দোহারে বিয়ের তিন দিনের মাথায় স্বামীর বাড়ীতে নববধূর মর্মান্তিক মৃত্যু

0

শরিফ হাসান,নিউজ৩৯ঃ শেক্সপীয়ারের ওথেলো নাটক-কে হার মানিয়ে বিয়ের তিন দিনের মাথায় স্বপ্ন সাধের সংসারে প্রিয়তম স্বামীর হাতে খুন হলেন নববধু শিখা। শিখা জয়পাড়ার বেগম আয়েশা গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। সে দোহার ঘাটা গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মো.শিরাজুল ইসলামের মেয়ে। ভালোবাসার মালা গলায় থাকার বদলে স্বামীর বাড়ীর পুকুরে কলসি গলায় বাধা থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মেহেদির রংগে রাংগানো শিখাকে।

কৈশরের উদ্দীপনায় মেতে থাকা শিখার স্বপ্ন ছিল ভালোবাসাময় ঘর বাঁধার। বিয়ের দিন শিখার ছিল জাকজমক নববধূর সাজ। বিয়ের সাজসজ্জা, মেহেদি রাঙানো হাত আর আলতা মাখানো পায়ে বিয়ের ৩দিনের মাথায় লাশ হয়ে ফিরলো শিখা সকলের মাঝে।

স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, চাহিদা মাফিক স্বর্ণের গহনা ও যৌতুক দিতে না পারায় বিয়ের দিন থেকে স্বামী ও স্বামীর আত্মীয় স্বজন্দের কাছ থেকে লাঞ্চনা ও গঞ্জনা পেয়ে আসছিলো শিখা। বিয়ের দিন থেকেই বাবার বাড়ী আর শ্বশুড় বাড়ীর সাথে দ্বন্দ চলে আসছিলো। এরই এক পর্যায়ে শিখাকে আনুমানিক গলা টিপে হত্যা করে ভিন্ন খাতে তা প্রবাহিত করতে গলায় কলসি বেধে পুকুরের কচুরিপানার মাঝে তা লুকিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু স্থানীয়রা সোমবার বিকেল ৫টার দিকে মিয়া বাড়ীর পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে শিখাকে ভাসমান দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ।

দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। ইতঃমধ্যে ৪জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে স্বামী রুহুল আমিন (২৭) পলাতক রয়েছে।
এদিকে শিখা হত্যার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসি।

শিগগির কলেজ সরকারিকরণের আদেশ জারি

অবশেষে ‘সরকারিকৃত কলেজশিক ও কর্মচারী আত্তীকৃত বিধিমালা ২০১৮’ জারি করেছে শিা মন্ত্রণালয়। এরই আলোকে এখন বেসরকারি কলেজগুলো সরকারীকরণের আদেশ জারি করবে মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে মন্ত্রণালয় সূত্রে। তবে, সদ্যঘোষিত এ বিধিমালা যে বিধানটি নিয়ে বিতর্ক ও ক্ষোভ ছিল সরকারি কলেজশিক্ষকদের, তা সুরাহা হয়নি। বরং তাদের শঙ্কা-উৎকণ্ঠা সত্য হলো। এর ফলে সরকারি কলেজের বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষকদের সাথে নব্য জাতীয়করণকৃত কলেজশিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হলো। এ দিকে, জারিকৃত বিধিমালার প্রেক্ষিতে সরকারি কলেজশিক্ষকদের একক সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হবে বলে গতকাল বিকেলে জানিয়েছেন সমিতির মহাসচিব শাহেদুল খবির চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের শঙ্কাই সত্য হলো। জারিকৃত বিধিমালায় নব্য জাতীয়করণের জন্য মনোনীত কলেজশিক্ষকদের নন-ক্যাডার রাখা হলেও ক্যাডারভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় শঙ্কা ও হতাশার বিষয়। এ নিয়ে আগামী ১০ আগস্ট সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখানে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই জরুরি আরেকটি বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, আজ (গতকাল) প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ১৮টি মহিলা কলেজ জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের মামলার রায় হয়েছে। তাতে, ক্যাডার সার্ভিসের দাবির পক্ষেই রায় এসেছে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে অপর একটি রিট রয়েছে। এ সব বিষয়কে বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে উল্লেখ করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব শাহেদুল খবির চৌধুরী আরো বলেন, জাতীয়করণকৃত কলেজশিক্ষকদের ক্যাডারভুক্তির বিরোধিতা এবং এ সংক্রান্ত বিধি বাতিলের দাবি থেকে আমরা সরে যাচ্ছি না। সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে আপত্তিকর ধারাটি বাতিলের ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি নেয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরি পেতে হলে যেভাবে পড়তে হবে

প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরি বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে সফল হতে হলে যেভাবে পড়তে হবে- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৮০ এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০। এরমধ্যে বাংলায় ২০ নম্বর, বাংলা সাহিত্য ৩ নম্বর, বাংলা ব্যাকরণ ১৭ নম্বর, গনিত ২০ নম্বর, পাটিগনিত-৮/৯ নম্বর, বীজগনিত-৫/৬ নম্বর, জ্যামিতি-৫ নম্বর, ইংরেজি-২০ নম্বর, ইংরেজি- ২০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞান- ২০ নম্বর, বাংলাদেশ ৭/৮ নম্বর, আন্তর্জাতিক- ৫/৬ নম্বর, সাম্প্রতিক ৫/৬ নম্বর, মৌখিক:-২০ নম্বর।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের প্রতিটি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। চারটি উত্তর ভুল হলেই কাটা যাবে ১ নম্বর।

পরীক্ষার হলে করণীয়: প্রবেশপত্র সঙ্গে আনতে হবে। বই, উত্তরপত্র, নোট, কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোনসহ ইলেকট্রিক ঘড়ি ও কোনো ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস সঙ্গে রাখা যাবে না। উত্তরপত্র পূরণ করতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। অসাবধানতাবশত ভুল হলে উত্তরপত্র বাতিল হতে পারে। কালো কালির বলপয়েন্ট কলম দিয়ে ওএমআর উত্তরপত্র পূরণ করা ভালো। প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তরের জন্য একটি বৃত্তাকার ঘর ভরাট করতে হবে। একই প্রশ্নের উত্তরে একাধিক উত্তরটি বাতিল হবে ও নম্বর কাটা যাবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর ভুল হলে তা কেটে অন্য কোনো ঘর ভরাট করা যাবে না। ওএমআর শিট ভাঁজ করা যাবে না, নির্ধারিত ঘর ছাড়া উত্তরপত্রের অন্য কোথাও দাগ দেয়া যাবে না। রোল নম্বর, প্রশ্নপত্রের সেট কোড, জেলা কোড, উপজেলা/থানা কোড, সেক্স কোড নম্বর অবশ্যই পূরণ করতে হবে, নইলে উত্তরপত্র বাতিল হবে। ওএমআর শিটে রোল নম্বরের ঘর পূরণ করার সময় রোল নম্বরের নিচের বৃত্তাকার ঘরগুলোতে সঠিক সংখ্যা কালো কালির বলপয়েন্ট কলম দ্বারা পুরো ভরাট করতে হবে। হাজিরা শিটে খাতার ক্রমিক নম্বর ও প্রশ্নের সেট নম্বর লিখে নির্ধারিত ঘরে প্রার্থীকে স্বাক্ষর করতে হবে।

বাংলাঃ
জোর দিতে হবে : বাংলা অংশে ব্যাকরণের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড প্রণীত ব্যাকরণ বইয়ের সব অধ্যায় উদাহরণ সহ ভালোভাবে পড়তে হবে। জানতে হবে কবি-সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম ও জীবনী সম্পর্কে। এসএসসি ও এইচএসসি বোর্ড বইয়ের লেখক পরিচিতি ও সাধারণ জ্ঞান বইয়ের সাহিত্যিক পরিচিত, বই পরিচিতি অংশ পড়লে অনেকটা সহায়ক হবে।

বিগত পরীক্ষায় যা এসেছে : ২৭ জুন ও ২৮ আগস্ট ২০১৫ নিয়োগের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্যাকরণ থেকে ভাষা, বর্ণ, শব্দ, সন্ধি বিচ্ছেদ, কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, অনুসর্গ, ধাতু, সমাস, বানান শুদ্ধি, পারিভাষিক শব্দ, সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ থেকে প্রশ্ন এসেছে। সাহিত্য অংশে গল্প বা উপন্যাসের রচয়িতা, কবিতার পঙ্গক্তি উল্লেখ করে কবির নাম থেকে প্রশ্ন ছিল।

ইংরেজিঃ
জোর দেয়ার দরকার : ইংরেজি গ্রামারে Right forms of verb, Tense, Preposition, Parts of Speech, Voice, Narration, Spelling, Sentence Correction-এর নিয়ম জানতে হবে এবং গ্রামার বইয়ের উদাহরণ থেকে চর্চা করতে হবে। মুখস্থ করতে হবে Phrase and Idoims, Synonym, Antonym ভালোভাবে শিখতে হবে। বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করলে ভালো করা যাবে।

বিগত পরীক্ষায় যা এসেছে : বিগত দুই পর্যায়ের পরীক্ষায় ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ এসেছে।

গণিতঃ 
যা শেখা ও করা প্রয়োজন : পাটিগণিতের পরিমাপ ও একক, ঐকিক নিয়ম, অনুপাত, শতকরা, সুদকষা, লাভক্ষতি, ভগ্নাংশ, বীজগণিতের সাধারণ সূত্রাবলী থেকে প্রশ্ন থাকে। মুখে মুখে ও সূত্র প্রয়োগ করে সংক্ষেপে ফল বের করার প্র্যাকটিস করতে হবে। যাতে প্রশ্ন দেখামাত্রই সূত্র প্রয়োগ করে ফল বের করা যায়। জ্যামিতিতে প্রস্তুতি ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বর্গক্ষেত্র, রম্বস, বৃত্ত ইত্যাদির সাধারণ সূত্র ও সূত্রের প্রয়োগ দেখতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যবই বিশেষত অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির গণিত বই অনুসরণ করলে ভালো হবে।

সাধারণ জ্ঞানঃ
যা গুরুত্ব দিয়ে পড়া প্রয়োজন : প্রশ্ন বেশি আসে বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশের শিক্ষা, ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু, সভ্যতা ও সংস্কৃতি, বিখ্যাত স্থান, বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, অর্থনীতি, বিভিন্ন সম্পদ, জাতীয় দিবস থেকে প্রশ্ন আসে।

আন্তর্জাতিক অংশে বিভিন্ন সংস্থা, দেশ, মুদ্রা, রাজধানী, দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা থেকে খেলাধুলা প্রশ্ন থাকে।

সাধারণ বিজ্ঞান থেকে বিভিন্ন রোগব্যাধি, খাদ্যগুণ, পুষ্টি, ভিটামিন থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। নিয়মিত বেশি বেশি পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করলে সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নের উত্তর সহজ হবে।

বিগত পরীক্ষায় যা এসেছে : বিগত দুই ধাপের পরীক্ষায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে প্রশ্ন করা হয়।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ পত্তনদার মো: রাকিবের

গত ২৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে নিউজ৩৯ এ প্রকাশিত “নবাবগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ” সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পত্তনদার মো রাকিব। তিনি বলেন তার বিরুদ্ধে ইছমতী নদীর বাহ্রা ও কোমড়গঞ্জের মাঝিরা চাঁদা আদায়ের যে অভিযোগ করেছে তা পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি বৈধ ভাবে জেলা প্রশাসন থেকে এই ঘাটের ইজারা নিয়েছেন। এই ইজারা  আদায় নিয়ে মাঝিরা যে অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি বৈধভাবেই এই ঘাটের ইজারা আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে নিযুক্ত।

তিনি আরো বলেন, সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট,ভিত্তিহীন। আমাকে সমাজে হেও করার জন্য এই কাজটি করা হয়েছে। সংবাদটি সামাজিক,রাজনৈতিক ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।আমি এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ যানাচ্ছি। তিনি আরও জানান, আমার কাছে ইজারার সকল প্রকার বৈধ কাগজ পত্র আছে।

সংবাদের প্রতিবেদক জানান, সংবাদটি মুলত নবাবগঞ্জ উপজেলার সামনে উপস্থিত ঘাটের মাঝিদের বক্তব্য। সংবাদটি কোনো ব্যক্তি উদ্দেশ্য বা কাল্পনিক ঘটনা অনুসারে করা না। উপস্থিত মাঝিদের বক্তব্যই সংবাদে উঠে এসেছে।

নবাবগঞ্জে ২ ইয়াবা সেবন কারীর কারাদন্ড

ঢাকার নবাবগঞ্জের দিঘীরপাড় গ্রামের মো. আশরাফ আলীর ছেলে শেখ মো. জলিল (৪০) এবং মৃত ফালু খানের ছেলে শহিদ খান (৪৫) নামের দুই মাদক সেবনকারীকে ৭ দিনের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

নবাবগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক হাসানুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ভোরে দিঘীরপাড় মেইন রোড সংলগ্ন থেকে ইয়াবা সেবন করা অবস্থায় তাদের আটক করার পর দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহানাজ মিথুন মুন্নীর ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে আদালত তাদের ৭ দিনের কারাদন্ড দেন।

প্রতিদিনের হাদিস: হাজ্জ

0

হাদিস নং ১৫৬৩: মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উসমান ও ‘আলী (রাঃ)-কে (উসফান নামক স্থানে) দেখেছি, ‘উসমান (রাঃ) তামাত্তু‘, হাজ্জ ও ‘উমরাহ একত্রে আদায় করতে নিষেধ করতেন। ‘আলী (রাঃ) এ অবস্থা দেখে হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র ইহরাম একত্রে বেঁধে তালবিয়া পাঠ করেন- لَبَّيْكَ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ  (হে আল্লাহ! আমি ‘উমরাহ ও হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে হাযির হলাম) এবং বললেন, কারো কথায় আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত বর্জন করতে পারব না। (১৫৬৯, মুসলিম ১৫/২৩, হাঃ ১২২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৬)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহঃ)

হাদিস নং ১৫৬৪: ‘ইবনু ‘আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা হাজ্জ-এর মাসগুলোতে ‘উমরাহ করাকে দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য পাপের কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের স্থলে সফর মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মনে করত। তারা বলত, উটের পিঠের যখম ভাল হলে, রাস্তার মুসাফিরের পদচিহ্ন  মুছে গেলে এবং সফর মাস অতিক্রান্ত হলে ‘উমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে পারবে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সহাবীগণ হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে (যিলহাজ্জ মাসের) চার তারিখ সকালে (মক্কা্য়) উপনীত হন। তখন তিনি তাঁদের এ ইহরামকে ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। সকলের কাছেই এ নির্দেশটি গুরুতর বলে মনে হলো (‘উমরাহ শেষ করে) তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য কী কী জিনিস হালাল? তিনি বললেনঃ সবকিছু হালাল (ইহরামের পূর্বে যা হালাল ছিল তার সব কিছু এখন হালাল)। (১০৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৭)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

হাদিস নং ১৫৬৫: আবু মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি আমাকে (ইহরাম ভঙ্গ করে) হালাল হয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। (১৫৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৮)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)

হাদিস নং ১৫৬৬: নাবী সহধর্মিণী হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল, তারা ‘উমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে গেল, অথচ আপনি ‘উমরাহ হতে হালাল হচ্ছেন না? তিনি বললেনঃ আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং কুরবানীর জানোয়ারের গলায় মালা ঝুলিয়েছি। কাজেই কুরবানী করার পূর্বে হালাল হতে পারি না। (১৬৯৭, ১৭২৫, ৪৩৯৭, ৫৯১৬, মুসলিম ১৫/২৫, হাঃ ১২২৯, আহমাদ ২৬৪৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৯)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ হাফসাহ (রাঃ)

হাদিস নং ১৫৬৭: আবূ জামরাহ নাসর ইবনু ‘ইমরান যুবা‘য়ী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তামাত্তু‘ হাজ্জ করতে ইচ্ছা করলে কিছু লোক আমাকে নিষেধ করল। আমি তখন ইবনু ‘আববাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি তা করতে আমাকে নির্দেশ দেন। এরপর আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন এক ব্যক্তি আমাকে বলছে, উত্তম হাজ্জ ও মাকবূল ‘উমরাহ। ইবনু ‘আববাস (রাঃ)-এর নিকট স্বপ্নটি বললাম। তিনি বললেন, তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। এরপর আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে থাক, তোমাকে আমার মালের কিছু অংশ দিব। রাবী শু‘বাহ্ (রহ.) বলেন, আমি (আবূ জামরাকে) বললাম, তা কেন? তিনি বললেন, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি সে জন্য। (১৬৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ জামরা (রহঃ)

হাদিস নং ১৫৬৮: আবূ শিহাব (রহ.) হতে বর্ণনা করে বলেন, আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধে হাজ্জে তামাত্তু‘র নিয়্যতে তারবিয়্যাহ দিবস (আট তারিখ)-এর তিন দিন পূর্বে মক্কা্য় প্রবেশ করলাম, মক্কা্বাসী কিছু লোক আমাকে বললেন, এখন তোমার হাজ্জের কাজ মক্কা্ হতে শুরু হবে। আমি বিষয়টি জানার জন্য ‘আত্বা (রহ.)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে বলেছেন, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর উট সঙ্গে নিয়ে হাজ্জে আসেন তখন তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। সাহাবীগণ ইফরাদ হাজ্জ-এর নিয়্যাতে শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধেন। কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্য় পৌঁছে) তাদেরকে বললেনঃ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘ঈ সমাধা করে তোমরা ইহরাম ভঙ্গ করে হালাল হয়ে যাও এবং চুল ছোট কর। এরপর হালাল অবস্থায় থাক। যখন যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ হবে তখন তোমরা হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে নিবে, আর যে ইহরাম বেঁধে এসেছ তা তামাত্তু‘ হাজ্জের ‘উমরাহ বানিয়ে নিবে। সাহাবীগণ বললেন, এ ইহরামকে আমরা কিরূপে ‘উমরাহ’র ইহরাম বানাব? আমরা হাজ্জ-এর নাম নিয়ে ইহরাম বেঁধেছি। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে যা আদেশ করছি তাই কর। কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে না আসলে তোমাদেরকে যা করতে বলছি, আমিও সেরূপ করতাম। কিন্তু কুরবানী করার পূর্বে (ইহরামের কারণে) নিষিদ্ধ কাজ (আমার জন্য) হালাল নয়। সাহাবীগণ সেরূপ পশু যবহ করলেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, আবূ শিহাব (রহ.) হতে মারফূ‘ বর্ণনা মাত্র এই একটিই পাওয়া যায়। (১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ শিহাব (রহঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ হাজ্জ

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

প্রতিদিনের হাদিস: মদিনার ফজিলত

0

হাদিস নং ১৮৭৭: সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে কেউ মাদ্বীনাবাসীর সাথে ষড়যন্ত্র বা প্রতারণা করবে, সে লবণ যেভাবে পানিতে গলে যায়, সেভাবে গলে যাবে। (মুসলিম ১৫/৮৯, হাঃ ১৩৮৭, আহমাদ ১৫৫৮)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ  ১৭৫৩)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)

হাদিস নং ১৮৭৮: উসামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার কোন একটি পাথর নির্মিত গৃহের উপর আরোহণ করে বললেনঃ আমি যা দেখি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? (তিনি বললেন) বৃষ্টি বিন্দু পতিত হওয়ার স্থানসমূহের মত আমি তোমাদের গৃহসমূহের মাঝে ফিতনার স্থানসমূহ দেখতে পাচ্ছি। মা’মার এবং সুলাইমান বিন কাসীর উক্ত হাদীস যুহরী থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সুফইয়ানকে অনুসরণ করেছেন। (২৪৬৭, ৩৫৯৭, ৭০৬০, মুসলিম ৫২/৩, হাঃ ২৮৮৫, আহমাদ ২১৮০৭)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৫৪ )

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)

হাদিস নং ১৮৭৯: আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মদিনাতে দাজ্জালের ত্রাস ও ভীতি প্রবেশ করতে পারবে না। ঐ সময় মদিনার সাতটি প্রবেশ পথ থাকবে। প্রত্যেক পথে দু’জন করে ফেরেশতা (মোতায়েন) থাকবে। (৭১২৫, ৭১২৬)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৫৫ )

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ বাকরা (রাঃ)

হাদিস নং ১৮৮০: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদিনার প্রবেশ পথসমূহে ফেরেশ্তা পাহারায় নিয়োজিত আছে। তাই প্লেগ রোগ এবং দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। (৫৭৩১, ৭১৩৩, মুসলিম ১৫/৮৭, হাঃ ১৩৭৯, আহমাদ ৭২৩৮)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৫৬ )

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

হাদিস নং ১৮৮১: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এমন কোন শহর নেই যেখানে দাজ্জাল পদচারণ করবে না। মক্কা এবং মদিনার প্রত্যেকটি প্রবেশ পথেই ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত থাকবে। এরপর মদিনা তার অধিবাসীদেরকে নিয়ে তিনবার কেঁপে উঠবে এবং আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত কাফির এবং মুনাফিকদেরকে বের করে দিবেন। (৭১২৪, ৭১৩৪, ৭৪৭৩, মুসলিম ৫২/২৪, হাঃ ২৯৪৩)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৫৮)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

হাদিস নং ১৮৮২: আবু সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে দাজ্জাল সম্পর্কে এক দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত কথাসমূহের মাঝে তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, মদিনার প্রবেশ পথে অনুপ্রবেশ করা দাজ্জালের জন্য হারাম করে দেয়া হয়েছে। তাই সে মাদ্বীনার উদ্দেশে যাত্রা করে মদিনার নিকটবর্তী কোন একটি বালুকাময় জমিতে অবতরণ করবে। তখন তার নিকট এক ব্যক্তি যাবে যে উত্তম ব্যক্তি হবে বা উত্তম মানুষের একজন হবে এবং সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমিই হলে সে দাজ্জাল যার সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে অবহিত করেছেন। দাজ্জাল বলবে, আমি যদি একে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করতে পারি তাহলেও কি তোমরা আমার ব্যাপারে সন্দেহ করবে? তারা বলবে, না। এরপর দাজ্জাল লোকটিকে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করবে। জীবিত হয়েই লোকটি বলবে, আল্লাহর শপথ! আজকের চেয়ে অধিক প্রত্যয় আমার আর কখনো ছিল না। অতঃপর দাজ্জাল বলবে, আমি তাকে হত্যা করে ফেলব। কিন্তু সে লোকটিকে হত্যা করতে আর সক্ষম হবে না। (৭১৩২, মুসলিম ৫২/২১, হাঃ ২৯৩৮, আহমাদ ১১৩১৮)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৫৭ )

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ মদীনার ফাযীলাত

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

আসছে বর্ষা; নৌকা তৈরির ধুম

আসছে বর্ষা মৌসুম। পদ্মার পানি এখনো বিভিন্ন অঞ্চলে না ঢুকলেও নৌকা তৈরির ধুম শুরু হয়েছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বালেঙ্গা, রাজাপুর, চারাখালী, ঘোষাইল, আর-ঘোষাইল, কঠুরী, আশয়পুর, রায়পুর, পানিকাউর, তিতপালদিয়া ও কল্যাণশ্রী গ্রামের মানুষের বর্ষার দিনের একমাত্র বাহন।

বর্ষায় এ পারের বেড়িবাঁধের প্রায় ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়। তখন প্রত্যেকটি পরিবারের বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হয় নৌকা। বর্ষার শুরুতেই বেড়িবাঁধে মৌসুমি নৌকা তৈরির কারখনা করেছেন গৌর মৌজুমদার। ১০-১১ জন কাঠ মিস্ত্রি দ্বারা কাজ করে প্রতিদিন ৫-৬টা নৌকা তৈরি করে ঢাকা ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাটে বিক্রয় করেন। মিস্ত্রিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি নৌকার ৫-৬ সিএফটি কাঠ লাগে। একসিএফটি কাঠের দাম ৩০০ টাকা। একজন মিস্ত্রীর রোজ ৫০০ টাকা। ২ জন মিস্ত্রি দৈনিক একটি নৌকা বানাতে পারেন। প্রতিদিন গড়ে ৫-৬ নৌকা তৈরি হয়।

দোহার, নবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে কড়ই, চাম্বলসহ বিভিন্ন জাতের গাছ কিনে এসব নৌকা বানানোর কাজ করেন গৌরাঙ্গ মজুমদার। সপ্তাহব্যাপী নৌকা তৈরি করে দোহার-নবাবগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের সাপ্তাহিক হাটগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে থাকেন। প্রত্যেকটি (ছোট) নৌকা তৈরিতে তাদের ২৮০০-৩০০০ টাকা খরচ হয়। তারা প্রতিটি নৌকা ৩৫০০-৪০০০ টাকা বিক্রি করেন।

জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা দিলীপ মিস্ত্রি জানান,বর্ষার দিনে নৌকা পরিবারের চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল, কলেজ, হাট-বাজার প্রভৃতি স্থানে যাতায়াতের জন্য নৌকার ব্যবহার করে থাকি। বর্ষার শুরুর দিকে নৌকার দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্ষাও মাঝামাঝিতে নৌকার দাম রেড়ে যায়।

গৌর মৌজুমদার, সুজন, লিটন মিস্ত্রি, জানান, কেউ কেউ নৌকা পাইকারি দরে কিনে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন।

সৌদিতে প্রবাসীদের ব্যবসা-চাকরিতে নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে বাংলাদেশিরা

সৌদি আরবে পেশা পরিবর্তনের সুযোগ পেলেও, বিনিয়োগকৃত লাখ লাখ টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। চশমা, ঘড়ি, তৈরি পোষাক ও খুচরা যন্ত্রাংশের মত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের। সৌদি সরকার এই খাতগুলোতে প্রবাসীদের ব্যবসা ও চাকরিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় এ নিয়ে বিপাকে রয়েছেন তারা।

 দীর্ঘ ১২ বছর সৌদিতে ব্যবসা করছেন গাজীপুরের প্রবাসী মোহাম্মদ গুলজার মোল্লা। শুরুতে সৌদি নাগরিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও, পরে নিজ কর্মদক্ষতায় চীনের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সৌদিতে কয়েক লাখ রিয়াল বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু চলতি বছর সৌদি সরকার এ ব্যবসায় বিদেশিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে ব্যবসার মূলধনসহ পুঁজি হারানোর শঙ্কা করছেন তিনি।

একই ধরনের ব্যবসা করছেন নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার নজরুল ইসলাম মানিক। সৌদি সরকারের এমন সিদ্ধান্তে তিনিও চরম হতাশায় ভুগছেন।

এছাড়া বিদেশিদের জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তৈরি পোষাক, ঘড়ি, মুদি দোকানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসায়। এ অবস্থায় পেশা পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবেনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রবাসী ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রবাসী সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি পেশা পরিবর্তনের বিষয়টি দেশটির অভ্যন্তরীন সিদ্ধান্ত হওয়ায় কোন মন্তব্য করেননি। তবে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান।

পেশা পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কোন কোন পেশা পরিবর্তন হবে এ ব্যাপারে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রবাসীদেরকে দ্রুত জানানো হবে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। সৌদি আরব থেকে আগের বছরের তুলনায় গত অর্থ বছরে প্রায় চল্লিশ কোটি মার্কিন ডলার বেশি অর্থ পঠিয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

প্রতিদিনের হাদিস: শিক্ষা গ্রহন

0

হাদিস নং ৮৭: মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) আবূ জামরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও লোকদের মধ্যে দোভাষীর কাজ করতাম। একদিন ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলে, তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ প্রতিনিধি দল? অথবা বললেনঃ তোমরা কোন্ গোত্রের? তারা বলল, রাবীআ গোত্রের। তিনি বললেনঃ মারহাবা। এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি, এরা কোনরূপ অপদস্থ না হয়েই এসেছে। তারা বলল, আমরা বহু দূর থেকে আপনার কাছে এসেছি। আর আমাদের ও আপনার মাঝে রয়েছে কাফিরদের এই মুযার গোত্রের বাস। আমরা শাহ্‌র-ই হারাম- ছাড়া আপনার কাছে আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের কাছে পৌঁছাতে এবং তার ওসীলায় আমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারি। তখন তিনি তাদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেনঃ এক আল্লাহর উপর ঈমান আনা কিরূপে হয় জানো? তারা বললঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ তা হল এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা, যাকাত দেওয়া এবং রমযান এর সিয়াম পালন করা আর তোমাদের গনীমাতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে। আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো লাউয়ের খোল, সবুজ কলস এবং আলকাতরার পালিশকৃত পাত্র ব্যবহার করতে। শুবা বলেন, কখনও (আবূ জামরা) খেজুর গাছ থেকে তৈরী পাত্রের কথাও বলেছেন আবার তিনি কখনও ( -)এর স্থলে ( -) বলেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এগুলো মনোযোগ সহকারে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের পৌঁছে দাও।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আয়িশা (রাঃ)

হাদিস নং ৮৮: মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল আবূল হাসান (রহঃ) উকবা ইবনুল হারিস (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি আবূ ইহাব ইবনু আযীয (রহঃ)-এর কন্যাকে বিবাহ করলে তাঁর কাছে একজন স্ত্রীলোক এসে বলল, আমি উকবা (রাঃ)-কে এবং সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে (আবূ ইহাবের কন্যাকে) দুধ পান করিয়েছি। উকবা (রাঃ) তাকে বললেনঃ আমি জানিনা যে, তুমি আমাকে দুধ পান করিয়েছ। আর (ইতিপূর্বে) তুমি আমাকে একথা জানাওনি। এরপর তিনি মদিনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ কথার পর তুমি কিভাবে তার সঙ্গে সংসার করবে? এরপর উকবা তাঁর স্ত্রীকে আলাদা করে দিলেন এবং সে মহিলা অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আয়িশা (রাঃ)

হাদিস নং ৮৯: আবূল ইয়ামান (রহঃ) ও ইবনু ওহাব (রহঃ) উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ও আমার এক আনসারী প্রতিবেশী বনি উমায়্যা ইবনু যায়দের মহল্লায় বাস করতাম। এ মহল্লাহটি ছিল মদিনার ঊঁচু এলাকায় অবস্থিত। আমরা দুজনে পালাক্রমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে হাযির হাতম। তিনি একদিন আসতেন আর আমি একদিন আসতাম। আমি যেদিন আসতাম, সেদিনের ওহী প্রভৃতির খবর নিয়ে তাঁকে পৌঁছে দিতাম। আর তিনি যেদিন আসতেন সেদিন তিনি অনুরূপ করতেন। এরপর একদিন আমার আনসারী সঙ্গী তাঁর পালার দিন এলেন এবং (সেখান থেকে ফিরে) আমার দরজায় খুব জোরে করাঘাত করতে লাগলেন। (আমার নাম নিয়ে) বলতে লাগলেন, তিনি কি এখানে আছেন? আমি ঘাবড়ে গিয়ে তাঁর দিকে গেলাম। তিনি বললেন, এক বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন]। আমি তখনি (আমার কন্যা) হাফসা (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি বললাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন? তিনি বললেন, আমি জানিনা। এরপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম এবং দাঁড়িয়ে থেকেই বললামঃ আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন? জবাবে তিনি বললেনঃ না। আমি তখন আল্লাহু আকবার বলে উঠলাম।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)

হাদিস নং ৯০: মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার এক ব্যাক্তি বলল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি সালাত (নামায/নামাজ) (জামাতে) শামিল হতে পারি না। কারন অমুক ব্যাক্তি আমাদের নিয়ে খুব লম্বা করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। [ আবূ মাসউদ (রাঃ) বলেন, ] আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কোন ওয়াযের মজলিসে সেদিনের তুলনায় বেশি রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি কর। অতএব যে লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে সে যেন সংক্ষেপ করে। কারন তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোকও থাকে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ ইলম বা জ্ঞান

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন