় অস্তিত্ব রক্ষা মুখ্য বিষয়। কিন্তু বর্তমানে নিজ অস্তিত্ব রক্ষাই মূখ্য বিষয়।সে জন্য প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দেওয়ার লক্ষ্যে সকাল-বিকাল কৌশলের হয় পরিবর্তন। দ্বিতীয় মেয়াদে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর থেকে দোহার থানার আওয়ামী রাজনীতিতে দলীয় অস্তিত্ব রক্ষার পরিবর্তে নিজ নিজ অতিত্ব রক্ষার সংগ্রাম ছিল প্রবল। এতে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু দলীয় রাজনীতি অনেকটা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছিল। সাবেক বামপন্থী পরিশ্রমী সৎ আদর্শের নেতাখ্যাত এ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান মন্ত্রী হবার পর দোহার থানার দলীয় রাজনীতির চিত্র ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে থাকে।মন্ত্রী বলয়ের বাইরের ত্যাগী নেতাদের পদে পদে বঞ্চিত-অবহেলিত ও অবমূল্যায়ন করা হয়। জয়পাড়া কেন্দ্রীক রাজনীতিতে সৎ , পরিশ্রমী নেতা তৈরীর কারিগর খ্যাত সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ নিরবতা অবলম্বন করেন নিজের সন্মান ধরে রাখতে। দোহারের রাজনীতি হয়ে পড়ে মন্ত্রীর ভাই মোতালেব খান কেন্দ্রীক। দোহারের টেন্ডার, হাট বাজার ইজারা, দখল, চাদাবাজি সবই তিনি নিয়ন্ত্রন করতেন। এমন কি কিছু কিছু নেতাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিতও করা হয়। ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে দোহার থানার নেতাদের ক্ষমতার মোহের ঘুম ভেঙ্গেছে যে, সকলকে এক কাতারে শামীল করে নিজ অস্তিত্ব রক্ষার শেষ কৌশলটি প্রয়োগ করা। আপাত দৃষ্টিতে দোহার থানার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় আমার এটাই মনে হয়।ঠিক যেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ মতো। তিনি তার ‘এখন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব’ শীর্ষক নিবন্ধে “আমরা আর কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হব না।“ তেমনি দোহারের রাজনীতিতে এক নেতা অন্য নেতাকে ক্ষমতায় যাওযার বা ক্ষমতাকে ধরে রাখার সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহার করার কৌশল নিয়ে কাজ করছে। আমি বলব কেউ কাউকে সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহার করতে পারে না, যদি না সে ইচ্ছাকৃত ব্যবহৃত হয়। কারো ক্ষততায় যাওযার সিঁড়ি হওয়া আর নিজকে সমর্পন করা এক নয়। কিছূ নেতা নিজের ক্ষৃদ্র স্বার্থের জন্য নিজের নিজস্বতাকে অন্যের মাঝে বিলীন করে দিযে তার আদর্শের কর্মীদের হতাশার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। রাজনীতিতে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না, প্রত্যেকেই প্রত্যেকের শত্রু। শুধু কিছু কমন স্বার্থের কারনে মিত্র থাকে সাময়িক সময়ের জন্য।আসলে রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই ।অতীতে নেতার প্রতি কর্মীদের বিশ্বাস, সন্মান, শ্রদ্ধাবোধ সবই ছিল।কিন্তু বর্তমানে সেটা কর্মীদের মাঝে অনুপস্থিত। তার কারন বর্তমান নেতারা কর্মীদের অর্থ কামানোর হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে।বর্তমানে অধিকাংশ নেতা তার মতাদর্শের কর্মীদের দলীয় আদর্শের কথা খুবএকটা বলে না, কর্মীদের নিয়ে ভবিষ্যত রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা মূলক কোন বৈঠক করে না। তবে বৈঠক করে সেই বৈঠকের এজেন্ডা থাকে কিভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যায, কিভাবে দখলবাজি, চাঁদাবজি, টেন্ডারবাজি করা যায়।একসময় অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাস নিয়ে কর্মীরা নেতাদের কাছে আসত এবং শোনাতেন সফল হওয়ার অনায়াস উপায়।এক সময় কর্মীরা আসত সবাই বঙ্গবন্ধুর ‘বিরল’ সৈনিক হিসাবে। নেতার প্রতি আনুগত্য কর্মী হিসাবে। কিন্তু বর্তমানে কর্মীরাও নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে বৈধ অবৈধ পথে টাকা কামানোর ধান্ধায় ব্যস্ত। অতীতে নেতারা দলীয় বিভাজনের সংকীর্ণতায় থাকতেন কম, যা র্বতমানে ব্যাপক।আগে নেতাদের সব দল ও মতের মানুষের প্রতিই ছিল তার অবারিত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। যা বর্তমানে পুরোটাই অনুপস্থিত। ২০১৪ সালের ৫ ই জানুয়ারীর নিবাচনে মান্নান খান প্রাথী হলে নিজের এবং ভাই মোতালেব খান এর কিছু বিতকিত কমকান্ড আর দলীয় নেতাদের বিরোধীতার কারনে জাতীয় পাটির সালমা ইসলাম পাশ করেন। মান্নান খান ফেল করার পর দোহারের রাজনৈতিক চিত্র ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে থাকে।

বর্তমানে দোহারের রাজনীতিতে কিছু পরিচিত নেতা ভেলকিবাজের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এতে দোহারের রাজনীতিতে একটা নেতিবাচক বার্তাই পাচ্ছেন জনগন। সামনের দিন গুলিতে দোহার তথা সারা বাংলাদেশের রাজনীতি যে সংঘাতময় হয়ে উঠবে তা অনেকেই আঁচ করতে পারছে না। তাই সংকীর্ণমনা, হিংসাপরায়ণ এবং দায়িত্বহীনতা নিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা খুবই কষ্ট হবে। কাজেই রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশে সর্বাত্মক সম্পর্কোন্নয়নে যুক্তিহীন, অর্থহীন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কারো উচিত নয়।একে অপরের প্রতি অর্থহীন, যুক্তিহীন হিংসা ও জেদের কারণে উভয় পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়বে তাতে সন্দেহ নেই। এতে নেতারা যেমন জনগন তথা কর্মীদের সহানুভূতি-সমর্থন থেকে বঞ্চিত হবেন, তেমনি জনগনও নেতাদের কাছ থেকে ভাল কিছু পাবেন না।প্রতিটি রাজনৈতিক সচেতন মানুষের চলমান কালপ্রবাহের বাঁকে বাঁকে একেকটি ক্রান্তিকাল আসে। সে ক্রান্তিকালে যদি সে অদম্য সাহস ও ধীরস্থির ভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় এবং সর্বক্ষেত্রে একটা ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়। জীবন চলার পথে পরবর্তী সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় রশদ সম্ভারের আর কোনো অভাব হয় না।মানষিক শক্তি, মনের দৃঢ়তা আর অদম্য সাহসকে সঙ্গী করে যে কোন ক্রান্তিকালকে অতিক্রম করতে হবে। দূরদর্শিতা, সাহস ও সময়োচিত সিদ্ধান্তের ফলে।ইতিহাসে এরকম অনেক দৃষ্টান্ত আছে।

যাকে ঘিরে আমার রাজনৈতিক জীবন উত্থানের সূচনা, সেই পরিশ্রমী, ত্যাগী, সৎ আদর্শের প্রতীক সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ দল ক্ষমতাসীন হবার পর দোহার থানার রাজনীতিতে নিরব ভূমিকা পালন করে। তার এই নিরবতায় অনেকেই খুশী। আবার অনেকে দাঁত কেলিয়ে হি হি করে হাসছেন, কিন্তু তার প্রতি যারা অনুগত তারা সহজেই তার এই নিরবতা মেনে নিতে পারেনি।মেনে নিতে পারেনি অন্য কোন নেতার নেতৃত্বকে।তাই তার একান্ত অনুগতরাও থেকেছেন তারই মতো নিরব।

কিন্তু তার এই নিরবতা তার একান্ত কাছের যারা তারা মেনে নিতে পারেনি। তাই তাকে আবার রাজনীতিতে সরব হবার অনুরোধ করা হয়। গত উপজেলা নিবাচনের সময় দলীয় প্রাথীর পক্ষে জোড়ালো ভুমিকা পালন করে আবার নিজের অবস্থান সুসংহত করেন। সবশেষ দোহার উপজেলা উপনিবাচনে বাবুল চেয়ারম্যান সহ অন্য নেতাদের পিছনে ফেলে দলীয় প্রাথী হন দোহার থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন। উপনিবাচনে পৌরসভার দায়িত্বসহ অন্য কয়েকটি ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করে সালমান এফ রহমান সহ অন্য নেতাদের নজরে আসেন। তাই সামনে দোহার পৌরসভা নিবাচনে তার প্রাথী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠে। তার চরিত্রের একটা বৈশিষ্ট্য তিনি বিবেকবর্জিত কথাবার্তা বলতে পারতেন না, এখনও পারেন না।তার কথায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, এমন কথা কখনোই বলেননি।

ফ্রেডারিক ফরসাইথের মতে এই পৃথিবীতে শুধু দুই ধরনের মানুষ আছে, এক যারা শিকারি এবং দুই. যারা শিকার। এদের মধ্যে যে শক্তিশালী কেবল সে-ই বেচে যায়। তেমনি অধ্যাপক মাইকেল ন্যাগলার (মেটা সেন্টার ফর নন-ভায়োলেন্সের প্রেসিডেন্ট) এক নিবন্ধে মন্তব্য করেছেন ‘ঘৃণা উৎপাদন করা ক্ষমতাবান ক্ষমতালোভীদের পরম ও চরম অস্ত্র। তবে ইতিহাসে দেখা গেছে, ঘৃণা উৎপাদনকারী নিজেরাই ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা একটা প্রচণ্ড শক্তি। হিটলার অন্যতম ঘৃণা উৎপাদনকারী ছিলেন। পরে একে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এই ঘৃণাই তাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়।’ যারা লড়াই করে,ত্যাগ স্বীকার করে, জীবনবাজি রেখে ২০০১-২০০৬ সালের জোট সরকারের হামলা মামলা সহ্য করে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন দলে থেকে তারাও মূল্যায়ন পাননি। নীতিতে একটা প্রবাদ আছে- ‘এই সংসার সাগরে ব্রাহ্মণরূপী নৌকা ধন্য! সেটা সংসাররূপী সাগরের উল্টো গতিতে চলে। এই উল্টো গতি কি? যারা এই নৌকার নিচে থাকে তারা ভবসাগর পার করে যায় আর যারা নৌকার ওপরে চড়ে, তাদের উদ্ধার হয় না।’ দোহারের রাজনীতি এখন তেমন গতিতে চলছে।

জন বিচ্ছিন্ন কমিউনিষ্টরা আওয়ামীলীগে আশ্রয় নিয়ে বড় বেশী অহংকার নিয়ে চলছে।কিন্তু দুনিয়াতে কোনো অহংকারের পরিণতি ভালো হয় না। শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়করাও পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা নিয়ে দেশ শাসন করেও টিকে থাকতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে চার্চিলের কথা বলা যায়। উইনস্টন চার্চিলকে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে ঘটনাবহুল এবং বর্ণাঢ্য জীবনের নেতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চার্চিল ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতেন। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতাকে বলা হতো অলৌকিক। বলা হয়, তার দূরদর্শিতার কারণেই ব্রিটেন রক্ষা পায় জার্মানির কবল থেকে। কিন্তু চার্চিলের সময়ই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। সারা পৃথিবী থেকে গুটিয়ে নেওয়া হয় ব্রিটিশ রাজের। আসলে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তাই আজকের জোয়ার কাল ভাটার টানে তলিয়ে গেলে কিছুই করার থাকে না। প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার রেশ রাজনীতিতেই বেশি থাকে। অসীম দাপট, দূরদর্শিতা এখানে কতক্ষণ কাজে লাগে, তা বলা যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় আসার তিন বছরের মাথায় কমিউনিস্টরা তার ওপর কিছুটা ভর করে। বাকশালে তাদের অবস্থান ও দাপট ছিল। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে থাকেননি। জিয়াউর রহমানের খাল কাটাকে জগতের সেরা কর্মসূচি মনে করে তাতে কমিউনিস্টরা অংশ নেয়। এ কারণেই কমিউনিস্টদের বিষয়ে সতর্ক ও সাবধান থাকার কোনো বিকল্প দেখি না।এক সময় কমিউনিষ্টরা প্রচুর পড়শোনা করত এখন করে কিনা জানা নেই তবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নেয়।যেটা দোহার থানার রাজনীতিতে ষ্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে। দলচ্যুত কমিউনিস্টরা ঝিনুকের খোলসের মতো। তারা নিজ দলে ভালো করতে পারেননি বলেই বড় দলগুলোর ওপর ভর করেছে। তাদের এখন মূল কাজ বড় দলের ত্যাগী নেতাদের কৌশলের মারপ্যাঁচে দলছাড়া করা। ২০০৯ সালে কমিউনিস্ট কৌশলের মারপ্যাঁচে দলে ঠাঁই পাননি অনেক ত্যাগী নেতা। তাদের বিভিন্ন কৌশলে দলের বাইরে পদ বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে।চুপ থেকেও তারা শুদ্ধ হতে পারেননি। কিন্তু কমিউনিস্টরা সবাই শুদ্ধ। যারা দলে ত্যাগী তারা অনেকটা কবিগুরুর শেষের কবিতার সেই লাইনগুলোর মতোই-

“আজো তুমি নিজে

হয়তো-বা করিবে রচন

মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন।

ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়।

হে বন্ধু, বিদায়।

মোর লাগি করিয়ো না শোক,

আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক”।

লেখক:
হামিদুর রহমান পলাশ
সাবেক ছাত্রনেতা
যুগ্ন আহ্ববায়ক, দোহার পৌরসভা কৃষকলীগ।

এলাকার উন্নয়নে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করুন: সালমা ইসলাম

যোগ্য ও দক্ষ প্রতিনিধি নির্বাচিত করলে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়। আর এর মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও সম্মান ফিরে আসে। তাই দল ও মার্কা দেখে নয়, এলাকার উন্নয়নে দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করুন। শুক্রবার বিকালে ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের বিলপল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন।

নয়নশ্রী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি রাকিব আহমেদ ওয়াসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বলেন, অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত নয়নশ্রীবাসীর জন্য সুখবর আছে। এই ইউনিয়নে কোনো পাকা রাস্তা নেই। তাই সাধারণ মানুষ কষ্ট সহ্য করে যাতায়াত করেছেন। ইনশাআল্লাহ নয়নশ্রী ব্রিজ থেকে তুইতাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিমি. রাস্তা ও বকচর হয়ে তাশুল্যা বাংলা বাজার পর্যন্ত ৩ কিমি. রাস্তার কাজের টেন্ডার আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই হবে। আমি আপনাদের পাশে থেকে বিগত দিনে যারা শুধু প্রতিশ্র“তি দিয়ে গেছেন সেই কাজগুলোই আগে করতে চাই। দেখাতে চাই কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হয়।

তিনি বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসছে। যাকে নির্বাচিত করলে সাধারণ মানুষের সার্বিক উন্নয়ন হবে তাকেই ভোট দেবেন। আপনাদের এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল নয়নশ্রী গড়তে যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন। তাই দল ও মার্কা নয়, দক্ষ কর্মী নির্বাচিত করবেন এটা আমার প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে বিএনপির নবাবগঞ্জ উপজেলা অর্থবিষয়ক সম্পাদক রিপন মোল্লার নেতৃত্বে বিভিন্ন সংগঠনের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী সালমা ইসলামের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি পূরণ দেখে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির নবাবগঞ্জ উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, জুয়েল আহমেদ, জাহাঙ্গীর চোকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পালামগঞ্জে নছিমনের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

দোহারের পালামগঞ্জে নছিমনের ধাক্কায় মো. মইনদ্দিন বেপারী (৮০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পালামগঞ্জ কবরস্থানের সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মো. মইনদ্দিন বেপারী উপজেলার পালামগঞ্জ কবরস্থানের সামনের রাস্তা পারাপার হবার সময় প্রাণ কোম্পানির ডিলারের মালবাহি একটি নছিমন পিছন থেকে তাকে ধাক্কা দেয়। সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মিডফোর্ট হাসপাতালে প্রেরন করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

মো. মইনদ্দিন বেপারী রাইপাড়া ইউনিয়নের পালামগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। এ দূর্ঘটনার পর থেকে নছিমন চালক পলাতক রয়েছে।

দোহার থানার ডিউটি অফিসার বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কোন দরনের অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

দোহারে সওজের রাস্তা নির্মানে ফাঁকি তদন্তে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী

দোহার উপজেলার সওজের নির্মানাধীন প্রায় ২২ কোটি টাকার ৪টি রাস্তায় পাথরের পরিবর্তে বালু ও পুরাতন ইটভাঙ্গা মিশিয়ে রাস্তায় ব্যবহার করায় এলাকাবাসী বাধা প্রদান করে। পরে বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ জানালে তদন্তে আসেন সওজের মুন্সিগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মো.তারেক ইকবাল।

গতকাল রোববার সকালে সওজের মুন্সিগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মো.তারেক ইকবাল দোহারের নির্মানাধীন ৪টি রাস্তার কাজ পরিদর্শনে আসলে অভিযোগের সত্যতার প্রমান পান। উভয় রাস্তাগুলির পাশ ৫.৫ মিটার চওড়া হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তিনি কম দেখেন।রাস্তার দুপাশে ১ মিটার করে আঠালো মাটি দ্বারা সংস্কারের কথা থাকলেও তা হয়নি এবং যা হয়েছে তা বালু মাটি দ্বারা করা হয়েছে।রাস্তার অ্যাপরোজ ও মোড়গুলির পাইলিং নিম্নমানের করা হয়েছে। নির্মানাধীন রাস্তার বেশির ভাগ জায়গা ভেঙ্গে পড়েছে।এসময়ে কোন ঠিকাদারকে নির্বাহী প্রকৌশলী উপস্থিত পান নাই।

সুত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার টিকরপুর-গালিমপুর ৩.৫ কিলোমিটার কাজটির কার্যাদেশ পান মেসার্স সর্দার এন্টারপ্রাইজ,গালিমপুর-নিকরার চক হয়ে বানাঘাটা পর্যন্ত কাজটির কার্যাদেশ পান কে এ ডিলাক্রা জেভি,বানাঘাটা সড়ক হয়ে জয়পাড়া কলেজ মোড় পর্যন্ত কাজটির কার্যাদেশ পান মেসার্স মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং,বানাঘাটা হয়ে দোহার বাজার পর্যন্ত কাজটির কার্যাদেশ পান মেসার্স কেসিই জয়েন্ট ভেঞ্চার নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন,উপজেলা প্রকৌশলী সুশীল চন্দ্র সরকার,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল সহ প্রমুখ।

এ বিষয়ে সওজের মুন্সিগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মো.তারেক ইকবাল জানান,ঠিকাদারকে সিডিউল মোতাবেক কাজ বুঝাইয়া দিতে হইবে।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন জানান,কাজটি পাথর ও বালু দ্বারা মেকাডাম করার কথা শিডিউলে থাকলেও তা মানছে না ঠিকাদার।

এ বিষয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল করিম ভূইয়া জানান স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি সওজ কতৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার তাগিদ দিয়েছি।

দোহার-নবাবগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

এই হেমন্ত কাটা হবে ধান, আবার শূন্য গোলায় ডাকবে ফসলের বান-সুকান্তের কবিতার এই পংক্তি হেমন্তের বাংলার চিরচেনা রূপ। এই ঋতুর সৌন্দর্যের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো মাঠভরা সোনালী আমন ধান । মাঠভরা সোনালী আমন ধান থাকলেও ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা দুটির কৃষকদের মুখে নেই হাসির লেশ মাত্র । সোনালী আমন ধানা কাটা শুরু হয়েছে। উপজেলা দুটির মাঠে মাঠে এখন পাকা ধানের সমাহার। প্রকৃতি এবার আমন চাষের জন্য অনুকূল থাকলেও ভাগ্য চাষীদের অনুকূলে নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকের জমিতে ভাল ফলন হলেও মাথায় হাত পড়েছে। এখানকার কৃষকরা জানান, তাদের বীজ ক্রয় ,পানি সেচ,সার প্রয়োগসহ নানাবিদ খরচের পর ১ মন ধান উৎপাদন করতে খরচ হচ্ছে ৬ থেকে ৭ টাকা কিন্তু বাজারে প্রতিমন ধানের দাম রয়েছে মাত্র ৫ থেকে সাড়ে ৫ শ’ টাকা। কোন কোন জমিনের মালিক তার জমিনের ধান নিজেই কাটছেন। কারণ একেতেই ধানের দাম কম তার উপর শ্রকিকের মজুরি নিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছে। তাই একটু কষ্ট হলেও নিজেদের জমিনের ধান নিজেরাই কেটে লোকসানের পাল্লাটা একটু হলেও হালকা করছেন।

দোহার উপজেলার মইতপাড়া গ্রামের চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এক বিঘা জমি লিজ নিতে ৫  থেকে ৬ হাজার টাকা দিতে হয় জমির মালিককে। তার মতে চলতি মৌসুমে ধানে উৎপাদন মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে তাতে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাওয়ালিয়া গ্রামের চাষি  মো. আলী জানান, আমি এবার ২ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করেছি। কিন্তু বাজারে ধানের যে দাম তাতে আমার লোকসান হবে। সেই লোকসানের পাল্লাটা কিছুটা কমানোর জন্য একটু কষ্ট হলেও নিজেই একা একা জমির ধান কেটে ঘরে তুলছি।

দোহার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের দামটা একটু কম।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শহীদুল আমীন বলেন, ফসল উৎপাদনের সাথে আমাদের কৃষি অফিস জড়িত কিন্তু বাজারে ফসলের দামটি সরকার দেখে থাকেন । এখানে আমাদের কোন হাত নেই।

সুতারপাড়ায় সড়ক দূঘটনায় সাবেক যুবদল সেক্রেটারি আহত

দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের ভুসের বাগ এলাকায় বিসমিল্লাহ ট্রেডাসের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দোহার উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ ঘটু খালাসী (৪০)। এসময় তার সাথে থাকা স্ত্রী এবং ২ সন্তান ও আহত হয়।

গত ২৩ শে নভেম্বর দুপুরের দিকে ঘটু খালাসী তার পরিবারকে নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে জয়পাড়া যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারি চালিত অটোবাইক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে তার মোটর সাইকেলকে সজোরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে সে তার পরিবারসহ রাস্তায় পড়ে গেলে ঘটু খালাসীর ডান হাত ভেঙ্গে যায়।পরবর্তীতে গুরতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় উত্তেজিত জনতা অটো চালক মকবুলকে গনপিটুনি দিয়ে ছেড়ে দেয়।