পদ্মার তীর সংরক্ষণকাজে ধীরগতি আতঙ্কে দোহারের মানুষ

 

ঢাকার দোহার উপজেলায় পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ধীরগতি ভাবিয়ে তুলেছে পদ্মাপাড়ের মানুষকে। পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছে, সর্বনাশী পদ্মার ভাঙনে গত দুই যুগে ২০ হাজার পরিবার আবাসস্থল হারিয়েছে। বাস্তুহারা এসব পরিবারের চোখের জল নদীর সঙ্গে মিশে আছে। তাদের একসময়ের ফসলি জমি, বসতভিটা সব গ্রাস করেছে পদ্মা। সে কারণে বর্ষা এলেই নদীপাড়ের বাসিন্দারা থাকে ভাঙন আতঙ্কে।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহারে একটি নির্বাচনী জনসভায় পদ্মার ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তারই ধারাবাহিকতায় দোহারের অরঙ্গবাদ থেকে বাহ্রাঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর সাড়ে তিন কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্প একনেকের সভায় পাস হয়। ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের কাজ শুরু হয় নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বাহ্রাঘাট থেকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তীর সংরক্ষণের কাজ ধীরগতিতে করায় পদ্মাপাড়ের মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। তাদের মতে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে কাজ বন্ধ থাকলে এটি আরও দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে।

নির্মাণাধীন প্রকল্পের সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হোসেন অ্যান্ড সন্স’-এর স্বত্বাধিকারী এমএ হালিম জানান, ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তারা কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করেন। ২০১৮ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পের আওতায় সাড়ে তিন কিলোমিটার বাঁধে ১৬ লাখ বালির বস্তা ফেলে ডাম্পিংয়ের কাজ করার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে এক বছরে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় পাঁচ লাখ বালির বস্তা ফেলা হয়েছে। বাকি বাঁধের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সামসুদ্দিন অভিযোগ করেন, কাজ ধীরগতিতে চলছে। এভাবে কাজ চললে সামনে বর্ষা মৌসুমে আবার নয়াবাড়ীবাসী পদ্মার ভাঙনের মুখে পড়বে। ঠিকাদার শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে টালবাহানা করায় কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জুয়েল নামে এক শ্রমিক জানান, সর্দার তাদের ঠিকমতো মজুরি দেন না। মজুরি না দিলে তারা কীভাবে বাঁচবেন, কীভাবে চলবে সংসার। প্রকল্পের সর্দার কহিন জানান, মূল ঠিকাদার তাকে টাকা না দিলে তিনি শ্রমিকদের কোথা থেকে টাকা দেবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ কাজে ধীরগতির কথা স্বীকার করে জানান, কাজের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে ব্লক তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান তিনি।

স্থানীয় বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন, কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় আগামী বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভেঙে যেতে পারে নির্মাণাধীন বাঁধের বিভিন্ন অংশ। এতে করে আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে পদ্মাপাড়ের মানুষ।

ক্ষোভ ঝাড়লেন বাহ্রা গ্রামের বাসিন্দা সালেহা বেগম। তিনি বলেন, ‘সরকার আমাগো বাঁধ দিল, তাইলে হেই বাঁধ বানাইতে এত দেরি কেন? এইবার বন্যায় কি আমাগো বাড়িঘর ভাইঙ্গা যাইবো?’

শুক্রবার সরেজমিন জানা যায়, স্বল্পসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ চলছে। ১৬ লাখ বালির বস্তা ফেলে ডাম্পিংয়ের কাজ করার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র পাঁচ লাখ বস্তা ফেলা হয়েছে। এরই মধ্যে পদ্মা নদীতে বাড়তে শুরু হয়েছে পানি। ফলে আতঙ্কে রয়েছে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসেন অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী এমএ হালিম জানান, তিনি এখন ব্যস্ত আছেন, দু-তিন দিন পর কাজের সাইডে আসবেন। তখন দেখা করতে বলেন তিনি।

দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের, তার পরও যদি কেউ তার কাছে অভিযোগ করে, তিনি বিষয়টি দেখবেন।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমিন জানান, বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য আডভোকেট সালমা ইসলাম জানান, গুণগত মান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাগিদ দেওয়া হবে।

দোহারে দাদার লাশ দেখতে গিয়ে দুর্ঘটনায় নাতনীর মৃত্যু

 

দাদার লাশ দেখতে গিয়ে ঢাকা জেলার দোহার ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় মিনহা আক্তার (৬) নামের নাতনীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা টি ঘটেছে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। নিহত মিনহা ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার কাদেরচড় গ্রামের সুরাদ মোল্লার মেয়ে।

মা রিতা আক্তার জানায়, তারা বর্তমানে দক্ষিন কেরানীগঞ্জের পারগ্যান্ডারিয়া এলাকায় থাকে। এবং মিনহা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেনীতে পড়াশুনা করতো।

সকালে দোহারের বাসায় মিনহার দাদা সিরাজ মোল্লা স্ট্রোক করে মারা যায়। খবর পেয়ে আমার ২ মেয়ে মিনহা ও বড় মেয়ে সামরিনা(১১) কে সাথে নিয়ে রিক্সা যোগে দোহারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই।

দোহার ফায়ার সার্ভিসের সামনে আসলে নসিমন পরিবহনের একটি গাড়ি পিছন থেকে ধাক্কা দিলে মিনহা রিক্সা থেকে ছিটকে পরে গিয়ে গুরতর আহত হয়।

আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিনহা কে মৃত ঘোষণা করে।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্সের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ হাবিলদার বাবুল মিয়া মৃত্যু টি নিশ্চিত করে জানান, ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

নারিশায় বাড়ি ঘর ভাংচুর অর্থসহ অলংকার লুট

 

ঢাকার দোহারে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আঃ রহিম খান, মমিন খান ও আহাম্মেদ ফকিরের বাড়িসহ প্রায় দশটি বাড়ি ঘর ভাংচুর এবং নগদ অর্থসহ স্বর্ণ অলংকার লুট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের রুইথ্যা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ঢাকার দোহার উপজেলা নারিশা ইউনিয়নের রুইথ্যা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ডিলার হান্নানকে ইয়াবাসহ এলাকাবাসী আটক করে। হান্নানের আটকের কথা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে একই এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে পিস্তল মন্ডা (৩৫), চাপাতি আনোয়ার (৩৩), সেভেন গিয়ার কাউসার, ইয়াবা আলম (৩০)আব্দুল মজিদের ছেলে ইয়াবা আলাউদ্দিন (৩৪), মেহের মোল্লার ছেলে হিরন (৩০)সহ অজ্ঞাত বিশ ২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মৃত লাল খানের ছেলে রহিম খান, মমিন খান, কাসেম ফকির ও আহাম্মেদ ফকিরের বাড়িসহ প্রায় দশটি বাড়ি ঘর ভাংচুর এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণ অলংকার লুট করে ডিলার হান্নানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তরা উপজেলার ফুলতলা ফাঁড়িতে অভিযোগ করলে সন্ত্রাসী বাহিনী মরিয়া হয়ে ফের হামলা চালিয়ে রহিমের ঘর থেকে ৫ টি দামী মোবাইল, ৩৮ হাজার টাকা ও সাড়ে চার ভরি স্বর্ণ, মমিনের বাড়ি থেকে তিনটি মোবাইল দশহাজার টাকা এবং দেড় ভরি স্বর্ণ, কাসেম ও আহাম্মেদ এর বাড়ি থেকে চারটি মোবাইল এবং পনের হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় পিস্তল মন্ডা বাহিনী দল।

স্থানীয় বাসিন্দা মরিয় বেগম (৪০) জানায়, সকাল দশটায় আমি ও আমার মেয়ে তানজিলা (১৬) ভাত খাওয়ার জন্য বসেছি তখনই হইহুলর শুনে বেড় হয়ে দেখি মন্ডা বাহিনী এদিকে আসছে, প্রাণ বাঁচাতে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাই। ফিরে এসে দেখি ঘরের আলমারী ভেঙ্গে  আড়াই ভরি স্বর্ণ এবং নগদ পনের হাজার টাকা নেই।

আয়েশা বেগম (৩৫) বলেন, মন্ডাসহ বিশ ২৫ জন বাড়িতে প্রবেশ করে আমার ৮ বছরের মেয়ে আমেনার মাথায় পিস্তল ধরলে আমার কানের দুল ও গলার স্বর্ণের চেইন খুলে দিয়ে মেয়েকে প্রানে বাঁচাই। সালেহা বেগম, জহুরা বেগম এবং তাসলিমাসহ অনেকেরই এমন হাজার অভিযোগ পিস্তল মন্ডা বাহিনীর বিরোদ্ধে। এই ব্যাপারে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফুলতলা ফাঁড়ির এসআই আবিদ হোসেন জানায়, আমরা অভিযোগ পেয়েছি জরুরী ভাবে আইনি ব্যাবস্তা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।

ছিনতাইয়ের মামলায় দোহারের এএসআই মাসুম বিল্লাহসহ আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর

প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের একটি মামলায় উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশের এএসআই আলমগীর হোসেনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। সেই সাথে দোহারের উত্তর শিমুলিয়ার মাসুম বিল্লাহকেও কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। রোববার (২৮ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম ও দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক সাজ্জাদুর রহমান শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান বলেন, গত ৬ এপ্রিল এ আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ওইদিন এ মামলার অপর আসামি মাসুম বিল্লাহ (৪৩) আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর গত ৯ এপ্রিল এ আসামিকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

মাসুম বিল্লাহ জবানবন্দিতে বলেছেন, ছিনতাইয়ের সময় এএসআই মাসুম বিল্লাহও তার সঙ্গে ছিলেন এবং ডিবি পরিচয়ে ভিকটিমকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ছিনতাই করা ১৫ লাখ ৪ হাজার টাকার সমপরিমাণের ইউএস ডলারে মধ্যে ৪ লাখ টাকার সমপরিমানের ইউএস ডলার এএসআই আলমগীর নিয়েছেন মর্মেও বলেছেন।

নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার খাসিয়া মধ্যপাড়ার বাদিন্দা মো. ইলিয়াস (৩০) এ মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন যে, তিনি লতিফ ইম্পেরিয়াল মার্কেটস্থ এইচএস মানি এক্সচেঞ্জের মালিক। গত ৪ এপ্রিল বেলা ৩ টার দিকে তিনি রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাধীন রাজলক্ষী মার্কেটের সামনে গাড়ীর জন্য দাড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ ঢাকা মেট্টো-গ-১৯-০৯৭০ নম্বরের সাদা একটি প্রাইভেট কার তার সামনে থামে। গাড়ি থেকে কয়েকজন লোক নেমে ডিবি পরিচয়ে দিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে। এক পর্যায়ে কালো কাপড় দিয়ে তার চোখ বাঁধে। এরপর তারা বাদির কাছে থাকা মানি এক্সচেঞ্জের ১৮ হাজার ৮শ ইউএস ডলার যার বর্তমান বাংলাদেশের বাজার মূল্য ১৫ লাখ চার হাজার টাকা তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

ওই সময় বাদী ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে আসামিরা তাদের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু উপস্থিত জনতা গাড়ি আটকে মাসুম বিল্লাকে আটক করে এবং অপর চারজন পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ মাসুম বিল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এই ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া আসামি এএসআই আলমগীর হোসেন, জনৈক হাবিব ডলার, রাশেদ ও সুমান বলে জানায়। পুলিশ মাসুম বিল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে বুধবার রাতে এএসআই আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেন।

উল্লেখ্য, রিমান্ডে যাওয়া পুলিশ সদস্য আলমগীর যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানাধীন কৃত্তিপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে স্বীকারোক্তি করা মাসুম বিল্লাহ বাড়ী ঢাকার দোহার থানাধীন উত্তর শিমুলিয়া গ্রামে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্টোরেজ বাঁচানোর উপায়

যত দিন যাচ্ছে, স্মার্টফোনের ইন্টার্নাল স্টোরেজ বেড়েই চলেছে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও অ্যাপের বহর যেভাবে বাড়ছে, তাতে ইন্টার্নাল স্টোরেজ সবসময়ই কম মনে হয়। কিন্তু, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ইন্টার্নাল স্টোরেজ বাঁচানোর কিছু পদ্ধতি আছে। যা ফলো করলে একসঙ্গে অনেকটাই জায়গা বাঁচিয়ে নেওয়া যাবে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্টোরেজ বাড়ানোর ৮টি পদ্ধতি রইল পাঠকদের জন্য।

ক্যাশে ও ডেটা ক্লিয়ার: ফোনের অ্যাপ ম্যানেজারে যান। সেখানে গিয়ে অ্যাপগুলি সিলেক্ট করুন। তারপর তার ডেটা ও ক্যাশে ডিলিট করুন। এতে পুরোনো অ্যাপ পছন্দ মুছে গেলেও একসঙ্গে অনেক GB বেঁচে যায়। তবে মনে রাখবেন, অ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাশে বাড়বে এবং আপডেটের সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সাইজ বাড়বে।

পুরোনো ডাউনলোড ডিলিট: অনেক সময়ই আমরা বহু ফাইল ডাউনলোডের পর তা ডিলিট করতে ভুলে যায়। এর ফলে ওই ফাইলগুলি জায়গা নিয়ে বসে থাকে। তাই একদিন সময় করে ডাউনলোডস ফোল্ডারে যান। পুরোনো অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলি সিলেক্ট করে দিন ডিলিট টিপে। দেখবেন, অনেকটা হালকা হবে ফোনটি!

SD কার্ডে অ্যাপ ইনস্টল: সবসময় স্মার্টফোনের OS-এর উপর চাপ কেন দেবেন? কিছু অ্যাপ মাইক্রো SD কার্ডে পাঠিয়ে দিন। এতে জায়গাও বাঁচবে এবং স্মার্টফোনটি দ্রুত কাজও করবে।

স্মার্ট স্টোরেজ: পিক্সেল বা নেক্সাস জাতীয় স্মার্টফোনগুলিতে স্মার্ট স্টোরেজ থাকে। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো ফাইলের অনলাইন ব্যাকআপ বানিয়ে তা ডিলিট করে দেয়।

গুগল ফটোস: সাধারণ গ্যালারি স্টোরেজ না বাড়িয়ে গুগল ফটোসে ফটো ব্যাকআপ করাই যেতে পারে। এর মাধ্যমে যখন ইচ্ছা ফটো দেখতেও পারবেন পাশাপাশি এডিটও করতে পারবেন। বাড়তি পাওনা গ্যালারি স্টোরেজ কমবে।

ডকুমেন্টস সেভ করতে ক্লাউড স্টোরেজ: ডকুমেন্টস ফোনে সেভ না করে ক্লাউডে করা যায়। এর ফলে তা হারানোর আশঙ্কা যেমন থাকে না। একইসঙ্গে ফোনের জায়গাও বাঁচে। ড্রপবক্স, গুগল ড্রাইভের মতো ক্লাউড স্টোরেজ যথেষ্ট জনপ্রিয়।

লাইট অ্যাপ ব্যবহার করুন: ফেসবুক, মেসেঞ্জারের মতো অ্যাপগুলির কিন্তু লাইট ভার্সন রয়েছে। এর ফলে আপনার স্মার্টফোনের স্টোরেজ বাড়ে এবং OS-ও ফাস্ট কাজ করে।

ডিভাইসের ওয়েস্ট স্ক্যান করান: সি ক্লিনারের নাম নিশ্চয়ই জানেন। এছাড়াও রয়েছে ডিস্ক ইউসেজ বা স্টোরেজ অ্যানালাইজার-এর মতো অ্যাপ। যা আপনার মোবাইলের অতিরিক্ত ওয়েস্টকে মুছে দেয়। এর ফলে স্টোরেজও বাঁচে।

কাঠি কাবাব রোল জেনে নিন কিভাবে তৈরি করবেন

খাসির মাংস ও পরোটা দিয়ে মজাদার কাঠি কাবাব রোল তৈরি করে ফেলতে পারেন দুপুর অথবা রাতের খাবারের জন্য। সুস্বাদু আইটেমটি নিয়ে যেতে পারবেন অফিসেও।

জেনে নিন কীভাবে তৈরি করবেন কাঠি কাবাব রোল-
উপকরণ
খাসির মাংস- ৩০০ গ্রাম
মাখন- ৪ চা চামচ
লেবুর রস- ২ টেবিল চামচ
ধনেপাতা কুচি- ১ মুঠো
চাট মসলা গুঁড়া- ১/৪ চা চামচ
পরোটা- ২টি
লবণ- স্বাদ মতো
পেঁয়াজ- ১ স্লাইস
কাঁচামরিচ- ১টি (কুচি)
কাঁচা পেঁপে কুচি- ১ চা চামচ
ম্যারিনেটের উপকরণ
আদা বাটা- ১ চা চামচ
টক দই- ১০০ গ্রাম
ধনে গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
লেবুর রস- ১ টেবিল চামচ
তেল- ২ চা চামচ
রসুন বাটা- ১ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া- ২ চিমটি
গরম মশলা গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
কাঁচামরিচ- ১টি (কুচি)
প্রস্তুত প্রণালি
একটি পাত্রে হাড়ছাড়া খাসির মাংস নিন। ম্যারিনেটের সব উপকরণ একসঙ্গে মেশান। ম্যারিনেট করা মাংস সারারাত রেখে নিন ফ্রিজে। ১ চা চামচ কাঁচা পেঁপে মাংসে মিশিয়ে দিন। এতে দ্রুত সেদ্ধ হবে মাংস।
একটি গভীর পাত্রে মাখন গরম করে মাংস ও সামান্য লবণ ছিটিয়ে নিন। পেঁয়াজ কুচি, কাঁচামরিচ কুচি, লেবুর রস ও চাট মসলা দিয়ে নেড়ে পাত্র ঢেকে নিন। মাঝারি আঁচে রান্না করুন। মাংস নরম হওয়া পর্যন্ত রাখুন চুলায়। শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি দিতে পারেন। তবে মাংস যেন অতিরিক্ত নরম না হয় সেদিকে লক্ষ রাখবেন।
আরেকটি পাত্রে ঘি গরম করে পরোটা ভাজুন। মাংসের মিশ্রণ পরোটার মাঝে রেখে রোল করে নিন। ধনেপাতা চাটনির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার কাঠি কাবাব রোল।

 

সহজেই তৈরি করুন কাঁচা আমের চাটনি

বাজারে কাঁচা আম থাকতে থাকতে টক-মিষ্টি আমের চাটনি বানিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন। মুখরোচক চাটনি খাওয়া যায় খিচুড়ি অথবা ভাতের সঙ্গে।

জেনে নিন কাঁচা আমের চাটনি বানাবেন কীভাবে-
উপকরণ
কাঁচা আম- ২টি
লবণ- ১ চিমটি
চিনি- ১ কাপ
হলুদ গুঁড়া- আধা চা চামচ
কালো সরিষা- আধা চা চামচ
আস্ত শুকনা মরিচ- ১টি
সরিষার তেল- ২ টেবিল চামচ
ভাজা জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ
পানি- ১ কাপ
কিশমিশ- ১ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
ক্যাশিউনাট- ১ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালি
আমের খোসা ছাড়িয়ে টুকরা করে নিন। একটি গভীর পাত্রে তেল গরম করুন। সরিষা ও শুকনা মরিচ দিয়ে ফুটে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। চুলার জ্বাল কমিয়ে আমের টুকরা দিয়ে দিন। লবণ ও হলুদ দিয়ে নাড়ুন কয়েক মিনিট। পাত্রে পানি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। ৫ মিনিট পর আম নরম হয়ে গেলে চিনি দিন। ক্যাশিউ নাট ও কিশমিশ দিয়ে নেড়ে নিন। বেশি টক থাকলে আরও চিনি দিতে পারেন। ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে নিন চুলা থেকে।

 

 

ম্যাপে পার্কিং ফিচার যোগ করলো গুগল

গুগল ম্যাপ সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি ফিচার নিয়ে এসেছে। ফিচারটির নাম সেভ ইওর পার্কিং। এর সাহায্যে যেকোনও ব্যবহারকারী তাদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা সেভ করে রাখতে পারবেন। এতে পরবর্তীতে আবার সেখানে গেলে পার্কিংয়ের জন্য নতুন করে জায়গা খুঁজতে হবে না। গুগল ম্যাপই আপনাকে মনে করিয়ে দেবে আগের পার্কিংয়ের স্থানের কথা। সেভ ইওর পার্কিং ফিচার ব্যবহার করতে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীকে গুগল ম্যাপের নীল ডট চিহ্নিত জায়গায় চাপ দিতে হবে। তারপর তিনি যেখানে অবস্থান করছেন সেটা দেখাবে এবং অন্যান্য অপশনের পাশাপাশি একেবারে নিচের দিকে সেভ ইওর পার্কিং অপশনটি আসবে। সেখানে ক্লিক করলেই সেভ হয়ে যাবে স্থানটি।
এই ফিচারের সাহায্যে পার্কিং সম্পর্কিত নোট টুকে রাখা যাবে। এছাড়া কতক্ষণ একটি জায়গায় আপনার গাড়ি পার্ক করা ছিল তাও ফিচারটির মাধ্যমে জানা যাবে। এসব কারণে সেভ ইওর পার্কিং ফিচারের মাধ্যমে গাড়ি পার্কিং সম্পর্কিত জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

গরমে পান করুন পাকা আমের লাচ্ছি

মিষ্টি স্বাদ আর সুগন্ধে ভরা আম ফলটি সবারই প্রিয়। নানাভাবেই খাওয়া যায় পাকা আম। পুডিং কিংবা কাস্টার্ড বানাতে ব্যবহার করা যায় আম। তেমনই একটি ব্যতিক্রম স্বাদের রেসিপি পাকা আমের লাচ্ছি। চলুন জেনে নেই-

উপকরণ : পাকা আম-১টা, চিনি-১ টেবিল চামচ, মিষ্টি দই-১ কাপ, পেস্তা বাদাম- ২/৩টা (কুচি করা), এলাচ গুঁড়ো ১চিমটি।

প্রণালি : প্রথমে আম ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে আঁটি বের করে নিতে হবে। এরপর ব্লেন্ডারে আম ব্লেন্ড করে নিয়ে তা কাঁচের বাটিতে ঢেলে রাখুন। এবার দই, চিনি আর বরফ কুচি একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর দইয়ের মিশ্রণে আম ঢেলে আরও একবার ব্লেন্ড করে নিন। এবার গ্লাসে নিয়ে এলাচ গুঁড়ো ও পেস্তা বাদাম ছড়িয়ে দিন। হয়ে গেল মজাদার পাকা আমের লাচ্ছি।

 

কেন জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী নয়

বিশ্বের কোনো দেশ জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে রাশিয়া এর ব্যতিক্রম। ১৯৬৭ সালে সিরিয়া, মিসর ও জর্ডানের সঙ্গে যুদ্ধে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। এরপর থেকে ইসরায়েল ‘জেরুজালেম দিবস’ পালন করে আসছে। এই দিনে ইসরায়েলি তরুণ তরুণীরা রাস্তায় নেমে আসেন, হাতে থাকে তাদের ইসরায়েলি পতাকা, তারা ফিলিস্তিন,আরব ও মুসলিম বিরোধী নানা শ্লোগান দিতে থাকে।

তাদের অনেকে জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু, ধ্বংস ও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কামনা করে। তাদের একটা বিরাট অংশ জেরুজালেমের পুরাতন শহরে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে মিছিল ও বিক্ষোভ করে উস্কানিমূলক শ্লোগান দেন, দাবি জানান ফিলিস্তিনিদের দোকানপাট ও বাড়ি ঘর উচ্ছেদের।

১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধে ইসরায়েল জেরুজালেমের পশ্চিম অংশের অর্ধেক দখল করে নেয়। জেরুজালেম দিবসকে ইসরায়েলিরা পুনর্গঠন হিসেবে দেখে এবং পূর্ব ও পশ্চিমের রাজধানী হিসেবে মনে করে। পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ এলাকাটিতে দেশটির কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে। তবে জেরুজালেম ইসরায়েল রাষ্ট্রের অধিক্ষেত্র বা মালিকানাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয়নি, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়। জেরুজালেমের বর্তমান পরিস্থিতি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্বের সুরাহা হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা।

১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের বিভক্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফিলিস্তিন, ইহুদি ও আরব রাষ্ট্রের মধ্যে ভাগাভাগি হওয়ার পর জেরুজালেম বিশেষ মর্যাদা পায়, যা আন্তর্জাতিক সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে চলে আসে। জেরুজালেমের এ ধর্মীয় গুরুত্বের কারণ হচ্ছে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মের অনুসারীরা যার হযরত ইব্রাহিম (আ:)কে জাতির পিতা হিসেবে মানেন এবং তাদের প্রত্যেকের জন্যে জেরুজালেমের ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম।

১৯৪৮ সালের যুদ্ধে ফিলিস্তিনকে বিভক্ত করার জন্যে জাতিসংঘের সুপারিশের পর ইসরায়েল জেরুজালেমের পশ্চিমাঞ্চল দখল করে রাষ্ট্রটির ভূখ- অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলের অর্ধেক দখল করে যা ওই সময় জর্ডানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সেখানে ইসরায়েলি আইন সম্প্রসারণ করে এবং কার্যকর হস্তক্ষেপের মধ্যে দিয়ে ইসরায়েলের ভূখন্ড অংশ বিশেষে পরিণত করে। ১৯৮০ সালে ইসরায়েল ‘জেরুজালেম আইন’ পাশ করে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করে বলে এলাকাটি অবিভক্ত ও একতাবদ্ধ। এরপর পূর্ব জেরুজালেম আয়ত্বে আনার দিকে আইনগতভাবে অগ্রসর হয় ইসরায়েল।

জবাবে জাতিসংঘ্য জেরুজালেম নিয়ে ১৯৮০সালে সংশোধিত ৪৭৮ আইনটি অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, যুক্তরাষ্ট্র এখনো পূর্ব জেরুজালেমকে দখলকৃত অঞ্চল বলেই স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে বিশ্বের কোনো দেশ জেরুজালেমের কোনো অংশকেই ইসরায়েলের রাজধানী বলে স্বীকৃতি দেয়নি। শুধুমাত্র রাশিয়া গত বছর পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে। এখনো ইসরায়েলে সকল বিদেশি দূতাবাস তেলআবিবে।

পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি অবৈধ দখলদারিত্ব একাধিক আন্তর্জাতিক আইনকে লঙ্ঘন করেছে। অথচ দখলদারি শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের জেরুজালেমে সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করার কোনো অধিকার নেই। এরপরও পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। সেখানে ৪ লাখ ২০ হাজার ফিলিস্তিনি স্থায়ী আবাসন পরিচয়পত্র নিয়ে বাস করছে। তাদের কাছে এখনো জর্ডানের অস্থায়ী পাসপোর্ট রয়েছে যাতে জাতীয় সনাক্তকারী নম্বর নেই। তার মানে তারা পুরোপুরি জর্ডানের নাগরিক নয়। জর্ডানে কাজ করতে হলেও তাদের ওয়ার্কপারমিট প্রয়োজন পড়ে, সরকারি চাকরি করতে পারে না, কোনো সুযোগ সুবিধা পান না, উদাহরণ দেওয়া যায় যেমন তারা শিক্ষা ফি হ্রাসের সুযোগ পান না।

জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিরা মূলত রাষ্ট্রহীন, সীমিত আইনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, না তারা ইসরায়েলের নাগরিক, না জর্ডানের এমনকি ফিলিস্তিনেরও নয়। ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বিদেশি অভিবাসি মনে করে, যদিও সেটাই তাদের জন্মভূমি এবং ফিলিস্তিনিরা সেখানে জন্ম নিয়েও ইসরায়েলের অনুগ্রহে বাস করে এবং তা সঠিকভাবে নয়। ফিলিস্তিনিরা সবসময় আতঙ্কে থাকে কখন তাদের বাড়ি ঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়, এজন্যে তাদের বসবাসের অধিকার নিশ্চিত জরুরি। যদি কোনো ফিলিস্তিনি জেরুজালেমের বাইরে কিছু সময়ের জন্যে বাস করে যদিও তা অন্যদেশেও হয় কিংবা পশ্চিম তীরে হোক তাহলে তার জেরুজালেমে বাস করার অধিকার হারানোর ভয় থাকে। তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রমাণ করতে না পারে যে তার জীবন যাত্রা জেরুজালেম কেন্দ্রীক এবং অব্যাহতভাবে সে সেখানেই বাস করে আসছে, তাহলে জেরুজালেমে জন্ম নেওয়া সত্তে¦ও সে সেখানে বাস করার অধিকার হারাতে পারে। তাদেরকে জেরুজালেমে বাস করার পক্ষে একাধিক কাগজপত্র, ভাড়ার চুক্তি, বেতনের স্লিপ, স্বত্ত্বপত্র সহ নানা ধরনের দলিল দেখাতে হয়। অন্যকোনো দেশের নাগরিক হলে তা তার বিপক্ষে বিবেচিত হয়।

সব সময় বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের কোনো ইহুদি নাগরিক ইসরায়েলে বাস করার বা নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘রিটার্ন ল’ অনুযায়ী সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। ১৯৬৭ সাল থেকে জেরুজালেমে ১৪ হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিককে বসবাসের অধিকার বাতিল করেছে ইসরায়েল। এছাড়া জেরুজালেম শহরের ওপর ইসরায়েলী নিয়ন্ত্রণের যে অব্যাহত প্রক্রিয়া চলছে তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। জাতিসংঘ একাধিক প্রস্তাব পাশ করেছে এই বলে যে ইসরায়েলের ‘সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট’ চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন। যা একটি অধিবাসীকে তার জন্মভূমি বা দেশ থেকে নিষিদ্ধ করে এবং দখলকৃত ভূমিতে রুপান্তর হয়।

এর পেছনে কারণও অনেক। ইসরায়েলী দখলদারিত্বকে স্থায়ী হিসেবে নিশ্চিত করতে সামরিক শাসনের মধ্যে দিয়ে জেরুজালেমে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি ও দখলদার রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যে প্রয়াস ছাড়াও বর্ণবিদ্বেষ প্রতিরোধের মাধ্যমে সেখানকার নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট পরিবর্তন করে দেওয়া।

১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েল জেরুজালেমে ডজনেরও বেশি আবাসিক প্রকল্প গড়ে তুলেছে ইহুদি নাগরিকদের জন্যে। এসব প্রকল্পগুলো পূর্ব জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের আশেপাশে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রহরায় ২ লাখ ইহুদি নাগরিক বাস করছে পূর্ব জেরুজালেমে। একটি আবাসিক প্রকল্পে বাস করছে ৪৪ হাজার ইসরায়েলি নাগরিক। তাদের এধরনের বসতিগুলো ফিলিস্তিনিদের বসবাসে ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ফিলিস্তিনিদের আন্দোলন ও গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ইসরায়েলের দাবি যখন জেরুজালেম অবিভক্ত রাজধানী, তখন বাস্তবতা হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা সেখানে বাস করতে যেয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার শিকার হয়। নানা শর্তের বেড়াজালে যখন ফিলিস্তিনিদের বাস করতে হয় তখন জেরুজালেমে ইহুদি নাগরিকরা সব ধরনের স্বাভাবিক নাগরিক সুযোগ ও সুবিধা লাভ করেন ও সে জন্যে ইসরায়েল রাষ্ট্রের গ্যারান্টি থাকে।