দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণিগঞ্জ বিদ্যুৎ বিহীনঃ সচেষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

শুক্রবার (৩০ মার্চ) দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাত, ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে এ ধরনের ক্ষয় ক্ষতি হয়। এই ক্ষয় ক্ষতির মধ্য মানুষের ঘরের চাল, বিদ্যৎ এর খুটি, কারেন্টর তার ছিড়ে পরে আর এ কারনে বিদ্যৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে পুরো ঢাকা দক্ষিণ।

এই ব্যাপারে রাত ১০টায় দোহার পল্লী বিদ্যুৎ এর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ইউনুস আহমেদ নিউজ৩৯ কে বলেন, আমরা বিকাল থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করছি। সবাই ই ফিল্ডে আছে। ২বার টেস্ট কেস চালানো হয়েছে। কিন্তু সিরাজদিখান উপজেলার খারশুড়ে বিদ্যুৎ লাইনে গাছ পড়ে থাকায় অবিচ্ছন্ন প্রবাহ রাখা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি রাতের মাঝেই লাইন সচল করতে, রাতে না হলে সকালে ঠিক হবে।

ঝড়ে নাকাল দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণিগঞ্জঃএখনো বিদ্যুৎ বিহীন

মাসটা চৈত্র। চৈত্রের শেষ বেলায় সবই যেন কালবৈশাখীর আগাম বার্তাই দিয়ে গেল। এমন দিনে খাঁ খাঁ রোদ্দুর গা পোড়ায়। যথারীতি কড়া রোদের তপ্ত দুপুর ছিল শুক্রবারের। তবে বিকেল নামতেই বদলে গেল ঢাকার আকাশ। কালো মেঘে উধাও হলো দিনের আলো, সন্ধ্যার আগেই নেমে এল সন্ধ্যা।

ঝড় এল, এল বৃষ্টি- এমন তাড়ায় শুক্রবারের ছুটির বিকেলে হঠাৎ রাস্তায় মানুষের ছুটোছুটি। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া।তারপর রাজপথের ধুলো উড়িয়ে শুরু হলো ঝড়ো হাওয়া, সঙ্গে সঙ্গে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর মৃদু বজ্রের গর্জন। তাতে ধুলোর দাপট কমে এল।আবহাওয়াবিদরাও তেমনটাই মনে করছেন।

এতে ফসলের সাথে সাথে দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণিগঞ্জ, শ্রীনগর এ ফসলের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ির ও ক্ষতি হয়েছে। দোহারের বাহ্রা, বাস্তা, কাটাখালি, শিমুলিয়া, নারিশা, মুকসুদপুরসহ নবাবগঞ্জ, কেরাণিগঞ্জ, শ্রীনগর বিভিন্ন স্থানে ঘর-বাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সিরাজদিখান উপজেলার খারশূড়ে বিদ্যুৎ লাইনে গাছ পড়ে থাকায় বিকাল থেকে বিদ্যুৎ বিহীন আছে দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণিগঞ্জ।

চিত্রঃ দোহারের কাটাখালি মেছের খান উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের বসতি।

আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়া কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নিউজ39 কে বলেন, বিকেলে হঠাৎ করেই কালো মেঘে ঢেকে যায়। সিলেট, ফরিদপুর, ময়মনসিংহে শিলা বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬৭ কিলোমিটার। ঝড়ের সঙ্গে ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বিকেলে দোহারের মুকসুদপুরে ছিলেন নিউজ৩৯ সাংবাদিক গাজী নাদিম মাহমুদ। তিনি বলেন, আকাশে হঠাৎ কালো মেঘে যেন বিকেলেই সন্ধ্যা নেমে এসেছিল। অনেক দিন পর এমন অন্ধকার করা কালো মেঘ দেখলাম। চৈত্র মাসে আকাশে এমন কালো মেঘ দেখে মনে হচ্ছে এটা কালবৈশাখীর আগাম বার্তা।

এ ছাড়া বিকেলে হঠাৎ কালো মেঘের পর ফেসবুকজুড়ে ছিল মেঘ-বৃষ্টি নিয়ে স্ট্যাটাসের ছড়াছড়ি।এতে আম, লিচুর মুকুল ঝরে পড়াসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

যন্ত্রাইলে শান্তিপূর্ণ ভাবে উপ- নির্বাচন সম্পূর্ণ; নতুন মেম্বার নাসির মোল্লা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে উপ- নির্বাচন সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত হরিশকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ হয়।

যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য শেখ আয়নাল গত তিনমাস আগে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর সদস্য পদটি শূন্য হয়ে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে এই উপ- নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন সম্পূর্ণ করেন।

যন্ত্রাইন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ২৩৬১ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১১৯৪ এবং পুরুষ ১১৬৭ জন। নারী ও পুরুষ মিলে মোট ১৫৬২ ভোট প্রয়োগ হয়। এবং এর মধ্যে বাতিল ভোট ১৭ টি।

নির্বাচনে সদস্য পদে মো. আজিম উদ্দিন (জাম্বু) ফুটবল মার্কা, মো. নাসির মোল্লা তালা মার্কা, শেখ আব্দুল মান্নান মোরগ মার্কা নিয়ে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিনীতা করেন।

এতে তালা মার্কা নিয়ে নাসির মোল্লা ৭২৫ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অাজিম উদ্দিন জাম্বু ফুটবল মার্কা নিয়ে ৪৬২ ভোট পান।

ভোট কেন্দ্রের ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বপ্রাপ্ত পারভেজুর রহমান। প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লিয়াক হোসাইন।

দুপুর ১২ টায় ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, নির্বাচন অফিসার ফারজানা আবেদীন, নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র জয়পাড়া কলেজ; নতুন ভ্যেনু কেন্দ্র পদ্মা কলেজ

২রা এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। এবার ঢাকার দোহার উপজেলার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্র হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে দোহারের জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। এ ছাড়া ভ্যেনু কেন্দ্র হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে মালিকান্দা স্কুল এন্ড কলেজ ও পদ্মা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকারের সাক্ষরিত এক পরিপত্রে (নং৬৭৬/উঃমাঃপরি/২০০১/৩১২) জয়পাড়া ডিগ্রি কলেজের নতুন ভ্যেনু কেন্দ্র হিসাবে পদ্মা কলেজকে অনুমোদন দিয়েছে। আজ বিকালে দোহার উপজেলা প্রশাসন সভা কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা প্রাক প্রস্তুতি বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই সময় জয়পাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল সিদ্দিকুর রহমান, ভাইস প্রিন্সিপাল তাপস কুমার নন্দী, মালিকান্দা স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল অজয় কুমার রায় এবং পদ্মা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জালাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

এর ফলে জয়পাড়া কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে মালিকান্দা স্কুল এন্ড কলেজে, মালিকান্দা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে পদ্মা কলেজে, পদ্মা কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে জয়পাড়া ডিগ্রি কলেজে। এতে সব কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি সদয় ও সম আচরনের পথ খুলে গেছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারনা।

আলো বিলিয়ে চলেছেন মাধুরী বণিক

গ্রামে গ্রামে হেঁটে বেড়ান তিনি। উদ্দেশ্য শিক্ষাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী ও মায়েদের খুঁজে বের করা। তার পর এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে পড়ালেখা শেখান। কারো বাড়ির বারান্দা কিংবা উঠানে চাটাই, চট বা পাটি পেতে নিলেই তৈরি হয় তার স্কুল। ১৯৬৮ সালে ছাত্রজীবন থেকে নীরবে নিভৃতে এভাবেই নিজেকে বিলিয়ে চলেছেন অদম্য আলোর ফেরিওয়ালা মাধুরী বণিক (৬৩)। ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত। এলাকায় সদালাপী ও সাদা মনের মানুষ হিসেবেও পরিচিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী তিনি। তার কাছ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে পাইলট, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধিসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন অনেকে। মা, শিশু ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার প্রসারে তার স্কুলগুলো আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে স্বমহিমায়।

গত ১৮ মার্চ বিকাল ৫টায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পূর্ব সমসাবাদ নূর ইসলাম দবুর বাড়ির উঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল মাধুরী বণিকের। শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী সোহানা। ওই স্কুলে হিন্দু (সনাতন) শিক্ষার্থী ছিলেন না। তবে গীতা থেকে পাঠ করে শিক্ষার্থী মুনিয়া ইসলাম। সে বলল, ‘মাসি (মাধুরী) আমাদের শুধু কোরআন তেলাওয়াত নয়, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠও শিখিয়েছেন। তিনি কোনো ধর্মকে ছোট না ভাবতে শিখিয়েছেন। আমরা তাই সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি।

এর পর শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানান। তার পর শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। পরে শিশুদের পড়ালেখার আগ্রহ বাড়াতে শ্রুতিমধুর অঙ্গভঙ্গিমা করে কবিতা আবৃত্তি ও বর্ণমালা পাঠ করা হয়। শেষে শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘরে ফেরেন। রুটিন অনুযায়ী প্রতিদিন বিকালে এখানে মাধুরী বণিকের স্কুল বসে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের ফ্রি অক্ষরজ্ঞান দান করে আসছেন মাধুরী বণিক। মূলত তিন থেকে দশ বছর বয়সী শিশু, প্রতিবন্ধী ও নিরক্ষর মায়েরা তার স্কুলের শিক্ষার্থী। বর্তমানে কলাকোপা ও যন্ত্রাইল ইউনিয়নে তিনটি স্কুলে ১৯ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্র্থী এবং ১৩০ জন নিরক্ষর মা ও শিশুকে শিক্ষা দান করছেন মাধুরী বণিক। শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তার মূল উদ্দেশ্য। তার শিক্ষাপদ্ধতিও বেশ শ্রুতিমধুর। ক্লাসের শুরুতেই শেখান জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং শরীরচর্চা। দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, গুরুজনদের সম্মান করার শপথ তার নিত্যদিনের ক্লাসের একটি অধ্যায়। এ ছাড়া শিশুদের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে বিস্কুট, চকোলেটসহ নানান পুরস্কারও দেওয়া হয়। সপ্তাহের বৃহস্পতিবার তিনি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করান। এতে বিজয়ীদের বিশেষ পুরস্কার দেন নিজের টিউশনির উপার্জন থেকে।

কলাকোপা ইউনিয়নের পানালিয়া গ্রামের ‘মা’ শিক্ষার্থী মিনু আক্তার বলেন, ‘আমার পাশর্^বর্তী গ্রামেই দিদির (মাধুরী বণিকের) বাড়ি। তাকে আমি মায়ের মতো দেখি। কারণ তিনি নিজের মায়ের মতো ব্যবহার করেন। আমার ছেলে আর আমি দুজনই তার শিক্ষার্থী। ক্লাসে নিজে পড়ি, ছেলেকেও পড়াই। তার শিক্ষাপদ্ধতি আমার খুব ভালো লাগে। অল্প কদিনেই আমি নিজের নাম লিখতে শিখেছি। এখন ছেলে আর আমি দুজন ভালো ছাত্র।’

সমসাবাদ গ্রামের মুনিয়া ইসলাম বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারের মেয়ে আমি। সেই ছোটবেলায় মায়ের কোলে করে মাধুরী মাসির স্কুলে যেতাম। এখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। মাসির স্কুলে আসতে দেরি হলে আমিই ওদের শিক্ষক। কারণ আমি মাধুরী মাসির মতো আদর্শ পড়ালেখা শিখেছি। তার আদর্শ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি মাসিকে মায়ের মতো ভালোবাসি।’

মাধুরী বণিক ১৯৭৭ সালে দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি নারী আন্দোলন শুরু করেন। সে সময়ে প্রতিষ্ঠা করেন নারী সংগঠন নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা সংঘ। সেই থেকে আদ্যাবধি এ সংগঠনের সভাপতি তিনি।

মাধুরী জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অস্ত্র সংরক্ষণের কাজ করেছেন। তবুও মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণ করেননি। নিজেকে কখনো মুক্তিযোদ্ধা দাবিও করেননি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কখনো রাষ্ট্রীয় সুবিধাও গ্রহণ করবেন না। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড়, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা সামাজিক কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন মাধুরী। এখনো ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আন্দোলনে গ্রামে গ্রামে সভা করেন।

বর্তমানে মাধুরী বণিক নবাবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি, মহাকবি কায়কোবাদ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সহসভাপতি, আনন্দধারা ললিতকলা একাডেমির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ নবাবগঞ্জ শাখার সহ-সভাপতি। ২০১৫ সালে সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নবাবগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়ীতা পুরস্কারে ভূষিত হন শিক্ষানুরাগী এই আলোকিত মানুষ।

আনোয়ার হত্যা মামালার আসামী আটক

শরিফ হাসান, নিউজ৩৯ঃ  দোহারের আলোচিত আনোয়ার হত্যা মামলার অন্যতম আসামী শওকত (২২) কে আউলিয়াবাদ গ্রাম থেকে গ্রফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ।  বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।   শওকতকে গ্রেফতারের কথা শুনে শওকতের দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী।  শওকতের বাবার নাম ইয়াকুব, সে চর লটাখোলা গ্রামের অধিবাসী।

এ ব্যাপারে নিহত আনোয়ারের বড় ভাই মোকছেদ নিউজ৩৯কে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যার সাথে জড়িতরা এলাকা দিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না।’ তিনি বলেন, ‘হত্যা মামলার প্রধান আসামিরা না ধরা পড়া পর্যন্ত আমাদের উৎকষ্ঠা থেকেই যাবে।’

আনোয়ার হত্যার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দোহার থানার উপ পরিবদর্শক হাফিজুর রহমান জানান, আটক শওকতকে রিমান্ড চেয়ে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে এবং বাকি আসামিদের ধরার জোর চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ রাতে সন্ত্রাসীরা ছুরিকাহত করলে ৪ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ঢাকার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় আনোয়ারের।

ব্যাংক খাতে চলছে হরিলুটঃ দেওলিয়ার পথে ৯ ব্যাংক

0

অনিয়ম দুর্নী‌তি আর নানা অব্যবস্থাপনায় ব্যাংক খাতে চলছে হরিলুট। যাচাই-বাছাই ছাড়াই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে ঋণ। লাগামহীনভাবে বাড়ছে খেলাপি। ফলে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে গিয়ে মূলধন খেয়ে ফেলছে ব্যাংকগুলো। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে মূলধন সংকটে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি নয় ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে ৪০০ কোটি টাকা অথবা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের মধ্যে যা বেশি সেই পরিমাণ অর্থ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এদিকে ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে ১০ শতাংশ ন্যূনতম মূলধনের পাশাপাশি দশমিক ৬২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। গত ডিসেম্বর শেষে ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে নয়টি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে সরকারি-বেসরকারি ৯টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এই ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। এদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৬টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৭ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ঘাটতিতে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। এই ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি সাত হাজার ৭৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। মূলধন ঘাটতির দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক। এই ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি পাঁচ হাজার ৩৯৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এছাড়া বেসিক ব্যাংক দুই হাজার ৬৫৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ৮১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক ৬৩৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং জনতা ব্যাংকের ১৬১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে।

বেসরকারি খাতের তিনটি ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি এক হাজার ৪৯৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ঘাটতিতে থাকা অন্য দুই ব্যাংক হলো বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এবং নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংক। এর মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক ২৮২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ২৪৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।

জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি তৈরি হলে বাজেট থেকে তার যোগান দিতে হয়। জনগণের করের টাকায় বিভিন্ন সময় মূলধন ঘাটতিতে পড়া ব্যাংকগুলোতে অর্থ যোগান দেয় সরকার। তবে করের টাকায় মূলধন যোগানের বরাবরই বিরোধিতা করে থাকেন অর্থনীতিবিদরা।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের জোগান দেয়া অর্থ ও মুনাফার একটি অংশ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। কোনো ব্যাংক মূলধনে ঘাটতি রেখে তার শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। নিয়ম অনুযায়ী খেলাপির বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। মোটকথা মূলধন চলে যাচ্ছে। সরকারি ব্যাংকগুলো এ হার বেশি।

তিনি বলেন, প্রতিবছরই বাজেট থেকে এ মূলধন জোগান দেয়। অর্থাৎ অনিয়ম-দুর্নীতি ফলে ঘাটতি হওয়া এ মূলধন পূরণে হচ্ছে জনগণের করের টাকায়। মূলধন সরবরাহের সরকারি উদ্যোগের কোনো যুক্তিযুক্ত নেই। এ উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার সামিল।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি টাকা দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে মূলধন সরবরাহ করা ভুল। এ টাকা অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মূলধন ঘটতি মেটাতে খেলাপি ঋণ আদায়ে মনোযোগ দিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি খেলাপিঋণ কমাতে ব্যর্থ হলে এসব ব্যাংকের কার্যক্রম সংকুচিত করে সরকারি অর্থ অপচয় রোধ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক এ গভর্নর।

বাংলাদেশ ব্যাংক অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মূলধন সংরক্ষণের আবশ্যিকতা ছিল ৯০ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো সংরক্ষণ করেছে ৯৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। অনেক ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মূলধন সংরক্ষণ করেছে। ফলে ৯টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে থাকলেও সামগ্রিকভাবে চার হাজার ৪০৬ কোটি টাকা মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ব্যাংক খাতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডি‌সেম্বর শেষে ব্যাংকখাতে বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত লাখ ৯৮ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। এর ম‌ধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর’১৬ শেষে ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছ‌রের ব্যবধা‌নে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে আট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৭৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

দোহারে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

ঢাকার দোহারে মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুর রহমান’র বিরুদ্ধে সাত বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের দুবলি খাদিজাতুল ক্বোবরা মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত শিশুটি দুপুরে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি আসার পরে তার মা তাকে গোসল করাতে গেলে শিশুটির শরীরে বিভিন্ন স্থানে লালচে দাগ দেখে চমকে উঠে এবং তার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি তার মাকে জানায়, আমি এ কথা কাউকে বললে স্যার আমার গলা কেটে ফেলবে।

প্রতিবেশিদের জোরাজোরিতে শিশুটি জানায়, প্রায়দিন শিক্ষক হাবিবুর রহমান আমাকে (শিশু) কোলে নিয়ে শরিরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে চাপতে থাকে এবং সে বলেছে এ কথা কখনো কাউকে বললে গলা কেটে মেরে ফেলবে। পরে প্রতিবেশি ও স্বজনরা মাদ্রাসায় গিয়ে ঐ শিক্ষককে খুজে পায়নি।

মংগলবার শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দোহার থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে। শিক্ষক হাবিবুর রহমান পলাতক আছে বলে জানায় স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাবাসি ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমানের শাস্তি চেয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুছ মোড়ল জানায়, এর আগেও এই মাদ্রাসায় ছাত্রীদের শারীরিক নির্যাতন ও চুল কর্তনসহ অনেক আইন বিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করেছেন।

মনিপুরীপাড়ার বাসভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ঢাকাস্থ দোহার-নবাবগঞ্জ বাসীর সাক্ষাৎ

0

তারেক রাজীবঃ শনিবার মনিপুরীপাড়ার বাসভবনে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১২ এর মগবাজারে বসবাসরত দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর সাথ মতবিনিময় করেন মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল এম.পি। এসময় দোহারের উন্নয়নে যে কোন কাজে তিনি পাশে আছেন, থাকবেন বলে জানান। পদ্মা কলেজ জাতীয়করণ ও নবাবগঞ্জ কলেজ জাতীয়করণে সবাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে মাদক নির্মূলে আরো বেশি নির্দেশনার আহবান জানান। প্রতিনিয়ত ঢাকাস্থ দোহার-নবাবগঞ্জ খোজ নেয়ায় তারা তাদের অভিভাবক হিসাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ধন্যবাদ জানান।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওই ৪টি ধারায় যা আছে

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ১০টি দেশ। তারা বলেছে, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই ধারাগুলো জনগণের মুক্ত বাক-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে। এই আইনের শাস্তি, জামিন অযোগ্য ধারা  এবং এই আইনের অপব্যবহার—এই তিনটি বিষয় নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। রবিবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা যে চারটি ধারার বিষয়ে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছেন সে চারটি ধারা হচ্ছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা ২১, ধারা ২৫, ধারা ২৮ এবং ধারা ৩৫।

রবিবার আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকে রাষ্ট্রদূতদের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিন্স। প্রতিনিধি দলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), সুইডেন,যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, কানাডা, ইউকে, স্পেন, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডের  রাষ্ট্রদূতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী জানান,‘আমাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। এখন আমরা নিজেরা বসে  আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো।’

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি জেল জরিমানার বিধান রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন—২০১৮-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ। আইনটি সংসদে পাস হলে বর্তমানে বলবৎ থাকা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে হবে। এ আইনটির প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘ সম্প্রতি দেশে সাইবার অপরাধের আধিক্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনা ঘটেছে। ফলে এ আইন করার প্রয়োজন হয়েছে। আগে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দেশে কোনও আইন ছিল না। এখন এই জাতীয় সব অপরাধের বিচার এই আইনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।’

‘আইনে ডিজিটালের সংজ্ঞা,ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব করা,ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন,প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। নতুন আইনের ১৭ থেকে ৩৮ ধারায় বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।’ এই ধারাগুলোর মধ্যে ২১,২৫,২৮ ও ৩৫ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূতরা।

কী আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ধারায় ?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোনও প্রকার প্রপাগান্ডা বা প্রচারণার দণ্ড। (১) যদি কোন ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোনও প্রকার প্রপাগান্ডা বা প্রচারণা চালায় বা তাতে মদত প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। (২) যদি কোনও ব্যক্তি উপধারা (১) এর অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। (৩) যদি কোনও ব্যক্তি উপ ধারা ১ (এক) এ উল্লেখিত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩ (তিন) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, ‘আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ ইত্যাদি। এর উপধারাগুলোতে বলা হয়েছে,(১) যদি কোনও ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনও ইলেকট্রিক বিন্যাসে,(ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা অজ্ঞাতসারে,এমন কোনও তথ্য প্রেরণ করেন যাহা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক,বা (খ) এমন কোনও তথ্য সম্প্রচার বা প্রকাশ করেন, যাহা কোনও ব্যক্তিকে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ করিতে পারে বা (গ) মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও কোনও ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্ত বা হেয় প্রতিপন্ন করিবার অভিপ্রায়ে কোনও তথ্য উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ,কিংবা সম্প্রচার করেন, বা (ঘ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করিবার  বা  বিভ্রান্তি ছড়াইবার উদ্দেশ্যে, অপপ্রচার বা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও কোনও তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ, প্রচার বা সম্প্রচার করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। (২) যদি কোনও ব্যক্তি উপধারা (১) এর অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দন্ডে দণ্ডিত হইবেন। (৩) যদি কোনও ব্যক্তি উপধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃ পুনঃ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৮ ধারায় বলা হয়েছে,‘ওয়েবসাইটে বা কোনও ইলেকট্রিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভুতিতে আঘাত করে এমন কোনও তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার, ইত্যাদি। – (১) যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করিবার অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার, করেন বা করান যাহা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত করে তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। – (২) যদি কোনও ব্যক্তি উপধারা ১ (এক) এর অধীনে কোনও অপরাধ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ডে বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। (৩) যদি কোনও ব্যক্তি উপধারা ১ (এক) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ৩৫ ধারায় বলা হয়েছে,‘অপরাধ সংঘটনে সহায়তা ও উহার দণ্ড। (১) যদি কোনও ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনও অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। (২) অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করিবার ক্ষেত্রে মূল অপরাধটির জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত রহিয়াছে কোনও ব্যক্তি সেই দণ্ডেই দণ্ডিত হইবেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাসুদ মিয়া জানিয়েছেন,এ আইনের ফলে মানুষের কাজের জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কাজের পরিধি ও উদ্যোগকে নিয়ন্ত্রণ করবে।

ঢাকা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক বলেছেন, এ আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করবে।