দোহার পৌরসভায় জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেই

জলাবদ্ধতার চরম ভোগান্তির স্বীকার ঢাকার দোহার উপজেলার দোহার পৌর এলাকার বাসিন্দারা। পৌরসভা গঠনের পর থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায় বাড়িঘর স্থায়ী জলাবব্ধতা এখন পৌরবাসির নিত্যদিনের সঙ্গী। বছরের অধিকাংশ সময় পৌর এলাকায় পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে ।

জানা যায়, বর্তমানে দোহার পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও গঠনের পর নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌর এলাকার জনগন। দোহার পৌরবাসীর প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে জলবদ্ধতা।

পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে তলিয়ে যায় অধিকাংশ এলাকা। অতি বর্ষনে কোন কোন এলাকা হাঁটু পরিমান পানি জমে । ফলে পৌরবাসীর চলাচলে মারাতœক বিঘœ ঘটছে ব্যহৃত হচ্ছে প্রতিদিনের রুমিনমাফিক কাজকর্মের।

দোহার পৌরসভার লটাখোলা , জয়পাড়া, খাড়াকান্দা, চৌধুরীপাড়া, ইউসুফপুর, দোহার , বটিয়া ও বানাঘাটা এলাকায় বৃস্টির পানি জমে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। মে মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ সময়টা অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানির নিচে থাকে। এমনকি প্রধান সড়কে সাথে সংযোগ সড়ক গুলো পানিতে তলিয়ে যায়। কোন কোন এলাকায় ঘরের ভিতরে পানি উঠে যায়। পানি জমে থাকার কারনে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ও ঘর গৃহস্থালীর কাজ করতে মারাতœক বিঘœ ঘটে। বিশেষ করে তাঁত শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলো বৃষ্টির পানি জমে থাকায় তাঁতীদের লুঙ্গি তৈরির কাজকর্ম বন্ধ থাকে। ফলে সময়মতো পাইকারদের লুঙ্গি সরবরাহ করতে পারছেন না তারা।

বিশেষ করে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পানি পায়ে মাড়িয়ে তারপর স্কুলে যেতে হয়।

দোহার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর জয়পাড়া চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা মোতালেব মুন্সি জানান, বৃষ্টির পানি জমে বছরের অধিকাশং সময় এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে থাকায় বাড়ি থেকে বের হওয়া যায় না। খাড়াকান্দা এলকার আব্দুর রহমান জানান, পৌরসভার গঠনের পর থেকে পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বছরের পর বছর আমাদের চরম ভোগান্তি পোতাহে হচ্ছে।

এলাকার অন্যান্য বাসিন্দারা ক্ষোভের সাথে বলেন, এ সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও দোহার পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কার্যকরী কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় বছরের পর বছর সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে আমাদের । এ এলাকার শিশুরা সারাদিন পানির মধ্যে হাটাচলার কারনে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ভুগছেন বলে জানা গেছে। জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এখানে।

এ অবস্থা দীর্ঘদিনের হলে এ থেকে পরিত্রান পাচ্ছে না দোহার পৌরসভার জনগন। নিয়মিত দোহার পৌরসভার জনগন উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসলেও বৃষ্টির পানি নিস্কাষনের কোন উদ্যোগ হাতে না নেওয়ায় এভাবেই কাটছে বছরের পর বছর।

এ ব্যাপারে দোহার পৌর মেয়র আলহাজ রহিম মিয়া জানান, নিচু এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এ কাজের জন্য বাজেট বরাদ্ধ না থাকায় সময়মতো কাজ করতে পারছি না। তবে বেশি দুর্ভোগ যেসব এলাকাগুলো থেকে এ বছরই পানি সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রবাসীদের সেবায় দুটি অ্যাম্বুলেন্স চালু

প্রবাসী কর্মীদের সেবায় দুটি অ্যাম্বুলেন্স চালু করেছে সরকার। এর ব্যবস্থাপনা করবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। প্রবাসী কর্মীর মরদেহ পরিবহন এবং অসুস্থ কর্মীর সেবায় অ্যাম্বুলেন্স দুটি ব্যবহুত হবে। স্বল্প খরচে প্রবাসী কর্মীর পরিবারের সদস্যরাও এ সেবা পাবেন। অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সাপোর্টসহ আধুনিক চিকিৎসার সরঞ্জামাদি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি অ্যাম্বুলেন্স দুটির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছে। সব সময় নতুন নতুন কল্যাণমূলক কার্যক্রম ও সেবা প্রদানে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রবাসী কর্মী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের সুবিধার্থে আবাসিক স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে।’

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব নমিতা হালদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুল ইসলাম, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিদিনের হাদিস: সাওম

হাদিস নং ২৩৬৫: আবূ বাকর ইবনু আব্দুর রহমান (রহ.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোনো এক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছরে এক সফরে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লোকদের প্রতি সওম ভঙ্গের নির্দেশ দিতে দেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ দুশমনের মোকাবিলায় তোমরা শক্তি সঞ্চয় করো। অবশ্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সওম রেখেছেন। আবূ বাকর (রহঃ) বলেন, হাদীস বর্ণনাকারী বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আল-‘আর্জ’ নামক সথানে পিপাসার কারণে বা গরমের ফলে সওমরত অবস্থায় তাঁর মাথায় পানি ঢালতে দেখেছি।

মালিক, বায়হাক্বী।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩৬৭: সাওবান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তমোক্ষণকারী এবং যার রক্তমোক্ষণ করানো, হয়েছে, তাদের বলেনঃ উভয়ের সওম নষ্ট হয়েছে। শাইবান (রহ.) বলেন, আবূ কিলাবাহ বলেছেন, আবূ আসমা আর-রাহবী তাকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রাযি.) তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন।[1]

ইবনু মাজাহ, আহমাদ, দারিমী, ইবনু খুযাইমাহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩৭৪: আব্দুর রহমান ইবনু আবূ লায়লাহ (রহ.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তমোক্ষণ করানো এবং সাওমে বিসাল পালন করতে নিষেধ করেছেন। তবে তিনি এ দু‘টো কাজ সাহাবীদের প্রতি অনুগ্রহ করে হারাম করেননি। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো ভোর রাত পর্যন্ত ক্রমাগত সওম পালন করেন। তিনি বললেনঃ আমি অবশ্যই ভোর রাত পর্যন্ত সওমে বিসাল করি। কেননা আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান।[1]

আহমাদ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩৮০: আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো সওম পালনকারীর অনিচ্ছাকৃত বমি হলে তাকে তা কাযা করতে হবে না। তবে কেউ স্বেচ্ছায় বমি করলে তাকে অবশ্যই সওম কাযা করতে হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাফস ইবনু গিয়াস (রহ.) থেকে হিশাম (রহ.) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]

তিরমিযী, দারিমী, ইবনু মাজাহ, আহমাদ, ইবনু খুযাইমাহ। ইমাম তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান গরীব। ইবনু খুযাইমাহ বলেন: এর সনদ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩৮৩: ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে (স্ত্রীদেরকে) চুমু দিতেন।[1]

মুসলিম, তিরমিযী।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩৮৫: জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) বলেন, একদা আমি কামোদ্দিপ্ত হয়ে সওম অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু দিলাম। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আজ এক গুরুতর কাজ করে ফেলেছি, আমি সওম অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু দিয়েছি। তিনি বললেন, তুমি পানি দিয়ে কুলি করলে কি হতো? ঈসা ইবনু হাম্মাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমি (উমার) বললাম, তাতে কোনো ক্ষতি হতো না। আমি বলিঃ তাতে অসুবিধা নেই।[1]

দারিমী, আহমাদ, ইবনু খুযাইমাহ। আহমাদ শাকির বলেন: এর সনদ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ

অধ্যায়ঃ সওম (রোযা)

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী

এবার আসছে ই-পাসপোর্ট

মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) পর এবার আসছে ই-পাসপোর্ট। ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন’ প্রকল্পের আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই উদ্যোগের পেছনে চারটি কারণ রয়েছে বলে জানা গেছে। কারণগুলো হলো—বহির্বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বিশ্বের সর্বশেষ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা, বাংলাদেশি পাসপোর্টের নিরাপত্তা বাড়ানো, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাংলাদেশি নাগরিক ও আগত বিদেশি নাগরিকদের সুষ্ঠুভাবে আসা-যাওয়া নিশ্চিত করা। তবে ই-পাসপোর্ট চালু হলেও পাশাপাশি এমআরপির কার্যকারিতা থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। যার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সুরক্ষা সেবা বিভাগের আওতায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগামী ২০২৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা (ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়, ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট অফিস, ডাটা সেন্টার, পাসপোর্ট অ্যাসেম্বলি লাইন, পার্সোনালাইজেশন সেন্টার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র), ৬৪টি জেলায় অবস্থিত ৭২টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, বিদেশে অবস্থিত ৮০টি বাংলাদেশ মিশন, যশোরে অবস্থিত ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার, দেশের অভ্যন্তরে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ২৪টি স্থলবন্দর (২টি স্থলবন্দরে স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল সিস্টেম, ২২টিতে ই-পাসপোর্ট রিডারের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন), ৭২টি এসবি ও ডিএসবি অফিস, মিউনিখ, জার্মানিতে রেফারেন্স পয়েন্টে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১লা এপ্রিল ২০১০ সালে এমআরপি ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) পদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু এমআরপি ব্যবস্থায় পাসপোর্টের জালিয়াতির আশঙ্কা ও দশ আঙুলের ছাপ ডাটাবেজে সংরক্ষণ না থাকার সুযোগে এই পদ্ধতির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা ধরা পড়ে। এর ফলে ই-পাসপোর্ট চালুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনকালে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফরকালে ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভেরিদোজ জিএমবিএইচ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে একটি এমওইউ স্বাক্ষর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক, সুরক্ষা সেবা বিভাগের প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের মাধ্যমে একটি কমিটি ই-পাসপোর্টের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন (Technical Specification) নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া এই বছরের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘ইন্ট্রোডাকশন অব মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনকালে যেন ই-পাসপোর্টের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হয়, এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একনেক সভার সিদ্ধান্তের আলোকে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের জন্য নেওয়া কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে এই বছরের ৭, ১৮ ও ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২, ৩ ও ৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ছয়টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় প্রকল্পের আর্থিক, কারিগরি ও ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য পরিকল্পনা কমিশনেও পাঠানো হয়।

প্রকল্পের আওতায় ই-পাসপোর্ট বুকলেট সংগ্রহ (২০ লাখ সরাসরি আমদানি, ২৮০ লাখ দেশে তৈরি) করা হবে। ই-পাসপোর্টের জন্য ডেমোগ্রাফিক তথ্য, দশ আঙুলের ছাপ, চোখের কর্নিয়ার ছবি ও ডিজিটাল স্বাক্ষর সংগ্রহপূর্বক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তথ্যসমূহ কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারের সার্ভারে সংরক্ষণ এবং পাসপোর্টের আবেদনকারীদের পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে পাসপোর্ট প্রিন্টিংয়ের পর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও দূতাবাসগুলোয় পাসপোর্ট বিতরণ করা হবে। এ কাজটি নিরবচ্ছিন্নভাবে করার জন্য সার্ভার, রাউটার, সুইচ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ক্যামেরা, ই-পাসপোর্ট রিডার, প্রিন্টিং মেশিন স্থাপন, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টলেশন সম্পন্ন করা হবে। জনবল নিয়োগ (প্রেষণে-৩২ জন, আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে-১৯০ জন) দেওয়া হবে। এ প্রকল্পের আওতায় যানবাহন সংগ্রহ করা হবে ২৫টি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই বাংলাদেশে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সাপোর্ট করে না। সেক্ষেত্রে আমাদের নাগরিকরা ভোগান্তির শিকার হন। তাই এই প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আধুনিক বিশ্বে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

প্রতিদিনের হাদিস: জ্ঞান

হাদিস নং ৫৭: মুহাম্মদ ইবনু সিনান (রহঃ) ও ইবরাহীম ইবনুল মুনযির (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে লোকদের সামনে কিছু আলোচনা করছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর কাছে একজন বেদু্ঈন এসে প্রশ্ন করলেন, কিয়ামত কবে হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আলোচনায় রত রইলেন। এতে কেউ কেউ বললেন, লোকটি যা বলেছে তিনি তা শুনেছেন কিন্তু তার কথা পছন্দ করেন নি। আর কেউ কেউ বললেন বরং তিনি শুনতেই পান নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা শেষ করে বললেনঃ কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? সে বলল, এই যে আমি, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!  তিনি বললেনঃ যখন আমানত নষ্ট করা হয় তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।  সে বলল, কিভাবে আমানত নষ্ট করা হয়? তিনি বললেনঃ যখন কোন কাজের দায়িত্ব অনুপযুক্ত লোকের প্রতি ন্যাস্ত হয়, তখন তুমি কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৫৮: আবূ’ন নু’মান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পেছনে রয়ে গেলেন। পরে তিনি আমাদের কাছে পৌঁছলেন, এদিকে আমরা (আসরের) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেরী করে ফেলেছিলাম এবং আমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছিলাম। আমরা আমাদের পা কোনমতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিচ্ছিলাম। তিনি উচ্চস্বরে বললেনঃ পায়ের গোড়ালিগুলোর (শুষ্কতার) জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে। তিনি দু’বার বা তিনবার এ কথা বললেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৫৯: কুতায়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বললেনঃ গাছপালার মধ্যে এমন একটি গাছ আছে যার পাতা ঝরে না। আর তা মুসলিমের উপমা। তোমরা আমাকে বল, ‘সেটি কি গাছ?’ রাবী বলেন, তখন লোকেরা জঙ্গলের বিভিন্ন গাছ-পালার নাম চিন্তা করতে লাগল। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, ‘আমার মনে হল, সেটা হবে খেজুর গাছ। ’ কিন্তু আমি তা বলতে লজ্জাবোধ করছিলাম। তারপর সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) বললেন, ‘ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আমাদের বলে দিন সেটি কি গাছ? তিনি বললেনঃ তা হল খেজুর গাছ। ’

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬১: মুহাম্মদ ইব্ন সালাম (রহঃ) হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উস্তাদের সামনে শাগরিদের পাঠ করতে কোন বাধা নেই। ‘উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন মূসা (রহঃ) সুফিয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন যখন মুহাদ্দিসের সামনে (কোন হাদীস) পাঠ করা হয় তখন — (তিনি আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন) বলায় কোন আপত্তি নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবূ ‘আসিমকে মালিক ও সুফিয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, ‘উস্তাদের সামনে পাঠ করা এবং উস্তাদের নিজে পাঠ করা একই পর্যায়ের।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬২: আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যাক্তি সওয়ার অবস্থায় ঢুকল। মসজিদে (প্রাঙ্গণে) সে তার উটটি বসিয়ে বেঁধে রাখল। এরপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলল, ‘তোমাদের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তার সামনেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা বললাম, ‘এই হেলান দিয়ে বসা ফর্সা রঙের ব্যাক্তই হলেন তিনি। ’ তারপর লোকটি তাঁকে লক্ষ্য করে বলল, ‘হে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র!’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ‘আমি তোমার জওয়াব দিচ্ছি। ’ লোকটি বলল, ‘আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব এবং সে প্রশ্ন করার ব্যাপারে কঠোর হব, এতে আপনি রাগ করবেন না। ’ তিনি বললেন, ‘তোমার যেমন ইচ্ছা প্রশ্ন কর। ’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আপনার রব ও আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ্ই কি আপনাকে সকল মানুষের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপে পাঠিয়েছেন?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ সাক্ষী, হাঁ। ’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ্ই কি আপনাকে দিনরাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ সাক্ষী, হাঁ। ’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ্ই কি আপনাকে বছরের এ মাসে (রমযান) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনের নির্দেশ দিয়েছেন?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ সাক্ষী, হাঁ। ’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ্ই কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমাদের ধনীদের থেকে সদকা (যাকাত) উসূল করে গরীবদের মধ্যে ভাগ করে দিতে?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘আল্লাহ্ সাক্ষী, হাঁ। ’ এরপর লোকটি বলল, ‘আমি ঈমান আনলাম আপনি যা (যে শরী‘আত) এনেছেন তার ওপর। আর আমি আমার কওমের রেখে আসা লোকজনের পক্ষে প্রতিনিধি, আমার নাম যিমাম ইবনু সা’লাবা, বনী সা’দ ইবনু বক্র গোত্রের একজন। ’ মূসা ও আলী ইবনু আবদুল হামীদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) সূত্রেও এরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ ইলম বা জ্ঞান

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পদ্মা বাঁধ দখল করে ইট-বালুর ব্যবসা

দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের পদ্মার ভাঙন রক্ষায় বহুপ্রতীক্ষিত নির্মাণাধীন বাঁধের ওপর ইট-বালুর ব্যবসা করছে রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। প্রতিদিন শত শত ইট-বালুবোঝাই ট্রাক এ বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করার ফলে বালুবোঝাই বস্তা (জিও ব্যাগ) ছিঁড়ে বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের পদ্মার ভাঙন রক্ষায় নির্মাণাধীন বাঁধের ওপর ইট-বালুর ব্যবসা করছে রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী মাহবুব, খোকন-রাজু গং। ইট-বালু পরিবহনের জন্য ট্রাক চলাচল করার ফলে বালুবোঝাই বস্তা ছিঁড়ে বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা ও বেড়াতে আসা পর্যটকরা। এ সময় আরও দেখা যায়, বাঁধ রক্ষায় ব্যবহার করা জিও ব্যাগেরও ক্ষতি হচ্ছে যেখানে, সেখানে মালবোঝাই ট্রলার থামানোর কারণে এবং ইট ফেলার কারণে। অনেক জিও ব্যাগ এরই মধ্যে ছিঁড়ে গেছে। এরই মধ্যে নির্মাণাধীন চলমান এ বাঁধটি দোহার-নবাবগঞ্জের বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। যেখানে- সেখানে ইট-বালু রাখার কারণে দর্শনার্থীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি ঠিকাদাররা বাঁধের কাজ করতেও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে ঘুরতে আসা আনিসুর রহমান শোভন (৩৫) বলেন, এখানে ঘুরতে আসি বিনোদনের জন্য, এখানে আসার পর ইট-বালুর কারণে ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারছি না।

ঢাকা থেকে আসা কুলসুম বেগম (৩৩) বলেন, বিনোদনের স্থানে ইট-বালুর ব্যবসা মেনে নেওয়া যায় না। চোখেমুখে বালু আসে। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নজরে আনতে হবে।

এ বিষয়ে ইট-বালু ব্যবসায়ী মাহবুব (৩৫) বলেন, আমরা বাঁধ নির্মাণের আগেও নদীর পাড়ে ব্যবসা করেছি এবং এখনও করছি। তবে বাঁধের কোনো ক্ষতিসাধন করছি না।

ইট-বালু ব্যবসায়ী খোকন বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এখানেই ব্যবসা করে যাচ্ছি। কারও কাছে অনুমতি নেয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা হলে আমরা আর এখানে ব্যবসা করব না।

এ বিষয়ে দোহারের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন জানান, সরকারি সম্পত্তি কারও কারণে নষ্ট হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দোহারের ইউএনও আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিদিনের হাদিস: চাষাবাদ

হাদিস নং ২৩২০: আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোন মুসলমান ফলবান গাছ রোপণ করে কিংবা কোন ফসল ফলায় আর তা হতে পাখী কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায় তবে তা তার পক্ষ হতে সদাকাহ্ বলে গণ্য হবে।

মুসলিম (রহ.) ….. আনাস (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। (৬০১২, মুসলিম ২২/২, হাঃ ১৫৫৩, আহমাদ ১২৪৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৬৯)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩২১: আবূ  উমামাহ্  বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লাঙ্গলের  ফাল  এবং  কিছু  কৃষি সরঞ্জাম দেখে বললেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি এটা যে সম্প্রদায়ের ঘরে প্রবেশ করে, আল্লাহ সেখানে অপমান প্রবেশ করান। রাবী মুহাম্মাদ [ইবনু যিয়াদ (রহ.)] বলেন, আবূ উমামাহ্ (রাঃ)-এর নাম হল সুদাই ইবনু আজলান।  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৭০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩২২: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি শস্য ক্ষেতের পাহারা কিংবা পশুর হিফাযতের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশে কুকুর পোষে, প্রতিদিন তার নেক আমল হতে এক কীরাত পরিমাণ কমতে থাকবে। ইবনু সীরীন ও আবূ সালিহ্ (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেনঃ বকরী অথবা ক্ষেতের হিফাযত কিংবা শিকারের উদ্দেশ্য ছাড়া।

আবূ হাযিম (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, শিকার ও পশুর হিফাযত করার কুকুর। (৩৩২৪, মুসলিম ২২/১০, হাঃ ১৫৭৫, আহমাদ ৯৪৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ  ২১৭১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩২৪: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি একটি গরুর উপর সাওয়ার ছিল, তখন গরুটি সে ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করে বলল, আমাকে এ কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। আমাকে চাষাবাদ তথা ক্ষেতের কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি, আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) এটা বিশ্বাস করি। তিনি আরো বললেন, এক নেকড়ে বাঘ একটি বকরী ধরেছিল, রাখাল তাকে ধাওয়া করল। নেকড়ে বাঘটা তাকে বলল, সেদিন হিংস্র জন্তুর প্রাধান্য হবে, যেদিন আমি ছাড়া কেউ তার রাখাল থাকবে না, সেদিন কে তাকে রক্ষা করবে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি, আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) এটা বিশ্বাস করি। আবূ সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, তারা দু’জন [আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)] সেদিন মজলিসে হাযির ছিলেন না। (৩৪৭১, ৩৬৬৩, ৩৬৯০, মুসলিম ৪৪/১, হাঃ ২৩৮৮, আহমাদ ৭৩৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৭৩)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

২৩২৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসাররা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, আমাদের এবং আমাদের ভাই (মুহাজির)-দের মধ্যে খেজুরের বাগান ভাগ করে দিন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। তখন তাঁরা (মুহাজিরগণকে) বললেন, আপনারা আমাদের বাগানে কাজ করুন, আমরা আপনাদেরকে ফলে অংশীদার করব। তাঁরা বললেন, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। (২৭১৯, ৩৭৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৭৪)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ চাষাবাদ

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

শ্রীনগরে স্বামীর লিঙ্গ কেটে কারাগারে স্ত্রী

মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায় মেয়ের পরকীয়ার জেরে স্বামীর লিঙ্গ কেটে দিয়েছে এক স্ত্রী। ১৭ জুন শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাড়ৈখালী বাজারে আল-নাবিল ট্রেইলার্সের মালিক ওয়ারিশুল ইসলামের এই ঘটনা ঘটে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবের ছেলে এই ওয়ারিশ। ঈদুল ফিতরের দিন রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন ওয়ারিশ। প্রায়ই তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হত বলে জানান ওয়ারিশ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রী একাধিকবার বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে আবার ফিরে আসেন। ওয়ারিশ সৌদি আরব থাকাকালীন ২০১৩ সালে স্ত্রী দোলন আক্তার উজ্জ্বল নামের এক যুবকের সঙ্গে মোবাইলে ফোনে পরকীয়া করে বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রায় দেড় মাস বাড়ির বাইরে ছিলেন। স্ত্রীর এসব কু-কর্মের কারণে তিনি দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন এবং স্ত্রীর এসব কু-কর্মের কথা যেনেও তিনি শুধুমাত্র ছেলে-মেয়ের কথা চিন্তা করে বড় ভাইদের সকলের নিষেধ উপেক্ষা করে তাকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। তবুও থেমে থাকেনা দোলন আক্তার। মায়ের বদনামের কথা জানাজানির ভয়ে এরই মধ্যে এক প্রবাসী ছেলের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দেন ওয়ারিশ। মেয়েও মায়ের পথেই এগুতে থাকে বলে জানান বাবা। বিভিন্ন সময়ে মেয়ের জামাই তার কাছে নালিশ করত মেয়ের ফোন ব্যস্ত থাকা নিয়ে। এমনকি অন্যত্র প্রেমে লিপ্ত হবার প্রমাণও পায় ওয়ারিশ। গত ৬ জুন মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওয়ারিশকে ফোন করে জানান তার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ওয়ারিশ মেয়েকে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং বাবা হিসেবে শাসন করেন। বাড়ৈখালী বাজারের জুতা দোকানি শাকিলের সঙ্গে তার পরকীয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানালে মেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এসে সবার কাছে বলতে থাকেন বাবা আমাকে কু-প্রস্তাব দিয়েছে। পরে ওয়ারিশের মেয়ে তার শ্বশুর বাড়ি চলে যায়। ওয়ারিশ বলেন, এরপর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার কোন ঝগড়া ঝাটিও হয়নি। হঠাৎ ঈদের দিন রাতে তার স্ত্রী দোলন আক্তার তাকে সেমাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ দিয়ে হাত পা বেঁধে ধারালো ব্লেড দিয়ে যৌনাঙ্গ কেটে দেয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওয়ারিশের চিৎকারে আশে পাশের মানুষ এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দোলন আক্তারকে আটক করে নিয়ে যায় এবং পরে কারাগারে প্রেরণ করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় কান্না করতে করতে ওয়ারিশ বলেন, আমার তো সব শেষ, আমি আর কি বলবো, আমি শুধু মরার আগে এর বিচার চাই। যদি আমি অপরাধী হই তাহলে আমি যে কোন শাস্তি মাথা পেতে নেবো। তবুও যেন সঠিক বিচারটা হয়। এ ব্যাপারে বাড়ৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম তালুকদার জানান, ওয়ারিশের বিরুদ্ধে কখনও কোন অভিযোগ আসেনি। কিন্তু শুনেছি প্রায়ই তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ হত। এমনকি ওই মহিলা (দোলন আক্তার) একবার পরকীয়া করে পালিয়েও যায়। পরে আবার তাকে ফিরিয়ে আনে ওয়ারিশ। তিনি বলেন, তবে এই মহিলা আর তার মেয়ে যে ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয় এই রকম ঘটনা আমার ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত দুর্নামের। আমি চাই এর বিচার হোক। এটা সামাজিক এবং নৈতিক অবক্ষয়ের ফল বলেও মন্তব্য করেন সেলিম তালুকদার। এ ঘটনা পরবর্তী ১৭ জুন ওয়ারিশের মেজ ভাই বাদি হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি এটেম্পট টু মার্ডারের মামলা দায়ের করেন।উক্ত মামলার তদন্ত অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম রোববার  জানান, ওইদিন সকাল ১০টায় আমরা ওয়ারিশের বাড়িতে যাই এবং আসামী দোলন আক্তারকে একটি ঘরে বন্ধী অবস্থায় পাই।পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, শ্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রাগে ক্ষোভে ধারালো ব্লেড দিয়ে লিঙ্গ কেটে দেন বলে জানান দোলন আক্তার।আমিনুল ইসলাম বলেন, তার জবানবন্দী অনুযায়ী একটি ধারালো ব্লেডও উদ্ধার করি ঘটনাস্থল থেকে। আসামি এখন কারাগারে আছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

দোহারে পুলিশ পাহারায় পাঠদান নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়|

দোহার নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিতের ঘটনার তিন মাসের মাথায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. আজিম খান দুই মাসের ছুটি কাটিয়ে বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে প্রতিষ্ঠানটির মাঠেই বাধা দেয় অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা। খবর পেয়ে দোহার থানা পুলিশ ও দোহার শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। একপর্যায়ে পুলিশের সামনেই অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিম খানকে ধাক্কা দিতে দিতে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যায়।
প্রধান শিক্ষক আজিম খান বলেন, আমি গত দুই মাস আগে বিদ্যালয় থেকে কোনো এক কারণে ছুটি নেই, আজ ছুটি কাটিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিচালনা পরিষদের লোকজন আমাকে আমার কক্ষে প্রবেশ করতে দেয়নি। এমনকি তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে। এদিকে নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুনা আক্তার বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক আজিম খান স্যার আমাদের শরীরে হাত দিয়ে মারধর করে। তাই তিনি এই স্কুলে থাকলে আমরা সবাই স্কুল ছেড়ে চলে যাব। একই কথা বলেন, ১০ম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন। বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সামন্ত বৃষ্টির অভিভাবক বলেন, এই ধরনের নির্লজ্জ শিক্ষক আমরা আর কোনদিন দেখিনি। তাই তাকে স্কুল থেকে সরে যেতে হবে। সে থাকলে আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে অন্যত্র চলে যাব।  এলাকাবাসীরও দাবি শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত একটি পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে এই শিক্ষক সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি নুরুল হক বেপারী বলেন, দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য প্রধান শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানে থাকলে আমাদের সন্তানরা সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। তাই তাকে এ প্রতিষ্ঠানে কোনোভাবে থাকতে দেয়া হবে না। দোহার শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের তদন্ত কর্মকর্তা এমারত হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে তিন মাস আগে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত গোটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকালও একটি ঘটনা ঘটেছে। যা আমরা এসে হস্তক্ষেপ করায় তেমন বড় ঘটনার জন্ম হয়নি। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বাইরে বেরিয়ে আসলে পরিচালনা পরিষদের হস্তক্ষেপে তারা ক্লাসে ফিরে গেলেও পুলিশ পাহারায় পরে ক্লাস চলে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫শে মার্চ সকালে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির নোমান নামের এক শিক্ষার্থীকে প্রধান শিক্ষক বেদম প্রহার করে অচেতন করে ফেলে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার জেরেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আসছিল।

দোহারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলায় গুরতর আহত ৩|

ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে চর লটাখোলা গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুরুতর আহত হয়েছে ইউনুছ বেপারী (৬৫) ও তার দুই মেয়ে ফেরদৌসী( ৩৫), হেলেনা(২৬)। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ২১ জুন রোজ বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টার দিকে ফসলি জমির ওপর দিয়ে রাস্তা যাবেই এ কথাকে কেন্দ্র করে ইউনুছ বেপারী ও ইউপি সদস্য মোঃ জহির সাথে কথা কাটাকাটির হয়। পরে এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে দুই পক্ষই শান্ত হয় এবং বাড়ী চলে যায়।ঐ দিন দুপুর ৩ টার দিকে ইউনুছ বেপারীর বাড়ীতে জহির মেম্বারের হুকুমে মোসলেম, নুরু, আইয়ূবআলী, রমজান, সাহেবালী, মোজাহার, ইয়াকুব, রাসেল সহ প্রায় ৩০/৩৫ জন যুবক হাতুরী ও লাঠিশোঠা নিয়ে সন্ত্রাসী  হামলা  চালায়। এতে ইউনুছ বেপারী ও তার দুই মেয়ে গুরতর আহত হয়। পরে এলাকাবাসী ইউনুছ বেপারী ও তার দুই মেয়েকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ এনে ভর্তি করে। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন, ইউনুছ বেপারীর ও তার মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ইউনুছ বেপারী হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ২নং কেবিনে ও তার মেয়েরা ২য় তলায় মহিলা বেডে আছে।