লটাখোলায় যুবককে কুপিয়ে জখম

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার চর লটাখোলায় আনোয়ার হোসেন নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো. আনোয়ার (২৮) এর উপর এই হামলা চালানো হয়। আহত আনোয়ার চর লটাখোলা এলাকার খোরশেদ বেপারীর ছেলে। তার অবস্থা আশংকাজনক।

চর লটাখোলা এলাকার ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকার মনিরের চায়ের দোকানের সামনে সোমবার রাত আনুমানিক সারে আটটায় এ ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের প্রায় সবার হাতে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে জানায় এলাকাবাসী।

আহত আনোয়ারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় প্রেরণ করে। আহত মো. আনোয়ার, আল আমীন চোকদারের ড্রেজারের ব্যবসায় কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো বলে জানা যায়।

ঘটনার প্রকৃত কারন এখনো জানা যায়নি।

গালিমপুর মাজারে নিয়মিত যাচ্ছেন আরফিন রুমী

আরফিন রুমী বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। সাম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন তিনি, তবে এবার সম্পূর্ণ এক ভিন্ন রূপে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি ঘোষণা দিলেন আর গান করছেন না। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে তিনি লিখেন ‘ভাসিয়ে না দিলে তো কবুল ই করেন না। আশা করি আমাকে আর কখনোও কোথাও গান গাইতে দেখবেন না।’

ঢাকার অদূরে নবাবগঞ্জের গালিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত আফাজউদ্দিন শাহ এর মাজারে প্রায়শই গমন করেন বলে জানান মুহাম্মাদ শামীম (আশিক) নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা। এছাড়া স্থানীয় কেউ কেউ জানান আরেফিন রুমী এ মাজারে সপ্তাহে ৫ দিন আসেন।

বর্তমানে আরেফিন রুমি ধর্ম পালনে বিশেষ মনোযোগী। অনেকদিন থেকেই আরেফিন রুমী ধর্মীয় রীতির অনুসরণে বিশেষ মনোযোগী হিসাবে পরিলক্ষিত। তবে তার চাল চলনে মাজার ভক্তির ছাপ স্পষ্ট।

উল্লেখ্য, ২৩শে সেপ্টেম্বর ১৯৮৭তে জন্ম গ্রহণ করা আরেফিন রুমি একজন বাংলাদেশী গায়ক, সুরকার এবং সংঙ্গীত পরিচালক। তার ৩০ টিরও বেশি অ্যালবাম(একক এবং মিশ্র) আছে। গানের জগতে বিখ্যাত শিল্পীদের মধ্যে তিনি একজন।

ক্লাসিক্যাল, আধুনিক, পপগানে ছিলো তার পদচারনা। হাবিব ওয়াহিদ এবং ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের কাছে সে অডিও ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষালাভ করেন।

বালু উত্তলন, জনসাধারনের অসেচতনতায় আজ হুমকির মুখে পদ্মা বাঁধ

সম্ভাবনাময় এলাকা দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়ন। বিগত কয়েক বছরে পদ্মার ভাঙ্গনে পদ্মার গর্ভে হারিয়ে গেছে নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বেশ কিছু অঞ্চল। তার উপর এখন আবার পদ্মার পাড় দখল করে কিছু অসাধূ বালু ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছেন এক জমজমাট ব্যবসা। একই সাথে পদ্মা বাধের উপর ড্রেজারের পাইপ, ময়লা আবর্জনা, এবং শুকনো কাঠ, রড, সিমেন্ট ইত্যাদি মালামাল আনলোডিং এর কারনে হুমকির কবলে পড়ে গেছে এই অঞ্চলের সাধারন মানুষের স্বপ্নের পদ্মা বাঁধ।

দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নে চলমান পদ্মা বাঁধ প্রকল্পের অদূরে দিনরাত চলছে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। দোহারবাসীর আকাঙ্ক্ষিত বাঁধ প্রকল্পের ক্ষতি করেই নির্বিঘ্নে  ব্যবসা করে যাচ্ছে বালুখেকোরা। বাঁধের মূল কাজে ব্যবহৃত বালুর বস্তার ভেতর দিয়ে নেয়া হয়েছে বড় বড় পাইপ। যার ফলে বাঁধ থাকার পরেও নদী ভাঙ্গন কমছেই না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নয়াবাড়ি ইউনিয়নে চলমান বাঁধ প্রকল্পের বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়,  ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের দৃশ্য। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে বাঁধের কিছুটা অদূরে চলছে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। নদীপারে রাখা অসংখ্য আনলোডিং ড্রেজার ও পাইপের ছড়াছড়ি দেখলে ঝুঝা যাবে পদ্মার বালুকে কেন্দ্র করে কতটা জমজমাট হয়ে উঠেছে বানিজ্য। নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাহ্রাঘাট থেকে শুরু করে বালেঙ্গা পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫ টা ড্রেজার দিয়ে পদ্মা তীর থেকে বালু উত্তলন করা হচ্ছে। কেউ কেউ মানিকগঞ্জ থেকে ড্রেজারে বালু কেটে এনে বিক্রি করছে আবার কেউ নদীর পদ্মার ফরিদপুরের অংশ থেকে বালূ কেটে এনে বিক্রি করছে। এই ড্রেজারের পাইপ সরকারি রাস্তার উপর দিয়ে গিয়ে বালু ফেলছে বিভিন্ন স্থানে। ফলে সরকারি কার্পেটিং সড়ক কেটে বা সড়কের উপর দিয়ে উঁচু করে নেয়া হয়েছে বালুর পাইপ। আর সেখানে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। বালুর পাইপের কারণে নয়াবাড়ির রাস্তাঘাট এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পাইপে ধাক্কা লেগে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। এর ফলে অনেক মোটর সাইকেলসহ ইজিবাইক দূর্ঘটনা ঘটছে। ছোট খাট থেকে শুরু করে মারাত্মক আহত হচ্ছে প্রতিনিয়িত।

গ্রামজুড়ে এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করলেও অসহায় মানুষ। ভেতরে ক্ষোভ থাকলেও যেন প্রকাশের সুযোগ নেই। কারণ বালু সিন্ডিকেটের সবাই সরকারি দলের নেতা বা প্রভাবশালী।

বালু বানিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত অধিকাংশরাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও অনেকটা অসহায় তাঁরা। কর্মকর্তারা বলছেন, এভাবে নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ও বাঁধের ভেতর দিয়ে পাইপ নিতে থাকলে ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্থ পয়েন্টগুলো থেকেই হুমকির মুখে পড়তে পারে বৃহৎ এ বাঁধ প্রকল্প।

প্রকল্পের দায়িত্ব থাকা এক কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্থানীয়রাই বালু ব্যবসা করছে। আমরা কি করব বলুন। নিজেদের এলাকার ভাল-মন্দ যদি তারা না বুঝেন তাহলে কি করার আছে। বালুর পাইপের কারনে ড্যাম্পিং-এর কাজে ব্যবহৃত বস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা কোনভাবেই ঠিক নয়। তারপরে এখানে আবারে ২১৭ কোটি টাকার বড় একটি প্রকল্প হচ্ছে। বাঁধের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে বাঁধও হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। এই কর্মকর্তা বলেন, যারা এই কর্মকান্ড করছে তারা সবাইতো নেতা, আমরা কি বলতে পারি। তবে বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ হান্নান নিউজ৩৯ কে বলেন, যারা বালু কেটে ব্যবসা করছে তাদের মধ্যে প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। অথচ সেই আওয়ামী লীগ সরকার দোহারকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় বাঁধের কাজ করছে আবার তারাই সেই বাঁধ প্রকল্পের ক্ষতি করছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা ঘৃনা করি। যারা এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের উচিত সরকারের ভাবমূর্তি ঠিক রেখে যার যার অবস্থান থেকে ব্যবসা বানিজ্য করা।

বালু উত্তলন ও বাধের উপর ময়লা আবর্জনা ফেলে বাধকে নষ্ট করার  ব্যাপারে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন নিউজ৩৯ জানান, বালু উত্তলন ও বাধের উপর ময়লা আবর্জনা ফেলে বাধের সুন্দর্য নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আমি শুনেছি। এই ব্যাপারে আমি উপজেলার মিটিংএ কথা বলেছি। আমি প্রশাসনকে অতি দ্রুত তদন্ত করে এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছি। যারা বালি উত্তলন করে তারা সরকারি নিয়ম মেনে যদি উওত্তলন করে তাহলে ঠিক আছে, যদি সেটা না হয়, তাহলে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চল থেকে বালু উত্তলনের ব্যাপারে নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাখাওয়াত হোসেন নান্নু নিউজ৩৯ কে বলেন, যদি বাধের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কোন আশংকা থাকে তাহলে অবশ্যই এই বালি উত্তলন বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের এই ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। কিন্তু যদি বালি উত্তলন নির্দিষ্ট সীমার বাইরে হয়, পানি চলাচলের পথ করে দেয় তাহলে অবশ্যই সেটা বাধের জন্য ভাল হবে, তীরবর্তী অঞ্চলে পানির চাপ কম পড়বে। তাছাড়া কিছু বেকার ছেলেরা কাজ করছে। আমাদের তো ওদের আরো উৎসাহিত করা উচিত।

শিকারীপাড়া টিকেএম উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া টিকেএম উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করা হয়েছে। শনিবার বিদ্যালয় মাঠে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সাবেক সাংসদ, বায়রার ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের ও নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলু এতে সভাপতিত্ব করেন।

শিকারীপাড়া টিকেএম উচ্চ বিদ্যালয়ে

বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি কাজী শওকত হোসেন শাহীন, শিকারীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলীমোর রহমান খান পিয়ারা, বারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আরিফুর রহমান সিকদার, আওয়ামী লীগ নেতা মো. তাজুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন জয়কৃষ্ণপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সামসুল হক, মো. আবুল হোসেন, দুলাল হালদার, মো. মোতালেব হোসেন, সুকুমার হালদার, মো. মিজানুর রহমান, মো. খৈমদ্দিন, প্রধান শিক সামচুল আলম প্রমুখ।

নবাবগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা

বাংলাদেশ তাঁতী লীগ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার অাহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪ টায় উপজেলা সদরে কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে ঢাকা জেলা দক্ষিণ তাঁতী লীগ অায়োজিত কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মীসভার পর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে শহিদুল ইসলামকে আহবায়ক এবং সাইফুর রহমান সজিব, হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহাদত হোসেন, জয়নাল অাবেদীন, জাকির হোসেনকে যুগ্ম অাহবায়ক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এসময় ঢাকা জেলা দক্ষিণ তাঁতী লীগের সভাপতি রমজান মল্লিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক মুশফিকুর রহমান পলাশ এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ তাঁতী লীগের সহ- সভাপতি কে.এম শহীদুল্লাহ্।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহম্মেদ ঝিলু, সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহম্মেদ, ঢাকা জেলা দক্ষিণ তাঁতী লীগের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের উপ- প্রচার সম্পাদক হুমায়ূন কবির প্রমুখ।

দোহারে খান বাড়ির ধানের গোলায় লুকানো ছিল এক মাস!

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের রেকর্ড পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করতে ঢাকা থেকে দোহারে এনে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর ভারতে নেয়া হয়। পরে ভারত থেকে কপি আকারে ফেরত আনা হয়।

চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা বিভাগের তৎকালীন ক্যামেরা সহকারী হিসেবে কাজ করতেন খন্দকার আমজাদ আলী। তিনিই এসব রেকর্ড সংরক্ষণে সহযোগিতা করেছিলেন। ভাষণ রেকর্ডের পর সেটা সংরক্ষণে উদ্যোগী হন মহিবুর রহমান খান নামে বিটিভির এক কর্মী।

আবুল খায়ের নামে এক অভিনেতার পরামর্শে তার ভাগ্নি জামাতা অধ্যক্ষ রেজাউর রহমানের বাড়ি চরকুশাই নেয়া হয় রেকর্ডটি। রেজাউরের বাবা দানেছ খান ও চাচা ছিলেন উমেদ খান। তাদের বাড়ির ধানের গোলার ভেতর ভিডিও রেকর্ডটি লুকিয়ে রাখা হয়- যাতে পাকবাহিনী ও তার দোসররা কেউ সেটা নষ্ট বা ধ্বংস করতে না পারে। দেশে যুদ্ধ চলাকালীন তিনি ঢাকা থেকে পালিয়ে ভাষণের রেকর্ড নিয়ে চলে আসেন দোহারের চরকুশাই খান বাড়িতে।

আমজাদ আলী খানের ভাষ্যমতে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিও ধারণ হয়েছিল পাকিস্তান সরকারের ক্যামেরায়। অনেকের চোখ ফাঁকি দিয়ে তা ডেভেলপ করার পর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রক্ষা করা হয় পাকিস্তানি হানাদের থাবা থেকে।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরে কর্মরত কয়েকজন মুক্তিকামী বাঙালির বীরত্বে রক্ষা পেয়েছিল বাঙালির ইতিহাসের এ অমূল্য সম্পদ। ভাষণের মাসখানেকের মাথায় সেটা সচিবালয় থেকে লুকিয়ে নেয়া হয়েছিল দোহারের একটি বাড়িতে। সেখানে ধানের গোলায় মাসখানেক রাখার পর নিয়ে যাওয়া হয় ভারতে। ৯ মাসের যুদ্ধজয়ের পর ভিডিও টেপটিও ফিরে আসে নতুন বাংলাদেশে। পাকিস্তানি সেনাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সচিবালয় থেকে ঢাকার দোহারে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের টেপ নিয়েছিলেন আমজাদ আলী খন্দকার, যিনি সে সময় ছিলেন চলচ্চিত্র বিভাগের ক্যামেরা সহকারী। খন্দকার আমজাদ আলী বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাষণের রেকর্ড একটি বাক্সে ভরে লুকিয়ে রাখা হয়। কারণ ওই বাড়িটি ছিল নিরাপদ স্থান। তখন এটা ছিল দোহার উপজেলা থেকে একেবারেই অজপাড়াগাঁ।

হাসপাতাল বানাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন হাসপাতাল বানাচ্ছেন। আশুলিয়ায় তার নিজস্ব জায়গায় হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। সাধারণত মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে তৈরি হচ্ছে এই হাসপাতাল। এরই মধ্যে হাসপাতালটির কাজ শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘ঢাকায় আমার একটি মাত্র জমি। আর সেখানেই হাসপাতাল করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার যা আছে তাই দিয়েই হাসপাতালের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ৬তলার প্ল্যান পাশ হয়েছে। আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করে চলেছি। যতদিন বেঁচে থাকবো মানুষের সেবা করে যাব।’

এবছর একুশে পদক পেয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে চলচ্চিত্রের মানুষ হিসেবে নয় সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের একুশে পদকে ভূষিত করা হয় প্রতিবছর। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইলিয়াস কাঞ্চনের হাতে একুশে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যু হয়। প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি ভেঙে না পড়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করেন।

এরপর থেকেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জীবনের বাকি দিনগুলো কাজ করার প্রতিজ্ঞা করেন। আর কেউ যেন তার মতো ভুক্তভোগী না হন সেজন্য প্রতিষ্ঠা করেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নামের একটি সংগঠন।

দীর্ঘদিন থেকেই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন করে আসছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। আর এই কাজই পর্দার নায়ককে বাস্তবের নায়ক বানিয়েছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘বাবা আমার বাবা’ মুক্তি পায় ২০০৮ সালে। ২০১০ সালে নির্মাণ করেন ‘মায়ের স্বপ্ন’।

প্রচলিত নামাজের নিয়ত কুরআন সুন্নাহর কোথাও নেইঃ মুফতি কাজী ইব্রাহিম 

0

 

আরটিভির সরাসরি ইসলাম নিয়ে প্রশ্নোত্তরমূলক বিশেষ অনুষ্ঠান ইসলামিক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ হাফেজ মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম।

প্রশ্ন: নামাজে আরবি কিংবা বাংলাতে নিয়ত না পড়ে শুধু আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করলে নামাজ কবুল হবে কিনা?

উত্তর: সহীহ বুখারিতে আছে, সমস্ত আমলই নিয়তের উপর নির্ভরশীল। নিয়ত মানেই হল অন্তরের সংকল্প। নিয়তের সাথে মুখের কোন কথার সম্পর্ক নেই। আর প্রচলিত নামাজের যে নিয়ত আছে সেগুলো কুরআন সুন্নাহর কোথাও  নেই। এগুলো পুরো বানোয়াট কথাবার্তা, মানুষের বানানো। নিয়ত মানে হল কোন আমলটি করছি এবং কার জন্য করছি সেটা হৃদয়ে ধারণ করা।

প্রশ্ন: হজের সময় আরাফাতের ময়দানে জোহর এবং আসরের নামাজ যৌথভাবে পড়া হয়। সেই নামাজ তাবুতে না মসজিদে এবং জামাতে না একাকী পড়তে হবে?

উত্তর: নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহর এবং আসর একসাথে দুই রাকাত করে পড়েছিলেন। আগে জহুর পড়েছিলেন এবং তারপর আকামত দিয়ে আসর পড়েছিলেন। মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ আলেম ওলামা এই হাদিসের আমল করেন। ওলামাদের আরেকটি দল আরাফাতের ময়দানে আলাদা আলাদা পড়েন, তবে এটার পেছনে যে যুক্তি আছে সেটা খুব দুর্বল। এটার পক্ষে কোনো সহীহ হাদিস নেই।

নবাবগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদককে পেটালো সাংগঠনিক সম্পাদকের সমর্থকরা

নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগে দ্বন্দের জের ধরে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার কবিরকে পিটিয়ে আহত করেছে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের একটি গ্রুপ। অভিযোগ আছে নবাবগঞ্জ উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পলাশের সমর্থকরা দেলোয়ার কবিরের উপর এই হামলা করে। শনিবার বিকালে নবাবগঞ্জ  উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মিসভা ও কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

দেলোয়ার কবির সমর্থিত নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেণ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পলাশের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বক্সনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মিসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, শনিবার বিকালে উপজেলার বক্সনগর বাসস্ট্যান্ডে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীসভার আয়োজন করা হয়। কর্মীসভায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন খান সহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তবে কর্মিসভা বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পলাশকে জানানো হয়নি। এই ঘটনার জেরে পলাশ সমর্থিত নেতাকর্মীরা দেলোয়ার কবিরের উপর হামলা করে। হামলায় দেলোয়ার কবির গুরুত্বর আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়া হয়।

তবে এ বিষয়ে কথা বলতে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পলাশকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মাদার তেরেসা পুরস্কার পেলেন শামীমা রাহিম শীলা

মানবতায় অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম শীলা। বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন শামীমা রাহিম শীলাকে মাদার তেরেসা পুরস্কার লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন আয়োজিত মাদার তেরেসার কর্মময় জীবন নিয়ে শীর্ষক আলোচনা সভা ও গুনিজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান। আলোচনা সভা শেষে মানবতায় অবদান রাখার জন্য দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম শীলাকে মাদার তেরেসা পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান।

মাদার তেরেসা পুরস্কার পেলেন শামীমা রাহিম শীলা

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবি ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন প্রমুখ।