শিহাবের দায়িত্ব নিলেন শামীমা রাহিম শীলা

 

শিহাব অষ্ঠম শ্রেনীতে পড়ুয়া বৃত্তি পাওয়া এক দরিদ্র মেধাবী ছাত্র। দারিদ্রতার কষাঘাতে পড়াশোনার পাশাপাশি মৈনট ঘাটে নিয়মিত কাজ করতে হতো এই মেধাবী ছাত্রকে। প্রতিদিন সকালে কাজ শেষ করে স্কুলের পথে পা বাড়াত শিহাব। অতঃপর তার কষ্টের দিন মনে হয় শেষ হলো। তার যাবতীয় পড়াশোনার খরচ বহন করার ঘোষনা দিয়েছেন দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম শীলা। শিহাবের কথা শুনে শামীমা রাহিম শীলা ছুটে যান কার্তিকপুর স্কুলে এবং স্কুল কতৃপক্ষের উপস্থিতিতেই শিহাবের সকল ব্যইয়ভার বহন করার ঘোষনা

বারুয়াখালীতে ট্রাক চাপায় এক শিশু নিহত

ঢাকার নবাবগঞ্জের বারুয়াখালি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখালি গ্রামে ট্রাক চাপায় চার বছর বয়সী এক শিশুর নিহত হয়েছে। নিহত শিশুর নাম সাইম হোসেন। সে ওই এলাকার মো. হারুনের ছেলে। শনিবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নবাবগঞ্জ থানার বারুয়াখালি তদন্ত কেন্দ্রের এসআই কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এসআই কামরুল বলেন, সাইম মায়ের সঙ্গে হেঁটে বাড়িতে যাচ্ছিল। পথে কাশিয়াখালি বেড়িবাঁধ থেকে বান্দুরামুখী একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ট্রাকসহ চালককে আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে চালককে গ্রেপ্তার ও সাইমের লাশ উদ্ধার করে বলে জানান তিনি।

নবাবগঞ্জ ইউএনও এর সরকারি নাম্বার ক্লোনের অভিযোগ

ডেস্ক৩৯: শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান যে তার সরকারি নাম্বার ০১৯৩৩৪৪৪০৩৭ ক্লোন করা হয়েছে। যদি কেউ এই নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে কাউকে হয়রানির চেষ্টা করে তবে তাতক্ষণিক তা ইউএনও মহোদয়কে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দোহারে ছাত্রদলের মিছিল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৫ বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি ও তারুন্যের অহংকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রহসনের মামলায় মিথ্যা সাজা’র প্রতিবাদে মিছিল করেছে দোহার উপজেলা ছাত্রদল, দোহার পৌরসভা ছাত্রদল ও জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদল। এই সময় মিছিল থেকে খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি ও তারেক জিয়ার সব মামলার প্রত্যাহারের দাবি জানান।

নবাবগঞ্জে ভাইদের হাতে ভাই খুন

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নে  জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভাইদের লাঠির আঘাতে ভাই নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের উত্তর কিরিঞ্জি মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মৃত বাবুল মণ্ডল দক্ষিণ বালুখণ্ড গ্রামের লাল মিয়া মণ্ডলের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর কিরিঞ্জি মসজিদের সামনে বিকালে বাবুল মণ্ডল ও তার চাচাতো ভাইদের মাঝে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি গ্রাম্য সালিশি হয় এবং তা মীমাংসাও হয়। সালিশি শেষে বাবুলের চাচাতো ভাই রশিদ, আওলাদ, কুব্বাত, হবি, আমজাদসহ আরো কয়েকজন মিলে লাঠিসোটা নিয়ে বাবুলকে এলোপাতারি পিটানো শুরু করে। একপর্যায়ে বাবুলের মাথায় লাঠির আঘাত লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। এ সময় আঘাতকারী পালিয়ে যায়। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে রাত সাড়ে ৭টায় স্বজনরা আহত বাবুলকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় তিনি আগেই মারা গেছেন।

বাবুলের ছোট ভাই জাবেদ মণ্ডল জানান, তাদের ৮ চাচার ওয়ারিশ সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। উত্তর কিরিঞ্জি মসজিদের সামনে সালিশি বৈঠকে জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলো মীমাংসিত হয়। বৈঠক শেষে তার চাচাতো ভাইয়েরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে লাঠিপেটা করে তাকে হত্যা করেন। তিনি তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক হচ্ছে মুন্সীগঞ্জে

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশে। ৫৫ কিলোমিটার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়কে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চার লেন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের জন্য নির্মাণ করা হবে দুই লেনের সড়ক। এতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে ১০৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। তবে কাজ শুরু না করেই ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে এক দফা। গত অক্টোবরে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ২৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এখন তা ৯৩২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে প্রকল্পটির প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্তের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্র জানায়। তাই এই ঠিক থাকলে বিশ্বে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক হবে এটি। বিশ্বের উন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে। ইউরোপে চার লেনের নতুন মহাসড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ২৮ কোটি টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ ব্যয় ১০ কোটি টাকা। আর চীনে তা গড়ে ১৩ কোটি টাকা। তবে অপরিকল্পিত ব্যবস্থায় কারণেই সড়ক নির্মাণে ব্যয় বেশি হচ্ছে কিন্তু মান পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সড়ক অবকাঠামো বেশি স্থায়ী হচ্ছে না বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে জন্য ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতর প্রকল্প নেয়া হয় ২০১৫ সালে। গত অক্টোবরে প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের ব্যয় অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এর মধ্যে বিদেশে প্রশিক্ষণ বাবদ খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের কার্যক্রম বিবেচনায় বিদেশ ভ্রমণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত, বিদেশ ভ্রমণের বিষয়াবলি কী হবে, কোন সংস্থার লোক কোন পর্যায়ে বিদেশ ভ্রমণ করবেন- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় গাড়ি ক্রয়, মেরামত ও সংরক্ষণ বাবদ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, অফিস ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতি বাবদ ৫ কোটি টাকা ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইক্যুইপমেন্ট বাবদ ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এর বাইরে অপর এক খাতে কম্পিউটার খাতে ১ কোটি ও অন্যান্য দ্রব্যাদি খাতে ৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। আর যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত বাবদ ৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। গাড়ির গ্যাস, পেট্রোল, লুব্রিকেন্ট ও জ্বালানি খাতে ৮ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ খাতে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ও বিদ্যমান ৪টি সেতু ভাঙতে ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান বাজারদরের চেয়ে এসব ব্যয় বেশি মত দেয় মন্ত্রণালয়। আবার অদৃশ্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আর উৎসব ভাতা খাতে ধরা হয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় ৫৫ কিলোমিটার চার লেন ছাড়াও ৮টি আরসিসি ব্রিজ, ১৯টি পিসি গার্ডার ব্রিজ, ২টি ফ্লাইওভার, ৭টি ওভারপাস ও ৮টি প্রেড সেপারেটর (ইউ লুপ) নির্মাণের কথাছিল। পরবর্তীতে এরসঙ্গে ইকুরিয়া মোড়ে আরেকটি ওভারপাস যুক্ত করা হয়েছে। শতভাগ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৫ হাজার ৯৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক বলেন, সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক বলা ঠিক নয়। ডিপিপি যে ব্যয় চূড়ান্ত করা হবে সে অনুযায়ী সড়ক নির্মাণে ব্যয় হবে। তবে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়কটি নির্মাণ করা হবে ছয় লেনের। এর মধ্যে চার লেন থাকবে সম্পূর্ণ এলিভেটেড। এছাড়া স্থানীয় যানবাহন চলাচলের জন্য পাশ দিয়ে দুই লেন বিশিষ্ট সড়ক নির্মাণ করা হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তত্ত্বাবধায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর এই সড়কটি নির্মাণ করবে। এতে ফ্লাইওভার এবং ওভারপাস থাকায় এর ব্যয় একটু বেশি হতে পারে।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে সওজের বিভিন্ন চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পের কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় জানতে চায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এর উত্তরে ৮টি প্রকল্পের তথ্য জমা দেয় সওজ। এক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি সবচেয়ে বেশি ব্যয় দেখানো হয় প্রস্তাবিত ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা চার লেনের। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা বিশ্বে সবচেয়ে ব্যয়বহুল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চার লেন সড়কের তুলনায় ঢাকা-মাওয়ায় প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ অনেক কম। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন খাতে তাই ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। এছাড়া কিলোমিটারপ্রতি ব্যয়ের দিক থেকে এরপর রয়েছে এলেঙ্গা-রংপুর চার লেন প্রকল্প। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ৬৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। এটিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যান্য প্রকল্পের কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় আরও কম। এর মধ্যে সম্প্রতি শুরু হওয়া ঢাকা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা চার লেন প্রকল্পের কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ৪৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। শেষ হতে চলা ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনে এ ব্যয় ১৯ কোটি ৮৫ লাখ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পে ২০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। যদিও ইউরোপে চার লেনের নতুন মহাসড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ২৮ কোটি টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ ব্যয় ১০ কোটি টাকা। আর চীনে তা গড়ে ১৩ কোটি টাকা। তাই ব্যয় বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশে সড়ক নির্মাণে অনেক বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

২০১৪ সালে সেপ্টেম্বরে জেনেভায় ইউএন-ইসিই (ইকোনমিক কমিশন ফর ইউরোপ) আয়োজিত এক সেমিনারে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মহাসড়ক নির্মাণের তুলনামূলক ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন গ্রিসের ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব এথেন্সের অধ্যাপক দিমিত্রিয়স স্যামবুলাস। ‘এস্টিমেটিং অ্যান্ড বেঞ্চমার্কিং ট্রান্সপোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার কস্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, চার লেনের নতুন মহাসড়ক নির্মাণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খরচ হয় গড়ে ৩৫ লাখ ডলার বা ২৮ কোটি টাকা। আর দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ২৫ লাখ ডলার বা ২০ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সড়ক অবকাঠামোর নির্মাণ ব্যয়-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হবে ২২ লাখ ডলার বা ১৭ কোটি টাকা। আর দুই লেনের মহাসড়ককে চার লেন করতে এ ব্যয়ের পরিমাণ সাড়ে ১৪ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ কোটি টাকা। ৪০টি দেশের নির্মাণ ব্যয়ের ভিত্তিতে ইকোনোমেট্রিক মডেল প্রয়োগ করে গড় ব্যয় নির্ণয় করা হয়। ‘দ্য কস্ট অব রোড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন লো অ্যান্ড মিডল ইনকাম কান্ট্রিজ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি যৌথভাবে প্রণয়ন করেন অক্সফোর্ড, কলাম্বিয়া ও গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন অধ্যাপক।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, চার লেনের নতুন মহাসড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় গড়ে ৮-৯ কোটি রুপি; বাংলাদেশের মুদ্রায় যা সাড়ে ৯ থেকে সাড়ে ১০ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণ ব্যয়ও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আর জমি অধিগ্রহণ করা না হলে ব্যয় অর্ধেকে নেমে যাবে। তবে দুই লেনের মহাসড়ক চার লেন করতে কিলোমিটারপ্রতি ৫ কোটি রুপি বা ৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। দেশটির ১২তম (২০১২-১৭) পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ রয়েছে। চীনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটিতে চার লেনের নতুন মহাসড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় গড়ে ১৬-১৭ লাখ ডলার; বাংলাদেশের মুদ্রায় যা সাড়ে ১২ থেকে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা। তবে দুই লেনের মহাসড়ক চার লেন করতে কিলোমিটারপ্রতি পড়বে ১০ কোটি টাকার কম। দেশটির ১২তম (২০১০-১৫) পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ তথ্য উল্লেখ আছে।

এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক বলেন, নতুন চার লেন প্রকল্পগুলোয় ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন নির্মাণ করা হবে। রেলক্রসিং ও ইন্টারসেকশনে (মোড়) ওভারপাস, ইউ-লুপ ও ফ্লাইওভার থাকবে। ফলে আন্তর্জাতিক মানের সড়কে কোনো বাধা ছাড়াই যানবাহন চলাচল করবে। বেশকিছু সেতু ও কালভার্টও রয়েছে প্রকল্পগুলোর আওতায়। এছাড়া জমি অধিগ্রহণেও ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এজন্য খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানের কারণে সড়কের নির্মাণ ব্যয় বেশি হবে- এ যুক্তির সঙ্গে একমত নন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ২০০৫ সালে নির্মাণ করা বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কটি বাংলাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের সড়ক। ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনও রয়েছে এতে। এটি নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ কোটি টাকা। গত ১০ বছরে এ ব্যয় বাড়লেও ১০ কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে ফ্লাইওভার বা ওভারপাস ও সেতুর কারণে ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। তবে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ১০৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা হওয়ার পেছনে কি কারণ রয়েছে তা স্পষ্ট নয় বলে জানান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক।

সুদান: সভ্য মানুষ চিরতরে মুছে দিল প্রকৃতির এক নিযুত বয়সী প্রাণ

কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবীতে গন্ডারের বসবাস। অসংখ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল জলবায়ু কিংবা রোগ-বালাই মোকাবেলা করে তারা টিকে আছে পৃথিবীর বুকে। হাজার হাজার বছর ধরে যে প্রাণীগুলো এসব প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে টিকে আছে, সেই প্রাণীগুলোই একে একে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষ নামক সভ্য সমাজের কারণে। সর্বশেষ গত ১৯ মার্চ উত্তরাঞ্চলীয় পুরুষ শ্বেত গন্ডারটির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই উপ-প্রজাতিটির বিলুপ্তিও এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে গেল।

কে এই সুদানঃ  ৪৫ বছর বয়সী উত্তরাঞ্চলীয় শ্বেত গন্ডারটির নাম ছিল সুদান। এর জন্ম আনুমানিক ১৯৭৩ বা ১৯৭৪ সালে দক্ষিণ সুদানের এক জঙ্গলে। এক বা দুই বছর বয়সে তাকে সমগোত্রীয় আরো কয়েকটি প্রাণীর সাথে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার দাভুর ক্রালোভ চিড়িয়াখানাতে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে একে কেনিয়ার ওআই পেজেটা  তত্ত্বাবধানকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সুদান সেখানেই দুটি নারী গন্ডারের সাথে অবস্থান করছিল। এদের একটি হচ্ছে ২৭ বছর বয়সী নাজিন, অন্যটি ১৭ বছর বয়সী ফাতু। একটি তার মেয়ে, অন্যটি নাতনী।

কীভাবে সুদানের মৃত্যু ঘটলঃ মৃত্যুকালে সুদানের বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর, যা ৯০ বছর বয়সী মানুষের সাথে তুলনীয়। বয়সজনিত কারণে সুদানের শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছিল। হাড় ও মাংসপেশী দুর্বল হয়ে এসেছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছিল। গত মাসের শেষের দিকে পেছনের পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হলে তার শারীরিক কষ্ট আরো বৃদ্ধি পায়। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর দিকে তাকে দুই সপ্তাহ তার খাঁচায় শুয়ে শুয়ে কাটাতে হয়েছিল। তত্ত্বাবধান কেন্দ্রের কর্মীদেরকে সুদানের ক্ষতস্থানগুলো দিনে দুবার করে পরিষ্কার করে দিতে হতো।

কিন্তু তারপরেও তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। শেষ ২৪ ঘণ্টায় তার শারীরিক কষ্ট অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতির কোনো সম্ভাবনা না থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকে ঘুমের মধ্যে মৃত্যুর ব্যবস্থা করা হবে। ফলে তার মৃত্যুর কষ্ট লাঘব হবে। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৯ মার্চ সোমবার তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

কেন প্রজাতিটি বিলুপ্ত প্রায়ঃ হাতির পরেই আকারে সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী এরা। পৃথিবীতে মোট পাঁচ প্রজাতির গন্ডারের সন্ধান পাওয়া যায়, যার মধ্যে একটি হচ্ছে আফ্রিকার শ্বেত গন্ডার। শ্বেত গন্ডারের আবার দুটি প্রকরণ আছে- উত্তরাঞ্চলীয় এবং দক্ষিণাঞ্চলীয়। উত্তরাঞ্চলীয় শ্বেত গন্ডারের আবাসস্থল ছিল উগান্ডা, চাদ, সুদানসহ পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ জুড়ে। কিন্তু সত্তর ও আশির দশকে এসব অঞ্চলে বন্যপ্রাণী শিকারিদের দৌরাত্যে এদের সংখ্যা ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে। সর্বশেষ বন্য গন্ডারের দেখা পাওয়া গিয়েছিল ২০০৬ সালে।

গন্ডারের চামড়া এবং শিংয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাদের শিং ছুরির বাট এবং ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। প্রাণী শিকারি তথা পোচারদের কারণে নব্বইয়ের দশকেই অধিকাংশ উত্তরাঞ্চলীয় শ্বেত গন্ডার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। শুধুমাত্র কঙ্গোর গারাম্বা ন্যাশনাল পার্কে বেঁচে থাকে হাতে গোনা মাত্র অল্প কয়েকটি গন্ডার। তাদেরকে সংরক্ষণের জন্য পরিবেশ এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনকর্মীরা যথেষ্ট সোচ্চার ছিলেন।

যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারলে হয়তো প্রজাতিটিকে রক্ষা করা যেত। দক্ষিণাঞ্চলীয় শ্বেত গন্ডারও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রায়  বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এদের সংখ্যা মাত্র ২০-এ নেমে এসেছিল। কিন্তু সংরক্ষণ কর্মসূচী এবং শিকার বিরোধী কঠোর আইনের ফলে ধীরে ধীরে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলীয় শ্বেত গন্ডারের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে শুরু হওয়া দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধের কারণে উত্তরাঞ্চলীয় শ্বেত গন্ডার সংরক্ষণ কর্মসূচী বাধাগ্রস্ত হয়। যুদ্ধে কঙ্গোর জনগণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে গন্ডারের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার মতো অবকাশ কারো ছিল না। তাছাড়া সেভ দ্য রাইনো সংগঠনের মতে, এসময় গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বাহিনীগুলোর হাতেও গারাম্বা বনের গন্ডারগুলো হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। সশস্ত্র বাহিনীগুলো নিজেদের অস্ত্র এবং গোলাবারুদের খরচ যোগানোর জন্য গন্ডারগুলোকে হত্যা করে তাদের চামড়া এবং শিং বিক্রি করে দেয়।

প্রজাতিটি টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টাঃ সুদানকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এবং এর মাধ্যমে প্রজাতিটির বংশ বৃদ্ধির জন্য ওআই পেজেটা কর্তৃপক্ষ অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সব চেষ্টা বিফল হয়েছে। সুদানকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখার জন্যই ২০০৯ সালে তাকে চেকোস্লোভাকিয়া থেকে কেনিয়ার ওআই পেজেটাতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। আফ্রিকার পরিবেশ তার জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সহনীয় হবে, এই আশায় তাকে ৭০ একর জমির উপর নির্মিতপ্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যেই রাখা হয়েছিল। চিড়িয়াখানা কিংবা তত্ত্বাবধান কেন্দ্রেও সশস্ত্র পোচারদের আক্রমণ করার উদাহরণ আছে। তাই সুদানকে রক্ষার জন্য ওআই পেজেটাতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র প্রহরীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

২০১৪ সালে সুদানের শুক্রাণু সংগ্রহ করে তা দিয়ে অন্য দুই নারী গন্ডারকে গর্ভধারণ করানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বয়সজনিত কারণে ততদিনে সুদানের উৎপাদন ক্ষমতা অনেক হ্রাস পাওয়ায় এ উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখেনি। এর নামে গত বছর ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রধানত প্রচারণামূলক, যেন গন্ডারের জন্য কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ (IVF) এর উন্নয়নের জন্য তহবিল গঠন করা যায়।

সুদানের মৃত্যুর পর প্রাকৃতিকভাবে গন্ডারের প্রজাতিটির বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেছে, যদি না আফ্রিকার প্রত্যন্ত কোনো জঙ্গলে এখনো এ প্রজাতির দুই-একটি গন্ডারের অস্তিত্ব টিকে থাকে। প্রজাতিটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য এখন আইভিএফ পদ্ধতিই শেষ ভরসা। আইভিএফ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এর মাধ্যমে সন্তান উৎপাদন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটি গন্ডারের জন্ম দিতে খরচ হতে পারে প্রায় ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তারপরেও তা সফল হবে কিনা, তার নিশ্চয়তা নেই।

গন্ডারের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শ্বেত গন্ডারের সংখ্যাই সর্বাধিক, প্রায় ২০ হাজার। তবে সুমাত্রান এবং জাভান নামক দুটি প্রজাতির সংখ্যা বর্তমানে যথাক্রমে ১০০টি এবং ৬৭টি। ২০১৩ সালে কালো গন্ডারের একটি উপ-প্রজাতিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। উত্তরাঞ্চলীয় শ্বেত গন্ডারও হয়তো শীঘ্রই সে তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে। মানুষ যদি তাদের লোভ সংবরণ না করে এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণে আরো সোচ্চার না হয়, তবে অচিরেই হয়তো পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাবে এরকম আরো অনেক প্রাণী। দিন শেষে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মানুষই।

কৈলাইল থেকে ইয়াবাসহ ২ বিক্রেতা আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ মোসলেম (৩৫) ও শেখ ইউসুফ (২৮) নামে দুই মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাতে তাদের আটক করা হয়। আটক মোসলেম কৈলাইল গ্রামের মৃত ওয়ালিউল্লার ছেলে ও শেখ ইউসুফ আমীরপুর গ্রামের শেখ জামালের ছেলে।

নবাবগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত হোসেন বলেন, বুধবার রাতে ৩০৫ পিস ইয়াবাসহ মোসলেমকে এবং ৫৫পিস ইয়াবাসহ ইউসুফকে আটক করে পুলিশ। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি করছিলেন।

দোহার থেকে পুলিশে নিয়োগ পেলেন ৩০ জন, দোহার থানার সংবর্ধনা

সারা দেশের মতো দোহার থেকেও ১০০ টাকার বিনিময়ে চাকরি পেল ৩০ জন। স্বচ্ছ ও পরিস্কার উপায়ে দৃষ্টান্ত রাখল ঢাকা জেলা পুলিশ। মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে মাত্র ১০০ টাকাতেই মিলল পুলিশে চাকরি! এরকম ১০০ টাকায় কনস্টেবলে চাকরি পাওয়া  দোহার উপজেলার ৩০ জনকে নিয়ে ব্যাতিক্রমী অনুষ্ঠান আয়োজন করে দোহার থানা পুলিশ।  চাকরি পাওয়া ছেলে-মেয়েদের সাথে ডাকা হয়েছিল অভিভাবকদেরও। আমন্ত্রণ জানান স্থানীয় সাংবাদিকদেরও। পুলিশে যোগ দেয়া নতুন সদস্যদের হাতে ফুল দিয়ে মিস্টিমুখ করান সিরাজুল ইসলাম। দেয়া হয় ট্রেনিং ও আগামীর কর্মপন্থা সম্পর্কে নানা নির্দেশনা। নতুন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এমন একটি আয়োজনে প্রশংসা করেন উপস্থিত সবাই।

দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের নির্দেশে ব্যতিক্রম এমন একটি আয়োজন করেছি। নতুন নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের আগামীর কর্মপন্থা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। তাদের ভেতরে ট্রেনিং বা কোন কিছু নিয়ে যেন শঙ্কা কাজ না করে। ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা থেকে ২৬ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়ে নিয়োগ পেয়েছে কনস্টেবল পদে। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কঠোর অবস্থানের কারণে কোন ধরণের অনিয়ম ছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শুধুমাত্র ১০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে পুলিশে চাকরি পেয়েছে ওরা। এটা ঢাকা জেলা পুলিশের আরেকটি দৃষ্টান্ত।

অনুষ্ঠানে চাকরি পাওয়া ছেলে-মেয়েদের অভিভাবকরা বলেন, আমরাও কল্পনা করতে পারেনি মাত্র ১০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েই পুলিশে চাকরি হয়ে যাবে আমাদের ছেলে-মেয়েদের। পুলিশের চাকরি নিয়ে অনেক দূর্ণাম ছিল। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার ও দোহার থানার ওসি যেটা করলেন তা আমাদের মনে থাকবে।

উল্লেখ্য পুলিশে নিয়োগ নিয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেছিলেন ১০০ টাকায় মিলবে পুলিশে চাকরি, তিনি আর কথা রেখেছেন।

এই বছরের নিয়োগ নিয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন গত বছরের মত এ বছরও ঢাকা জেলায় স্বচ্ছতার সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের জন্য আমরা কাজ করেছি। নিয়োগ প্রার্থীরা ১০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট/ পে-অর্ডারে সরকারের খাতে জমা দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পুলিশে চাকরি পেয়েছে। চাকরি পাওয়ার জন্য দালাল বা অন্য কারো সাথে কোন প্রকার অর্থনৈতিক লেনদেন যাতে না করতে পারে সেখানেও আমরা দৃষ্টি রেখেছি কৌশলে। বিষয়টি স্বচ্ছ করতে মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে মুসল্লিদের মাঝে প্রচারের পাশাপাশি মাইকিং করা হয়েছে এলাকাগুলোতে। পুলিশে নিয়োগ নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি যাতে নষ্ট না হয় কোন কারণে সে লক্ষে আমি কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশে চাকরি নিতে হলে অনিয়ম আর তদবিরে কাজ হবে না। চাকরিতে আসতে হবে মেধা আর যোগ্যতায়।

২৫ মার্চের ভিতর জয়পাড়া ফুটপাথ মুক্ত করার নির্দেশ প্রশাসনের

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার প্রানকেন্দ্র দোহার পৌরসভার জয়পাড়া থানার মোড় থেকে কলেজ মোড় হয়ে করম আলীর মোড় পর্যন্ত ফুটপাত ও রাস্তার দুইপাশে থাকা অবৈধ দোকানপাট সরাতে ২৫ মার্চ, রবিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। একইসাথে এই রাস্তার দুই পাশে যেকোন ধরনের যানবাহন ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা সহ সবধরনের যানবাহন যত্রতত্র পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা ও থানা প্রশাসন এবং পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক লিখিত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মিয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং এবং নির্মাণ সামগ্রী রাখার কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারন মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ইতোপূর্বে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও স্থায়ী কোন সমাধান না আসায় এবার উপজেলা, থানা ও পৌর প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় সহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।