প্রতিদিনের হাদিস: অপরাধের শাস্তি

 

হাদিস নং ৪২৫১: ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দ্বীনারের এক চতুর্থাংশ এবং এর অধিক পরিমাণ মূল্যের মাল চুরির অপরাধে চোরের হাত কর্তন করতেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪২৫৭: মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে একটি (চামড়ার) ঢালের মূল্যের কম সম্পদ চুরির অপরাধে চোরের হাত কর্তন করা হতো না। الْمِجَنِّ শব্দের অর্থ حَجَفَةٍ أَوْ تُرْسٍ “হাজফাহ” বা “তুরস” এ দু’টিই উল্লেখযোগ্য মূল্যের বস্তু।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪২৬৩: কুতায়বা ও মুহামাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মাখযুমী গোত্রের একজন মহিলা চুরি করলে তার (প্রতি হদ প্রয়োগের ব্যাপারে) কুরাইশগণ বিভক্ত হয়ে পড়লেন। তাঁরা বলল, কে এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কথা বলতে (সুপারিশ করতে) পারে। তখন তারা বললেন, এ ব্যাপারে উসামা (রাঃ) ব্যতীত আর কারো হিম্মত নেই। তিনি হলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় ব্যক্তি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তিনি এ ব্যাপারে কথোপকথন করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদের ব্যপারে সুপারিশ করতে চাও? অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগন ধ্বংস হয়েছে এই কারণে যে, তাদের মধ্যে যখন কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যদি কোন দুর্বল লোক চুরি করত, তবে তারা তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করতো। আল্লাহর কসম! যদি ফাতিমা বিনত মুহাম্মদও যদি চুরি করতো, তবে নিশ্চয়ই আমি তার হাত কেটে দিতাম।

ইবনু রুমহ (রহঃ) বর্ণিত অপর এক হাদীসে “নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে” বাক্যটি অতিরিক্ত বর্নিত রয়েছে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪২৬৪: আবু তাহির ও হারমালা ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) … রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়শা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, কুরাইশরা এক মহিলার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লো, যে মহিলাটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়কালে মক্কা বিজরের সময় চুরি করেছিল। তখন তারা বলল, এ ব্যাপারে কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কথা (সুপারিশ) বলবে? তখন তাঁরা বলল, এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় পাত্র উসামা ব্যতীত আর কার হিম্মাত আছে? অতএব তাঁকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে যাওয়া হল। এ ব্যাপারে উসামা ইবনু যায়িদ (রাঃ) কথোপকথন করলেন। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ এর ব্যাপ্যরে সুপারিশ করতে চাও? তখন উসামা (রাঃ) বললেনঃ, হে আল্লাহর রাসুল! আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

বিকাল হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দণ্ডায়মান হয়ে এক ভাষণ দিলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণকে ধ্বংস করা হয়েছে এই জন্য যে, যখন তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের মধ্যে কোন দূর্বল লোকচুরি করতো, তখন তার উপর হদ প্রয়োগ করতো।

সেই মহান আল্লাহর কসম যার হাতে আমার জীবন! যদি মুহাম্মদ বিনতে ফাতিমা (রাঃ)ও চুরি করাতো, তবে অবশ্যই আমি তাঁর হাত কেটে দিতাম। এরপর তিনি যে মহিলা চুরি করেছিল তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। সুতরাং তার হাত কেটে দেয়া হল। ইউনূস (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, অতঃপর সে মহিলা খাটিভাবে তাওবা করল এবং এরপরে তার বিয়ে হলো। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এই ঘটনার পর ঐ মহিলা প্রায়ই আমার কাছে আসতো। তার কোন প্রয়োজন থাকলে আমি তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তুলে ধরতাম।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ অপরাধের শাস্তি

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রতিদিনের হাদিসঃ পোশাক-পরিচ্ছেদ

হাদিস নং ৩৫৫০:  আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারুকার্য খচিত একটি পশমী চাদর পরিহিত অবস্থায় নামায পড়লেন, অতঃপর বলেনঃ এই চাদরের কারুকার্য আমাকে অমনোযোগী করেছে। এটা আবূ জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং আমার জন্য তার কারুকার্যহীন (আম্বেজানী) চাদর নিয়ে এসো (বুখারী)।

সহীহুল বুখারী ৩৭৩, ৭৫২, ৫৮১৭, মুসলিম ৫৫৬, নাসায়ী ৭৭১, আবূ দাউদ ৯১৪, ৪০৫২, আহমাদ ২৩৫৬৭, ২৩৬৭০, ২৪৯১৭, ২৫১০৭, ২৫২০৬, মুয়াত্তা মালেক ২২০, সহীহ আবু দাউদ ৮৪৮, ইরওয়া ৩৭৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৫৫১: আবূ বুরদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি আমার সামনে ইয়ামনের তৈরী মোটা কাপড়ের একটি লুঙ্গি এবং একটি কম্বল (বা চাদর) বের করলেন এবং শপথ করে আমাকে বললেন, কাপড় দু’টি পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন।

সহীহুল বুখারী ৩১০৮, ৫৮১৮, মুসলিম ২০৮০, তিরমিযী ১৭৩৩, আবূ দাউদ ৪০৩৬, আহমাদ ২৩৫১৭, ২৪৪৭৬, মুখতাসারুশ শামাইল ৯৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৫৫৩: আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম। তাঁর পরনে ছিল মোটা পাড়যুক্ত একটি নাজরানী চাদর।

সহীহুল বুখারী ৩১৪৯, ১০৫৭, আহমাদ ১২১৩৯, ১২৭৮২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৫৫৪: আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কাউকে গালি দিতে শুনিনি এবং কাউকে তাঁর কাপড় ভাঁজ করে দিতেও দেখিনি।

হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনুস সারী বলেন, যদি তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৫৫৫: সাহল ইবনে সাদ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা একখানা চাদরসহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার পরার জন্য আমি নিজ হাতে এটা বুনেছি। চাদরের প্রয়োজন অনুভব করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করলেন, অতঃপর সেটাকে লুঙ্গীর মত করে পরিধান করে আমাদের নিকট আসলেন। তখন অমুকের পুত্র অমুক এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! চাদরটা কী চমৎকার। এটা আমাকে পরতে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আচ্ছা। তিনি ভিতর বাড়িতে গিয়ে চাদরটা ভাঁজ করে তার নিকট পাঠিয়ে দিলেন। লোকজন তাকে বললো, আল্লাহর শপথ! কাজটা তুমি ভালো করোনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজন অনুভব করেই তা পরেছিলেন। আর তুমি তাঁর নিকট থেকে সেটা চেয়ে নিলে! অথচ তুমি জানো যে, তিনি কোন প্রার্থীকেই বিমুখ করেন না। সে বললো, আল্লাহর শপথ! আমি এটা পরার জন্য তাঁর থেকে চেয়ে নেইনি, বরং আমার কাফন বানানোর জন্য চেয়ে নিয়েছি। সাহল (রাঃ) বলেন, লোকটা যেদিন মারা গেল সেদিন সেটিই তার কাফন হলো।

সহীহুল বুখারী ১২৭৭, ২০৯৩, ৫৮১০, ৬০৩৬, নাসায়ী ৫৩২১, আহমাদ ২২৩১৮, দারেমী ৭১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায়ঃ পোশাক-পরিচ্ছদ

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস

বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: যমুনা ও এন মল্লিককে জরিমানা

ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কে বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অপরাধে তিনটি পরিবহনকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা করা হয়েছে এন মল্লিক পরিবহন, যমুনা পরিবহন ও দ্রুত সার্ভিস পরিবহনকে। বৃহস্পতিবার  দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ মিথুন মুন্নির ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ জরিমানা করা হয়।

রাস্তার মাইল ফলক অনুযায়ি নবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ৩৬ কিলোমিটার। অথচ এই দূরত্বের জন্য আদায় করা হয় ৮০ টাকা। ঈদ উপলক্ষে এই ভাড়া বেঁড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। ঈদের দুদিন আগে থেকে শুরু হওয়া এই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে গতকাল সোমাবার পর্যন্ত। যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেই হেলপার-সুপারভাইসাররা দূর্ব্যবহার করে। এমনকি অনেক সময় তাদের বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ঈদের ৩/৪ দিন আগে থেকে ঈদের ৬ষ্ঠ দিন পর্যন্ত যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছিল ঢাকা-বান্দুরা সড়কের যাত্রীবাহী এ বাসগুলো। এ অভিযোগের ভিত্তিতে এন মল্লিক পরিবহনকে ৩৫ হাজার, যমুনা পরিবহনকে ২০ হাজার ও দ্রুত সার্ভিস পরিবহনকে ১০ হাজার টাকা  মোট ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

যাত্রীরা জানান, বান্দুরা থেকে গুলিস্থানের নিয়মিত ভাড়া ৮০ টাকা। কিন্তু তারা অতিরিক্ত ২০ টাকা অর্থাত্ ১০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, নবাবগঞ্জ, বাগমারা, বক্সনগর এবং পরবর্তী স্ট্যান্ডগুলো থেকেও একই ভাড়া আদায় করে আসছিল এ পরিবহনগুলো।

যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, রুকনুজ্জামান ও আরিফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমরা পরিবহনগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে আছি। অতিরিক্ত ভাড়া না দিতে চাইলে পরিবহনের স্টাফরা আমাদের নানা ধরনের হুমকি দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। অপমানের ভয়ে আমরা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যাতায়াত করে আসছি। দ্রুত সার্ভিস পরিবহন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান রশিদ বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি তিনি জানতেন না। এরপর থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে না।

জয়পাড়া ও নবাবগঞ্জ স্কুল সরকারিকরণে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিপত্র প্রেরণ

দেশের ৪২ জেলায় আরও ৯২ বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রধামন্ত্রীর সম্মতিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই ৯২টি স্কুলের মাঝে রয়েছে দোহারের জয়পাড়া মডেল পাইলট ও নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল।

বৃহস্পতিবার (২১ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব নুৎফুন নাহার সাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ৯২ বিদ্যালয় সরকারিকরণ বা জাতীয়করণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে কোনো ধরনের মামলা/অভিযোগ আছে কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যাদি জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দোহার উপজেলা বিএনপি নেতা শাহীন মোল্লার মৃত্যু

দোহার উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মোল্লা ইন্তিকাল করেছেন(ইন্নাহ লিল্লাহী ওয়া ইন্নাহ ইলাইহী রাজিউন)। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাত অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সময় ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। ডাক্তাররা জানান তিনি স্ট্রোক করেছিলেন।

শাহীন মোল্লার এই অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি ডা দেওয়ান সালাউদ্দিন, ঢাকা জেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এ্যাডভোকেট মনির হোসেন রানাসহ বিএনপি ও এর অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। তার নামাজে জানাজা আজ বিকাল ৩ টায় গনি শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়(পদ্মা স্কুল) মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

নবাবগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই ভাই আটক

নবাবগঞ্জে ইয়াবাসহ জামাল (৩৬) ও আয়নাল (৩২) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। তারা আপন দুই ভাই। তাদের কাছ থেকে ১২০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। আটককৃতরা উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের শাহজাহান সারু ওরুফে গাঁজা সারুর ছেলে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে রাধাকান্তপুর গ্রামের নয়নশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন রাস্তা থেকে তাদের আটক করা হয়। নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম তালুকদার জানান, গোপন সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদক বেচাকেনা করার সময় দুই ভাইকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে জামালের কাছ থেকে ৫০ পিচ ও আয়নালের কাছ থেকে ৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলট উদ্ধার করা হয়।

উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম তালুকদার আরও জানান, জামাল ও আয়নাল ঐ এলাকার চিহ্নিত মাদক করাবারী। এব্যাপারে মাদক আইন মামলার প্রক্রিয়া চলছে। শুক্রবার সকালে তাদের আদালত প্রেরণ করা হবে।

দোহার, নবাবগঞ্জ, শ্রীনগরে চলছে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান: সুখবর পাচ্ছে এই অঞ্চলের জনগন

২০১৩-১৪ অর্থবছরে বহিরঙ্গন কর্মসূচীর আওতায় প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিরুপনের জন্য মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর জেলাসমূহের শিবচর, জাজিরা, ভাঙ্গা এবং ফরিদপুর সদর, ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ ও দোহার, মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান, লৌহজং এবং শ্রীনগর উপজেলার ভূতাত্ত্বিক ও ভূপ্রাকৃতিক মানচিত্রায়ন কাজ চলছে। আগামী কাল এই অনুসন্ধান কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রাণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার শফিকুর রহমান। শফিকুর রহমান আরো বলেন, হয়তো অচিরেই এই এলাকার মানুষ ও সর্বপরি বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটা বড় সুসংবাদ আসছে। ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও শ্রীনগরের কিছু এলাকায় এই জড়িপ চালানো হচ্ছে।

এই জরিপ কারী দলটি ইতিমধ্যে নবাবগ্নজ উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের রহমানীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থান করছে। এই স্থানে উপস্থিত থেকে তারা এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদ সার্ভে করছে বলে তারা জানান।

এই ব্যাপারে গালিমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তপন মোল্লা এই সার্ভে সম্পর্কে নিউজ৩৯কে জানান, তিনি গত কয়েক দিন আগে উপজেলা থেকে এই সার্ভে সম্পর্কে চিঠি পেয়েছেন এবং তিনি এই জড়িপ কাজে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রাণালয়ের অধিনে একটি জাপানি প্রতিনিধি দল সেখানে ভূতাত্বিক জরিপ ও প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধানের কাজ করছে।

পুলিশের বাধায় দোহার উপজেলা বিএনপির ইফতার স্থগিত

পুলিশের বাধায় স্থগিত হয়েছে দোহার উপজেলা বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিল। মৌখিক অনুমতি এবং দুই বার স্থান পরিবর্তন করেও ইফতার মাহফিল করতে পারে নি একসময় দেশকে নেতৃত্ব দেয়া এই দলটি।

দোহার উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এই ইফতার মাহফিল প্রথমে জয়পাড়া কলেজে স্থান নির্ধারিত হলেও পরবর্তিতে সেটা দোহারের বানাঘাটা গ্রামের ঘাটা  নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজন করার অনুমতি দেয় দোহার উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু গত সোমবার সেখান থেকে অনুষ্ঠান সরিয়ে অন্য কোথায় করতে বলে দোহার উপজেলা বিএনপিকে। সেই ধারাবাহিকতায় দোহার উপজেলা বিএনপি অনুষ্ঠান সরিয়ে নিকড়া এতিমখানা মাদ্রাসায় করার উদ্যোগ নেয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দোহার উপজেলা বিএনপি সেখানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। কিন্তু বুধবার সকালে দোহার থানা প্রশাসন থেকে আইন শৃক্ষলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করে ইফতার মাহফিল বন্ধ করে দেয়। এবং ইফতার মাহফিলে রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ ও প্রশাসনের এমন আচরনের ফলে দোহার উপজেলা বিএনপি নেতা কর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ।

এই ব্যাপারে দোহার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মাসুদ পারভেজ বলেন, আমরা ঘরোয়া ভাবে এতিমদের সাথে ইফতার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই সরকার এখন এতোই দূর্বল হয়ে পড়েছে যে আমাদের ইফতার করতে দিতেও তাদের ভয়।

এই ব্যাপারে ঢাকা জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মনির হোসাইন রানা নিউজ৩৯ কে বলেন, আমরা এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের নিয়ে সুন্দর একটা ইফতার করতে চেয়েছিলাম। এই সরকারের প্রশাসন সেটাও ভয় পায়। মানুষের সব ধরনের সাংবিধানিক অধিকার হরন করেছে এই সরকার।

এই সময় নিকড়া এতিমখানা মাদ্রাসার সামনে আরো উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন হিটু, কাজী রুবেল, বোরহান আহমেদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

প্রতিদিনের হাদিস: ক্ষমা

হাদিস নং ৫/৩৮১৮:  আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার আমলনামায় অধিক পরিমাণে ‘‘ক্ষমা প্রার্থনা’’ যোগ করতে পেরেছে, তার জন্য সুসংবাদ, আনন্দ।

হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ২৩৬, আত-তালীকুর রাগীব ২/২৬৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১/৩৮২১: আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করলো, তার জন্য রয়েছে তার দশ গুণ। আমি অবশ্য বাড়াতেও পারি। যে ব্যক্তি কোন পাপ কাজ করলো, তার পাপের শাস্তি হবে তার সম-পরিমাণ অথবা আমি তা ক্ষমাও করতে পারি। যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আর যে ব্যক্তি এক হাত আমার দিকে অগ্রগামী হয়, আমি এক বাহু তার দিকে অগ্রগামী হই। যে ব্যক্তি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌঁড়ে যাই। কোন ব্যক্তি আমার সাথে কোন কিছু শরীক না করা অবস্থায় পৃথিবীপূর্ণ গুনাহ নিয়ে আমার সাথে মিলিত হলেও আমি অনুরূপ পরিমাণ ক্ষমাসহ তার সাথে মিলিত হবো।

মুসলিম ২৬৮৭, আহমাদ ২০৮০৮, ২০৮৫৩, ২০৮৬৬, ২০৯৬১, ২০৯৭৭, ২১০৫৫, দারেমী ২৭৮৮, রাওদুন নাদীর ৯৫৫, সহীহাহ ৫৮১, ২২৮৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২/৩৮২২: আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারণা মোতাবেক আচরণ করি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে, তখন আমি তার সাথেই থাকি। সে যদি মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। সে যদি কোন মজলিসে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে তার আলোচনা করি। সে যদি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয় তবে আমি তার দিকে দৌঁড়ে অগ্রসর হই।

সহীহুল বুখারী ৭৪০৫, মুসলিম ২৬৭৫, তিরমিযী ৩৬০৩, আহমাদ ৭৩৭৪, ২৭৪০৯, ৮৪৩৬, ৯০০১, ৯০৮৭, ৯৩৩৪, ২৭২৭৯, ২৭২৮৩, ১০১২০ ১০২৪১, ১০৪০৩, ১০৫২৬, সহীহাহ ২২৮৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩/৩৮২৩: আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম-সন্তানের প্রতিটি কাজের সওয়াব দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বর্দ্ধিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তবে রোযা ব্যতীত। কেননা তা শুধু আমার জন্য এবং আমিই তার পুরস্কার দিবো।

সহীহুল বুখারী ১৮৯৪, ১৯০৪, ৫৯২৭, ৭৪৯২, ৭৫৩৮, মুসলিম ১১৫১, তিরমিযী ৭৬৪, নাসায়ী ২২১৫, ২২১৬, ২২১৭, ২২১৮, ২২১৯, আহমাদ ৭৪৪২, ৭৬৩৬, ২৭৩৪৫, ২৭২৪৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১/৩৮২৪: আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ‘‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’’ বলতে শুনে বললেনঃ হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস! আমি কি তোমাকে এমন এক বাক্যের সন্ধান দিবো না, যা জান্নাতের ভান্ডারসমূহের অন্তর্ভুক্ত? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ তুমি বলো, ‘‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’’।

সহীহুল বুখারী ৪২০৫, মুসলিম ২৭০৪, তিরমিযী ৩৩৭৪, ২৪৬১, আবূ দাউদ ১৫২৬, আহমাদ ১৯০২৬, ১৯১০২, ১৯১৫১, ১৯২৪৬, ১৯২৫৬, রাওদুন নাদীর ১০৪১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২/৩৮২৫: আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটির সন্ধান দিবো না? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেনঃ ‘‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’’।

আহমাদ ২০৮২৯, ২০৮৪২, ২০৮৭৯, রাওদুন নাদীর ১০৪১, আত-তালীকুর রাগীব ২/২৫৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩/৩৮২৬: হাযিম ইবনে হারমালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে বলেনঃ হে হাযিম! তুমি অধিক সংখ্যায় ‘‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’’ বাক্যটি পড়ো। কেননা তা হলো জান্নাতের গুপ্তধন।

হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ২৩১৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জা’ফার আল-উকায়লী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা) ২. আবু যায়নাব সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৩৭৯, ৩৩/৩৩৬ নং পৃষ্ঠা)

উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু ইয়াকুব বিন হুমায়দ ও আবু যায়নাব এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৩৫৬ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ৩৭ টি খুবই দুর্বল, ১৬৯ টি দুর্বল, ১২৩ টি হাসান, ২৭ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৪২০৪, ৬৩৮৪, ৬৪০৯, ৭৩৮৬, মুসলিম ৫৮৯, ২৭০৫, ২৭০৬, তিরমিযি ৩৩৭৪, ৩৪৬১, ৩৫৮১, ৩৬০১, আহমাদ ৭৯০৬, ৮০২৪, ৮২০১, ৮২২১, ৮৪৪৬, ৮৫৩৫, মু’জামুল আওসাত ১৯৪৩।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস

শিক্ষক নিয়োগের বয়সসীমা ৩৫, নির্দেশনা পেল এনটিআরসিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। যোগদানের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ বছর বয়সের পর কেউ আর শিক্ষক হতে পারবেন না। গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) অফিসে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) মো. জাবেদ আহমেদ বলেন, নিবন্ধিত প্রার্থীদের যোগদানের বয়সসীমা ৩৫ বছর চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা এনটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে। তার আলোকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
এনটিআরসিএর সদস্য মো. হুমায়ন কবির বলেন, শিক্ষক নিয়োগের বয়সসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত নির্দেশনা রোববার আমরা পেয়েছি। ইতোমধ্যে শূন্য আসনে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ঈদের আগে ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে এনটিআরসিএ থেকে বেসরকরি শিক্ষকদের চাকরিতে যোগদানের বয়সসীমা নির্ধারণ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৩ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপত্বিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয়। সভায় এনটিআরসিএর দেয়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী বেসকারি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর করার পক্ষে মত দেয়া হয়। সেই মতামতের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা ও এমপিও নীতিমালার আলোকে বেসরকারি শিক্ষকদের যোগদানের বয়স ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আলোকে শূন্য আসনে নিবন্ধিত প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমার বিষয়টি উল্লেখ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।