প্রতিদিনের হাদিসঃ সাক্ষ্য

হাদিস নং ২২৯৮: আনসারী (রহঃ) ……. যায়দ ইবন খালিদ জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের উত্তম সাক্ষ্যদানকারীর কথা বলব? সে হল ঐ ব্যক্তি যে সাক্ষ্য তলব করার আগেই সাক্ষ্য প্রদান করে। সহীহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩০৪: হুমায়দ ইবন মাসআদা (রহঃ) …… আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকরা তার পিতা আবূ বাকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের আমি সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব কি? সাহাবীরা বললেনঃ অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা-মাতার নাফরমানী করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া কিংবা বলেছেন মিথ্যা কথা বলা। আবূ বাকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতবার কথাটি বলতে থাকলেন যে, আমরা ভাবতে লাগলাম, তিনি যদি চুপ করতেন। সহীহ, গায়াতুল মারাম ২৭৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩০৫: ওয়াসিল ইবন আবদুল আ‘লা (রহঃ) ……. ইমরান ইবন হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, সর্বোত্তম যুগ হল আমার যুগ, এরপর যারা হবে অব্যহতির পরে। এরপর যারা হবে অব্যবহিত পরে, এরপর যারা হবে অব্যবহিত পরে। এই তিনটি যুগের কথা তিনি বললেন। পরবর্তীতে এমন এক সম্প্রদায় আসবে যারা হবে স্থূলকায় এবং যারা স্থূলকায় হওয়া ভালবাসবে। তারা সাক্ষ্য চাওয়ার আগেই সাক্ষ্য দিতে যাবে।

সহীহ, বুখারী ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]

আ‘মাশ-আলী ইবন মুদরীক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত রিয়ায়াত হিসাবে এ হাদীসটি গারীব। আ‘মাশের অন্যান্য শারগিদগণ এটিকে আ‘মাশ-হিলাল ইবন ইয়াসাফ-ইমরান ইবন হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সনদে রিওয়ায়াত করেছেন।

আবূ আম্মার হুসায়ন ইবন হুরাইস (রহঃ) ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ)  সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এটি মুহাম্মদ ইবন ফুযায়লের রিওয়ায়াত (২৩০৫ নং) থেকে অধিক সহীহ।

কোন কোন আলিম বলেনঃ ’‘তারা সাক্ষী তলবের আগেই স্বাক্ষ্য প্রদান করবে’’ হাদীসে এ কথাটির মর্ম হল এরা মিথ্যা সাক্ষী দিবে। তিনি বলেন, সাক্ষী না হয়ে কারোর সাক্ষ্য প্রদান।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩০৬: ’উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসটিতে এর ব্যাখ্যা বিদ্যমান। তিনি বলেনঃ সর্বোত্তম যুগ হল আমার যুগ, এরপর হল যারা অব্যবহিত পরে আসবে, এরপর হল যারা এদের অব্যবহিত পরে আসবে, এর পরবর্তীতে মিথ্যা প্রসার ঘটবে, এমন কি সাক্ষ্য না চাইলেও তারা সাক্ষ্য দিবে, কসম না দিলেও কসম করবে। সহীহ, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩০৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]

‘‘সর্বোত্তম সাক্ষী দাতা হল যে ব্যক্তি তলবের পূর্বেই সাক্ষী দেয়’’ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এই বাণীটির মর্ম হল কেউ যদি কোন ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকে, এবং তার নিকট ঐ বিষয়ের সাক্ষ্য চাওয়া হয় তবে সে সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাকে না। কোন কোন আলিমের কাছে এটাই হল হাদীসটির ব্যাখ্যা।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী

অধ্যায়ঃ সাক্ষ্য

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দোহারের চঞ্চল খান ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক নির্বাচিত

দোহারের সন্তান ও সাবেক গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের একান্ত সচিব চঞ্চল খান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারন সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন সাক্ষরিত প্যাডে চঞ্চল খানকে সহ সম্পাদকের ঘোষনা দেয়া হয়। প্যাডে শেখ হাসিনার রুপকল্প ২০২১  ও ২০৪১ বাস্তবায়নে তার সহযোগিতা ও অবদানের কথা স্মরন করে তাকে এই পদ দেইয়া হয়েছে বলে প্যাডে উল্লেখ করা হয়।

দোহারের চঞ্চল খান ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক নির্বাচিত

এই দায়িত্ব পাওয়ায় একই সাথে আনন্দিত ও গর্বিত জানিয়ে নিউজ৩৯ কে চঞ্চল খান বলেন, আমি আমার দায়িত্ব সুষ্ঠ ভাবে পালন ও আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাব।

ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে নবাবগঞ্জে ছাত্রলীগের কর্মীসভা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে বুধবার সকাল ১১ টায় নবাবগঞ্জ উপজেলা অাওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের কার্যালয়ের হল রুমে নবাবগঞ্জ নবাবগঞ্জ উপজেলা ও দোহার নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসময় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান রানা’র সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক সাইফুল বারী শান্ত’র সঞ্চলনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা অাওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য এস.এম সাইফুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য আসাদুজ্জামান রনি, জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ- সভাপতি আতিক খান বাবু, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রাহাত মাহমুদ, দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন শিকদার, সাধারন সম্পাদক নাহিদুল আলম নাদিম প্রমুখ।

প্রতিদিনের হাদিসঃ শপথ ও মানত

হাদিস নং ৩২৪২: ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বন্দী থাকা অবস্থায় মিথ্যা শপথ করলো, সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নিলো।

[1]. সহীহঃ সহীহাহ (২৩৩২)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩২৪৩: ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খায়, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার প্রতি চরম অসন্তুষ্ট। আশ‘আস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! এ হাদীস আমার সম্পর্কে বলা হয়েছে। আমার এবং এক ইয়াহুদীর যৌথ মালিকানায় একটি জমি ছিলো। সে আমার মালিকানা অস্বীকার করলে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার সাক্ষী আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি ইয়াহুদীকে বললেনঃ তুমি কসম খাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে কসম করবে এবং আমার জমি তার হাতে চলে যাবে। অতঃপর মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের ওয়াদাসমূহ সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের জন্য কোনো অংশই নেই…।’’ আয়াতের শেষ পর্যন্ত (সূরা আলে ইমরানঃ ৭৭)

[1]. সহীহঃ ইবনু মাজাহ (২৩২৩)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩২৪৪: আশ‘আস ইবনু কায়িস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। কিনদাহ এলাকার একজন ও হাদরামাওত এলাকার একজন- এ দু’জনে ইয়ামেনে অবস্থিত এক খন্ড জমির মালিকানা দাবি করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মোকদ্দমা পেশ করলো। হাদরামাওতের লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তির পিতা আমার জমি জবরদখল করে নিয়েছে। সে এখন তার দখলে আছে। তিনি বললেনঃ তোমার কোনো সাক্ষী আছে কি? সে বললো, না। তাহলে আপনি তাকে এভাবে কসম করতে বলুন, ‘‘আল্লাহর শপথ, আমার এ জমি তার পিতা জবরদখল করে নিয়েছে এ বিষয়ে সে জানে না।’’ এ কথা শুনেই কিনদার লোকটি শপথ করতে উদ্ধত হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শপথের মাধ্যমে কেউ কারো সম্পদ আত্মসাৎ করলে সে হাত-পা কাটা অবস্থায় আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। এ কথা শুনে কিনদী বললো, নিঃসন্দেহে এ জমিটা তার।[

সহীহঃ ইরওয়া (৮/২৬২-২৬৩)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩২৪৫: আলকামাহ ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজর আল-হাদরামী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাদরামাওতের একজন এবং কিনদাহ এলাকার একজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলো। হাদরামী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল করে নিয়েছে। কিনদী বললো, এটা আমার দখলেই আছে। আমিই তাতে চাষাবাদ করি, এতে তার কোনো স্বত্ব নেই। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদরামীকে বললেনঃ তোমার কোনো সাক্ষী আছে কি? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তবে তোমাকে কিনদীর শপথের উপর নির্ভর করতে হবে। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো মন্দ লোক। সে মিথ্যা কসম করতে পরোয়া করবে না। তার কোনো বাছ-বিচার নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এছাড়া তোমার কোনো বিকল্প নেই। কিনদী শপথ করতে অগ্রসর হলো। সে যখন পিঠ ফিরালো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রাখো! সে যুদি জুলুম করে অন্যের সম্পদ দখলের জন্য কসম খায়, তবে সে আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তিনি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন।

সহীহঃ ইরওয়া (২৬৩২)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩২৪৬: জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার মিম্বারের কাছে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কসম খায়, তা একটি তাজা মিসওয়াকের জন্য হলেও- সে জাহান্নামে নিজের বাসস্থান ঠিক করে নিলো অথবা তার জন্য আগুন ওয়াজিব হয়ে গেলো

সহীহঃ ইবনু মাজাহ (২৩২৫)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩২৪৭: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কেউ শপথ করতে গিয়ে যদি বলে, আমি লাত (নামক মূর্তির) নামে শপথ করে বলছি, তবে সে যেন অবশ্যই বলে- ‘‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’’ আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, আসো তোমার সাথে জুয়া খেলি, সে যেন কিছু সাদাকাহ করে।

সহীহঃ ইবনু মাজাহ (২০৯৬)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩২৪৮: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নিজেদের পিতা-মাতা কিংবা দেবদেবীর নামে শপথ করবে না। তোমরা শুধুমাত্র আল্লাহর নামে শপথ করবে। আর তোমরা আল্লাহর নামে কেবল সে বিষয়েই শপথ করবে যে বিষয়ে তোমরা সত্যবাদী।

সহীহঃ নাসায়ী (২৭৯৬)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ

অধ্যায়ঃ শপথ ও মানত

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী

বারুয়াখালী থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক

নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক মামুন চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে ৮৫ পিচ ইয়াবাসহ মো. মোজাফফর দেওয়ান (৫০) কে আটক করেছে বারুয়াখালী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার সময় তাকে আটক করা হয়। আটককৃত মোজাফফর দেওয়ান বারুয়াখালী গ্রামের মৃত জলিল দেওয়ানের ছেলে।

বারুয়াখালী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই কামরুল হাসান প্রিয় বাংলাকে জানান, এএসআই মো. রবিউল আলমসহ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় বিশেষ অভিযান ও মাদকদ্রব্য অভিযান পরিচালনা করতেগিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ান্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

প্রতিদিনের হাদিসঃ যাকাত ও ফিতরা

হাদিস নং ২১৫৩-(৯৭৯/১): আমর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বুকায়র আন নাকিদ (রহঃ) ….. আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পাঁচ ওসাকের কম পরিমাণ শস্যে কোন যাকাত নেই, পাঁচ উটের কম সংখ্যায় কোন যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কমে (রৌপ্যের জন্য/পণ্যদ্রব্যের জন্য) যাকাত নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৩২, ইসলামিক সেন্টার ২১৩৫)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২১৫৮-(৫/৯৭৯): ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ….. আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শস্য ও খেজুর পূর্ণ পাঁচ ওয়াসাক না হলে তাতে কোন যাকাত নেই, উটের সংখ্যা পাঁচের কম হলে তাতে যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়্যার (বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের) কমে কোন যাকাত নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৩৭, ইসলামীক সেন্টার ২১৪০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২১৬২-(৭/৯৮১): আবূ তহির, আহমাদ ইবনু আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর সারহ, হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী, আমর ইবনু সাওওয়াদ এবং ওয়ালীদ ইবনু শুজা (রহঃ) ….. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যে জমি নদী-নালা ও বর্ষার পানিতে সিক্ত হয় তাতে উশর (উৎপাদিত শস্যের দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত) ধার্য হয়। আর যে জমিতে উটের সাহায্যে পানি সরবরাহ করা হয় তাতে অর্ধেক উশর (বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত) ধার্য হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৪১, ইসলামীক সেন্টার ২১৪৪)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২১৬৭-(১১/৯৮৩):  যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ….. আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর (রাযিঃ) কে যাকাত আদায়ের জন্য পাঠালেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলা হলো, ইবনু জামীল এবং খালিদ ইবনু ওয়ালীদ ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচা আব্বাস (রাযিঃ) যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেন। এখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবনু জামীল দরিদ্র ছিল আল্লাহ তাকে ধনী করে দিয়েছেন সে প্রতিশোধ সে নিচ্ছে। আর খালিদ ইবনু ওয়ালীদের কাছে তোমরা যাকাত চেয়ে অবিচার করেছো। কারণ সে তার বর্ম এবং সম্পদ আল্লাহর পথে ওয়াকফ করে রেখেছে। আমার চাচা আব্বাস, তার এ বছরের যাকাত ও তার সমপরিমাণ আরও আমার জিন্মায়। অতঃপর তিনি বললেন, হে উমার! তুমি কি উপলব্ধি করছ না যে, কোন ব্যক্তির চাচা তার পিতার সমতুল্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৪৬, ইসলামীক সেন্টার ২১৪৮)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২১৬৮-(১২/৯৮৪): আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা’নাব, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ….. ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম দাস-দাসী এবং স্বাধীন পুরুষ ও মহিলা সকলের উপর এক সা’ হিসেবে খেজুর বা প্রত্যেক রমাযান মাসে সদাকায়ে ফিতর নির্ধারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৪৭, ইসলামীক সেন্টার ২১৪৯)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২১৭৪-(১৮/…): আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কা’নাব (রহঃ) ….. আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় আমরা ছোট, বড়, স্বাধীন, ক্রীতদাস- প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক সা’ খাদ্য (অর্থাৎ গম) বা এক সা’ পনির, বা এক সা’ যব বা এক সা’ খেজুর বা এক সা’ শুষ্ক আঙ্গুর ফিতরা হিসেবে বের করতাম। আমরা এভাবেই ফিতরা আদায় করে আসছিলাম। শেষ পর্যন্ত যখন মু’আবিয়াহ (রাযিঃ) হাজ্জ (হজ্জ/হজ) বা উমরার উদ্দেশে আমাদের মাঝে গমন করলেন, তিনি লোকদের উদ্দেশে ওয়ায করলেন এবং বললেনঃ আমি জানি যে, সিরিয়ার দু’ মুদ্দ লাল গম এক সা’ খেজুরের সমান। সুতরাং লোকেরা তার এ অভিমত গ্রহণ করল।

আবূ সাঈদ বলেন, কিন্তু আমি যতদিন জীবিত থাকব ততদিন পূর্বের ন্যায় যে পরিমাণে ও যে নিয়মে দিচ্ছিলাম সেভাবেই দিতে থাকব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৫৩, ইসলামীক সেন্টার ২১৫৫)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২১৮০-(২৪/৯৮৭): সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ….. আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সোনা-রূপার অধিকারী যেসব লোক এ হাক (হক) (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামাতের দিন তার ঐ সোনা-রূপা দিয়ে তার জন্য আগুনের অনেক পাত তৈরি করা হবে, অতঃপর তা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে কপালদেশ ও পার্শ্বদেশ ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। যখনই ঠাণ্ডা হয়ে আসবে পুনরায় তা উত্তপ্ত করা হবে। এরূপ করা হবে এমন একদিন যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। আর তার এরূপ শাস্তি লোকদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। অতঃপর তাদের কেউ পথ ধরবে জান্নাতের আর জাহান্নামের দিকে।

জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! উটের (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি বললেন, যে উটের মালিক তার উটের হাক (হক) আদায় করবে না তার উটের হকগুলোর মধ্যে পানি পানের তারিখে তার দুধ দোহন করে অন্যদেরকে দান করাও একটি হাক (হক), যখন কিয়ামাতের দিন আসবে তাকে এক সমতল ময়দানে উপুড় করে ফেলা হবে। অতঃপর তার উটগুলো মোটাতাজা হয়ে আসবে। এর বাচ্চাগুলোও এদের অনুসরণ করবে। এগুলো আপন আপন খুর দ্বারা তাকে পায়ে মাড়াতে থাকবে এবং মুখ দ্বারা কামড়াতে থাকবে। এভাবে যখন একটি পশু তাকে অতিক্রম করবে অপরটি অগ্রসর হবে। সারাদিন তাকে এরূপ শাস্তি দেয়া হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে। তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে।

অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো- হে আল্লাহর রসূল! গরু-ছাগলের (মালিকদের) কী অবস্থা হবে? উত্তরে তিনি বললেন, যেসব গরু ছাগলের মালিক এর হাক (হক) আদায় করবে না কিয়ামাতের দিন তাকে এক সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে। আর তার সে সব গরু ছাগল তাকে শিং দিয়ে আঘাত করতে থাকবে এবং খুর দিয়ে মাড়াতে থাকবে। সেদিন তার একটি গরু বা ছাগলের শিং বাকা বা শিং ভাঙ্গা থাকবে না এবং তাকে মাড়ানোর ব্যাপারে একটিও অনুপস্থিত দেখতে পাবে না। যখন এদের প্রথমটি অতিক্রম করবে দ্বিতীয়টা এর পিছে পিছে এসে যাবে। সারাদিন তাকে এভাবে পিষা হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে এবং তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে।

অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! ঘোড়ার (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি (উত্তরে) বললেন, ঘোড়া তিন প্রকারের- (ক) যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য গুনাহের কারণ হয়, (খ) যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে আবরণ স্বরূপ এবং (গ) যে ঘোড়া মালিকের জন্য সাওয়াবের কারণ স্বরূপ। বস্তুতঃ সে ঘোড়াই তার মালিকের জন্য বোঝা বা গুনাহের কারণ হবে, যা সে লোক দেখানোর জন্য অহংকার প্রকাশের জন্য এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে শক্রতা করার উদ্দেশে পোষে। আর যে ব্যক্তি তার ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য পোষে এবং এর পিঠে সওয়ার হওয়া এবং খাবার ও ঘাস দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহর হাক (হক) ভুলে না, এ ঘোড়া তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার জন্য আবরণ হবে।

আর যে ব্যক্তি মুসলিমদের সাহায্যের জন্য আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া পোষে এবং কোন চারণভূমি বা ঘাসের বাগানে লালন পালন করতে দেয় তার এ ঘোড়া তার জন্য সাওয়াবের কারণ হবে। তার ঘোড়া চারণভূমি অথবা বাগানে যা কিছু খাবে তার সমপরিমাণ তার জন্য সাওয়াব লেখা হবে। এমনকি এর গোবর ও প্রস্রাবে সাওয়াব লেখা হবে। আর যদি তা রশি ছিড়ে একটি বা দুটি মাঠেও বিচরণ করে তাহলে তার পদচিহ্ন ও গোবরের সমপরিমাণ নেকী তার জন্য লেখা হবে। এছাড়া মালিক যদি কোন নদীর তীরে নিয়ে যায়- আর সে নদী থেকে পানি পান করে অথচ তাকে পানি পান করানোর ইচ্ছা মালিকের ছিল না তথাপি পানির পরিমাণ তার ‘আমালনামায় সাওয়াব লেখা হবে।

অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! গাধা সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, গাধা সম্পর্কে কোন আয়াত আমার কাছে অবতীর্ণ হয়নি। তবে ব্যাপক অর্থবোধক এ আয়াতটি আমার উপর অবতীর্ণ হয়েছে, যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ একটি ভাল কাজ করবে সে তার শুভ প্রতিফল পাবে আর যে এক অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তার মন্দ ফল ভোগ করবে (অর্থাৎ আলোচ্য আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, গাধার যাকাত দিলে তারও সাওয়াব পাওয়া যাবে।) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৫৯, ইসলামীক সেন্টার ২১৬১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ যাকাত

পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি

উপজেলা এবং পৌর ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্তি করন কি যৌক্তিক?

কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে দোহার উপজেলা এবং পৌর ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্তি করন কি যৌক্তিক? তবে আমি নির্দিধায় উত্তর দিবো “হ্যা” যৌক্তিক । উত্তরটা শুনার পরে যারা আন্দোলনের পক্ষে তারা হয়ত সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলবে আমি সালমান এফ রহমান কে সমর্থন করি। আসলে বিষয়টা তা না। আমি বিলুপ্তিকে সমর্থন করি ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক কাঠামো এবং তাদের ব্যর্থতার জন্য।

দোহার উপজেলা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান আমার বন্ধু এবং সাধারন সম্পাদক রাজিব শরিফ ছোট ভাই। হাবিবের প্রাতিষ্ঠানিক ইয়ার এবং বয়স সম্পর্কে অবশ্যই আমি জানি তাই নিয়মিত ছাত্র হওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং ছাত্র রাজনিতির বয়স কোনটিই হাবিবের নাই। রাজিবেরও একই অবস্থা। একটা সময় আমার আগ্রহ ছিলো রাজিবের প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার বিষয়টা সম্পর্কে জানার কিন্তু সেটা সম্পর্কে ক্লিয়ার হতে পারিনি। রাজিব এবং হাবিব বিবাহিত। বিবাহত হলে অটোমেটিক ভাবেই সে ছাত্রলীগার না। সম্ভবত ২০১৩ সালে তারা নেতৃত্বে আসে। এই দীর্ঘ সময়ে তারা পারেনি দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে। ঢাকা জেলা কমিটি ডিক্লেয়ার হওয়ার আগে কৌশলগত কারনে তারা দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের একটি পূর্নাঙ্গ কমেটি উপহার দেয়। সেই কমিটিও ছিলো বিতর্কিত। ৭ বছরের কন্যা সন্তানের বাবা, যে ছেলে কোনদিন বিদ্যালয়ের বারান্দায় যায়নি, চিহ্নিত বিএনপি পরিবারের ছেলে, বিদেশ ফেরতদেরকেও ছাত্রলীগের কমিটিতে নেওয়া হয় কিন্তু অনেক ত্যাগী এবং পরিক্ষিত ছাত্রনেতারা ছাত্রলীগের সদস্য পদও পায়নি। দীর্ঘ পাঁচ বছরে তারা দোহার উপজেলার ইউনিয়ন কমিটির স্ট্রাকচার দাড় করাতে পারেনি। সেই ঢাকা জেলা সম্মেলনের আগে ঘরে বসে এবং বর্তমান জেলা কমিটি কতৃক দোহার উপজেলা কমেটিকে বিলুপ্ত করার পরে এক রাতেই ব্যাক ডেটে কয়েকটি ইউনিয়ন কমিটি ঘোষনা করা হয়। যা সাংগাঠনিক নিয়মে জালিয়াতির মাঝে পরে। প্রশ্নটা হলো “দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি কেন করা হয়েছিলো? ”ছাত্রলীগের নেতৃত্ব হিসেবে তাদের স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়াটা অনেক কষ্টকর। তাছাড়া সভাপতি হাবিব তার আইন ব্যবসায় এতটাই ব্যস্ত ছিলো যে ছাত্রলীগের তৎপরতা তো দূরের কথা জাতীয় দিবসগুলোতেও তাকে দেখা যাইতো না। এখন প্রশ্ন হইলো “ছাত্রলীগের কোন স্বার্থকতার জন্য কমিটি বিলুপ্ত করা ‌অযৌক্তিক?”

ছোট ভাই, জয়পাড়া কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আওলাদ হোসেন রিয়াদ তার ফেসবুক স্টাটাসে বলেছে—২৪ ঘন্টার মাঝে যদি বিলুপ্তি প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে। ভাই, তোমার হুঙ্কারটা শুধুই অযৌক্তিক না, সাংগাঠনিক ভাবেও অগ্রহনযোগ্য। যা অনাকাঙ্খিতও তোমার কাছ থেকে কারন একজন সাধারন সম্পাদক তো নূন্যতম হলেও ছাত্রলীগ করার নিয়মগুলা জানে। গতকালের প্রতিবাদে/স্লোগানে যদি রাজিব এবং হাবিব বলে থাকে “বিলুপ্তি মানি না, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে তাহলে তাদের জন্য পরামর্শ আয়নার সামনে যাইয়া ঠান্ডা মাথায় এক বার চিন্তা করে দেখো ঢাকা জেলার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক “।

অনেকের মতামতে একটা বিষয় বার বার আসছে “সাবেকদের সম্মানের সহিত বিদায় দেওয়া উচিত”। কথাটা ১০০% সত্য। আসলেই এটা হওয়া উচিত। জননেতা মান্নান খান, মাহাবুবুর রহমান যে যখন সুযোগ পেয়েছে সংগঠনকে তার মতই সাজিয়েছে। আজকে উপজেলা চেয়ারম্যান সুযোগ পেয়েছে সেও তারমত সাজানোর চেষ্টা করছে কারন আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবকরা অনিয়মকেই নিয়ম বলে চালিয়েছে। আমরাও সেই অনিয়মেই আজ অভ্যস্ত। তাই যারা আজকের এই দোষ শুধু উপজেলা চেয়ারম্যানের ঘাড়ে চাপাইতে ব্যস্ত তাদেরকে বলছি অতীতে নিজেরা কি করেছেন তা একটু স্মরন করে দেখেন। ভবিষতে সুযোগ পেলে আবার এমনটিই করবেন। আপনার নৈতিক অবস্থান নাই আজকে প্রতিবাদী হওয়ার কারন এমন অন্যায় আপনাদের দ্বারাও সংগঠিত হয়েছিলো। দোহার উপজেলার রাজনীতিতে কবে, কখন, কোন নেতা সাবেকদের সম্মানের সহিত বিদায় দিয়েছে? আজকে তখন অবাক হই যখন দেখি রাজনৈতিক ঈমানদারদের যারা নিজের হাতেই বারবার দাড়াইয়া প্রশ্রাব করেছে। যাহোক এসব নিয়ে এত বলার কিছু নাই,এসব বাস্তবতা আসলেই সবাই জানে কিন্তু বলবে না কারন স্বার্থের বাহিরে কথা বলাটা সহজে হয়ে উঠেনা।

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে যদি সহিংসতা ছড়ায় তাহলে লাভটা কার হবে? মান্নান খান সাহেবই বেশি লুজার হবে কারন সে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনীতি তার নেশা ও পেশা—-যেকোন পরিস্থিতিতে সে শেখ হাসিনার পাশে দাড়াবে তাই দীর্ঘ মেয়াদী রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশ্বাস ঘাতকের জন্য সুবিধা জনক রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে কারন সালমান সাহেব রাজনৈতিক নেতা নন। সংগঠন যার হাতেই থাকুক তারা বাধ্য নৌকার পক্ষে কাজ করতে…………

উপজেলা এবং পৌর ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্তি করন কি যৌক্তিক?

দোহার উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন

শারিফ হাসানঃ মংগলবার বিকাল ৫টায়  এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ঢাকা  জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগ, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের ১১(এগারো) সদস্যের এবং দোহার পৌরসভার ৫(পাঁচ) সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১(এক) বছর এই কমিটি পরিচালিত হবে।

চিত্রঃ পৌরসভা ছাত্রলীগ। (১) নিজাম – সভাপতি, (২) মিজান – সাধারণ সম্পাদক

দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন আমিনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ উদয় হাসান ও সাংগাঠনিক সম্পাদক পদে শাহরিয়ার আহমেদ ফাহিম,তামজীদ হোসাইন প্রান্ত, মিনহাজ হোসেন সীমান্ত, মেহেদি হাসানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এছাড়া সহ-সভাপতি পদে শাকিল হাসান, আব্দুল মান্নান,নজরুল ইসলাম,রাহাত হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে শহীদুজ্জামান ভূঁইয়া শহিদ, সোহান বিশ্বাস কে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ৫(পাঁচ) সদস্যের দোহার পৌরসভা কমিটিও ঘোষণা করেছে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগ। সভাপতি পদে পাপেল মাহমুদ নিজাম, সহ সভাপতি পদে রাশেদুল হাসান চঞ্চল, আকিব হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান সাদ্দাম, সাংগাঠনিক সম্পাদক পদে শামীম আহমেদকে ১(এক) বছরের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে।

দোহারে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি  দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোহারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত কাল সোমবার সকাল ৯:৩০ মিনিট  দোহার উপজেলা, দোহার পৌরসভা বিএনপি ও অংঙ্গসংগঠনে আয়োজনে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিলের পর দোহার থানার বিএনপি শাহবুদ্দিনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে হয়। তখন বক্তব্য রাখেন, দোহার থানার বিএনপির নেতা কর্মীরা। এই সময় বক্তারা বলেন অবৈধ সরকারের সকল ষড়যন্ত্রের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই দিশেহারা হয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর জুলুম অত্যাচার চালিয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন, শাহবুদ্দিন আহমেদ, শাহিন মোল্লা, জি এস সেন্টু ভূইয়া ও জয়পাড়া কলেজ ছাত্র দলের নেতা কর্মীরা।

ইতালিতে নবাবগঞ্জের যুবক স্বপন হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ইতালির মিলানে নবাবগঞ্জের বাড়ুয়াখালি ইউনিয়নের যুবক সামসুল হক স্বপন কে নির্মমভাবে হত্যা করায় বাংলাদেশী কমিউনিটি মিলানের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ, ঘৃনা ও বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। ৬ মে ইতালির স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় পিয়াচ্ছা কায়াচ্ছো থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি মিলানোর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিলান সেন্ট্রাল ষ্টেশনে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেত্রীবৃন্দ খুঁনিদের গ্রেফতার করায় ইতালিয়ান প্রশাসন কে ধন্যবাদ জানান।

সামসুল হক স্বপন গত ২৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৮টার দিকে পিয়াচ্ছা কাইয়াচ্ছোতে দুই মরোক্কো ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখালী গ্রামের আব্দুল সালামের বড় ছেলে।

গত এক বছর যাবত তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ইতালির মিলানে দীর্ঘ ৫বছর যাবত বসবাস করতেন তিনি। এ ঘটনায় দু’জন কে ঘটনাস্থলেই হাতে নাতে গ্রেফতার করেছে ইতালিয়ান পুলিশ।

ইতালিতে নবাবগঞ্জের যুবক স্বপন হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নিয়ে খুনিদের বিচারের দাবী জানান মিলানোস্থ বাংলাদেশী সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক এবং ইসলামিক সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেত্রীবৃন্দ। এদিকে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল মিলান স্বপনের লাশ দেশে প্রেরনের বিষয়ে ইতিমধ্যে উদ্যোগ গ্রহন করেছে বলে কন্স্যুলেট সূত্রে জানাগেছে।