ঢাকার দোহার উপজেলা জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গতকাল মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোহার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক গৃহায়ণ গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মান্নান খান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সাবেক কমান্ডার মো. রজ্জব আলী মোল্লা, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভৃমি) সালমা খাতুন ও মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম জাকারিয়া। অনুষ্ঠান প্রথম পর্ব শেষে অতিথিরা উপস্থিত সব মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের হাতে প্রথমে ফুল দিয়ে সম্মাননা স্মারক বই ও নগদ অর্থ প্রদান করেন।
দোহার-নবাবগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
শরিফ হাসান,নিউজ৩৯: মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দোহারের জয়পাড়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী । এ সময় গান পরিবেশন করা হয়, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি হয়।
সোমবার সন্ধায় জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন দোহার উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা।বশির উদ্দিন ফাঊন্ডেশনের ডাঃ জালাল উদ্দিন গান পরিবেশন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা, এসি ল্যান্ড সালমা খাতুন, দোহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইয়াসিন মুন্সি সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডা. মো. জালাল উদ্দিন।
স্বাধীনতা দিবসে বর্ণিল সাজে রঙ্গিন দোহার নবাবগঞ্জ
শরিফ হাসান,নিউজ৩৯ঃ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাল-সবুজের পতাকা আর বর্ণিল সাজ শোভা পাচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থান। ছুটির আমেজে পরিবার-পরিজন নিয়ে দোহারবাসী ঘুরছেন দোহার মৈনটঘাট ও ডাকবাংলো ঘেরা স্থানগুলোতে। আর নবাবগঞ্জের প্যালেস পার্ক, ওয়ান্ডারল্যান্ড, কলাকোপার পুরানা বাড়ীগুলোতে ছিল মানুষের উৎসব মুখর উপস্থিতি।
জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবার সংগ্রাম ও গৌরবময় জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়ে বাঙালি পায় লাল-সবুজের পতাকা আর একটি স্বাধীন দেশ। স্বাধীনতা দিবসে তাই লাল-সবুজের পতাকায় সাজানো হয়েছে ডিজিটাল লাইট দিয়ে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা, দোহার থানা, মুক্তিযোদ্ধা অফিস ও পৌরসভা। এই ডিজিটাল লাইট এ দোহারকে আরো সুন্দর করে রুপদেয় এই আলোক বাতি গুলো।
অবশেষে গাজী রাকায়েতের বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে
জিসান,নিউজ৩৯ঃ দোহারের মুকসুদপুরের কৃতি সন্তান ও জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত চলচিত্রকার এবং চারুনিড়ম নাট্য সংঘের প্রধান নির্বাহি গাজী রাকায়েতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক তরুণীকে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ নিয়ে হইচই ও পাল্টাপাল্টি মামলা হওয়ার পর অবশেষে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। সোমবার (২৬ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এই আপস-মীমাংসা হয়। আপসে গাজী রাকায়েত আদাবর থানায় দায়ের করা ৫৭ ধারার মামলা এবং ভুক্তভোগী তরুণীর শ্যামপুর থানায় দায়ের করা পর্নোগ্রাফি আইনের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। গাজী রাকায়েত, ভুক্তভোগী ওই তরুণী এবং তার বান্ধবী প্রত্যেকেই উপস্থিত থেকে এই মীমাংসা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি এক তরুণী ফেসবুক মেসেঞ্জারে গাজী রাকায়েতের সঙ্গে তার এক বান্ধবীর কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। যেখানে দেখা যায়, গাজী রাকায়েত ওই তরুণীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত ১৬ মার্চ রাজধানীর আদাবর থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা (নং ১৮) দায়ের করেন গাজী রাকায়েত। এনিয়ে আরও বেশি আলোচনা-সমালোচনা শুরু হওয়ায় ওই তরুণী গত ২১ মার্চ শ্যামপুর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধেও মামলা (নং ২৬) দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হওয়ার পর উভয়পক্ষের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সমাধানের জন্য আলোচনা শুরু করেন। পরে গাজী রাকায়েত এবং ওই দুই নারী একসঙ্গে বসে একটি যৌথ ঘোষণার স্ট্যাম্পে সই করেন। গাজী রাকায়েত তার ঘোষণায় বলেছেন, ‘আমার ফেসবুক আইডি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি আমার অজান্তে কে বা কারা জনৈকা (নাম প্রকাশ করা হলো না) আপত্তিকর মেসেজ পাঠানো এবং এরপর সেই মেসেজের স্ক্রিনশট তার বান্ধবীর (নাম প্রকাশ করা হলো না) মাধ্যমে ফেসবুকে প্রকাশ করা হলে সংক্ষুব্ধ হয়ে আমি গত ১৬ মার্চ বান্ধবীর (নাম প্রকাশ করা হলো না) বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা করি। পরবর্তীতে জানতে পারি মামলাটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় লিপিবদ্ধ হয়েছে যা কোনোভাবে আমার অভিপ্রায় ছিল না। তাই আমি নিঃশর্তভাবে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ঘোষণা দিলাম।’
গাজী রাকায়েত ঘোষণায় বলেন, ‘আমার অভিযুক্ত ফেসবুক আইডি থেকে আমি কাউকে কোনও অশ্লীল মেজেস পাঠাইনি। কে বা কারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তা হ্যাক করে আমার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এ ধরনের আপত্তিকর মেসেজ পাঠিয়েছে। এরপরও যেহেতু আমার আইডি থেকেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে তার জন্য আমি তরুণীর (নাম প্রকাশ করা হলো না) কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি।’
এদিকে ফেসবুকে স্ক্রিনশট প্রকাশকারী ভুক্তভোগী তরুণীর বান্ধবী তার ঘোষণায় বলেন, ‘গাজী রাকায়েত কুটু ফেসবুক আইডি থেকে আমার বন্ধুকে (নাম প্রকাশ করা হলো না) আপত্তিকর মেসেজ পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার স্বার্থে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সেই আপত্তিকর মেসেজের স্ক্রিনশট আমার ফেসবকু আইডিতে প্রকাশ করেছিলাম, ব্যক্তি গাজী রাকায়েত হোসেনকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। কিন্তু বিক্ষুব্ধ হয়ে গাজী রাকায়াত আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তিনি জানান, ৫৭(২) ধারায় মামলা করা কোনোভাবে তার অভিপ্রায় ছিল না। তিনি যেহেতু আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, গাজী রাকায়েতের ফেসবুক আইডি ঘটনার সময় তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না, সেহেতু ব্যক্তিগতভাবে তাকে দোষারোপ করার কোনও কারণ নেই। গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে আমার আর কোনও অভিযোগ নেই এবং আমার পোস্টের কারণে তিনি কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি।’
অন্যদিকে যার ফেসবুক আইডিতে আপত্তিকর মেসেজ পাঠানো হয়েছিল সেই তরুণী তার ঘোষণয় বলেন, ‘গাজী রাকায়েত কুটু ফেসবুক আইডি থেকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আমার ফেসবুক মেসেঞ্জারে আপত্তিকর মেসেজ পাঠিয়ে উত্যক্ত করার প্রতিবাদে সংক্ষুদ্ধ হয়ে আমি আমার বন্ধুকে ফেসবুকে স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সত্য অনুসন্ধানের অনুরোধ করি। আমার পক্ষে ফেসবুকে ওই পোস্ট দেওয়ায় আমার বন্ধুর বিরুদ্ধে গাজী রাকায়েত হোসেন আদাবর থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ২২ মার্চ গাজী রাকায়েত ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে আমি শ্যামপুর থানায় মামলা দায়ের করি। যেহেতু গাজী রাকায়েত আমার বন্ধুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, গাজী রাকায়েতের ফেসুবক আইডি ঘটনার সময় তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না এবং এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য তিনি আমার কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন, তাই আমি নিঃশর্তভাবে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ঘোষণা দিলাম।’
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার ক্রাইম শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, “ওই তরুণীর ফেসবুক পোস্ট ‘মিসটেক অব ফ্যাক্ট’ হতে পারে। তবে, পুলিশ এই পোস্ট ৫৭ ধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কিনা, তা খতিয়ে দেখছে। এছাড়া গাজী রাকায়েত কুটুর আইডিতে সন্দেহজনক আইপির মুভমেন্ট পাওয়া গেছে। ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক সেসব আইপি সিঙ্গাপুরের বলে জানা যায়। প্রয়োজনে সিঙ্গাপুর পুলিশ ও ইন্টারপোল-এর সহায়তায় অপরাধী শনাক্ত করা হবে।’
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উপলক্ষে পদ্মা কলেজে আনন্দ র্যালী
নাদিম/শাকিলঃ স্বল্পন্নোত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) জাতীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল সরকার।এরই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, সোমবার অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এর মুলমন্ত্র নিয়ে এক আনন্দ র্যালীর আয়োজন করে পদ্মা কলেজ।
পদ্মা কলেজের সুযোগ্য অধ্যাক্ষ জালাল হোসেনের নির্দেশে পদ্মা কলেজ পরিবার এই র্যালীর আয়জন করে। র্যালীতে অংশ গ্রহন করেন উক্ত কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা বৃন্দ। র্যালীটি পদ্মা কলেজের ২য় ফটক দিয়ে যাত্রা শুরু করে মূল সরক হয়ে কলেজের প্রধান ফটকে এসে এর সমাপ্তি করে। পদ্মা কলেজ রোভার গ্রুপের সম্পাদক মোল্লা মোঃ ইমদাদুল হক চান র্যালীটির নেতৃত্ব দেন।
এরপর আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পদ্মা কলেজের অধ্যক্ষ মো. জালাল হোসেন বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন দেশের সূর্য সন্তান। তাদের অসামান্য অবদান আর আত্মত্যাগের জন্য আমরা পেয়েছি মহান স্বাধীনতা। তাদের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম আর সে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়েই তারা ঝাপিয়ে পড়েছিল রণাঙ্গনে, ছিনিয়ে এনেছিল আমাদের প্রাণের স্বাধীনতা।” তিনি জাগ্রত করে তুলতে বলেন সবার মধ্যকার দেশপ্রেমককে।
এ সময় বক্তারা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে আহবান জানান।
এনথনি মাসকারেনহাসের যে প্রতিবেদনে মুক্তিযুদ্ধে পাল্টে যায় ইতিহাস
নিউজ৩৯,ডেস্কঃ‘আবদুল বারীর ভাগ্য ফুরিয়ে আসছিল। পূর্ব বঙ্গের আরও হাজারো মানুষের মতো তিনিও বড় একটি ভুল করেছেন- তিনি পালাচ্ছেন, কিন্তু পালাচ্ছেন পাকিস্তানি পেট্টোলের সামনে দিয়ে। তার বয়স ২৪, সৈন্যরা তাকে ঘিরে ফেলেছে। তিনি কাঁপছেন, কারণ তিনি এখনই গুলির শিকার হতে যাচ্ছেন।’
এভাবেই শুরু করা হয়েছিল গত অর্ধ-শতকের দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকতার সবচেয়ে শক্তিশালী নিবন্ধগুলোর একটি। লিখেছেন অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, একজন পাকিস্তানি সাংবাদিক, যার প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের সানডে টাইমস পত্রিকায়। এই নিবন্ধের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো দেশটির পূর্ব অংশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন আর নিষ্ঠুরতার বিষয়টি বিশ্বের সামনে ওঠে আসে।
বিবিসির মার্ক ডামেট লিখেছেন, এ প্রতিবেদন সারা বিশ্বকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্ষুব্ধ আর ভারতকে শক্ত ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করেছিল।
ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সানডে টাইমসের সম্পাদক হ্যারল্ড ইভান্সকে বলেছিলেন, লেখাটি তাকে এত গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল যে এটি তাকে ইউরোপীয় রাজধানীগুলো আর মস্কোয় ব্যক্তিগতভাবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ দেয়, যাতে ভারত এক্ষেত্রে সশস্ত্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।
তবে অ্যান্থনি মাসকারেনহাস এসব উদ্দেশ্য নিয়ে রিপোর্ট করেননি। যেমন তার সম্পাদক হ্যারল্ড ইভান্স লিখেছেন, তিনি খুব ভালো একজন প্রতিবেদক, যিনি তার কাজটা সৎভাবে করছেন।
তিনি ছিলেন খুব সাহসীও। তিনি জানতেন এ সংবাদ প্রকাশের আগেই তৎকালীন সেনা-শাসিত পাকিস্তান থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে তাকে বেরিয়ে যেতে হবে- যা ওই সময়ে খুব সহজ কাজ ছিল না।
anthony-maskarenhas
তার মা তাকে সব সময়ই বলতেন যেন তিনি সত্যের পক্ষে থাকেন- বলছেন মাসকারেনহাসের বিধবা পত্নী ইভোন। তিনি বলতেন, আমার সামনে একটি পাহাড়ও যদি রাখো, আমি সেটি টপকে যাবো। তিনি কখনো হতোদ্যম হতেন না।
১৯৭১ সালের মার্চে যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ শুরু হয়, মাসকারেনহাস তখন করাচির একজন নামী সাংবাদিক। স্থানীয় গোয়ান-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের তিনি একজন সদস্য। তার এবং ইভোনের পাঁচটি সন্তান রয়েছে।
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, বুদ্ধিজীবী, হিন্দু সম্প্রদায় আর সাধারণ বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে পূর্ব পরিকল্পিত অভিযান শুরু করে।
আরো অনেক যুদ্ধাপরাধের মতো সৈন্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করে, ছাত্র-শিক্ষকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। ঢাকা থেকে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে গ্রামগুলোতেও।
তাদের এই পরিকল্পনা কিছুটা সাফল্য পাওয়ার পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সিদ্ধান্ত নেয় যে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কয়েকজন সাংবাদিককে এনে ঘুরিয়ে দেখানো হবে যে তারা কতটা সফলতা পেয়েছে।
উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব বাংলায় যে তাদের ভাষায় সব কিছুই স্বাভাবিক সেটি তুলে ধরা। ঢাকায় অবস্থান করা বিদেশি সাংবাদিকদের অবশ্য এর আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর আটজন সাংবাদিককে দশ দিনের এক সফরে পূর্ব পাকিস্তানে আনা হয়, যাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যান্থনি মাসকারেনহাসও।
যখন তারা আবার পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যান, তখন তাদের মধ্যে সাতজন সাংবাদিক পাকিস্তানি সরকারের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিবেদন করেন।
BangladeshGenocide1
কিন্তু একমাত্র ব্যতিক্রম ঘটে করাচির মর্নিং নিউজের সাংবাদিক এবং ব্রিটেনের সানডে টাইমস পত্রিকার পাকিস্তান সংবাদদাতা অ্যান্থনি মাসকারেনহাস-এর ক্ষেত্রে।
ইভোন মাসকারেনহাস স্মৃতিচারণা করছেন, ‘আমি কখনোই আমার স্বামীর এ রকম চেহারা দেখিনি আগে। তিনি ছিলেন খু্বই ক্ষুব্ধ, চিন্তিত, বিষণ্ণ আর আবেগী।’
তিনি বলেন, ‘আমি যা দেখেছি, সেটা যদি আমি লিখতে না পারি, তাহলে আমি আর কখনোই অন্য কোন কিছু লিখতে পারবো না।’
তবে পাকিস্তানে সেটা লেখা সম্ভব নয়। কারণ গণমাধ্যমের সব প্রতিবেদনই সেখানে সেন্সর করা হয়। এবং তিনি যদি সেই চেষ্টা করেন, তাকে হয়তো গুলি করেই মারা হবে।
অসুস্থ বোনকে দেখার নাম করে মাসকারেনহাস তখন লন্ডনে চলে যান। এরপর সরাসরি লন্ডন টাইমসের সম্পাদকের দফতরে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।
তিনি তাকে বলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানে পরিকল্পিত গণহত্যার একজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং আর্মি অফিসারদের বলতে শুনেছি যে এটাই একমাত্র সমাধান।’
হ্যারল্ড ইভান্স প্রতিবেদনটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু বলেন যে তার আগে করাচি থেকে ইভোন আর তার সন্তানদের বের করে আনতে হবে।
তারা সিদ্ধান্ত নেন তাদের প্রস্তুত করতে একটি সংকেতমূলক টেলিগ্রাম পাঠানো হবে, যেখানে লেখা হবে, ‘অ্যানের অপারেশন সফল হয়েছে।’
ইভোন মাসকারেনহাস বলছেন, ‘পরদিন ভোর তিনটায় আমি টেলিগ্রামটি পাই। তখন আমার মনে হয়েছিল, ও ঈশ্বর, এখন আমাদের লন্ডন যেতে হবে। আমাকে সবকিছু এখানে ফেলে রেখে যেতে হবে। এটা যেন শেষকৃত্যের মতো একটা ব্যাপার ছিল।’
সন্দেহ এড়াতে পরিবারের সদস্যদের যাত্রা শুরুর আগেই অ্যান্থনি মাসকারেনহাস আবার পাকিস্তানে ফিরে যান। কিন্তু তখনকার নিয়ম অনুযায়ী, পাকিস্তানি নাগরিকরা বছরে একবার বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। তাই পরিবার চলে যাওয়ার পর তিনি সড়ক পথে গোপনে সীমান্ত অতিক্রম করে আফগানিস্তানে ঢুকে পড়েন।
যেদিন লন্ডনে পুরো পরিবার আবার একত্রিত হয়, তার পরের দিন সানডে টাইমস পত্রিকায় ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিল, ‘গণহত্যা’।
bangladesh-independence
এটি খুবই শক্তিশালী একটি প্রতিবেদন ছিল, কারণ মাসকারেনহাস পাকিস্তানি সামরিক অফিসারদের খুবই বিশ্বস্ত ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশতেন।
সামরিক ইউনিটগুলোর হত্যা আর আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার অভিযান আমি নিজে দেখেছি। বিদ্রোহীদের তাড়িয়ে দেয়ার পর শহর আর গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে দেখেছি। আমি দেখেছি, পুরো গ্রামের ওপর শাস্তিমূলক অভিযান চালাতে।
অফিসার্স মেসে রাতের বেলায় কর্মকর্তাদের বলাবলি করতে শুনেছি যে তারা কতটা সাহস দেখিয়ে সারাদিন ধরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে।
আপনি কতজনকে মেরেছেন? তাদের উত্তর আমার এখনও মনে আছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশকে পাকিস্তান প্রতারণা হিসেবে দেখেছে এবং অ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে শত্রু অ্যাজেন্ট হিসেবে গণ্য করে। তার এই প্রতিবেদনের তথ্যকে তারা অস্বীকার করে একে ভারতীয় প্রোপাগান্ডা বলে দাবি করে।
এরপর থেকে লন্ডনেই বাস করেন মাসকারেনহাস ও তার পরিবার। তবে তারপরও সবসময়ই পাকিস্তানে যোগাযোগ রক্ষা করে এসেছেন অ্যান্থনি মাসকারেনহাস। ১৯৭৯ সালে তিনিই প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেন যে পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে।
১৯৮৬ সালে তিনি লন্ডনে মারা যান। বাংলাদেশে তাকে এখনো স্মরণ করা হয় এবং তার এই নিবন্ধটি দেশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
দোহার-নবাবগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উদযাপিত
স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের সম্মান জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারও মানুষ দোহার-নবাবগঞ্জের উপজেলা পরিষদের শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তব্ক অর্পণ করেছেন। ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। এ সময় অনেকেই নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গোটা বাংলাদেশের ন্যায় পদ্মা কলেজে, জয়পাড়া কলেজ, নবাবগঞ্জ কলেজেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে একযোগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে শুরু হয় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা।
এরপর পরই শুরু হয় আলোচনা সভা। আলোচনায় উঠে আসে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলার বীর যোদ্ধাদের অবদানের কথা। উঠে আসে মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা। আরও উঠে আসে বর্তমান সময়ে যে দুর্বার গতিতে বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারি হচ্ছে তাও এ স্বাধীনতার ফসল।
এ সময় বক্তারা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে আহবান জানান।
ছাত্রের দুষ্টুমি, শিক্ষকের বেত্রাঘাতঃ ছাত্র অচেতন
গতকাল রবিবার দোহারে নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে পিটিয়ে জখম করেছে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. আজিম খান। অচেতন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্কুল চলাকালীন দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। ছাত্রের নাম মো. নোমান (১৪)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তৃতীয় ঘণ্টার সময় ক্লাসে নোমান বেশি দুষ্টুমি করছে অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মো. আজিম খান নোমানকে ক্লাসে গিয়ে দুষ্টুমির কারণ জিজ্ঞেস করে্ন। সদুত্তর দিতে না পারায় তিনি বেত্রাঘাত শুরু করেন। পিটুনি খেয়ে একপর্যায়ে নোমান জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
খবরটি ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে পৌঁছলে তারা অচেতন অবস্থায় নোমনকে স্কুল থেকে নিয়ে দোহার উপজেলা সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী।
নোমানের মা নিউজ৩৯কে বলেন, আমার ছেলে দুষ্টুমি করে থাকলে, স্যার শাসন করবে ঠিক আছে।কিন্তু তাই বলে কি ছাত্র অজ্ঞান হবে?
অভিযুক্ত নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিমের কাছে মুঠোফোনে ফোন দিলে ব্যাস্ত পাওয়া যায়।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন নিউজ৩৯কে বলেন, বিষয়টি ইউএনও স্যার অবগত হয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি হাসপাতালে এসে দেখেছি ছেলেটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এভাবে শিক্ষার্থীকে পেটানোর কোনো বিধান নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস
আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এই দিনে ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনার অভিশাপমুক্ত হওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাঙালি জাতির সংগ্রামময় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হচ্ছে এ দিনটি। ১৯৭১ সালের আজকের এ দিনটিতে আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের।বলা হয়ে থাকে, “We hold our heads high, despite the price we have paid, because freedom is priceless.” –Lech Walesa
পাকিস্তানি শোষকদের কবল থেকে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। ৯ মাস বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় বিজয় ও সার্বভৌমত্ব। জাতি অর্জন করে একটি দেশ, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত। দিনটি সরকারি ছুটির দিন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদসহ কোনো ধরনের সহিংসতা সমর্থন করে না। তিনি জাতীয় জীবনে আরও ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের দিন। পরাধীনতার শিকল ভাঙার দিন। আসুন, সব ভেদাভেদ ভুলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাই।
পুরো জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে অবনতচিত্তে স্মরণ করবে স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার অবর্তমানে যুদ্ধ পরিচালনাকারী তারই সহকর্মী চার জাতীয় নেতা এবং ৯ মাসে অসামান্য আত্মত্যাগকারী বাংলার অকুতোভয় বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। পাশাপাশি দেশ আজ মেতে উঠবে স্বাধীনতা উৎসবের আমেজে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগমুহূর্তে দেয়া সে ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ ও নির্দেশ দেন। তৎকালীন ইপিআরের ওয়্যারলেস থেকে সে বার্তা ছড়িয়ে যায় দেশের সর্বত্র। বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণায় সেদিনই ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুরো জাতি।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার এক আমবাগানে শপথ নেয় স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত এ সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করে।
৯ মাস চলা মুক্তিযুদ্ধে একদিকে রচিত হয় ইতিহাসের মহীয়ান অধ্যায়, মুক্তিকামী বাংলার মানুষের বীরত্বগাথা; আরেক দিকে ছিল হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটতরাজের কলঙ্কিত অধ্যায়। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ৩০ লাখ মানুষের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নামের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
দিনের কর্মসূচি
সূর্যোদয়ের সময় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। একই সময়ে সরকারি-বেসরকারি ভবনের শীর্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন অমর শহীদানের প্রতি। শ্রদ্ধা জানাবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সংসদে বিরোধীদল জাতীয় পার্টি ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এছাড়াও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক এবং সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণে ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমগ্র দেশবাসীর সাথে একাত্ম হয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করবে।
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ্য অব্যবহিত পর) সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।
২৭ মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টায় খামারবাড়ি, (ফার্মগেইট) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা সভায় আলোচনা করবেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ গৃহীত সকল কর্মসূচি দেশবাসীর সাথে একাত্ম হয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সংগঠনের সকল শাখাসহ আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশের শান্তি অগ্রগতি কামনা করে সকল মসজিদ, মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা হবে। হাসপাতাল, সরকারি শিশুসদন, এতিমখানা ও কারাগারে বন্দিদের দেয়া হবে উন্নত খাবার। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ সংখ্যা ও নিবন্ধ প্রকাশ করবে।
সারাদেশের স্মৃতিসৌধগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কুচকাওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে।
এছাড়া বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সিপিবি, গণফোরাম, বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মহিলা পরিষদ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, খেলাঘর, কচি-কাঁচার মেলা, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে।
এক মিনিট অন্ধকারে ছিল নিউজ৩৯
সরকারের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কালরাতের প্রথম প্রহর স্মরণ করে গণহত্যা দিবসে (২৫ মার্চ) এক মিনিট অন্ধকারে (ব্ল্যাক-আউট) ছিল জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ৩৯। রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত জরুরি স্থাপনা ছাড়া সারা দেশের মতো প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ থাকে নিউজে৩৯ ও।
এর আগে কালরাতে নিহতদের স্মরণে সারা দেশে এক মিনিট সব ধরনের বাতি বন্ধ রাখার কর্মসূচি নেয় সরকার। গত ১১ মার্চ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।






