ফেইবুকে ছবি দেখে মৈনটে ঘুরতে আসছিলাম: প্রাণে বেঁচে যাওয়া তাহমিদ

ফেইবুকে ছবি দেখে মৈনটে ঘুরতে আসছিলাম; বললেন প্রানে বেঁচে যাওয়া তাহমিদ । মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া মৈনট ট্র্যাজেডির বর্ণনা এভাবেই দিচ্ছিলেন অল্পের জন্য প্রানে বেঁচে যাওয়া নির্ঝর ও আহমেদ হাসানের বন্ধু তাহমিদ। নিউজ৩৯-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তাহমিদ জানান, ”আমরা ১৩ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের এবং বাকী ১ জন মোশাররফ সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। পরীক্ষা শেষে আমাদের এক বন্ধু ফেইসবুকে মৈনট ঘাটের ছবি দেখালে সবাই মিলে সিন্ধান্ত নেই মৈনটে ঘুরতে আসার।

আমরা ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ১ টায় মৈনট ঘাটে এসে পৌঁছাই। প্রথমেই নির্ঝর আর আহমেদ পদ্মায় নেমে পড়ে। সাঁতার না জানায় ওরা আর উঠে আসতে পারে নি।

ঘুরতে আসা অন্যরা হলেন- আনিকা, দিনা, পলি, শাহারিয়ার, ঝিলিক, প্রিয়ন্তি, মাহাবুব, সাজিদ, তাহমিদ, মাহমুদ, আনাফ, মোশাররফ (সমাজ বিজ্ঞান)।

নিহত আহামেদ হাসান (২০) ঢাকার ৩৬ মিরপুর রোড ধানমন্ডির আবুল হাসানের ছেলে এবং নিহত আরেক জন আবরার আজওয়ার নির্ঝর (২১) ঢাকার দক্ষিণখানের ৪নং  ওয়ার্ডের ৩৯নং বাড়ির রিয়াজুল হোসেন জয়রে ছেলে।

মৈনট ঘাটে ডুবে যাওয়া ২ ছাত্রের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

0

মৈনট ঘাটে ডুবে যাওয়া ২ ছাত্রের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীন নিহত আবরার নির্ঝর ও আহমেদ হাসান এর লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন।

পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা ।পরে পুলিশ সুরহাতল শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।লাশ ঢাকায় পৌঁছে দিতে লাশের সঙ্গে ঢাকা গিয়েছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীন এবং দোহার থানার অফিসার ইনর্চাজ সিরাজুল ইসলাম শেখ।

উল্লেখ্য আজ মঙ্গলবার ঢাকার দোহারে পদ্মা নদীতে ডুবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয় । বিকালে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহতরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের আবরার নির্ঝর ও আহমেদ হাসান।

মৈনটে পদ্মায় ডুবে ঢাবি’র দুই ছাত্র নিহত

‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত ঢাকা জেলার দোহারের মৈনট ঘাটে পদ্মায় ডুবে মারা গেছে ঘুরতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থী।

নিহতরা হলেন- আবরার তাজুয়ার নির্ঝর (২৩) ও আহমেদ হাসান লিপটন (২২)।  নির্জন রাজধানীর দক্ষিণ খান ও লিপটন ধানমণ্ডির সাইন্সল্যাব এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের আনিকা, দিনা, পলি, ঝিলিক, প্রিয়ন্তী, শাহরিয়ার, মাহবুব, সাজিদ, মাহমুদ, তাহমিদ, আনাফ, নির্ঝর, আহমেদ ও সমাজ কল্যান বিভাগের মোশারফসহ ১৪ জন বন্ধু মিলে মৈনট নদীপারে বেড়াতে আসেন। ওই ঘাটেই দুপুরের খাবার শেষে বেলা দুইটার দিকে বুন্ধরা মিলে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামেন।
এসময় প্রবল স্র্রোতের টানে ওই দুই শিক্ষার্থী ডুবে যায়। অন্য বন্ধুরা কোন রকমে প্রানে বাঁচলেও ঐ দুই শিক্ষার্থী লাশ হয়ে উঠলো ডুবুরীর হাতে।

তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা অনেক খোজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পায় নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

নির্ঝর ঢাকার উত্তরা দক্ষিণ খান এলাকার তার খালু জায়েদ হোসেনের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। তার পিতার নাম রেজাউর রহমান জয়। গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া। অপরদিকে নিহত লিপটন ধানমন্ডি এলাকার ৩৬, মিরপুর রোডের বাসিন্দা আবুল হাসানের ছেলে। নির্ঝরের খালু জায়েদ হোসেন জানান, একেবারে শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিল নির্ঝর। ফেসবুকে ‘মিনি কক্সবাজার দোহারের মৈনট’ এমন খবর দেখে নির্ঝর বন্ধুদের সাথে মৈনটে ঘুরতে আসে। পাশেই নির্ঝরের খালা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “নির্ঝরের মা বেঁচে নেই। আমি ওকে ছেলের মতো মানুষ করেছি। ওর এমন মৃত্যু দেখব কখনো ভাবি নি। ঈদের পরেই পড়াশোনার জন্য ওর বিদেশ যাবার কথা ছিল। সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।“

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, নিহতদের সুরতাহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। কোন অভিযোগ না থাকলে দু’জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সম্প্রতি ঘোরার জন্য মৈনট আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিণত হয়েছিল, স্থানীয়রা তো বটেই ঢাকা সহ দূরান্ত থেকে লোকজন ঘুরতে আসত। এঘটনা দর্শনার্থীদের মধ্যে হয়তো কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু ভরা বর্ষায পদ্মা নদীতে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী।

দোহারে বসছে ৫ টি কোরবানির হাট

আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে দোহারে বসছে ৫টি পশুর হাট। ইতিমধ্যে কুরবানীর পশুর হাটগুলোর অবকাঠামো গড়ে উঠছে। কুরবানীর এই ঈদকে সামনে রেখে বাংলাবাজার, বাস্তা, জয়পাড়া, মেঘুলা ও ফুলতলায় বসছে কুরবানীর গরুর হাট। পশু কেনাবেচা শুরু না হলেও ইতিমধ্যে সাজসজ্জা সম্পূর্ন হয়েছে হাটগুলোর।

দোহারের সবচেয়ে পুরোনো জয়পাড়া হাট প্রতিবারের মতো এবারে বসছে জয়পাড়া বড় মাঠে। গতবার টেন্ডার সংক্রান্ত ঝামেলায় জয়পাড়া বাজারে বসলেও এই বার বড় মাঠেই হাট মিলছে। যদিও এখনও ঘোষনা আসে নি। তারপরও বড় মাঠেই হাট মেলার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

এছাড়া নয়াবাড়ি ও কুসুমহাটি ইউনিয়নের সীমান্ত বাংলাবাজারে গত কয়েক বছরের মতো এবারো মিলছে কুরবানীর পশুর হাট। এছাড়া কুসুমহাটি ইউনিয়নের বাস্তাতেও কুরবানীর পশুর হাট বসার খবর পাওয়া গেছে।

গত কয়েকবছরের মতো এবারো বসছে মালিকান্দা কুরবানীর পশুর হাট। মেঘুলা বাজারে এই হাট মিলছে।

এছাড়া ফুলতলায় পদ্মা সরকারি কলেজের মাঠে বসছে কুরবানীর পশুর হাট।

দোহারে দূর্লভ প্রজাতীর একটি হনুমানের সন্ধান লাভ

আধুনিক যান্ত্রিক ও বৈজ্ঞানিক উন্নতির উৎকর্ষতার ফলে দিন দিন যে ভাবে বন জঙ্গল উজার হচ্ছে তেমনি প্রকৃতি অমূল্য সম্পদ বন্য প্রাণী ধ্বংস ও বিলুপ্তি হচ্ছে এমনি এক চলমান বাস্তবতা। ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার বাস্তা গ্রামে এক হণুমান দৃষ্টিগোচর হচ্ছে যা এই এলাকার উৎসুক জনতা এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমাচ্ছে।

বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক নিয়মে এ বাড়ী ও বাড়ী পাড়া মহল্লায় খাবারের সন্ধানে ও নিজেকে নিরাপদে রাখার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে । ইতোমধ্যে বন্য প্রানীর সংবাদটি প্রানী সম্পদ কর্মকর্তাকে সংরক্ষনের জন্য জানানো হয়েছে। আশা করে হচ্ছে তার মাধ্যমে জাতীয় বন ও রক্ষা কমিটি প্রানীটিকে সু-রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ।

নবাবগঞ্জের ঐতিহ্য ৪০০ বছরের ভাঙা মসজিদ

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভাঙা মসজিদ । প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি। তবে মূল ভবন রয়েছে মাত্র ২ শতাংশ জমির ওপর। মসজিদটিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও নামাজের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

মসজিদটিতে এবাদত করতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসে। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে নবাবগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি থানার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ নামাজির সমাগম হয়। কাছাকাছি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ থেকেও কখনও মুসল্লি আসেন।

ধারণা করা হয়, তিন গম্বুজবিশিষ্ট ‘ ভাঙা মসজিদ ’ সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে নির্মিত। সে হিসাবে প্রায় ৪শ’ বছরের পুরনো মসজিদটি নবাবগঞ্জের কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ১৬৫ ফুট সুউচ্চ একটি মিনার। মিনারটি ঢাকা দক্ষিণের সবচেয়ে বড় মিনার বলে জানা গেছে।

লোকমুখে প্রচলিত, ষোলোশ’ শতকে দিল্লি থেকে নদীপথে ঢাকা যাতায়াত করতেন মোগল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি। তিনি নৌবহর নিয়ে যমুনা নদী হয়ে পাবনা ও মানিকগঞ্জ অংশে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ইছামতী নদী দিয়ে ঢাকা আসতেন। রাতযাপন ও ইবাদত করার জন্য আনুমানিক ১৬১৫ সালে নদীর পাশেই মসজিদটি নির্মাণ করেন তিনি।

কালের পরিবর্তনে ইছামতী নদী ভাঙতে ভাঙতে উত্তরদিকে চলে যায়। উল্লেখ্য, ১৬১০ সালে দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুবেদার ছিলেন ইসলাম খান চিশতি

নির্মাণের সময় মসজিদের পাশে কোনো বসতি ছিল না। পুরো এলাকা ছিল বনাঞ্চল। ১৮৮০ সালে হিন্দু জমিদাররা ওইসব বনাঞ্চল পত্তন নেন। তখন সেখানে বসতি স্থাপন করার জন্য বনাঞ্চল কাটা আরম্ভ করে হিন্দুরা। বন কাটতে গিয়ে নজরে আসে এই মসজিদটি। যার ওপরের কিছু অংশ ভাঙা ছিল। সেই থেকেই এই মসজিদের নাম হয় ‘ভাঙা মসজিদ’ বা ‘গায়েবি মসজিদ’।

সময়ের বিবর্তনে এক পর্যায়ে মসজিদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেন স্থানীয় আলফু ফকির, দুদু মীর, আবেদালি মীর, গোপাল মাদবর, মৈজদ্দিন সিকদার, গহের আলী খন্দকারসহ স্থানীয়রা। আবু মোল্লাকে মসজিদের মাতোয়াল্লি বা সেবায়েত নিযুক্ত করা হয়। সিএস রেকর্ডে মসজিদের পক্ষে তার নামই রয়েছে।

১৯৪৫ সালে স্থানীয় আবেদ আলী নিজ অর্থায়নে কিছু অংশ সংস্কার করেন। তখন মসজিদের সেবায়াত হিসেবে দুখাই বেপারিকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

১৯৬০ সালে নতুন বান্দুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ হিসেবে আসেন আবজাল হোসেন নামে এক ধর্মপ্রাণ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙা মসজিদটির কিছু মেরামত এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করেন। কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয় ডা. আলমাছ উদ্দিনকে। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মকবুল বেপারি ও কদম আলীকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ওই কমিটি প্রায় ২০ বছর দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮০ সালে স্থানীয় আমজাদ হোসেন মাদবর গ্রামবাসীকে নিয়ে মসজিদের নতুন কমিটি গঠন করে দায়িত্ব বুঝে নেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পরই এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদের আয়তন বৃদ্ধি করা হয়। তখন মূল ভবনের সংস্কার করলেও তার অবকাঠামোর কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। পরে আমজাদ হোসেন মাতবরের ছোট ছেলে কুয়েত প্রবাসী নজরুল ইসলামের চেষ্টায় বিদেশের অর্থায়নে মসজিদ সংলগ্ন আরেকটি ভবন তৈরি করা হয়।

২০০১ সালে মীর সফিউদ্দিন ও আলী সিকদারকে উপদেষ্টা হিসেবে রেখে খন্দকার ফুরহাদ হোসেনকে সভাপতি, মতিয়ার রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ও ফজলুর রহমানকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি মিনার নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়। প্রাথমিকভাবে কাজ আরম্ভ করে মাটির নিচে প্রায় ৬০ ফুট বোরিং করে রডের খাঁচা বাঁধিয়া ৬০ ফুট ঢালাইয়ের ওপর ১৪টি পিলার নির্মাণ করা হয়। ওই সময়ই এতে তাদের ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭ লাখ টাকা। কিছুদিন কাজ করার পর রাজমিস্ত্রি ও আনুষঙ্গিক অসুবিধার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালের ৪ মার্চ আবার মিনারের কাজ আরম্ভ হয়। ১৬৫ ফুট উচ্চতা মিনারটি কাজ এখন সমাপ্তির পথে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ টাকার ওপরে খরচ হয়েছে বলে জানায় মসজিদ কমিটি।

প্রায় ৩০ বছর ধরে মসজিদের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকারী মো. ফজলুর রহমান জানান, মসজিদে আগত মুসল্লিদের দানে মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়। সেই টাকা দিয়েই কোটি টাকা ব্যয়ে মিনার নির্মাণ করা হচ্ছে।

নবাবগঞ্জে প্রাথমিক স্তরের পর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর নিজ এলাকার সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই পড়তে চায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থীরা। এই উপজেলায় ৪০টির মতো বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে। কিন্তু একটিও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা কলেজ নেই। ১০০ ও ৫০ বছরের পুরোনো দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলো সরকারীকরণ হয়নি।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমদ  বলেন, উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩২। পাঁচটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও তিনটি স্বতন্ত্র কলেজ আছে। স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোর তিনটি এমপিওভুক্ত (বেতন বাবদ সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত)।

সরকারের ঘোষিত নীতি অনুযায়ী, যেসব উপজেলায় কোনো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ নেই, সেখানে একটি করে বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারি করা হবে।

গত ১৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৭৯টি বিদ্যালয় সরকারি করার জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরে তালিকা পাঠিয়েছে। কিন্তু এতে নবাবগঞ্জের কোনো প্রতিষ্ঠান স্থান না পাওয়ায় হতাশ এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

এলাকাবাসী বলছেন, নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়টি ১০৯ বছরের পুরোনো। আর  দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজটি ৫০ বছর পার করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষার মানও ভালো। এ দুটি প্রতিষ্ঠান সরকারি হলে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের অনেক সুবিধা হতো। এখন অনেক বেতনে তাদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়তে হচ্ছে।

উপজেলার সমসাবাদ এলাকার মো. মোতালেব বলেন, রাজধানীর কাছে ঢাকার একটি উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও এখানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ নেই। উপজেলায় শিক্ষার হার ও মান বাড়াতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই।

নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। ১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বছর তিনেক আগে এখানে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি খোলা হয়।

গত সপ্তাহে পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক তাঁর অফিসে বসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখছেন। শিক্ষকদের কেউ কেউ অফিসে এসে দেখে যাচ্ছেন তাঁদের ক্লাসের সময়সূচি। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে যাতে বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য মূল ফটকে পাহারার ব্যবস্থা আছে।

সহকারী প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৪৩ জন শিক্ষক পড়ান। শিক্ষার্থী প্রায় দুই হাজার। ২০০৭ সালে মডেল প্রকল্পে নেওয়া হয়। কিন্তু এরপর নয় বছরেও সরকারি করা হয়নি।

দশম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী জয়ন্ত দাস ও মানবিক বিভাগের তাজরিন আক্তার বলল, বিদ্যালয়টিতে পড়ে তারা গর্বিত। এখান থেকে অনেক ভালো শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে বের হয়। এই বিদ্যালয়টি তারা থাকতেই সরকারি হলে তাদের গর্ব আরও বেড়ে যেত। শিক্ষার সুযোগও বাড়ত।

বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক শাহাবুদ্দীন আলম বলেন, ২৬ বছর ধরে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হবে—এটা তাঁর অনেক দিনের আশা। কিছুদিন আগেও কয়েকটি বিদ্যালয় সরকারি হয়েছে, সেখানে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম না থাকায় তিনি খুবই মর্মাহত।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯০৫ সালে। উপজেলার তিন সমাজসেবক নারায়ণ চন্দ্র রায়, রাসবিহারী সেন ও আবদুল হক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়ে পাঁচতলার একটি আধুনিক ভবন থাকলেও অধ্যক্ষ যে ভবনে বসেন, সেটি বেশ পুরোনো।

দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ: উপজেলা সদরের সমসাবাদ এলাকায় ১৯৬৫ সালে প্রায় সাত একর জায়গা নিয়ে দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি ও স্নাতক মিলিয়ে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রাবাস আছে। শিক্ষকদের জন্য কলাকোপা বাজারের কাছে আছে আবাসিক ভবন।

পরীক্ষার ফলের দিক থেকে কলেজটি উপজেলার অন্যান্য কলেজের তুলনায় এগিয়ে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ২০১৩ সালে মোট পাসের হার ৭৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, পরের বছর ছিল ৮৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে গত বছর হঠাৎ ধস নেমে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৪ শতাংশে দাঁড়ায়।

সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র দত্ত বললেন, এ বছর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়টি প্রথম খোলা হয়। তখন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হলেও ভালো শিক্ষক পাওয়া যায়নি। মূলত ওই বিষয়েই বেশি শিক্ষার্থী খারাপ করেছে।

কলেজ সূত্র জানায়, কলেজের একজন শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন ২৫০ টাকা। ডিগ্রি শ্রেণিতে ৩০০ টাকা এবং সম্মান পর্যায়ে ৬০০ টাকা মাসিক বেতন। তবে গরিব, অসচ্ছল, উপবৃত্তিপ্রাপ্ত, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন নেওয়া হয় না।

অভিভাবক আফতাব উদ্দিন বলেন, উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। সরকারি স্কুল-কলেজ থাকলে গরিব মেধাবীরা উপকৃত হতো।

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের কলেজ প্রথম সারির হওয়া সত্ত্বেও একে সরকারি করা হয়নি। আশা করছি, সামনে সরকারি কলেজের তালিকায় কলেজটি স্থান পাবে।’

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. ইউসুফ হোসেন বললেন, তিনিও দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজে পড়েছেন। এখানে যত শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে, উপজেলায় আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এত শিক্ষার্থী নেই। কলেজটি সরকারি হলে শিক্ষার মান বাড়বে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমদ বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ এবং নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়—এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে সরকারীকরণের সুপারিশ করা হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানই যেকোনো পর্যায়ে সরকারি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

নয়াবাড়ি সাখাওয়াত হোসেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত

দোহারের সর্ব পশ্চিমের ইউনিয়ন নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লিগের সাবেক আহ্বায়ক শেখ সাখাওয়াত হোসেন নান্নু ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।  সদ্য ঘোষিত ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া গয়েছে এই আওয়ামী লীগ নেতাকে।

শেখ সাখাওয়াত হোসেনকে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করায় শেখ সাখাওয়াত হোসেন নান্নু ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ, সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এবং ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগকে আরো শক্তিশালী করার প্রত্যয় জানিয়েছেন। এছাড়া শেখ সাখাওয়াত হোসেন নান্নুকে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত বরায় তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

লটাখোলা আজাহার আলী স্কুলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত

লটাখোলা আজাহার আলী মেমোরিয়াল হাই স্কুলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১১ টায় বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য আক্তার হোসেন বাবুলের সভাপত্বিতে উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন লটাখোলা আজাহার আলী মেমোরিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ পাল, সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন, আলতাফ হোসেন, সাথী পাল, বাবু বিপ্লব চক্রবর্তীসহ স্কুলের অন্যান্য সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, অভিবাবকবৃন্দ এবং স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ।

এ সময় আক্তার হোসেন বাবুল বলেন, ”দেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার লক্ষে সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে”। এছাড়া স্কুলটিকে সিক্ষাগত দিক দিয়ে দোহারের অন্যতম একটি মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি সংশিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

ঢাকা জেলা বিএনপির কমিটিতে দোহারের ৯ জন

সদ্য ঘোষিত ঢাকা জেলা বিএনপির কমিটিতে স্থান পেয়েছেন দোহারের ৯ রাজনীতিবীদ। ঢাকা জেলার বিএনপির ৪৯ জনের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে স্থান পেয়েছেন দোহারের বিএনপির ৯ জন।
সদ্য ঘোষিত ঢাকা জেলা বিএনপির দপ্ত সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দোহার উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মনির হোসেন রানা। নয়াবাড়ি ইউনিয়নের এই বিএনপি নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে থাকা অবস্থায় আছেন বিএনপির সাথে।
এছাড়া ৫ নং সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া প্রধান যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নির্বাচিত ভিপি আহসান হাবীব নওয়াব। জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচিত ভিপি আহসান হাবীব নওয়াব ছাত্র জীবন থেকেই সক্রিয় ছিলেন ছাত্রদলের রাজনীতিতে।
এছাড়া ৫নং যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ বিতর্কিদ ভূমিকা রাখা দোহার উপজেলা বিএনপির অব্যাহতি পাওয়া সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ভুলু।
এছাড়া ১২ নং যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দোহার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ।
এছাড়া ৬ নং সহ সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দোহারের মাহমুদপুর ইউনিয়নের নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়া ৪ নং সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নাসির উদ্দিন।
আইন বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দোহারের অ্যাডভোকেট আবু তালেব শিকদার।
তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নিকড়ার নজরুল ইসলাম।