বিজয় দিবসে স্বেচ্ছাসেবক দলের শ্রদ্ধাঞ্জলী

স্বাধীনতার যুদ্ধে বাঙ্গালী জাতি চুড়ান্ত বিজয় লাভ করে ১৬ ডিসেম্বর। ৯৩ হাজার পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বে মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে ১৬ ডিসেম্বর বিকালে। বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসের এই মহান দিনটি পালন করেছে দোহার উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেছাসেবক দল।

দিনটি উপলক্ষে দোহার উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন করেছে জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের স্মরনে। ১৬ ডিসেম্বর সকালে স্বেছাসেবক দলের নেতা কর্মীরা দোহার উপজেলা শহীদ মিনারে পুস্মস্তবক অর্পন করেছে। এই সময় দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল প্রায় ৫০০ নেতা কর্মীদের নিয়ে এই পুস্পস্তবক অর্পন করে। জয়পাড়া কলেজ মোড় থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল দোহার উপজেলা শহীদ মিনারে এসে পুস্পস্তবক প্রদানের মাধ্যমে শেষ হয়।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক পত্তনদার, রুবেল কাজী, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান মাখন। সহ-সভাপতি সুলতান, আসলাম দেওয়ান, ওয়াজেদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মনসুর, জাহাঙ্গীর মোল্লা, সুতারপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিকুল ও রায়পাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি আনোয়ারসহ আরো অনেক।

দোহারে মঞ্চায়িত হলো নাটক “স্বাধীনতা”

সুবর্ণা মাহম্মুদ এর রচনা ও জয়পাড়া মডেল স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম খান এর পরিচালনায় এবং দোহার উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনায় মহান বিজয় দিবসে মঞ্চায়িত হয় নাটক “স্বাধীনতা”। ১৬ই ডিসেম্বর, শনিবার রাত ৮টায় প্রদর্শিত হয় নাটকটি। দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণিগঞ্জ থেকে অগণিত দর্শক নাটকটি দেখার জন্য সমবেত হয় জয়পাড়া মডেল স্কুল মাঠে ।মাত্র ৫দিনের রিহার্সল নিয়ে নাটকটি মঞ্চায়িত হয়।  সকলকে পরিচালক নজরুল ইসলাম খান, অভিনেতা রাজীব শরিফ ও কাজী জিয়াদের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

নাটকটিতে বর্তমান সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানি রাজাকারদের প্রভাব, যুবকদের নেশার প্রতি ঝুকে পড়া,বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং সহ নানা চিত্র তুলে ধরা হয়।

জয় বাংলা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ধ্বনি – সাবেক মন্ত্রী আঃ মান্নান খান

আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এড আব্দুল মান্নান খান শনিবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়ে বলেছেন, জয় বাংলা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ধ্বনি। এ মুক্তিযুদ্ধের ধ্বনি জয় বাংলাকে যারা অস্বীকার করে, যারা ধারণ করে না, উচ্চারণ করে না, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। আগামী নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে আরেক ডিসেম্বর।’

তিনি আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। আমাদের জাতীয় জীবনে গৌরবোজ্জ্বল ও সুমহান মর্যাদার দিন। বিজয় দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষনে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরন করছি স্বাধীনতার স্বপ্ন-পুরুষ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, জীবন উৎসর্গকারী ও যুদ্ধাহত বীর সন্তানদের এবং সেইসব মা-বোনদের যাদের সম্ভ্রম ও আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন  বেলা ১১টার দিকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের নেতৃত্বে বিজয় র‍্যালী ও উপজেলা শহীদ বেদীতে পুস্পস্তবকের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদর্শন করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারন সম্পাদক আলী আহসান খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনারকলি পুতুল সহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

দোহারে বিএনপি’র র‍্যালীতে নেতা-কর্মিদের সরব উপস্থিতি

দীর্ঘদিন পরে সাবেক ছাত্রনেতা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দোহার পৌরসভা বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল আকন্দ ও সাবেক জায়পাড়া কলেজ ছাত্রসংসদের জিএস, ঢাকা জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক বেলায়েদীর নেতৃত্বে দোহার পৌর বিএনপি ও ঢাকা জেলা যুবদলের বিজয় দিবসের বর্নাঢ্য র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়। তাদের নেতৃত্বে মিছিলটি জয়পাড়া ওয়ান ব্যাংকের চৌরাস্তা মোড় থেকে শুরু করে কলেজ মোড় হয়ে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ করে।তারপর উপজেলা কেন্দ্রীয় শৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরনে পুষ্প অর্পন করেন। র‍্যালীতে আরও যারা উপস্থিত ছিল আবুল কালাম আজাদ মিঠু বেপারী, মোশারফ হোসেন, আকতার হোসেন, আতিকুর রহমান ভিপি সোয়েম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় শোভাযাত্রা করে দোহার উপজেলা বিএনপিসহ সকল অংগ সংগঠন।  দোহার উপজেলা বিএনপি’র র‌্যালির নেতৃত্বে থাকেন দলের উপজেলা সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন মোল্লা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে শান্তিপূর্ণভাবে বিজয় শোভাযাত্রা কর্মসূচি সফল করায় ধন্যবাদ জানান সাহাবুদ্দিন আহমেদ। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এবারের র‍্যালীটিই ছিল সর্ব বৃহৎ।

যারা কথা দিয়ে কথা রাখে না, তারা দিনে ও রাতে ষড়যন্ত্র করেঃ যমুনা গ্রুপ চেয়ারম্যান

বিশিষ্ট শিল্পপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেছেন, ১৯৭১ সালে আমরা যদি স্বাধীন না হতাম তাহলে আমার মতো, আমাদের মতো অনেকেই শিল্পপতি হতে পারতাম না। বড় বড় শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে পারতাম না। বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল বলেই আজ আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে বিশ্ব-দরবারে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বলেই আজ আমরা শিল্পপতি হিসেবে এ দেশের অগ্রগতির চাকাকে  সমুন্নত রাখতে পারছি।
শনিবার সকালে গুলশান পার্কে মহান বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায়  প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিজয় দিবসের ৪৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গুলশান হেলথ ক্লাব।
আলোচনা সভার আগে পার্কের অনুষ্ঠানস্থলে জাতীয় ও ক্লাব পতাকা  উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন গুলশান হেলথ ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম।
যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশ স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।  তার (বঙ্গবন্ধু) নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আজ আমি টিভি মিডিয়ার মালিক হতে পেরেছি। পেরেছি যমুনা গ্রুপের মতো এত বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়তে। আজ আমি শিল্পপতি। এজন্য আমি শ্রদ্ধাভরে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর পরিবার ও আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
গুলশান হেলথ ক্লাবের সভাপতি আলহাজ এম এ কাদের খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, সহ-সভাপতি আলহাজ মো. নাজির মিয়া, আজমল হোসেন।
আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আলম স্বপন এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক আমিনুল ইসলাম বাবু।
আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ১৯৭১ সালে আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম জানিয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও ৩ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা লাল-সবুজের একটি পতাকা পেয়েছি। সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ তথা বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচয় পেয়েছি। এসবই অর্জন হয়েছে আমাদের বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে।
তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে চলছে, দেশে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। দেশে আরও উন্নয়ন হবে। ইনশাল্লাহ একের পর এক উন্নয়ন চলবে।
দেশপ্রেমে সবাইকে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, শুধুমাত্র বিশেষ দিনে মহান নেতাদের কথা স্মরণ করা হয়। এরপর সবাই ভুলে যায়। ১৬ ডিসেম্বরের পর ১৭ ডিসেম্বর সবকিছু ভুলে যান। ২১ ফেব্রুয়ারির পরের দিন কেন যেন সবাই চেতনার কথা ভুলে যায়। ভুলে যাওয়া নয়, দেশপ্রেম নিয়েই দেশে বেঁচে থাকতে হবে। দেশের উন্নয়ন করতে হবে।
দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্য করে নুরুল ইসলাম বলেন, ওরা কথা দিয়ে কথা রাখে না। নিজের স্বার্থ থেকে এক পা-ও নড়তে চায় না। ওরা রাতে করে  কালোবাজারি, ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ার মার্কেট লুট, আর দিনে বলে গরিবের কথা। আমাদের স্বাধীন দেশে দুর্নীতি ছেয়ে গেছে। দেশ আরও এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অনেক পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমরা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারছি না।
তিনি বলেন, যারা কথা দিয়ে কথা রাখে না, তারা দিনে যেমন ষড়যন্ত্র করে রাতেও ষড়যন্ত্র করে। তাদের চিন্তা কী করে অবৈধভাবে নিজের সম্পদ বানাবে, আর সাধারণ মানুষের মাঝে, গরিব মানুষের মাঝে বড় বড় কথা বলবে।
সবাইকে স্বাধীনতার শক্তির পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়ে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, সময় এসেছে নিজের অধিকার নিজে আদায় করে নিতে হবে। নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হবে। দেশের জন্য কাজ করতে হবে। স্বাধীনতার পক্ষে থাকতে হবে। স্বাধীনতার শক্তিকে সমর্থন জানাতে হবে। স্বাধীনতার শক্তির পক্ষে থাকতে হবে। তবেই আমাদের জীবন অর্থনৈতিকভাবে পরিপূর্ণ হবে। ইনশাল্লাহ আমাদের স্বপ্ন একদিন বাস্তবায়িত হবে। আমরা গোটা পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব।
শিল্পপতি নুরুল ইসলাম বলেন, সিঙ্গাপুর আমাদের বাংলাদেশের থেকে ৬ বছর আগে স্বাধীনতা লাভ করেছে। সিঙ্গাপুরে আজ মাথাপিছু আয় ৬৫ হাজার ডলার। আর আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬০০ ডলার। আমরা যদি কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ হাজার ডলারে যেতে পারতাম, তাহলে আমাদের এ অবস্থা আর থাকত না। আমাদের সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে রয়েছে। এখন যদি আপনারা গ্রামে যান, গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলোর দিকে তাকান, তাহলে বুঝতে পারবেন বৈষম্যটা কী। আমাদের দেশে বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছে।
প্রয়াত মেয়র আনিসুল হককে স্মরণ
আলোচনা সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হককে স্মরণ করে যুমনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আজ এখানে দাঁড়িয়ে যখন বক্তব্য দিচ্ছি, তখন আমার বিশেষ বন্ধুর কথা মনে পড়ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক আমার বিশেষ বন্ধু ছিলেন। আমরা একে অপরের ভালো বন্ধু ছিলাম। সেই বন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন, আমরা এই দোয়াই করি।
আনিসুল হককে স্মরণ করতে গিয়ে এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নুরুল ইসলাম। কিছু সময় দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন তিনি।
গুলশান হেলথ ক্লাব তথা ক্লাবের এই পার্কের জন্য আনিসুল অনেক কিছু করে গেছেন উল্লেখ করে বিশিষ্ট এই শিল্পপতি বলেন, আমি বন্ধু আনিসুলকে বলেছিলাম, বন্ধু তুমি আমার ক্লাব তথা ক্লাবের পার্কের জন্য কিছু করে দাও। বন্ধুকে আমি বলেছিলাম, বন্ধু ঢাকার এই গুলশান, বনানী, বারিধারার মানুষ তোমাকে অনেক ভালোবাসে। তোমাকে আপন ভাবে। তুমি আগামীতেও মেয়র হবা। এখানকার মানুষ তোমার পক্ষে রয়েছে। আমার বন্ধু কথা দিয়েছিলেন এবং আমার এ বন্ধু কথা রেখেছেনও। আমাদের ক্লাবের জন্য বন্ধু আনিসুল হক ২০ কোটি টাকা দিয়ে গেছেন। আমরা সেই টাকা দিয়ে পার্কের উন্নয়ন করব। ভবন বানাব। দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। এ পার্ক ও ক্লাবের ভবন অত্যাধুনিক হবে।
সবশেষে দেশকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা সবাই এ দেশের সন্তান। আমরা মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান রয়েছে। আমরা এ দেশকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলব। দেশে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে, এ উন্নয়নের সুফল আমরা পাচ্ছি এবং পাব।
সভাপতির বক্তৃতায় আলহাজ এম এ কাদের খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমরা চলছি। তার আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ আজ সবক্ষেত্রে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধদিনের কথা স্মরণ করে কাদের খান বলেন, আমি যখন যুদ্ধে তখন আমার খোঁজ নিতে আসে পাকিস্তানি বাহিনী, আলবদর ও রাজাকার বাহিনী। আমাকে না পেয়ে তারা আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজনদের ওপর নির্যাতন চালায়। আমার খোঁজ না দেয়ায় আমার দুই চাচাতো ভাইকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব, অহংকার।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কণ্ঠশিল্পী রুমানা ইসলামসহ দেশবরেণ্য শিল্পীরা অনুষ্ঠানে গান পরিবেশ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্যরা আবৃত্তি করেন। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্য, সদস্যদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় দিবসে দোহারে ছাত্রদলের শো ডাউন

শনিবার সকাল ৯টায় ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দোহার উপজেলা এবং জয়পাড়া কলেজ ছাত্রদল এক বিশাল শো ডাউন করেছে।দোহার উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমেদ টগরের নেতৃত্বে মিছিলটি জয়পাড়া ওয়ান ব্যাংকের চৌরাস্তা মোড় থেকে শুরু করে কলেজ মোড় হয়ে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ করে।তারপর উপজেলা কেন্দ্রীয় শৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরনে পুষ্প অর্পন করেন।

এই সময় শামিম আহমেদ টগর বলেন, ছাত্রদল নেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভ্যান গার্ড।তাই আমরা ছাত্রদল সব সময় দেশ নেত্রীর যে কোন আদেশ পালনে সদা প্রস্তুত আছি।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহেল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল মাহমুদ, জয়পাড়া কলেজ সভাপতি রাসেল আহমেদ, ছাত্রনেতা আব্দুল করিম, হাবিবুর রহমান ঠান্ডু, কাজিম হোসাইন, তাশরিফসহ প্রায়৫ শতাধিক নেতাকর্মী।

উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক দোহার – নবাবগঞ্জে বিজয় দিবস পালিত

ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। নবাবগঞ্জে ১৫ই ডিসেম্বর  দিনগত রাত ১২টার পরে উপজেলা বিজয়স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ঢাকা-১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামসহ জাতীয়পার্টির নেতৃবৃন্দ।

এরপর পৃথকভাবে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আজ শনিবার নবাবগঞ্জের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও দোহারে জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করা হয়। সেখানে কুচকাওয়াজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাছাড়া এ দু’উপজেলার বিভিন্ন সংগঠন বিজয় মেলা, বিভিন্ন ধরনের খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নিউজ৩৯ এক্সক্লুসিভঃ “মুক্তিযুদ্ধে দোহার-নবাবগঞ্জ” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের স্মৃতিচারণ

0

জনাব আসাদুজ্জামান খাঁন, এমপি, মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খাঁন, এম. পি ১৯৫০ সনের ৩১ ডিসেম্বর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেনে। তার পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার দোহার উপজলার, শাইন পুকুর গ্রামে।  তিনি মরহুম-আশরাফ আলী খাঁন এবং মাতা মরহুম- আকরামুন নেসার দ্বিতীয় সন্তান। ১৯৬৫ সনে তেজগাঁও পলিটেকনিক হাই স্কুল হতে এস, এস, সি ও ১৯৬৭ সনে জগন্নাথ কলেজ থেকে এইচ, এস, সি পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বি, এস, সি অর্নাস সম্পন্ন করেন। তিনি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও ঢাকা মহানগরে (উত্তর) আওয়ামী-লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তিনি ছাত্র জীবন থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা । ২নং সেক্টর এর ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী এর অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ ঢাকা সদরের ২২টি থানার মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব তাকে দেয়া । ২নং সেক্টর থেকে ক্যাপ্টেন(অব) আঃ হালিম চৌধুরী তাকে এই দায়িত্ব দেন।

জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল স্মৃতিচারণ করেছেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দোহার-নবাবগঞ্জ, শ্রীনগর ও মানিকগঞ্জ যুদ্ধের। দোহারের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দেশ মাতৃকার জন্য আত্মোউতসর্গকারী  শহীদ মাহফুজ সহ স্মরণ করেছেন সকল মুক্তিযোদ্ধাকে।

নিউজ৩৯এর পাঠকদের জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামালের সেই এক্সক্লুসিভ স্মৃতিচারণ তুলে ধরা হলো; যা থেকে পাঠক জানতে পারবে রণাঙ্গনের নেতৃত্বদানকারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে “মুক্তিযুদ্ধে দোহার-নবাবগঞ্জ।”

“রনাংগনের স্মৃতি”

                                 ——-   আসাদুজ্জামান খান কামাল

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় চেতনা এবং শৌর্য বীর্যের প্রতীক। দীর্ঘ ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে সংযোজিত হয়েছে এক অধ্যায়ের, যার নাম বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের স্বল্প সময় অতিক্রান্ত হতে না হতেই আমরা ভুলে গেছিলাম আমাদের সেই গৌরবজ্জ্বল মুক্তির সংগ্রামকে, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং মূল্যবোধকে, ভুলে গেছিলাম আমাদের সর্বকালের সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে। আজ আমরা আবার তা ফিরিয়ে এনেছি , ফিরিয়ে এনেছি মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে, আমাদের নেতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রথমে আমাদের স্বাধীকার আন্দোলনের সূচনা হয়। পাকিস্থান হওয়ার পর বাঙ্গালী জাতি অনুধাবন করতে পারে যে, পৃথক সত্তা, পৃথক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের ধারক হওয়া সত্ত্বেও কেবলমাত্র ধর্মের নাম দিয়ে দুটি জাতি একত্রিত থাকতে পারে না। এই উপলব্ধি থেকেই ১৯৬৬ সালে ৬ দফা প্রনীত হয়। ৬ দফা ক্রমেই একটি জনদাবীতে পরিনত হয় এবং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে রুপ নেয়। ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯ সালে সর্বদলীয় ছাত্রদের ১১ দফা ভিত্তিক আরেকটি গন অভ্যত্থান সংগঠিত হয়। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এই গন অভ্যত্থানে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তখন বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আগরতলা মামলার আসামী হিসাবে কারাগারে ছিলেন। ১৯৭০ সালের গনভোটেও বঙ্গবন্ধুর প্রনীত ৬ দফা জনগনের ম্যান্ডেট লাভ করে। এবারও স্বৈরাচারী সরকার জনগনের মতামত এর প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাঙ্গালী জনগন। দখলদারী পাকিস্থানীদের আসন্ন আক্রমণের মনোভাব আঁচ করতে পেরেই ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের “ এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” এই ঘোষনা জাতিকে একটি সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য ঐক্যবদ্ধ করে। এরপর সবকিছু ঘটে যাক ছক বাধা নিয়মে। ২৫ মার্চ ১৯৭১ সাল রাত্রে হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র সাধারন মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে আবাল বৃদ্ধ বণিতা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

এরপর কর্নেল(অব) ওসমানীর নেতৃত্বে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। তিনটি পর্বে এই যুদ্ধ সম্পন্ন হয়। (১) প্রস্তুতি ও গনসংযোগ পর্ব, (২) আত্মরক্ষা ও হঠাট আক্রমন পর্ব, (৩)আক্রমন পর্ব- সারাদেশের মত দোহার থানার আবাল বৃদ্ধ, যুবা ঝাপিয়ে পড়েন এক গৌরবজ্জ্বল যুদ্ধে।

৭ই এপ্রিল আমরা ক্যাপ্টেন(অব) আব্দুল হালিম চৌধুরীর নেতৃত্বে সংগঠিত হয়। ১২ই এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় দোহারের সংযুক্ত মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের আজিমনগর গ্রামে। এ বৈঠকে আমার সংগে দোহারের সাইদুর রহমান(খোকা), বোরহান, শহীদ মাহফুজ, আব্দুর রঊফ, আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীর প্রমুখসহ ১২ জন উপস্থিত ছিলেন। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে গন সমর্থন আদায় করতে হবে। যুবকদের সংগঠিত করতে হবে, প্রবাসী সরকার ও মুক্তিযুদ্ধ এর কেন্দ্রীয় কমান্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে এবং যুবকদের জন্য প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সামরিক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ ঢাকা সদরের ২২টি থানার মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব দেয়া ২নং সেক্টর থেকে ক্যাপ্টেন(অব) আঃ হালিম চৌধুরীকে। তিনি যুদ্ধের মাঝামাঝি সময় তার একটি বিশেষ বাহিনীর নেতৃত্ব  এবং তার সাথে ২২টি থানার যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেন আমাকে। যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে হালিম চৌধুরী আমাদের হাতে কিছু রাইফেল তুলে দেন এবং মুক্তিযুদ্ধাদের কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত করে দেন। নারিশা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত নারিশা ইউনিয়ন, মুকসুদপুর ইউনিয়ন, শ্রীনগর থানায় সম্পূর্ন এবং ক্রমান্বয়ে মুন্সিগঞ্জের সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য আমাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তখন থেকেই শুরু হয় এ এলাকার মুক্তিযুদ্ধ।

দোহার থানার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে যার নাম সর্বাগ্রে আলোচনা করা প্রয়োজন তিনি হলেন শহীদ মাহফুজ(বীর প্রতীক)। অমীয় তেজ, অপরিসীম সাহসী যোদ্ধা মাহফুজ একদিনের জন্যও যুদ্ধ ময়দান ত্যাগ করেন নাই। যুদ্ধের প্রায় শেষ পর্যায় হরিরামপুরে শত্রুর বেতার স্থাপনায় আক্রমনের সময় তিনি অগ্নিদগ্ধ হন এবং পরে শাহাদাৎ বরন করেন। দোহার থানায় তিনি একমাত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। তার উল্লেখযোগ্য যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে সুতালহরীতে পাক সেনাদের সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ, মানিকগঞ্জে অতর্কিত আক্রমন, হরিরামপুর মুক্ত করার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মিলিশিয়া, ইপিআর, রাজাকার মিলে প্রায় শতাধিক পাক সৈন্যের সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে দুই জন পাঠান সেনা স্বপক্ষ ত্যাগ করে মুক্তিযোদ্ধাদের দলে যোগ দেন।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় নবাবগঞ্জ থানার ইছামতীর তীরের গালিমপুরে। বাঘড়ার হারুন এযুদ্ধে অসীম বীরত্বের পরিচয় দেয়। পাকসেনাদের গ্রুপ প্রধান ছিলেন ক্যাপ্টেন জাফর উল্লাহ্ খান। পাকিস্থানী পক্ষের ক্যাপ্টেন জাফর আলী এই যুদ্ধে নিহত হন।

যুদ্ধের কয়েকটি ঘটনা আমাকে এখনও বিশেষ ভাবে নাড়া দেয়। শহীদ মাহফুজ, বাঘড়ার নুরুল ইসলাম ও নারিশার আঃ সাত্তার, একেএম সিরাজ প্রথম বারের মতো আমাদের ঢাকা পশ্চিম অঞ্চলের জন্য অস্ত্র নিয়ে ভারত থেকে ফিরছিল। এ সময় পাকিস্থানী সৈন্যদের হাতে মারাত্মকভাবে আহত হন আলাউদ্দিন। যিনি মৃত্যুর আগেও নিজের জামা খুলে মুখে গুজে নিয়েছিল যাতে তার আত্মচিৎকারে পাকিস্থানী বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান চিহ্নিত করতে না পারে। আরও একজন মুক্তিযোদ্ধা তার রাজাকার পিতাকে মারার জন্য আমার কাছে এন্টি পারসোনাল মাইন চেয়েছিল।

যুদ্ধের সময় দুই একটি মজার ঘটনাও ঘটে। দোহার থানা শত্রু মুক্ত হওয়ার সময় আমরা নারিশায় পাকিস্থানী বাহিনীকে ঘেরাও করি এবং আক্রমণের চরম মুহুর্তে দেখা গেল তখনকার ইপিআরের এক সিপাহীকে দেখা গেল সে তার এলএমজি চালাচ্ছে না। সেই সিপাহীর কাছে গিয়ে দেখি সে ভয়ে কাপছে আর বলছে আমি তো অটোমেটিক ভুইল্লা গেছি। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাক বাহিনী চোখের নিমিষে নদীর তীরে চলে যায় এবং অবস্থান গ্রহন করে।

আর একদিনের ঘটনা, ঝিটকা ব্রীজের নিচ দিয়ে যাচ্ছিলাম, এসময় রাজাকাররা আমাদের নৌকা দেখে প্রশ্ন করে কে যায়? মাঝি প্রথমবার নিরুত্তর থাকে। এসময় রাজাকাররা আবার প্রশ্ন করে কে যায়? এবার মাঝি উত্তর দেয় বিপদ। রাজাকাররা আবার হাকে কে যায়, এবার মাঝি জোরে বলে উঠে “বিপদ”। এই শুনামাত্র রাজাকার ও পাকসেনারা উঠে দৌড় দেয়। ঘটনা ক্রমে মাঝির নামই ছিল “বিপদ”।

অনেকের নামই এখন মনে পড়ছে না। তবু যারা প্রথম থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং দোহার-নবাবগঞ্জ-শ্রীনগরে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন তারা হলেনঃ

১। সিরাজ মিয়া ২। সাইদুর রহমান খোকা ৩। আসাদুজ্জামান খান কামাল ৪। ডাঃ আবুল কালাম ৫। আঃ ছাত্তার ৬। আনিছ মাস্টার ৭। আব্দুল হাই ৮। আব্দুর রউফ ৯। আব্দুল মান্নান খান ১০। রজ্জ্বব আলী ১১। মুরুল ইসলাম খান ১২। গাজী সামছু উদ্দিন ১৩। কাজল ১৪। সুবেদ আলী টিপু ১৫। রাহাদ খান।

এছাড়াও যাদের নাম আমাদের এলাকার কারনে সব সময় মনে পড়ে তারা হলেন আব্দুর রঊফ, আমিন উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, খলিলুর রহমান, গাজী আলী ইমাম, আবুল হোসেন, সুলতান শিকদার, মনির হুসেন, বাবলু, নাসির, মিলু, ফেরদৌস, কুদ্দুস, লাবু ভাই, মঞ্জুর ভাই, জাহিদ, আতিক, হাসেম উল্লেখ্য। আমাদের মুক্তিবাহিনী ছাড়াও আমাদের এলাকায় আরো একটি রাজনৈতিক বাহিনী ছিল সুনিরমল সিংহ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএলএফ বাহিনী, একেএম সিরাজ, ডাঃ আব্দুর রহমান পাখি, শ্যামল, কেএম মান্নান, বেলাল হোসেনসহ আরো অনেকে ছিল এই বাহিনীতে। আরেকটি নাম আমার স্মৃতিতে বারবার ভেসে উঠে সে ভাগ্যকুলের নকুল। সে শ্রীনগরের যুদ্ধে অসীম সাহসীকতার পরিচয় দেয় এবং পরে আত্মহত্যা করে। মনে পড়ে সুবেদার ফখরুল ইসলামকে, মনে পড়ে অনেকের মুখ কিন্তু নাম মনে পড়ে না। তাই ক্ষমা চেয়ে নেই তাদের কাছে যাদের নাম তালিকায় আনতে পারলাম না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে আরো একজন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সামগ্রী দিয়ে। যার নাম ডাঃ আমানুর রহমান খান এবং তাকে সহযোগিতা করতেন আব্দুর সত্তার খান।

জাতি হিসাবে আমিরা অনেক আবেগ প্রবন ও ক্ষমাশীল ও শান্তি প্রিয়। তাই আমরা ভুলে যাই শত্রু-মিত্রের ভেদাভেদ, স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ ও পাকিস্থানীদের অত্যাচার অনাচার। এই কারনেই যুগে যুগে নুর হোসেনদের জন্ম গ্রহন করতে হয়। রাজপথে রক্ত দিতে হয় প্রয়োজনে। জয় বাংলা, জয় বংগবন্ধু।

মুক্তিযুদ্ধে নবাবগঞ্জের ইতিহাস

মহান মুক্তিযুদ্ধে নবাবগঞ্জর মুক্তি পাগল মানুষের রয়েছে অমর সাফল্য গাথা। যা আমোদের মুক্তিযুদ্ধকে সমৃদ্ধ করেছে। ১৯৭১ সালে ১লা এপ্রিল নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তৎকালীন গণ পরিষদ সদস্য আবু মোহাম্মদ সুবিদ আলী টিপুর নেতৃত্বে সর্বপ্রখম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে দিয়ে নবাবগঞ্জ বহুমূখি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (বর্তমান নবাবগঞ্জ পাইলট মডেল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ) বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।এটি ছিল উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন।

ওইদিন হাজারো মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য আবু মোহাম্মদ সুবেদ আলী টিপু মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে  কয়েক রাউন্ড গুলি ফোটানো হয়। সে সময় পকাতা উত্তোলন কালে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার বদিউজ্জামান বদি, শওকত হোসেন আঙ্গুর, আঃ বাতেন মিয়া, মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ আরও অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। নবাবগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতে গেলে যার নাম সর্বাগ্রে আসে তিনি হলেন আজিজুর রজমান ফকু। (ছাত্রজীবনে ’৫২র মহান ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন আজিজুর রজমান ফকু। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে প্রায় ৩০০ মুক্তিযোদ্ধাকে সংগঠিত করে আগরতলা পাঠিয়ে যুদ্ধের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় আড়িয়াল বিলের ৮৫ হাজার একর অনাবাদি জমি আবাদের জন্য আলমপুর-মদনখালী খাল কাটার ব্যবস্থা করেন তিনি। যার কারণে নবাবগঞ্জ, দোহার, শ্রীনগর, সিরাজদিখান থানার বিপুল পরিমাণ অনাবাদি জমি ইরি চাষের আওতায় আসে। কলেজ জীবনেই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সেই সুবাদে ১৯৬০ সালে হরগঙ্গা মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং ১৯৬৩ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময় বিএসসি পাস করে তিনি চূড়াইন (নবাবগঞ্জ) আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন এবং বিনা বেতনে ২ বছর ওই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য এবং একজন সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী। একই সঙ্গে চূড়াইন আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।)

পতাকা উত্তোলন, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আবু মোহাম্মদ সুবেদ আলী টিপু জানান, ১৯৭১ সনের ২৮ মার্চ রাতে  জাতীয় নেতা  তাজউদ্দিন আহমেদ  ও ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম কেরানীগঞ্জ হয়ে নবাবগঞ্জে আগলার টিকরপুর গ্রামে তার বাসায় রাত্রি যাপন করেন এবং তাকে দিক নিদের্শনা দেন। পরদিন  ভোরে সেখান থেকে বের হয়ে দোহার থানা হয়ে ফরিদপুর দিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়  তারা। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক পতাকা উত্তোলন করেন তিনি।

এই ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২৬ তারিখ থেকে কারফিউ জারি হয়। ২৭ তারিখ ২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল হলে আমরা কেরানীগঞ্জ চলে যাই। কেরানীগঞ্জে আমাদের সাবেক সংসদ সদস্য বোরহানউদ্দিন গগনের বাড়িতে আমরা আশ্রয় গ্রহণ করি। জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী সাহেব এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান সাহেব, মনি ভাই, সিরাজ ভাই, রাজ্জাক ভাই এবং আমিসহ স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।২৯ মার্চ কেরানীগঞ্জ থেকে দোহার-নবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া হয়ে এপ্রিলের ৪ তারিখ আমরা ভারতের মাটি স্পর্শ করি এবং সানি ভিলায় আশ্রয় নেই। এখানে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন-পরে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী-জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদ এবং ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধ সংঘঠিত হয়। নবাবগঞ্জে পাকসেনাদের প্রধান ক্যাম্প ছিল নাওপাড়া, গালিমপুর, চুড়াইন, আগলা। ১৯৭১ সনে আগলা, গালিমপুর, চুড়াইনে মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বড় এবং আলোচিত যুদ্ধসংগঠিতহয়। ১৯৭১ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর বিকাল ৪.০০ টার দিকে নদী পথে (ইছামিত) ঢাকা থেকে এম.এল পয়েন্টার নামক লঞ্চযোগে বিপুল সংখ্যক পাকসেনা নবাবগঞ্জ অভিমূখে আসার পথে গালিমপুর পৌছানোরসাথে সাথে আগে থেকে প্রস্ত্তত থাকা মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা তিন দিক থেকে লঞ্চ আক্রমন করে।  আক্রমনের সাথে সাথে লঞ্চের চালক দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে নদীর চরায় লঞ্চটি ঠেকিয়ে দেয়। শুরু হয় তিন দিক থেকে গুলি বর্ষন।তিন দিন যুদ্ধ চলার পর লঞ্চে থাকা ৪৫জন পাকসেনা সবাই নিহত হয়। ঐ দিন যুদ্ধে শহীদ হন বেনুখালীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহীম । ঐ যুদ্ধের কমান্ডার ছিলেন জনাব নাসির উদ্দিন খান এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন জনাব মোশারফ হোসেন খান। যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন নবাবগঞ্জ-দোহার এবং শ্রীনগরেরবীর মুক্তিযোদ্দারা। যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় ভারত থেকে আসা নবাবগঞ্জের কমান্ডার জনাব শওকত হোসেন (আঙ্গুর) ঐ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। পাকসেনাদের গ্রুপ প্রধান ছিলেন ক্যাপ্টেন জাফর উল্লাহ্ খান। তিনিও ঐ যুদ্ধে নিহত হন।

১৯৭১ সনে নভেম্বরে নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুলে পাকসেনাদের ক্যাম্প আক্রমন করা হয়। রোজার মাসে তারাবির নামাজের পরই মুক্তিযোদ্ধারা তিন দিক থেকে আক্রমন করে ক্যাম্পটি ধ্বংশ করেন এবং ১৭/১৮জন পাকসেনাদের হত্যা করেন। জীবিতদের কেঢাকা থেকে এসে পাকসেনারা নিয়ে যায়। এরপরই স্বাধীন হয় নবাবগঞ্জ উপজেলা।

বিক্রমপুরের সেই মৃত্যুঞ্জয়ী ক্রিকেটার ‘বীর বিক্রম’ আব্দুল হালিম চৌধুরী জুয়েল

0

মুক্তিযুদ্ধে আহত হবার পরে, শারীরিক কষ্ট ভুলে সাহসী এই কথাগুলো বলেছিলেন মাত্র ২১ বছর বয়সী এক তরুণ। স্বাধীন দেশে গর্ব করে অবশ্য এই কথাগুলো বলা হয়নি তাঁর। বলবেন কি করে! স্বাধীন মাতৃভূমি যে তিনি দেখে যেতেই পারেননি। স্বাধীনতার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই মুক্তিযুদ্ধে শুধুমাত্র তাঁর আঙ্গুলগুলোই শহীদ হয়নি। শহীদ হয়েছিলেন তিনি নিজেও। আমাদের জন্য একটি স্বাধীন দেশ এনে দেয়ার জন্যই শহীদ হয়েছিলেন তিনি। একটি মানচিত্রের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিলেন বুকের তাজা রক্ত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা অপারেশনে মারাত্মকভাবে আহত হবার পরেও এমন করে কেউ কথা বলতে পারে!”হেভি আরাম লাগতেছে। দেশের জন্যে রক্ত দেওয়াও হইল, আবার জানটাও রাখা হইলো। কইয়া বেড়াইতে পারুম দেশের জন্যে যুদ্ধ কইরা আঙ্গুল শহীদ হইছিলো। হা হা হা।” কিভাবে পারে! একমাত্র ক্র্যাক না হলে কেউ মনে হয় না এমন করে বলতে পারে। হ্যা, উনি তো ছিলেন পুরো দস্তুর ক্র্যাক! ছিলেন বিখ্যাত ক্র্যাক প্লাটুন এর গর্বিত গেরিলা যোদ্ধা। মাত্র ২১ বছরের টগবগে যুবক। নিজের ব্যক্তিগত স্বপ্ন দূরে ঠেলে দিয়ে লড়াই করেছেন একটি জাতির স্বপ্নের জন্য। একটি জাতির জন্য নিজের প্রাণটাকেও তুচ্ছ জ্ঞান করেছিলেন। আর আমরা তাঁদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়ে ফতোয়া জারি করি, খেলার সাথে রাজনীতি মিশাবেন না!

১৯৫০ সালের ১৮ই জানুয়ারি বাবা আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী এবং মা ফিরোজা বেগম এর ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছিল এক ছোট্ট দেব শিশু। সেদিন বিক্রমপুরের (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা) শ্রীনগরের দক্ষিন পাইকশা গ্রামে জন্ম নেয়া শিশুটা যেন দেশকে আলোকিত করার জন্যই এসেছিলেন। তিন ভাই আর চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পুরো নাম আব্দুল হালিম চৌধুরী। ডাক নাম জুয়েল। আমাদের শহীদ জুয়েল (বীর বিক্রম)। জন্ম বিক্রমপুরে হলেও শৈশব, কৈশোর, তারুণ্যের প্রতিটি সময় কাটিয়েছেন সেই সময়কার প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকাতেই। টিকাটুলির ৬/১ কে এম দাস লেনের পৈত্রিক বাড়িতেই বেড়ে উঠেছিলেন জুয়েল। একদম ছোট বেলা থেকেই তাঁর ধ্যান জ্ঞানে মিলে মিশে ছিল ক্রিকেট। যেখানেই ক্রিকেট সেখানেই জুয়েল। বাসার কাছাকাছিই ঢাকা স্টেডিয়াম। সুযোগ পেলেই ছুটে যেতেন স্টেডিয়ামে। শুধু ক্রিকেট খেলাটা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ক্রিকেটটা যে অন্য সবার চেয়ে একটু বেশিই ভালো খেলতেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী যে তিনি নিজেই, অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানেও যে তাঁর সমতুল্য খেলোয়াড় খুবই সামান্য। মধ্যবিত্ত পরিবারের এই ছেলেটির প্রথম ভালোবাসা ছিল এই ক্রিকেট। তাই তো প্র্যাকটিসে আসতেন সবার আগে আর ফিরতেন সবার শেষে। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে একজন ক্রিকেটার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। হুক, পুল, স্কয়ার কাট আর অফ ড্রাইভে তিনি ছিলেন তুখোড়। সবচেয়ে ভালো খেলতেন স্লগ সুইপ। ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম জুয়েল। উইকেটরক্ষক পরিচয়েও নিজের আলাদা অবস্থান গড়ে নিয়েছিলেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে আসেন তাঁরই বন্ধু শহীদ মোশতাক এর গড়া আজাদ বয়েজ ক্লাব এর হাত ধরে। ১৯৬৯ সালে যোগ দেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবেই ছিলেন তিনি।

13223613743_02429f9371_b

নিজের ছোট্ট ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৭ টি প্রথম-শ্রেনির ম্যাচ। ১৩ ইনিংসে ২১.৫৮ এভারেজে করেছেন ২৫৯ রান। অর্ধ শতক একটি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সেঞ্চুরি না পেলেও কারদার সামার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অবশ্য একটি সেঞ্চুরি আছে তাঁর। ১৯৬৬ সালের ২১শে মে ঢাকার হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন জুয়েল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ পিডব্লিউডি (পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট)। প্রথম ইনিংসে ৩৮ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ রানের ইনিংস খেলেন। এখানে উল্লেখ্য যে ৩৮ রানের সেই ইনিংসটাই ছিল ম্যাচের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। ফলাফল ম্যাচ ড্র। ১৯৬৬ সালের ৫ই অক্টোবর হায়দ্রাবাদের নিয়াজ স্টেডিয়ামে হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ইস্ট পাকিস্তান দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৪ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। এই ম্যাচটি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক দল জিতে নেয় পাঁচ উইকেটে। তাঁর সবচেয়ে সেরা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচটা ছিল ১৯৭১ সালের ১৫ই জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে। ইস্ট পাকিস্তান হোয়াইট এর হয়ে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে করেন ৪৭ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ রান। ঘরোয়া ক্রিকেট, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের পাশাপাশি জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যাম্পিয়নশিপেও খেলেছেন জুয়েল।

জুয়েলের ক্রিকেটের মহাকাব্য রচনার নাম ডাক শুধুমাত্র প্রাদেশিক ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পুরো পাকিস্তান জুড়েই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। যার ফলস্বরূপ ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান টেস্ট দলের ক্যাম্পেও ডাক আসে তাঁর। নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজে ছিলেন প্রাথমিক দলে। যথেষ্ট যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও টেস্ট দলে অবশ্য জায়গা হয়নি তাঁর।

ক্রিকেট খেলতে গিয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে তাঁকে ঘুরতে হয়েছে। সে সময়ই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্য রাজনৈতিক সচেতন জুয়েলের হৃদয়ে দারুণভাবে দাগ কেটেছিল। একটু একটু করে বুকের মধ্যে যে রাজনৈতিক বোধ সঞ্চার হতে থাকে, এক সময় তার বিস্ফোরণ ঘটে। যুক্ত ছিলেন ৬৯ এর গন আন্দোলনের সাথেও। সমাপ্তিটা নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে একটি স্বাধীন মাতৃভূমি এনে দেয়ার মাধ্যমে।

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ। ভয়াল এক কালো রাত্রি। পাকিস্তানি পশুরা মেতে উঠল ইতিহাসের নৃশংস গনহত্যায়। রাতের আঁধারে নিরস্ত্র নিরীহ বাঙ্গালির রক্ত পানে মেতে উঠল পাকিস্তানি জানোয়াররা। সেই রাতেই নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় আজাদ বয়েজ ক্লাবের সংগঠক মুশতাককে। ২৭ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা জেলা ক্রীড়া পরিষদের সামনে তাঁর মৃতদেহ পরে থাকে। দ্রোহের আগুন বুকের মধ্যে লালন করতেন আগে থেকেই। প্রিয় সঙ্গীর লাশ দেখে সেই আগুনটা যেন দাবানলে রূপ নিয়েছিল। মনে মনে শপথ নিয়েছিলেন, জীবন দিয়ে হলেও এই দেশ স্বাধীন করবেন। বন্ধুর রক্ত কখনোই বৃথা যেতে দিবেন না। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মায়ের তীব্র স্নেহের বন্ধন ছিন্ন করে যেন পালিয়ে যেতে পারছিলেন না। অবশেষে সেই বাঁধন আলগা করে ৩১ মে ঘর ছাড়লেন। যাবার আগে নিজের বাঁধাই করা একটি ছবি মায়ের হাতে তুলে দিয়ে বললেন, ‘আমি যখন থাকবো না, এই ছবিতেই আমাকে পাবে।’

এবার আর ২২ গজে ব্যাটে বলের লড়াই নয়। শত্রুর বিপক্ষে জীবন মরণ লড়াই। ক্রিকেট নিয়ে যে রকম সিরিয়াস ছিলেন দেশের জন্যে যুদ্ধক্ষেত্রেও একই রকম সিরিয়াস তিনি। গেরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং নিলেন দুই নাম্বার সেক্টরে। খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দারের তত্ত্বাবধায়নে ট্রেনিং সমাপ্ত করে ফিরলেন চিরচেনা ঢাকায়। সেরাদের জায়গা সবসময়ই সেরাদের কাতারে হয়ে থাকে। তাঁর ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম নয়। তিনি ছিলেন লিজেন্ডারি ক্র্যাক প্লাটুন এর গর্বিত গেরিলা। ঢাকার মধ্যে এই ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যরাই পাকিস্তানি হানাদারদের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ফেলেছিল। পুরো আগস্ট মাস জুড়ে তাঁদের গেরিলা আক্রমণে নাস্তানাবুদ পাকিস্তানি জানোয়াররা। শহীদ জুয়েল ছিলেন এই দলের সক্রিয় গেরিলা। বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমনে অংশ নেয় জুয়েল। যার মধ্যে ফার্মগেট অপারেশন অন্যতম। এই আক্রমনে ৬ জন পাকিস্তানি মিলিটারি পুলিশ এবং ৬ জন রাজাকার মারতে সমর্থ হয় জুয়েলরা।

৭ই আগস্ট ১৯৭১, সামাদের নিউ ইস্কাটনের বাসায় বসেই হামলার প্ল্যান করা হয়। অপারেশনের সময় নির্ধারন করা হয় রাত আটটা। আক্রমণে যাবে পাঁচ জনের একটি দল। গাড়ি চালকের আসনে সামাদ। আর বাকি সদস্যরা হলেন- জুয়েল, বদিউল আলম, পুলু এবং স্বপন। সবার হাতেই স্টেনগান, আলমের হাতে চাইনিজ এলএমজি। অতিরিক্ত অস্ত্রের মধ্যে সামাদের কাছে একটি রিভালবার, জুয়েল আর পুলুর কাছে ফসফরাস গ্রেনেড এবং গ্রেনেড – ৩৬। নির্দিষ্ট সময়ে ফার্মগেট চেক পয়েন্টের কাছে এসে থামল সবুজ রঙের টয়োটা করোনা গাড়িটি। মুহূর্তের মধ্যে নেমে এল চার গেরিলা। ঘড়ির কাঁটায় পুরো এক মিনিট চলল ব্রাশ ফায়ার। সাথে গ্রেনেড এর বিস্ফোরণ। নিমিষের মধ্যেই চেকপোস্টের রাজাকার আর মিলিটারি পুলিশের দেহগুলো নিথর হয়ে পরে রইল।

ঢাকা এবং আশেপাশের পাওয়ার ষ্টেশন ধ্বংস করার দায়িত্ব ছিল ক্র্যাক প্লাটুন এর উপরে। যে কাজটা অত্যন্ত দক্ষতার সাথেই পূর্ণ করেছিলেন তারা। গুলবাগ পাওয়ার ষ্টেশন উড়িয়ে দেয়ার অপারেশনে ছিলেন জুয়েল। এই অপারেশনে জুয়েলের সঙ্গী ছিলেন পুলু, সাইদ, হানিফ, মুখতার, মোমিন, মালেক এবং বাশার।

জুয়েলের শেষ অপারেশন ছিল ১৯ শে আগস্ট। এই দিন সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশন উড়িয়ে দেয়ার কথা ছিল। এই হামলায় গুরুত্বর আহত হন তিনি। দুইটি নৌকা করে আক্রমণে ক্র্যাক প্লাটুন। প্রথম নৌকায় কাজী কামাল, জুয়েল, বদিউল আলম, পুলু। দ্বিতীয় নৌকায় রুমি, ইব্রাহিম, জিয়া আর আজাদ। জুয়েলদের প্রথম নৌকা একটি মিলিটারি ভরা নৌকার মুখোমুখি হয়ে যায়। সবার অস্ত্র নৌকার পাটাতনে লুকিয়া রাখলেও, বদির স্টেনগান তাঁর কোলের উপরই ছিল। মিলিটারি দেখা মাত্রই বদি তড়িৎ রিএক্ট করেন। বদির ব্রাশ ফায়ার এর সামনে পাকিস্তানিরা টিকতে পারেনি। হানাদাররা পাল্টা গুলি করলেও তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ক্র্যাক প্লাটুনের কেউ নিহত না হলেও জুয়েলের হাতে গুলি লাগে। তিনটি আঙ্গুল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত জুয়েলকে নিয়ে ফিরে আসে গেরিলারা। জুয়েলের কষ্টে সবাই শোকে নিমজ্জিত থাকলেও, ব্যাথা নিয়েই উজ্জীবিত জুয়েল। সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “হেভি আরাম লাগতেছে। দেশের জন্যে রক্ত দেওয়াও হইল, আবার জানটাও রাখা হইলো। কইয়া বেড়াইতে পারুম দেশের জন্যে যুদ্ধ কইরা আঙুল শহীদ হইছিলো। হা হা হা।” আহত জুয়েলকে চিকিৎসার জন্য মগবাজারে একটি বাড়িতে রাখা হয়। স্বপ্ন সারথি এই মানুষটি তখনো স্বপ্ন দেখতেন একদিন স্বাধীন বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেট খেলবেন। তবে সেই স্বপ্নটি তাঁর পূর্ণ হয়নি। ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট ক্র্যাক প্লাটুনের অধিকাংশ সদস্যদের সাথে তাকেও ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদাররা। পাকিস্তানি ক্যাম্পে তাঁদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। ৩১ আগস্টের পর তাঁর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি।

তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এই দেশ একদিন স্বাধীন হবে। সেই স্বপ্নটা তাঁর পূর্ণ হয়েছে। তাঁর নিজের রক্তের বিনিময়ে এই দেশটাকে স্বাধীন করেই গিয়েছিলেন। শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেটটাই খেলা হল না তাঁর। কিন্তু আজকে তাঁর হয়েই যে মাঠে নামছে আমাদের বাংলার বাঘরা। শহীদ জুয়েলের আত্মত্যাগের বিনিময়েই যে আজ আমরা স্বাধীন দেশের হয়ে ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছি। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রিকেটার এর মাঝেই যে রয়েছেন তিনি। আব্দুল হালিম চৌধুরী জুয়েল একজন ক্রিকেটার এবং গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা হয়েই চিরকাল বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধে অসীম বীরত্বের কারণে আব্দুল হালিম চৌধুরী জুয়েলকে মরণোত্তর ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করেন। ১৯৯৭ সালে তাঁকে ক্রিকেটে মরণোত্তর ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’ দেওয়া হয়। মিরপুর শের-এ-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাঁর নামে একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়। এছাড়াও প্রতি বছর শহীদ জুয়েল একাদশ এবং শহীদ মুশতাক একাদশ-এর মধ্যে প্রদর্শনী ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করে থাকে বিসিবি। দেশের জন্য তিনি যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা ইতিহাসের পাতায় অমলিন হয়ে থাকবে।