বিরিয়ানি-র নাম বিরিয়ানি হল কী করে জানেন?

রাস্তার ধারে বড় তামার হাঁড়ি আর তার মুখে ময়দার প্রলেপ লাগানো দেখলেই মনটা ছোঁক ছোঁক করে। আর নাকে একবার সেই লাখ টাকার গন্ধটি গেলে তো কথাই নেই। হাজার ডায়েটিং, কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার সব গোল্লায় গিয়ে মাথায় শুধু উঁকি মারে চারটে অক্ষর। বিরিয়ানি।

না না করেও ঠিক পৌঁছে যান ভুরভুরে গন্ধ ওঠা রেস্তোরাঁটির কোনও না কোনও টেবিলে। এ বার সাদা ধবধবে প্লেটে লম্বা লম্বা হলুদ-সাদা চাল, নরম তুলতুলে আলু আর মাখোমাখো মাংসের জন্য কষ্টকর অপেক্ষা। আর পাতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিমেষে চালান হয়ে যাওয়া পেটের মধ্যে। এমন ভাবেই বিরিয়ানির জাদুতে মজে আট থেকে আশি। কিন্তু কোথা থেকে এল এমন মন ভাল করে দেওয়া খাবারটি? কী ভাবেই বা বিরিয়ানির নাম বিরিয়ানি হল? তার খোঁজ রাখেন না অনেকেই।

ভারতীয়দের মধ্যে বিরিয়ানিপ্রেমীর সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। কিন্তু আদতে এ দেশের খাবারই নয় এই বিরিয়ানি। পারস্য থেকে আমদানি হয়েছিল জিভে জল আনা লোভনীয় খাবারটির। পার্সিয়ান শব্দ ‘বিরিয়ান’ কথার অর্থ হল ‘রান্নার আগে ভাজা চাল’। সেখান থেকেই বিরিয়ানি কথাটির জন্ম। অনেকে বলেন, তৈমুর লঙ্গের হাত ধরে ১৩৯৮ সাল নাগাদ ভারতে এসেছিল বিরিয়ানি। মাটির পাত্রে চাল, মশলা আর মাংস মিশিয়ে এক সঙ্গে রান্না করা হত। তখন প্রধানত সৈন্যদের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হত বিরিয়ানির এই আদি ‘ভার্সন’। অন্য একটি মতে লঙ্গের বহু আগে ২ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ আরবের ব্যবসায়ীদের হাত ধরে বিরিয়ানি আসে ভারতে। তামিল সাহিত্যে ‘ওন সরু’ নামে এক ধরনের খাবারের উল্লেখ পাওয়া যায়। ভাত, ঘি, হলুদ, ধনে, মরিচ, তেজপাতা, মাংস দিয়ে তৈরি হত এই খাবার। যার সঙ্গে আধুনিক বিরিয়ানির অনেকটাই মিল পাওয়া যায়। তবে বিরিয়ানি জনপ্রিয়তা পায় মুঘল সম্রাটদের হাত ধরে। মুমতাজ মহলের রোজকার খাদ্য তালিকায় বিরিয়ানির উল্লেখ পাওয়া যায়। বিরিয়ানি খেতে খুবই ভালবাসতেন শাহজাহানের এই সুন্দরী বেগম। কথিত, একবার নাকি মুঘল সেনা ছাউনি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুমতাজ। সেখানেই বিরিয়ানি রান্না হতে দেখেন তিনি। রাঁধুনিকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন, সৈন্যদের ‘ব্যালান্স ডায়েট’ দেওয়ার জন্য ভাত ও মাংস মাখানো এই খাবার দেওয়া হয়। নতুন এই খাবারটি চেখে দেখে এর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন মুমতাজ। সেই সূত্রপাত।

শুধু মুঘল রাজপরিবারই নয়, লখনউ-এর নিজাম প্যালাসেও বিরিয়ানির জনপ্রিয়তা ছিল মারাত্মক। নিজাম পরিবার থেকেই রকমারি বিরিয়ানির আত্মপ্রকাশ ঘটে। তবে যত বাহারি রকমেরই হোক না কেন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায় ‘দম পুখত’ বিরিয়ানি। এই বিরিয়ানি তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণত সমস্ত উপাদান এক সঙ্গে দিয়ে দমে বসানো হয়। অল্প আঁচে, ঢাকা দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয় এই বিরিয়ানি। প্রধানত মশলার ভেদাভেদের উপরই নির্ভর করে বিরিয়ানির স্বাদ। মশলা পরিবর্তন করেই তৈরি করা যায় হরেক রকমের বিরিয়ানি। এদের নামও আলাদা। উত্তর ভারতে আগে লম্বা দানার ব্রাউন রাইস ব্যবহার করা হত বিরিয়ানির প্রধান উপাদান হিসাবে। এখন অবশ্য বেশির ভাগ জায়গাতেই বাসমতি চাল ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ ভারতে আবার স্থানীয় বিভিন্ন ধরনের চাল দিয়ে তৈরি হয় বিরিয়ানি। যেমন, জিরা সাম্বা, কাইমা, জিরাকাশালা, কালা ভাত ব্যবহার করা হয়।

তবে ভারতে সাধারণত বিরিয়ানি তৈরি হয় দু’টি পদ্ধতিতে। কুটচি আর পুক্কি। কুটচির ক্ষেত্রে কাঁচা চাল ও মাংস বাঁড়ির মধ্যে স্তরে স্তরে সাজিয়ে একইসঙ্গে সিদ্ধ করা হয়। অন্যদিকে পুক্কিতে আগে থেকেই চাল ও মাংস সিদ্ধ করে নেওয়া হয়। পরে হাঁড়ির মধ্যে স্তরে স্তরে সাজিয়ে দমে বসানো হয়। ভআরতে প্রায় ১৫ রকমের বিরিয়ানি পাওয়া যায়। গ্যালারির পাতা থেকে তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরিচয় সেরে ফেলা যাক।

 

জেনে নিন তেহারি রান্নার নিয়ম

দেশের বিভিন্ন শহরের অলিগলিতে গড়ে উঠছে তেহারির দোকান। আর সেসব দোকানে ভীর লেগে থাকে হরদম। তবে বাইরে থেকে না কিনে ঘরেই তৈরি করতে পারেন এই সুস্বাদু খাবারটি। রইলো রেসিপি-

উপকরণ : গরুর মাংস ২ কেজি (ছোট ছোট টুকরা করা), আদা বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ৩ টেবিল চামচ, সরিষার তেল পরিমাণমতো, মোটা করে পেঁয়াজ কাটা ১ কাপ, গরম মশলা গুঁড়া (এলাচ, দারুচিনি, জায়ফল, জয়ত্রি, গোলমরিচ, লবঙ্গ, আস্ত ধনিয়া) তিন টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ আস্ত ১০-১২টি, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, টক দই ৩০০ গ্রাম, পোলাওর চাল দেড় কেজি, পানি পরিমাণমতো।

প্রণালি : প্রথমে গরুর মাংস ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। একটি পাতিলে সরিষার তেল গরম করে তাতে একে একে টুকরা পেঁয়াজ, সব বাটা মশলা, গুঁড়া মশলা এবং স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিয়ে তাতে গরুর মাংস দিয়ে ঢেকে চুলায় রান্না করতে হবে প্রায় ১ ঘণ্টা (গরম মশলা পরে দিতে হবে)।

এখন পোলাওর চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে। চালের পানি ঝরে গেলে অন্য একটি পাতিলে শুধু অল্প সরিষার তেল ও লবণ দিয়ে পোলাওর চাল ভালো করে ভেজে নিয়ে তাতে পরিমাণমতো পানি ও স্বাদ অনুযায়ী লবণ এবং কাঁচামরিচ দিয়ে পোলাও রান্না করে নিন। এরপর গরুর মাংস অর্ধেক সেদ্ধ হয়ে এলে তাতে টক দই, কাঁচামরিচ ও গুঁড়া গরম মশলা দিয়ে আরও ২০ মিনিট গরুর মাংস রান্না করে নামিয়ে রাখুন।

এখন রান্না করা পোলাও অর্ধেক তুলে নিয়ে বাকি পোলাওতে রান্না করা তেহরির মাংস দিয়ে উপরে বাকি পোলাও দিয়ে এপিঠ-ওপিঠ করে ভালো করে গরুর মাংসসহ মাখিয়ে চুলায় আরও ১০ মিনিট দমে রেখে নামিয়ে সার্ভিং ডিশে ঢেলে সাজিয়ে পরিবেশন করুন বিফ তেহারি।

 

আজ ১৮ মার্চ;৭১ এর এই দিনে

আজ ১৮ মার্চ,১৯৭১ এর এই দিনে একদিকে সংগ্রামের প্রস্তুতি, অন্যদিকে চলছিল বঙ্গবন্ধু ও ইয়াহিয়া খানের আলোচনা। একপর্যায়ে সবাই বুঝতে পারে, আলোচনার নামে চলছে সময়ক্ষেপণ। বঙ্গবন্ধু আলোচনাতেই শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে আলোচনার নামে প্রহসনের অভিযোগ আনেন। তিনি স্বাধীনতার দাবিতে অটল থেকে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করছিলেন। এ দিনই বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত বাঙালি সৈনিকরা স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্মীরা বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে একাত্ম করতে বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় চালিয়ে যেতে থাকেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি নিতে থাকে। মহিলা পরিষদের মেয়েরাও পিছিয়ে ছিলেন না। তাদের ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তেজগাঁও-মহাখালীতে শ্রমিকদের ট্রাকে হামলা চালায়। আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের উসকানি আর সহ্য করা হবে না। অসহযোগ আন্দোলনের সপ্তদশ দিবস ছিল ১৮ মার্চ। এ দিনও সরকারি-বেসরকারি ভবনে কালো পতাকা উড়িয়ে, অফিস-আদালতে অনুপস্থিত থেকে সব শ্রেণির কর্মচারী বঙ্গবন্ধু ঘোষিত সংগ্রামের কর্মসূচি সফল করে তোলেন। জনগণের কণ্ঠে উচ্চারিত স্লোগান ছিল- বীর বাঙালি অস্ত্র ধর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর। মিছিলকারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, তোমরা ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল। জনগণের রক্তের সঙ্গে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না।

স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এক বিবৃতিতে আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া, চীন প্রভৃতি শক্তির প্রতি তাদের সরবরাহ করা অস্ত্র দ্বারা বাঙালি হত্যার অপচেষ্টা বন্ধ করার আবেদন জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতারা অপর এক বিবৃতিতে বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুদ্ধিজীবীদের কাছে তারবার্তা প্রেরণ করে আসন্ন গণহত্যা ও যুদ্ধ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানিদের নিবৃত্ত করার অনুরোধ জানান।

 

 

নিউজ থার্টিনাইনে সংবাদ প্রকাশের পর ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে দিলেন ইউএনও

“দোহারে নদী থেকে অবধৈভাবে মাটি বিক্রির মহা-উৎসব;নিরব প্রশাসন” এই শিরোনামে গত ১৪ মার্চ ২০১৭ মঙ্গলবার নিউজ থার্টিনাইনে সংবাদ প্রকাশের পর আজ ১৭ মার্চ শুক্রবার দোহারের লটাখোলা নতুন বাজার ব্রিজের পাশ থেকে বালু কাটায় ব্যবহত মেশিন পুড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীন। ইতোমধ্যে একাধিকবার জেল-জরিমানা করা হলেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন, ছিল রাজনৈতিক ছত্রছায়া। এ কারণে শুক্রবার দুপুরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়েই ওই এলাকায় গিয়ে বালু কাটার মেশিন পুড়িয়ে দিয়েছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বালু উত্তোলন বন্ধে পুলিশকে সাথে নিয়ে আজ ১৭ মার্চ শুক্রবার দুপুরে লটাখোলা নদীর উপর নির্মিত সেতুর নিচে অভিযানে যায় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইউএনও কেএম আল-আমিন। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ইউএনও’র সাথে ছিলেন। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা বালু কাটার কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি মেশিন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল ও সাধারন সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, “দোহারকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার স্বার্থে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। অবৈধ এই বালু উত্তোলন বন্ধে আমাদের সংগঠন প্রশাসনের সাথে সবসময় থাকবে”।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. আল-আমীন বলেন, নিউজ থার্টিনাইনে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হই। এরপর আজ সকালে স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে সেগুলো বন্ধ করে দেই। ইতোমধ্যে একাধিকবার লটাখোলা এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ করে এ কাজের সাথে সম্পৃক্তদের জেল-জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময় তারা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করত। যে কারনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠেনর নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছি। তাদের সহযোগিতা পেয়ে অবৈধ এই কর্মকান্ড বন্ধ করা সহজ হয়েছে”।

নিউজ থার্টিনাইনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এ রকম আরো সাহসী সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে নিউজ থার্টিনাইন যেন দেশের জনগণের জন্য নিবেদিত ভাবে কাজ করে যায়।

নবাবগঞ্জে ছয় শ্রমিক আটক

নবাবগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে দুই ট্রলারসহ ছয় শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ।গতকাল ১৬ মার্চ বৃহস্পতিবার পৃথকস্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙ্গাভিটা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার সময়ে দুটি মাটি ভর্তি ট্রলারসহ জহিরুল, আব্দুল আজিজ, কাবদালি নামে তিন শ্রমিককে আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে দুপুর দেড়টার দিকে কলাকোপা ইউনিয়নের সাহেবখালী এলাকায় কৃষি জমি কেটে ইটের ভাটায় মাটি দেয়ার দায়ে মো. নূর আলম, আলমগীর ও মাহবুব নামে তিন শ্রমিককে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক সফিকুল ইসলাম সুমন জানান, আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হবে।

 

কনস্যুলার সেবা দিচ্ছে পর্তুগালের বাংলাদেশ দূতাবাস

আলগ্রাভ ও ভেজা শহরের দুই দিনব্যাপী কনস্যুলার সেবা দিতে যাচ্ছে পর্তুগালের লিসবনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। অদিমেরা, সান্টাইনীও, বিল নোভা দে মিলফোনতেস, জামবুজেইরা দো মারে্র সহ পাশ্ববর্তী শহরের বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি অভিবাসীদের, উর্বানিজকেও পিনহাল ড মিনহো সেন্টার কমার্শিয়াল লোজা বিল নোভো দে মিলফোনতেসে আগামী ১৮ মার্চ হতে ১৯ মার্চ ২০১৭ তারিখ বিকেল ৫.০০ টা পর্যন্ত এই দুই দিন কনস্যুলার সেবা দেবে বাংলাদেশ দূতাবাস।

পর্তুগালের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী শনিবার অপরাহ্ন থেকে দূতাবাসের কনস্যুলার টিম আলগ্রাভ ও ভেজা শহর সহ পাশ্ববর্তী শহরের বাংলাদেশি প্রবাসীদের সব ধরনের কনস্যুলার সেবা দেবে। সেই সাথে এমআরপি  (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) আবেদন, জন্মনিবন্ধন সনদ সংক্রান্ত সেবা ও ডেলিভারি প্রদান করা হবে। এ সময়ের মধ্যে যারা এমআরপি নিতে আগ্রহী তাদের ডেলিভারি স্লিপের নম্বর বাংলাদেশ দূতাবাসের মোবাইল ফোনে (+৩৫১ ২১২ ৬৯৭ ০৩৭) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও যেকোন প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহকারী কনস্যুলার নূর উদ্দিন (+৩৫১ ৯২৩২৪৮১১২), রুহুল আমিন (+৩৫১ ৯২০৪৭৯৭১৩) জামবুজেইরা দো মার্, মোহাম্মদ সুমন (+৩৫১৯৩৮২৫১৫৮৫) বিল নোভা দে মিলফোনতেস, মোহাম্মদ স্বপন (+৩৫১ ৯২০৫৩৩২৯৩) অদিমেরা।

আজ ১৬ মার্চ;৭১ এর এই দিনে

১৬ মার্চ,১৯৭১ এর এই দিনেবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের বৈঠক হয়। বৈঠকে বঙ্গবন্ধু সামরিক আইন প্রত্যাহার, বাঙালিদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বন্ধসহ বিভিন্ন নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে এর জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করেন। ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে বেলা পৌনে ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট হাউজের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ জাতীয় নেতাকে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। বঙ্গবন্ধুও এ সময় তার কর্মী, সমর্থক ও ভক্তদের প্রতি জয় বাংলা বলে গাড়িতে ওঠেন।

বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছায় সাংবাদিকদের জানান, আমি রাজনৈতিক ও অন্যান্য সমস্যা সম্পর্কে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আরও অলোচনা হবে। এটি দু-এক মিনিটের ব্যাপার নয়। এ জন্য সময় দরকার। আলোচনা চলবে। কাল সকালে আমরা আবার বসছি। এর চেয়ে বেশি আমার বলার নেই। প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে সরাসরি ধানমণ্ডির বাসভবনে ফিরে বঙ্গবন্ধু দলের শীর্ষস্থানীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। গভীর রাত পর্যন্ত এই বৈঠক চলে। দুই দফা সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার ফাঁকে বিকেলে বঙ্গবন্ধু তার বাসভবনে কনভেনশন মুসলিম লীগ প্রধান ফজলুল কাদের চৌধুরীকে সাক্ষাৎ দেন।

পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট আলোচনার জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করলেও ভেতরে ভেতরে সামরিক জান্তারা ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। কেননা সামরিক জান্তারা বুঝতে পারে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। সারা দেশের অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ বন্ধ। সব সরকারি ভবন, হাটবাজার এমনকি পাড়া-মহল্লায়ও উড়ছে প্রতিবাদের কালো পতাকা। কোথাও কোথাও বাংলাদেশের নতুন পতাকাও উড়তে থাকে। মহল্লায়-মহল্লায় গড়ে উঠতে থাকে সংগ্রাম কমিটি।

 

স্বীকৃতি পায়নি নবাবগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শওকাত হোসেন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন ২ নং সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশারফ কর্তৃক নিযুক্ত গ্রুপ কমান্ডার ও পরবর্তী সময়ে নবাবগঞ্জ থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শওকাত হোসেন আঙুরের পরিবার স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও রাষ্ট্রীয় কোন সুযোগ-সুবিধা ও স্বীকৃর্তী পায়নি।

নবাবগঞ্জের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ (দারু) জানান, নবাবগঞ্জ থানাকে পাক-হানাদার বাহিনী মুক্ত করতে ১৯৭১ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর  থেকে ২৮ শে সেপ্টেম্বর পযন্ত শওকাত হোসেন ও তার সহযোদ্ধারা ইছামতি নদীর গালিমপুর, আগলা ও চুড়াইনের উত্তর-পূর্ব বাকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যা নবাবগঞ্জ অঞ্চলে গালিমপুরের যুদ্ধ নামে পরিচিত এ যুদ্ধে বেনুখালী গ্রামের রহিম নামে এক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়। মুক্তিযোদ্ধা আঙুরের ছেলে উপজেলার আগলা (আন্ধারকোঠা) গ্রামের বাসিন্দা ইটালি প্রবাসী মোর্শেদদুল হাসান রতন মুঠোফোনে জানান, স্বাধীনতার পর দেশ গঠন ও মানুষের জন্য  বাবা নিবেদীত প্রাণকর্মী ছিলেন, কিন্তু দুরভাগ্য জনক হলেও সত্য যে, ১৯৭৪ সালের ২৪ শে সেপ্টম্বর  বেলা ১১টার দিকে কিছু  দুষ্কৃতকারী বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আমার বাবাকে হত্যা করে। আমরা কিছু চাইনা শুধু বাবা যে দেশের মুক্তি সংগ্রামে অংশ গ্রহন করেছিল তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃর্র্তীর দাবী জানাই।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শাহ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কোমরগঞ্জ, বক্সনগর চুড়াইনসহ নবাবগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্তে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে তার গেজেটের করানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।

 

আজ ১৫ মার্চ;৭১ এর এইদিনে

আজ অগ্নিঝরা মার্চের ১৫ তারিখ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী গ্রাম ও মহল্লায় শুরু হয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন। এদিকে দেশরক্ষা বিভাগের বেসামরিক কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশ উপেক্ষা করে কর্মবিরতি পালন করেন। অফিস-আদালতেও চলে পূর্ণ কর্মবিরতি। এমন এক উত্তাল দিনের বিকেলবেলায় পাকিস্তান বাহিনীর প্রায় সকল জেনারেলকে নিয়ে কঠোর সামরিক প্রহরায় ঢাকায় আসেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। সামরিক বাহিনীর নয়া বিধি জারির প্রতিবাদে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সমাবেশের ডাক দেয়। বায়তুল মোকাররমের পাশে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নূরে আলম সিদ্দিকী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আ স ম আবদুর রব, আবদুল কুদ্দুস মাখন, শাজাহান সিরাজ প্রমুখ। জনসমাবেশ থেকে আহ্বান জানানো হয় সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার।

ওই সমাবেশে বক্তারা সমস্বরে ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বাঙালির ওপর সামরিক বিধি জারি করার ক্ষমতা কারও নেই। দেশের জনগণ তাদের মুক্তির আন্দোলনের নেতা, পরম বন্ধু জাতির জনক শেখ মুজিবের নির্দেশ মেনে চলবে। পৃথিবীর কোনো শক্তিই বাঙালির স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে পারবে না. উল্লেখ করে বলেন, গত ২৩ বছর যারা সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছে, তাদের সঙ্গে আর কোনো আপস করা হবে না। এ দিন নগরীর মোড়ে মোড়ে উদীচী ভ্রাম্যমাণ ট্রাকযোগে গণসংগীত ও পথনাটক পরিবেশন করে। সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পীরা পরিবেশন করেন দেশাত্মবোধক গান।

কবি সুফিয়া কামাল ডাক দেন নারী সমাবেশের। তোপখানা রোডে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুফিয়া কামাল নিজেই। মিছিল শোভাযাত্রা বের করে বেসামরিক কর্মচারী ও চিকিৎসকরা। অন্যদিকে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বাংলা জাতীয় লীগ প্রধান আতাউর রহমান খান অবিলম্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং জাতীয় সরকার গঠন করার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ করে আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আজ বঙ্গবন্ধুর পেছনে একই সঙ্গে রেডিও, ইপিআর, পুলিশ বাহিনী, সেক্রেটারিয়েট প্রভৃতি আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবাহী।

 

ইউরোপে দুই বাংলাদেশির ২০ হাজার ইউরো লাভ

এবার স্ট্রসবুর্গ আদালতে মামলা করে জিতে গেল দুই বাংলাদেশি। সাইবেরিয়া সীমান্তে একটি ট্রানজিট জোনে হাঙ্গেরি দুই বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে আটকেছে বলে রায় দিয়েছে ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটস।

গত ১৪ মার্চ মঙ্গলবার আদালতের এই আদেশের ফলে অলি আহমেদ ও ইলিয়াস নামের এই দুই বাংলাদেশির প্রত্যেককে হাঙ্গেরি সরকারকে ১০ হাজার ইউরো করে দিতে হবে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে।এতে বলা হয়, ওই দুই বাংলাদেশির খরচ বাবদ আরও ৮ হাজার ৭০৫ ইউরো যোগাতে হবে হাঙ্গেরিকে। স্ট্রসবুর্গ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষ।বলকান দেশগুলো হয়ে অভিবাসীদের আগমণ ঠেকাতে দুই বছর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে বেড়া দিয়ে দুটি ‘ট্রানজিট জোন’ তৈরি করে হাঙ্গেরি। আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আটক রাখা হয়।হাঙ্গেরি এই ব্যবস্থা চালুর পর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে এই মামলা দায়ের করেন ওই দুই বাংলাদেশি। ট্রানজিট জোন থেকে মুক্তির পাশাপাশি তাদের সার্বিয়ার কাছে হস্তান্তর আটকানোর প্রার্থনা করেন তারা।