ব্ল্যাক হোল (Black hole) বা কৃষ্ণ গহ্বর এক মহাআশ্চর্য

বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, গাজীপুর এর একজন এক্স সিনিয়র সাইন্টিস্ট আমার সাথে বিগ ব্যাং তত্ব নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছে। আমি তাকে বলেছি এই দুঃসাহস যেনো আমার না হয় এতে তিনি কি মনে করেছেন জানি না। যেকোন কারনে আমি তার নাম এখানে বলছি না তবে আজকের এই লেখাটা তাকে স্বরন করে। বিগ ব্যাং তত্ব নিয়ে কথা উঠাতেই আমি এটা নিয়ে লেখার কথা চিন্তা করি। বিগ ব্যাং নিয়ে যতটুকুই জানি সেটা নিয়ে পরে আরেকদিন লেখার চেষ্টা করবো আজ ব্ল্যাক হোল নিয়েই আলোচনা করবো। এখানে আমি চেষ্টা করেছি সকলের সহজ বোঝার সুবিদার্থে একদম সহজ ভাষা ব্যবহার করার।

আমাদের পৃথিবীটা যেই সৌরজগত এর মধ্যে অবস্থিত সেই সৌরজগত এর বাইরে যে মহাবিশ্ব আছে সেখানে খুবই রহস্যময় হাজার হাজার বিষয় ও বস্তু আছে। আমরা কিন্তু সবাই সেই বিষয়গুলি নিয়ে খুব একটা জানতে চাই না। তবে যারা বিজ্ঞানের উপরে বিশ্বাস রাখে তাদের ৫০% কে দেখা যায় এসব অজানা নিয়ে আরো জানতে আগ্রহী কিন্তু, বাকী ৫০% জীবনে কয়েকবার মাত্র আকাশের দিকে যখন সময় পায় তখন একটু তাকিয়ে মনে মনে কল্পনা করে কি আছে এই আকাশে। কিছু তারা ও চাঁদ দেখতে পারলেই মহাকাশ সম্পর্কে জানার ইচ্ছা শেষ হয়ে যায় তাদের। এরা তো তাও একটু আছে বলতে হবে, কিন্তু তাদের কথা একটু ভেবে দেখুন যারা সৌরজগতের এই সব প্রাকৃতিক ঘটনার সাথে তাদের ধর্মীয় কিতাব এর মিল খুজে তারা আবার কি জিনিষ। তাদের ধারনা সৌরজগত এর এসব ঘটনা কেউ একজন সৃষ্টি করেছেন এবং আজকের সৌরবিজ্ঞানীরা এই সৌরজগত নিয়ে যা আবিষ্কার করছে তা আজ থেকে হাজার বছর আগেই কোন ধর্মীয় কিতাবে লেখা ছিলো। সেই আলোচনায় আজকে যাবো না আজ ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর নিয়ে অল্প কিছু আলোচনা করবো।

এই রহস্যময় মহাবিশ্বের অনেক রহস্যময় জিনিসের মধ্যে মানুষ আজ পর্যন্ত খুব অল্প কিছুই জানতে পেরেছে। কিন্তু সেটা কতটুকু তা বলার চেয়ে এটা বলা আমি শ্রেয় মনে করি যে আজ পর্যন্ত মানুষ এই মহাবিশ্বের কতটুকু জানতে পারেনি। সেটা হচ্ছে ৯৯,৯৯% এখনও মানুষের অজানা। তাহলে একবার ভেবে দেখুন এই মহাবিশ্বের কি জানতে পেরেছে আজকের পৃথিবীর মানুষ। তবে বিশ্বাসীদের মতে পৃথিবী থেকে দুইভাগ করে ফেলা সেই চাদে মানুষ আজ থেকে প্রায় অর্ধশত বছর আগেই ঘুরে এসেছেন। চাদের থেকেও এই মহাবিশ্বের আরো একটি রহস্য হচ্ছে এই ব্ল্যাক হোল। মহা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য, সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক বিস্ময়, ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর। ব্ল্যাক হোল হলো আমাদের সূর্যের মত এক ধরনের নক্ষত্র। কোন নক্ষত্রের যদি অনেক ভর ও ঘনত্ত্ব থাকে, তাহলে তার মহাকর্ষীয় শক্তি এতই শক্তিশলী হবে যে আলো পর্যন্ত সেখান থেকে নির্গত হতে পারবে না। মহাকর্ষীয় শক্তি আবার কি তাই না ? এ মহাবিশ্বের যেকোন দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষন তাই হচ্ছে মহাকর্ষীয় শক্তি। এই নক্ষত্রের থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই নক্ষত্রটির মহাকর্ষীয় আকর্ষন দারা তাকে পিছনে নিয়ে আসে। পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই কৃষ্ণ গহ্বর সম্পর্কে এ পর্যন্ত জানতে পেরেছেন সামান্যই। তবে যতটা তথ্য উদ্ধারে সক্ষম হয়েছেন তা যথার্থই অভাবনীয়, সাধারণ চিন্তার বাইরে।

এই ব্ল্যাক হোল গুলা কিন্তু আমাদের পৃথিবী তেকে সরাসরি দেখা সম্ভব হয় না। ধারনা করা হয় মহাবিশ্বের এই ব্ল্যাক হোলের জন্ম হয়েছে নক্ষত্র যখন তার জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে তখন নক্ষত্র গুলো সংকুচিত হতে থাকে। সাধারনত গ্যালাক্সি গুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে সুপারনোভা বিস্ফোরনের মাধ্যমে ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে। নক্ষত্র গুলো অনেক বেশি সংকুচিত হয়েই ব্ল্যাক হোলের জন্ম দেয়। কিন্তু সেই সংকুচিত হওয়ার মাত্রা কতটুকু তা শুনে হয়তো একটু অবাক হবেন। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যের ব্যাসর্ধ প্রায় ৬.৯৬০০০০০ কিলোমিটার। এই বিশালাকার আয়তনকে যদি কোনোভাবে মাত্র ১০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা যায়, তাহলে সেটি এই মহাবিশ্বের একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে। আর আমাদের পৃথিবীকেই যদি চেপেচুপে মাত্র দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটা বানানো যায়, তাহলে পৃথিবীও একটি ক্ষুদে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে। ব্ল্যাক হোল হওয়া তাহলে সোজা ব্যপার না তাই না এটা কিন্তু পরিষ্কার।

এই ব্ল্যাক হোল এর আরো একটি আশ্চর্য করার মতো বিষয় আছে। ব্ল্যাক হোল থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই ব্ল্যাক হোলটির মহাকর্ষীয় আকর্ষন দ্বারা তাকে পিছনে নিয়ে আসে। ঠিক বুঝলেন না ব্যাপারটা। আরো ভালো করে বোঝার জন্য আপনাকে ইউটিউবের কিছু ভিডিও দেখতে বলবো। ধরুন এমন কি কখনও হতে পারে আপনি টর্চ লাইট দিয়ে সোজা আলো মারলেন কিন্তু সেটা মাঝামাঝি গিয়ে বাকা হয়ে অন্য যায়গায় গিয়ে পড়লো। এরকম ঘটতে পারে মহাবিশ্বের এই ব্লাক হোল নামক যায়গাটিতে। অবাক হবার কিছুই নাই এর চেয়ে অবাক করার মতো কথা হচ্ছে আপনি যদি স্বশরীরে এই ব্ল্যাক হোল এর ভেতরে পড়ে যান তাহলে আমরা আপনাকে পড়ে যেতে দেখবো কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি নিচে পড়ছেন তো পড়ছেনই যার কোন শেষ হচ্ছে না আমরা যদি কয়েক বছর পরেও আবার আপনাকে দেখতে যায় যে নিচে পড়েছেন কিনা তখনও দেখবো আপনি পড়ছেন তো পড়ছেনই মনে হচ্ছে উপর থেকে নিচের কোন শেষ নাই। আবারও বলছি আমি আসলে সকলের বোঝার সুবিধার্থে এখানে খুবই সহজ ভাষা ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি।

এরকম আরো কি আশ্চর্য হবার মতো ঘটনা আছে এই ব্ল্যাক হোল এর ভেতরে যা আমাদের এই পৃথিবীতে কখনই ঘটে না। আলোর ব্যাপারটি দেখুন। যেহেতু এই ব্লাক হোল থেকে আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না তাহলে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ত কিভাবে দেখা যায় বা বুঝা যায় এরকম প্রশ্ন উঠতে পারে। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময়েই মহাকাশে প্রচুর তারকারাশি দেখা যায় যারা একটি বিশেষ বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে অথবা সর্পিলাকার গ্যাসীয় বস্তু দেখা যায় যা কোন বিন্দুকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছে। এই বিশেষ বিন্দুগুলোই হল ব্ল্যাক হোল যেগুলোকে দেখা যাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে তারকারাশি বা গ্যাসীয় বস্তুগুলোর অবস্থান আর তাদের গতি-প্রকৃতির মাধ্যমে। বর্তমানে কিছু উন্নত প্রযুক্তি ব্যাবহার করে কিছু টেলিস্কোপ দিয়ে নেগেটিভের মতো কিছু ছবিও তুলে দেখাতে সক্ষম হয়েছে সৌরবিজ্ঞানীরা।

ব্ল্যাক হোল থেকে এক জাতীয় চম্বুকীয় তরঙ্গ বের হতে থাকে যা এই ব্ল্যাক হোল এর আশেপাশে থাকা সকল বস্তুকে ভেতরের দিকে টানে। এই ব্ল্যাক হোল অতিমাত্রায় কৃষ্ণকায় বা কালো হওয়ার দরুণ ব্ল্যাক হোল আমাদের কাছে এই পৃথিবী থেকে অদৃশ্য বটে কিন্তু এর থেকে নিঃসরিত বিকিরণ জনিত শক্তি প্রতিনিয়তই নির্ণেয়মান। যা থেকে সৌরবিজ্ঞানীরা আমাদের সঠিকভাবেই বলতে পারেন এই ব্লাক হোল এর অবস্থান ও তার গতিবিধি। এই ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে এখনো বিজ্ঞানিরা ৯৯,৯৯% জানতে পারে নি। তাই এটি এখনো রহস্যময় একটি জগত হয়ে আছে আমাদের কাছে। তারপরেও আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তা থেকে খুব ভালোভাবেই বোঝা যায় ব্ল্যাক হল এর আচরন কেমন। আবার আরেকটি উদাহরন দেখুন, ধরা যাক, আপনার পা ব্ল্যাক হোলের দিকে আছে। ফলে আপনার শরীরে কি ঘটছে তা দেখতে পাবেন। আপনার পা ব্ল্যাক হোল এর দিকে থাকার কারণে আপনার শরীরের নিচের অংশ বেশী আকর্ষণ অনুভব করবে। আকর্ষণের টানে আপনার শরীর চুইং গামের মত হয়ে যাবে। তারপর একসময় আপনার শরীর নুডুলসের মত হয়ে যাবে। এরপর আপনি ব্ল্যাক হলের ভেতরে গিয়ে পড়বেন আর এসবই হবে সেই চম্বুকীয় তরঙ্গের কারনে।

সূর্যের চেয়ে কমপক্ষে দশগুণ বড় নক্ষত্রদের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে এরা সঙ্কুচিত হতে হতে অতি খুদ্র অন্ধকার বিন্দুতে পরিণত হয়। এধরণের ব্ল্যাক হোল কে বলা হয় স্টেলার মেস (Stellar Mass) ব্ল্যাক হোল। বেশীরভাগ ব্ল্যাক হোলই এধরণের। কিন্তু নক্ষত্রের সঙ্কুচিত হয়ে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হওয়ার পরও ব্ল্যাক হোলে নক্ষত্রের সমান ভর ও অভিকর্ষ টান থাকে। আমাদের গ্যালাক্সিতে সম্ভবত ১০০ মিলিয়ন ব্ল্যাক হোল রয়েছে যার কয়েকটির মাত্র সন্ধান আমরা পেয়েছি আজ পর্যন্ত। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে প্রতি সেকেন্ডে একটি ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি হয়। আরেক ধরণের ব্ল্যাক হোল হল সুপার মেসিভ (Super massive) ব্ল্যাক হোল। তাদের এক মিলিয়ন তারার ভর এমনকি এক বিলিয়ন তারার ভরও থাকতে পারে। সুপার মেসিভ ব্ল্যাক হোলরা কোন গ্যালাক্সির মিলিয়ন বা বিলিয়ন তারাকে একত্রে ধরে রাখে। আমাদের গ্যালাক্সিতেও কিন্তু একটি সুপার মেসিভ ব্ল্যাক হোল আছে। সেটির নাম Sagittarius A (উচ্চারণ আমার জানা নাই), যা আবিষ্কৃত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে। তাহলে একবার একটু ছোট্ট একটি চিন্তা করুন আমরা জানি যে আমাদের এই বিশাল পৃথিবী থেকে যেই ছোট্ট সূর্যটি আমরা দেখতে পায় তা আমাদের এই পৃথিবী থেকে ১৩ লক্ষ গুন বড় একটি বস্তু। তার মানে এই সূর্যের কাছে আমাদের পৃথিবী কিছুই না। আবার যেই নক্ষত্র বা তারার কথা বলা হচ্ছে যাদের এই ব্ল্যাক হোল গিলে ফেলতে পারে সেই নক্ষত্র গুলার একেকটার আকৃতি কিন্তু এই সুর্য থেকে কয়েক হাজার এমনকি কয়েক লক্ষ গুন বড় হতে পারে। তাহলে একটি ব্ল্যাক হোল বা (Super massive) ব্ল্যাক হোল এর ভেতরে আমাদের এই পৃথিবীর সমান কতটা পৃথিবী ধরতে পারে একটু চিন্তা করে দেখুন একবার। দরকার নেই থাক। আমাদের বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এতোই বিশাল যে এর গ্রহ-উপগ্রহ, তারা, নক্ষত্র বিজ্ঞানীদের প্রায়ই ধাঁধায় ফেলে দেয়। আর এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত ‘ইউওয়াই স্কুটি’ (UY Scuti) নামের সবচাইতে বড় তারা যেটা একাই বিজ্ঞানীদের মাথা গুলিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

প্রতিদিনের হাদিসঃ ইসরা মি‘রাজে কীভাবে সলাত ফরজ হলো?

0

সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ৮/ সলাত (كتاب الصلاة)  হাদিস নম্বরঃ ৩৪৯

ইবনু ‘আববাস (রাযি.) বলেনঃ আমার নিকট আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারব (রাযি.) হিরাকল-এর হাদীসে বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি এ কথা বলেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত, সত্যবাদিতা ও চারিত্রিক পবিত্রতার নির্দেশ দিয়েছেন।

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي أَبُو سُفْيَانَ فِي حَدِيثِ هِرَقْلَ فَقَالَ يَأْمُرُنَا يَعْنِي النَّبِيَّ ﷺ بِالصَّلاَةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ.

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ যার (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমি মক্কা্য় থাকা অবস্থায় আমার গৃহের ছাদ উন্মুক্ত করা হ’ল। অতঃপর জিব্রীল (‘আ.) অবতীর্ণ হয়ে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। আর তা যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করলেন। অতঃপর হিকমাত ও ঈমানে ভর্তি একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বুকের মধ্যে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। অতঃপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আকাশের দিকে নিয়ে চললেন। পরে যখন দুনিয়ার আকাশে আসলাম জিব্রীল (‘আ.) আসমানের রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। আসমানের রক্ষক বললেনঃ কে আপনি? জিবরীল (‘আ.) বললেনঃ আমি জিব্রীল (‘আ.)। (আকাশের রক্ষক) বললেনঃ আপনার সঙ্গে কেউ রয়েছেন কি? জিব্রীল বললেনঃ হাঁ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন। অতঃপর রক্ষক বললেনঃ তাকে কি ডাকা হয়েছে? জিবরীল বললেনঃ হাঁ। অতঃপর যখন আমাদের জন্য দুনিয়ার আসমানকে খুলে দেয়া হল আর আমরা দুনিয়ার আসমানে প্রবেশ করলাম তখন দেখি সেখানে এমন এক ব্যক্তি উপবিষ্ট রয়েছেন যার ডান পাশে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি রয়েছে আর বাম পাশে রয়েছে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি। যখন তিনি ডান দিকে তাকাচ্ছেন হেসে উঠছেন আর যখন বাম দিকে তাকাচ্ছেন কাঁদছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ স্বাগতম ওহে সৎ নাবী ও সৎ সন্তান। আমি (রাসূলুল্লাহ) জিব্রীল (‘আ.)-কে বললামঃ কে এই ব্যক্তি? তিনি জবাব দিলেনঃ ইনি হচ্ছেন আদম (‘আ.)। আর তার ডানে বামে রয়েছে তাঁর সন্তানদের রূহ। তাদের মধ্যে ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বাম দিকের লোকেরা জাহান্নামী। ফলে তিনি যখন ডান দিকে তাকান তখন হাসেন আর যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁদেন। অতঃপর জিব্রীল (‘আ.) আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে উঠলেন। অতঃপর তার রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। তখন এর রক্ষক প্রথম রক্ষকের মতই প্রশ্ন করলেন। পরে দরজা খুলে দেয়া হল। আনাস (রাযি.) বলেনঃ আবূ যার (রাযি.) উল্লেখ করেন যে, তিনি [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] আসমানসমূহে আদাম, ইদরীস, মূসা, ‘ঈসা এবং ইব্রাহীম (‘আলাইহিমুস্ সালাম)-কে পান। কিন্তু আবূ যার (রাযি.) তাদের স্থানসমূহ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আদম (‘আ.)-কে দুনিয়ার আকাশে এবং ইব্রাহীম (‘আ.)-কে ষষ্ঠ আসমানে পান।

আনাস (রাযি.) বলেনঃ জিব্রীল (‘আ.) যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে ইদরীস (‘আ.)এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন তখন ইদ্রীস (‘আ.) বলেনঃ মারহাবা ওহে সৎ ভাই ও পুণ্যবান নবী। আমি (রাসূলুল্লাহ) বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইদ্রীস (‘আ.)। অতঃপর আমি মূসা (‘আ.)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করাকালে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে সৎ নাবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি মূসা (‘আ.)। অতঃপর আমি ‘ঈসা (‘আ.)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করাকালে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে সৎ নাবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল (‘আ.) বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ‘ঈসা (‘আ.)। অতঃপর আমি ইব্রাহীম (‘আ.)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে পুণ্যবান নাবী ও নেক সন্তান। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল (‘আ.) বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইব্রাহীম (‘আ.)। ইবনু শিহাব বলেনঃ ইবনু হায্ম (রহ.) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনু ‘আববাস ও আবূ হাববা আল-আনসারী উভয়ে বলতেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতঃপর আমাকে আরো উপরে উঠানো হল অতঃপর এমন এক সমতল স্থানে এসে আমি উপনীত হই যেখানে আমি লেখার শব্দ শুনতে পাই। ইবনু হায্ম ও আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতঃপর আল্লাহ আমার উম্মাতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করে দেন। অতঃপর তা নিয়ে আমি ফিরে আসি। অবশেষে যখন মূসা (‘আ.)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করি তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আপনার উম্মাতের উপর কী ফরজ করেছেন? আমি বললামঃ পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। তিনি বললেনঃ আপনি আপনার পালনকর্তার নিকট ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মাত তা আদায় করতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ তা‘আলা কিছু অংশ কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা (‘আ)-এর নিকট পুনরায় গেলাম আর বললামঃ কিছু অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার রবের নিকট ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মাত এটিও আদায় করতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেয়া হলো। আবারও মূসা (‘আ)-এর নিকট গেলাম, এবারও তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার প্রতিপালকের নিকট যান। কারণ আপনার উম্মত এটিও আদায় করতে সক্ষম হবে না। তখন আমি পুনরায় গেলাম, তখন আল্লাহ বললেনঃ এই পাঁচই (নেকির দিক দিয়ে) পঞ্চাশ (বলে গণ্য হবে)। আমার কথার কোন রদবদল হয় না। আমি পুনরায় মূসা (‘আ)-এর নিকট আসলে তিনি আমাকে আবারও বললেনঃ আপনার প্রতিপালকের নিকট পুনরায় যান। আমি বললামঃ পুনরায় আমার প্রতিপালকের নিকট যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। অতঃপর জিব্রীল (‘আ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা* পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙে আবৃত ছিল, যার তারপর্য আমি অবগত ছিলাম না। অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলে আমি দেখতে পেলাম যে, তাতে রয়েছে মুক্তোমালা আর তার মাটি হচ্ছে কস্তুরী।

(১৬৩৬, ৩৩৪২; মুসলিম ১/৭৪, হাঃ ১৬৩, আহমাদ ২১১৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২) পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

রাজধানীতে ভুল চিকিৎসায় দোহারের গৃহবধূর মৃত্যু

চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়ার গৃহবধূ কোহিনুর বেগমের মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।

রাজধানীর সাত মসজিদ রোডের লিভার গ্যাস্ট্রিক জেনারেল হাসপাতাল ও রিসার্চ ইন্সটিটিউটে অপারেশনের পর কোহিনুর আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার মৃত্যু হয়। প্রফেসর ডা. মো. সহিদুর রহমানের ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন। দায়ী চিকিৎসকের বিচার দাবি করেছেন তারা। বিষয়টি আদালতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দিয়েছেন চিকিৎসক ডা. সহিদুর।

কোহিনুরের স্বজনরা জানান, সাত মসজিদ রোডের (ধানমণ্ডি) বাড়ি নং # ৭৫. রোড নং # ৫/এ-এর র‌্যাংগস নিলু স্কয়ারে লিভার, গ্যাস্ট্রিক জেনারেল হাসপাতাল ও রিসার্চ ইন্সটিটিউটে ১৮ মার্চ কোহিনুরকে রোগী ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাত ৯টার দিকে ইন্সটিটিউটের পরিচালক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মো. সহিদুর রহমান ও তার সহযোগী ডা. আলমগীর হায়দারের তত্ত্বাবধানে কোহিনুরের পিত্তথলির পাথর অপারেশন করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী আধুনিক মেশিনের সাহায্যে অপারেশন করার কথা থাকলেও তারা সেটা না করে রোগীর পেট কেটে অপারেশন করেন। এতে প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকরা অবহেলা ও নানা টালবাহানা করেন। এর ফলে ২৩ মার্চ কোহিনুর মারা যায় বলে স্বজনদের দাবি।

কোহিনুরের অভিভাবক ইলিয়াস উদ্দিন সবুজ বলেন, ডা. মো. সহিদুর প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অপারেশনের আগে রোগীর অভিভাবকদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষার নামে প্রায় তিন লাখ টাকা নিয়েছে ডা. সহিদুর। যদিও চিকিৎসা ব্যয়ের চুক্তি ছিল মাত্র ৪০ হাজার টাকার। সবুজ বলেন, এই রোগীর অপারেশনে কোনো রক্তের প্রয়োজন না থাকলেও অপারেশন করার পর সাত ব্যাগ রক্ত নেয়া হয়েছে। এরপর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। সেখানে ডা. সহিদুরের নির্দেশে আইসিওতে কোহিনুরকে ভর্তি করানো হয়।

ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, অপারেশনের সময় রোগীর রক্তনালী কেটে ফেলায় এত রক্ত লাগছে। ডা. সহিদুরকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বাজে কথা বলে উড়িয়ে দেন এবং কারও কথায় কান না দিতে বলেন। এরপর ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতাল থেকে কোহিনুরকে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তির কথা বলেন তিনি। কিন্তু রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে আমরা ২৩ মার্চ তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করি। হলি ফ্যামিলির চিকিৎসকরা রোগীকে আইসিওতে নিয়ে যান এবং কিছুক্ষণ পর রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা আরও জানান, নার্ভ কেটে ফেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ইলিয়াস উদ্দিন সবুজ আরও বলেন, এরপর ডা. সহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা না বলে গ্রামে চলে যেতে বলেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে পুলিশে দেয়ারও হুমকি দেন তিনি। দুই শিশুকন্যার জননী কোহিনুরের মৃত্যুর জন্য দায়ী ডা. সহিদুরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার।

কোহিনুরের অপারেশন ও মৃত্যু সম্পর্কে প্রফেসর ডা. মো. সহিদুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, বিষয়টি সঠিক নয়। অপারেশনের পর স্বজনরা হঠাৎ কোহিনুর বেগমকে অন্য ক্লিনিকে নিয়ে যায় এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। আমার মধ্যস্থতায় মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে তারা রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখন সেখানে অথবা রাস্তায় সমস্যা হতে পারে অথবা অন্য কোনো কারণে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এ জন্য আমি বা আমার হাসপাতাল দায়ী নয়।

জয়পাড়ায় অবৈধ ফুটপাথ উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান

বেশ কয়েকদিন ধরেই যানজটে নাকাল অবস্থায় ছিল দোহারের প্রানকেন্দ্র জয়পাড়ার অবস্থা। রাস্তার উপরে দোকানসহ বিভিন্ন ভ্রাম্যমান দোকান ও পার্কিং এর কারনে যানজটে নাকাল ছিল জয়পাড়া বাসি। এই দুরবস্থা দূর করতে বেশ কয়েকদিন ধরেই দোহার পৌরসভা জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য মাইকিং করা হয়েছিল দোহার পৌরসভার উদ্যোগে। সেই পথ ধরে আজ এই অবৈধ দোকানপাট ও যত্রতত্র পার্কিং উচ্ছেদের জন্য অভিযান পরিচালনা করেন দোহার উপজেলা প্রশাসন। দোহার পৌরসভার উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালনা করেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ সিরাজুল ইসলাম লিটু ও দোহার পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমান। অভিযানে জয়পাড়া বাজারে রাস্তার উপরে স্থাপিত অবৈধ দোকানপাট ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং উচ্ছেদ করা হয়। সকাল ১১ টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এই সময় জয়পাড়া বাজার সংলগ্ন সাহেব খালী খালের দুরবস্থা দেখে অচিরেই এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা।

জয়পাড়ায় অবৈধ ফুটপাথ উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান

দোহারে সৃজনশীল মেধা অন্বেষন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

প্রতি বছরের মতো এবারও দোহারে ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতাটি প্রথমে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এর পর উপজেলা পর্যায় অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগীতা বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ এ নেয়া হয়।

দোহারের সব উপজেলার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনটি উপদলে (ষষ্ঠ-অষ্টম, নবম-দশম, একাদশ থেকে দ্বাদশ )ক, খ, ঘ ভাগ করে প্রতিযোগিতা নেয়া হয়। এই প্রতিযোগিতার বিষয় ছিলো ভাষা ও সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার এবং বাংলাদেশ শিক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধ। সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ’ প্রতিযোগিতার পর্যায়ক্রমে উপজেলা থেকে জেলা পর্যায় ৮ তারিখ ও পরার্বতীতে জাতীয় পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানার নির্বাহী অফিসার আফরেজা আক্তার রিবা, শিক্ষা অফিসার, অধ্যক্ষ কুলছুম বেগম,মাহামুদুল হাসান সুমন সহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বৃন্দ।

এই প্রতিযোগিতায় প্রতেকটি গ্রুপ থেকে তিন জন করে মোট ৯ জন জেলা পর্য়ায় অংশগ্রহন করার সুযোগ পায় এরা হলো ভাষা ও সাহিত্য বিষয় ফাহামিদা ইসলাম মুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিলস হাই স্কুল, মো: মাইনুল ইসলাম শান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ড্যফোডিলস হাই স্কুল, শুয়াইবা আক্তার মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ দৈনন্দিন বিজ্ঞান বিষয় নূর মোহাম্মদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুকসুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়, ইসরাত জাহান কান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, রুহুল আমিন মাশুক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জয়পাড়া কলেজ গনিত ও কম্পিউটার বিষয় স্বপ্নিল সেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জয়পারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ইসতিয়াক আহাম্মেদ স্বপ্নিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, রাবেয়া আক্তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল ও কলেজ বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয় ইয়াসরিফ সিদ্দিক ড্যাফোডিলস হাই স্কুল, ফারিয়া আলম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, মরিয়াম আক্তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল ও কলেজ।

প্রশাসনের একটি মহৎ উদ্যোগই ফিরিয়ে দিতে পারে খরস্রোতা ইছামতির রুপ যৌবন

নদীমাতৃক সোনার বাংলার প্রতিটা অঞ্চলেই নদীকে ঘিরেই রয়েছে অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্য,  আর সেটি যদি হয় আমাদের প্রাণের স্পন্দন ও চিরচেনা ইছামতি তাহলে হৃদয় ও মন আপনাআপনিই নেচে উঠে অজানা কোন শিহরনে। ছোটবেলায় ইছামতির বুকে ঝাপাঝাপি করে বেড়ে উঠা, এই নদীর বুকে নারিকেল দিয়ে সাঁতার কাটতেশেখা, দলবেঁধে ছোয়াছুয়ি খেলা, ভাদ্র মাসের ভরা যৌবনে নৌকা বাইচের আসর বসানো, ছোট বড় অসংখ্য নৌকা করে জেলেদের মাছ ধরা, ইঞ্জিনচালিত নৌকা করে এখানে ওখানে বেড়াতে যাওয়ার এসব মুহুর্তগুলো আজও হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়।

১৯৯৯ সনে কাশিয়াখালী বেরিবাধ স্থাপনের পর থেকেই এ নদীটি ধীরে ধীরে নিষ্প্রাণ হয়ে পরছে, হারিয়ে ফেলছে তার রুপযৌবন। বেরিবাঁধ স্থাপনের আগে বোয়ালী ও  কাশিয়াখালী  দিয়ে পদ্মার পানি ইছামতির মাধ্যমে প্রবাহিত হতো, সারাবছরই নদীতে পানি থাকলেও বর্ষার ভরা মৌসুমে নদীতে জল থৈ থৈ করত, নদীর পানি বিভিন্ন খাল দিয়ে চক পাথারে প্রবেশ করায় পলি পরে বেড়ে যেত জমির উর্বরতা। শুধুমাত্র পদ্মা নদীর সাথে সরাসরি সংযোগ না থাকায় ও নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় আমাদের সবার প্রাণের স্পন্দন এ নদীটি আজ যেন গুমরে কাঁদছে। অতীতে এ নদীকে রক্ষার জন্য বহু আন্দোলন হয়েছে; হয়েছে বহু সভা,সেমিনার ও মানববন্ধন। প্রশাসন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল কিন্তু কোন ভাল ফলাফল আসেনি। গত বছরও এলাকার সচেতন নাগরিকদের সৃষ্ট অনলাইন পেইজ” কাশিয়াখালী বেরিবাধ রক্ষামঞ্চ” এর ব্যানারে ক্যাম্পেইন করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল,তাশুল্যা বাংলাজার স্কুলে একটি অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাহেব ও দেশের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার,প্রধান মন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা  সালমান এফ রহমান সাহেব এলে এলাকাবাসীর পক্ষে বেরিবাঁধ রক্ষামঞ্চের এডমিনগণ তাদেরকে অবহিত করেন। তারা উভয়েই বেরিবাঁধ ও ইছামতি রক্ষার বিষয়ে আশ্বস্ত করার পরেও কাজের গতি নেই, সবকিছুই  চলছে ঢিলেঢালাভাবে ,অথচ একটি মহৎ প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে শুধুমাত্র  নদীমুখে একটি স্লুইসগেট স্থাপনের মাধ্যমেই হতে পারে সকল সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান। পরিশেষে আশা করব প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা এমন একটি মহৎ ও তড়িৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে  বাঁচিয়ে দেবে আমাদের ছোটবেলার খেলার সাথী মৃতপ্রায় ইছামতিকে।

এম.এ. কাইয়ুম খান

নবাবগঞ্জ,ঢাকা

দোহারে প্রাথমিক বৃত্তি পেল ১৬১ জন

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে ১৬১ জন শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুরে সারা দেশের মত দোহারেও ঘোষনা করা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার বৃত্তির তালিকা। সাধারন ও ট্যালেন্টপুল এই দুইটি মিলে দোহারে বৃত্তি পেয়েছে মোট ১৬১ জন শিক্ষার্থী। এর মাঝে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৫৬ জন শিক্ষার্থী। আর সাধারন গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে ১০৫ জন শিক্ষার্থী।

দোহার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে বৃত্তি প্রাপ্ত প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে অবহত করা হয় বলে জানান দোহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত; পুলিশী পাহাড়ায় নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান

শিক্ষকের নির্যাতনে এক শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হওয়াকে কেন্দ্র করে না্রিশা উচ্চ বিদ্যালয়ে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা এখন শান্ত হয় নি। সেই ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম খান শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর রোষানলে পরে কাউকে কিছু না জানিয়ে অন্যাত্র চলে গেছেন। একই সাথে নতুন করে যেন কোন বিক্ষোভ দানা বাধতে না পারে সেজন্য বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে পুলিশী প্রহরায়। মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে বিদ্যালয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

বিদ্যালয় গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের এক জরুরী সভাও চোখে পরে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আবুল কালাম বলেন, মঙ্গলবার সকালে আমি জানতে পারি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের মাঠে প্রধান শিক্ষক আজিম খানের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ করছে। খবর পেয়ে আমি আমার অন্যান্য সদস্যদের ও পুলিশকে অবগত করি। যাতে কোন ধরনে অপ্রিতীকর ঘটনা না ঘটে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ঘটনাটির ভাল একটি সমাধান দিব বলে আশ্বস্ত করি। পরে তারা বিদ্যালয়ে ক্লাস করে।

দায়িত্বরত দোহার থানার এসআই মোঃ বারেক বলেন, আমি ওসি স্যারের নির্দেশে এখানে এসেছি। আমরা জানতে পেরেছি অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিম খান কয়েকদিন আগে অষ্টম শ্রেনীর নোমান নামে এক শিক্ষার্থীকে দুষ্টমির কারনে মারাত্বকভাবে পিটিয়ে যখম করে। এ ঘটনায় নোমানের মা বাদি হয়ে দোহার থানায় প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিম খানকে আসামী করে শিশু আইনে মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবিতে আবারো বিক্ষোভ করলে আমরা খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে এসে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি দেখবো বলে থামিয়ে দেই।

এদিকে এ ঘটনার পরের দিন থেকে বিদ্যালয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান প্রধান শিক্ষকের অপসারণ না করলে তাদের অভিভাবকরা এই বিদ্যালয় থেকে তারা অন্য বিদ্যালয়ে তাদেরকে নিয়ে যাবে।

নবাবগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন

১৯৭১ সালে ১লা এপ্রিল নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তৎকালীন গণ পরিষদ সদস্য আবু মোহাম্মদ সুবিদ আলী টিপুর নেতৃত্বে সর্বপ্রখম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে দিয়ে নবাবগঞ্জ বহুমূখি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (বর্তমান নবাবগঞ্জ পাইলট মডেল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ) বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।এটি ছিল উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন।

ঐইদিন হাজারো মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য আবু মোহাম্মদ সুবেদ আলী টিপু মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে কয়েক রাউন্ড গুলি ফোটানো হয়। সে সময় পকাতা উত্তোলন কালে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার বদিউজ্জামান বদি, শওকত হোসেন আঙ্গুর, আঃ বাতেন মিয়া, মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ আরও অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। নবাবগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতে গেলে যার নাম সর্বাগ্রে আসে তিনি হলেন আজিজুর রজমান ফকু।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২৬ তারিখ থেকে কারফিউ জারি হয়। ২৭ তারিখ ২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল হলে আমরা কেরানীগঞ্জ চলে যাই। কেরানীগঞ্জে আমাদের সাবেক সংসদ সদস্য বোরহানউদ্দিন গগনের বাড়িতে আমরা আশ্রয় গ্রহণ করি। জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী সাহেব এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান সাহেব, মনি ভাই, সিরাজ ভাই, রাজ্জাক ভাই এবং আমিসহ স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।২৯ মার্চ কেরানীগঞ্জ থেকে দোহার-নবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া হয়ে এপ্রিলের ৪ তারিখ আমরা ভারতের মাটি স্পর্শ করি এবং সানি ভিলায় আশ্রয় নেই। এখানে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন-পরে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী-জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদ এবং ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধ সংঘঠিত হয়। নবাবগঞ্জে পাকসেনাদের প্রধান ক্যাম্প ছিল নাওপাড়া, গালিমপুর, চুড়াইন, আগলা। ১৯৭১ সনে আগলা, গালিমপুর, চুড়াইনে মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বড় এবং আলোচিত যুদ্ধসংগঠিতহয়। ১৯৭১ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর বিকাল ৪.০০ টার দিকে নদী পথে (ইছামিত) ঢাকা থেকে এম.এল পয়েন্টার নামক লঞ্চযোগে বিপুল সংখ্যক পাকসেনা নবাবগঞ্জ অভিমূখে আসার পথে গালিমপুর পৌছানোরসাথে সাথে আগে থেকে প্রস্ত্তত থাকা মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা তিন দিক থেকে লঞ্চ আক্রমন করে। আক্রমনের সাথে সাথে লঞ্চের চালক দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে নদীর চরায় লঞ্চটি ঠেকিয়ে দেয়। শুরু হয় তিন দিক থেকে গুলি বর্ষন।তিন দিন যুদ্ধ চলার পর লঞ্চে থাকা ৪৫জন পাকসেনা সবাই নিহত হয়। ঐ দিন যুদ্ধে শহীদ হন বেনুখালীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহীম । ঐ যুদ্ধের কমান্ডার ছিলেন জনাব নাসির উদ্দিন খান এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন জনাব মোশারফ হোসেন খান। যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন নবাবগঞ্জ-দোহার এবং শ্রীনগরেরবীর মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্ত হলেন ৩ শিক্ষক

বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তা অমান্য করে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময় নিজস্ব প্রাইভেট কোচিং সেন্টার খোলা রাখার অপরাধে দোহারে আটক এক স্কুল শিক্ষকসহ তিন জন শিক্ষককে মুক্ত করেছে দিয়েছে দোহার থানা পুলিশ। দুপুর একটার দিকে তাদেরকে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার নির্দেশে জামিন দেয়া হয়।

এই ব্যাপারে দোহার থানা অফিসার ইন চার্জ শেখ সিরাজুল ইসলাম লিটু নিউজ৩৯কে বলেন, ভব্যিষতে আইন অমান্য করা হবে না এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর দোহার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার নির্দেশে তাদেরকে সতর্ক করে জামিন দেয়া হয়।

দোহার কোচিং এসোসিয়েশন এক প্রেস রিলিজে বলেন, বিষয়টি অনভিপ্রেত, অনাকাংখিত এবং দুঃখজনক। একজন শিক্ষক সমাজ গড়ার কারিগর, তারাই জাতি গঠন করেন, তারা সাম্মানীত ব্যাক্তি। শত শত ছাত্রের আদর্শ এবং আইকন তারা। কোন শিক্ষক ভুল করে থাকলে, তা সম্মানজনক উপায়ে করা হলে অনেক ভালো হতো। দোহার থানা পুলিশ ও দোহার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কে ধন্যবাদ সমান্নীত শিক্ষক্ত্রয়কে মুক্ত করে দেয়া। আমরা সকলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সরকারের প্রতি দায়বদ্ধ।