মো আল-আমিন: বিএনপি নেতা ও শিক্ষক হারুন মাস্টারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন স্বঘোষিত ‘শ্যুটার’, যিনি এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলাটির তদন্তভার পুনরায় হাতে নিয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম-এর নির্দেশে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের একটি এলাকা থেকে মামলার মূল অভিযুক্ত শ্যুটার শরীফ এবং তার সহযোগী মোঃ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ এবং আল আমিন এই হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করছিল এবং হারুন মাস্টারকে অনুসরণ করছিল। এরপর তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শ্যুটার শরীফের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপর আসামি আল আমিনের বিরুদ্ধেও নবাবগঞ্জ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে।
এই মামলায় এর আগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মহসিন ও জিহাদ চোকদার আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাদের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
উল্লেখ্য গত ২ জুলাই ঢাকার দোহার উপজেলায় নিজ বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা ও শিক্ষক হারুন অর রশিদ ওরফে হারুন মাস্টারকে। এই ঘটনা পুরো দোহার উপজেলাতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
