ঢাকার দোহার উপজেলায় রুবেল হোসেন (২৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। রুবেল উপজেলার লটাখোলা এলাকার আলম হোসেন এর ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়- রাতে উপজেলার জয়পাড়া থেকে কাতির্কপুর যাওয়ার পথের মাঝে জামালচর এলাকায় থানার এসআই সুরুজ্জামানের নেতৃত্বে চেক পোষ্ট বসায়। এসময় কাতির্কপুর থেকে জয়পাড়া দিকে আসা মোটরসাইকেল চালক রুবেলকে সন্দেহ হলে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে ৫০পিস ইয়াবা পায়।পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।এ ব্যাপারে ওসি সিরাজুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে জানান- ৫০পিস ইয়াবাসহ রুবেলকে আটক করে পুলিশ তার নামে থানায় মাদক আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
অর্থ অনেকের থাকে জনসেবার মন থাকে কয়জনেরঃ আঃ মান্নান খান
বৃহস্পতিবার কাঁঠালিঘাটা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়ামের মেম্বার আঃ মান্নান খান বলেছেন, অর্থ অনেকের থাকে কিন্তু জনসেবার মন থাকে কয়জনের, কিন্তু স্কুল সভাপতি মাসুম মিয়ার মত মন সবার থাকে না। মাসুম মিয়াকে তিনি ধন্যবাদ দিয়ে বলেন মাসুম আমার ছোট ভায়ের মত।তিনি অজপারা গায়ে একটি সুন্দর স্কুল দিয়ে অসংখ্য স্কুলবিমুখী ছাত্রদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করেছেন।
মান্নান খান আরো বলেন, বিত্তশালীরা যদি মাসুম মিয়ার মত এগিয়ে আসে তাহলে দেশে শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, এই স্কুল মাসুম মিয়ার বড় মনের পরিচয়। মাত্র ৪ বছরে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে স্কুলটিকে যে ভাবে সাজিয়েছেন তা নজির বিহীন। আসলে দেশের সেবায়, জনসেবায় সবাইকে এভাবেই এগিয়ে আসতে হবে, আসাটা উচিত।
স্কুল সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুম মিয়া তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, স্কুলটি প্রায় ১.৫ কোটি টাকায় নির্মানাধীন দুইটি স্কুল ভবন,বিজ্ঞানাগার,লাইব্রেরী,নামাজের স্থান,মাঠ ভরাট করা হয়েছে। অতি স্বল্প সময়ে এই অঞ্চলে স্কুলটি সুনাম অর্জন করেছে। তাই ইতিমধ্যে স্কুলে ৬৫০ জ শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষার আলো দিয়েই ছাত্ররা দেশকে উন্নয়ন করবেঃ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান
ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক মো.মাহবুবুর রহমান বলেছেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশ ও জাতির উন্নয়ন হয়। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল, মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। আর যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নন, তারা দেশের উন্নতি করে না। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শনিবার বিকেলে ঢাকার দোহারে মধুরখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন আগামী পাচ বছেরর মধ্যে দোহার নবাবগঞ্জের মাধ্যমিক স্কুলে শ্রেণী কক্ষের অভাবে কোনো ছাত্রছাত্রী পড়তে পারে না, এমন কোনো স্কুল থাকবে না । দোহার নবাবগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গা রাস্তাঘাট কালর্ভাঢ মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে তা দ্রুত সংস্কার ও রাস্তার অভাবে চলাচল করতে পারে না সেখানে জেলা পরিষদের অর্থায়ানে তা আওয়ামীলীগ সরকার শেখ হাসিনার মাধ্যামে করে দেওয়া হবে এবং ভাল শিক্ষার্থী হয়ে ভাল ফলাফলের মধ্যে দিয়ে সমাজে শিক্ষার আলো ছড়াতে হবে। কেবল শিক্ষাই পারে একটি সমাজকে বদলে দিতে ।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো.আব্দুল মোন্নাফ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন (আইজিআর) কে.এম.আব্দুল মান্নান। অতিরিক্ত সচিব প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয় গাজী মো. জুলহাস,উপজেলা চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন,ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মাহবুবু বেপারী, ঢাকা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারমান মো.শাজাহান মোল্লা,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন প্রমূখ। পরে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
নবাবগঞ্জে ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা বাজার এলাকা থেকে ৬১টি ইয়াবাসহ রবিন (২০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।আটককৃত রবিন উপজেলা আগলা চৌকিঘাটা গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক খান ইকবালের ছেলে বলে ডিবি সূত্র জানায়।
ডিবি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় ইয়াবা বেচাকেনার গোপন সংবাদ পেয়ে আগলা বাজার এলাকায় অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ ডিবি পুলিশ। এসময় রবিন নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে। পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে ইয়াবা উদ্ধার করে। পরে ইয়াবাসহ তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। ঢাকা দক্ষিণ ডিবি পুলিশের ওসি মোল্লা সোয়েব জানান, আটককৃতের কাছ থেকে ৬১টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ ডিবি’র উপপরিদর্শক রাসেদুল আলম জানান, আজ রোববার সকালে এব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানায় মাদক আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
রাস্তাঘাটের উন্নয়নের নামে যদি কেউ অর্থ চাইলে আমাকে জানাবেন: অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি
বিকালে দোহারের নাগেরকান্দায় জাতীয় পার্টিতে যোগদান ও ইউনিয়ন নতুন কমিটির পরিচিতি সভায় সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, রাস্তাঘাটের উন্নয়নের নামে যদি কেউ টাকা পয়সা নেয়ার চেষ্টা করে তাকে আটকে আমাকে ও প্রশাসনকে জানাবেন। এছাড়া এলাকার সবাই ও নেতাকর্মীরা মিলে প্রতিটি উন্নয়ন কাজের তদারকি করবেন। যাতে ঠিকাদার মানুষকে ঠকিয়ে নিম্নমানের কাজ করতে না পারে।
সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার দোহার উপজেলার মানুষ এখন নিরাপদ আবাসস্থলে আছেন। কারণ বিগত সময়ে রাজনৈতিক হানাহানি ও অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে মানুষের নিরাপত্তা ছিল না।
রাইপাড়া ইউপি জাতীয় পার্টির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম আরও বলেন, ‘আমাকে আপনারা ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন। তাই এ এলাকার উন্নয়নে আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আমি সেই কাজ করার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, দোহারের প্রতিটি ইউনিয়নে সমহারে উন্নয়নের কাজ চলমান আছে। অসমাপ্ত কাজও আগামী সময়ের মধ্যে শেষ করব ইনশাআল্লাহ। এছাড়া আইনশৃংখলা আগের তুলনায় অনেক ভালো আছে। কারণ জাতীয় পার্টি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করে না। আমার দলের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে সচেষ্ট আছে।
অনুষ্ঠানে পিয়ার আলী মাতবরের নেতৃত্বে শতাধিক নারী-পুরুষ সালমা ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে আগামী নির্বাচনে তাকে জয়ী করার অঙ্গীকার করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব শরফুদ্দিন আহমেদ শরীফ, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক সুরুজ আলম, জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, ঢাকা জেলা সহ-সভাপতি ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম, ইয়াকুব মাতবর, আসাদুজ্জামান চৌধুরী রানা, মশিউর রহমান, হায়দার বেপারি, লোকমান হোসেন, শফিকুল ইসলাম স্বপন, মিলন খান, মানিক হোসেন, আবদুল আলীম টিপু, যুব সংহতির বাবুল হোসেন, জসীম উদ্দিন পান্নু, ছাত্র সমাজের রাজীব খান, জুবায়ের হোসেন প্রমুখ।
১৩ বছর ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত দোহারের তিন ইউনিয়নের জনগণ
দোহার পৌরসভার মামলা জটিলতার কারণে তিনটি ইউনিয়নের জনসাধারণ ভোটাধিকার ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই তিনটি ইউনিয়ন হলো— রাইপাড়া, সুতারপাড়া ও মাহমুদপুর। এর মধ্যে সুতারপাড়া ও রাইপাড়ায় কাজ চলছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে।
রাইপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গত বছরের রমজানে মারা যান। একজন ইউপি সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচনী আইনে কোনো জনপ্রতিনিধি মারা গেলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার বিধান থাকলেও তা হয়নি। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমও অনেকটা থমকে আছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
এছাড়া, মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর-লটাখোলা গ্রামবাসী যেন পৌরসভার কাছে ছিটমহলের বাসিন্দা। তারা ইউনিয়ন বা পৌরসভা কোনোটিরই সেবা পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও ভোগান্তি বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ২০০৩ সালে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের ইশারায় নির্বাচনী আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়। দেখতে দেখতে প্রায় ১৩ বছর নির্বাচন ছাড়াই চলছে ৩টি ইউনিয়নের সব কার্যক্রম। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি সদস্যরা। নির্বাচন না হওয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। বরং দরিদ্র জনগোষ্ঠী বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
রাইপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল বারেক বলেন, ‘ভোট ছাড়া দীর্ঘদিন কোনো জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করলে সেখানে সেবা পেতে কষ্ট হয়। কারণ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি থাকে। ভোট পাওয়ার আশায় তারা কিছুটা হলেও মানুষের সেবা করে। তাই সব বাধা-বিপত্তি ও মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে জনগণের স্বার্থে দ্রুত নির্বাচন দেয়া জরুরি। এ দিকে, লটাখোলা সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পরে থাকলেও রাইপাড়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই। খেয়াল নেই মাহমুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরও। মাথাব্যথা নেই দোহার পৌরসভার। পরে কয়েক বছর বেহাল অবস্থায় পরে থাকলেও সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী পড়ে থাকে।
চর লটাখোলা গ্রামের বাসিন্দা আলাল উদ্দিন অভিযোগের সুরে বলেন, পৌর মেয়র ও কিছু প্রভাবশালী চক্র গোপনে সমঝোতার ভিত্তিতে মামলা করে আমাদের নাগরিক অধিকার হরণ করছে। শুধু কালক্ষেপণ ও বিনা নির্বাচনে পদে থাকতেই এ ধরনের মামলা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে প্রায় এক যুগের বেশি সময়। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য কোনো উন্নয়নের ধার ধারেন না। কেউ এলাকার উন্নয়নের কথা বললে, সরকারিভাবে কাজ না আসলে আমি কী করব— জনপ্রতিনিধিদের এ রকম বক্তব্য আছে বলে কেউ কেউ অভিযাগ করেন। দোহারের রাইপাড়া, সুতারপাড়া ইউনিয়নই খুবই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রবাসী-অধ্যুষিত হওয়ায় এই দুটি ইউনিয়নের নির্বাচনী উত্সব হয় ভিন্ন আমেজে। কিন্তু ১৩ বছর ধরে এ দুটি ইউনিয়নের ভোটাররা নির্বাচনী উত্সব থেকে বঞ্চিত।
মাহমুদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুস সালাম জানান, নির্বাচন না হওয়াতে জনপ্রতিনিধিদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। ভারপ্রাপ্তরা উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ সঠিকভাবে কাজে না লাগিয়ে অনিয়ম করছেন। ফলে এসব ইউনিয়নের গ্রামের কাঁচাপাকা সড়কগুলোর বেহালদশা। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম।
এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও কে এম আল-আমিন বলেন, ‘এগুলো নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা আছে বলে শুনেছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এসব দেখভালের। তারা কোনো নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমাদের কিছু করার নেই।
নবাবগঞ্জে জঙ্গীবাদ, মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে সভা অনুষ্ঠিত
নবাবগঞ্জ উপজেলায় জঙ্গীবাদ,মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকালে নবাবগঞ্জ থানা প্রাঙ্গনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং সেল এর আয়োজন করেন।
নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান। তিনি বলেন, জঙ্গীবাদ একটি ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ থেকে পরিত্রাণের উপায় নেই। দেশের মঙ্গলার্থে আসুন সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলি। জঙ্গীবাদের মূল উৎপাটন করেন দেশের উন্নয়ন গতিশীলতা বজায় রাখি। তিনি আরো বলেন এবারও ঢাকা জেলায় ১০০ টাকায় বিনিময় পুলিশের কন্সস্টবুল নিয়োগ দেয়া হবে।
আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক গণপরিষদ সদস্য আবু মো. সুবিদ আলী টিপু, সাবেক এমপি খন্দকার হারুনুর রশিদ, প্রবীন নেতা আজিজুর রহমান ফকু, ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, মো. মোবারক হোসেন, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কাজী শওকত হোসেন শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মানবেন্দ্র দত্ত, মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মজিদ, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. ইব্রাহীম খলিল, শিক্ষক প্রতিনিধি মো. শাহআলম প্রমূখ।
নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইলে ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠন
নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. সারোয়ার হোসেন খান এবং সাধারণ সম্পাদক নূরে আলমের যুবলীগের স্বারক্ষিত প্যাডে এ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে অনুপম দত্ত নিপু সভাপতি, মো. উজ্জল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।
বাকিরা হলেন সহ-সভাপতি ইব্রাহীম খান রনি, সুশিল সরকার, শৈকত হোসেন, বিকাশ মাঝি, পলাশ ব্যাপারী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বারেক, উজ্জল সরকার, উজ্জল মিয়া। সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাব্বির হোসেন, শাহীনূর ইসলাম শাওন, মো. রনি। প্রচার সম্পাদক সুজন বৈদ্য, দপ্তর সম্পাদক মো. রাকিব, ত্রাণ-সম্পাদক মো. মাসুদ, সমাজ কল্যান সম্পাদক সোহেল ফকির, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অজয় পাল, ক্রীড়া সম্পাদক শেখ রমজান, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুব্রত রাজবংশী, সহ-সম্পাদক মো. মাসুম হোসেন নিরব, সুভংকর মন্ডল, মো. ফরহাদ। সদস্যÑ দ্বিপক পাল, বরুন মন্ডল, দ্বিপক মজুমদার, বিকাশ সরকার, দুলু রাজবংশী, মো. শাকিল, মো. খালেদ, জনি পাল হেরিছ প্রমূখ। আগামী তিন বছর মেয়াদকালে এ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।
সন্তান সচেতন করে গড়তে মায়ের ভূমিকাই বেশি;সালমা ইসলাম এমপি
সন্তানকে সচেতন করে গড়ে তুলতে মায়েদের ভূমিকাই বেশি। তাই সার্বক্ষণিক পাশে থেকে দায়িত্বশীল হয়ে ছেলেমেয়েদের ভালো পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার সাহস জোগাতে হবে। গতকাল ৫ এপ্রিল বুধবার সকাল ১১টায় ঢাকার দোহারের জয়পাড়া বেগম আয়শা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠান চত্বরে ‘মা’ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগম।
সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে সন্তান যাতে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত না হয়। তাদের ভালো লেখাপড়ায় সমাজ বদলে যাবে- এমনটাই প্রত্যাশা করি। সৃজনশীল সমাজ গড়তে আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তাদেরকে সঠিক দেখভালের দায়িত্ব মা-বাবার। সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম আরও বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের সকল নারীই আমার আপনজন। আগামী দিনে আপনাদের পাশে থেকে যে কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চাই। সেজন্য আপনাদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজের সুখ-দুঃখের কথা বলতে একজন মা হিসেবে আমি আপনাদের প্রতিনিধি হতে চাই। আপনারা জানেন দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের রাজধানী ঢাকা যাতায়াতের সুবিধার্থে বাবুবাজার থেকে নবাবগঞ্জ-দোহার হয়ে পদ্মা সেতু পর্যন্ত চার লেনের রাস্তা নির্মাণে সার্বিক প্রচেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রীর সহযোগিতায় অল্পদিনের মধ্যেই তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে, এটাই আশা করছি। এছাড়া পদ্মার ভাঙন রোধে দোহারে ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে। বাকি কাজের প্রকল্প খুব দ্রুত শুরু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অনুষ্ঠানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মা ও মহিলা অভিভাবক এ সময় উপস্থিত থেকে ‘মা’ সমাবেশকে সফল করে তোলেন।
প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল আমিন, ওসি সিরাজুল ইসলাম, জয়পাড়া কলেজের অধ্যক্ষ তাপস নন্দী, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী, নবাবগঞ্জ উপজেলার জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব শরফুদ্দিন আহমেদ শরিফ, সাবেক সভাপতি হুমায়ূন কবির, ঢাকা জেলার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, দোহার উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুল আলীম, লোকমান হোসেন, হাজী মনির হোসেন প্রমুখ।
নবাবগঞ্জে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আটক তিন
নবাবগঞ্জ উপজেলার পাড়াগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিত্সায় নূর জাহান (২৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ক্লিনিক ভাংচুর করে। পুলিশ ক্লিনিকের ম্যানেজারসহ তিনজনকে আটক করেছে। নিহত নূরজাহান উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের মাইলাইল গ্রামের মো. রমজানের স্ত্রী এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চরপল্টন গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল বারেকের মেয়ে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে নূর জাহানের প্রসব ব্যথা উঠলে স্বজনরা রাত ২টার দিকে স্থানীয় পাড়াগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সে সময় ক্লিনিকে কোনো ডাক্তার ছিল না। ভোর ৪টার দিকে প্রসব ব্যথা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। স্বজনরা ডাক্তার আসার সময় জানতে চাইলে ‘এসে গেছে’ বলে জানানো হয়। তারপর প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান নার্সরা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রসূতির মরদেহ স্বজনদের বুঝে নিতে বলা হয়। স্বজনদের অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এর আগে উত্তেজিত জনতা ক্লিনিকের জানালা ভাংচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে ক্লিনিকের ম্যানেজার সারোয়ার হোসেন, প্রধান নার্স মাহফুজাসহ তিনজনকে আটক করে।এ দিকে, ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক-সংশ্লিষ্টরা গা ঢাকা দিয়েছেন। নিহতের বাবা আব্দুল বারেক বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো ডাক্তার ছিল না। আমি তাদের বারবার বলেছি, ভালো ডাক্তার না হলে মেয়ের অপারেশন করাবো না। নার্সরা আমার কথা শোনেনি। নার্সরাই আমার মেয়ের অপারেশন করতে গিয়ে পেটের বাচ্চাসহ মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক তদন্ত আনসারী জিন্নাত আলী বলেন, ‘রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
