দোহারে ৪ মহিলা ছিনতাইকারী আটক

চার মহিলা ছিনতাইকারীকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে দোহারের  নুরপুর থেকে তাদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনগন।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, হাসিনা বেগম স্বামী শামসুল হক লস্কর  নামের এক মহিলা জয়পাড়া থানার মোর থেকে অটোরিকশা করে দোহার বাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিছুদূর যাওয়ার পর নাজমা খাতুন,সাহারা খাতুন,রেহেনা এবং  দিলারা বেগম নামে আরো ৪ জন মহিলা যাত্রী ছদ্দবেশে একই অটোরিকশায় উঠে হাসিনা বেগমকে মাঝখানে রেখে চারদিক ঘিরে বসেন। গাড়িটি দোহার বাজারে পৌছানোর আগেই নুরপুর এলাকায় গেলে দিলারা  হাসিনা বেগমের পরিহিত ৩ ভরি ওজনের স্বর্নের হাড় গলা থেকে কাচি দিয়ে কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে হাসিনা বেগম চিৎকার করলে  স্থানীয় জনগণ এসে  ছিনতাইকারীদের  ধরে উত্তম মধ্যম দেয়। এতে দিলারা বেগম নামে এক ছিনতাইকারী গুরত্বর আহত হয়।

পরে দোহার থানায় খবর দিলে এ এস আই আব্দুল আলীম এসে ৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং আহত দিলারা বেগমকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এ ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে হাসিনা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

ছিনতাইকারীরা হলেন নাজমা খাতুন (৩০) স্বামী বকুল মিয়া, সাহারা খাতুন (৪০) স্বামী তাহের মিয়া, রেহেনা খাতুন (২০) স্বামী রুবেল মিয়া এবং দিলারা বেগম (৩৫) স্বামী কামাল মিয়া । ছিনতাইকারীরা সকলেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মনবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার ডর মন্ডল গ্রামের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান,” অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরণের অপরাধ করে কেউ পার পাবেনা ”।

দোহারে অতিরিক্ত মাল বোঝাই ট্রাক খাদে

দোহারর আড়িয়াল বিলের কাছে  নিকড়া এলাকায় অতিরিক্ত ওজনের ফলে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পরে যায়। এতে গাড়ীর চালক এবং হেলপার গুরুত্বর আহত হয়।

স্থানীয় এবং প্রতক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায় ,গত ১৯ অক্টোবর বুধবার দুপুরে উপজেলার আড়িয়াল বিল এলাকার নিকড়া গ্রামে  সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্মানাধীন ব্রীজের কাজের জন্য সিলেট থেকে আনা প্রায় ২০ টন ওজনের অতিরিক্ত পাথর বোঝাই ঢাকা মেট্রো -ট-১৪-৩৯৭৯ একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পরে যায়। পরে ব্রীজের নির্মান শ্রমিকরা এসে গাড়ীর চালক বশির (৩৬) এবং হেলপার রাকিব (৩২) কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সংবাদ পেয়ে দোহার থানা পুলিশ দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এবিষয়ে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন,’” পাথরগুলো ব্রীজের কাজের জন্য আনা হয়ে ছিল। দূর্ঘটনার কারন খতিয়ে দেখা হচ্ছে”।

ডিএন কলেজে সরকারীকরণে আনন্দ মিছিল ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত

দোহার নবাবগঞ্জ কলেজকে সরকারীকরণ করায় আনন্দ মিছিল র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর বুধবার সকাল ১১ টায় কলেজ প্রাঙ্গণে  মিষ্টি বিতরন ও একে অপরকে রঙ মাখিয়ে সরকারীকরণের আনন্দ উদযাপন করে কলেজের বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা। পরে এক বিশাল  আনন্দ মিছিল ও র‍্যালী বের করা হয়। করে দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক মন্ডলী গভনিংবডির সদস্য বৃন্দ ও এলাকাবাসী। দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ থেকে এক বিশাল আনন্দ মিছিল ও র‍্যালী বের হয়। আনন্দ মিছিলটি দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ থেকে শুরু করে বাগমারা বাজার প্রদক্ষিণ করে আবার কলেজে এসে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহামেদ, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন হোসেন আকবর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম মোস্তফা শিমু,ঢাকা জেলা বিএনপির সহ সভাপতি খান ইফতেখার আল ফারুকী,নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহামেদ ঝিলু,, সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন সহ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও  স্থানীয় জনগণ।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন,”দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ। এ কলেজকে সরকারী করনের জন্য নানা ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। আজ ডি.এন কলেজ সকারী হয়েছে।  ঐতিহ্যবাহী দোহার নবাবগঞ্জ কলেজকে সরকারী করনের জন্য তিনি প্রধান মন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান”।

উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালের ১ জুলাই সাবেক ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য মরহুম আশরাফ আলী ওরফে মধু চৌধুরী, উপজেলা সদর সমসাবাদ এলাকায় কলেজটির উদ্ভোদন করেন। তখন অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে এই কলেজটির যাত্রা শুরু হয়। পাশা পাশি দুটি উপজেলার নাম মিলিয়ে এর নামকরণ করা হয় দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ যার সংক্ষিপ্ত নাম ডিএন কলেজ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নবাবগঞ্জের গালিমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী আতাউদ্দিন খানের মেধা ও শ্রমের বিনিময়ে কলেজটির বর্তমান অবকাঠামো পূর্ণাঙ্গতা পায়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আতাউদ্দিন খান সকল স্থাপনা নির্মাণ করেন। বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক পাঁচটি বিষয়ে অনার্স এবং বিবিএ সহ প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী,  ৫৮ জন শিক্ষক এবং ১৯জন কর্মচারী নিয়ে এর শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

বন্ধ হলো সিটিসেল

সরকারের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর সিটিসেল বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও প্রশাসন। গতকাল বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে অপারেটরটির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এর এক ঘণ্টা পর বিটিআরসির কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিটিসেল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেন  ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

এ সময় তিনি বলেন, বিটিআরসির বকেয়া না দেয়ায় সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কাছে সরকারের পৌনে পাঁচ শ’ কোটি টাকা পাওনা। এই পাওনা না পেয়ে গত জুলাই মাসে সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল বিটিআরসি। পরের মাসে তাদের নোটিশ দেয়া হয়েছিল। ওই নোটিশের পর সিটিসেল আদালতে গেলে আপিল বিভাগ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সিটিসেলকে দুই মাস সময় দিয়েছিল। গত ২৯শে আগস্ট আদালতের ওই আদেশ হয়। সিডিএমএ অপারেটর সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা কমতে কমতে এখন দুই লাখের চেয়ে কম। যেখানে বাংলাদেশে মোট মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি ১৩ লাখ। ১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল বা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড।

বর্তমানে এই কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিএনপি নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান মালিকানাধীন প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড। সিটিসেলের সবচেয়ে বেশি ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিংটেল এশিয়া প্যাসেফিক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের হাতে। এ ছাড়া ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

নবাবগঞ্জের ভাঙাপাড়ার ব্রিজ নিয়ে ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া গ্রামে একটি ভাঙা ব্রিজ নিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। প্রায় আট বছর ধরে ব্রিজটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ছয় মাসে অর্ধশতাধিক মানুষ ব্রিজ থেকে পড়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের সময় ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ছয় বছরের মাথায় ব্রিজের দু পাশের রেলিং ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের সময় নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহারের ফলে কিছুদিনের মধ্যেই ব্রিজটির রেলিং ভেঙে যায়। কিন্তু এরপর দীর্ঘ আট বছর অতিবাহিত হলেও সংস্কার হয়নি।

বারুয়াখালী ও জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ছত্রপুর, করপাড়া, ভাঙ্গাপাড়া, দীর্ঘগ্রাম, জৈনতপুর, ঘোষাইলসহ প্রায় ১০টি গ্রামের লোকজনকে এ ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সেই হিসেবে প্রতিদিন ব্রিজটি দিয়ে ৪/৫ হাজার লোক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। এছাড়া ইজিবাইক, ভ্যান ও রিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহন এ ভাঙা ব্রিজ দিয়েই চলাচল করে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন অসুস্থ মানুষজন। কারণ ভাঙ্গাপাড়া ব্রিজের পাশাপাশি এর রাস্তার অবস্থাও খুব খারাপ।

উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী শাজাহান ভূইয়া আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরেজমিনে ব্রিজটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাকিল আহম্মেদ বলেন, আমি যেহেতু নতুন এসেছি তাই ব্রিজটি সম্পর্কে অবগত নই। এখন খোঁজ-খবর নিয়ে ব্রিজটি যাতে দ্রুত সংস্কার করা হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

দোহার-নবাবগঞ্জের শিক্ষার্থীরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল: সালমা ইসলাম

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আলোকিত সমাজ গড়তে নবাবগঞ্জের শিক্ষার্থীরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। বুধবার দুপুরে নবাবগঞ্জের দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ সরকারি হওয়ায় আনন্দ মিছিলের প্রাক্কালে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন সারা দেশে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছেন, ঠিক তেমনি এই কলেজের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সারা বিশ্বে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে হবে।

সালমা ইসলাম বলেন, আজ আমার সবচেয়ে আনন্দ লাগছে। এমপি নির্বাচিত হয়ে যেমন আনন্দ পেয়েছিলাম, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ সরকারি হওয়ায় সেই সময়ের মতো আনন্দবোধ করছি। বিশেষ করে এ অঞ্চলের সব শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে একসঙ্গে পেয়ে ভালো লাগছে। সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নবাবগঞ্জের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কলেজ আজ জাতীয়করণ হয়েছে। সেজন্য নবাবগঞ্জবাসী ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। নিরলস প্রচেষ্টায় যে কোনো কঠিন কাজ করা সম্ভব, তার প্রমাণ দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ সরকারিকরণ। নানা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় আজ ঐতিহ্যবাহী ডিএন কলেজ সরকারি হল। ফলে এ এলাকার কৃষক শ্রমিকের সন্তানরাও অল্প খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।

এদিকে কলেজ সরকারিকরণ হওয়ায় শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ আনন্দ-উল্লাসে নেচে-গেয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপিকে দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ সরকারি হওয়ায় অভিনন্দন জানান। আনন্দঘন শোভাযাত্রাটি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বাগমারা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বাদ্যযন্ত্র ও ঢাকের তালে তালে নেচে-গেয়ে এবং রং ছিটিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল, সাবেক অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র দত্ত, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিন আহম্মেদ ঝিলু, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন রহমান আকবর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল শিমু প্রমুখ।

দোহারে জেলেরা পাচ্ছে না ভর্তুকির চাল

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নিধন বন্ধে গত বুধবার থেকে টানা ২২ দিন দেশের পদ্মা, মেঘনাসহ বিভিন্ন নদীতে জাল ফেলা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ জন্য জেলেদের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু নদীবেষ্টিত দোহারে প্রায় এক হাজার জন জেলের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। কর্মহীন জেলেরা এখন মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। চলতি মৌসুমে বিভিন্ন নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে অনেক জেলার বেকার জেলেদের ভর্তুকি হিসেবে ২০ কেজি করে চাল দিচ্ছে। কিন্তু দোহারে নিবন্ধনকৃত প্রায় এক হাজার জেলে সরকারের আহ্বানে সাড়া দিলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি বরাদ্দের চাল।

স্থানীয় মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জেলেদের এই সময়ে ইলিশ নিধনে অনুত্সাহিত করতে সভা-সমাবেশ, বৈঠক করেছে। কিন্তু জেলেরা কেন সরকারি বরাদ্দ পেল না বা আদৌ পাবে কি না, এ ব্যাপারে কিছু বলছে না।

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা এবিএম জাকারিয়া জানান, ২২ দিনে উপজেলার প্রতিটি জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় তা দিতে পারছি না। তবে উপজেলার জেলেরা নদীতে মাছ না ধরার নির্দেশনা  মেনে চলছেন।

নবাবগঞ্জে বিদেশী মদ ও বিয়ারসহ আটক ২

ঢাকার নবাবগঞ্জে ৭২ ক্যান বিয়ার ও দুই বোতল বিদেশী মদসহ তুষার ও রেজাউল ইসলাম রাজন নামে দুই যুবকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। গত ১৭ ই অক্টোবর সোমবার রাত ৯টার সময় ঢাকা-বান্দুরা সড়কের ছাতিয়া ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তুষার উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বড় রাজপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল বারেকের ছেলে, রাজন রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১১-এর পল্লবী থানা বাসিন্দা আরব আলী সিকদারের ছেলে। পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৯টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ছাতিয়া-মোহনপুর ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট বসায় থানা পুলিশ। পরে তুষার ও রাজনের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে হল্যান্ডের তৈরি ৭২ ক্যান বিয়ার ও স্কটল্যান্ডের তৈরি দুই বোতল বিদেশী মদ পাওয়া যায়। মালামালসহ পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল নিউজ৩৯ কে জানান, “এ ব্যাপারে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে”।

‘পীর’ মতিকে ধরিয়ে দিতে ওসির পুরস্কার ঘোষণা

দোহারে ভন্ড পীর ‘হজ্ববাবা’ খ্যাত মতিউর রহমান মতির বিচার ও ফাসিঁর দাবীতে স্বারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর ও আলোচনা সভা করেছে স্থানীয় ‘ইসলামী তাওহীদি জনতা’ সংগঠন। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। এসময় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করতে গেলে তিনি উপস্থিত না থাকায় তার পক্ষে স্বারকলিপি গ্রহন করেন উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) সুফিয়া আক্তার। এছাড়া স্বারকলিপি গ্রহন করেণ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ, তবে উপজেলা চেয়ারম্যান না থাকায় তাকে স্বারকলিপি দেওয়া হয় নি। এসময় ধর্মপ্রাণ মুসলমানবৃন্দ ভন্ড পীর মতির উপযুক্ত শাস্তি দাবী করে তার স্থানীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেখানে ইসলামিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার আহ্বান জানান।

এসময় দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ভন্ড পীর মতিকে ধরিয়ে দিতে পারলে পুলিশ অফিসারদের ১০ হাজার টাকা এবং তার অনুসারীদের ধরিয়ে দিতে পারলে ২ হাজার টাকা করে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া যে ভন্ড পীর মতির গোপন তথ্য বা তাকে ধরিয়ে দিতে সাহায্য করবে তাকেও পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন ওসি সিরাজুল ইসলাম। তবে তথ্য দাতার নাম পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

ভন্ড পীরের শাস্তির দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান

রবিবার দুপুরে উপজেলার নির্বাহী অফিসার কে এম আল-আমিন এবং দোহার থানা অফিসার ইন চার্জ শেখ সিরাজুল ইসলাম লিটু বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছে দোহার থানার সর্বস্তরের জনগণ ব্যানারে এলাকাবাসী। এতে উপস্থিত ছিল বিক্ষুব্ধ জনতা।

2