মোনেম মুন্না: স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া তারকা

0

Prakash Nath:সত্তর ও আশির দশককে বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলা চলে। সেসময়ের বাংলাদেশ ফুটবল লীগের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল আবাহনী ও মোহামেডানের দ্বৈরথ দেখার জন্য খেলার মাঠের গ্যালারিগুলো যেমন ছিল দর্শকদের ভিড়ে পরিপূর্ণ, ঠিক তেমনি এই খেলার রেডিও ধারাবিবরণী এবং পরবর্তীতে টিভি পর্দায় সেই খেলার সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় মানুষের ঔৎসুক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ৯০ মিনিটের সেই খেলার জন্য সারা বাংলাদেশ তখন থমকে যেতো। বাংলাদেশের মানুষ আবাহনী ও মোহামেডান এই দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়তো।

এই খেলার জন্য দেশের মানুষ এতটাই আবেগতাড়িত হয়ে পড়তো যে, পছন্দের দল না জিতলে বিপক্ষ দলের সমর্কদের সাথে হাতাহাতি থেকে শুরু করে অনেক সময় রীতিমতো ভয়ঙ্কর ধরনের সংঘাতে রূপ নিতো। মানুষ এতটাই ফুটবল অনুরাগী ছিল যে কথিত রয়েছে, সেসময় নাকি কোনো কট্টর আবাহনী সমর্থকের মেয়ের সাথে কোনো কট্টর মোহামেডান সমর্থকের ছেলের বিয়ে কল্পনাই করা যেত না।

তখনকার ফুটবল মাঠে একটা গল্প বেশ প্রচলিত ছিল। এক ফুটবল পাগল ভক্ত প্রথম ঢাকায় এসে প্রিয় দলের খেলা আছে জেনে কষ্টেসৃষ্টে একটি টিকিট জোগাড় করে ঢুকে পড়লেন গ্যালারিতে। কিন্ত তিনি জানতেন না যে, তিনি যে গ্যালারিতে বসেছেন সেটি ছিল বিপক্ষ দলের সমর্থকে পরিপূর্ণ। খেলা শুরু হওয়ার পর খেলা এগিয়ে চলছে। এর মধ্যেই তার পছন্দের দলটি গোল করে বসেছে। প্রিয় দলের গোলে তিনি খুশি চেপে রাখতে না পেরে চিৎকার করে উঠলেন। ব্যস! শুরু হয়ে গেলো ধুন্ধুমার কান্ড। সেসময়ে ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের পাগলামি এমনই তীব্র ছিল।

সোনালী যুগের সেসব তারকাখ্যাত ফুটবলাররা; ‍Source: prothomalo.com

হবেই না বা কেন? সেসময় বাংলাদেশের ফুটবলে সালাউদ্দিন, চুন্নু, বাদল রায়, সাব্বির, কায়সার, কানন, ওয়াসিম, রুমি, আসলাম, মহসিনদের মতো কত অসাধারণ সব ফুটবল প্রতিভার জন্ম হয়েছিল, তার ইয়ত্তা নেই। বাংলাদেশের এমনই এক ফুটবল প্রতিভার গল্প শোনাবো আজ, যার খেলা দেখে একসময়ের বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জার্মান কোচ অটো ফিস্টার বলেছিলেন, “He was mistakenly born in Bangladesh”। বাংলাদেশে জন্ম হওয়ায় বহির্বিশ্ব যার প্রতিভার স্ফূরণ দেখতে পারলো না বলে কোচের আক্ষেপ যে ফুটবলারকে নিয়ে, তিনি একসময় বাংলাদেশের ফুটবলের রক্ষণসেনা হয়ে মাঠকাঁপানো এক অনন্য দৃঢ় চরিত্রের ফুটবলার মোনেম মুন্না। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সেরা ডিফেন্ডারদের একজন বলে গণ্য করা হয় তাকে। তার হাত ধরে ফুটবলের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ পেয়েছিল একাধিক সাফল্য।

মোনেম মুন্না; ‍Source: prothomalo.com

১৯৬৮ সালের ৯ জুন নারায়ণগঞ্জে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকে ফুটবলের প্রতি ছিল তার ভীষণ ঝোঁক। খেলতেনও বেশ ভাল। ১৯৮০-৮১ সালে পায়োনিয়ার ডিভিশনে গুলশান ক্লাবের হয়ে নাম লেখান, আর এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতামূল ফুটবলে মুন্নার অভিষেক ঘটে। পরের বছর যোগ দেন দ্বিতীয় বিভাগের দল শান্তিনগরে।

মুন্না প্রথম নজর কাড়েন বাংলাদেশের জাতীয় দলের বিরুদ্ধে এক প্রীতি ম্যাচে অংশ নিয়ে। নারায়ণগঞ্জের জেলা দলের হয়ে সেই ম্যাচে মুন্না নজরকাড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। তার খেলা দেখে জাতীয় দলের সিনিয়র ফুটবলাররা মুগ্ধ হয়ে যান। সেসময় মুন্নার বয়স ছিল মাত্র ১৪। খেলা শেষে সেসময়ের বাফুফের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বীকার করেন যে, এই বয়সেই এই ছেলে জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা রাখে।

এক অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের সতীর্থদের সাথে মুন্না; ‍Source: prothomalo.com

১৯৮৩ সালে দ্বিতীয় বিভাগের দল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মুন্নাকে দলে নেয়। এ বছরই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দ্বিতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম বিভাগে উঠে আসে। ১৯৮৪-৮৫ এই দুই মৌসুম মুন্না প্রথম বিভাগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। ১৯৮৬ সালে এক মৌসুমের জন্য চলে যান ব্রাদার্স ইউনিয়নে। সে সময়ে ব্রাদার্সের হয়ে তার দুরন্ত পারফরম্যান্সের কারণে নজরে পড়ে যান আবাহনীর কর্মকর্তাদের। ফলে ১৯৮৭ সালে যোগ দেন ঢাকার ফুটবল ক্লাবের অন্যতম এক পরাশক্তি আবাহনী ক্রীড়া চক্রে।

এ সময় আবাহনীর হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছিলেন আশরাফ উদ্দিন চুন্নু, গোলাম রাব্বানী হেলাল, আসলামের মতো তুখোড় সব ফুটবলাররা। সেসব অভিজ্ঞ ফুটবলারের পাশে তরুণ মুন্না তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে  নিজের জায়গা করে নিতে সক্ষম হন। এরপর তিনি আর কখনো দল পরিবর্তন করেননি। আবাহনীই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। এই দলের হয়ে পার করে দেন তার পুরো ফুটবল ক্যারিয়ার। আমৃত্যু জড়িয়ে ছিলেন এই দলের সাথেই। আবাহনীর ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

আবাহনীর জার্সিতে মাঠ কাঁপানো মোনেম মুন্না; ‍Source: prothomalo.com

১৯৯১ সালে দলবদলে মুন্না আবাহনীর হয়ে রেকর্ড পরিমাণ পারিশ্রমিক পান, যা ছিল সেসময়ে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক অনন্য রেকর্ড। আবাহনীর হয়ে তার ফুটবল ক্যারিয়ারে দলকে পাঁচবার ঢাকা লীগ এবং তিনবার ফেডারেশন কাপের শিরোপা জেতাতে সক্ষম হন। ১৯৯০ সালে যখন আবাহনীর সব ফুটবলার চড়া দামে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে নাম লেখায়, তখন দলের প্রতি ভালোবাসায় একাই আবাহনীতে থেকে যান মুন্না। সে বছরেই একদল তরুণ ফুটবলারদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে লীগ শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেন।

১৯৯১ সালে রেকর্ড পরিমাণ পারিশ্রমিক পাওয়ায় চারদিকে সাড়া পড়ে যাওয়া মুন্নাকে নিয়ে ‘বিচিত্রা’র প্রচ্ছদ ; ‍Source: kalerkantho.com

আবাহনীর হয়ে বাংলাদেশের ফুটবল লীগে দাপটের সাথে খেলতে খেলতে মুন্না নাম লেখান ভারতের অন্যতম স্বনামধন্য ফুটবল ক্লাব ইস্টবেঙ্গলে। ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সালে কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাব ইস্ট বেঙ্গল বিদেশী কোটায় তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে। শুধুমাত্র দুই মৌসুম এই দলের হয়ে খেলেছিলেন এবং এই সময়ে দলকে লীগ শিরোপা ও ফেডারেশন কাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মুন্না। এই সময় ইস্টবেঙ্গল সমর্থক এবং ফুটবলপ্রিয় বাঙালিদের মন জয় করে নিতে সক্ষম হন। তার অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য ইস্টবেঙ্গলের তখনকার কর্মকর্তারা স্বীকার করেছিলেন, “মুন্না একজন শক্তিশালী ডিফেন্ডার, যিনি একজন দারুণ ট্যাকলার এবং হেডার”। তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইস্টবেঙ্গলের একসময়ের ক্লাব অফিশিয়াল দেবব্রত সরকার বলেছিলেন, “এই উপমহাদেশে মুন্নার মতো দ্বিতীয় আর একজন জন্মাবে না”। কলকাতায় মাত্র দুই মৌসুম খেলেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন এই কিংবদন্তী। ভারতে বাংলাদেশের ফুটবলের এক অনবদ্য বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছিলেন মোনেম মুন্না। তাই তো, ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের ‘হল অব ফেম’-এ মোনেম মুন্নাকে জায়গা দিতে দুবার চিন্তা করতে হয়নি ক্লাবটিকে।

আবাহনীর সেসময়ের তারকা ফুটবলারদের সাথে কিংবদন্তী মোনেম মুন্না; ‍Source: somewhereinblog.net

মুন্না বিভিন্ন দলের হয়ে খেলার সময় ডিফেন্ডার হিসেবে স্টপার পজিশনই ছিল তার পছন্দের জায়গা। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়ে তৎকালীন ইস্টবেঙ্গল কোচ নাইমুদ্দিন তাকে খেলান লিবেরো বা সুইপার পজিশনে। এই পজিশনে খেলতে হলে একজন ফুটবলারকে শক্তিশালী, দারুণ ট্যাকলারে এবং লং পাসে দক্ষ হতে হয়। মুন্নার প্রতি কোচের প্রচন্ড আস্থা থাকায় তিনি মুন্নাকে ডিফেন্স লাইনের নিচে অনেকটা ফ্রি রোলে খেলার সুযোগ করে দেন। এর ফলে প্রতিপক্ষের আক্রমণকে প্রতিহত করা, ডিফেন্স লাইনের ভুলে বিপক্ষ দলের কাছে চলে যাওয়া বলকে ত্বরিত গতিতে ‘ক্লিয়ার’ করা এবং সুযোগ পেলে লং পাসে সতীর্থদের প্রতি আক্রমণে সাহায্য করার মতো গুরুদায়িত্বের ভার কোচ মুন্নার ওপর অর্পন করেন। মুন্না তার কোচের সেই আস্থার মর্যাদা দিয়েছিলেন। এই পজিশনেও মুন্না ছিলেন বেশ সাবলীল।

ইষ্টবেঙ্গলে খেলাকালীন এক হোটেলে সতীর্থদের সাথে মুন্না; ‍Source: kironsportsdesk.com

১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে অংশ গ্রহণের জন্য প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পান। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। দুয়েকবার ইনজুরির কারণে দল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা সরিয়ে রাখলে অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত টানা এগারো বছর তিনি ছিলেন জাতীয় দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সদস্য।

১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবার মাঠে মোনেম মুন্না; ‍Source: prothomalo.com

১৯৯০ সালে বেইজিং এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন মুন্না। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারে চার জাতি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সেই প্রতিযোগিতায় মুন্নার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কোনো শিরোপা জয় করে। টুর্নামেন্টে দলনেতা এবং ফুটবলার হিসেবে মুন্নার পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসার দাবিদার। সে বছর তার নেতৃত্বে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দল রানার আপ হয়।

১৯৯০ বেইজিং এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়া মোনেম মুন্না; ‍Source: prothomalo.com

জনপ্রিয়তা এবং পারফরম্যান্সের জন্য নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় কর্পোরেট বাণিজ্যের প্রধান আইকন হয়ে ওঠেন মোনেম মুন্না। বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার ১৯৯৬ সালে মুন্নাকে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড প্রতিনিধি হিসেবে সম্মানিত করে।

১৯৯৭ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেয়ার পর ম্যানেজার হিসেবে প্রিয় ক্লাব আবাহনীর ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৯৯ সালে তিনি কিডনী রোগে আক্রান্ত হন। ২০০০ সালে কিডনী প্রতিস্থাপনের পর বেশ কিছুদিন বেঁচে ছিলেন। কিন্তু ২০০৪ সালে তার দেহে ক্ষতিকর ভাইরাস ধরা পড়ে। ২০০৫ সালের ২৬ জানুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশ ফুটবলের আইকন মোনেম মুন্না। তখনও পর্যন্ত তিনি ম্যানেজার হিসেবে আবাহনী দলের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন।

১৯৯৭ সালে আবাহনী দলের সঙ্গে, চীনের মাঠে; ‍Source: prothomalo.com

মোনেম মুন্না আজও বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নাম। পরিশ্রমী এবং আত্মপ্রত্যয়ী ফুটবলার হিসেবে ছিলেন অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। নিজের প্রতি তার এমনই বিশ্বাস ছিল যে, তিনি বিশ্বাস করতেন, তাকে ড্রিবল করে কিংবা পরাস্ত করে কোনো স্ট্রাইকার পার হতে পারবে না। তার শক্তিশালী ট্যাকলের স্বাদ পায়নি, এমন ফরোয়ার্ড পাওয়া ঢাকার মাঠে খুবই দুষ্কর। নৈপুণ্য দিয়ে শুধু মাঠ মাতিয়ে রাখাই নয়, একইসাথে দক্ষ নেতৃত্ব এবং দুর্দান্ত পেশাদারিত্বের এক জ্বলন্ত উদাহরণ ছিলেন মোনেম মুন্না। আর তাই এই উপমহাদেশের জনপ্রিয় ফুটবল আইকনে পরিণত হয়েছিলেন। ক্রীড়ামোদীরা তাই ভালবেসে তাকে ‘কিং ব্যাক’ হিসেবে সম্মানিত করেছিল।

মুন্নার স্মরণে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মোনেম মুন্না সেতু; ‍Source: kalerkantho.com

এই উপমহাদেশের ফুটবল ইতিহাসে ডিফেন্ডার হিসেবে মুন্না যে উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তেমনটি আর কেউ পারেননি। মাঠের মধ্যে নিজের ওপর কত বিশ্বাস এবং প্রভাব থাকলে একজন ফুটবলার এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন, তা বোঝার জন্য কোনো জ্যোতিষীর দরকার পড়ে না।

ফিচার ছবি: prothomalo.com

source: Roar Bangla

আগামী বছরের বিজয়ের মাসে নৌকাকে আবার বিজয়ী করুনঃ নির্মল গুহ

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেছেন, আগামী বছরের বিজয়ের মাসে নৌকাকে আবার বিজয়ী করুন। এ নির্বাচন হবে উন্নয়ন আর স্বাধীনতার চেতনা ধরে রাখার নির্বাচন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন স্থবির হয়ে যাবে, দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাই জ্বালাও পোড়াও মানুষ হত্যাকারীদের এদেশের জনগণ আর কোন দিনই ভোট দেবে না।

গত শনিবার বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম (আসাফো) আয়োজিত মহান বিজয় দিবস -২০১৭ আলোচনা সভাউ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কর্ণেল(অবঃ) ফারুক খান এমপি। এ সময় ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম শিপলু অনুষ্ঠান সহ-সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন।

দোহার দশ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হবে নাঃ মাহবুবুর রহমান

নতুন বছরে বড় ধরনের কোনো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছাড়া দোহার দশ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হবে না। পর্যায়ক্রমে পরের বছর নবাবগঞ্জেও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। শুক্রবার তিনি মইতপাড়ায় এক জনসমাবেশে এই কথা বলেন।

গতকাল শুক্রবার ঢাকার দোহার উপজেলার মইতপাড়া ড্যাফোডিলস হাই স্কুলে জেলা পরিষদের অর্থায়নে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বার্ষিক ফল প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  মাহবুবুর রহমান আরো বলেন, ঢাকা জেলা পরিষদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ঢাকা জেলার দোহার,নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার, ধামরাই উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ থাকার ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকা জেলা থেকে লোডশেডিং বিলুপ্ত করার ঘোষনা দেন। ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বজলুর রহমান কামাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আল-মামুন, জেলা পরিষদের সদস্য মো. শাহজাহান মোল্লা, মুকসুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ হান্নান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাহুল দাস প্রমুখ।

এশিয়ার শীর্ষ ৩০ কোম্পানির মধ্যে বাংলাদেশ

0

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসা ও প্রযুক্তি বিষয়ক ম্যাগাজিন দ্য সিলিকন রিভিউ ২০১৭ সালে এশিয়াতে দ্রুত বর্ধনশীল ৩০টি সফটওয়্যার কোম্পানির তালিকা করেছে। ওই তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ ভিত্তিক প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পিএমস্প্যায়ার। ওই তালিকায় ২৩ নম্বরে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটি।

এর প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। ওই পিএমস্প্যায়ার সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি সফটওয়্যার কোম্পানি, ইলেকট্রনিক সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস বা ই–লার্নিং কোম্পানি বাংলাদেশ, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে বৈশ্বিক অফিস রয়েছে।

২০১৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে পিএমস্প্যায়ার ব্যবহার করে প্রকল্প ব্যবস্থাপকেরা পরীক্ষা পাশ করে সনদ নিয়ে বিশ্বের স্বনামধন্য প্রজেক্ট ম্যানেজার বা প্রকল্প ব্যবস্থাপকদের কাতারে উঠে আসবে।

পিএমঅ্যাস্পায়ার ছাড়া তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে—সিএডিডি সেন্টার, পিটিটি পিএলসি, সিবিএক্স সফটওয়্যার, টিউডিপ টেকনোলজিস, ফিউরানো সফটওয়্যার, ইনফোডারট টেকনোলজিস ইন্ডিয়া, রোলিং অ্যারিস কনসালটেন্সি, জি৮এডুকেশন, ড্রুম ডটইন, মেডভার্সিটি অনলাইন, পেপয়েন্ট, মিন্ডা, টুইগ সফটওয়্যার সলুশন, সেপটেস সফটওয়্যার, ইলেকট্রিনক পেমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস, নেটস্কোর টেকনোলজিস, থ্যাংকইউ গ্রুপ, হোয়াইটস্কাই ল্যাবস, রেডবোল্ট, নিয়ারেক্স পিটিই, অ্যাপঅর্কিড ইনকরপোরেশন, ব্লুব্রিকস, আয়ানা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, ইট্রেইন এডুকেশন প্রাইভেট লিমিটেড, অ্যানালাইটিকস সেভস অ্যাট ওয়ার্ক ইন্ডিয়া, র‍্যাপিড ডেলিভারি, মিটিগেট কমপ্লাইন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, ক্রেসকো ডাটা, সাতরোটা কনসালেটক।

সিলিকন রিভিউ সাময়িকীতে আবদুল্লাহ আল মামুনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি পিএমস্প্যায়ার তৈরি ও তাঁর মূল কাজের জায়গাগুলো বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বের মধ্যে অন্যতম প্রজেক্ট ম্যানেজম্যান্টের প্রশিক্ষণ সাইট পিএমস্প্যায়ার।ক্লাউড প্রযুক্তিতে সফটওয়্যার হিসেবে এটি অন্যতম পথ প্রদর্শক উদ্যোগ।

১০০টিরও বেশি দেশে ১০টির বেশি পিএমআই চ্যাপ্টার, ৬০টির বেশি পিএমআই নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ২০ হাজারের বেশি প্রকল্প ব্যবস্থাপককে সেবা দিচ্ছে। সহজ ও ব্যবহারবান্ধব সফটওয়্যারের মাধ্যমে তিনি এ সেবাটিকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন।

নবাবগঞ্জের বক্সনগরে কবর থেকে লাশ চুরি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নে কবর থেকে লাশ চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বক্সনগর ইউনিয়নের শুরগঞ্জ জেলেপাড়া গ্রামের নিমচাঁন রাজবংশী নামে এ বৃদ্ধের লাশ কবর থেকে চুরি হয়েছে।  এই ঘটনায় নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিমচাঁনের স্ত্রী ফুলমালা রাজবংশী জানান, গত ১৪ মে ১০৫ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান তার স্বামী। সনাতন ধর্মমতে দাহ প্রথা প্রচলন থাকলেও নিমচাঁনের ইচ্ছা অনুযায়ী বাড়ির উঠানে তাকে সমাহিত করা হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কবর খুঁড়ে লাশ নিয়ে যায়।

ঘটনা গত কয়েকদিন গোপন থাকলেও সোমবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান। এ ব্যাপারে নিমচাঁনের নাতি উজ্জল রাজবংশী নবাবগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বড়দিন উপলক্ষে সালমা ইসলামের শুভেচ্ছা ও কেক প্রদান

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রতিটি গির্জায় কেক পাঠিয়েছেন সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম এমপি। রোববার সন্ধ্যায় সালমা ইসলামের পক্ষে তার প্রতিনিধি জাতীয় পার্টির নেতারা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে গির্জাগুলোয় উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা ও কেক পৌঁছে দেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ জপমালা রানীর গির্জা, গোল্লা সাধু ফ্রান্সিস জেভিয়ার গির্জা, তুইতাল পবিত্র আত্মার গির্জা, বক্সনগর সাধু আন্তুনীর গির্জা ও সোনাবাজু গির্জায় ৫টি কেক উপহার দেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। এ সময় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সংসদ সদস্য সালমা ইসলামকে তার দলের নেতাদের মাধ্যমে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
নেতারা বলেন, সালমা ইসলাম সব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে আছেন। আগামী দিনেও থাকবেন। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বড়দিন পালনে এমপি মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে বলে তারা আশ্বস্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, ঢাকা জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর চোকদার, একেএম আবদুল হালিম, মো. খলিলুর রহমান, এমএম ওসমানী হেন্টু, এমএ মজিদ, পলাশ রোজারিও, আবদুস সালাম, আতাহার আলী, আবদুল মালেক, কিরন খান, মিজানুর রহমান, খলিল দেওয়ান প্রমুখ।

‘ভাগ্য খুলছে’ আ’লীগের যে সাবেক ৪০ এমপির: খুলছে মান্নান খানেরও

0

নেত্রীর নির্দেশনা মেনে ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং মাঠ জরিপে এগিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের ৪০ জন সাবেক সংসদ সদস্যের (এমপি) ভাগ্য খুলছে। ইতিমধ্যে দলীয় হাইকমান্ডের কাছে তাদের ‘আমলনামা’ জমা পড়েছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাও তাদের মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে ‘ইতিবাচক’।দলের একাধিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে তারা কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কারণ রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রে ‍জানা গেছে, রাজনীতির নানা হিসেব-নিকাশে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন ৫০ জন নেতাকে মনোনয়ন দেয়া সম্ভব হয়নি।(দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বর্জন, মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানানোসহ নানা রাজনৈতিক হিসেব নিকাশে মনোনয়ন নিশ্চিত এমন ৫০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এরমধ্যে প্রায় ৪০ জনের ভাগ্য খুলবে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে তাদের আমলনামা জমা হয়েছে। দলীয় প্রধানও তাদের মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে ‘ইতিবাচক’।

তবে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে চায় আওয়ামী লীগ। এজন্য সব আসনে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন করে সংসদ গঠন হয় এমন সংখ্যক সদস্যের জয় নিশ্চিত করতে চায় তারা। আর এজন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে শরীকদের কিছু ছাড় দিয়ে বাকি সব আসনে দলটি প্রার্থী দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে।ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী একটি মহল বলছে, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য শরিক ও দলকে কিছু আসন গত নির্বাচনে ছাড় দেয়া হয়েছিল। আগামী নির্বাচনে এমনটি হবে না। সব জায়গায় বাছাই করে জনপ্রিয় প্রার্থী দেয়া হবে। সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করাই এখন আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।আওয়ামী লীগের এমন রোডম্যাপ অনুযায়ী, ভাগ্য খুলছে অন্তত সাবেক ৪০ এমপির। এরা ২০০৯ সালে প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০১৪ সালের ‘সমঝোতা’র নির্বাচনে বাদ পড়েছিলেন। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে পাস করেছেন পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন এমন কিছু সদস্যও ওই তালিকায় রয়েছেন।

এসব এমপি হলেন- নীলফামারী-৪ আসনে কর্নেল (অব.) এএ মারুফ সাকলান, কুড়িগ্রাম-২ মো. জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৪ জাকির হোসেন, নওগাঁ-৩ আকরাম হোসেন চৌধুরী বা ছলিম উদ্দীন তরফদার, কুষ্টিয়া-১ আফাজ উদ্দিন আহমেদ বা রেজাউল হক চৌধুরী, ঝিনাইদহ-২ সফিকুল ইসলাম বা তাহজীব আলম সিদ্দিকী, পটুয়াখালি-১ শাহজাহান মিয়া অথবা আফজাল হোসেন, জামালপুর-৪ মুরাদ হাসান, ময়মনসিংহ-৪ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ কেএম খালিদ, ময়মনসিংহ-৭ রেজা আলী, ময়মনসিংহ-৮ আবদুছ ছাত্তার, ঢাকা-১ আবদুল মান্নান খান, ঢাকা-৪ সানজিদা খানম, ঢাকা-৭ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, নরসিংদী-২ আনোয়ারুল আশরাফ খান বা কামরুল আশরাফ খান, নারসিংদী-৩ জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আব্দুল্লাহ-আল-কায়সার, ফরিদপুর-৪ কাজি জাফল উল্যাহ বা নিলুফার জাফর উল্যাহ, সুনামগঞ্জ-৪ মতিউর রহমান, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৫ হাফিজ আহমেদ মজুমদার, কুমিল্লা-৪ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, কুমিল্লা-৮ নাছিমুল আলম বা এনামুল হক, কক্সবাজার-১ সালাহ উদ্দিন আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-২ হারুনুর রশিদ, কিশোরগঞ্জ-৩ নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ, হবিগঞ্জ-১ আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া ও কুমিল্লা-২ অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এসব আসনের প্রার্থীরা নেত্রী নির্দেশনা মেনেছেন এবং তার কাছে নিজেদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মাঠ জরিপেও তারা এগিয়ে আছেন।এছাড়া চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-৫, ঢাকা-৬, কুড়িগ্রাম-১, কুড়িগ্রাম-৩, বগুড়া-২, বগুড়া-৩, বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, বরিশাল-৬ ও ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-২ আসনে প্রার্থীর নাম উঠে না আসলেও এসব আসনেও শক্তিশালী প্রার্থী দেয়ার কথা ভাবছে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে দল জরিপও চালাচ্ছে।এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, গত নির্বাচনে নানা ইকুয়েশনে (হিসেব-নিকেশ) প্রায় ৪০/৪৫ জন সাবেক এমপি বা এমপি হওয়ার মত ভালো প্রার্থী বাদ পড়েছেন। এবার তাদের বিষয়টি দলের বিবেচনায় আছে।তিনি বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন আওয়ামী লীগের টার্গেট। এজন্য নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ও নির্বাচিত হওয়ার মত যোগ্যদের মনোনয়ন দেয়া হবে।

কারণ হিসেবে সূত্রটি জানায়, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হওয়ায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। তাই মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি (জাপা) বিরোধী দল করে ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ।এজন্য নির্বাচনে অনেক আসনে জাপার প্রার্থীর বিপরীতে নিজেদের প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। কোথাও নিজেদের প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচন করলেও তাকে বহিস্কার করে। দলের নেতা-কর্মীদের জাতীয় পার্টির পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয় সূত্রটি জানায়।বিএনপিসহ নিবন্ধিত প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দলের বর্জনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কার্যত তৎকালীন ক্ষমতাসীন জোট ও তাদের সমর্থিত কয়েকটি দল ছাড়া অন্যরা ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।ওই নির্বাচনে মহাজোটেরই শরিক জাতীয় পার্টিসহ জোটের অন্য শরিকদের বেশ কিছু আসনে ছাড় দিতে হয় আওয়ামী লীগকে। এতে বিনা ভোটেই সংখ্যারিষ্ঠ ১৫৩ আসনে জয় পায় ক্ষমতাসীন জোট। বাকি ১৪৭ আসনে নির্দেশনার বাইরে কোথাও নিজেদের প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে তাকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। মহাজোট এবং সরকারে থেকেই বর্তমানে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে জাতীয় পার্টি।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর আসনগুলোতে জরিপ করা হচ্ছে। নির্বাচনে যে জয়ী হতে পারে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। সাবেক এমপি, দলের পোড় খাওয়া নেতা, বাদ পড়া ও বঞ্চিতরা সুযোগ পেতেই পারেন।এ বছরের ৭ মে দলীয় এমপিদের এক বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কারও মুখ দেখে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে না। জরিপ দেখে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করা হবে।গত ৩০ এপ্রিল সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদেরও বলেছিলেন, তৃণমূলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে জরিপ চালানো হচ্ছে। শেখ হাসিনা কয়েকটি জরিপ পরিচালনা করছেন। তার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হবে।

বিএনপি-ই সকল ধর্মের সমানাধিকার নিশ্চিত করেঃ আবু আশফাক

বড়দিন উপলক্ষে দোহার-নবাবগেঞ্জর বিভিন্ন গীর্জা পরিদর্শন এবং ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে উপহারস্বরূপ কেক প্রদান করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি ইসকল ধর্মের সমানাধিকার নিশ্চিত করে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবাই বাংলাদেশী, এখানে সংখালঘু বা গুরু করে বলে কিছু নেই। তিনি সবার কাছে তার দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চান।

নবাবগঞ্জে সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে ৫ গ্রামের মানুষ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের পাতিলঝাপের কালিগঙ্গা নদীর উপরে একটি সেতু না থাকার কারণে ভোগান্তিতে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। পাতিলঝাঁপ ও দত্তখ- গ্রামগুলো পাশাপাশি হলেও গ্রামগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে কালিগঙ্গা নদীটি। নদীর একপারে রয়েছে পাতিলঝাঁপ বাজার, দুধ ঘাটা বাজার, ওপারে রয়েছে দত্তখন্ড, বালুখ-, মহেষদিয়া, কুমল্লি, আটকাহনীয়া এই পাঁচ গ্রাম। একটি মাত্র সেতুর অভাবে স্কুল ও কলেজের ছাত্র ছাত্রীসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও নবাবগঞ্জের সদরে রয়েছে উপজেলা পরিষদ, থানা প্রশাসন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস,দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নানা বানিজ্যিক কেন্দ্রসহ মানুষের দৈনন্দিন কাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই এ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ হলে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর মানুষজনেরা অনেক উপকৃত হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পিড বোটে নদী পারা পার হচ্ছে স্কুল কলেজসহ নানা শ্রেণীর লোকজন। যে কোন সময় ঘটতে পারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নানা কাজের জন্য নদীর ঐপারের গ্রামের লোকজনকে নদী পাড় হয়ে এপার আসতে হয়। আবার ব্যবসা বাণিজ্যের কাজে এপারের লোকজনকেও যেতে হয় নদীর ঐপারে। সেতুটি না হওয়ায় নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার বাসিন্দারা। উত্তর বালুখ-ের পি জি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ চন্দ্র সরকার জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে নদীর ঐ পারের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশুনা করেন। নদীতে সেতু না থাকায় ওরা সময় মত বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। বান তুফানের মৌসুমে নদীর পানি ফুঁসে ওঠে তীব্র স্রোতের ভয়ে নদী পার হতে চায়না কোমল মতি শিক্ষার্থীরা। ফলে স্কুলের অনুপস্থিতির কারণে পড়া লেখার কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে তাই সেতু হওয়াটা জরুরি।

কৃষক রহম আলী বলেন, আমরা নবাবগঞ্জের বাসিন্দা হয়েও সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কারণ কালিগঙ্গা নদী আমাদেরকে আলাদা করে রেখেছে। আমাদের জমিতে যে সব শাক সবজি হয় দেখা যায় দ্রুত যানবাহনের অভাবে সকালে সময়মতো পাতিলঝাপবাজারসহ আশেপাশের বাজারে নিতে পারি না। ফলে দাম ঠিক মতো পাইনা। কাপড়ের ব্যবসায়ী জিন্নত জানান, পাতিলঝাপ-দত্তখন্ড সেতুটি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি। সেতুটির কারণে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যেও লোকসান হচ্ছে। তাই অল্প সময়ের মধ্যে এখানে একটি সেতু নির্মাণ আমাদের প্রাণের দাবি।

দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ পড়ুয়া সাইফুর বলেন, আমাদের শিক্ষার জন্য উপজেলা সদরের দোহার নবাবগঞ্জ কলেজে যেতে হয়। কিন্ত বেশির ভাগ সময়ই ঠিকসময় কলেজে পৌঁছাতে পারি না গাড়ি পারা পারে ব্যবস্থা না থাকায়। তাই এই এলাকাবাসীর সুবিধার্থে এখানে একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয় বাসিন্দা মান্নান বলেন,গুরুতর অসুস্থ হলে আমাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়। তাছাড়া বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যাওয়া ছাড়া আমাদের গতি নেই। সেতুটি না হওয়া আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের কারণ।

এ বিষয়ে শোল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান বলেন আমার ইউনিয়নের জন্য সেতুটি হওয়া খুবই জরুরী আমি বিভিন্ন ভাবে চেস্টা করে যাচ্ছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন সেতুটি আকারে অনেক বড় হবে তাই এর বাজেটও বড় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে তবে শীঘ্রই কাজের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বারুয়াখালিতে শিল্পকলা একাডেমির শাখা উদ্বোধন রবিবার

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে বর্তমানে ইউনিয়ন পর্যায়ে একাডেমির শাখা স্থাপন করতে চলেছে। আগামীকাল ঢাকার নবাবগঞ্জের বারুয়াখালী ইউনিয়ন শিল্পকলা একাডেমি শাখার শুভ উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে একাডেমি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

এ লক্ষে আগামীকাল শনিবার বিকাল ৩টায় নবাবগঞ্জ বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি থাকবেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ ঝিলু, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো: জালাল উদ্দিন, বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এম হুমায়ুন কবীর, বারুয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোশারফ মোল্লা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নবাবগঞ্জ বারুয়াখালী ইউনিয়ন শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান শিকদার।

উদ্বোধনী আলোচনা শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।