অপরিকল্পিত বাঁধে কেড়ে নিয়েছে একটি নদীর প্রান

ঢাকার নবাবগঞ্জের ইছামতি নদী। এক সময় এই নদীতে দিন-রাত শোনা যেত লঞ্চ ও জাহাজের সাইরেন। ঢাকা থেকে দোহার-নবাবগঞ্জে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিল নদীপথ। কিন্তু সেই জলপথ আজ মৃত, শুধুমাত্র পরিকল্পনাহীন এক বেরিবাধের কারনে হারিয়ে গেছে এই নদীপথ, সাথে মেরে ফেলেছে এই নদীটিকেও।

পদ্মা নদীর সঙ্গে ইছামতির সংযোগ থাকায় তীব্র স্র্রোত ছিল নদীতে। স্র্রোত এতই প্রবল ছিল অনেকের বসত বাড়ি চলে গেছে নদী গর্ভে। নদী ভাঙন থেকে মানুষের বসত ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য ২০০০ সালে নির্মাণ করা হয় ১৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ বেড়িবাঁধ। তবে বেড়িবাঁধে পর্যাপ্ত স্লুইচ গেট না থাকায় এখন মৃত প্রায় ইছামতি নদী। পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, নদী ভাঙ্গন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে ইছামতি নদীতে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে দোহারের অরঙ্গাবাদ থেকে মানিকগঞ্জের হাটিপাড়া বংখুরী পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়।

জানা যায়, ১৯৯৯ সালে সরকার দোহার-নবাবগঞ্জ এবং হরিরামপুর উপজেলাকে পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করার জন্য দোহারের অরঙ্গাবাদ থেকে মানিকগঞ্জের হাটিপাড়া বংখুরী পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেন। যে বাঁধটি ঢাকা জেলা দক্ষিণ রক্ষা বেড়ি বাঁধ নামে পরিচিত। বেড়িবাঁধের কারণে সে যাত্রায় নদীর ভাঙ্গন হতে রক্ষা পেলেও সেই বেড়িবাঁধই এখন ইছামতির মরার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অদক্ষতা ও অপরিকল্পতায় বাঁধের ইছামতি-পদ্মা নদীর সংযোগস্থলে স্লুইচ গেট স্থাপন না করা এবং বহু বছরেও নদীটি ড্রেজিং না করায় ইছামতি এখন বিলুপ্তির পথে। সরজমিনে ইছামতি নদীর তীর ঘুরে দেখা যায়, হারিয়ে যেতে বসেছে ইছমতির আপন চেহারা। বেড়িবাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বাধা পাওয়ায় শুকিয়ে গেছে কাশিয়াখালী থেকে শিকারীপাড়া বারুয়াখালী বান্দুরা পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার নদীপথ। সমস্যায় পড়েছে স্থানীয় ৫ হাজার জেলে পরিবারের প্রায় ২৫ হাজার সদস্য। সে সঙ্গে বেকার হয়ে পড়েছে নদীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হাজারও পেশার মানুষ।

আর এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে ঢাকা জেলার দোহার-নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ওপর। বিশেষ করে নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার বাসিন্দাদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ চরমে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ রক্ষা মঞ্চ, সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরম, ইছামতি বাঁচাও আন্দোলন ও স্থানীয় বাসিন্দারা মূল নদীতে স্লুইচ গেট নির্মাণের দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সব সময়ই উদাসীন।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা জেলার অন্যতম বৃহত্তম কোঠাবাড়ীর বিলে আজ পানির অভাবে ধান চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা। এক সময় এই বিলেই চাষ হতো লাখ লাখ হেক্টর ইরি-বোরো ধান। বিলের পানির উৎপাদিত ধানই নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলাবাসীর চালের চাহিদা মেটাতো। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে জেলেরা এ বিলের পানিতে রাত-দিন মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকত। আর সেই মাছ বিক্রি করেই সংসার চলত জেলে পরিবারগুলোর। এখানে পাওয়া যেত দেশি প্রজাতির হরেক রকম সুস্বাদু মাছ। কিন্তু এখন মাছ পাওয়া তো দূরের কথা দেখা দিয়েছে পানির চরম অভাব।

সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সভাপতি অ্যাড. সাইদুর রহমান মানিক বলেন, নদী মরে যাওয়ায় এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও মৎস্য আহরণে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই দ্রুত নদীটি খননের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মইউদ্দিন বলেন, ২০১০ সালে এই বাঁধে ৬টি স্লুইচ গেইট, ইছামতি নদীর ৭২ কিলোমিটার খনন এবং আড়িয়াল বিলের ৬টি খাল খননসহ সমুন্নয় পানি নিষ্কাশন নামে একটি প্রকল্প ওপর মহলে জমা দেয়া আছে পাস হয়ে এলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেললা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, শীঘ্রই বিআইডব্লিউটি এর সঙ্গে ইছামতি নদী খনন ব্যবস্থা ও স্লুইচ গেইট নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি করা হয় যাতে ইছামতি নদীকে বাঁচাতে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তারেকের টেবিলে বিএনপির ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা: ঢাকা-১ মনোনয়ন পাচ্ছেন কে?

নানা প্রতিকূল পরিবেশেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। যে কোনো পরিস্থিতিতেই দলটি নির্বাচনে যেতে চায়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ৩০০ আসনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা পৌঁছেছে। কয়েক দফা জরিপ চালিয়ে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণাও শুরু করেছেন। দলটি আশা করছে, ভোটের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্তি লাভ করবেন। কোনো কারণে তিনি মুক্তি না পেলেও সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে দলটি। হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বেন প্রার্থীরা। এরই মধ্যে তারেক রহমানের নির্দেশনায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের নিয়ে একাদশ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তারেক রহমানের টেবিলে যাওয়া দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা বাংলাদেশ প্রতিদিনের হাতে এসেছে।

তালিকা অনুযায়ী—

ঢাকা-১ আবদুল মান্নান, আবু আশফাক ও ফাহিমা হোসেইন জুবলী। বৃহত্তর জোট হলে পরিবর্তন হতে পারে। ঢাকা-২ আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আবদুল হাই, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ঢাকা-৫ সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-৬ সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, কাজী আবুল বাশার, হাজী লিটন, ঢাকা-৭ নাসিমা আক্তার কল্পনা, মীর নেওয়াজ আলী, ঢাকা-৮ হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা-৯ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-১০ এম এ কাইয়ুম, ঢাকা-১১ সাইফুল আলম নিরব ও মো. শাহাবউদ্দিন, ঢাকা-১২ ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম, শেখ রবিউল আলম ও ডা. আজিজুল হক, ঢাকা-১৩ আবদুস সালাম ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা-১৪ এস এ খালেক বা তার ছেলে এ বি সিদ্দিকী সাজু, বজলুল বাসিত আঞ্জু, ঢাকা-১৫ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও মামুন হাসান, ঢাকা-১৬ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও আমিনুল ইসলাম, ঢাকা-১৭ মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী ও ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ঢাকা-১৮ মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, এস এম জাহাঙ্গীর ও বাহাউদ্দিন সাদী, ঢাকা-১৯ ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন ও মেজর (অব.) মিজানুর রহমান মিজান, ঢাকা-২০ ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, সুলতানা আহমেদ ও ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ।

মুন্সীগঞ্জ-১ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও মীর শরাফত আলী সপু। বৃহত্তর জোট হলে মাহী বি চৌধুরীও প্রার্থী হতে পারেন। মুন্সীগঞ্জ-২ মিজানুর রহমান সিনহা, মুন্সীগঞ্জ-৩ কামরুজ্জামান রতন ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত এম শামছুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম।

বাংলাদেশের বেসরকারি উচ্চ পদগুলো ভারতীয়দের দখলে

প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে আসা অনেক নাগরিক বাংলাদেশে উচ্চ পদে চাকরি করছে। যার কারণে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার বসে আছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লেখক ও ব্লগার ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য।

এ প্রসঙ্গে তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতীয়রা চাকরি করে যে রেমিট্যান্স পাঠায় তা ভারতের চতুর্থ রেমিটেন্সের উৎস। গত বছর ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে। প্রথম যে রেমিটেন্সের উৎস সংযুক্ত আরব আমিরাত সেটাও বাংলাদেশ থেকে নেয়া রেমিট্যান্সের তুলনায় ২০% বেশী।

ডাক্তার পিনাকী লিখেছেন, “তাহলে বোঝেন কত ভারতীয় নাগরিক আমাদের এখানে কাজ করছে। এরা সবাই উচ্চ পদে কাজ করে। তারা তাদের আশেপাশে প্রভাব বলয় তৈরি করে। আমাদের আরবান এলিটেরা কি এই কারণেই সবসময় গণবিরোধী ভূমিকা নিচ্ছে? ভাবনার অবকাশ আছে। এই টাকাটা বাংলাদেশে রাখা গেলে আমাদের ইকোনমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত ভাবুন।

এ প্রসঙ্গে পিনাকী ভট্টাচার্য ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সূত্র উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, “যেখানে বাংলাদেশের চাকরিপ্রার্থী যুবকরা বেকার থাকছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলনে নেমেও লাঠিপেটার শিকার হচ্ছেন, সেখানে বেসরকারি চাকরি ভারতীয়রা দখল করে নিলে আমাদের দেশের শিক্ষিত যুবকরা যাবে কোথায়?”

বাংলাদেশের চাকরিতে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগ প্রসঙ্গে এর আগেও গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, টেলিভিশন টক শো’তেও আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালেও পাঁচ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। তারা অনেকে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন এনজিও, গার্মেন্টস ব্যবসা, টেক্সটাইল ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজে নিযুক্ত হয় এবং হুন্ডির মাধ্যমে নিজ দেশ ভারতে রেমিট্যান্স প্রেরণ করে।

বিশ্বব্যাংকের ২০১২ সালের রেমিট্যান্স তথ্য থেকে জানা যায়, ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে ৩.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তাদের দেশে রেমিট্যান্স হিসেবে পাঠিয়েছে। সে হিসেবে বাংলাদেশ ছিল তখন ভারতের জন্য পঞ্চম বৃহৎ রেমিট্যান্স আয়ের উৎস। আর বাংলাদেশ থেকে রেমিট্যান্স নেয়ার তালিকা ভারতের অবস্থান হচ্ছে এক নম্বরে।

এখন সর্বশেষ হিসেবে বলা হচ্ছে- গতবছর ১০ বিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ করে দিয়ে বাংলাদেশ ভারতীয়দের জন্য চতুর্থ বৃহৎ রেমিট্যান্স আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অবৈধ পথে পাঠানো অর্থের হিসাব এর চেয়ে অরো বেশি বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

একাদশে এখনও ভর্তি হতে পারেনি ৩০ হাজার শিক্ষার্থী

চলতি শিক্ষা বর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হলেও এখনও প্রায় ত্রিশ হাজার শিক্ষার্থী কোথাও ভর্তি হতে পারেনি। তবে কলেজগুলো এখনো নিশ্চয়ন চূড়ান্ত না করায় এ বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হাতে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) নিশ্চয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা যাবে।

উল্লেখ্য গত ১ জুলাই সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হয়েছে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। তবে তিন দফায় সুযোগ দেওয়ার পরও চাহিদামত কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি প্রায় ত্রিশ হাজার শিক্ষার্থী। বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দিতে চতুর্থবারের মতো আবেদনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ভর্তি কমিটি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললে বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীকে ফের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। তবে ভর্তির যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে এসব শিক্ষার্থীর ক্লাসে বসতে আরো প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. হারুন অর রশিদ বলেন, যেসব শিক্ষার্থী এখনো ভর্তি হতে পারেনি তাদের জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ভর্তি কমিটি তাদের ভর্তির বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সম্মতির বিষয়। এ সপ্তাহের মধ্যে সেটি হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের চিন্তিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে হারুন অর রশিদ জানান, ৫ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি নিশ্চয়ন করতে কলেজগুলোকে সময় দেওয়া হয়েছে। তার আগে ভর্তি বঞ্চিতদের সঠিক হিসাব দেওয়া যাবে না। নিশ্চয়নের পর আগামী ৮ জুলাই থেকে নতুন করে বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানিয়েছে, তিন দফা ভর্তির সুযোগ দেওয়ার পরও মোট ২৮ হাজার ৬৬৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়নি। এর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯১৩ জন। তৃতীয় দফায় ভর্তির মেধা তালিকায় এক লাখ ৫ হাজার ৪১২ জন শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে,ভর্তির আবেদনের পর অনেক শিক্ষার্থী কলেজ নিশ্চয়ন করেও পরে ভর্তি হয়নি। আবার অনেকে পছন্দ অনুযায়ী কলেজ না পাওয়ায় নিশ্চয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেনি। সে হিসেবে মোট সংখ্যা ৫০ হাজারের কাছাকাছি। তবে বৃহস্পতিবার নিশ্চয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে সঠিক হিসাব জানা যাবে।

এদিকে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আসছেন নিশ্চয়নকৃত কলেজ থেকে না প্রত্যাহার করতে। বিশেষ করে রাজধানীর কিছু ব্যয়বহুল কলেজ থেকে মাইগ্রেশন বাতিল করতে প্রায় প্রতিদিনই শিক্ষার্থীরা বোর্ডের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কলেজ পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদ জানান, ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা নিদিৃষ্ট কিছু কলেজকে পছন্দ করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কেননা তারা নতুন করে আবারো ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।

ভর্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাদপড়া শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হলেও ২২ জুলাইয়ের আগে তারা ক্লাস করার সুযোগ পাচ্ছেনা। বাদপড়া এসব শিক্ষার্থী আগামী ৮ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত বোর্ড নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। আগামী ১৪ জুলাই আবেদন যাচাই-বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে। আর ১৫ জুলাই নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশিত হবে। এসব শিক্ষার্থীকে ১৬ থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন করতে হবে। নিশ্চয়ন না করলে আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যাবে। সর্বশেষ ধাপ অনুযায়ি নিশ্চয়ন করা শিক্ষার্থীরা ১৯ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে কলেজের কাজ শেষ করবেন।

প্রতিদিনের হাদিস: ব্যবসায়

হাদিস নং ৩৩২৬: কায়িস ইবনু আবূ গারাযাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমাদের (ব্যবসায়ীদের) সামাসিরাহ (দালাল সম্প্রদায় বলা হতো)। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদেরকে এই নামের চেয়ে অধিক সুন্দর নাম দিলেন। তিনি বললেনঃ হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! ব্যবসায়িক জাজে বেহুদা কথাবার্তা এবং অপ্রয়োজনীয় শপথ হয়ে থাকে। সুতরাং তোমরা ব্যবসার পাশাপাশি সাদাকাহ করে তাকে ত্রুটিমুক্ত করো।

[1]. সহীহঃ ইবনু মাজাহ (২১৪৫)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৩২৮: ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা এক লোক জনৈক ব্যক্তিকে দশ দীনার ঋণ দেয়। পরে তা আদায় করার জন্য সে ঋণ গ্রহীতার পিছনে লাগে এবং বলে, আল্লাহর শপথ! তুমি আমার পাওয়া পরিশোধ না করা অথবা জামিনদার না নিয়ে আসা পর্যন্ত আমি তোমার পিছু ছাড়বো না। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার যামিন হলেন। অতঃপর সে তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোনা নিয়ে এলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ সোনা তুমি কোথায় পেলে? সে বললো, খনি থেকে। তিনি বললেনঃ এগুলো আমাদের দরকার নেই এবং এর মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পক্ষ থেকে উক্ত ঋণ পরিশোধ করলেন।

[1]. সহীহঃ ইবনু মাজাহ (২৪০৬)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৩২৯: নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। আর উভয়ের মাঝে অনেক সন্দেহজনক জিনিস আছে। বর্ণনাকারী কখনো مُشْتَبِهَاتٌ শব্দের পরিবর্তে مُشْتَبِهَةٌ শব্দ বলেছেন। আমি তোমাদের সামনে এর উপমা পেশ করছি। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ চারণভূমি নির্ধারিত করেছেন। আর আল্লাহর নির্ধারিত চারণভূমি হচ্ছে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। যে রাখাল তার পশুগুলোকে নিষিদ্ধ এলাকার নিকটে চড়ায়, তার পশু ঐ নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে যে ব্যক্তি সন্দেহজনক জিনিসে জড়ায় সে হারামে লিপ্ত হতে পারে।

[1]. সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৯৮৪)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৩৩২: ‘আসিম ইবনু কুলাইব (রহঃ) থেকে তার পিতা থেকে (কুলাইব) গোত্রের জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক ব্যক্তির জানাযায় অংশগ্রহণের জন্য রওয়ানা হলাম। আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের কাছে দাঁড়িয়ে খননকারীকে নির্দেশ দিচ্ছেনঃ পায়ের দিকটা আরো প্রশস্ত করো, মাথার দিকটা আরো প্রশস্ত করো। তিনি সেখান থেকে ফিরতে উদ্যত হলে এক মহিলার পক্ষ থেকে দাওয়াত দানকারী এসে তাঁকে স্বাগত জানালেন। তিনি তার বাড়িতে এলে খাবার উপস্থিত করা হলো। তিনি খেতে শুরু করলে অন্যরাও খাওয়া শুরু করলো।

বর্ণনাকারী বলেন, আমাদের মুরববীরা লক্ষ্য করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারের একটি লোকমা মুখে তুলে তা নাড়াচাড়া করছেন। তিনি বললেনঃ আমার মনে হচ্ছে, বকরীর মালিকের অনুমতি ছাড়াই এটি নিয়ে আসা হয়েছে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি বকরী কিনতে বাকী নামক বাজারে লোক পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে বকরী পাওয়া যায়নি। অতঃপর আমার প্রতিবেশীর কাছে এই বলে লোক পাঠালাম যে, তুমি যে বকরীটি কিনেছো তা তোমার ক্রয়মূল্যে আমাকে দিয়ে দাও। কিন্তু তাকেও (বাড়িতে) পাওয়া যায়নি। আমি তার স্ত্রীর কাছে লোক পাঠালে সে বকরীটিা পাঠিয়ে দেয়। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ গোশত বন্দীদেরকে খাওয়াও।

[1]. সহীহঃ আহকামুল জানায়িয (১৪৩-১৪৪)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৩৩৩: ‘আব্দুর রাহমান ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (‘আব্দুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদখোর, সুদদাতা, সুদের সাক্ষী ও এর দলীল লেখক সবাইকে অভিসম্পাত করেছেন।

[1]. সহীহঃ ইবনু মাজাহ (২২৭৭)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৩৩৪: সুলায়মান ইবনু ‘আমর (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিদায় হজে (হজ্জে) বলতে শুনেছিঃ জাহিলী যুগের সব ধরণের সুদ বাতিল করা হলো। তোমরা মূলধন ফেরত পাবে। তোমরা যুলম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও যুলম করা হবে না। জাহিলী যুগের সব ধরণের হত্যার প্রতিশোধ বাতিল ঘোষণা করা হলো। আমি প্রথমেই আল-হারিস ইবনু আব্দুল মুত্তালিবের হত্যার প্রতিশোধ বাতিল ঘোষণা করছি। (বর্ণনাকারী বলেন) সে বনূ লাইসে দুধপানরত ছিলো। এমতাবস্থায় হুযাইল সম্প্রদায় তাকে হত্যা করে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? উপস্থিত জনতা বলেন, হ্যাঁ, তিনবার। তিনি তিনবার বলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।

[1]. সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩০৫৫)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ

অধ্যায়ঃ ব্যবসা-বাণিজ্য

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী

জয়পাড়া কলেজ এর জন্য সুখবর দিলেন সালমান এফ রহমান|

প্রতিবেদক শরিফ হাসানঃ এবার জয়পাড়া কলেজ এর জন্য সুখবর দিলেন সালমান এফ রহমান জয়পাড়া কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার জন্য গরীব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যেকে ২০০০/= হাজার করে টাকা অনুদান প্রদান করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা (দোহার-নবাবগঞ্জ,ঢাকা-১ আসন) জননেতা জনাব সালমান এফ রহমান, তার পক্ষে এই অনুদান ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করেন দোহার উপজেলা পরিষদ এর সুযোগ্য মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব আলমগীর হোসেন।

মাহমুদপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সোস্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন ‘আলোকিত আগামী’ ঢাকার দোহারের মাহমুদপুর ইউপির হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে। শুক্রবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসকরা প্রায় ২ শতাধিক মানুষ ফ্রি ডায়াবেটিক পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতাবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করেন এ সময়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডা. সাকির ইব্রাহীম, ডা. মাহমুদা আক্তার, রহমান আরিফ, মলিনা মঞ্জুর, আজহারুল হক, গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।

প্রতিদিনের হাদিস: রাসুল (স) এর বানী

হাদিস নং ১/১: উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘যাবতীয় কার্য নিয়ত বা সংকল্পের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষের জন্য তাই প্রাপ্য হবে, যার সে নিয়ত করবে। অতএব যে ব্যক্তির হিজরত (সবদেশত্যাগ) আল্লাহর (সন্তোষ লাভের) উদ্দেশ্যে ও তাঁর রাসূলের জন্য হবে; তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই হবে। আর যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব সম্পদ অর্জন কিংবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যেই হবে, তার হিজরত যে সংকল্প নিয়ে করবে তারই জন্য হবে।”

এই হাদীসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ ও ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ এটিকে ‘এক তৃতীয়াংশ অথবা অর্ধেক দ্বীন’ বলে অভিহিত করেছেন।

এটিকে ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর গ্রন্থ সহীহ বুখারীতে সাত জায়গায় বর্ণনা করেছেন। প্রত্যেক স্থানে এই হাদীসটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হল কর্মের বিশুদ্ধতা ও কর্মের প্রতিদান নিয়তের সাথে সম্পৃক্ত—সে কথা প্রমাণ করা।

সহীহুল বুখারী হাদীস নং ১, ৫৪, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩, মুসলিম ১৯০৭, তিরমিযী ১৬৪৭, নাসায়ী ৭৫, ৩৪৩৭, ৩৭৯৪, আবূ দাউদ ২২০১, ইবনু মাজাহ ৪২২৭, আহমাদ ১৬৯, ৩০২।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২/২: উম্মুল মু’মেনীন উম্মে আব্দুল্লাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘একটি বাহিনী কা‘বা ঘরের উপর আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে বের হবে। অতঃপর যখন তারা সমতল মরুপ্রান্তরে (বাইদা) পৌঁছবে তখন তাদের প্রথম ও শেষ ব্যক্তি সকলকেই যমীনে ধসিয়ে দেওয়া হবে। তিনি (আয়েশা) বলেন যে, আমি (এ কথা শুনে) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তাদের প্রথম ও শেষ সকলকে ধসিয়ে দেওয়া হবে? অথচ তাদের মধ্যে তাদের বাজারের ব্যবসায়ী এবং এমন লোক থাকবে, যারা তাদের (আক্রমণকারীদের) অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বললেন, তাদের প্রথম ও শেষ সকলকে ধসিয়ে দেওয়া হবে। তারপর তাদেরকে তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত করা হবে।’’

সহীহুল বুখারী ২১১৮ মুসলিম ২৮৮৪, শব্দগুচ্ছ বুখারীর।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩/৩: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মক্কা বিজয়ের পর (মক্কা থেকে) হিজরত নেই; বরং বাকী রয়েছে জিহাদ ও নিয়ত। সুতরাং যদি তোমাদেরকে জিহাদের জন্য ডাক দেওয়া হয়, তাহলে তোমরা (জিহাদে) বেরিয়ে পড়।’’

‘মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নেই’ এর অর্থ এই যে, মক্কা এখন ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হল। ফলে এখান থেকে মুসলিমরা আর হিজরত করতে পারবে না।

সহীহুল বুখারী ৩০৮০, ৩৯০০, মুসলিম ১৮৬৪

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪/৪: আবূ আবদুল্লাহ জাবের ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘‘আনহু বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক অভিযানে ছিলাম। তিনি বললেন, ‘‘মদ্বীনাতে কিছু লোক এমন আছে যে, তোমরা যত সফর করছ এবং যে কোন উপত্যকা অতিক্রম করছ, তারা তোমাদের সঙ্গে রয়েছে। অসুস্থতা তাদেরকে মদ্বীনায় থাকতে বাধ্য করেছে।’’ আর একটি বর্ণনায় আছে যে, ‘‘তারা নেকীতে তোমাদের অংশীদার।’’

সহীহুল বুখারী ২৮৩৮, ২৮৩৯, ৪৪২৩, ইবনু মাজাহ ২৭৬৪।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৫/৫: সহীহ বুখারীতে আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘‘আনহু থেকে এরূপ বর্ণনা রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাবূক অভিযান থেকে আমাদের প্রত্যাবর্তনকালে তিনি বললেন যে, ‘‘আমাদের পিছনে মদীনায় এরূপ কিছু লোক আছে যারা প্রত্যেক গিরিপথ বা উপত্যকা অতিক্রমকালে আমাদের সাথে রয়েছে। বিশেষ ওজর তাদেরকে ঘরে থাকতে বাধ্য করেছে।’’

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

৬/৬। আবূ ইয়াযীদ মা‘ন ইবনু ইয়াযীদ ইবনু আখনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু – তিনি (মা‘ন) এবং তাঁর পিতা ও দাদা সকলেই সাহাবী—তিনি বলেন, আমার পিতা ইয়াযীদ দান করার জন্য কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা বের করলেন। অতঃপর তিনি সেগুলি (দান করতে) মসজিদে একটি লোককে দায়িত্ব দিলেন। আমি (মসজিদে) এসে তার কাছ থেকে (অন্যান্য ভিক্ষুকের মত) তা নিয়ে নিলাম এবং তা নিয়ে বাড়ী এলাম। (যখন আমার পিতা এ ব্যাপারে অবগত হলেন তখন) বললেন, আল্লাহর কসম! তোমাকে দেওয়ার নিয়ত আমার ছিল না। (ফলে এগুলি আমার জন্য হালাল হবে কি না তা জানার উদ্দেশ্যে) আমি আমার পিতাকে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, ‘‘হে ইয়াযীদ! তোমার জন্য সেই বিনিময় রয়েছে যার নিয়ত তুমি করেছ এবং হে মা’ন! তুমি যা নিয়েছ তা তোমার জন্য হালাল।’’

সহীহুল বুখারী ১৪২২, আহমাদ ১৫৪৩৩, ১৭৮১১, দারেমী ১৬৩৮।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন

অধ্যায়ঃ বিবিধ

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

মদিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত; আহত নবাবগঞ্জের একজন

মদিনায় মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত শেষে দেশে ফিরে আসতে মদিনা থেকে জেদ্দা এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ জন। এই নয় জন ওমরা হজ্জ যাত্রীর মধ্যে একই পরিবারের ৪ জন ছিল। আহতদের মদিনা মালিক ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা আইসিওতে রয়েছেন। আহতদের মাঝে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার একজন রয়েছেন

মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জেদ্দা এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে মদিনা থেকে দুইশত কিলোমিটার পথ অতিক্রম হওয়ার পর তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের চাকা বিস্ফোরিত হলে গাড়িটি  উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার মিরপুরের পুরাতন কচুক্ষেতের জুলহাস (৫০), ঢাকার মোহাম্মদপুরের রাশেদ (৬৫) ও  গোপালগঞ্জের আবুল বাশার (৬০)।

আহতরা হলেন রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার এস এম আবুল খায়ের (৪১), মোহাম্মদপুরের তারিফ ইরতিজা (১২), মোমতাহিন ইসলাম (১৮) ও মোসতারা আক্তার (৪৩), ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নাজমুল (৩৯) এবং মানিকগঞ্জের শফিউল আলম (৩৬)।

এনজাল ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তারা ওমরা করতে আসেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটা সৌদি এয়ারলাইনস করে দেশে যাওয়ার কথা ছিল হতাহতদের।

নবাবগঞ্জে জ্বালানি বিষয়ক প্রতিযোগিতা

ঢাকার নবাবগঞ্জে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানির দক্ষতা ও জ্বালানি সংরক্ষণের করণীয় শীর্ষক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আয়োজনে নবাবগঞ্জ পাইলট গার্লস উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় হলরুমে এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এসজিএম অসীম কুমার দাশ, অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, সাইদুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বেপারি প্রমুখ।