কলাগাছ ফেলে নবাবগঞ্জে সড়কে ডাকাতি

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ ‍উপজেলায় ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাকাত দল ৬ জনকে কুপিয়ে আহত করে। এছাড়া সংঙ্গে থাকা নগদ প্রায় ষাট হাজার টাকা ও পরনে থাকা প্রায় এক ভরি স্বর্ণাংকার এবং ৪টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) ভোরে উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের রাহুতহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী আহত নাদিম মোল্লা বলেন, আমার ভাই খোকন মোল্লা একজন হার্টের রোগী। সে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিদেশে থাকতো। অসুস্থ থাকার ফলে সে দেশে এসেছে। বুধবার গভীর রাতে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পরে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই তাকে ঢাকা নিয়ে যাবো। যেহেতু রাত গভীর আর এসময় প্রাইভেটকার ও পাওয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা ভোরের দিকে একটা অটোরিকশা করে বান্দুরা যাবো আর সেখান থেকে গাড়ি ভাড়ি করে ঢাকা যাবো এমন সিদ্ধান্ত নিই। অবস্থা গুরুতর দেখে রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে আমরা রওনা হই। রাহুতহাটি এলাকার পারিবারিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আসার পর দেখতে পাই একটা কলাগাছ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সেজন্য আমি গাড়ি থেকে নেমে যখনই কলাগাছটি সড়াতে যাবো রাস্তার পাশে লুকিয়ে থাকা ৭-৮ জন মুখোশধারী লোক আমার উপর আক্রমন করে এবং চাপাতি দিয়ে হাতে কুপ দেয়। আর গাড়িতে থাকা আমার বোন, ভাবি, ভাইকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নগদ ৬০ হাজার টাকা, আমার বোন ও ভাবির গলার চেইন, কানের দুল এবং ৪ টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

পরে আমরা আহত অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতাল বান্দুরা মুক্তি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২জনকে ঢাকা পাঠানো হয়। আমরা এই ছিনতাইয়ের বিচার চাই।

আহতরা হলেন, শৈল্যা গ্রামের মৃত বিল্লাল মোল্লার ছেলে খোকন মোল্লা (৬০) তার স্ত্রী রাহেলা বেগম (৩৫), ছেলে রায়হান মোল্লা (১৬), তার ভাই নাদিম মোল্লা (৪৫), বোন মনোয়ারা বেগম (৫০), ইজিবাইক চালক রাজু (৩০)।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। খুব শীঘ্রই ছিনতাইকারীদেরকে ধরা হবে। আর এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।

জোড়াতালিতে সড়ক সংস্কার ফুঁসে উঠেছেন দোহার-নবাবগঞ্জ বাসী

ঢাকা-নবাবগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর সড়ক (জেডকেডি) প্রশস্তকরণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। ৪৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ আগামী ২১ ফেব্রুয়ারিতে শেষ করার কথা থাকলেও গত তিন মাসে হয়েছে মাত্র ২-৩ কিলোমিটার কাজ।

আবার কাজ হচ্ছে জোড়াতালি দিয়ে। ধীরগতির কাজের পাশাপাশি যেনতেনভাবে কাজ করায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রোববার জড়ো হয়ে সড়কের পাশে নির্মিত গার্ডার লাথি মেরে ভেঙে ফেলেছে। বেইজমেন্ট তৈরি করে গার্ডার নির্মাণ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করেনি।

এছাড়া নামকাওয়াস্তে সিমেন্ট ব্যবহার করে বালুর ওপর ইট বসিয়ে গার্ডার নির্মাণ করা হচ্ছিল। নাম প্রকাশ না করে সওজের এক কর্মকর্তাও নিম্নমানের কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন। সওজের তত্ত্বাবধানে হাইটেক প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণের এই কাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই সড়ক। গত তিন মাস ধরে কাজ শুরু হলেও সড়ক নির্মাণে অবহেলা ও অনিয়মের বিষয়টি সবারই নজর কাড়ছে। বাজার ও নিচু এলাকায় কাজ শুরু করলেও রাতের আঁধারে নিুমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল।

তারা বলছেন, কাজ শুরুর আগে স্থানীয় এমপি সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম সংশ্লিষ্টদেরকে গুণগত মান বজায় রেখে সড়ক সংস্কারের কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত সভায় সালমা ইসলাম এমপিকে সওজের মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গুণগত মান বজায় রাখার অঙ্গীকারও করেছিলেন।

কথা হয় নবাবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সাহিদুল হক খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বেইজ না করেই রাস্তার ওপর থেকে সড়কের দুই পাশে দেয়াল (গার্ডার) নির্মাণ করা হচ্ছিল। সড়কের ওপর ইট বসিয়ে সামান্য সিমেন্ট দিয়ে বালু ঢেলে তৈরি করা হচ্ছিল এই গার্ডার। জনগণের পায়ের চাপেই এগুলো ধসে পড়ছে। অপচয় কাকে বলে!

নবাবগঞ্জ বাজার পয়েন্টে শহীদ মিনারের সামনে ও নিমতলায় গিয়ে দেখা যায়, হালকা চাপেই রাস্তার দুই ধারে নির্মিত গার্ডার ভেঙে যাচ্ছে। রাস্তা যতটা প্রশস্ত করার কথা ছিল বিভিন্ন স্থানে সেখানে ছাড় দেয়া হয়েছে। ফলে রাস্তা সরু হওয়ার পাশাপাশি অনেক জায়গায় সড়ক বাঁকা হয়ে গেছে। ফলে বিপুল অর্থে সড়ক প্রশস্তকরণের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও যান চলাচলে দুর্ভোগ থেকেই যাবে।

পরিবহন ব্যবসায়ী আবদুল জলিল বলেন, যেভাবে কাজ হচ্ছে তাতে দুর্ভোগ রয়েই যাবে। সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া কোনো উন্নয়ন দেখছি না। রাস্তায় বড় বড় গর্ত থাকায় গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।

নিম্নমানের কাজ ও কাজের ধীরগতি নিয়ে কথা হয় হাইটেক প্রতিষ্ঠানটির তদারককারী প্রকৌশলী তুষার সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, কাজের মান ঠিক রেখেই সব করা হচ্ছে। তবে এত বড় ব্যস্ত সড়কে কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা হতেই পারে। আমরা সব দেখে দ্রুত কাজটি সমাপ্ত করার চেষ্টা করব।

উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়কে কাজ হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সওজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে রাতের আঁধারে দায়সারা কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ম্লান করতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঠিকাদার গুণগত মান বজায় না রেখেই কাজ করছে। তিনি কাজের মান বজায় রেখে দ্রুত তা শেষ করার দাবি জানান।

জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথের মুন্সীগঞ্জ রেঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আলম বলেন, সিডিউলের বাইরে কেউ কাজ করতে পারবে না। এমনটি হলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই আমরা ঠিকাদারকে সঠিক সময়ে মানসম্পন্ন কাজ করার তাগিদ দিয়েছি। তবে অনিয়ম বা অবহেলা করলে কেউ ছাড় পাবে না।

দোহারে সাবেক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা

ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা সাতভিটা এলাকায় লন্ডন প্রবাসী সাবেক ছাত্রদল নেতা এমদাদুলের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে কে বা কারা হামলা করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে এমদাদুলের  পরিবারের সদস্যরা যে যার মতো ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত এমদাদুলের ভাই ওবায়দুলের ঘরে প্রবেশ করে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের সব আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা টের পেয়ে চিৎকার করলে তাদের ঘরেও প্রবেশ করে একই ঘটনা ঘটায়। এ সময় ওবায়দুলের ভাই রফিক, শহিদুলসহ পরিবারের কয়েকজনকে দুর্বৃত্তরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা এমদাদুলের ভাই ওবায়দুলকে বলে তার ভাই এমদাদুল বাড়িতে এলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবো। যাবার সময় তারা পরিবারের লোকজনকে ওই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেন। এ ঘটনার পর এমদাদুলের পরিবার সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে এমদাদুলের ছোট ভাই ওবায়দুলের সঙ্গে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনা কারা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত না হতে পারলেও রাজনৈতিক প্রতিহিৎসামূলক কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এলাকাবাসী এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে মুখ খুলতে চায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এমদাদুলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় দোহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার কথা রয়েছে।

ভাঙ্গছে দোহারের মৈনট ঘাট

ঢাকার দোহারের মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট প্রবল নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। যার ফলে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এই পর্যটন এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, শ্রমিক, সড়ক ও নৌযান পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন এবং এলাকাবাসী চরম উৎকণ্ঠায় মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, মৈনট ঘাট এলাকার তীর সংরক্ষণ ও ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না করলে অচিরেই পদ্মা নদীতে হারিয়ে যাবে এই পর্যটন এলাকাটি। ফলে বেকার হয়ে পড়বেন কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর এ ঘাট থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়, কিন্তু ভাঙন রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ফলে কোনো নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই ঘাট মালিকরা তাদের ইচ্ছামতো দোকানপাট তুলছে। এ ছাড়া ঘাটের পাশেই ইট বালুর ব্যবসার কারণে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে।

মৈনট ঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত সময়ে পদ্মার ভাঙনে তাদের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। কোনোমতে এলাকায় ব্যবসা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে আছেন। চলমান মৌসুমে পদ্মায় স্রোতের বেগ বাড়ার ফলে নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। কখন যে তাদের দোকান নদীতে চলে যায় তা নিয়ে চিন্তিত। ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকান ও স্থাপনা নদীতে পতিত হয়েছে।

মৈনট ঘাটের হোটেল ব্যবসায়ী মামুন বলেন, এক সময় আমাদের প্রচুর জমি ছিল যা এখন পদ্মার গর্ভে। বিনোদনের জন্য এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি করি। আমরা সরকারে কাছে দাবি জানাই, পর্যটন এলাকাটিকে পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা করা হোক।

এদিকে ঘাট মালিকরাও প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। হুমকির মুখে এ পর্যটন এলাকাটিকে রক্ষা করতে সরকারের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা করা।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, মৈনট ঘাটের ভাঙনের বিষয়টি আমি শুনেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ মৌসুমে ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। আগামী শুকনো মৌসুমে ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করলে হয়তো ভাঙনরোধ করা যেতে পারে। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

মৈনট ঘাটের ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা করা না হলে প্রতি বছর সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। এ ছাড়া মিনি কক্সবাজার সংলগ্ন নারায়ণপুর, চরকুসুমহাটি গ্রামসহ প্রায় ৬/৭টি গ্রাম পদ্মার গর্ভে চলে যাবে। বাড়বে ভূমিহীন কৃষক ও শ্রমিকের সংখ্যা।

ঢাকার নবাবগঞ্জ মাদক বিরোধী অভিযানে

এলাকার চিহ্নিত দুই মাদক ব্যবসায়ীকে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে সংবাদ পাওয়া যায়। এসময় গ্রেফতারকৃত দুই মাদক ব্যবসায়ীর সাথে থাকা ৫৬৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ শাহিন (২৫), পিতা-মিরাশ বেপারী, সাং-বাহ্রা চরকান্দা ও বাদল খান (৫৫), পিতা-মৃত রহিম খান, সাং-উত্তর চৌকিঘাটা, নবাবগঞ্জ।

তাদের সন্ধ্যা ৭.৪০ মিনিটে নবাবগঞ্জ থানার এসআই/ মোঃ আরাফাত হোসেন, এসআই/ সফিকুল ইসলাম, এসআই/ মোহাম্মদ আল আমিন, এএসআই/ মোঃ সুজন মিয়া, এএসআই/ হাসানুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নবাবগঞ্জ থানাধীন কোমরগঞ্জ এলাকার ঢাকা পল্লী বিদ্যু সমিতির গোডাউনের সামনে পাকা রাস্তার উপর এবং উত্তর চৌকিঘাটা কালভার্ট সংলগ্ন থেকে আসামী বাদলকে ৫৬৯  পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আসামীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন হয় বলে জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ । উক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলা রুজু করা হয়ছে। যাহার মামলা নং-১৫, ধারা-১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ৯(খ)।

বৃষ্টিতে দোহার-নবাবগঞ্জের জনজীবন স্তব্ধ

বৃষ্টিতে দোহার নবাবগঞ্জ এ জনজীবনে দেখা দিয়েছে নাভিশ্বাস। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা আর যানজটে হাবুডুবু খাচ্ছে স্কুল কলেজ ও এলাকাবাসীরা। গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাত থেকে কখনও গুঁড়িগুঁড়ি, কখনও ভারী বৃষ্টি, আবার কখনও দমকা হাওয়া বইছে। বর্ষার এই রূপ প্রকৃতিপ্রেমীরা উপভোগ করলেও এলাকাবাসীর জন্য যেন এটা যন্ত্রণা!

বৃষ্টির জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের আরো। গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাত থেকেই ঢাকার রাজধানীসহ দোহার নবাবগঞ্জ বৃষ্টি হচ্ছে। এতে তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ কারণে বেড়েছে ভোগান্তি। দোহার নবাবগঞ্জ জুড়ে বৃষ্টির পানির জ্বলাবদ্ধতায়  এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগ অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।

দোহার-নবাবগঞ্জ

দোহার নবাবগঞ্জ এ সামান্য বৃষ্টি হলেই তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে দেখা দেয় দুর্ভোগ। কোথাও কাদামাটি, আবার কোথাও হাঁটুপানি। চিরচেনা দোহার নবাবগঞ্জ  তখন রূপ নেয় এক ভিন্ন নগরীতে।

এসময় দোহার লটাখোলার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন যে একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পর্যন্ত বৃষ্টির পানি জমে যায় বাড়ির সামনে আর এই পানি সরার জন্য আমাদের এখান দিয়ে ড্রানের ব্যবস্থা থাকলে আমরা এই বৃষ্টির পানির জ্বালাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে পরবো। আবার এই বৃষ্টির কারনে নবাবগঞ্জ বাজারে যানজটও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ অটো চালকদের। এছাড়া দোহারে মেঘুলা বাজার, জয়পাড়া বাজার, থানামোড়, কাতিৃকপুর বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির কারনে যানজট বেড়ে গেছে বলে অটো, রিস্কা, মোটরসাইকেল চালদের অভিযোগ এই যানজট এর কারনে স্কুল ও কলেজ এর ছাত্র-ছাত্রীরা ও পড়েছে ভোগান্তিতে।

দোহার-নবাবগঞ্জ

পুরো কেরানীগঞ্জই যেন ময়লার ভাগাড়  

কেরানীগঞ্জ জুড়ে ময়লা আবর্জনার স্তূপ বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। ফলে কেরানীগঞ্জের অনেক এলাকার জনস্বাস্থ্য বিপন্ন হওয়ার পথে। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা কেরানীগঞ্জ থেকে ময়লা আবর্জনা সম্প্রসারণের কথা থাকলেও, এসব আবর্জনা প্রধান সড়কেই ফেলা হচ্ছে। এ অবস্থায় কেরানীগঞ্জবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শুভাঢ্যা, আগানগর, জিনজিরা, কালিন্দী, বন্দডাকপাড়া, বাস্তা ইউনিয়নসহ প্রায় সবক’টি ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়কে ময়লা আবর্জনার স্তূপ তৈরি করে রেখেছে পাহাড় সমতুল্য। কেরানীগঞ্জকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ কার্যক্রম প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আর এসব ময়লা আবর্জনাই ফেলা হচ্ছে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে ও আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ফাঁকা স্থানে। দুর্গন্ধে এসব এলাকায় নাকে মুখে রুমাল চেপে চলতে হয়। আর বৃষ্টি হলে তো ওই সব রাস্তায় চলাই দায় হয়ে গড়ে। দুর্গন্ধে ওইসব এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় নিঃশ্বাস নেয়া কষ্টকর। অধিকাংশ বাসাবাড়ির দরজা জানালা সারাদিনই বন্ধ রাখতে হয়।

উপজেলার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের বাসিন্দা আতাহার আলী জানায়, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে মাসকি চুক্তিতে ৭০ থেকে ১০০ টাকা দিতে হয়। কিন্তু এতে কোন সুফল পাচ্ছি না। বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করে আশপাশে কোন ফাঁকা জায়গায় বা সড়কের পাশেই ফেলে রাখা হয়।এতে ভোগান্তি আরো বাড়ে চলছে।

উপজেলা কমিশনার পারভেজুর রহমান (ভূমি অফিসার) জানায়, জিনজিরা, দোহার, নবাবগঞ্জ ও বান্দুরার হাজার হাজার মানুষ কেরানীগঞ্জ উপজেলার কোনাখোলা সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। জিনজিরার আগে বন্দডাক পাড়া  ময়লার স্তূপের জন্য প্রায়ই যানজট লেগে থাকে আর দুর্গন্ধ তো আছেই।

এছাড়াও চুনকুটিয়া, খেজুরবাগ, আগানগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপজেলার আর অনেক সড়কেই ময়লার স্তূপ দেখা যায়। অতি দ্রুতই এসব ময়লা আবর্জনা সম্প্রসারণ করে, ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী স্থান নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচনের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে: মওদুদ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনের আগে তার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

বুধবার (২৫ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স ‘চেতনায় বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। চেতনায় বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের আয়োজিত রি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেতনায় বাংলাদেশের সভাপতি ও দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম।

মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচনের সময় নির্দলীয় সরকার থাকতে হবে যাদের নির্বাচনের ফলাফলে তাদের কোনো স্বার্থ থাকবে না। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে, তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি দিতে হবে। আর নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। খুলনা ও গাজীপুরে এখনকার নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করেছে তাদের দিয়ে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আগামী তিনটি সিটি নির্বাচনেও সেটা প্রমাণিত হবে।

বড় পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনা ‘ভোটারবিহীন সরকারের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ’ মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, হঠাৎ করে আবিষ্কার হলো, কয়লা উধাও হয়ে গেছে, আকাশে মিশে গেছে। এর চাইতে বড় কেলেঙ্কারি আর কিছু হতে পারে না। আজকে দেশে সত্যিকারের জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলে প্রতিটি ইস্যুতে তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হতো। অন্য কোনো গণতান্ত্রিক সভ্য দেশ হলে এ ঘটনায় সরকার পদত্যাগ করে চলে যেত।

সাবেক আইনমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, আজকে দেশে আইনের প্রয়োগ দুই রকমের। সরকারি দল যারা করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ হয় না। আর যারা সরকারের বিরোধিতা করেন, তাদের বিরুদ্ধে সেই আইনের অপপ্রয়োগ করা হয়। আমরা যারা বিরোধী দল করি, তারা এখন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। আর সরকারি দল যারা করেন তারা প্রথম শ্রেণির নাগরিক।

আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি সরকারের সমালোচনা করেন, এটাই তার অপরাধ। এই আক্রমণ বাকস্বাধীনতার ওপর আক্রমণ, সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ। শফিক রেহমান, আসিফ নজরুলসহ আরও কয়েকজনের নাম আজকে এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তারাই মাত্র কয়েকজন আছেন। বাকিরা শেষে হয়ে গেছেন। বুদ্ধিজীবী বলে যারা আগে দাবি করতেন, তারা শেষ হয়ে গেছেন। তারা এখন সেবাদাসে পরিণত হয়েছেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শামীমা রহিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ক‌র্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, মুক্তিযোদ্ধা দলের আবুল হোসেন, কৃষক দলের শাহজাহান মিয়া সম্রাট, জাহাঙ্গীর আলম, নাগরিক দলের সভাপতি সৈয়দ ওমর ফারকসহ অন্যরা।

মৈনটের মাছের হাট

ঢাকার দোহার উপজেলার মিনি কক্সবাজার খ্যাত পদ্মার তীরবর্তী মৈনটঘাটে জমে উঠেছে মাছের হাট। ছোট, বড় সব ধরনের মাছই পাওয়া যায় এ হাটে । কম মূল্যে মাছ কিনতে অনেকেই আসছেন এ হাটে। আর বিক্রি ভালো হওয়ায় অনেক কিক্রেতাও আসছেন।

 ভোঁরের আলো ফোঁটার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মার পাড়ে ভিড়ে ছোট বড় সারি সারি নৌকা। তার পর কেউ খালই, কেউ ছোট ডালা, কেউ ঝাকা আবার কেউবা ককসীটের বাক্সে থাকা মাছ মাথায় নিয়ে নৌকা থেকে নেমে আসছেন হাটে। এদিকে পদ্মার পাড়ে মাছ কেনার জন্য অপেক্ষায় থাকে দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকার শত শত ক্রেতা।

তবে এই হাটে ছোট মাছ যেমন তেমন বড় কোন মাছ আসলেই তা কিনতে যেন মরিয়া হয়ে উঠে সবাই।

সেখানে চোখে পরে বড় একটি রুই মাছ। সদ্য পদ্মার মৈনটঘাট পয়েন্ট থেকে মাছটি এক জেলের জালে ধরা পরে। যা বিক্রি করার জন্য মৈনটঘাটের আরতদার সোহান মৃধার আরতে এনে ডাকে তোলার জন্য রাখে। মাছটি রাখতেই আরতদার মাছটি মূল্যে জেনে প্রথমেই ডাক তোলে পাঁচ হাজার টাকা। যা পাইকারদের মধ্যে থেকে লটাখোলা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সুকুমার আট হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয় করে। জানা যায়, উপজেলার লটাখোলা নতুন বাজারে গিয়ে এই মাছটি বিক্রি করা হবে অন্তত ১৩ হাজার টাকা।

একই চিত্র পাশের আরেকটি আরত আবুল কাশেম মেম্বারের আরতে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সামাদ মেম্বার তিনটি ছোটবড় বোয়াল মাছের দাম আরতে ডাক দেয় আট হাজার টাকা যা পাইকাররা ৯ হাজার টাকায় ক্রয় করে। জানা যায এই আরতে কয়েক মাস আগে পদ্মার একটি বাঘাইর মাছ বিক্রির জন্য আনা হয়। যা ক্রয় করে এক ক্রেতা মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে যায়। যেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ আলোচিত হয় এবং ওই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়।

এ বিষয়ে কথা হয় মাছ কিনতে আসা দক্ষিণ জয়পাড়া এলাকার মো. মনিরের সঙ্গে। তিনি জানান, ঢাকায় থাকা বড় বোনের জন্য মাছ কিনতে এসেছেন।

তিনি বলেন, এখানে দেশি নানা প্রকারের ছোট মাছ ও পদ্মার আইর, বাঘাইর, রুই ও বড়  বোয়াল মাছ পাওয়া যায়। যা দোহারের অন্য বাজারের তুলনায় একটু ব্যতিক্রম। বড় বোন দেশি ছোট মাছটা পছন্দ করে তাই এ মাছের হাট থেকেই কয়েকমাস পর পর মাছ কিনতে আসি। এছাড়া কথা হয় শ্রীনগর জগন্ন্যাতপট্টি এলাকার কাপর ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, এই মাছের হাট থেকে আমি মাঝেমধ্যেই মাছ কিনে থাকি। দামটাও আমাদের বালাসুর বাজার থেকে কম। তাই এখান থেকে দেখে শুনে ভাল মাছ কিনা যায়।

এ বিষয়ে মাছের আরতদার রশীদ দেওয়ান বলেন, আমাদের পদ্মার পারের এই হাটট আজ থেকে অন্তত ৫০ বছর আগে হয়েছিল। তখন আজকের হাটটি এখান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল। পদ্মার ভাঙ্গনের স্বীকার হয়ে তা বর্তমানে এখানে এসেছে। এই ঐতিহ্যবাহী মাছের হাটটি প্রতিষ্ঠা করেন ডা. আজিজ। পরে বিরিন ও নিহা নামে দুই ব্যক্তি যুক্ত হন হাটটির আরতদার হিসেবে। তখন মাছের হাটটি ছিল চর পুরুলিয়া এলাকায়। কিন্তু বর্তমানে হাটটি অবস্থিত মাহমুদপুর এলাকার পদ্মার তীরবর্তী মৈনটঘাটে । বর্তমানে ২০ জন আরতদার দ্বারা পরিচালিত হয় এই মাছের হাট। ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চলে পুরোদমে এই মাছের হাট।

জানা যায়, মানিগঞ্জের, হাতিঘাটাচর, ধলুস্বুরা, মনিপুর, কবিরপুর, ফরিদপুরের, চরভদ্রশন, শালিপুর, শয়তানখালি, হাজীগঞ্জ, দোহারের নারিশা, নারিশা জোয়ার, মেঘুলা, মধুরচর, বিলাসপুর, হাজারবিঘা, মাহমুদপুর, নয়াবাড়ির বাহ্রা, ধোয়াইর ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন  এলাকা থেকে প্রতিদিন ভোর থেকে সকালের আলো ফোটা পর্যন্ত সারি সারি ছোট-বড় অন্তত দের শতাধিক নৌকা ভিড়ে এই মাছের হাটে। এ হাটকে প্রথমে দেখলে মনে হবে কোন মেলা চলছে এখানে।

এই হাটে দোহার উপজেলাসহ পার্শবর্তী নবাবগঞ্জ, শ্রীনগর ও নদীর ওপার ফরিদপুরের কয়েকটি এলাকার শত শত মানুষ আসে এই ঐতিহ্যবাহী পদ্মা নদীর তীরবর্তী মৈনটঘাটের মাছের হাটে। তবে সপ্তাহের সাতদিনের মধ্যে শুক্র ও শনিবার সরকারি বন্ধ থাকায় পদ্মা নদীর কোল ঘেষে গড়ে ওঠা মৈনটঘাটের এই মাছের হাটে দোহার-নবাবগঞ্জ ছাড়াও শ্রীনগর কেরানীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ আসে দৈনন্দিক জীবনে খাদ্যের তালিকায় থাকা মাছ কিনতে।

সফল নার্সারী ব্যবসায়ী দোহারের মোতালেব শেখ

নার্সারীর ব্যবসা করে নিজের ও পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন ঢাকার দোহার উপজেলার উত্তর ইউসুফ গ্রামের মৃত শেখ আনিছের ছেলে মোতালেব শেখ। নার্সারীর করে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সবার পরিচিত মুখ তিনি। এক সময়ে অর্থ কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করলেও স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে স্বচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছেন। ১৯৭৭ সালে দিকে মোতাবেল শেখের বয়স তখন ২০ অথবা ২১ বছর। বাড়ির জমিতে গাছ লাগানোর জন্য স্থানীয় জয়পাড়া হাটে যান কিছু ফলজ ও বনজ গাছ কেনার জন্য। ৩০টি চারা দরদাম করার পর বিক্রেতা সবগুলো চারা গাছ তাকে অল্প দামে দিয়ে যান। মোতালেব শেখ সেই চারা ১ হাজার টাকা বিক্রি করার পরও বাদবাকি চারা গাছ বাড়িতে এনে রোপন করেন।

এরপর থেকে কিছু দিন অন্যের কাছ থেকে চারা গাছ কিনে এনে বিক্রি করতে থাকেন। আর ফাঁকে ফাঁকে জেনে নেন নার্সারী করার নিয়ম -কানুন। ১৭৭৯ সালে বাড়ির পাশে এক একর ও গাজী কান্দা এলাকায় ৪০ শতাংশ জমিতে শুরু করেন নার্সারী ব্যবসা। এরপর আর মোতালেব শেখকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দোহার উপজেলা বনায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ৪০ বছর ধরে নিজের হাতে চারা তৈরি করে সরবরাহ করছেন দোহার উপজেলা সহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি জেলায়।

অনেকেই মুগ্ধ হয়েছেন তার হাতে গড়া সবুজের সমারোহ দেখে। আবার কেউ কেউ মোতালেব শেখের মত নার্সারী করে স্বাবলম্বী হবার চেষ্ট করছেন। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে।

মোতাবেব শেখ জানান, প্রথম দিকে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে নার্সারীর পেছনে। অভিজ্ঞতার কারনে এখন আর খুব বেশি চিন্তা করা লাগে না। তার নার্সারীতে ৩ জন শ্রমিক রয়েছে । তারাই নার্র্সারীর পরিচর্যা করে থাকেন। বীজ থেকে চারা তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে পলিব্যাগে মাটি প্রস্তুতু করে বীজ অথবা চারা রোপন করতে হয়। এ জন্য মাটিতে পরিমিত টিএসপি, গোবর, পটাস, খৈল দিয়ে ১ সপ্তাহ রাখতে হয়। সাধারণত ফুল, ফল ও পাতাবাহার গাছ ২০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠে। ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরনের গাছের চারাই এখানে পাওয়া যায়। বীজের মাধ্যমে ও কলম এই দুই ধরনের চারা সাধারণত উৎপাদিত হয়ে থাকে । প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা করা হয় এ নার্সারী থেকে উৎপাদন করে বিক্রি করা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে আম, জাম, লিচু, জামরুল, আমড়া, পেয়ারা, জলপাই, কতবেল, আমলকি, লেবু, মাল্টা, বড়ই, কামরাঙ্গা, ডালিম ইত্যাদি। এছাড়া ফুলের গাছগুলো

ফুলের মধ্যে রয়েছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, বেলী, হাসনাহেনা, বকুল, শিউলী, গাধা, গন্ধরাজ, মোসেন্ডা, টগর, জুঁই, কচমু, সিলপিয়া, ডালিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা। বনজ গাছের মধ্যে রেইনট্রী, মেহগনী, আকাশমনী, চাম্মুল, নারকেল, সুপারী, লাম্মু ইত্যাদী। ওষুধি গাছ রয়েছে নিম, হরতকি, বয়রা, অর্জুন, এলোভেরা ইত্যাদি।

চারা উৎপাদন আর বিক্রি করে বছরে বেশ ভাল আয় হবে থাকে। মোতালেবের সংসারে এখন কোন অভাব নেই। এক সময়ের অভাব অনটনের সংসারে ফিরে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছতা। তাই মোতালেব মহান আল্লাহর দরবারে শেখ শুকরিয়া আদায় করে বলেন, যা চেয়েছি তার চেয়ে বেশি পেয়েছি। এখন জীবনের বাকি দিন গুলি ইবাদত বন্দেগী করে কাটাতে চাই।

মোতালেব শেখ দোহার , নবাবগঞ্জ ও শ্রীনগরের উপজেলায় বৃক্ষ ও ফলজ মেলায় অংশগ্রহন করে একাধিকবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ নার্সারীর মালিক হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছেন।

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা জানান, আমি ইতমধ্যেই জেনেছি দোহারে মোতালেব শেখের নার্সারীতে উৎপাদীত চারার বেশ সুনাম রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোক্তারা যাতে করে ব্যবসায়ী হিসেবে টিকে থাকতে পারে এবং দেশের বনায়নে ভূমিকা রাখতে পারেন এজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।