এসময়ের পর্যটন আকর্ষণ মৈনট

0

নদীর পাড় সাধারণত খাড়া বা ঈষৎ ঢালু থাকে, শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা সৈকতের মত দেখা যায়। কিন্তু ভরা বর্ষায় সমতল পাড় থাকেই না বললে চলে। তার উপর পদ্মার মত ভাঙনপ্রবণ নদীর সৈকত দুর্লভ জিনিস। গত কয়েক বছরের ভাঙা গড়ার মধ্যে দিয়ে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মৈনটে বেশ দীর্ঘ সৈকত সৃষ্টি হয়েছে, যদিও তা পানি বাড়ার বা কমার সাথে দৈর্ঘ্য বাড়ে কমে। অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পাওয়াতে চলতি বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এসেছেন মৈনটে যার বড় অংশটি স্থানীয় এবং ঢাকা শহর থেকে। ঢাকার কাছে হওয়াতে খুব সহজেই দিনে এসে দিনে ঘুরে যাওয়া যায়। দেখে নিই এসময়ের পর্যটন আকর্ষণ মৈনট এর কিছু ছবি।

# হাটুজলে ফুটবল

_mg_2209a
হাটুজলে ফুটবল

# আকাশ আর নদী মিশেছে যেখানে

_mg_2144a

# ঠিক উপরের যায়গাটি যখন পানি একটু বেশি

moinot-2016-01

# বিলুপ্তপ্রায় গয়না নৌকা

_mg_2599a

# নানা ধরণের পাল তোলা নৌকার দেখা মিলবে

_mg_2234a

# মাছ ধরা নৌকা

_mg_2549a

# নদীর বিপরীত দিকে সবুজের ছড়াছড়ি

_mg_2541a

# পর্যটন আকর্ষণ মৈনট -এর আসল সৌন্দর্য্য খোলে সুর্যাস্তের সময়, কিন্তু দূরের পর্যটককে এর আগেই ফিরতে হয়

_mg_2662a

# পর্যটকের ভীরে এমন শান্ত দৃশ্য সবসময় নাও পাওয়া যেতে পারে

dsc_0248

# ভাগ্যে থাকলে পেয়ে যেতে পারেন এমন সূর্যাস্ত

_mg_2720aকিন্তু এই সৌন্দর্যের মাঝেও লুকিয়ে আছে মৃত্যূ! চলতি বছর ২০১৬ সালে এখানে দুই দফায় ডুবে মারা গেছে চারজন। পদ্মা নদী বাংলাদেশের অন্যতম ভয়ংকর নদী, আর যারা সাতার জানেন না তাদের জন্য পুকুরও ঝুকিপূর্ণ। এর সৈকতে ১০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত সমতল, পানি বাড়া কমার সাথে এর ব্যপ্তি বাড়ে কমে, এই যায়গায় হাটুজল থাকে, যারা সাতার জানেন না তাদের কখনো হাটুজলের বেশি যাওয়া ঠিক না। এর পরেই রয়েছে খাড়া ঢাল। সাতার না জানা পর্যটকরা ওই ঢালে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন। তাই সবাধানতা জরুরী এবং পানিতে নামলে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে নামা উচিৎ।

পর্যটকেদর কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, এখানে বৃষ্টিতে আশ্রয় নেবার ভাল ব্যবস্থা নেই, টয়লেটের ব্যবস্থা নেই, তাই প্রস্ততি নিয়ে আসতে হবে।

একজন মাঝির কাছে থেকে জানা গেল এখানে নৌকা চালাতে হলে শতকরা ৩০ টাকা খাজনা দিতে হয়, যেখানে পর্যটকদের জন্য তেমন কোনো সুবিধা নেই সেখানে এই হার মাত্রাতিরিক্ত। সরকার একটি লাইট পোস্ট দিয়ে দায়িত্ব সেরেছে।

আরও ছবিঘর:
পদ্মা নদীর ভাঙন

শুষ্ক মৌসুমে মৈনট

নবাবগঞ্জে পুজা উৎযাপনে ছাত্র যুবঐক্য পরিষদের কমিটি গঠন

ঢাকার নবাবগঞ্জে পূজা উদযাপন পরিষদের অঙ্গসংগঠন ছাত্র যুবঐক্য পরিষদের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনুপম দত্ত নিপুকে উপজেলা সভাপতি ও জনি হালদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। শুক্রবার বিকালে নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাব সভাকক্ষে এ কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সরকার। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান রনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেস ক্লাব সভাপতি মো. ইব্রাহীম খলিল, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক নকুল চন্দ্র মণ্ডল, প্রশান্ত অধিকারী, আশিষ কুমার সরকার। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা জেলা ছাত্র যুবঐক্য পরিষদের সদস্য সচীব মানিক চন্দ্র মণ্ডল।

পদ্মার ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে দোহারের মেঘুলা বাজার

0

প্রতিবছর বর্ষা মওসুমে ঢাকার দোহার উপজেলায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মওসুমের শুরু থেকেই অব্যাহত ভাঙনের ফলে গত দুই বছরে বিলীন হয়ে গেছে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মধুরচর, রানীপুর ও নারিশার বিস্তীর্ণ এলাকা। এরই মধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে মধুরচর ও রানীপুর গ্রাম।
এ দুটি গ্রামের কয়েক শ’ বসতবাড়ি, পুরনো স্থাপনাসহ ফসলি জমি পদ্মায় চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন পথের ভিখারি। ছিন্নমূলের মতো এখন তারা অসহায় জীবন যাপন করছেন। এদের মধ্যে কেউ অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে জীবন-জীবিকার টানে চলে গেছেন অন্য কোথাও। আবার কেউ রাস্তার পাশে কোনোভাবে ঠাঁই নিয়ে বসবাস করছেন। ইতোমধ্যে নারিশা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মেঘুলাবাজারের বেশির ভাগ অংশ পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। গত দুই মাসে বাজারের অন্তত ৫০টির বেশি দোকান নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। এ কারণে বাজারের ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবছর বর্ষা মওসুমে ঢাকার দোহার উপজেলায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মওসুমের শুরু থেকেই অব্যাহত ভাঙনের ফলে গত দুই বছরে বিলীন হয়ে গেছে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মধুরচর, রানীপুর ও নারিশার বিস্তীর্ণ এলাকা। এরই মধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে মধুরচর ও রানীপুর গ্রাম। এ দুটি গ্রামের কয়েক শ’ বসতবাড়ি, পুরনো স্থাপনাসহ ফসলি জমি পদ্মায় চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন পথের ভিখারি। ছিন্নমূলের মতো এখন তারা অসহায় জীবন যাপন করছেন। এদের মধ্যে কেউ অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে জীবন-জীবিকার টানে চলে গেছেন অন্য কোথাও। আবার কেউ রাস্তার পাশে কোনোভাবে ঠাঁই নিয়ে বসবাস করছেন।
প্রায় দুই শ’ বছরের পুরনো এই বাজারটি রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে মেঘুলা মহিলা মাদরাসা। চারতলা এ মাদরাসা ভবনটি নদীভাঙনের শিকার হলে শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান। তিনি জানান, মাদরাসাটি নদীতে বিলীন হলে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে আমরা কোথায় দাঁড়াবো। এ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
প্রতিবছর বর্ষা মওসুমে ঢাকার দোহার উপজেলায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মওসুমের শুরু থেকেই অব্যাহত ভাঙনের ফলে গত দুই বছরে বিলীন হয়ে গেছে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মধুরচর, রানীপুর ও নারিশার বিস্তীর্ণ এলাকা। এরই মধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে মধুরচর ও রানীপুর গ্রাম। এ দুটি গ্রামের কয়েক শ’ বসতবাড়ি, পুরনো স্থাপনাসহ ফসলি জমি পদ্মায় চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন পথের ভিখারি। ছিন্নমূলের মতো এখন তারা অসহায় জীবন যাপন করছেন। এদের মধ্যে কেউ অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে জীবন-জীবিকার টানে চলে গেছেন অন্য কোথাও। আবার কেউ রাস্তার পাশে কোনোভাবে ঠাঁই নিয়ে বসবাস করছেন।
গত দুই বছরে বিলীন হয়ে গেছে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মধুরচর, রানীপুর ও নারিশার বিস্তীর্ণ এলাকা। এরই মধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে মধুরচর ও রানীপুর গ্রাম।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙন অব্যাহত থাকলে মেঘুলাবাজারের পাশাপাশি ঢাকা দোহারের প্রধান সড়কটিও বিলীন হয়ে যাবে। জানা গেছে, এ বছর জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজার দিয়ে নদীর মাঝখানে একটি চ্যানেল নির্মাণ করা হলেও এখনো পর্যন্ত থামেনি পদ্মার ভাঙন। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এ দুর্দিনে জনপ্রতিনিধিদের আমরা কাছে পাই না। তাদের অভিযোগ ড্রেজার দিয়ে যে কাজ করা হয়েছে তাতে ভাঙন আরো বেড়েছে। এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না গেলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে এসব এলাকা। নারিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন দরানী বলেন, স্থায়ী বাঁধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে এ বিষয়ে কথা হযেছে

নবাবগঞ্জে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

শনিবার বিকালে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ইছামতি নদীর গোল্লা থেকে হাসনাবাদ পর্যন্ত  ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নদীর দুই পাড়ে উপচেপড়া দর্শক। নৌকা নিয়ে নদীতেও মানুষের সরব উপস্থিতি। কোনো কোনো নৌকায় উচ্চ শব্দে গান। মাঝির হাঁক হেঁইয়ো-রে হেঁইয়ো। দর্শকদের হর্ষধ্বনি আর হাততালি সব-ই যেন ঈদ আনন্দের জন্য প্রস্তুত ছিল।

বাইচে নবাবগঞ্জ, দোহার, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর, সিংগাইর ও পাশ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জ জেলার ১০টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নৌকাবাইচ বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ছিল একটি মোটরসাইকেল, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পুরস্কার ছিল ফ্রিজ। তাছাড়া ১০টি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেয়া হয়।

সিকদার মুক্তার হোসেন খৈমদ্দিন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. ইব্রাহীম খলিল, ইউপি চেয়ারম্যান আলিমুর রহমান খান পিয়ারা, তুহিনুর রহমান, আমহাদ হোসেন আজাদ, রিপন মোল্লা, আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রহমান রশিদ, জালাল উদ্দিন রুমি,  ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইকরামুল নবি ইমু, উপজেলা সভাপতি এসএম সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রনি প্রমুখ।

পদ্মায় নিখোঁজ একজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ

ঢাকার দোহারের মৈনট পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ মিরাজ (১৮) ও তালহা (১৮) নামে দুই যুবকের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দোহার থানা পুলিশের এসআই আব্দুল গনি বলেন, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে এলাকার লোকজনের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে মুধরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৈনটে নিখোঁজ ওই দুই যুবকের ছবি দেখে আমরা ধারনা করছি উদ্ধারকৃত লাশটি তালহার হতে পারে। তবে পরিবারের লোকজন সনাক্ত করলে লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিখোঁজ মিরাজ ও তালহা ঢাকার সূত্রাপুর ধোপখোলা এলাকার বাসিন্দা। মিরাজ ওই এলাকার মো. গনির ছেলে ও তালহা মো. মনিরের ছেলে।

আমাদের ছোট কক্সবাজার মৈনট ঘাট

0

আমাদের দেশের পরিচিত কয়েকটা জায়গা ছাড়া আমরা তেমন কোথাও ঘুরতে যাই না। ইদানীংকালে আমাদের মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর প্রতি আগ্রহটা যেভাবে বাড়ছে, সেই হিসেবে নিরাপদে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নতুন জায়গার সন্ধান আমরা পাচ্ছি। ঠিক তেমনি নতুন একটি দর্শনীয় স্থান মৈনট ঘাট।

14

যাই হোক, আমরা এখন বলতে চাচ্ছি আমাদের মৈনট ঘাটের কথা। যেখানে আপনি 1আসলে মুগ্ধ হবেন। তাকিয়ে থাকবেন পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশির দিকে। এই বিশাল জলরাশি, পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা দেখা আর পদ্মার তীরে হেঁটে বেড়ানো, সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য আপনার মনে হবে আপনি এখন ঢাকার দোহারে নয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আছেন। মূলত এ কারণেই অনেকে মৈনট ঘাটকে বলে থাকেন ছোট কক্সবাজার।

3

4

একসময় মৈনট ঘাট থেকে ফরিদপুর যাতায়াতের জন্য আমাদের কার্তিকপুর বাজার থেকে মৈনট ঘাট পর্যন্ত প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ফেরির প্ল্যানটা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এই রাস্তাটিও অবহেলায়-অযত্নে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। অনেকদিন এভাবে থাকার কারণে অপ্রয়োজনে কেউ ওই দিকটায় তেমন একটা পা বাড়াত না। সাম্প্রতিককালে রাস্তাটি পুনরায় মেরামত করার ফলে আবার আসা শুরু করছে মানুষ। এদের বেশির ভাগই আসছে দোহার, নবাবগঞ্জ, শ্রীনগর, কেরানীগঞ্জ থেকে। মৈনট ঘাট এখনো ব্যাপকভাবে পরিচিত না হওয়ার কারণে ভ্রমণপিপাসু অনেক মানুষই বঞ্চিত হচ্ছেন মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে।

5

6

খুব ভোরে মৈনট ঘাটেই বসে আপনি দেখতে পাবেন সারা রাত পদ্মা নদীতে জেলেদের শিকার করা মাছের বাজার। পদ্মা নদীর সেই নামকরা ইলিশসহ অনেক প্রজাতির মাছই আপনি কিনতে পারবেন এখান থেকে, একদম টাটকা! মৈনট ঘাট দর্শনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। তখন রাস্তার দুই পাশের নিম্নভূমি, যেখানে বর্ষার আগে বিস্তীর্ণ ভূমিজুড়ে বাদামের চাষ করা হয়, আর সবই বর্ষায় পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। বর্ষার আগে এর সৌন্দর্যের কমতি নেই। তখন দেখা যাবে পদ্মা নদীর শান্ত রূপ। একটা সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে সূর্যাস্ত দেখলে পরবর্তী একশোটা সন্ধ্যার কথা মনে থাকবে আপনার। আমাদের প্রধান প্রধান উৎসবের দিনগুলোতে মানুষ এখানে আসছে, ঘুরছে। স্পিডবোট, ট্রলার অথবা খেয়ানৌকা নিয়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে অনেকেই।

2

22

19

নবাবগঞ্জ রুটে মৈনট ঘাটে এলে ইচ্ছা করলে পাশাপাশি দেখে যেতে পারবেন নবাবগঞ্জের জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, আনসার ক্যাম্প, খেলারাম দাতার বাড়িসহ আরো কিছু দর্শনীয় স্থান। আর মৈনট ঘাটে আরো দেখতে পাবেন পদ্মা নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা পদ্মাবিধৌত অতিসাধারণ এক জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, যারা শত প্রতিকূলতার মাঝেও পদ্মাকে আগলে ধরে আছে বছরের পর বছর। ঢাকাবাসীরা চাইলে খুব সহজেই দোহারের এই ছোট কক্সবাজার মৈনট ঘাটে একটা ডে ট্রিপ দিতে পারেন।

8

কীভাবে আসবেন?

ঢাকা থেকে মৈনট ঘাটে আসার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়টি হচ্ছে গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যমুনা পরিবহনে চেপে বসা। ৯০ টাকা ভাড়া আর দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টার বিনিময়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মৈনট ঘাট। ফেরার সময় একই বাসে আবার ঢাকা চলে আসবেন। মৈনট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬টায়। গুলিস্তানের একই স্থান থেকে এন মল্লিক পরিবহনেও আসতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে নামতে হবে নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা নামক স্থানে। ভাড়া ৭০ টাকা। মাঝিরকান্দা থেকে লোকাল অটোতে দোহারের বাঁশতলা। ভাড়া ১৫ টাকা। চাইলে লক্ষ্মীপ্রসাদ নামক স্থানে নেমে পোদ্দারবাড়ি নামক পুরোনো বাড়িটিও দেখে নিতে পারেন। আর জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, কোকিলপ্যারি দালান, খেলারাম দাতার বাড়ি যাকে স্থানীয়ভাবে আন্ধার কোঠা বলা হয়, এসব দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চাইলে মাঝিরকান্দার আগে কলাকোপা নামক স্থানেই নামতে হবে। যাইহোক, মাঝিরকান্দা থেকে বাঁশতলা আসার পর কার্তিকপুরগামী আরেক লোকাল অটোতে উঠতে হবে। ভাড়া ১৫ টাকা। কার্তিকপুর বাজার থেকে আরেক অটোতে মৈনট ঘাট। ভাড়া ১০ টাকা। রিকশায় গেলে ২০ টাকা। গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া থেকে নগর পরিবহনেও আসতে পারবেন। ভাড়া ৯০ টাকা। নগর পরিবহন নবাবগঞ্জের রুট ব্যবহার করে না। এই বাসটি আসে মুন্সীগঞ্জ হয়ে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে কার্তিকপুর বাজারে নামতে হবে। ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে কদমতলী থেকে সিএনজিতেও আসতে পারবেন। লোকাল সিএনজি কদমতলী থেকে জনপ্রতি ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা ভাড়া নিয়ে কার্তিকপুর বাজার পর্যন্ত আসে। এ ছাড়া যমুনা পরিবহন অথবা এন মল্লিক পরিবহন গুলিস্তানের যে স্থান থেকে ছাড়ে, একই স্থান থেকে জয়পাড়া পরিবহন নামক মিনিবাসটিও ছেড়ে আসে দোহারের জয়পাড়ার উদ্দেশে। যাঁরা প্রাইভেট কার অথবা বাইক নিয়ে আসতে চাচ্ছেন, তাঁরা এই বাসের রুটটাকে ব্যবহার করতে পারেন। আসতে সুবিধা হবে। এটি বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে কদমতলী থেকে নবাবগঞ্জের রুট ধরে টিকরপুর-গালিমপুর হয়ে দোহারের প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া পর্যন্ত আসে। আগে এই বাসটি সরাসরি মৈনট ঘাট পর্যন্ত আসত। কয়েক বছর ধরে জয়পাড়ার পর আর আসছে না। লক্কড়-ঝক্কড় এই মিনিবাসে গুলিস্তান থেকে জয়পাড়া পর্যন্ত আসতে হলে ভাড়া দিতে হবে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। দামাদামি করার সুব্যবস্থা আছে। জয়পাড়া থেকে কার্তিকপুর লোকাল অটো ভাড়া ২০ টাকা। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকেও আসার একটা পদ্ধতি আছে। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের সিএনজি স্টেশন থেকে আটিবাজার, আটিবাজার থেকে সিএনজি অথবা একপ্রকার ছাদহীন টেম্পোতে কোনাখোলা। কোনাখোলা থেকে দোহার-নবাবগঞ্জগামী যেকোনো একটা বাসে উঠে পড়তে হবে। যারা গাবতলী অথবা সাভারের আশপাশে থাকেন, তারা হেমায়েতপুর থেকে লোকাল সিএনজিতে সরাসরি নবাবগঞ্জ আসতে পারবেন। ভাড়া ১২০ টাকা। অথবা সরাসরি সিএনজি না পেলে হেমায়েতপুর থেকে হযরতপুর, হযরতপুর থেকে পারাগ্রাম, নৌকায় নদী পার হয়ে আরেক সিএনজিতে নবাবগঞ্জ সদর।

কোথায় থাকবেন?

ট্যুরিস্টদের থাকার জন্য মৈনট ঘাটের আশপাশে কোনো হোটেল, রিসোর্ট, বোর্ডিং এখনো তৈরি করা হয়নি। স্থানীয় কোনো বাসিন্দার বাড়ি ম্যানেজ করতে না পারলে দিনে এসে দিনেই ফিরে যাওয়া ভালো।

কোথায় খাবেন?

বেশির ভাগ মানুষেরই ইচ্ছা থাকে পদ্মার তীরে বসে পদ্মার সেই নামকরা ইলিশ খাওয়ার। মৈনট ঘাটে দুটি ভাতের হোটেল আছে। একটি আতাহার চৌধুরীর হোটেল অপরটি জুলহাস ভূঁইয়ার হোটেল। এই লেখাটি লেখার আগে কিছু তথ্য নেওয়ার জন্য যখন আতাহার চৌধুরীর হোটেলে গিয়েছি, আতাহার চৌধুরী খুব আন্তরিকভাবেই জানালেন তাঁর দোকানের ইলিশ ৬০ থেকে ৯০ টাকা। বড় সাইজের ইলিশ খেতে চাইলে আগেই অর্ডার দিতে হবে। বোঝেনই তো, গরিব মানুষ। চালানপাতির ব্যাপার স্যাপার। এ ছাড়া বোয়াল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিংড়ি ৬০ থেকে আশি টাকা। ভাত ১০ টাকা প্লেট। আর কার্তিকপুর বাজারে শিকদার ফাস্টফুড নামক একটা খাবারের দোকান আছে, ঢাকা হোটেলসহ আরো কিছু ভাতের হোটেলও আছে। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, কার্তিকপুরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খেতে ভুলবেন না। এখানকার মিষ্টি অনেকে বিদেশেও পাঠায়।

20

21

10

নিরঞ্জন মিষ্টান্নভাণ্ডার, মুসলিম সুইটস, রণজিৎ মিষ্টান্নভাণ্ডারসহ আরো কিছু মিষ্টির দোকান আছে এখানে। কিছু তথ্য নেওয়ার জন্য আমি যখন রণজিৎ মিষ্টান্নভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী রণজিৎদার কাছে গেলাম, আমাকে কী না কি ভেবে তিনি খুব ভড়কে গেলেন। তিনি বললেন, ‘আমি তো ভাই নিয়মিত ট্যাক্স দেই।’ তাঁর কথা শুনে আমার খুব হাসি পাচ্ছিল। পরে সবকিছু বুঝিয়ে বলার পর রণজিৎদা স্বাভাবিক হয়ে বললেন, ছানার রসগোল্লা ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি। সাধারণ রসগোল্লা ১৫০ টাকা কেজি। চমচম ও কালোজাম ১৬০ টাকা কেজি। বালুশা ১৪০ টাকা কেজি। জিলাপি ১০০ টাকা কেজি। রসমালাই ৩০০ টাকা কেজি। দই ১৪০ টাকা কেজি। আসার সময় সহজসরল রণজিৎদা অনেকটা জোর করেই তাঁর দোকানের মিষ্টি খাইয়ে ছাড়লেন।

9

এ ছাড়া কিছু তথ্য

স্পিবোটে মৈনট ঘাট থেকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন যেতে হলে ১৬০ টাকা করে গুনতে হবে জনপ্রতি। ১০ থেকে ১২ জন নিয়ে চলতে পারবে। স্পিডবোটে মৈনট ঘাট থেকে চরভদ্রাসন যেতে সাধারণত সময় লাগে ১৬ থেকে ১৭ মিনিট। পদ্মায় ঢেউ থাকলে ২০ মিনিট। মৈনট ঘাটের একজন স্পিডবোট চালক মোহাম্মদ আকাশের ভাষ্যমতে, ২০ মিনিটের জন্য স্পিডবোট রিজার্ভ করে পদ্মায় ভেসে বেড়াতে চাইলে গুনতে হবে দুই হাজার টাকা। কয়েকজন মিলে শেয়ারে ভাড়া করলে ভালো হবে। আর ১০ মিনিটের জন্য এক হাজার টাকা। ট্রলার রিজার্ভ করে পদ্মায় ঘুরতে চাইলে এক ঘণ্টার জন্য ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা গুনতে হবে। অবশ্যই দামাদামি করে নেবেন। ট্রলারের তথ্য পেয়েছি ট্রলারচালক রুবেলের কাছ থেকে। এ ছাড়া ইঞ্জিনযুক্ত ছোট নৌকা নিয়ে ঘুরতে চাইলে এক ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা গুনতে হবে। নৌকাচালক শহিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য এটা।

12

সতর্কতা

সাঁতার না জানলে গোসল করার সময় পদ্মার বেশি গভীরে যাবেন না। সিগারেট অথবা খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল অথবা যেকোনো প্রকার ময়লা যেখানে সেখানে ফেলবেন না। পাখি মারা থেকে বিরত থাকুন। যার-তার সামনে ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। দোকানি, নৌকাচালকসহ সবার সঙ্গে মার্জিত ব্যবহার করুন। ভুলেও এদের ছোট করে দেখবেন না। এদের অনেকের বাড়িঘরের অবস্থা আপনার চেয়েও ভালো। খেয়াল রাখুন নিজের কোনো আচরণের দ্বারা কোনো মেয়ে বিরক্ত হলো কি না। কেউ মেয়েদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করলে অথবা যেকোনো প্রকার সাহায্যের জন্য মৈনট ঘাটের একটু পাশেই অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করুন।

13

তাহলে আর দেরি কেন? কান পেতে শুনুন। অপার সৌন্দর্য বুকে ধারণ করে পরম মমতায় পদ্মা নদী আপনাকে ডাকছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৈনট ঘাট আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে।

14

19

আবারো দোহারের পদ্মায় ২ কিশোর নিখোজ

সাগর রায়/ আতাউর রহমান সানী: ঈদের আনন্দে জমে উঠেছে ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট  ঘাট এলাকা। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সুবিশাল পদ্মা নদী। নদীর বুকে জেগে ওঠা  অসংখ্য বালুর চর যেখানে সূর্যের আলোর  কিরণে চকচক করছে বালু প্রতিনিয়ত। পদ্মা যেন আজ সেজেছে নব-আঙ্গিকে এক নতুন রূপে। এই মায়াবী পদ্মা এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিত ঢাকার দোহারের মৈনট পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ মিরাজ (১৮) ও তালহা (১৮) নামে দুই যুবকের এখনো সন্ধান মেলেনি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা থেকে আসা দমকল বাহিনীর ডুবুরিরা তিন ঘণ্টা ধরে উদ্ধার অভিযান চালালেও তাদের সন্ধান মেলেনি।

বৃস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় তারা নিখোঁজ হন। এদিকে, নিখোঁজ মিরাজ ও তালহার স্বজনদের কান্না আর আহাজারি চলছে মৈনট পদ্মাপাড়ে। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম  আল-আমীন।

মিরাজের মা আয়েশা খাতুন বলেন, “বৃহস্পতিবার সকালে এক বন্ধুর ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আসে আমার ছেলে। আমি জিজ্ঞাসা করলে বলে, সোরওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে যাওয়ার কথা। সন্ধার দিকে মোবাইলে ছেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ছুটে এসেছি।” তিনি জানান, তাঁর ছেলে মিরাজ ঢাকার ইসলামপুরের একটি কাপড়ের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

নিখোঁজ ওই দুই যুবকের সঙ্গে ঘুরতে আসা মো. জুবায়ের বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুরে আমিসহ মিরাজ, তালহা এবং হাসিব- এই চার বন্ধু  ফেসবুকে ‘মিনি কক্সবাজার মৈনট’ দেখে ঢাকার সূত্রাপুর থেকে মৈনটে পদ্মাপাড়ে ঘুরতে আসি। একপর্যায়ে মিরাজ ও তালহা পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে দুইজন পানিতে খেলতে থাকে। একসময় তারা কিছুটা দূরে চলে যায়। নিমিষে দুইজনকে আর দেখতে পাইনি আমরা।”

অপর বন্ধু হাসিব বলেন, “বিকেল ৫টার দিকে গোসল করতে নেমে মিরাজ ও তালহা যখন পানি ছিটাছিটি করছিল তখন আমি মোবাইলে ছবিও তুলেছি। কিন্তু আমি ও জুবায়ের একটু অন্যমনস্ক হয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে নদীর দিকে চোখ ফেরানোর পর ওদের আর দেখতে পাইনি।”

খবর পেয়ে দোহার থানা মাহমুদপুর পুলিশ ফাঁড়ির  উপ-পরিদর্শক(এসআই) রাকিব ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। তিনি বলেন, “মিরাজ ও তালহার সঙ্গে ঘুরতে আসা অপর দুই বন্ধু জুবায়ের ও হাসিবের তথ্যমতে আমরা খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু ওদেরকে পাওয়া যায়নি।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, “গত কয়েকদিন আগে মৈনটে গোসল করতে নেমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর উপজেলা প্রশাসন পদ্মাপাড়ে ভ্রমণে সর্তকতা জারি করে এবং নদীতে গোসল করতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ঈদের দিন থেকে হাজার হাজার মানুষ মৈনটে আসছে। ঈদের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে এসেছিল। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে না পেরে আমরা সারাদিন মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করেছি যাতে কেউ পদ্মা নদীতে গোসল করতে না নামে। কিন্তু অনেকেই মানছেন না, আমরা কী করব বলুন।”

জুবায়ের ও হাসিব জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা ঢাকা থেকে মৈনটে ঘুরতে এসেছে। তারা সবাই ঢাকার ধোপখোলা সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা। মিরাজ ওই এলাকার মো. গনির ছেলে ও তালহা মো. মনিরের ছেলে।

 

এবার মৌসুমী কসাইদের কদরও বেশি

আসিফ সজলঃ সারা দেশের ন্যায় দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে নেই পর্যাপ্তসংখ্যক পেশাদার কসাই। তাই প্রতিবারের ন্যায় এবারের ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির জন্য কদর বেড়েছে মৌসুমী কসাইয়ের। তবে এবারের রেট আগের চেয়ে বেশি। এরা বেশিরভাগ অন্যান্য পেশার লোক। কোরবানির ঈদে তারা বাড়তি আয়ের আশায় কসাই হিসেবে কাজ করেন।
এদের একজন দোহার উপজেলার দিনমজুর ওমর আলী। সারাবছর দিন মজুরি করলেও কোরবানির ঈদে হয়ে যান পুরোদন্তুর কসাই। ওমর আলী জানান, গড়ে দৈনিক ৫শ টাকা পান তিনি। তবে কোরবানির ঈদে তারা ৪ বন্ধু দিলে কসাইয়ের কাজ করেন। এ কাজে ঈদের ২ দিন একেকজন ৩/৪ হাজার টাকা করে আয় করেন। এই ঈদে এখন পর্যন্ত ৬টি গরুর অর্ডার নিয়েছেন তারা।
কেরাণিগঞ্জ উপজেলার চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা হাজী মজিবর হোসেন বলেন, ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। এখন কসাই পাচ্ছিনা। একজন কসাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি ১০ হাজার টাকা চান। তাই সাড়ে ৫ হাজার টাকায় অন্য লোক নিয়েছি। এখন চিন্তায় আছি তারা পারবেন কিনা?
নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা বাজার এলাকার পেশাদার কসাই আহমেদ জানান, তারা একত্রে ১২ জন কাজ করেন। ঈদের ২ দিনে ২৩টি গরুর অর্ডার নিয়েছেন। তারা এজন্য গরুর দামের শতকরা ১০ টাকা হারে মজুরি নিয়ে থাকেন। কখনো কখনো গরুর ওজন দেখেও মজুরি নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আক্ষেপ করে জানান, মৌসুমী কসাইয়ের কারণে তাদের গুরুত্ব যাচ্ছে। ফলে যা পান, তাতেই কাজ করতে রাজি হতে হয় তাদের।
এদিকে, পেশাদার কসাই না পেয়ে মৌস‍ুমী কসাইয়ের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না অনেকে।
নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার এলাকার বাসিন্দা মুকুল মাহমুদ জানান, ২ দিন ধরে পেশাদার কসাই খুঁজে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন মৌসুমী কসাইয়ে ভরসা না পেয়ে নিজেরাই গরু জবাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঈদের পর জাতীয়করণের তলিকায় যুক্ত হচ্ছে আরো নাম

0

জাতীয়করণের তলিকায় যুক্ত হচ্ছে আরো স্কুল ও কলেজের নাম। খুব শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুটি তালিকা পৌঁছাবে। একটিতে থাকবে স্কুল অপরটিতে কলেজের নাম।

মন্ত্রণালয় এ তালিকা দুটি বরাবরেরি মতোই পরিদর্শন পূর্বক মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে আদেশ দেবে।নিউজ৩৯ কে জানিয়েছেন শিক্ষা মণত্রাণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জি এম শাহজাহান।

 

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে দোহারের পশুর হাটগুলো

0

tanjim islam: আর মাত্র ১ দিন বাকী কুরবানী ঈদের। তাই পাল্টে গেছে কুরবানীর পশুর হাটের চিত্র, সরগরম হয়ে উঠেছে হাটগুলো। আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে দোহারে বসেছে ৫টি পশুর হাট। বাংলাবাজার, বাস্তা, জয়পাড়া, মেঘুলা ও ফুলতলায় বসেছে কুরবানীর পশুর হাট। প্রতিটি হাটেই চলছে পুরোদমে পশু বেচা-কেনা। ক্রেতারা জানিয়েছেন, পশুর দাম গতবারের চেয়ে সামান্য বেশি হলেও সামর্থের মধ্যেই আছে।

2-2

তবে নাখোশ বিক্রেতারা। বিক্রেতারা আরো একটু বেশি দামে পশুবিক্রির আশা করছেন। এবার ভারতীয় গরু বাজারে না আশায় ভাল দাম পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে কোন কোন বিক্রেতা।
মঙ্গলবার ঈদুল আযহা। তাই গরু কেনার জন্য বাকি আছে মাত্র আজকের দিন । পশু হাটের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সোমবারই পশু বেচাকেনার মূল সময়। তবে গতকাল রবিবার থেকেই বেশি পশু বিক্রি শুরু হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা মোটামুটি দাম পেলেই গরু বিক্রি করে দিয়ে হাফ ছাড়ছেন।