দোহারের পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান

দোহার উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মি. জাকারিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রমে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান চলেছে দ্রুত গতিতে। ২০তম দিন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৪৩৪ হাজার মিটার জাল, ১২৪১ কেজি মাছ, কয়েকটি ট্রলার জব্দ এবং প্রায় ৪০ জন জেলের জেল/ জরিমানা হয়েছে। ১ম হইতে ২০তম দিনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা সহ কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো।

ইলিশ রক্ষা অভিযান: ১ম দিন

অভিযানে সক্রিয় ভাবে অংশ নেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান নারিশা এবং মুকসুদপুর।বরাবরের মত উপস্থিত ছিলেন ওসি, ইউএনও মহোদয় এবং সাংবাদিকবৃন্দ। অভিযানে ২৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ১ জন মৎস্যজীবী আটক করা হয়। মোবাইল কোর্ট জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ফেলে এবং মৎস্যজীবীর নিকট হতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

২য় দিন অভিযানে কোন জেলেকে মাছ ধরতে দেখা যায় নি।

৩য় দিন ৪জন জেলে আটক, ৩৫ কেজি ইলিশ মাছ, ২০হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৩ টি নৌকা জব্দ করা হয়।

৪র্থ দিন ৪টি অযান্ত্রিক নৌকা এবং ১ টি যান্ত্রিক নৌকা , ৫হাজার মিটার জাল, ১৯ কেজি ইলিশ জব্দ করা এবং ১জনকে আটক করা হয়।

৫ম দিন ১০ জন জেলে আটক, ১০হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৮০ কেজি মাছ জব্দ।

৬ষ্ঠ দিন হতে ১১তম দিন ১৬৫ কেজি ইলিশ মাছ, ৪৮ হাজার ২০০ মিটার কারেন্ট জাল ও ৪ জনকে জেল এবং ৩ জনকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

১২তম দিন ১৩৮ কেজি ইলিশ মাছ ও ৩৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ। মাছগুলো ১০ টি এতিমখানায় এবং ৫ জন দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা

১৩তম দিন ৪জন জেলে আটক, ৮২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ২৫ কেজি মাছ জব্দ। এবং মেঘলা বাজারে জাল বিক্রির সময় প্রায় ২ লক্ষ মিটার জাল জব্দ।

১৪তম দিন : ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং একটি নৌকা জব্দ।

১৫তম দিন ৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ১১০ কেজি মাছ জব্দ।

১৬তম দিন ৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৫৫ কেজি ইলিশ জব্দ।

১৭তম দিন ৩৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৪০কেজি ইলিশ মাছ জব্দ । মাছ এতিমখানায় দিয়ে দেয়া হয়।

১৮তম দিন প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ও ১২০ কেজি ইলিশ জব্দ। এতিমখানায় ও মাহমুদপুর, মধুরচর আশ্রয়ণে মাছ গুলো ভাগ করে দেয়া হয়।

১৯তম দিন ১০৬কেজি ইলিশ ও ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ।  মাছগুলো মধুরচর আশ্রয়ণে ১০০ পরিবারের মধ্যে এবং এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

২০তম দিন সর্বমোট ১৫ হাজার মিটার জাল এবং ১০০ কেজি মাছ জব্দ । জাল পুড়িয়ে মাছ মাহমুদপুর আশ্রয়নে এবং এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

 

পদ্মা কলেজের পক্ষ থেকে এ্যাড. আব্দুল মান্নান খানকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন

পদ্মা কলেজের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট আব্দুল মান্নান খানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন কলেজের প্রিন্সিপাল মজিবুল হায়দার। সাথে ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিষদের অন্যতম সদস্য আব্দুর রহিম চোকদার, ভাইস-প্রিন্সিপাল, সিনিয়র শিক্ষক মো: আবদুল্লাহ, আব্দুল জলিল এবং মোহাম্মদ সেলিম।
স্বাধীনতার পর দোহারের প্রথম রাজনীতিবিদ হিসাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট আব্দুল মান্নান খান। চলতি মাসে আওয়ামী লীগের বিশতম জাতীয় সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

বাংলা সাহিত্যের তুখোড় এবং জনপ্রিয় কয়েকজন গোয়েন্দা

0

গোয়েন্দা বই পড়তে আমরা সকলেই ভালবাসি। ইংরেজি সাহিত্যে সাহিত্যের এই ধারা বেশ পুরাতন হলেও বাংলা সাহিত্যের জন্য তা খুব বেশি পুরনো নয়। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গোয়েন্দা কাহিনীর লেখক হিসেবে মানা হয় পাঁচকড়ি দেকে। উনার গল্পে ছিলেন দুইজন প্রধান গোয়েন্দা। একজন অরিন্দম বসু আরেকজন দেবেন্দ্রবিজয় মিত্র। তবে গোয়েন্দাকাহিনীর দিক থেকে সর্বপ্রথম সাফল্যের চূড়ায় ওঠে সম্ভবত শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্যোমকেশ’। তবে জনপ্রিয়তার সবচেয়ে শীর্ষস্থানে যে গোয়েন্দা চরিত্রের নাম থাকবে তিনি হলেন ‘ফেলুদা’। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা! তিনিই বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা কাহিনীকে প্রতিষ্ঠিত করে যান। আজ আমরা শুনবো বাংলা সাহিত্যের একই সাথে তুখোড় এবং বিখ্যাত কয়েকটি গোয়েন্দা চরিত্র সম্বন্ধে।

ব্যোমকেশ বক্সী

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্ট তুমুল জনপ্রিয় এক চরিত্র। বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে মধুর গোয়েন্দা মানা হয় ব্যোমকেশকে। এ চরিত্রটি আমাদের পুরো উপমহাদেশেই বেশ জনপ্রিয়। ব্যোমকেশ বক্সীর প্রথম আবির্ভাব হয় সত্যান্বেষী গল্পের মধ্য দিয়ে। ব্যোমকেশ বক্সীর বন্ধু অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে ব্যোমকেশের অভিযানগুলোর বর্ণনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ থেকে ব্যোমকেশকে নিয়ে সিরিজ গোয়েন্দা গল্প লেখা শুরু করেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। শরদিন্দু খুব সহজ এবং সাবলীল ভাষায় লিখতেন। ১৩৩৯ থেকে ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ১০ টি গল্প লেখার পর পাঠকদের আর ভাল লাগবে না ভেবে দীর্ঘ ১৫ বছর ব্যোমকেশকে নিয়ে আর কোন গল্প তিনি রচনা করেননি। এরপর তিনি আবার ‘চিত্রচোর’ গল্পটি দিয়ে ব্যোমকেশ সিরিজ পুনরায় চালু করেন। তিনি ব্যোমকেশ সিরিজের মোট তেত্রিশটি গল্প লিখেছেন এর মাঝে বিশুপাল বধ গল্পটি তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। ব্যোমকেশ বক্সীকে নিয়ে বেশ কিছু সিনেমা তৈরি হয়েছে। এর মাঝে বলিউডের একটি সিনেমাও আছে।

বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা : ফেলুদা

ফেলুদা

ফেলুদা! সে তো এক কিংবদন্তী। সত্যজিৎ রায়ের নিজ হাতে গড়া চরিত্র। ফেলুদার পুরো নাম প্রদোষচন্দ্র মিত্র। ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সন্দেশ পত্রিকায় “ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি” প্রথম প্রকাশিত হলে চারদিকে সাড়া পড়ে যায়। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ফেলুদার মোট ৩৫ টি সম্পূর্ণ এবং ৪ টি অসম্পূর্ণ গল্প এবং উপনযাস প্রকাশিত হয়েছে। ফেলুদার ঠিকানা ২১ রজনী সেন রোডে। তার প্রধান সহকারি খুড়তুতো ভাই তোপসে এবং লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ু।

ফেলুদা শার্লক হোমসের বিশাল বড় ফ্যান ছিলেন যা সত্যজিতের লেখায় বারবার উঠে এসেছে। ফেলুদার প্রধান সহকারী তপেশরঞ্জন মিত্র বা, তোপশে চরিত্রটিও শার্লক হোমসের রচয়িতা স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের জন ওয়াটসন চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত। ফেলুদা রহস্যের বসমাধান করতে গিয়ে সাধারণত শারীরিক শক্তি বা, অস্ত্র ব্যবহার করেন না। তার বুদ্ধিই তার প্রধানতম অস্ত্র। তার পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতা অসাধারণ। ফেলুদা সিরিজেরর সমস্ত গল্প এবং উপন্যাস ইংরেজি ভাষাতেও অনুদিত হয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা : মাসুদ রানা

মাসুদ রানা

মাসুদ রানা বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের তৈরি একটি চরিত্র। ১৯৬৬ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রথম বইটির না ছিল ধ্বংস পাহাড়। মাসুদ রানার সকল বই সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই সিরিজের চারশরও অধিক বই রয়েছে। সিরিজের প্রথম দুটি বই সম্পূর্ণ মৌলিক। কিন্তু পরবর্তি প্রায় সকল বই অন্যান্য ভাষার বই এর ভাবানুবাদ বা, ছায়া অবল্পম্বনে রচিত। মাসুদ রানা চরিত্রটি জেমস বন্ডের বাঙালি সংস্করণ। মাসুদ রানার প্রথম বইটি কাজী আনোয়ার হোসেন ১০ মাস দীর্ঘ পরিশ্রম করে লিখেন।

মাসুদ রানা সেনাবাহিনীর প্রাক্তন একজন মেজর। সে কাল্পনিক এক সংস্থা “বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের সদস্য। সাংকেতিক নাম MR-9. রানা এজেন্সি নামে একটি গোয়েন্দা সংস্থাও তার রয়েছে। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে বইটিতে পাকিস্তান কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের কথা উল্লেখ থাকত। মেজর জেনারেল রাহাত খান হলেন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের প্রধান। তার অধীনে মাসুদ রানা কাজ করে থাকে।

মাসুদ রানার চিরশত্রুদের কয়েকজন হল বিজ্ঞানী কবীর চৌধুরী, উ সেন প্রমুখ।

বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা : সন্তু কাকাবাবু

কাকাবাবু

বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক এবং কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অনবদ্য কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র হল কাকবাবু। কাকাবাবুর আসল নাম রাজা রায়চৌধুরী। কাকাবাবু মধ্যবয়েসি এক গোয়েন্দা। তিনি ভারত সরকারের প্রত্নতত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা। কাকাবাবু একবার আফগানিস্তানে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তারপর থেকেই কাকাবাবুর এক পা ভাঙ্গা। হাঁটেন ক্র্যাচে ভর দিয়ে, অতি কৌশলে। তিনি কিছুদিন সিবিআই এর উপদেষ্টাও ছিলেন। তিনি কখনও বিয়ে করেননি।

কাকাবাবু অসম্ভব সাহসী। তিনি তার ভাইপো সন্তু আর সন্তুর বন্ধু চাপাবাজ জোজোকে নিয়ে অনেক রোমহর্ষক অ্যাডভেঞ্চার করেছেন। কাকাবাবু শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও তার বুদ্ধির জোরে তিনি বিভিন্ন জটিল জটিল সব সমস্যার সমাধান করে বেড়ান। কাকাবাবু প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৯ সালে, আনন্দমেলা পত্রিকায়। গল্পের নাম ছিল “ভয়ঙ্কর সুন্দর”। ২০১২ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মোট ৩৬ টি কাকাবাবুর কাহিনী লিখেছেন।

বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা: মিসির আলি

মিসির আলী

মিসির আলী বাংলাদেশের বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক এবং ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট এক জনপ্রিয় চরিত্র। এর কাহিনীগুলো রহস্যফগেরা। এগুলোকে ঠিক গোয়েন্দা কাহিনী বলা যায় না। মিসির আলীকেও সেই অর্থে গোয়েন্দা বলা যায় না। কিন্তু তার কাছাকাছি একটা চরিত্রই মিসির আলী। তিনিও গোয়েন্দাদের মতই রহস্যের সমাধান করেন। তাই মিসির আলীর গল্পগুলোকে গোয়েন্দা ঘরানারই ধরা হয়। মিসির আলীর কাহিনীগুলো মানুষের মনস্তাত্বিক বিষয়গুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করে। কাহিনী বাঁধা হয় যুক্তি আর বিজ্ঞানের শক্ত বাঁধনে। এ চরিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের আরেক চরিত্র হিমুর সম্পূর্ণ বিপরীত বলা চলে।

মিসির আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক। তার বয়স ৪০-৫০ এর মাঝে। লম্বাটে মুখ, এলোমেলো দাড়ি, উসকো খুশকো চুল। প্রথমে দেখলে যে কেউ ভবঘুরে ভেবে ভুল করবে। তাঁর স্মৃতিশক্তিও অত্যন্ত ভাল।

বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা: তিন গোয়েন্দা

তিন গোয়েন্দা

তিন গোয়েন্দা সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ। মূলত স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের মাঝে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক। ১৯৮৫ সাল থেকে বিদেশী কাহিনী অবলম্বনে এ সিরিজ চালু হয়। প্রথম থেকেই সুলেখক রকিব হাসানই এ সিরিজ লেখার কাজ শুরু করেন। তিনি ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা ১৬০ টি কাহিনী লেখেন। পরবর্তিতে শামসুদ্দীন নওয়াব এই সিরিজটি লেখার কাজ চালাচ্ছেন। প্রথম আলোর এক জরিপে উঠে আসে যে, বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরদের পড়া গল্পের বইয়ের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল তিন গোয়েন্দা। জরিপে ৪৫০ জনের ৮১ জন তিন গোয়েন্দার কথা বলে যা মোট অংশগ্রহণকারীর ১৮%।

তিন গোয়েন্দা গল্পের প্রধান তিন চরিত্র হল, কিশোর, মুসা, রবিন। তারা সবাই আমেরিকা থাকে। তারা তিন গোয়েন্দা নামে এক গোয়েন্দা সংস্থা চালায়। কিশোর যার প্রধান। কিশোর বাঙালি। মুসা আমান বযায়াম্বীর এবং আমেরিকান নিগ্রো। আর রবিন মিলফোর্ড আইরিশ আমেরিকান। সে বই এর পোকা।

গভীর চিন্তামগ্ন থাকলে কিশোর পাশা ক্রমাগত তাঁর নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটতে থাকে। মুসা আমানভোজন রসিক। সে বিমান চালাতেও মোটামুটি দক্ষ। রবিন মূলত চলমান জ্ঞানকোষ। তিন গোয়েন্দার কার্ডও আছে। কার্ডে বড় বড় করে লিখা “তিন গোয়েন্দা”। তাঁর ঠিক নিচেই থাকে তিনটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন। তাঁর নিচে নিজেদের নাম। তবে পরবর্তিতে কিশোর প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে আশ্চর্যচিহ্ন ব্যবহার শুরু করে। তিন গোয়েন্দার একটা বিখ্যাত কৌশল হল ভূত-থেকে-ভূতে।

তবে তিন গোয়েন্দা কিন্তু কম সমালোচিত নয়। প্রথমত এর কাহিনীগুলো মৌলিক নয়। কিন্তু এর ব্যাপক চাহিদা এই সমালোচনা আসলে ধোপে টেকেনি। এ সিরিজের ৩০০ এরও বেশি বই আছে।

এছাড়াও বাংলা সাহিত্যে কাজী আনোয়ার হোসেনের কুয়াশা, বুদ্ধদেব গুহর হৃজু বোস, লেখক ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়ের পান্ডব গোয়েন্দা, সমরেশ মজুমদারের অর্জুন, রকিব হাসানের গোয়েন্দা রাজু, মুহাম্মদ জাফর ইকবালের টুনটুনি ও ছোটচাচ্চু পাঠকদের কাছে, বিশেষ করে কিশোর বা, তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। হালের আলোচিত লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনের জেফরি বেগ গোয়েন্দা চরিত্রটিও বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। এসব চরিত্র নিয়ে না হয় আরেকদিন লেখা যাবে। আজ এ পর্যন্তই। ধন্যবাদ।

অস্তিত্বহীন মন্দির সংস্কারের নামে অর্থ আত্মসাৎ: নবাবগঞ্জ নয়নশ্রী ইউপি সচিবসহ গ্রেফতার দুই

অস্তিত্বহীন মন্দির সংস্কারের নামে অর্থ আত্মসাতের পৃথক মামলায় নবাবগঞ্জ নয়নশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. ফিরোজ আলম ও দেবদুলাল হাজরাকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-পরিচালক শেখ মো. আবদুস ছালাম নবাবগঞ্জ থেকে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করেন। মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, মো. ফিরোজ আলমের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা রয়েছে। গতবছর ১২ অক্টোবর দুদক ফিরোজ আলমসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নয়নশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ঢাকা জেলা পরিষদের ২১ লাখ ৪৯ হাজার ১শ’ টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যা স্পষ্টতই অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার। মামলায় ফিরোজ আলম ও সহযোগী আসামিদের বিরুদ্ধে আÍসাতের প্রমাণাদি বিনষ্টেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এজাহারটি দায়ের করা হয়। মামলা তদন্ত করছেন উপ-পরিচালক শেখ আবদুস ছালাম।

এদিকে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের হওয়া আরেক মামলায় দেবদুলাল হাজরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারে দেবদুলালের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো মন্দিরের অস্তিত্ব না থাকলেও দেবদুলাল হাজরা জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করেন। স্টুডিও থেকে বিভিন্ন জনের পাসপোর্ট সাইজের ফটো সংগ্রহ করে তাদের স্বাক্ষর জাল করে ঢাকা জেলা পরিষদে মন্দির সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দের আবেদন করেন। অস্তিত্বহীন মানুষদের দিয়ে মন্দির পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। এটি দাখিল করে তিনি ও অন্য আসামিরা দি সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫শ’ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেন। এ মামলায় আরও ১১ জন আসামি রয়েছেন। তবে তদন্তে আসামির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সূত্র। মামলাটি তদন্ত করছেন উপ-পরিচালক শেখ আবদুস ছালাম।

নবাবগঞ্জে ২ মাদকসেবীর কারাদণ্ড

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় দুই মাদকসেবীকে পৃথক মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা জামান এ আদেশ দেন।

দণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার বলমন্তচর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে তুহিন (২৮) ও একই গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে রুবেল (৩২)। এদের মধ্যে তুহিনকে ছয় মাস ও রুবেলকে সাতদিনের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

নবাবগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাম কৃষ্ণ দাস বাংলানিউজকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় বলমন্তচর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে বিচারক দু’জনকে কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দোহারে অঞ্জাত যুবকরে লাশ উদ্ধার

ঢাকার দোহারের নিকড়ায় অঞ্জাত পরিচয়ের এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে দোহার থানা পুলিশ। জানা যায়, ঢাকার দোহার উপজলোর নিকড়ার রসুলপুর জোরা ব্রীজ এলাকায় একটি খাল থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অঞ্জাত এক যুবকের হাত পা বাঁধা গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে দোহার থানা পুলিশ।

দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, মৃতদেহটি দশ থেকে পনের দিন আগের হতে পারে। । পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা প্রেরন করা হয়।

ফেসবুকে সাংবাদিকতার কোর্স

সাংবাদিকদের ফেসবুক লাইভ, ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও, ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলসহ নানা কনটেন্টে অনুসারীদের যুক্ত রাখতে বিনা মূল্যে অনলাইন কোর্স করাচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিউ মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য তাদের এই কোর্সের আয়োজন। এই কোর্স খবরের তিন মূল ভিত্তি হিসেবে কনটেন্ট খোঁজা, খবর তৈরি ও দর্শক তৈরির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
এই কোর্স করতে হলে ফেসবুক প্রোফাইল থাকতে হবে এবং এটি ব্লুপ্রিন্ট নামে ফেসবুকের গ্লোবাল ট্রেনিং প্রোগ্রামের আওতায় পড়বে।
এই কোর্সের জন্য ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে এক্সিড এলএমএস নামের থার্ড পার্টি লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া আগ্রহী ব্যক্তিরা চাইলে সিগন্যাল নামের একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারবেন, যা ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো জায়গা থেকে খবর তৈরিতে সহযোগিতা করবে।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের এই কোর্সে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছে, নিউজ, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিশিং অন ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে তাঁরা আলাপ চালিয়ে যেতে পারবেন।
ফেসবুক সাংবাদিকতায় উৎসাহী করতে ৩ নভেম্বর একটি লাইভ ওয়েবিনার আয়োজন করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
ফেসবুকের অনলাইন কোর্স করার লিংক (https://www.facebook.com/facebookmedia/journalists )।

দোহারে অটো চালক হত্যা

0

ঢাকার দোহারের রসুলপুর এলাকায় বশির উদ্দিন (৫৫) নামে এক চালককে হত্যা করে তার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকটি ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ইউসুফপুরের রসুলপুর রাস্তার পাশ থেকে নিহত ওই চালকের লাশ উদ্ধার করে দোহার থানা পুলিশ। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত বশির উদ্দিন উপজেলার রাইপাড়া ফুলতলা গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে।

রসুলপুর গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, রাত নামতেই রসুলপুর সড়কটিতে গাড়ি চলাচল অনেকটা কমে যায়। কারণ সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই সড়কের দুটি কালভার্টের ওপর মাদকসেবীদের আসর জমে উঠে। তারাই মাদকের টাকা যোগাড়ের জন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার একই এলাকা থেকে আরও একটি অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এর আগেও এখানে গোকুল নামে এক চালককে হত্যা করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশকে একাধিকবার বলার পরও তারা বিষয়টি নজরে আনছেন না।

নবাবগঞ্জের রহস্যঘেরা আন্ধারকোঠা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা-বান্দুরা অঞ্চলের স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক দিক দিয়ে বিশেষ গুরুত্ব আছে৷ এ অঞ্চলে কয়েক’শ বছরের পুরনো শত শত দালান সেই সময়ের স্থাপত্যশৈলীর উদাহরণ হয়ে আজও টিকে আছে৷ এই দালানগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন উপকথা ও কুসংস্কার৷

দালানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত খেলারামদাতার কোঠা, যা স্থানীয়দের কাছে আন্ধারকোঠা বা ভূতের বাড়ি হিসেবে পরিচিত এই দালানকে কেন্দ্র করে অসংখ্য কাহিনী প্রচলিত আছে৷ তবে দলানের আবির্ভাব নিয়ে ৩টি ভিন্নধর্মী কাহিনী প্রচলিত আছে৷ অনেকের মতে এটি গায়েবি ভবন যা রাতারাতি তৈরি হয়েছে৷ পাশে থাকা পুকুরটি নিয়েও অনেক অলৌকিক কাহিনী আছে৷ সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কাহিনীটি রইল পাঠকদের জন্য।

ঢাকা জেলার সদর দক্ষিণ মহকুমায় অবস্থিত কলাকোপায় এক বনিক পরিবারে জন্ম নিয়েছিল খেলারাম৷ ছোটকালে পিতা মারা যাওয়ায় মায়ের আদরে বড় হওয়া তার৷ তবে দিনে দিনে অবাক লক্ষণই ছেলের মাঝে প্রকাশ পায়৷ কিশোর খেলারাম প্রায়ই ছুটে গিয়ে বসে থাকত অদূরের প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীরে৷ বয়ে যাওয়া স্রোত এবং বিশাল বিশাল সব ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে তার শুধু ইচ্ছে হতো নৌকায় চেপে ভেসে বেড়াতে৷ একদিন বিধবা মা টের পেয়ে প্রশ্ন তোলেন, “নদীর দিকে ফিরে তুই এত কি খুঁজিস?” খেলারাম হেসে উত্তর দিল, “আমার শুধু ভাবনা এই নদী কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে?” প্রত্যুত্তরে বিধবা বলেন, “বাপ-দাদাদের মুখে শুনেছি নদীর শেষ সমুদ্রে৷ গিয়ে দেখ পথ ঘুরে ঘুরে আমাদের পদ্মাও তেমন গিয়ে মিশেছে অকূল কোন সমুদ্রের গায়ে৷ তবে তা কি আমাদের কোনো দিন দেখতে পাওয়ার আর?” বড় হয়েও খেলারাম নদীর নেশা ছাড়তে পারে না৷ বংশের অন্যরা চাষাবাদ, ব্যবসায় লেগে থাকলেও সে শুধু শোনে পদ্মার ডাক৷ যেন ফিসফিস স্বরে ওই নদী বলে, “চলো, চলো, সমুদ্র দেখবে যদি, ভাসো আমার বুকে!”

অবশেষে পুত্র একদিন আপন অভিলাষ মায়ের কাছে ব্যক্ত করে৷ খেলারামের আশঙ্কা ছিল একমাত্র সন্তান হওয়ায় তাকে বাড়ির বাইরে দূরে কোথাও যেতে দেওয়া হবে না৷ কিন্তু বিধবা শোনালেন অন্য কাহিনী৷ বললেন, “জানিস বাবা, আগে এলাকার অনেক মানুষ দাড় টানতে পদ্মায় চলে যেত৷ তোর দাদার বাপ-দাদারাও ডিঙি ভাসিয়ে কত দূর দূর দেশে বানিজ্য করতে গেছে৷ এখন কি আর সেসব আছে!” ছেলে ব্যাগ্রভাবে শুধোয়, “কেন মা, নেই কেন?” উত্তরে তিনি জানালেন, এ দেশের রাজা শশাঙ্ক গৌড় আইন করে মানুষের সমুদ্রে যাওয়া নিষেধ করে দিয়েছিলেন৷ আর কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে জাতে পতিত করা হতো৷ কপালে জোটত মেথর কিংবা অন্য কোন ছোট মাপের চাকরি৷ রাজার এই নিষ্ঠুরতার কারনে বন্ধ হয়ে যায় সব সওদাগরি ব্যবসা৷ থামে বহু মানুষের রুটি-রুজির উপায় দাঁড়টানা কাজ৷ হাজার হাজার নৌকার মিস্ত্রিও তাতে বেকার জীবনের অভিশাপ বয়ে বেড়ায়৷ কাহিনী শুনে ছেলে জবাব দেয়, “মা, রাজা শশাঙ্ক তো এখন আর বেঁচে নেই৷ তুমি অনুমতি দিলে আমি সমুদ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে রাজার নিয়ম ভাঙতে পারি৷”

খেলারামের এই আবেদনে বিধবা সাড়া দেন৷ মায়ের অনুমতি পেয়ে ছেলে দূরের শাল গ্রাম থেকে মিস্ত্রি এনে নৌকা তৈরি করে৷ জোগার হয় মাঝি-মাল্লার দল৷ শুভদিন দেখে যাত্রা শুরু হলে মা এসে গলুইয়ের মুখে সিঁদুরের টিপ পরিয়ে দিয়ে পুত্রের মাথায় রাখেন আশীর্বাদের হাত৷ তারপর বানিজ্যের বেসাত নিয়ে খেলারাম ডিঙা ভাসায় পদ্মার স্রোতে৷ গিয়ে পৌঁছে মালয় উপদ্বীপে৷ সেখানে বয়ে নেওয়া পণ্য বিক্রি করে প্রচুর মুনাফাহয় তার৷ তা দিয়ে নতুন কেনাকাটা করে সে যায় শ্যামদেশে৷ একদিন লাভ নিয়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসলে মা আদেশ করেন, “যা পেয়েছিস তা থেকে একভাগ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দে৷” পালিত হয় মাতৃআজ্ঞা৷

andhar-kotth2

অবশিষ্ট দু’ভাগ দিয়ে খেলারাম সাজায় সাত-সাতটা ডিঙি৷ এবারে সে শ্যাম, মালয়, সুমাত্রা, যবদ্বীপের বন্দরে বন্দরে মাল বেচাকেনা করে ফিরে আসে এক ডিঙি ভরা টাকাকড়ি নিয়ে৷ বিধবা এবার অর্জিত ধন-সম্পদের অর্ধেক গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিতে বলেন৷ ইতোমধ্যে দূর-দূরাঞ্চলেও খেলারামের মহানুভবতার কথা ছড়িয়ে পড়ে৷ তার দেখাদেখি রাজা শশাঙ্কের আইন অমান্য করে অন্যরাও নৌপথে বাণিজ্য শুরু করে৷ এদিকে বাণিজ্যের ধন দিয়ে খেলারাম গড়ে তোলে বিশাল প্রাসাদ, যা আজ খেলারামদাতার কোঠা হিসেবে পরিচিত৷ সেখানে বসেই প্রতিবারের লাভ সে বিলিয়ে দিত দুস্থ মানুষের মাঝে৷

একবার মা তাকে বললেন, “ছেলে রে, এ বছর আমার সাতার কেটে আম খাওয়া হলো না৷” এই কথা শুনে ছেলে গোপনে বিরাট এক পাকা চৌবাচ্চা তৈরি করল৷ আশি মণ গরুর দুধ কিনে জ্বাল দিয়ে ঢালা হলো তাতে৷ জড়ো করা হলো ঝুড়ি ঝুড়ি আম৷ আমে দুধে একাকার হয়ে গেল চৌবাচ্চা৷ এরপর খেলারাম মাকে ডেকে আনে আম খেতে৷ ছেলের পাগলামিতে মা চমকে যায়৷ পরবর্তীতে আম-দুধ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়৷ পরদিন খেলারাম বেলা হয়ে যাবার পরও ঘুম থেকে উঠল না৷ মা তাকে ডেকে তুলল৷ শরীরে জ্বর-টর কিছু নেই৷ মা বলল, “যা, তাড়াতাড়ি ডুব দিয়ে আয়৷ আমি তোর জন্য কত কি পিঠা বানিয়ে বসে আছি৷” খেলারাম সেই আদেশ মেনে নিয়ে ডুব দেয় পুকুরের জলে৷ অনেক সময় কেঁটে গেলেও সে উঠে না৷ বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘাটলায় দাঁড়িয়ে থাকা অনেকে ঝাপ দেয় পুকুরে৷ তুলে আনে খেলারামের মৃতদেহ৷ দাতা খেলারামের মৃত্যুতে কান্নার রোল উঠে চারদিকে৷ সবচেয়ে মর্মভেদী ঠেকে মায়ের কান্না৷

তিনি চিৎকার করেন, “এ কি করলে ভগবান? আমার খোকাকে কেন তুমি নিয়ে গেলে?” এ সবই আজ থেকে পাঁচশ বছর আগের কথা৷ কালের স্রোতে ক্ষয়ে গেছে খেলারামের ভিটেবাড়ি৷ সম্প্রতি বহু কারুকার্যখচিত দালানের ধ্বংসাবশেষকে সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷ রাতের বেলা এই পথ দিয়ে চলতে গিয়ে পথিক নাকি আজও শুনতে পায় সেই মায়ের গুমরে ওঠা কান্না৷৷

এছাড়াও প্রচলিত আরো কাহিনী রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এক রাতে এই বিশাল ভবনটি মাটি ভেদ করে উঠতে থাকে, হটাৎ কেউ একজন দেখে ফেলায় এটার ওঠা বন্ধ হয়ে যায় এবং কালের বিবর্তনে আস্তে আস্তে পুনরায় মাটির নিচে ডেবে যেতে থাকে। এটি যখন উঠেছিল তখন ৭/৮ তলা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান যা বর্তমানে একতলা। তবে কি মাটির নিচে আরো তলা রয়েছে?

সবচেয়ে রহস্যের বিষয় হচ্ছে এর ভেতর প্রচন্ড অন্ধকার যা কল্পনার অতীত। অনেক আগে কয়েকজন ভবনের নিচে যাওয়ার চেষ্টা করেও যেতে পারেননি বলে কথা প্রচলিত আছে। এমনকি এরও আগে কয়েকজন নিচে গিয়ে আর নাকি ফেরত আসেনি। স্থানীয়দের এমন কথার যথার্থতা কতটুকু তা বিচার করা দুষ্কর।

দোহারে কারেন্ট জাল ও ইলিশ মাছ জব্দ

 

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করায় ঢাকার দোহারের পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে সাত হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১১০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম জাকারিয়া।

 

আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর।

 

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানে জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং মাছগুলো বিভিন্ন এতিমখানায় দান করা হয়।