দোহার–নবাবগঞ্জ আসন আলাদা চাই, চাই নাঃ নিউজ৩৯ কে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎকারঃ পর্ব – ১

দীর্ঘদিন দোহার, ঢাকা-১ ও নবাবগঞ্জ, ঢাকা-২ সংসদীয় আসন হিসাবে আলাদা ছিল। কিন্তু হটাৎ করেই বিগত সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শামসুল হুদা নির্বাচন কমিশন দোহার-নবাবগঞ্জ আসন এক করে ঢাকা-১ আসনে পরিণত করে। কিন্তু সে সময়ের ঢাকা-৩ আসন তথা কেরাণিগঞ্জ উপজেলাকে দুই ভাগ করে ঢাকা-২ ও ঢাকা-৩ আসনে পরিণত করে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনই ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন ৩৮টি সংসদীয় আসন পূণর্বিন্যাস এর খসড়া করেছে। সেখানে দোহার-নবাবগঞ্জ তথা  ঢাকা-১ আসন অপরিবর্তিত রেখেছে। এতে ব্যাপারটি নিয়ে আবারো শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

নিউজ৩৯ কে দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আলাদা হওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা- ১ সংসদীয় আসনের বর্তমান এমপি সালমা ইসলাম বলেন, তিনি চান আসন এক থাকুক, এতে উন্নয়ন বেগবান হবে। আলাদা হলে বরাদ্দ কমে যেতে পারে কারণ তা ভাগ হবে। আর দোহার নবাবগঞ্জের মানুষ একই সংস্কৃতির অধিকারী। তাই এই আসন এক থাকাটাই আমি সমর্থন করি।

নিউজ৩৯ এর কে দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আলাদা হওয়া প্রসঙ্গে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, দোহার – নবাবগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে, একই সাথে প্রশাসনিক সেবা তৃণমূলে পৌছে দেয়ার জন্যই আগে যেমন ছিল, তেমন ভাবেই দোহার – নবাবগঞ্জ আলাদা হতে হবে। আমি ঢাকা – ০১ আসনের পরপর ৩ বারের নির্বাচিত সংসদ, আমি মনে করি অবশ্যই আলাদা হতে হবে। শুনেছি আরও কয়েকজনের আবেদনের কথা, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানীর সময় আমি অবশ্যই উপস্থিত থাকবো এবং আলাদা করার কারণের যৌক্তিকতা তুলে ধরবো।

নিউজ৩৯ এর কে দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আলাদা হওয়া প্রসঙ্গে সাবেক গৃহায়ণমন্ত্রী এডভোকেট আব্দুল মান্নান খান বলেন, নির্বাচন কমিশন সবকিছু চিন্তা ভাবনা করেই পূর্বে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ভবিশ্যতেও নিবে। নির্বাচন কমিশন এই আসন নিয়ে সব কিছুই জানে। আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন কর্মি হিসাবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা আছে এবং একই সাথে যে কোন ধরনের প্রয়োজনে আমি নিষ্ঠাবান থেকে আন্তরিক সহযোগীতা করবো।

নিউজ৩৯ কে দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আলাদা হওয়া প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ স্বল্প কথায় বলেন, এটা আসলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। তবে আমি মনে করি এক থাকাটাই ভালো। এতে দুই উপজেলার জনগণেরই উপকার হবে।

দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, দোহার নবাবগঞ্জ ঐতিহ্যগত ভাবেই আলাদা। তাই উন্নয়নের গতি বৃদ্ধির জন্য ও সুষম উন্নয়নের জন্য হলেও এই আসনকে ভাগ করা উচিত।

নিউজ৩৯ কে দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আলাদা হওয়া প্রসঙ্গে  নবাবগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান  মহসিন আকবর বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মহসিন আকবর নিউজ৩৯কে দোহার ও নবাবগঞ্জকে আলাদা সংসদীয় করার ব্যাপারে তিনি বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জের দুইটি আসন আলাদা করা এই দুই উপজেলার মানুষের সময়ের দাবি। দোহারের এমপি হলে তার নজর দোহারে বেশি থাকে, নবাবগঞ্জের এমপি হলে তার নজর নবাবগঞ্জের দিকে বেশি থাকে। ফলে উন্নয়নে সমতা আনার জন্য হলেও এই দুই আসন আলাদা হওয়া প্রয়োজন।

নিউজ৩৯ কে দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আলাদা হওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মনির হোসেন রানা বলেন, ঢাকা জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন রানা নিউজ৩৯ কে বলেন, ভৌগলিক ভাবে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা অনেক বড় একটা এরিয়া। তাই এই হিসাবে দোহার-নবাবগঞ্জের আলাদা হওয়াই উচিত। তাছারা একই সংসদীয় আসনে দুইটি প্রশাসনিক এরিয়া থাকার কারনে উন্নয়নের কিছুটা ব্যাঘাত হচ্ছে। এছাড়া এমপিরা আসলে উন্নয়নের কাজের জন্য সংসদে যান না। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমপিরাও আসলে উন্নয়নের কাজে তদারকি করে। আর আমাদের দলিয় কথা হচ্ছে আমরা চাই ২০০১ এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় আসনগুলো ভাগ হোক। এটা একদিকে যেমন আমার দলিয় দৃষ্টিকোন, ঠিক একই ভাবে আমার নিজের ব্যক্তিগত মতামতও বটে।

নিউজ৩৯ কে দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আলাদা হওয়া প্রসঙ্গে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলু নিউজ৩৯কে বলেন, এই দুই আসন আলাদা হওয়া এই দুই উপজেলা মানুষের সময়ের চাহিদা। যেই যুক্তি দিয়ে এই আসনগুলোকে এক করা হয়েছে সেই হিসাবে তো কয়েকদিন পর ঢাকা শহরের জন্যই ১৫০ আসন দিতে হবে। এই আসনগুলো ভাগ করার জন্য গ্রামীন উন্নয়ন ঠিক মতো হচ্ছে না। যদিও এই সরকারের আমলে গ্রামীন উন্নয়ন অভাবনীয় রকমের হচ্ছে। এই কারনে উন্নয়নের স্বার্থে, দোহার-নবাবগঞ্জের ভৌগলিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে এই আসনকে আলাদা করার একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া কেরানীগঞ্জের আসন দুইটি যেভাবে গোজামিল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তাতে আসলে প্রশ্ন থেকেই যায় শুধু বাধাধরা ক্রেইটেরিয়া দিয়ে আসনগুলা কাটাছাড়া করা ঠিক হয়েছে কিনা।

নিউজ৩৯ কে দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আলাদা হওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সুরুজ আলম সুরুজঃ চলমান উন্নয়ন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশের স্বার্থে আমি মনে করি ঢাকা-১ সংসদীয় আসনের পূণর্বিন্যাস প্রয়োজন।

নিউজ৩৯ কে দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আলাদা হওয়া প্রসঙ্গে দোহার উপজেলা যুবদল সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন হিটু মোল্লা বলেন, এটি নিঃস্পন্দেহে ভালো উদ্যোগ। গত নির্বাচন ২টি তে এই আসন এক করা হয়েছিল রাজনৈতিক চক্রান্তে। এতে সব দিক থেকেই দোহার ও নবাবগঞ্জবাসীর উপকার হবে, বরাদ্দ বেশি পাওয়া যাবে। আমি সব কিছু বিবেচনা করেই একমত যে ঢাকা – ০১ আসন আলাদা করে, দোহার ও নবাবগঞ্জ আসন আলাদা আলাদা সংসদীয় আসন হতে হবে।

নিউজ৩৯ কে দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আলাদা হওয়া প্রসঙ্গে ভিপি কামাল বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কামাল হোসেইন খান(ভিপি কামাল) নিউজ৩৯ কে বলেন, ভৌগলিক ভাবে দোহার ও নবাবগঞ্জ আলাদা। তাই এর আলাদা থাকাই উচিত। তবে নদী ভাঙ্গন কবলিত দোহারের অনেকাংশ যেহেতু নদীগর্ভে চলে গেছে। তাই এই আসনকে সম্বনয় করতে হলে অবশ্যই দোহার সংসদীয় আসনকে কিছুটা বাড়ানো দরকার। সেই হিসাবে নবাবগঞ্জের তিনটি ইউনিয়ন যেগুলো ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে ঢাকা-১ দোহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল সেই তিনটি ইউনিয়ন জয়কৃষ্ণপুর, শিকারীপাড়া ও বারুয়াখালীকে দোহারের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা। ঠিক একইভাবে শ্রীনগরের বাঘরা ইউনিয়নকে দোহারের সংসদীয় আসনে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এছাড়া উন্নয়নের জন্য হলেও দোহার ও নবাবগঞ্জকে আলাদা করা উচিত।

উল্লেখ্য নবাবগঞ্জের সাবেক এমপি হারুনুর অর রশিদ এবং গ্রাজ্যুয়েট এসোসিয়েশন অব দোহারের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মোঃ আইয়ুব আলী গত ৬ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে ঢাকা – ০১ সংসদীয় আসন পূণার্বিন্যাস শিরোনামে আবেদন করেন। ডাইরী নং – ১৭২৬। এই ব্যাপারে নিউজ৩৯ ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিস্তারিত প্রতিবেদন করে।

মুকসুদপুর ইউনিয়নের উদ্যাগে শোভাযাত্রা

স্বল্পন্নোত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) জাতীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে শোভাযাত্রা ও আনন্দ র্যালীর আয়োজন করা হয়েছে।মুকসুদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম. এ. হান্নান খান এর নেতৃত্বে ইউনিয়ন এর অস্থায়ী কার্যালয়  থেকে এ র্যালী করা হয়।

এই সময় ইউনিয়ন পরিষদে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়  থেকে ভিজিডি কার্ড অনুযায়ী, অস্থায়ী কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে চাল বিতরন করা হয়। সহযোগিতায় ছিলান সচিব বশির আহমেদ, ২নং ওয়ার্ড এর মাম্বার জনাব মুসা কলিমুল্লা,সহকারী সচিব আশিক হোসেন সহ অন্যান্য কর্মচারী বৃন্দ।

ইবনে সিনা: আলোর মশাল হাতে আলোকিত মানুষ

আবু আলি হোসাইন ইবনে আব্দুল…ইবনে সিনার নাম বিশ্বের সকল সচেতন মানুষের কাছেই পরিচিত। শায়খুর রায়িস ছিল তাঁর উপাধি। তিনি একাধারে ছিলেন দার্শনিক, চিকিৎসাবিদ, গণিতবিদ এবং বিখ্যাত একজন জ্ঞানীগুণী মনীষী। বোখারার আফশানেতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুল… বালখের অধিবাসী ছিলেন।

ছোটবেলায় তিনি কোরআন, ফিকাহ, সাহিত্য এবং ভারতীয় হিসাববিদ্যা শেখায় কিছুটা সময় কাটান এবং দশ বছর বয়সেই পুরো কোরআন আয়ত্ত করে ফেলেন। ষোলো বছর বয়সেই এই মহান মনীষী বিখ্যাত একজন ডাক্তার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। অনেক বড়ো বড়ো ডাক্তারও তাঁর চিকিৎসাবিদ্যার গভীরতার সামনে নিজেদেরকে অত্যন্ত ছোট্ট বলে মনে করত।  নূহ বিন মানসুর সামানি যখন ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন কোনো চিকিৎসকই তাঁর চিকিৎসা করতে পারলেন না, সবাই অপারগতা প্রকাশ করলেন। অবশেষে আবু আলী সিনা তাঁর মেধা ও সৃজনশীলতা দিয়ে চিকিৎসা করার ফলে রোগী আল্লাহর ইচ্ছায় সুস্থ হয়ে যায়। এর ফলে সামানীয় শাসকের ব্যাপক মনোযোগ আকৃষ্ট হয় ইবনে সিনার ব্যাপারে। তিনি ইবনে সিনাকে সামানীয়নিদের লাইব্রেরি ব্যবহার করার অনুমতি দেন।

ইবনে সিনা এই সুযোগকে অতি উচ্চ মূল্য দেন এবং বছর দুয়েকের মধ্যে ঐ লাইব্রেরির সকল বিষয়ের বইয়ের ওপর তাঁর নজর বোলানো হয়ে যায়। এই লাইব্রেরিতে নিজের পড়ালেখা সম্পর্কে স্বয়ং ইবনে সিনা বলেন: ‘লাইব্রেরির ভেতরে বহু কক্ষ। প্রত্যেক কক্ষেই থরে থরে বই সাজানো। বিভিন্ন তলায় বিষয় ভিত্তিক সাজানো ছিল বইগুলো। কোনো তলায় সাহিত্যের বই কোনো তলায় ফিকাহর,আবার কোনো তলায় চিকিৎসাসহ আরো বহু বিষয়ের বই সাজানো। আমি সেখানে আমাদের পূর্ববর্তী মনীষীদের লেখা বইগুলো পড়ার চেষ্টা করেছি। যখন যেটা চাইতাম সেটাই নিতাম। তিনি আরো বলেন:  সেখানে দুর্লভ বইগুলোও পাওয়া যেত। এমন অনেক বই পেয়েছি যেগুলো এর আগে দেখি তো নাই-ই, নামও তার আগে শুনি নি। আমার বয়স যখন আঠারো পূর্ণ হয় তখন মোটামুটি প্রায় সকল বিদ্যাই আয়ত্ত করেছিলাম এবং তারপর থেকে কোনো কিছুই আর আমার কাছে অনাবৃত থাকলো না। কেবল পার্থক্যটুকু ছিলো এই তখন আমার স্মৃতি ছিলো খুবই প্রখর আর এখন চিন্তা ও জ্ঞান হয়েছে শক্তিশালী।’

ইবনে সিনা ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণযুগের চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বলতম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। চিকিৎসাবিদ্যায় তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে ‘আলকানুন ফিত তিব’। এতো নির্ভরযোগ্য কোনো গ্রন্থ সে সময় অন্তত চিকিৎসাশাস্ত্রে ছিল না। এই বইটি অনূদিত হবার পর পশ্চিমারা ব্যাপকভাবে বইটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিদ্যালয় মহাবিদ্যালয়গুলোতে বইটিকে পাঠ্য করে দেয়।  গ্রিক চিকিৎসাবিদ জালিনূসের বই যেসব ইউরোপীয় চিকিৎসকদের কাছে দুর্বোধ্য ছিল তাঁরাও ইবনে সিনার কানুন গ্রন্থটির শরণাপন্ন হন। এর একটি কারণ ছিলো ইবনে সিনা তাঁর কানুন গ্রন্থে জালিনূসের দৃষ্টিভগিগুলোকেও বিশ্লেষণ করেছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে কানুন গ্রন্থটির বেশিরভাগ অনুবাদ হয়েছিল খ্রিষ্টীয় ষোল শতকে।  ইবনে সিনা বিভিন্ন শহরে প্রয়োজনীয় সফরে গেছেন।

বিশেষ করে রেই শহর, হামেদান শহর এবং গোরগান শহরে গিয়েছিলেন তিনি। এইসব শহর সফরকালেই তিনি তাঁর কানুন গ্রন্থটি রচনা করেন। চিকিৎসা শাস্ত্র এবং চিকিৎসা বিদ্যার ক্ষেত্রে তাঁর সমকালে এই গ্রন্থটিই ছিল সবচেয়ে সুশৃঙ্খল এবং গোছানো। সেই কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও এই গ্রন্থটি একটা সুশৃঙ্খল আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছিল। কানুন পাঁচটি গ্রন্থের সমন্বিত সংকলন। এর প্রথম খণ্ডে রয়েছে মানুষের শরীর,রোগ এবং সুস্থতার জন্যে বিভিন্ন ঔষধের বর্ণনা। ১৯০৫ সালে এ বইটি ফ্রান্সে এবং ১৯৩০ সালে ব্রিটেনে অনূদিত হয়।

দ্বিতীয় গ্রন্থে রয়েছে হার্বাল মেডিসিনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা। ইতালীয় ভাষায় এই গ্রন্থটি অনূদিত হয় এবং ১৫৯৩ সালে রোমে গ্রন্থটি ছাপা হয়। কানুনের তৃতীয় খণ্ডে ইবনে সিনা শরীরের প্রতিটি অঙ্গের রোগ সম্পর্কে লিখেছেন। চতুর্থ খণ্ডেও জ্বরের বিভিন্ন প্রকার. রোগের বিচিত্র লক্ষণ, অপারেশন এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিয়ে লিখেছেন। কানুনের পঞ্চম এবং সর্বশেষ খণ্ডে বু আলি সিনা ঔষধ তৈরি, এগুলোর মিশ্রণ এবং তার উপায় সম্পর্কে লিখেছেন। এছাড়াও ইবনে সিনা তাঁর কানুন গ্রন্থে নিজের ব্যক্তিগত বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও অর্জন সম্পর্কে লিখেছেন। সর্বোপরি বলা যায় ইবনে সিনা তাঁর কানুন গ্রন্থটিতে তাঁর সময়কার গ্রিক এবং আরব চিকিৎসাবিদ্যার খুঁটিনাটিও সামগ্রিকভাবে সংকলিত করেছেন। যার ফলে এই গ্রন্থটি হয়ে উঠেছিল চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্যে একটি আকর বা অবশ্য পাঠ্য একটি গ্রন্থ। বইটির ঐ বৈশিষ্ট্য আজো বিদ্যমান। চর্ম এবং মনোরাগ সম্পর্কেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করে গেছেন।

কানুন গ্রন্থটি ছাড়াও ইবনে সিনা চিকিৎসা বিষয়ক আরো কয়েকটি বই লিখেছেন। চিকিৎসার তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক নিয়ম নীতিকে সহজে আত্মস্থ করার জন্যে ইবনে সিনা একটি কাব্যগ্রন্থও লেখেন। এই গ্রন্থটি উরজুযাতুন ফিত তিব নামে প্রসিদ্ধ। ইবনে সিনার কবিতা হিসেবে তাঁর এই বইটি খ্রিষ্টীয় তের শতক থেকে খ্রিষ্টীয় সতেরো শতক পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়। ইরানের বিশিষ্ট চিকিৎসাবিদ ও গবেষক ডক্টর বেলায়েতি ইবনে সিনার কবিতাকে কাব্যের আঙ্গিকে লেখা কানুন গ্রন্থেরই সারসংক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। ইবনে সিনা চিকিৎসা বিষয়ে, পেটের বৃহদন্ত সম্পর্কে, হার্টের বিভিন্ন রোগব্যাধি সম্পর্কে এবং সেইসাথে অন্যান্য রোগ বহু বিষয়ে অনেক চিঠিপত্র, গবেষণামূলক প্রবন্ধও লিখে গেছেন। তাঁর সমসাময়িককালে তো বটেই, পরবর্তীকালেও সেইসব লেখা নিয়ে গবেষকগণ ব্যাপক গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণার এই ধারা এখনো আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগুন

মংগলবার দুপুর ১ টার দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে নিউজ৩৯কে নিশ্চিত করেছেন দোহার ফায়ার সার্ভিসের লিডার গোলজার হোসেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাফিন জব্বার জানান, তিনি ৮ নম্বর রুমে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এসময় বিকট শব্দ শুনে বের হয়ে দেখেন কাউন্টারের পেছনে হাসপাতালের বিদ্যুৎ লাইনের প্রধান সংযোগ বোর্ডে আগুন লেগেছে। তাৎক্ষণিক তিনি কর্মকর্তাদের নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। তার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আসেন এবং তারা নিশ্চিত হন যে- শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

প্রতক্ষ্যদর্শী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহায়ক মো. আব্দুর রহিম জানান, ঘটনার সময় তিনি বহিঃ বিভাগের টিকিট কাউন্টারে রোগীদের টিকিট দিচ্ছিলেন। এসময় কাউন্টারের পেছনে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগের বোর্ডে বিকট শব্দ শুনে তিনি আতঙ্কিত হয়ে যান। পেছনে ফিরে দেখেন সুইচ বোর্ডে আগুন এবং সেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এসময় তিনি অফিসিয়াল খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়েন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টি,এইচ,এ) জানান, তার রুমের কম্পিউটার জ্বলে গেছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। তারা এসে তদন্ত করলে জানা যাবে বিদ্যুৎ সংযোগের বোর্ডে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি-না।

ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিল মাছ ব্যবসায়ীর জীবন

ঘাতক কাভার্ড ট্রাক কেড়ে নিলো দোহারের জয়পাড়ার মাছ ব্যবসায়ী কানাই মালো(৫৫) এর জীবন। সোমবার সকালে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মেঘুলা বাজারে ট্রাকচাপায় তিনি নিহত হন। কানাই মালো (৫৫) দোহার উপজেলার পূর্ব লটাখোলা এলাকার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে সিএনজিতে করে জয়পাড়া থেকে মাওয়া ঘাটে মাছ কিনতে যাচ্ছিলেন কানাই সহ আরও তিনজন মাছ ব্যবসায়ী। মাওয়া যাওয়ার পথে তারা মেঘুলা বাজারের সামনে পৌছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক সিএনজিটিকে চাপা দেয়। এসময় চারজন মাছ ব্যবসায়ী আহত হয়। এর মধ্যে কানাই মালোর অবস্থা আশঙ্কাজনক থেকে তাকে দ্রুত ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে কোনাখোলায় তাঁর মৃত্যু হয়। আহতদের দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

৩০ বছরে তীব্র পানির সংকটে ৫৭০ কোটি মানুষ

জলবায়ু পরিবর্তন, চাহিদা বৃদ্ধি এবং দূষিত পানি সরবরাহের কারণে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে ৫৭০ কোটি মানুষ তীব্র পানি সংকটে পড়বে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ।

২০১৮ সালের বিশ্ব পানি উন্নয়ন বিষয় জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর অন্তত ৩৬০ কোটি মানুষ এক মাস পানির সংকটে ভুগে। এই সংখ্যা ২০৫০ সালে ৫৭০ কোটিতে দাঁড়াবে বলে প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে। সোমবার ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় বিশ্ব পানি সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের সময় ইউনেসকোর পরিচালক অদ্রে আজোলে বলেন, ‘আমরা যদি কিছুই না করি, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে ৫০০ কোটির বেশি মানুষ পানির তীব্র সংকটের মুখোমুখি হবে।’

‘উন্নত পানি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনে কিছু সমাধান সুপারিশ করা হয়েছে। পানি সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ এবং অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শতাব্দীতে ছয়টি কারণে বিশ্বব্যাপী পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বছর এক শতাংশ হারে এই বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অভিযোজনের ধরনে পরিবর্তনের কারণে পানির ব্যবহার বেশি বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হচ্ছে, উন্নয়নশীল এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোতে পানির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক পানি চক্র তীব্রতর হচ্ছে। আদ্র অঞ্চলগুলোতে পানির প্রবাহ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শুষ্ক অঞ্চলগুলো আরো শুষ্ক হচ্ছে।

প্রতিবেদনটির প্রধান সম্পাদক রিচার্ড কনর বলেছেন, কথিত ‘গ্রে’ বা মানুষের তৈরি পানির অবকাঠামো যেমন- জলাধার, সেচ খাল, পরিশোধন কেন্দ্র এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়।

জাতিসংঘ যুক্তি দেখায়, পলি ভরাট, পরিবেশগত উদ্বেগ ও প্রতিবন্ধকতার কারণে নতুন করে সংরক্ষণাগার তৈরি করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বেশিরভাগ উন্নত দেশের স্বল্প ব্যয় ও সহজলভ্য স্থানগুলো ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।

‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে অধিক ইকোসিস্টেমের কারণে পানির সংকট তৈরি করে। যেমন- বাঁধ নির্মাণের চেয়ে প্রাকৃতিক জলাধার, পানির আদ্রতা উন্নয়নে, ভূগর্ভস্থ পানির পুনরায় সংরক্ষণ আরো টেকসই এবং সাশ্রয়ী হতে পারে।’

রিচার্ড কনর বলেন, ‘পানি চক্রের বিভিন্ন কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণে প্রকৃতি অসাধারণ এবং মৌলিক ভূমিকা পালন করে।’ প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধান ‘নিয়ন্ত্রক, পরিষ্কারক এবং পানি সরবরাহের ভূমিকা’ পালন করতে সক্ষম বলে কনর বলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সবুজায়ন’ ইতোমধ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

হকিংয়ের চেয়ে বড় বিজ্ঞানী বাংলাদেশের জামাল নজরুল ইসলাম

স্টিভেন হকিংকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন মিডিয়ার লেখালেখি দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে লেখাগুলো অতিরঞ্জন দোষে দুষ্ট ও হীনম্মন্যতাপূর্ণ। কারণ এর চেয়ে বড়ো বিজ্ঞানী আমাদের ছিল কিন্তু তাকে নিয়ে আমরা এমন করিনি। তাই হকিংকে নিয়ে লেখা আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হয়। এই বাড়াবাড়ি দেখে বুঝতে কষ্ট হয় না, আসলে বাঙালির কোনো আত্মমর্যাদা নেই। নেই স্বকীয় ঐতিহ্য তুলে ধরার সামর্থ্য। তারা কেবল নিজেদের অবহেলা করে পরকে মাথায় নিয়ে নাচে। সে কারণে অনেক মেধাবী থাকা সত্তে¡ও আমাদের অবস্থান পাতালের অতলে।

বলছিলাম, হকিংয়ের চেয়ে অনেক মেধাবী এবং বড়ো বিজ্ঞানী বাংলাদেশে ছিল। তিনি জামাল নজরুল ইসলাম। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ফেব্রæয়ারি ঝিনাইদহ শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়, আধুনিক বিশ্বের সাত জন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর নাম নিলেও জামাল নজরুল ইসলামের নাম চলে আসবে। তিনি সারা বিশ্বে জেএন ইসলাম নামে পরিচিত এবং বিজ্ঞানীদের কাছে বাংলাদেশ জেএন ইসলামের দেশ হিসেবে পরিচিত। জেএন ইসলাম ছিলেন ক্যাম্ব্রিজে হকিংয়ের রুমমেট, বন্ধু এবং সহকর্মী। প্রায় অর্ধ ডজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ বন্ধু জেএন ইসলামকে বলা হতো আধুনিক পৃথিবীর অন্যতম মেধাবী মানুষ।

কেন এমন বলা হতো, তার দুটি উদাহরণ দিই। ক্যাম্ব্রিজের ট্রিনিটি থেকে গণিতে ট্রাইপস পাস করতে লাগে তিন বছর। জেএন ইসলাম তা দুই বছরে শেষ করে বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিলেন। ২০০১ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীর তাবৎ বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সে সময় জামাল নজরুল ইসলাম গণিতের হিসাব কষে পৃথিবীর মানুষকে আস্বস্ত করে বলেছিলেন, সে রকম কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ, প্রাকৃতিক নিয়মে সৌরজগতের সবগুলো গ্রহ একই সরলরেখা বরাবর চলে এলেও তার প্রভাবে পৃথিবী নামক গ্রহের কোনো ক্ষতি হবে না।

চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় এত ভালো করেছিলেন যে, শিক্ষকৃবন্দ তাকে ডাবল প্রমোশন দিয়ে এক শ্রেণি উপরে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের শিক্ষক ফাদার সোরে জেএন ইসলামকে ডাকতেন জীবন্ত কম্পিউটার বলে। অন্যান্য বিজ্ঞানী যেখানে কম্পিউটার ও ক্যালকুলেটর নিয়ে কাজ করতেন সেখানে জেএন ইসলাম এগুলি ছাড়াই বড়ো বড়ো হিসাব মুহূর্তে করে দিতেন। তিনি বলতেন, কম্পিউটার আমার কাছে অপ্রয়োজনীয়। তবে তিনি কম্পিউটারের সাধারণ প্রয়োজনীয়তা কখনো অস্বীকার করেননি।

একাধারে পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ত¡বিদ ও অর্থনীতিবিদ জেএন ইসলাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে হকিং বলেছিলেন, ‘জেএন ইসলাম আমার রুমমেট, বন্ধু এবং আমরা ছিলাম পরস্পর পরস্পরের শিক্ষক।’ ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হকিং যেসব বিজ্ঞানীদের নিয়ে গবেষণা করেছেন, তন্মধ্যে জেএন ইসলাম ছিলেন অন্যতম। যেমন বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু প্রথম রেডিও আবিষ্কার করলেও কৃতিত্ব চলে গিয়ছিল মার্কনির কাছে। ঠিক তেমনটি ঘটেছে জেএন ইসলামের ক্ষেত্রেও।

স্টিফেন হকিং যদি বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী হন, তাহলে জেএন ইসলাম ব্রহ্মান্ড খ্যাত। বাংলাদেশের কোনো পত্রিকায় তাকে নিয়ে এভাবে লেখা হয়নি, যেমনটি লেখা হয়েছে হকিংকে নিয়ে। নিজের ভাই মহাশয়, এই জ্বালা কি প্রাণে সয়? বাঙালিরা এই বোধ থেকে কখন বের হয়ে আসতে পারবে জানি না।

পদার্থবিদ্যার আবিষ্কার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণ করতে হয় কিন্তু হকিংয়ের কোনো বর্ণনা তিনি প্রমাণ করতে পারেননি। এজন্য তাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি। তাই অনেকে মনে করেন, হকিং যত বড়ো না বিজ্ঞানী তার চেয়ে বেশি বিজ্ঞানকল্পকাহিনির লেখক। তিনি মেধাবী ছিলেন নিঃসন্দেহে, তবে বিশ্বব্যাপী যে প্রচার তিনি পেয়েছেন তা শুধু মেধার জন্য নয়, বরং তার অসুস্থতা, অমুসলিম এবং ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার জন্য ঘটেছে। কিন্তু জামাল নজরুল ইসলাম নিজ দেশ থেকেও এমন মূল্যায়ন পাননি। প্রচার ছাড়া প্রসার কীভাবে হয়? বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত জামাল নজরুল ইসলামের লেখা ‘কৃষ্ণবিবর’ গ্রন্থটি হকিংয়ের ব্ল্যাকহোল থিউরির অনেক আগেই প্রাচ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠিত। কিন্তু আমরা কেউ তা জানি না। জানলেও তা কেউ প্রচার করিনি।

সারা বিশ্বে বিজ্ঞানী মহলে জেএন ইসলাম জিনিয়াস ইসলাম নামেও পরিচিত ছিলেন। জাপানি প্রফেসর মাসাহিতো বলেছেন, ‘ভারতের বিখ্যাত জ্যোতিপদার্থ বিজ্ঞানী জয়ন্ত নারলিকা জেএন ইসলামের সহপাঠী ছিলেন। ফ্রেডরিক হয়েল, নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ব্রায়ান জোসেফসন, স্টিফেন হকিং, প্রফেসর আব্দুস সালাম, রিচার্ড ফাইনমেন, অমর্ত্য সেন প্রমুখ ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের মুখে আমি অনেক বার জেএন ইসলামের কথা শুনেছি। জেএন ইসলামের ‘দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স’ লেখা হয়েছে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে কিন্তু হকিংয়ের ‘অ্যা ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম’ লেখা হয়েছে ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে। দুটি গ্রন্থ তুলনা করলে নিঃসন্দেহে জেএন ইসলামের বইটি যে কোনো বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ। কিন্তু ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম নিয়ে আমরা যে তোলপাড় করেছি, জেএন ইসলামের আল্টিমেট ফেইট নিয়ে তার এক সহশ্রাংসও করিনি।

হকিং তাঁর মূল্যবান গবেষণা সময়ের অধিকাংশই ব্যয় করতেন বাঙালি প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের সম্পর্ক ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থেকে পারিবারিক বন্ধুত্বে উন্নীত হয়েছিল।

হকিংয়ের জ্যেষ্ঠ ছেলে রবার্ট, কন্যা লুসি এবং কনিষ্ঠ ছেলে থিমোতি জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গ খুব পছন্দ করতেন। জামাল নজরুল ইসলামের দুই মেয়ে সাদাফ যাস সিদ্দিকি ও নার্গিস ইসলাম ছিলেন তাদের খুব আদরের। সাদাফ যাসের আমন্ত্রণে লুসি ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে লিট ফিস্টে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এসেছিলেন। অর্থশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে এলে বন্ধু জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করার জন্য চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিলেন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী আবদুস সালাম বাংলাদেশে এলে বিমান বন্দরে নেমে বলেছিলেন, জেএন ইসলামকে খবর দিন। ওই সফরে জেএন ইসলামকে একটা পদকও দিয়েছিলেন প্রফেসর আবদুস সালাম। উল্লেখ্য, বয়সে জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন হকিংয়ের সিনিয়র কিন্তু আবদুস সালাম এবং অমর্ত্য সেনের জুনিয়র।

কেম্ব্রিজের শিক্ষক প্রফেসর সুসানার ভাষায়, ‘বিজ্ঞানময়তা বিবেচনায় হকিংয়ের অ্যা ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম-এর চেয়ে অনেক গুণ কার্যকর এবং বিজ্ঞানানুগ হচ্ছে জেএন ইসলামের দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স।’ বলা হয়, ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম এক কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। বিজ্ঞানগুরুত্বে যদি এটি হয়ে থাকে, তাহলে জেএন ইসলামের ‘দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স’ একশ কোটি কপি বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু হয়নি।

কেন? কারণ প্রচার হয়নি। আমরা করিনি। জেএন ইসলাম মুসলিম, জেএন ইসলাম তৃতীয় বিশ্বের লোক। তাই পাশ্চাত্যে যথাগুরুত্ব পাননি। জেএন ইসলামের দেশের লোকই তাকে তুলে ধরতে পারেনি, অন্যরা কেন করবে? জেএন ইসলামের লেখা এবং ক্যাম্ব্রিজ থেকে প্রকাশিত ‘রোটেটিং ফিল্ডস ইন জেনারেল রিলেটিভিটি’ বইটাকে বলা হয় আধুনিক বিজ্ঞানের একটি অদ্বিতীয় বই। সেটা নিয়ে অধিকাংশ বাঙালি কিছুই জানে না। নিজের ঘরের মানুষের কৃতিত্বের খবর যদি ঘরের মানুষ না রাখে তাহলে বাইরের লোকে রাখবে কেন? জেএন ইসলামের ‘দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স’ ছাড়া আর কোনো বাঙালির বই হিব্রæ ভাষায় অনূদিত হয়নি। তার তিনটি বই এবং দুটি আর্টিক্যাল ক্যাম্ব্রিজ, অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, প্রিস্টনসহ পৃথিবীর শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। অথচ বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় কি না আমার জানা নেই। এ হিসেবেও জামাল নজরুল ইসলাম হকিংয়ের চেয়ে অনেক বড়ো বিজ্ঞানী।

জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক। নিজের আয় থেকে অর্থ জমিয়ে দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ বন্ধের উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন। সর্বোপরি, বিদেশে সহস্র পাউন্ডের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে জামাল নজরুল ইসলাম বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশে ফেরার আগে জামাল নজরুল ইসলামের পরামর্শ চাইলে তিনি, জাফর ইকবালকে দ্রুত দেশে ফেরার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ পাবেন। দেশে ফিরে নিজের অধ্যয়নভূমি (জন্মস্থান ঝিনাইদহ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩০০০ টাকার বৃত্তিতে কাজ শুরু করেন। ভেবেছিলেন দেশ তাঁকে মূল্যায়ন করতে পারবে, পারলেও করেনি। আমরা বাঙালিরা তাকে ওই তিন হাজার টাকা ছাড়া আর কিছুই দিতে পরিনি। তিনি যদি দেশে না আসতেন তাহলে পৃথিবী অনেক কিছু পেত। স্বার্থপর জেএন ইসলাম নিজের দেশের জন্য পৃথিবীকে বঞ্চিত করেছেন। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেন।

নবাবগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার সিআর মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী মো. সালাম (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। মো সালাম নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের সমসাবাদ গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

নবাবগঞ্জ পুলিশ জানায়,  ৫টি সিআর মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী সালাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, উপ পরিদর্শক মো. আজাহারুল ইসলাম খোকন ও সহকারী উপ পরিদর্শক মো. সুজন অভিযান চালিয়ে সালামকে শনিবার গ্রেপ্তার করে। আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সৌদিতে শ্রম সংকট, বিপদে অনেক বাংলাদেশি

দীর্ঘদিন সুযোগ সংকুচিত থাকার পর গত বছর সাড়ে পাঁচ লাখ বাংলাদেশি ওয়াকার্স ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে যান। কিন্তু তাদের একটি বড় অংশ সেখানে নির্দিষ্ট চাকরিতে যোগ দিতে পারছে না। ফলে তৈরি হয়েছে সংকট। অসহায় মানুষগুলো প্রতিদিনই ভিড় করছেন বাংলাদেশ দূতাবাসে। যোগাযোগ করা হলে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশনের লেবার কাউন্সিলর মোহাম্মাদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে এবং প্রতিদিন বাংলাদেশিরা দূতাবাসে আসছেন। আমাদের পক্ষে যত দূর সম্ভব চেষ্টা করা হয় তাদের সমস্যা দূর করার জন্য।’তিনি বলেন, ‘এটি অভিবাসীদের অসচেতনার জন্য ঘটছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তারা জানেন, যে চাকরির কথা বলে সৌদি আরবে আসছেন সে চাকরিতে তারা যোগ দিতে পারবেন না।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেবার কাউন্সিলর তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে অনেকে ফ্রি ভিসা নিয়ে আসেন এবং তারা জানেন, তাদের সৌদি আরবে নিজে থেকে চাকরি খুঁজে নিতে হবে। কিন্তু এটি এত সোজা নয়। কারণ, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কম এবং নতুন কাজের সুযোগ কম।’

এখানে দূতাবাসের ভূমিকা কী জানতে চাইলে মোহাম্মাদ সারওয়ার আলম তিনি বলেন, ‘আইনগতভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস যে কোনও চাকরির এটাস্টেশন (প্রত্যায়ন) করার পরে ভিসা ইস্যু হওয়ার কথা কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এটাস্টেশন ছাড়াই ঢাকায় কাগজপত্র তৈরি করা হয় এবং সৌদি দূতাবাস ভিসা ইস্যু করে। আমরা বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বলেছি এবং দূতাবাসের এটাস্টেশন ছাড়া কোনও ভিসা ইস্যু না করার অনুরোধ জানিয়েছি।’

তিনি জানান, বিষয়টি তারা (সৌদি কর্তৃপক্ষ) অনুধাবন করেছে এবং তারা ভবিষ্যতে সতর্ক হয়ে কাজ করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দূতাবাসের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে কয়েকটি পক্ষ এ বিষয়টি থেকে লাভবান হয় এবং গোটা লোকসানের ভাগ পান হতভাগ্য অভিবাসীরা।’তিনি জানান, একজন অভিবাসী কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে আসেন এবং যখন তারা সঠিক কাজ খুঁজে না পান তখন বিপদে পড়ে দূতাবাসে আসেন।

এটাস্টেশন বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সঠিক নিয়ম হচ্ছে কোনও সৌদি নিয়োগকর্তা তার লোকের প্রয়োজন হলে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ দূতাবাসকে জানায়। দূতাবাস সরেজমিনে নিয়োগকর্তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে তার আবেদন এটাস্টেশন করার পরে ঢাকায় লোক পাঠানোর কাজ শুরু হয়।’ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এখানকার একটি দালাল চক্র দূতাবাসের এটাস্টেশন ছাড়াই কাগজপত্র তৈরি করে এবং সৌদি দূতাবাসে ভিসার জন্য জমা দেয় বলে জানান তিনি।

এটাস্টেশন জাল করে করে সৌদি দূতাবাসে জমা দেওয়া হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি জাল করার সুযোগ নেই। কারণ, এটি অনলাইনে জমা দেওয়া হয় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ অনলাইনে গেলেই জানতে পারে কোনটি এটাস্টেশন করা এবং কোনটি নয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন প্রচারণা চালানো উচিত এটাস্টেশন ছাড়া কেউ যদি এখানে চাকরি নিয়ে আসেন, তার সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।’

নবাবগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বালুরচর থেকে ১০৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিনকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।  আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী একই গ্রামের  তোতা মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক বেচাকেনা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে  বৃহস্পতিবার উপজেলার বালুরচর গ্রামে এসআই মো. জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় নাসিরকে ১০৮ পিচ ইয়াবাসহ আটক করা হয়।