লেবুর গুণাগুন

গরম ভাত কিংবা খিচুড়ির সঙ্গে লেবু না হলে অনেকের যেন চলেই না। লেবুর শরবত গরমের সময়টাতে সবার কাছেই প্রিয় একটি পানীয়। আবার আচার তৈরি করেও অনেকে খেয়ে থাকে। ছোট একটা ফল কিন্তু এর উপকারিতা প্রচুর আর পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এতে রয়েছে ৬ ভাগ সাইট্রিক অ্যাসিড, প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৫, বি৩, বি১, বি২, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, কার্বহাইড্রেট ফ্যাট এবং প্রোটিন।

লেবুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। আর ভিটামিন সি ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধে খুব কাজ দেয়। এছাড়াও লেবুতে রয়েছে ফ্ল্যাবোনয়েড যা শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধ করে এবং শরীরকে ফিট রাখে। এটি আপনার শরীরের পি এইচ ঠিক রাখে। লেবুর রস ও গরম পানি একসাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে পান করলে অন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং আপনার শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে ফেলে।

লেবুর ভিটামিন সি আপনার শরীরের রিঙ্কেল কমাতে সাহায্য করবে। লেবু রুটিন অনুযায়ী খেলে চোখের অসুখের দূর হয়। লেবুতে ২২ প্রকার ক্যান্সার বিরোধী যৌগ আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এটি অন্ত্রের কৃমি ধ্বংস করতে সাহায্য করে। লেবু রক্তনালীসমূহকে শক্তিশালী করে। এটি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে।

লেবু ত্বকের সংকোচন সৃষ্টিকারী পদার্থকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ত্বকের অতিরিক্ত তেল অপসারণ করে। লেবুর রস একটি  প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক, যদি এটি মুখে মাস্ক হিসেবে নেয়া হয় তবে এটি স্কিনের অতিরিক্ত তেল ময়লা দূর করবে এবং ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ হতে দূরে রাখবে। যাদের মুখে ব্রণ আছে তারা একটি ছোট তুলার বলে লেবুর রস নিয়ে স্কিন পরিষ্কার করলে ব্রণ কমে যায়। এটি রাতে মুখ ধোয়ার পর ব্রণের দাগে লাগিয়ে রাখলে দাগ তাড়াতাড়ি সেরে যায়।

লেবু ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। বয়সের কারণে মুখে দাগ পড়লে তাতে লেবুর রস ব্যবহার করলে দাগ হালকা হয়ে যায়। শক্ত ও স্বাস্থ্যবান নখ পেতে একটি বাটিতে লেবুর রস নিয়ে তাতে ১০ মিনিট নখ ভিজিয়ে রাখুন, এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

লেবুর রস, ৩/৪ কাপ অলিভ অয়েল, ১/২ কাপ মধু, দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করুন। এটি আপনার চুলকে ড্যামেজ ফ্রি করবে।

৩-৪ টেবিল চামচ নারিকেল তেল নিয়ে তাতে অর্ধেক পরিমাণ লেবুর রস মিক্স করে সপ্তাহে একদিন চুলে লাগান। ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল দেখুন।

কয়েক ফোঁটা লেবুর রস এবং আমলকীর রস মিক্স করে প্রতিদিন রাতে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে নিন এবং সকালে ধুয়ে ফেলুন।

৪/১ লেবুর রস, কিছু লবণ এবং লেবুর রসের অর্ধেক পরিমাণ বেকিং সোডা নিয়ে দাঁতে ঘষুন। এটি আপনার দাঁত আরও সাদা করবে।

 

দোহারের নারিশায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক আহত

দোহার উপজেলার নারিশা এলাকায় দুর্বৃক্তের ছুরিকাঘাতে মোঃ কাউসার হোসেন (২০) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। নারিশা বাজার এলাকায় গত শুক্রবার সকালে এঘটনা ঘটে। এতে ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিস্তার করছে। আহত কাউসার হোসেন উপজেলার নারিশা বাজার এলাকার আকতার হোসেনের ছেলে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাউসার ডাঃ মোসারফ হোসেন এর ফার্মেসীর সামনে দাঁড়ালে একই এলাকার সন্ত্রাসী ওমর ফারুক সেখানে উপস্থিত হলে তর্ক-বিতর্ক আর হাতাহাতির এক পর্যায়ে ওমর ছুড়ি নিয়ে তাকে তাড়া করলে প্রাণের ভয়ে কাউসার দৌড়ে নদীরপাড় গিয়ে পরে গেলে ওমর ফারুক পিছ থেকে কাউসারের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ওমর ফারুক একই এলাকার আ: রব এর ছেলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ওমর ফারুক এই এলাকারে নষ্ট কইরা ফালাইতাছে। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং মাদক ব্যবসার সাথেও ওমর জড়িত আছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা কাউসারকে উদ্ধার করে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক কাউসারকে ঢাকা প্রেরণ করে।

দোহারে ইয়াবা নাটক সাজিয়ে যুবককে ফাঁসানোর চেষ্টাঃ এসআই রফিক প্রত্যাহার

ঢাকার দোহার উপজেলার এক যুবককে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজিয়ে আটক করে টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে দোহার থানার এএসআই রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় এলাকাবাসী ওই পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করলে তাঁকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দোহার গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের ছেলে মারুফ খানকে ইয়াবা ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে বড় অঙ্কের টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন এএসআই রফিক। এতে সহযোগিতা করেন পুলিশের সোর্স মধুর গ্রামের রউফ মাতবরের ছেলে রাজিব ও দোহার গ্রামের বাবুল সিকদারের ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে মহত। রাজিব ১০০ টাকা ও এএসআই রফিক নিজের পকেট থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে ইয়াবা কেনার দায়িত্ব দেন মহতকে। পরিকল্পনা করা হয়, ওই ইয়াবা দিয়ে মারুফকে আটক করে টাকা আদায় করা হবে এবং এই টাকা তিনজন ভাগ করে নেবেন।

গত বুধবার রাত ৮টার দিকে মারুফ বাড়ি থেকে দোহার বাজারে আসার সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মারুফের হাতে ওই ৬০০ টাকা ধরিয়ে দিতে যান মহত। এ সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী কাছে ওত পেতে থাকা এএসআই রফিক ও তার সোর্স রাজিব গিয়ে হাজির হন। তখন ওই টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে মহত বলেন, এ টাকা ইয়াবা কেনার জন্য মারুফকে দিয়েছি। এরপর মারুফ ও মহতকে আটক করে একটি অটোরিকশায় করে থানার দিকে নিয়ে যান রফিক। পথে মহতকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটকের বিষয়টি এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জানানো হয় মারুফের মা ফাতেমা বেগমকে। ফাতেমা এএসআই রফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দেন দরবার করে ১২ হাজার টাকায় মুক্তি মেলে মারুফের। বৃহস্পতিবার সকালে এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে এলাকাবাসী। পরে এই পরিকল্পনার কথা ফাঁস করে দেন মহত। এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে উপজেলা প্রশাসনে এসে ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ ব্যাপারে রফিকের সহযোগী মহত বলেন, ‘এএসআই রফিক আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এ কাজে বাধ্য করেছেন। পুলিশের সোর্স রাজিব রফিককে সহযোগিতা করেছেন। তাঁরা দুজন আমাকে ৬০০ টাকা দিয়েছিলেন ইয়াবা কেনার জন্য এবং ওই ইয়াবা দিয়ে মারুফকে ফাঁসিয়ে টাকা আদায়ের জন্য। আমি ইয়াবা কিনতে না পারার বিষয়টি রফিককে জানাই। তিনি আমাকে বলেন, তাহলে তুই টাকাটাই মারুফের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলবি, এটা ইয়াবা কেনার টাকা। ওই মুহূর্তে গিয়ে আমি তোদের দুজনকে ধরব, কিন্তু তোকে রাস্তা থেকে ছেড়ে দেব’। দোহার থানার ওসি শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিলাশপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইয়ের লাশ উদ্ধার

ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনইয়নের মধুরচর গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আবুল কালাম (৩২) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বললেও নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে কালামের শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে দোহারের পশ্চিম নূরপুর গ্রামের মো. নজরুল শিকারীর ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয় পাশের মধুরচর গ্রামের প্রবাসী তোতা ফকিরের মেয়ে সোমা আক্তারের। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী সোমা ও শাশুড়ি আরজু বেগমের সঙ্গে কালামের বনিবনা হচ্ছিল না।

এলাকার লোকজন জানায়, প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে কালাম তার শ্যালিকা রিমা আক্তারকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে আসতে টাঙ্গাইলে যায়। সেখান থেকে সন্ধ্যায় রিমাকে নিয়ে মধুরচরে আসেন কালাম। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কালাম ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শাশুড়ি আরজু বেগমের সঙ্গে তার হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে শ্বশুরবাড়ির পাশে একটি গাছের নিচে কালামের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। লাশের বিভিন্ন অংশে আঘাত ও ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে কালামের শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

নিহত কালামের বাবা মো. নজরুল শিকারী বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। ছেলেকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা দিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিন্তু তিন বছরেও কথা রাখেনি। এ নিয়ে আমার ছেলে কথা বললে তাকে গালাগাল এমনকি সবাই মিলে মারধর পর্যন্ত করত। ’

দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে।

দোহারে পুলিশি বাধায় বিএনপির ইফতার মাহফিল পণ্ড

দোহারে পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের সাংহাই নাইট চাইনিজ রেস্টুুরেন্টে এ আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় দলটির কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নেতাকর্মীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় শতাধিক নেতাকর্মী উপজেলা সদরের সাংহাই নাইট চাইনিজ রেস্টুুরেন্টে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে একত্রিত হয়েছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে দোহার থানা পুলিশের একটি দল রেস্টুুরেন্টে ঢুকে তাদের বেরিয়ে যেতে বলেন। না হলে তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়। ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুর রহমান বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান বানি বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ সময় আমরা আতঙ্কিত হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি।

এ ব্যাপারেঞ্জানতে চাইলে দোহার থানার ওসি  সিরাজুল ইসলাম শেখ নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন ” আমি ঢাকায় আছি পরে কথা হবে”।

 

এবারের ফিতরা সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা

১৪৩৮ হিজরি সালের ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা। আজ বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। গত বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা থাকলেও সর্বোচ্চ ফিতরা ছিল ১৬৫০ টাকা। ইসলামী শরিয়া মতে, আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যব ইত্যাদি পণ্যগুলোর যেকোনো একটি দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায় বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আটা দিয়ে ফিতরা আদায় করলে অর্ধ সা বা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ৬৫ টাকা, যব দিয়ে আদায় করলে এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ৫৬০ টাকা, কিসমিস দিয়ে আদায় করলে এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১২৫০ টাকা আদায় করতে হবে। খেজুর দিয়ে আদায় করলে এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১৬৫০ টাকা এবং পনির দিয়ে আদায় করলে এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১৯৮০ টাকা আদায় করতে হবে।

মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুসারে উপরোক্ত পণ্যগুলোর যেকোনো একটি বা তার বাজারমূল্য দিয়ে সাদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন। তবে পণ্যগুলোর স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্যের কারণে স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে। সভায় জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য মো. মোজাহারুল মান্নান, ড. মুহাম্মদ আবদুস সালাম, মুফতি মো. আবদুল্লাহ, প্রফেসর সিরাজউদ্দিন আহমদ, মুফাস্‌সির ড. মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী, মুফতি মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, ড. আবদুল জলীল, মুফতি এহসানুল হক, মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, শাঈখ মুহাম্মদ উছমান গণী, অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

রোজার জরুরি মাসালা

প্রশ্ন : রোগীকে রক্ত দিলে বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা?

উত্তর : না, কাউকে রক্ত দিলে বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজা ভঙ্গ হয় না। কারণ হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে শরীর থেকে কোনো কিছু বের হওয়ার মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ হয় না। (মাজমাউল আনহুর, ১/৩৫৬, বাহরুর রায়েক ২/২৭৬, শামী ৩/৩৬৭, ফাতাওয়া ১/২৫৩, আহসানুল ফাত্তাওয়া ৪/৪২৫, আপকে মাসায়েল ৩/২১৬)।

সোহাইল, টাঙ্গাইল
প্রশ্ন : চোখে ড্রপ দিলে রোজা ভঙ্গ হবি কিনা?
উত্তর : না, চোখে ড্রপ দিলে মুখে তার স্বাদ অনুভব হলেও রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে নাকে ড্রপ দিলে যদি তা পেটে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে তা হলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। (আলমগীরি ১/২০৩, শামী, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪২৯, বাদাইউস সানায়ে ২/৯৩, মাহমুদিয়া ১৫/১৬৮)।
সামিউল হক, দুবাই
প্রশ্ন : ইনসুলিন বা ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে কিনা?
উত্তর : না, ইনসুলিন বা ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ সরাসরি পেটে বা মস্তিষ্কে কোনো কিছু পৌঁছলেই রোজা ভঙ্গ হয়। আর ইনজেকশন বা ইনসুলিন সরাসরি পেটে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে না। (শামী ৩/৩৬৭, আলমগীরি ১/২০৩, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪২২, মাহমুদিয়া ১৫/১৮১)।
আফরোজা আহমদ, লন্ডন
প্রশ্ন : ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে কিনা?
উত্তর : হ্যাঁ, ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ রোজা অবস্থায় কোনো ধরনের ধোঁয়া মুখে টেনে নিলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়। বিড়ি-সিগারেট বা হুক্কা পান করার মাধ্যমেও এ কারণেই রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়। ইনহেলার যেহেতু ধোঁয়াজাতীয় তাই ইনহেলার ব্যবহার করায় রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। (শামী ৩/৩৬৬, হেদায়া ১/২১৯, ফাতহুল কাদির ২/২৫৮, ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১২৪)।
ইসমাইল, দ. কোরিয়া
প্রশ্ন : রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট ব্যবহার করলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে কিনা?
উত্তর : টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলে মুখে একটা স্বাদ অনুভূত হয়। একটা মিষ্টি মিষ্টি কিছু গলার ভেতরেও যায়। এ কারণে অনেকের মতেই রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট ব্যবহার করা মাকরুহ। সুতরাং তা বর্জন করাই শ্রেয়। (আলমগীরি ১/১৯৯)।
ইফতেখার কামাল, সিঙ্গাপুর
প্রশ্ন : তারাবির নামাজের কয়েক রাকাত ইমামের সঙ্গে পাওয়া না গেলে ইমাম যখন বিতির আদায় করবেন তখন কি ইমামের সঙ্গে বিতির পড়তে হবে নাকি আগে ছুটে যাওয়া তারাবির রাকাতগুলো আদায় করে পরে একাকী বিতির পড়বে?
উত্তর : এ ক্ষেত্রে ইমামের সঙ্গে জামাতে বিতির আদায় করবেন এবং পরে ছুটে যাওয়া তারাবি আদায় করবেন। (আলমগীরি ১/১১৭, শামী ২/৪৯৪, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬৩, বাহরুর রায়েক ২/৬৮)। মুফতি মুতীউর রাহমান
প্রধান মুফতি, চৌধুরীপাড়া মাদ্রাসা
খতিব মুহম্মদিয়া দারুল উলুম জামে মসজিদ, ঢাকা

 

দোহারে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় মুকসুদপুরে দুই জনকে পিটিয়ে আহত

ঢাকার দোহারে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় মোঃ বাচ্চু বেপারী (৪০) ও মোঃ কাউসার হোসেন (১৪) নামে দুইজনকে পিটিয়ে আহত এবং বসত ঘর ভেঙ্গে অর্থসহ অলংকার লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলার মধুরখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মধুরখোলা বাচ্চুর মোড় এলাকায় পার্শবর্তি শ্রীনগর উপজেলার বাঘরা ইউনিয়নের বালুর চক এলাকার সাদেক বেপারীর ছেলে মাদক সম্রাট সাইফুল (১৯) ও অজ্ঞাত সাত থেকে আটজন মাদক সেবী যুবক ইয়াবা সেবনের সময় মোঃ বাচ্চু বেপারী বাঁধা দেওয়ায় সাইফুলসহ অন্য সেবনকারীরা তাকে গাছের ডালা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে বাচ্চু ও তার ছেলে কাউসার এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের ঘটনাটি জানিয়ে বাড়ি আসার পথে মাদক ব্যবসায়ী সাইফুল, মধুরখোলা এলাকার শেখ আাহাম্মদ আলীর ছেলে মাহিবুর হোসেন, মোঃ হাবিবুর রহমান ও মোঃ আলীর ছেলে আল-আমিনসহ অজ্ঞাত আরো সাত ৮ যুবক বাচ্চু ও কাউসারকে পিটিয়ে আহত করে এবং বাচ্চুর বসতঘর ভেঙ্গে অর্থসহ অলংকার লুট করে। স্থানীয়রা বাচ্চু ও কাউসারকে উদ্ধার করে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে বাচ্চুর ভাগিনা বৌ ময়না আক্তার বাদী হয়ে দোহার থানায় ও পার্শবর্তি উপজেলার শ্রীনগর থানায় সাইফুল, আল-আমিন, মহিবুর ও হাবিবুরের নামে অভিযোগ করে।

যেভাবে ৩০ মে হত্যা করা হয় জিয়াউর রহমানকে

সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নানা সময় বিভিন্নভাবে সেনা-অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছিল। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীর একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ সেই সময়ে ঘটে চলেছিল নিয়মিতভাবেই। বলা যায়, এমন পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সামরিক বাহিনীর একদল অফিসারের হামলায় নিহত হন দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান। ছয় বছর আগে ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে সামরিক বাহিনীতে আরেকটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই তিনি দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন। এর পরের বছরগুলিতে তাঁকে উৎখাতের জন্য বিভিন্ন সময় সামরিক বাহিনীতে চেষ্টা করা হলেও তাঁর অনুগত সেনা অফিসার এবং সদস্যরা সেই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাগুলি দমন করেন।
কিন্তু ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমান নিহত হন সেনা অফিসারদের হামলাতেই। চট্টগ্রাম সেনানিবাসে তখন যে সেনা অফিসাররা ছিলেন তাদের অনেকেই জিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তা সত্বেও ঘটে যায় এই হত্যাকাণ্ড। প্রশ্ন ওঠে, অনুগত অফিসাররাই কি জিয়াকে হত্যা করেছিলেন? নাকি তাঁর অনুরাগী অফিসারদের ব্যবহার করে অন্য কোনো গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থের জন্য হত্যা করেছিল তাঁকে?

এই হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের প্রভাবশালী অফিসাররা কয়েকদিন চট্টগ্রামে কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখলেও ঢাকা সেনা সদর এবং দেশের অন্যান্য সেনানিবাস তাদের সঙ্গে নেই এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যেতেই তাদের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তৎকালীন জিওসি বা ডিভিশনাল কমান্ডার জেনারেল আবুল মঞ্জুর তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অফিসারকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দ্রুতই ধরা পড়ে যান এবং তাঁকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ফিরিয়ে এনেই হত্যা করা হয়। বলা হয়, উচ্ছৃঙ্খল সেনা সদস্যরা তাঁকে হত্যা করেছে।
জেনারেল মঞ্জুরকে বিচারের সম্মুখীন না করে এভাবে হত্যা করা অনেক প্রশ্ন আর সন্দেহের জন্ম দেয় স্বাভাবিকভাবেই। জিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় যে সেনা অফিসারদের তাদের অনেকেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। চট্টগ্রাম কারাগারে গোপনে এবং খুব তাড়াহুড়ো করে বিচারের পর ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে ফাঁসি দেওয়া হয়, অনেককে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় এবং পরবর্তীতে সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত করা হয় আরও বেশ কিছু অফিসারকে।

সত্তরের দশকের শেষ দিকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অফিসাররা একাধিকবার জিয়াকে উৎখাতের চেষ্টা করেন। ১৯৮০ সালে দুই মুক্তিযোদ্ধা অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল দিদারুল আলম ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুন্নবী খানের মাধ্যমেও এই অফিসাররা জিয়ার বিরুদ্ধে সেনা-অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন। নুরুন্নবী খান মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়ার নেতৃত্বাধীন জেড ফোর্সের একটি বাহিনীতে থেকেই যুদ্ধ করেছিলেন। জিয়ার বিরুদ্ধে সংঘটিত সেনা অভ্যুত্থানসমূহের কোনোটাই অবশ্য সফল হয়নি।
এমন জটিল এক পরিস্থিতিতেই ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সফরের সময় শেষ রাতে এক সামরিক হামলায় প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হন। চট্টগ্রাম সেনানিবাসে মঞ্জুরের অধীনস্থ সেনা অফিসাররা এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাই হত্যাকাণ্ডের পর মেজর জেনারেল মঞ্জুরকেই এই পরিস্থিতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়।
৩০ মে গভীর রাতে সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ওপর আক্রমণ চালানো হবে তা কি জেনারেল মঞ্জুর জানতেন? সেই সময় চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার ছিলেন জিয়াউদ্দিন এম চৌধুরী। তাঁর বর্ণনা থেকে জানা যায়, যেদিন রাষ্ট্রপতি জিয়া চট্টগ্রাম পৌঁছান তখন তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য জেনারেল মঞ্জুর বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন না। মঞ্জুর কেন আসেননি সে ব্যাপারে জিয়া চট্টগ্রাম সেনানিবাসের অন্য একজন উর্দ্ধতন সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেসও করেন (এই প্রসঙ্গে আবার অন্য বর্ণনায় জানা যায়, রাষ্ট্রপতি জিয়াই নাকি জেনারেল মঞ্জুর যেন বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে না আসেন সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন)।
সার্কিট হাউসে হামলায় জিয়া নিহত হওয়ার পর সেনানিবাসে জেনারেল মঞ্জুর সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, সেই বৈঠকে জিয়াউর রহমানের সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে বর্ণনা করে মঞ্জুর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই অবস্থায় দেশপ্রেমিক শক্তির মাধ্যমে একটি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। এই বিপ্লবের অংশ হিসেবেই রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হয়েছে কি না বা কারা তাঁকে হত্যা করেছে সে ব্যাপারে কিন্তু মঞ্জুর আলোকপাত করেননি। তিনি কেবল জানান যে, একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠিত হয়েছে, কিন্তু তিনি একবারও বলেননি কে এই পরিষদের প্রধান এবং পরিষদের সদস্য কারা। মঞ্জুর জানান যে, তিনি বিপ্লবী পরিষদের মুখপাত্র।
পরের দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকেও মঞ্জুর একই কথা বলেন। তাঁর এমন বক্তব্য অস্পষ্টতা সৃষ্টি করে, কীভাবে বিপ্লবী পরিষদ তাদের কাজ পরিচালনা করবে সে ব্যাপারে কোনো ধারণা তিনি দিতে পারেননি। কখনও তাঁর কোনো উত্তর নিজের বক্তৃতার সঙ্গেই সামঞ্জস্যহীন হয়ে ওঠে।
যথেষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জিয়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলে এবং মঞ্জুর আগে থেকেই তা ভালোভাবে জানলে পরবর্তীতে তাঁর কথাবার্তায় এমন অস্পষ্টতা আর সঙ্গতিহীনতা আসত কি? এমন একটি ধারণা করা যায় যে, মঞ্জুরের অধীনস্থ অফিসাররা জিয়াকে হত্যা করার পর মঞ্জুরকে বাধ্য হয়েই অফিসারদের পক্ষ অবলম্বন করতে হয়েছিল।
সার্কিট হাউসে হামলার ব্যাপারে মঞ্জুর আগে জানতেন না এ ব্যাপারে একটি ধারণা পাওয়া যায় মেজর রেজাউল করিমের বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে। জিয়া হত্যাকাণ্ড ঘটে যাওয়ার পর, ৩০ মে সকালে জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে মেজর রেজাউল করিমের যখন প্রথম দেখা হয় তখন মঞ্জুর রেজাকে প্রশ্ন করেন সার্কিট হাউসে গিয়ে রেজা কী কী দেখেছেন তা নিয়ে। মেজর রেজা জিয়াউর রহমানসহ অন্যদের মৃতদেহের কথা জিওসিকে জানালে মঞ্জুর দুবার বলেন, “ওহ্, হোয়াট দে হ্যাভ ডান! হোয়াট দে হ্যাভ ডান!”
এরপর মঞ্জুর নিজের অধীনস্থ কিছু অফিসার সম্পর্কে রেজাকে বলেন, ‘‘ওদের তো মাথা গরম, তোমার মাথা ঠান্ডা আছে, তাই এখন থেকে তুমি আমার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’’
বোঝা যায়, মঞ্জুর তাঁর সেনানিবাসের সেই সব অফিসার যারা সার্কিট হাউসে হামলায় অংশ নিয়েছিল তাদের উত্তেজিত অবস্থা নির্দেশ করেছিলেন। উল্লেখ্য, সার্কিট হাউসে হামলায় অংশ নেওয়া অফিসারদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পর্যন্ত বিভিন্ন পদের অফিসাররা ছিলেন। এদের বেশিরভাগই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা অফিসার। আর সে কারণে তাঁরা জেনারেল মঞ্জুরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
কিছুদিন আগেই ঘটে গিয়েছিল আরেকটি ঘটনা। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের কমান্ডারের পদ থেকে জেনারেল মঞ্জুরকে বদলি করা হয় ঢাকায় ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট হিসেবে। এর অর্থ, জেনারেল মঞ্জুর পদাতিক ডিভিশনের সক্রিয় কমান্ডে আর থাকবেন না। উপরন্তু, স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট হিসেবে তাঁকে সিজিএসের নির্দেশ মানতে হবে যে, সিজিএস পদে মঞ্জুর কয়েক বছর আগে নিজেই ছিলেন। ফলে বদলির এই আদেশ মঞ্জুরসহ চট্টগ্রাম সেনানিবাসে তাঁর অনুরক্ত অফিসাররা মেনে নিতে পারেননি। রাষ্ট্রপতি জিয়ার প্রতি তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
৩০ মে ভোর রাতে সার্কিট হাউসে হামলার পরিকল্পনা করায় এবং হত্যাকাণ্ড ঘটার পর সবচেয়ে সক্রিয় ছিলেন দুজন মুক্তিযোদ্ধা অফিসার: চট্টগ্রাম ডিভিশনাল হেড কোয়ার্টার্সের সিনিয়র স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান ও ২১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহবুবুর রহমান। মেহবুব ছিলেন জেনারেল মঞ্জুরের আপন ভাগ্নে।
সার্কিট হাউসে হামলায় কেবল অফিসাররাই অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিভিন্ন অফিসারের বর্ণনায় জানা যায় যে, তাদের বলা হয়েছিল প্রেসিডেন্টকে সার্কিট হাউস থেকে তুলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে নিয়ে আসা হবে, বিভিন্ন দাবি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে হামলাকারীদের গোলাগুলি শুরু হওয়ার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি জিয়া তাঁর কক্ষ থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তখন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান খুব কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে এক ঝাঁক গুলি করে জিয়াকে হত্যা করেন।
(উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে এই মতিউর রহমান সেনাবাহিনীর আরও দুই অফিসার ডালিম আর নূরের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডালিম ও নূর জড়িত ছিলেন সক্রিয়ভাবে)।
যে প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হল, কার নির্দেশে মতিউর রহমান সেদিন জিয়াকে গুলি করেছিলেন? এর উত্তর কখনও জানা যায়নি। কারণ চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সেনা কর্মকর্তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিলে জেনারেল মঞ্জুর এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অফিসার সেনানিবাস ত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করেন। পলায়নের সময় একটি স্থানে সরকারের অনুগত একদল সৈনিকের সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়। সে সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহবুবুর রহমান নিহত হন।
মেজর রেজাউল করিমের বক্তব্য থেকে একটি তথ্য জানা যায়; তা হল, মতিউর রহমান জিয়া হত্যাকাণ্ডের অল্প কদিন আগে ঢাকায় আর্মি হেড কোয়ার্টারে গিয়েছিলেন। সেখানে সেনাপ্রধান এরশাদসহ অনেকের সঙ্গেই নাকি তিনি কথা বলেছিলেন (কবির, পৃষ্ঠা ১৮৭)। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান তখন কী আলোচনা করেছিলেন তা জানা যায়নি। অথচ তিনিই পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানকে গুলি করে হত্যা করেন।
জেনারেল মঞ্জুর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে পুলিশের হেফাজতে থেকেই বিচারের সম্মুখীন হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে একটি সেনাদল গিয়ে পুলিশি হেফাজত থেকে মঞ্জুরকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে টেনেহিঁচড়ে সেনানিবাসে নিয়ে আসে এবং দ্রুত তাঁঁকে হত্যা করা হয়।
মঞ্জুরকে একদল উত্তেজিত সেনাসদস্য হত্যা করেছে এ কথা বলা হলেও দেখা যায়, মঞ্জুরের মাথায় পিস্তল দিয়ে মাত্র একটি গুলি করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। একদল উচ্ছৃঙ্খল সৈনিক কাউকে হত্যা করলে মৃত ব্যক্তির শরীরে একাধিক আঘাত থাকার কথা। কিন্তু মঞ্জুরের শরীরে তা ছিল না।
জানা যায়, মঞ্জুর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এই তথ্য জানার পর তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সদরুদ্দিন সেনাপ্রধান এরশাদকে বলেছিলেন মঞ্জুরকে কোনোভাবেই হত্যা না করতে। মঞ্জুরের হত্যার পর এরশাদ সদরুদ্দিনকে জানান, একদল উচ্ছৃঙ্খল সৈন্য মঞ্জুরকে হত্যা করেছে। সদরুদ্দিন তখন ক্ষুব্ধকন্ঠে এরশাদকে বলেছিলেন, “এই গল্প অন্য কাউকে বলুন। অ্যাট লিস্ট ডোন্ট আস্ক মি টু বিলিভ ইট।”
তথ্য সূত্র: ১. S. Mahmud Ali, “Understanding Bangladesh” (New York: Columbia University Press, 2010)
২. Ziauddin M. Choudhury, “Assassination of Ziaur Rahman and the Aftermath” (Dhaka: The University Press Limited, 2009)
৩. জুলফিকার আলি মাণিক, “জিয়া হত্যাকাণ্ড: নীল নকশার বিচার”
(ঢাকা: সময় প্রকাশন, ২০০৬)
৪. ত্রিশোনকু মল্লিক, “চট্টগ্রাম সেনাবিদ্রোহ”
(ঢাকা: দিব্যপ্রকাশ, ২০১৫)
৫. আনোয়ার কবির, “সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা: ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১” প্রামাণ্য চিত্রের গ্রন্থরূপ
(ঢাকা: সাহিত্য প্রকাশ, ২০১৪)
৬. এ. এস. এম সামছুল আরেফিন, “জিয়া-মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড এবং তারপর”
(ঢাকা: আহমদ পাবলিশিং হাউস, ১৯৯৮)
৭. মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি, “একাশির রক্তাক্ত অধ্যায়”
(ঢাকা: আফসার ব্রাদার্স, ২০০২)।
পূর্বপশ্চিম

দোহারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড

দোহারের জয়পাড়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড করা হয়েছে। আজ ২৯ মে সোমবার সকাল ১১ টায় জয়পাড়া বাজারের আয়োজন শপিংমল, রেড-রিবণ শপিংমল এবং পালকি শপিংমলকে ভোক্তা অধিকার আইনে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৪৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ, জয়পাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এস এম কুদ্দুস প্রমুখ।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীন বলেন, রমজানে দ্রব্য মূল্য জনগণের নাগালের মধ্যে রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষতেও তা অব্যাহত থাকবে।