অনুপস্থিত প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি তদন্তের দাবিতে উত্তাল বেগম আয়েশা বিদ্যালয়

0

১৪ সেপ্টেম্বর, রবিবার ঢাকার দোহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে শতাধিক ছাত্রী প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। প্রথমে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এবং পরে স্কুল গেটের বাইরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রীরা ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুপস্থিত প্রধান শিক্ষিক কুলছুম বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত দুর্নীতির অভিযোগ করে আসছে। তারা প্রশাসনের কাছে ৭৫টিরও অধিক দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

তারা জানান, কুলছুম বেগম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন এবং গরীব ছাত্রীদের সঙ্গে তার দুর্ব্যবহার ও অশোভন আচরণ অসহনীয়। সুমাইয়া আক্তার নামে এক ছাত্রী বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন আমাদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিক।”

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীকালে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করে আবারো ক্লাসে ফেরত পাঠায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর আগস্ট মাসের ২৫ তারিখ থেকে প্রধান শিক্ষক কুলছুম বেগম অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে স্কুলের অর্থ আত্মসাৎ, বেঞ্চ চুরি, পানির ট্যাংক চুরিসহ ৭৫টিরও অধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

নবাবগঞ্জের মোখলেছুর রহমান হত্যা মামলার মূল আসামি গ্রেফতার

0

মো ফয়সাল:  নবাবগঞ্জে আলোচিত মোখলেছুর রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। র‌্যাব-১০ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর লালবাগ থানাধীন পলাশী মোড় এলাকা থেকে আসামি কয়েজ (৩০), পিতা–শরীফুল ইসলাম, সাং–নয়াকান্দা, থানা–নবাবগঞ্জ-কে গ্রেফতার করে।

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মোসলেম উদ্দিন পায়েল (২১) ও আসামি জামাল (৩০)-এর মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে বিয়েবাড়ি যাওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে এ নিয়ে নিহত মোখলেছুর রহমান (৫০) তার ভাতিজাকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামি জামাল ও সহযোগীরা ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নবাবগঞ্জের নয়াকান্দা বাজার এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। লাঠি, হাতুড়ি ও হকস্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মোখলেছুর রহমান।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–১২, তারিখ ১২/০২/২০২৫, ধারা–১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/১১৪/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‍্যাব-১০ এর সহযোগিতা কামনা করলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার প্রধান আসামি কয়েজকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই দেশ হিন্দু- মুসলিম সকলের ইনসাফের অভিন্ন ঠিকানা: ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম 

0

দোহার প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে এক ব্যতিক্রমী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ঢাকা-০১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার মোঃ নজরুল ইসলাম। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় এবং দোহার উপজেলা জামায়াত একত্রে  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই সমাবেশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম মন্দিরে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে মন খুলে কথা বলেন। তিনি তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক নানা সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেসব সমাধানে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বিশেষ করে মন্দিরের নিরাপত্তা ও সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের জন্ম দেয়।

ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই। আমি এই মাটিতে জন্মেছি, এই মাটিতেই বড় হয়েছি । এই দেশ হিন্দু- মুসলিম সকলের ইনসাফের অভিন্ন ঠিকানা। আমি বিশ্বাস করি নেতৃত্ব মানেই দায়িত্ব, আর দায়িত্ব মানেই সততা, স্বচ্ছতা ও জনগণের নিকট জবাবদিহিতা। কেননা জনগণের ভোট মানেই জনপ্রতিনিধির নিকট আমানত।

তিনি আরও বলেন, অতীতে আপনাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আপনারা ভয়ে-আতঙ্কে দিন কাটিয়েছেন, অবহেলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু আমি আপনাদের সামনে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আমি যদি আপনাদের প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাই, তবে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ আমার কাছে সমান হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ব্যারিস্টার নজরুল সাহেব নিজে এসে আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন, আমাদের সমস্যার কথা শুনছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্মানের বিষয়। আমরা তার এমন আন্তরিকতায় খুবই খুশি।”

এই মতবিনিময় সভাটি কেবল আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কার হিসেবে এক বক্স চকলেট দেওয়া হয়, যা এই বন্ধুত্বপূর্ণ আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, এমন পারস্পরিক যোগাযোগ সমাজে সম্প্রীতি ও আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হওয়া এই আয়োজনকে এলাকার অনেকেই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা বহন করবে।

হারুন মাস্টার হত্যায় চাঞ্চল্যকর মোড়: শ্যুটার শরীফ ও সহযোগী চট্টগ্রামে গ্রেফতার

0

মো আল-আমিন: বিএনপি নেতা ও শিক্ষক হারুন মাস্টারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন স্বঘোষিত ‘শ্যুটার’, যিনি এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলাটির তদন্তভার পুনরায় হাতে নিয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম-এর নির্দেশে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের একটি এলাকা থেকে মামলার মূল অভিযুক্ত শ্যুটার শরীফ এবং তার সহযোগী মোঃ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ এবং আল আমিন এই হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করছিল এবং হারুন মাস্টারকে অনুসরণ করছিল। এরপর তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শ্যুটার শরীফের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপর আসামি আল আমিনের বিরুদ্ধেও নবাবগঞ্জ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে।

এই মামলায় এর আগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মহসিন ও জিহাদ চোকদার আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাদের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।

উল্লেখ্য গত ২ জুলাই ঢাকার দোহার উপজেলায় নিজ বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা ও শিক্ষক হারুন অর রশিদ ওরফে হারুন মাস্টারকে। এই ঘটনা পুরো দোহার উপজেলাতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।

দোহার ও নবাবগঞ্জের বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী

0

স্টাফ রির্পোটার: নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি, সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম হ এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার নবাবগঞ্জের কাশিয়াখালী সোনাবাজু বেড়িবাঁধ ও দোহারের কার্তিকপুর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডেরে প্রধান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার দুপুরে চার সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল বেরিবাঁধ পরিদর্শন করেন। এসময় ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান প্রকৌশলী রুহুল আমীন বলেন, প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর তৃতীয় বারের মত এই বাঁধ পরিদর্শনে এসেছি। উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান এই নদী বাঁচাতে স্লইচগেট নির্মাণে খুবই পজিটিভ বার্তা দিয়েছে। আমরা আশাবাদী সকলের প্রচেষ্টায় স্লুইচগেটটি দাতা সংস্থাদের অর্থায়নে হয়ে যাবে। দাতা সংস্থাদের মধ্যে এডিপি কিছুদিনের মধ্য এই স্থানটি পরিদর্শনে আসবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। সেজন্য আমরা আশাবাদী হয়েছি।

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ইছামতি নদীকে বাঁচাতে বেড়িবাঁধে পরিকল্পিত স্লুইচগেট নির্মাণের বিকল্প নেই। স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের প্রতিনিধিরা নির্মাণের ব্যাপারে শুধু মিথ্যা আশ্বাসের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আমি এই এলাকার সন্তান হিসেবে স্লুইচগেটের ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছি। এটি দীর্ঘ মেয়াদী একটি প্রকল্প তাই নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত এটি কাজ হওয়ার সম্ভবনা নেই। বিএনপি আপনাদের পবিত্র ভোটে ক্ষমতায় এলে ইনশাল্লাহ বেড়িবাঁধের উপর পরিকল্পিত স্লুুইচগেট নির্মাণ করা হবে।

নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি, সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম সহ এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধে স্লুইচগেট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে এর আগে ৩১শে আগস্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকতের নেতৃত্বাধীন চার সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল বেরিবাঁধ পরিদর্শন করেন।

নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশিম মোল্লা বলেন, আমরা আশান্বিত দোহার ও নবাবগঞ্জে স্লুইচগেট হবে। আমাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও এব্যাপারে একমত।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) মো. মোতাহার হোসেন, ঢাকা পানি উন্নয়ন সার্কেল-১, এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক, মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ ওমর, নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত, মোঃ ফাহাদ হাসান, উপ-সহকারি প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি আবু শফিক খন্দকার মাসুদ, নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ক্রীড়া সম্পাদক দুলাল দেওয়ান, সেভ দ্যা সোসাইটি এন্ড থান্ডারস্ট্রোম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, ইছামতি নদী বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি খালিদ হোসেন সুমন, প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি কাজী সোহেল।

২৮ পদের ২৩টিতেই জয় শিবিরের

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপিজিএস, এজিএসসহ ২৮টি পদে ২৩টিতেই বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার পর ঢাবির সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিক ফলাফলে তাদের নাম ঘোষণা করেন ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

ভিপি পদে ছাত্রশিবির প্যানেলের মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়েছেন।

১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন এসএম ফরহাদ। তিনিও ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট থেকে লড়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ ভোট। এছাড়া প্রতিরোধ পর্ষদের মেঘমল্লার বসু ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

এজিএস পদেও বিজয়ী হন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মুহা. মহিউদ্দীন খান। তিনি ১১ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়েছেন। ছাত্রদলের এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৪ ভোট।

এছাড়া আরও ২০ পদে বিজয় লাভ করেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা পেয়েছেন ১০ হাজার ৬৩১ ভোট। ৭ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে জয়ী হন ইকবাল হায়দার। আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে খান জসিম পেয়েছেন ৯ হাজার ৭০৬ ভোট।

ছাত্র পরিবহন সম্পাদক হিসেবে লড়ে আসিফ আবদুল্লাহ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬১ ভোট। ৭ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন আরমান হোসাইন। কমন রুম, রিডিং রুম ও কাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে উম্মে ছালমা পেয়েছেন ৯ হাজার ৯২০ ভোট। ১১ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক হন সাখাওয়াত জাকারিয়া। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে এমএম আল মিনহাজ পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৮ ভোট। এছাড়া ৯ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়ে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক বিজয় ছিনিয়ে আনেন মাজহারুল ইসলাম।

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট থেকে সদস্য হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন সাবিকুন্নাহার তামান্না (১০ হাজার ৪৮ ভোট), সর্বমিত্র (৮ হাজার ৯৮৮ ভোট), আনাস ইবনে মুনির (৫ হাজার ১৫ ভোট), ইমরান হোসেন (৬ হাজার ২৫৬), তাজিনুর রহমান (৫ হাজার ৬৯০), মেফতাহুল হোসেন আল মারুফ (৫ হাজার ১৫), বেলাল হোসাইন অপু খান (৪ হাজার ৮৬৫), রাইসুল ইসলাম (৪ হাজার ৫৩৫), মো. শাহিনুর রহমান (৪ হাজার ৩৯০), মোছা. আফসানা আক্তার (৫ হাজার ৭৪৭) ও রায়হান উদ্দীন (৫ হাজার ৮২ ভোট)।

প্যানেলের বাইরে বাকি পাঁচ পদে জয়ী হয়েছেন অন্য প্রার্থীরা। তারা হলেন- সমাজসেবা সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবাইর বিন নেছারী। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বী। সদস্য পদে হেমা চাকমা ও উম্মু উসউয়াতুন রাফিয়া।

এর আগে, মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীন বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। বড় কোনো ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে ডাকসুর ৩৮তম নির্বাচন। এবার ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৪৭১ জন। আর ১৮টি হল সংসদে নির্বাচন হয়েছে ১৩টি পদে। হল সংসদের ২৩৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৩৫ জন।

ডাকসুতে এবার মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৮৭৪। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ আর ১৩টি ছাত্র হলে ভোটার ২০ হাজার ৯১৫ জন ভোটার ছিলেন।

কিরগিজস্তানে প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরলেন ১৮০ বাংলাদেশি

0

ডেস্ক রিপোর্টঃ গার্মেন্টস ও নির্মাণ খাতে ভালো বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে কিরগিজস্তানে যাওয়ার পরে সেখানে কাজ না পাওয়া ও প্রতারণার শিকার হওয়া ১৮০ জন বাংলাদেশি নাগরিক বিশেষ এক ফ্লাইটে বিশকেক থেকে দেশে ফিরেছেন।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে এক বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বিদেশ থেকে ফেরত আসা এই মানুষদের বিমানবন্দরে তাদের অর্থ ও জরুরি সহায়তা দেয়।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশে বেশি বেতনের কাজের লোভ দেখিয়ে এই মানুষগুলোকে কিরগিজস্তানে নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেখানে গিয়ে অনেকে কাজ পাননি, বেতন পাননি, ফলে নথিপত্রহীন হয়ে পড়েন। অনেকে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। অনেকের পরিবার মুক্তিপণ দিতেও বাধ্য হয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শামসুদ্দোহা নবাবগঞ্জে নিজ রিসোর্ট থেকে গ্রেফতার

0

শেখ মো ফয়সাল; নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চেক জালিয়াতির মামলায় সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শামসুদ্দোহা খন্দকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নবাবগঞ্জে অবস্থিত তার ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রিন পার্ক রিসোর্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শামসুদ্দোহাকে গ্রেফতারের পর আদালতে তোলা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে উঠে আসে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ:
পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার একসময় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নদী খননকাজের টেন্ডার থেকে শত শত কোটি টাকা কমিশন নেওয়া, নদী দখল করে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া—এসবের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকার নবাবগঞ্জে শত বিঘা জমির ওপর তার একটি খামারবাড়ি রয়েছে, যেখানে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

দুদকের চার্জশিট: গোপন করা হয়েছে ৬৬ কোটি টাকার সম্পদ:
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে। এই মামলায় তার এবং তার স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার ৯৮১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন।
দুদকের সূত্রমতে, এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান থাকাকালে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করেন। এসব অর্থ তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে জমা করেন, যার পরিমাণ ২১ কোটি ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, শামসুদ্দোহা তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার ২২১ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন। এছাড়া ২ কোটি ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৭৮ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩ হাজার ৮৯১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ২৭ কোটি ৪৮ লাখ ৮২ হাজার ৪৯১ টাকার জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পদ্মা সরকারি কলেজে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ পদ্মা সরকারি কলেজে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হয়েছে। শনিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর কলেজ অডিটরিয়ামে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সীরাতুন্নবী পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। তেলাওয়াত করেন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মোঃ নজরুল ইসলাম।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মোঃ জালাল হোসেন এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক জনাব মোঃ মাহবুবুল হক।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও সূচনা বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক জনাব মোঃ লুৎফর রহমান হাওলাদার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জনাব মশিউর রহমান, জনাব মোঃ দাউদ, কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ বেল্লাল হোসেন এবং সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ ইমতিয়াজ। তাঁরা নবীজির (সা.) জীবনাদর্শ, ইসলামের শান্তির বাণী ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

আলোচনা সভার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় হামদ, নাতে রাসুল (সা.), গজল, নবীজির (সা.) জীবনীভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উপস্থিত বক্তৃতা।

দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক জনাব মোঃ আবুল বাশার।
উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা এই আয়োজনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী বলে মন্তব্য করেন।

এক যুগ পর ইছামতী নদীতে বাহ্রা-কোমরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

0

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মাতল হাজারো দর্শনার্থী ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ও কোমরগঞ্জ এলাকায় ইছামতী নদীতে এক যুগ পর আয়োজিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাহ্রা ও বক্সনগর ইউনিয়ন এবং কোমরগঞ্জ-বাহ্রা এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

ইছামতী নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শক জমে ওঠেন প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে। অনেকে ইঞ্জিনচালিত টলার, স্পিডবোট ও পানসি নৌকা নিয়ে নদীতে ভীড় করেন। দর্শকের হর্ষধ্বনি, তালি আর ঢোল-তবলার তালে মাঝিরা হেঁইয়ো রে হেঁইয়ো স্লোগানে বাইচকে মাতিয়ে তোলেন। দীর্ঘদিন পর এ আয়োজন ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে।

নৌকা বাইচ ঘিরে নদীর দুই পারে মেলায় বসে খেলনা ও মাটির সামগ্রীর দোকান। বিভিন্ন নৌকাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। মাঝি-মাল্লারা জারিগান গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তোলে।

এবারের প্রতিযোগিতায় ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ থেকে মোট ১৫টি বড় নৌকা অংশ নেয়। এর মধ্যে করম আলী এক্সপ্রেস, লিটন-২, বলধারার ঐতিহ্য, লিটন-৩, তুফান, আব্দুল খালেক, খাঁন বাড়ী, মামা-ভাগ্নিনা, সোনারতরী, তুফান-২, সিকদার বাড়ীসহ বেশ কয়েকটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। সবার পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করে ‘লিটন-২’। তাদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি ১২৫সিসি হিরো গ্লামার মোটরসাইকেল। অন্য অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল ফ্রিজ ও এলইডি টেলিভিশন।

নৌকা বাইচ ঐতিহ্যরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য। এটি যাতে হারিয়ে না যায়, আমরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। ইছামতী নদীর পদ্মা অভিস্থলে স্লুইচগেট হলে পানির সমস্যা দূর হবে এবং আরও অনেক জায়গায় বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হবে।”

কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, নতুন প্রজন্মকে নৌকা বাইচের সঙ্গে পরিচিত করানোর পাশাপাশি মানুষের বিনোদনের জন্যই এই আয়োজন করা হয়েছে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। আরও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালাম খন্দকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আল মামুন, অ্যাডভোকেট খলীলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।