নারিশায় ইমাম আলী হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

দোহার উপজেলার নারিশা এলাকার ইমান আলী ফকির হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল ২১ মার্চ মঙ্গলবার ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় এ রায় ঘোষণা করেন রায়ে একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামীর ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে  তাদের আরও ১ বছরের কারাদ- দিয়েছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রুবেল, মোশারফ হোসেন ওরফে মোশা, আরিফুল ইসলাম ওরফে নয়ন, জহির, মহিউদ্দিন ওরফে মহিন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে জহির আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠান আদালত। মামলার অপর চার আসামি পলাতক রয়েছেন। মামলায় বলা হয়, ২০০৬ সালের ১৪ মার্চ সকালে ইমান আলী দোহার থানাধীন হলের বাজার হতে বাড়ি ফেরার পথে সুতারপাড়া  হোসেনের বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছালে আসামিরা তার মাথায় বাড়ি দিয়ে খুনের চেষ্টা করে। তিনি মাথা নিচু করে ফেললে আঘাত তার পিঠে লাগলে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এরপর আসামিরা ইমান আলীকে হকিস্টিক, লোহার রড দিয়ে পায়ে, পিঠে, উরুতে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরবর্তীতে ভিকটিমের অবস্থা আশংকাজনক হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে ওইদিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. মুকসিদুল দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের পর ওই বছর ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরের বছর ১২ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে আদালত। মামলাটির বিচারকালে আদালত  ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

 

নবাবগঞ্জের ভাঙাভিটায় বাঙ্গির হাট

নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙাভিটা গ্রাম মৌসুমী ফল ব্যাঙ্গির জন্য বিখ্যাত। ভাঙাভিটা এলাকার মানুষ অর্থকারী ফসল হিসেবে বেছে নেয় বাঙ্গিকে। এখানকার উর্বরা জমি বাঙ্গির চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই জীবন জীবিকার জন্য প্রধান ফলস হিসেবে এখানে প্রায় দেড়শ বছর ধরে বাঙ্গির চাষ হয়ে আসছে। বাঙ্গি চাষ করে অথনৈতিকভাবে জীবনের চাকাকে ঘুরিয়েছেন এ এলাকার অনেক বাঙ্গি চাষীরা। তাই কৃষি কাজে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য প্রতিনিয়ত  প্রাণপন লড়াই-সংগ্রাম করে মাটির  বুক চিড়ে উৎপন্ন করছেন সোনালী ফলস বাঙ্গি। এখানে বাঙ্গির পাশাপশি লাউ, কুমড়া, বেগুন  খিরাইসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করা হলেও মাটির গুনাগুনের উপর ভিত্তি করে প্রধান ফসল হিসেবে দেড়শ বছর ধরে চাষ করা হচ্ছে বাঙ্গি। সেই থেকে  ভাঙাভিটার বাঙ্গির সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতির বাঙ্গি দেখা মিললেও এই ভাঙ্গাভিটার বাঙ্গির রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য । স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় ভাঙাভিটার বাঙ্গি।  যে কারনে সারাদেশের মানুষের কাছে ভাঙ্গাভিটার বাঙ্গির চাহিদাও বেশ। ভাঙ্গাভিটা এলাকায়  শীতকালে বাঙ্গি চাষের জন্য বীজ বপন করা হলেও  গ্রীস্মকালীন ফল হিসেবে হাট-বাজার গুলোতে দেখা মিলে হলুদ বর্ণের মিষ্টি জাতীয় রসালো ফল বাঙ্গি। অন্য ফলের চেয়ে নাম কম  এবং পুষ্টিগুন বেশি থাকায় বছরের অন্তত একবার এ ফলে স্বাদ নিয়ে থাকেন সবাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর ভাঙাভিটা এলাকায় প্রায় ২ হাজার বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে।  ফলনও খুব ভাল হয়েছে এ বছর। বেশির ভাগ কৃষকই কমপক্ষে ১০ থেকে ২০ বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ করে থাকেন। আর ভাঙ্গাভিটার বাঙ্গি পাইকারদের মাধ্যমে পৌছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এখানে উৎপাদিত ভাঙির হাট বসে নদীর কুলে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত। পাইকাররা বাঙ্গি কেনার উদেশ্যে ট্রলার নিয়ে হাজির হন এই ঘাটে। আর বাঙ্গি কিনে সাজাতে থাকেন যার যার ট্রলারে। এভাবে সারি সারি ট্রলারে বাঙ্গি সাজানো হলে  হদুল রঙের আভা আকৃষ্ট করে ক্রেতাবিক্রেতাদের। কৃষকের মননে উদ্বেলিত করে  ফসলের হাসি। এমন মনকাড়া দৃশ্য দেখতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে ভাঙ্গির গ্রাম ভাঙাভিটায়। বাঙ্গি চার্ষীরা আগের দিন ক্ষেত থেকে ভাঙ্গি তুলে চারী ভর্তি করে রাখেন এবং পরের দিন সকালে নিয়ে আসেন হাটে। প্রতিটি চারীতে ছোট বড় মিলিয়ে ৩০/৩৫টি বাঙ্গি থাকে। আগ্রহি ক্রেতারা দুরদুরান্ত থেকে বাঙ্গি কেনার জন্য ট্রলারযোগে এই হাটে আসেন।

কথা হয় ভাঙাভিটা এলাকার বাঙ্গি চার্ষী রবীন্দ্র সরকারের সাথে। তিনি এ বছর ১২ বিঘা জমিতে বাঙ্গির চাষ করেছেন। ফলনও অনেক ভাল হয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে শিলাবৃষ্টির কারনে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে পচন ধরায় এবছর বাঙ্গি বেশি দিন স্থায়ী না হওয়ায় বাঙ্গি বিক্রি করেও খুব বেশি লাভবান হতে পারবেন না বলে মনে করেন তারা। এছাড়া কৃষি কর্মকর্তা বাঙ্গির আবাদ কারীদের কোন ধরনের সহযোগিতা করেননি বলে তারা অভিযোগ করেন। বাঙ্গি চাষিরা টাইম’স ওয়ার্ল্ডকে বলেন, নানা প্রতিকূলতাকে উপক্ষো করে প্রতিবছরই এখানকার কৃষক বাঙ্গি চাষ করে আসছে। কিন্তু আমরা এ পর্যন্ত সরকারীভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পায়নি। আমাদের এ চাষে সহায়তার জন্য সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার কথা থাকলে কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের খোঁজ খবর রাখেন না। তবে আশার কথা হলো, নিজেদের  ঐতিহ্যর ফলস এবং জীবনের চাঁকা ঘুরাতে আগামী দিনগুলোতে ভাঙাভিটা এলাকার মানুষজন বাঙ্গি চাষ করে যাবেন বলে জানান।

 

শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তান মনে করে মানুষ করুন;অ্যাডঃ সালমা ইসলাম এমপি

সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তান মনে করে মানুষ করুন। তারাই হবে ভবিষ্যতের কর্ণধার। গতকাল ২০ মার্চ সোমবার বিকালে নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ কথা বলেন তিনি। সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বলেন, শিক্ষার প্রসারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন কাজ করছেন। ঠিক সেভাবে দোহার নবাবগঞ্জে আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। নারী শিক্ষায় বেশি নজর দিতে হবে। বাল্যবিয়ে দেবেন না। এ সময় নিজের নির্বাচনী এলাকায় গত তিন বছরে যেসব উন্নয়ন করেছেন তার ফিরিস্তি তুলে ধরেন দোহার নবাবগঞ্জের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম।

তিনি বলেন, আপনারা আমাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন। সেই প্রতিদান শোধ করতে বিগত তিন বছর ধরেই প্রতিটি গ্রামগঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছি। স্কুল-কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ রাস্তাঘাটের কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, বাকি দিনগুলোতে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারব। সে জন্য চাই দলমতের বাইরে সবার সমর্থন ও সহযোগিতা। গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবযাত্রায় তিনি সরকারি ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে দুই লাখ টাকা অনুদান দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি শশাংক ভূষণ পাল চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, কলাকোপা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিল, ওসি মোস্তফা কামাল, জাতীয় পার্টি ঢাকা জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, জাহাঙ্গীর চোকদার, একেএম আবদুল হালিম, এমএ মজিদ, আসাদুজ্জামান চৌধুরী রানা, ইয়াছিন হোসেন, নরেশ হালদার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা দেলোয়ার কবির, ওয়াসিম আহমেদ, শিল্পী ইসলাম, আবদুস সালাম, শফিকুল ইসলাম স্বপন, নকুল সরকার, আবদুল মতিন, স্বপন হালদার, হাবিবুর রহমান, ছাত্র সমাজের মাসুদ রানা, খলিল দেওয়ান, ইমরান হোসেন, শ্রীকৃষ্ণ সাহা, রাকিব হোসেন, পনির মণ্ডল, সাগর মণ্ডল প্রমুখ।

একই দিন সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাসিক সভায় উপস্থিত হন।

এ সময় তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষের সেবায় চিকিৎসকদের মনোযোগী হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি সরকারি দফতরের সব কর্মকর্তাকে সময়মতো অফিস করে জনগণের সেবা দেয়ার তাগিদ দেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আবদুল মজিদ, নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ মিথুন মুন্নি, ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন রহমান আকবর, ডা. শহিদুল ইসলাম, ডা. রবিউল ইসলামসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

হকারদের দখলে জয়পাড়ার ফুটপাতগুলো; নাকাল পথচারীরা

জয়পাড়াকে ঘিরে প্রাধান সড়কগুলোর ফুটপাতের অধিকাংশই চলে গেছে হকারদের দখলে। সড়কগুলোর পাশে জনসাধারণের চলাচলের জন্য যে ফুটপাত রাখা হয়েছে তার অর্ধেকেরও বেশি চলে গেছে তাদের দখলে। দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি ফুটপাত নাকি ব্যবসাকেন্দ্র। হাঁটার জায়গাজুড়ে পণ্যসামগ্রীর পসরা আর হকারদের ব্যস্ততা। পথচারীরা ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে রাস্তায় হাঁটবেন, সেখানেও একই অবস্থা। রাস্তা দখল করে চলছে গাড়ি পার্কিং আর হকারদের ব্যবসা।

প্রায় একই চিত্র দোহারের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত জয়পাড়াকে ঘিরে প্রধান সড়কগুলোর। একই অবস্থা দোহারের লটাখোলা করম আলীর মোর থেকে শুরু করে লটাখোলা নতুন বাজার জয়পাড়া ব্রিজ হয়ে থানার মোর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের ফুটপাতের। হকাররা রাস্তার পাশে ফুটপাতের উপরই বসে আছে ছোট ছোট দোকান এবং ব্যবসাসামগ্রী নিয়ে। আবার কোন কোন দোকান মালিকেরা দোকানের সামনে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী রেখে নিজেরাই দখল করেছেন ফুটপাত।

মতিঝিলের পর দ্বিতীয় ব্যাংকপাড়া হিসেবে খ্যাত জয়পাড়া । ছোট বড় প্রায় ৩০ টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে এখানে। শুধু ব্যাংকগুলোর কারনেই নয়, শপিংমল, ক্লিনিক,থানা,উপজেলা পরিষদসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে দোহারের এই অংশটুকুতে। তাই প্রতিদিনই নানা প্রয়োজনীয় কাজে দোহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন জয়পাড়তে। সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে সাত দিনই ব্যস্ত থাকে জয়পাড়া। এর মাঝে সপ্তাহের দুটি হাঁট বার সোমবার এবং বৃহস্পতিবার ব্যস্ততা বাড়ে বহুগুণে। হকারদের ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিদিনই হয়রানি পোহাচ্ছেন নানা কাজে বিভিন্ন স্থান থেকে জয়পাড়াতে আসা পথচারীরা। একদিকে ফুটপাত দখল, অন্যদিকে রাস্তায়ও ঠিকভাবে হাঁটার অবস্থা নেই। ফুটপাত থেকে নামতেই রাস্তার পাশ জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান আর মোটরসাইকেল। হাটার সময় তখন পথচারী এবং স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনায়।

জয়পাড়া কলেজের রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো.শিহাব শিকদার বলেন, হকারদের কারণে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হাঁটতে হয় আমাদের। ফলে যানবাহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে । যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটে এই শঙ্কায় থাকতে হয়।’

নতুন পোশাক, জুতা, চশমা ও অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানের কারণে জয়াপাড়া এবি ব্যাংকের সামনের ফুটপাতের পুরোটাই  প্রায় সাড়া বছর দখলে থাকে হকারদের। ফুটপাতের চলাচলের জায়গা কোথাও কোথাও আবার চায়ের দোকানিদের দখলে।

পথচারিরা জানান, ফুটপাতের রাস্তা পথচারিদের চলাফেরার জন্য। আর সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ দোকানপাট। ফুটপাতে দোকান বসার কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে করা মুল মার্কেটের ভেতরে ঢুকছেন না ক্রেতারা। এতে লক্ষ লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বাজারের অনেক ব্যবসায়ীরা। রাস্তার ফুটপাত ও রাস্তার অর্ধেক দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। দ্রুত এসব হকারদের উচ্ছেদ চান তারা।

সম্প্রতি কিছু দিন আগে সালমান এফ রহমানের গণ সংবর্ধনার জন্য দোহার পৌরসভা থেকে মাইকিং করে ২ দিনের জন্য জয়পাড়ার ফুটপাতে বসতে দেওয়া হয়নি হকারদের। তার পর দিন থেকেই আবার যথাস্থানে বসেছে হকার দোকানীরা। ফলে একদিকে যেমন মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে অপরদিকে বাড়ছে যানজট, বাড়ছে নগরবাসীর দুর্ভোগ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে হকার উচ্ছেদের জন্য অভিযান চললেও দিন কয়েক পরে তা আবার আগের রূপে ফিরে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার বলেন, প্রায় প্রতিটি হকারদেরকেই বসান রাস্থার পাড়ে অবস্থিত দোকান মালিকেরা। বিনিময়ে তারা নেন কিছু টাকা। এ টাকার হিসেবটা আবার একটু আলাদা। কোন কোন দোকান মালিক হকারদের থেকে টাকা নেন দৈনিক হিসেবে, আবার কেউবা নেন মাসিক হিসেবে।

সরেজমিনে জয়পাড়ার বিভিন্ন প্রধান সড়ক ঘুরে দেখা গেছে,  জয়পাড়া কাজী সুপার মার্কেটের সামনের ফুটপাতে ভ্যানে এবং কিছু দোকানের স্যামনে মালামাল নিয়ে বসেছেন ভাসমান ব্যবসায়ীরা। একটু সামনে ব্রিজে উঠলেই চোখে পড়বে ইদুর,চিকা মারার বিভিন্ন ঔষূধ ব্রিক্রি করছেন কয়েকজন হকার। ব্রিজ পার হলেই চোখে পড়বে বিভিন্ন ফলের পসরা সাজিয়ে রাস্তার উপর ফুটপাত দখল করে বসেছেন কয়েকজন হকার। আরেকটু সামনে এগিয়ে বেগম আয়েশা পাইলটের সামনেই দেখা যাবে বসে আছে বেশ কয়েকটি দোকান। শুধু এখানেই নয়,জয়পাড়া রতন স্বাধীনতা চত্তরের পাশেই শশান ঘাটে যাবার সময় রাস্তার দুধারে বসেছে ২০ থেকে ২০ টি ভ্রাম্যমাণ দোকান। একটির ও নেই দোহার পৌরসভা কতৃক কোন অনুমোদন। এসবের মধ্যেই লোকজন চলাচল করছে খুব কষ্ট করে। একদম গা ঘেঁষাঘেঁষি করে। ভীরের মধ্যে ঠেলাঠেলি করে চলতে গিয়ে অনেকেই স্বীকার হচ্ছেন পকেট মারের। হারাচ্ছেন টাকা পয়সাসহ মূল্যবান অনেক কাগজপত্র।

জয়পাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এস এম কুদ্দুস নিউজ থার্টিনাইঙ্কে বলেন,  এর আগেও বেশ কয়েকবার হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারো বসেছে।

জয়পাড়া পূর্ব বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি করিম ব্যাপারী বলেন, হকারদের বিষয়ে পরবর্তী সভায় আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দোহার পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহীম মিয়া নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, “যারা পথচারী তাদের কোন ম্যাথা ব্যাথা নেই এ বিষয়ে। সাংবাদিকদের এত ম্যাথ্যা ব্যাথ্যা কেন ? বেশ কয়েকবার হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারো তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে”।

৯০ দিনের মধ্যে অবৈধদের সৌদি ছাড়তে হবে; বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি

কোনো দণ্ড ছাড়াই আবাসন ও শ্রম আইন ভঙ্গকারীদের সৌদি আরব ছাড়তে ৯০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির সরকার। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘এ নেশন উইদাউট ভায়োলেশন’ কর্মসূচির পর এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সৌদি উপ-প্রধানমন্ত্রী ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ আইনভঙ্গকারীদেরকে ৯০ দিনের ক্ষমার সুযোগের সদ্ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ২৯ মার্চ থেকে এই ঘোষণা কার্যকর শুরু হবে। তিনি বলেছেন, বসবাসের অনুমতি ছাড়া অবস্থান, কর্মরত শ্রমিক ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই ক্ষমার সুযোগ নিয়ে সৌদি ত্যাগ করতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যারা দেশ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য সব ধরনের পদ্ধতি সহজ করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি এই উপ-যুবরাজ। এছাড়া অবৈধদের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল মনসুর আল-তুর্ক বলেছেন, ১৯ সরকারি সংস্থা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। অন্যান্য ভিসার মেয়াদ শেষ, হজ ও ওমরাহ সম্পন্নের পর যারা এখনো দেশটিতে রয়েছেন তাদের জন্য এই সাধারণ ক্ষমার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশটির পাসপোর্ট ও অভিবাসন বিভাগের পরিচালকের দফতর আইনভঙ্গকারীদের দেশে ফেরত পাঠাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আল তুর্কি বলেছেন, যাদের পরিচয়পত্র নেই অথবা হজ ভিসার মেয়াদ শেষের পর যারা এখনো সৌদিতে অবস্থান করছেন তারা অবশ্যই নিকটস্থ পাসপোর্ট বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। অবৈধভাবে কর্মরত, আবাসনের অনুমতি ছাড়া বসবাসকারী অথবা আত্মগোপনে থাকা শ্রমিকদেরকে কাজ না দিতে সৌদি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আল তুর্কি। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের পরে যারা সৌদিতে অবস্থান করবেন তাদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিন বছর আগে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সৌদিতে বসবাসকারী অন্তত ২৫ লাখ অবৈধ শ্রমিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

 

সৌদিতে অবৈধভাবে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য সুখবর

যারা ওমরাহ, হজ, ট্রানজিট ভিসায় সৌদি আরব এসেছেন অথবা কাজের জন্য সৌদি আরব এসে বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে গেছেন, তাদেরকে কোন ধরনের জেল জরিমানা ছাড়াই নিজ নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সৌদি আরব সরকার।

রবিবার সন্ধ্যায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম খবরটি প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে যারা ওমরাহ, হজ অথবা ট্রানজিট ভিসায় সৌদি আরবে এসে আর ফেরত যাননি তারা আগামী ২৯মার্চ থেকে শুধুমাত্র এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটে বিমান বন্দরে গেলেই দেশে ফেরত যেতে পারবেন। আর যারা কাজের জন্য সৌদি আরব এসে বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে গেছেন তারা তারহিলের  (ডিপোটেশন সেন্টার)  মাধ্যমে দেশে ফেরত যেতে পারবেন।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিশন উপ প্রধান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় পত্রিকা মারফত আমরাও বিষয়টি জেনেছি। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা জানাবো।

 

নবাবগঞ্জে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে নানা রকম দায্য পদার্থ

নীতিমালা লঙ্ঘন করে নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট হাটবাজার ও সড়কের মোড়ে মোড়ে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার, পেট্রোল , অকটেনসহ দাহ্য পদার্থ। এদের বিস্ফেরক অধিদপ্তরের সম্মতি বা অনুমতিপত্র নেই। কোনো ধরনের নীতিমালা না মেনে এভাবে দাহ্য পদার্থ বিক্রি করছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

উপজেলার পাড়াগ্রাম, সিংজোর, সিংহড়া, আওনা, কোমরগঞ্জ, চুড়াইন, গালিমপুর, আগলা, বক্সনগর, শোল্লা, পাতিলঝাপ, তুতাইল, রাজাপুর, ঘোষাইল, হাগ্রাদী, কুমার বাড়িল্যা বান্দুরা, দাউদপুর, শিকারীপাড়া, বারুয়াখালী, সোনাবাজু বেড়িবাধ, আলালপুর বাজারসহ ১৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মুদির দোকান, চা’র দোকান, ইলেকট্রিকের দোকান, ওষধের ফার্মিসি, ঢেউ টিনের দোকান, হার্ডওয়ারের দোকানসহ বিভিন্ন জায়গায় অনিরাপদ স্থানে অগ্নিনির্বাপণ বা অক্সিজেন ছাড়া লাইন্সেসবিহীন অবৈধভাবে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার, পেট্রল, অকটেন । কোন কোন দোকানী আবার এক সঙ্গেই বিক্রি করছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার, পেট্রল, অকটেন ।

বিভিন্ন দোকানে এক লিটার অথবা আধা লিটার ওজনের কোমল পানীয়র প্লাস্টিক বোতলে ভরে পেট্রল, অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে। যে কেউ ইচ্ছা করলেই বোতল ভর্তি পেট্রল, অকটেন কিনতে পারেন। অথচ দাহ্য পদার্থ বিক্রি করতে হলে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। এ নিয়ম না মেনে দোকানদাররা ফুটপাতেই থরে থরে সাজিয়ে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে দিন দিন  গ্যাস সিলিন্ডার ও দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা দোকানের সংখ্যা বাড়ছে।

বিস্ফোরক অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, সরকারী বিধি মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রল, অকটেনসহ দাহ্য পদার্থ  বিক্রির জন্য কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধা পাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা-সংক্রান্ত লাইলেন্সসহ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যবসায়ী ওই সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল বিস্ফোরক দ্রব্য বিক্রির নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। বিস্ফোরক দ্রব্য বিক্রির লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকানে দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা যাবে না।

উপজেলার শিকারীপাড়া বাজারের একজন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা ছোট ব্যবসায়ী। সারা দিনে দু-একটা সিলিন্ডার বিক্রি করি। এ আইন সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই।’ লোকজনের চাহিদা থাকায় ডিলারদের কাছ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে এসে বিক্রি করেন বলে তিনি জানান।

উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রাজাপুর বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, অসাবধানতাবশত ওইসব দোকানের কোনো একটিতে আগুন লাগলে সম্পূর্ণ বাজার ধ্বংস হয়ে যাবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবসায়ীদের বিধি-বিধান মেনে জ্বালানি তেল ও সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করা উচিত।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ  বলেন, বিষয়টি আমার আগে জানাছিল না তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নবাবগঞ্জের শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক রনজিৎ কুমার রায়

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৭ তে নবাবগঞ্জ উপজেলার এম, মুহীয়্যূদ্দীন ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার রায় এ বছর উপজেলা শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ৩টি কলেজ, ৪০টি মাধ্যমিক স্কুল ও ৪টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৩০টি বিভাগে ৩০ জন কে নির্বাচিত করা হয়। এতে শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক হিসেবে রনজিৎ কুমার রায়  শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

জানা যায়, তিনি ৫ম বাংলাদেশ জাতীয় ও ৪র্থ এশিয়ান প্যাসিফিক স্কাউট জাম্বুরী’ ৯৪ এর যুব ফোরামে সাফল্যের সাথে অংশ গ্রহন করে সার্টিফিকেট অর্জন করেন। এ ছাড়াও  ১৯৯৭-৯৮ সালে দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজে রোভার স্কাউট গ্রুপ পরিচালনায় সিনিয়র রোভার মেট এর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার স্কাউটসের প্রাক্তন সম্পাদক ছিলেন। তিনি স্কাউট শাখায় উডব্যাজ পার্চমেন্ট ও স্কাউট আন্দোলনের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারনে প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১১ সালে বাংলাদেশ স্কাউটসের ন্যাশনাল সার্টিফিকেট পেয়েছেন। তিনি ২০০২ সালে বেগম হাসিবা উচ্চ বিদ্যালয়ে ও পরবর্তীতে ২০০৫ সালে এম, মুহীয়্যূদ্দীন ভূঞা  উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে এবং ২০১৬ সালে একই প্রতিষ্ঠানে সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে এম.এ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই.ই.আর থেকে এম.এড এবং উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গনিত বিভাগে এম.এস সি ডিগ্রি লাভ করেন।

ভারতে গণধর্ষণের শিকার এক বাংলাদেশি কিশোরী

ভারতের আহমেদাবাদে ১৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আমেদাবাদ ও মাঙ্গরোলে একাধিকবার গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে ওই কিশোরী। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে আহমেদাবাদের জুনাগড় শহরের মাঙ্গরোলে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করে একাধিক দুর্বৃত্ত। পরে মাঙ্গরোলের বাস টার্মিনালের কাছে কিশোরীকে ফেলে যায় অভিযুক্তরা। টার্মিনালের কাছে ওই কিশোরীকে কাঁদতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। কিন্তু ভাষার সমস্যার জন্য তারা ওই কিশোরীর বক্তব্য বুঝতে না পেরে পুলিশের কাছে নিয়ে যান। শনিবার ওই কিশোরীর অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ওই কিশোরী পুলিশকে জানায়, সে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছে এবং তাকে একজনের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আহমেদাবাদ হয়ে মাঙ্গরোলে পৌঁছেছে সে। কিশোরীর বরাত দিয়ে মাঙ্গরোল পুলিশ বলছে, আমেদাবাদ ও মাঙ্গরোলে ওই কিশোরী একাধিকবার গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওই ঘটনা ঘটলেও কিশোরীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর শনিবার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

পুলিকে ওই কিশোরী জানিয়েছে, তাকে আমেদাবাদে ৭ জন ও মাঙ্গরোলে ১৪ জন দুর্বৃত্ত গণধর্ষণ করেছে। এক আত্মীয় ‘সাই’ নামে এক দালালের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় তাকে বিক্রি করে দেয়। পরে ওই কিশোরীকে জুনাগড়ের এক সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে।

কলাকোপা কোকিল প্যারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা

নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা কোকিল প্যারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। গতকাল ১৮ মার্চ  শনিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এর উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কে এস আলম পোখরাজ। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ্ আলম, দাতা সদস্য কফিল উদ্দিন সিকদার, পরিচালনা পর্ষদ সদস্য, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, রফিকুল ইসলাম রয়েল, শহিদুল ইসলাম শাহীন, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক অখিল রঞ্জন, দিনেশ সিদ্ধা, মো. আব্দুল জলিল, কাজী এনায়েত, কিশওয়ার সুলতানা প্রমুখ। মেলায় ১০১টি স্টল প্রদর্শন করা হয়। পরে অতিথিবৃন্দ মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। দুপুরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।