সিআইপি কার্ড পেলেন নবাবগঞ্জের আক্কাস মোল্লা

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আলালপুর গ্রামের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি আক্কাস উদ্দিন মোল্লা সিআইপি (রপ্তানি) কার্ড পেয়েছেন। সোমবার ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সিআইপি কার্ড তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আক্কাস উদ্দিন মোল্লা ওসমান গ্রুপ আব ইন্ড্রাস্ট্রিজ, ওসমানিয়া মেমরিয়াল ট্রাস্ট এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি বান্দুরা হলিক্রশ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব সুভাশীষ বসু, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, মুনতাকিম আশরাফ প্রমূখ।

প্রতিদিনের হাদিস: সরকারি কর্মকর্তার উপহার নেয়া

0

হাদিস নং ৪৬২৮: যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ….. আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট (ভাষণ দিতে) দাঁড়ালেন এবং গনীমাতের মাল আত্মসাৎ প্রসঙ্গে আলোচনা করলেন। তিনি এর উপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করলেন। তারপর বললেন, আমি তোমাদের কাউকে কিয়ামাত দিবসে যেন এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, চিৎকাররত উট তার ঘাড়ের উপর সওয়ার হয়ে আছে, আর সে আরয করছে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে সাহায্য করুন; তখন আমি বলবোঃ তোমার ব্যাপারে আমার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। আমি (এর পূর্বেও) তোমাকে (এ ব্যাপারে) জানিয়ে দিয়েছি। আমি তোমাদের কাউকে কিয়ামাতের দিন যেন এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, চিৎকাররত ঘোড়া তার কাঁধের উপর সওয়ার হয়ে আছে আর সে আরয করছে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে সাহায্য করুন। তখন আমি বলবো, তোমার ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই, আমি তো (এর পূর্বে) তোমাকে (এ ব্যাপারে) জানিয়ে দিয়েছি।

আমি তোমাদের কাউকে যেন কিয়ামাত দিবসে এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, কোন আর্তনাদরত ব্যক্তিকে সে বয়ে নিয়ে আসছে আর আরয করছে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলবো, তোমার ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র কিছু করার নেই। আর আমি (ইতোপূর্বেই তা) তোমার নিকট প্রচার করেছি। আমি তোমাদের কাউকে কিয়ামাতের দিন এমন অবস্থায় যেন উপস্থিত না পাই যে, তার ঘাড়ের উপর পতপত করে কাপড় উড়ছে আর সে ফরিয়াদ করছে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলবো যে, তোমার ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। আমি তো (ইতোপূর্বেই তা) তোমাকে জানিয়ে দিয়েছি। আর এমন যেন না হয় যে, কিয়ামাতের দিন তোমাদের মধ্যকার কাউকে এ অবস্থায় পাই যে, তার ঘাড়ে স্বর্ণ, রৌপ্য বয়ে নিয়ে আসবে আর আরয করবে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলবো, তোমাকে সাহায্য করার কোন সাধ্য আমার নেই, আমি তো (পূর্বেই সেন্ বিষয়ে) তোমাকে জানিয়ে দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮২, ইসলামিক সেন্টার ৪৫৮৫)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৬৩২: আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন্‌ নাকিদ (রহঃ) ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) …… আবূ হুমায়দ সাইদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে কর্মচারী নিযুক্ত করলেন- যাকে ইবনুল লুতবিয়্যাহ নামে অভিহিত করা হতো। রাবী আমর ও ইবনু আবূ উমার বলেন, যাকাত আদায়ের জন্য। যখন সে ফিরে এলো, তখন সে বললো, এটি আপনাদের (অর্থাৎ- বায়তুল মালের) এবং ওটি আমাকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে। রাবী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপরে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করার পর বললেন, সে কর্মচারীর কী হলো, যাকে আমি (আদায়কারীরূপে) প্রেরণ করলাম, আর সে (যেমন দিয়ে আসে তেমন) বলে! ওটা আপনাদের আর এটি আমাকে উপটৌকন দেয়া হয়েছে? সে তার পিতার বা মাতার ঘরে বসে থেকে দেখে না কেন যে তাকে উপটৌকন দেয়া হয় কি-না? মুহাম্মাদের প্রাণ যে পবিত্র সত্তার হাতে তার কসম! যে কেউ এরূপ সম্পদের কিছুমাত্র কুক্ষিগত করবে, কিয়ামাতের দিন তাই সে তার ঘাড়ে বহন করে নিয়ে আসবে- তার ঘাড়ের উপর চিৎকাররত উট হবে অথবা হাম্বা-হাম্বারত গাভী হবে অথবা চিৎকাররত বকরী হবে। তারপর তিনি দু’হাত উপরের দিকে উঠিয়ে ধরলেন, এমনকি তার বগলের শুভ্রতা আমাদের দৃষ্টিগোচর হলো। তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! আমি কি তোমার নির্দেশ পৌছিয়ে দিয়েছি!” এ কথা তিনি দু’বার বললেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮৬, ইসলামিক সেন্টার ৪৫৮৯)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৬৩৩: ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. আবূ হুমায়দ সাইদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযদ গোত্রের ইবনুল লুতবিয়্যাহ নামক এক ব্যক্তিকে যাকাত উসূলের উদ্দেশে কর্মচারী নিয়োগ করেন। সে যখন (যাকাতের উসুলকৃত) মালামাল নিয়ে এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অর্পণ করলে, তখন সে বলল, এগুলো হচ্ছে আপনাদের, আর ওটা আমাকে উপটৌকন স্বরূপ দেয়া হয়েছে। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পিতা-মাতার ঘরে বসে থেকে দেখলে না কেন, তোমার জন্য উপঢৌকনাদি প্রেরিত হয় কি-না? তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ দিতে দাঁড়ালেন। এরপর রাবী সুফইয়ান (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮৭, ইসলামিক সেন্টার ৪৫৯০

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৬৩৪: আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ….. আবূ হুমায়দ আস-সাইদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে বানু সুলায়ম গোত্রের যাকাত উসূল করার জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করেন। লোকটিকে ইবনু উতবিয়্যাহ্ বলে ডাকা হতো। যখন সে (কাজ সম্পাদন করে) আসলো, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিসাব-নিকাশ চাইলেন। সে বলল, এগুলো হচ্ছে আপনাদের মাল আর ওটা (আমাকে প্রদত্ত) উপটৌকন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পিতা-মাতার ঘরে বসে থাকলে না কেন? তোমার উপটৌকন পৌছাতো, যদি তুমি সত্যবাদী হও। তারপর তিনি আমাদেরকে লক্ষ্য করে খুৎবাহ দিলেন। তাতে আল্লাহর প্রশংসা করে বললেন, “আমি তোমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তিকে কোন কাজে নিযুক্ত করি যার দায়িত্ব আল্লাহ আমার উপর বর্তিয়েছেন। তারপর সে (কর্ম সম্পাদন করে) এসে বলে, এটা আপনাদের মাল আর এটা আমাকে উপটৌকন স্বরূপ দেয়া হয়েছে। সে কেন তার পিতা-মাতার ঘরে বসে রইলো না তার উপঢৌকন সেখানে তার কাছে এসে পৌছতো, যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে? আল্লাহর কসম! তোমাদের মধ্যকার যে কেউ তার প্রাপ্য ব্যতিরেকে সেসব সম্পদের অংশবিশেষও কুক্ষিগত করবে, কিয়ামাতের দিন সে তা বহন করে আল্লাহ তা’আলার সমীপে উপস্থিত হবে। তোমাদের মধ্যকার যে কেউ চিৎকাররত উট, গাভী বা বকরী বহন করতঃ আল্লাহর সমীপে উপস্থিত হবে, আমি তাকে পুরোপুরি চিনতে পারবো। তারপর তিনি দু’হাত এমনভাবে উর্ধ্বে তুললেন যে তার বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দেখা গেল। তিনি বলছিলেন, হে আল্লাহ! আমি কি (তোমার নির্দেশ) পৌছে দিয়েছি? (রাবী বলেন, সে দৃশ্যটি) আমার চোখ দেখেছে এবং সে বক্তব্য আমার কান শুনেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮৮, ইসলামিক সেন্টার ৪৫৯১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ প্রশাসন ও নেতৃত্ব

পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি

প্রতিদিনের হাদিস: আচার-আচরন

0

হাদিস নং ৬০২০: ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার দু’জন প্রতিবেশী আছে। আমি তাদের কার কাছে হাদিয়া পাঠাব? তিনি বললেনঃ যার দরজা তোমার বেশি কাছে, তার কাছে। [২২৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৮২)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬০২০: ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার দু’জন প্রতিবেশী আছে। আমি তাদের কার কাছে হাদিয়া পাঠাব? তিনি বললেনঃ যার দরজা তোমার বেশি কাছে, তার কাছে। [২২৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৮২)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬০২০: ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার দু’জন প্রতিবেশী আছে। আমি তাদের কার কাছে হাদিয়া পাঠাব? তিনি বললেনঃ যার দরজা তোমার বেশি কাছে, তার কাছে। [২২৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৮২)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬০২৩: আদী ইবনু হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের আগুনের কথা উল্লেখ করলেন। তারপর তাত্থেকে আশ্রয় চাইলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পরে আবার জাহান্নামের আগুনের কথা উল্লেখ করলেন, তারপর তাত্থেকে আশ্রয় চাইলেন এবং তাঁর মুখ ফিরিয়ে নিলেন। শু‘বাহ (রহ.) বলেনঃ দু’বার যে বলেছেন, এতে আমার কোন সন্দেহ নেই। তারপর নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচ এক টুক্রা খেজুর দিয়ে হলেও। আর যদি তা না পাও, তবে সুমিষ্ট ভাষার বিনিময়ে। [১৪১৩] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৮৫)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬০২৪: নাবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহূদীদের একটি দল নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বললঃ السَّامُ عَلَيْكُمْ তোমাদের উপর মৃত্যু উপনীত হোক। ‘আয়িশাহ রাঃ)বলেনঃ আমি এর অর্থ বুঝলাম এবং বললামঃ وَعَلَيْكُمْ السَّامُ وَاللَّعْنَة তোমাদের উপরও মৃত্যু ও লা’নত। ‘আয়িশাহ রাঃ)বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বললেনঃ থাম, হে ‘আয়িশাহ! আল্লাহ যাবতীয় কার্যে নম্রতা পছন্দ করেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি শোনেননি, তারা কী বলেছে? রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বললেনঃ আমি তো বলেছি عَلَيْكُمْ আর তোমাদের উপরও। [২৯৩৫] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৮৬)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬০২৫: আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। একবার এক বেদুঈন মসজিদে প্রস্রাব করে দিল। লোকেরা উঠে তার দিকে গেল। রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বললেনঃ তার প্রস্রাব করায় বাধা দিও না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং তাতে ঢেলে দিলেন। [মুসলিম২/৩০, হাঃ ২৮৪, আহমাদ ১৩৩৬৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৮৭)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ আচার-ব্যবহার

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

প্রতিদিনের হাদিস: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন

0

হাদিস নং ২৪৬০: ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন উতবাহ ইবনু রবী‘আর কন্যা হিন্দা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার স্বামী) আবূ সুফিয়ান বখিল ব্যক্তি। তার সম্পদ হতে যদি আমার সন্তানদের খেতে দেই, তাহলে আমার কোন গুনাহ হবে কি? তখন তিনি বললেন, যদি তুমি তাদেরকে ন্যায়সঙ্গতভাবে খেতে দাও তাহলে তোমার কোন গুনাহ হবে না। (২২১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৯৮)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আয়িশা (রাঃ)

হাদিস নং ২৪৬১: ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললাম, আপনি যখন আমাদের কোন অভিযানে পাঠান, আর আমরা এমন গোত্রের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি আমাদেরকে বললেন, যদি তোমরা কোন গোত্রের কাছে অবতরণ কর এবং তোমাদের জন্য যদি উপযুক্ত মেহমানদারীর আয়োজন করা হয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, আর যদি তা না করে তবে তাদের কাছ হতে মেহমানের হক আদায় করে নিবে। (৬১৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৯৯)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ উকবাহ ইবনু আমির (রাঃ)

হাদিস নং ২৪৬২: ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা যখন তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর সান্নিধ্যে উঠিয়ে নিলেন, তখন আনসারগণ বনূ সাঈদা গোত্রের ছায়া ছাউনীতে গিয়ে সমবেত হলেন। আমি আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললাম, আমাদের সঙ্গে চলুন। এরপর আমরা তাদের নিকট সাকীফাহ বনূ সাঈদাতে গিয়ে পৌঁছলাম। (৩৪৪৫, ৩৯২৮, ৪০২১, ৬৮২৯, ৬৮৩০, ৭৩২৩)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩০০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)

হাদিস নং ২৪৬৩: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুঁটি পুঁততে নিষেধ না করে। তারপর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, কী হল, আমি তোমাদেরকে এ হাদীস হতে উদাসীন দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি সব সময় তোমাদেরকে এ হাদীস বলতে থাকব। (৫৬২৮, ৫৬২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩০১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

হাদিস নং ২৪৬৪: আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আবূ তালহার বাড়িতে লোকজনকে শরাব পান করাচ্ছিলাম। সে সময় লোকেরা ফাযীখ শরাব ব্যবহার করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন, যেন সে এ মর্মে ঘোষণা দেয় যে, সাবধান! শরাব এখন হতে হারাম করে দেয়া হয়েছে। আবূ তালহা (রাঃ) আমাকে বললেন, বাইরে যাও এবং সমস্ত শরাব ঢেলে দাও। আমি বাইরে গেলাম এবং সমস্ত শরাব রাস্তায় ঢেলে দিলাম। আনাস (রাঃ) বলেন, সে দিন মাদ্বীনার অলিগলিতে শরাবের প্লাবন বয়ে গিয়েছিল। তখন কেউ কেউ বলল, একদল লোক নিহত হয়েছে, অথচ তাদের পেটে শরাব ছিল। তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ ‘‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারা পূর্বে যা কিছু পানাহার করেছে তার জন্য তাদের কোন গুনাহ হবে না’’- (আল-মা-য়িদাহ ৯৩)। (৪৬১৭, ৪৬২০, ৫৫৮০, ৫৫৮২, ৫৫৮৩, ৫৫৮৪, ৫৬০০, ৫৬২২, ৭২৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩০২)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

বইয়ের ফেরিওয়ালা নির্মল রঞ্জন গুহঃ চলছে অবিরাম বই বিতরণ

উচ্চ শিক্ষা প্রসার ও সবার কাছে সহজলভ্য শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সেবা,শান্তি ও প্রগতি – স্বেচ্ছাসেবকলীগের মূলনীতি এই আদর্শ ধারণ করে দোহার – নবাবগঞ্জের প্রতিটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বই বিতরণ অব্যহত রেখেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেণ্ট নির্মল রঞ্জন গুহ। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি গতকাল দোহারের একমাত্র সরকারি কলেজ পদ্মা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাবী ও অসহায় ছাত্রদের মাঝে পাঠ্য বই বিতরণ করেন। ইতঃমধ্যে তিনি দোহারের সকল কলেজসহ নবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ কলেজ, শিকারিপাড়া কলেজ, নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল এন্ড কলেজে বই বিতরণ করেছেন।

উপস্থিত সরকারি পদ্মা কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেণ্ট নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। একটি শিক্ষিত তরুন সমাজই গড়তে পারে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। এবং এই কিশোর ও তরুনদেরই একসময় বাংলাদেশের হাল ধরতে হবে।

এই সময় তিনি পদ্মা কলেজের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্য বই বিতরন করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাহুল দাস, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক রাজীব শরিফ, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিনের সাংগঠনিক সম্পাদক অনুপম গুহ নয়ন, সরকারি পদ্মা কলেজের অধ্যক্ষ জালাল হোসেন, দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের সভাপতি, নিউজ৩৯ এর সম্পাদক ও সরকারি পদ্মা কলেজের ইংরেজির প্রভাষক তারেক রাজীব সহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বৃন্দ।

প্রতিদিনের হাদিস: জুমআ ও খুতবা

0

হাদিস নং ১৮৭৪: মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ উবায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কা’ব ইবনু উজরা (রাঃ) মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন আবদুর রহমান ইবনু উম্মুল হাকাম বসে খুতবা দিচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, দেখুন এই অধমের প্রতি, সে বসে খুতবা দিচ্ছে। অথচ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ “যখন তারা দেখল ব্যবসায় ও কৌতুক তখন তারা তোমাকে দাড়ান অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল।” (সূরা জুমু’আহঃ ১১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৭৫: হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা উভয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বরের সিঁড়িতে বলতে শুনেছেন, যারা জুমু’আহ পরিত্যাগ করে, তাদেরকে এ কাজ হাত অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন। অতঃপর তারা অবশ্যই গাফিলদের অন্তরভুক্ত হয়ে যাবে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৭৬: হাসান ইবনু রাবী ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করতাম। তার সালাত ও খুতবা ছিল মধ্যম ধরনের (দীর্ঘও নয় একেবারে সংক্ষিপ্তও নয়)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৭৮: হাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন তখন তার চক্ষুদ্বয় রক্তিম বর্ণ হত, স্বর উঁচু হত এবং কঠোর রাগ প্রকাশ পেত। মনে হত তিনি যেন আক্রমণকারী বাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, বলছেন, তারা তোমাদের সকালে আক্রমণ করবে এবং বিকেলে আক্রমণ করবে। তিনি বলতেন, আমি প্রেরিত হয়েছি এমন অবস্থায় যে, আমি ও কিয়ামত এ দুটির ন্যায় এবং মধ্যম অংগুলী ও শাহাদাত অংগুলী মিলিয়ে দেখাতেন। বলতেন, উত্তম বাণী হল আল্লাহ তা’আলার কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হিদায়াত। নিকৃষ্ট বিষয় হলো বিদআত (দ্বীনে নতুন আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ।) সকল বিদআতই হল পথভ্রষ্টতা। এরপর বলতেন, আমি প্রত্যেক মুমিনের জন্য তার প্রাণ হতে অধিক প্রিয়তর। যে মৃত ব্যাক্তি মাল সম্পদ রেখে যায়, তা তার পরিবার পরিজনদের জন্য। আর যে মৃতব্যাক্তি ঝণ অথবা ছোট ছেলেমেয়ে রেখে যায়, তাদের দায়িত্ব আমার উপর।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৮১: ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যিমাদ (রাঃ) মক্কায় আগমন করলেন। তিনি ছিলেন আযদ শানুয়া গোত্রের লোক। তিনি বাতাস লাগার ঝাঁড় ফুঁক করতেন। তিনি মক্কার কতিপয় নির্বোধ লোককে বলাবলি করতে শুনলেন যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাদ। যিমাদ বললেন, আমি যদি এ লোকটিকে দেখতাম, হয়ত আমার হাতে আল্লাহ তাঁকে শিফা দিতেন। রাবী বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি ঐ সব ব্যাধির ঝাঁড় ফুঁক করে থাকি আর আল্লাহ আমার হাতে যাকে ইচ্ছা শিফা দান করেন। আপনি কি ঝাঁড় ফুঁক করতে ইচ্ছুক?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সকল হামদ ও প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, আমি তাঁরই হামদ বর্ণনা করছি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন কেউ তাকে গোমরাহ করতে পারে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তার কোন শরীক নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও তাঁরই রাসুল।

অতঃপর বক্তব্য এই যে, রাবী বলেন, তিনি (যিমাদ) বললেন, আপনার বাক্যগুলো পূনরাবৃত্তি করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার পূনরাবৃত্তি করলেন। রাবী বলেন, যিমাদ (রাঃ) বলেন, অনেক গণক, যাদুকর ও কবিদের কথাবার্তা শুনেছি কিন্তু আপনার এ বাক্যগুলোর মত আর শুনিনি। আপনার এ বাক্যগুলো সাগরের গভীরতায় পৌছে গিয়েছে।

রাবী বলেন যিমাদ (রাঃ) বললেন, হাত বাড়িয়ে দিন আমি আপনার কাছে ইসলামের বায়আত গ্রহণ করব। রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বায়আত করে নিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বায়আত কি তোমার কাওমের পক্ষ হতেও? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার কাওমের পক্ষ হতেও।

রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট সেনাদল প্রেরণ করলেন। তারা যিমাদের (রাঃ) গোত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করল। সেনাপ্রধাণ তার সৈন্যদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি যিমাদের কাওমের নিকট থেকে কোন জিনিস গ্রহন করেছ? তখন তাদের মধ্যে থেকে এক ব্যাক্তি বলল, আমি একটি পানির (উযূ (ওজু/অজু/অযু)র) পাত্র নিয়েছি। সেনানায়ক বললেন, তা ফিরিয়ে দাও। এ মানুষগুলো হল যিমাদ (রাঃ) এর গোত্রের লোক।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ জুমু’আ

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নবাবগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা গ্রেপ্তার

নবাবগঞ্জ উপজেলায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আজিজুল হক মিতুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদর নবাবগঞ্জ বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মিতু উপজেলা সদর কাশিমপুর এলাকার মৃত নিলু মিয়ার ছেলে।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আশিকুর রহমান জানান, দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সদর কাশিমপুর এলাকা থেকে মিতুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। তিনি আরো জানান, ঢাকায় সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে নবাবগঞ্জের বিএনপি নেতারা নবাবগঞ্জ সদরে শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিয়ে আন্দোলন নামানোর চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় গত ১২ই আগস্ট মিতুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার পর থেকেই মিতু পলাতক ছিলেন বলেও জানান, পুলিশের এই কর্মকর্তা।

পাল্টাবে দোহারের চিত্র

পদ্মার ড্রেজিং এবং তীর রক্ষা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে দোহারের চিত্র। দোহার হবে ভ্রমন পিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় স্পট। এতে স্থানীয়দের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। রাজধানীর অদূরে এবং পদ্মা সেতুর কাছাকাছি নদী তীর এলাকাটির মানুষের শত বছরের ‘নদী ভাঙ্গন’ থেকে চিন্তামুক্ত এবং জীবনযাত্রা উন্নত হবে; যোগাযোগ থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘটবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এ লক্ষ্যে দোহার উপজেলার মাঝিরচর থেকে নারিশাবাজার হয়ে মোকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মা নদী ড্রেজিং ও বাম তীর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দোহার এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৮৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার মিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ৪২২ দশমিক ৫৫ মিটার এন্ডটার্মিনেশন এবং ২৪ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকায় অবস্থিত বসতবাড়ি, হাইওয়ে, রাস্তা-ঘাট, মাদরাসা-মসজিদ ও ফসলী জমিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা বা সম্পদ পদ্মা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা এবং ভ‚মি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দোহার এলাকাটি পদ্মা সেতুর কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এ এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। পদ্মা নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হলে প্রায় ২০ কিলোমিটার নতুন ভ‚খÐ পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে ড্রেজিং যে অর্থ ব্যয় হবে তা উঠে আসবে। উদ্ধার হওয়া এই জমি অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ঢাকার দক্ষিণে দোহার উপজেলায় পদ্মা নদীর বামতীরে অবস্থিত। পদ্মার বামতীর বরাবর প্রচÐ ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ অনেক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা-দোহার মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহƒত ঢাকা দক্ষিণ-পশ্চিম বাঁধ কাম রাস্তাসহ প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা, মার্কেট এবং কৃষি জমিসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নদী ভাঙ্গনের সম্মুখীন। এ সমস্যা সাধানে ২০১১ সালে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হয় এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে সমীক্ষা প্রতিবেদন হালনাগাদ করে। সে প্রেক্ষিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হলে তা অনুমোদন লাভ করে।

আইডবিøউএম’র সমীক্ষা প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, আওরঙ্গবাদ হতে ব্রাহা বাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫০০ কি. মি., মাঝিরচর হতে মোকসেদপুর পর্যন্ত ৭ দশমিক ৫০০ কি. মি., বাঘরা বাজার হতে যশোলদিয়া পর্যন্ত ৬ কি. মি. এবং যশোলদিয়া হতে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর নদী শাসন কাজ পর্যন্ত ২ কি. মি. সহ মোট ১৯ কি. মি. নদী তীর সংরক্ষণ কাজের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার মধ্যে ২ হাজার ৩৭৫ মিটার অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ করা হয়েছে এবং উজানে আওরঙ্গবাদ হতে ব্রাহা বাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫০ কি. মি. নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। আলোচ্য প্রকল্পে ৬ কি. মি. তীর প্রতিরক্ষা কাজ ও ২৪ দশমিক কি. মি. ড্রেজিং কাজ প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি পদ্মা সেতুর ৪ কি. মি. উজান হতে ২৮ কি. মি. উজানে অবস্থিত। এ এলাকায় নদীর গড় প্রস্থ ১০ কি. মি.। তাই নদীকে ৫/৬ কি. মি. এর মধ্যে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ২৪ কি. মি. ড্রেজিং কার্যক্রম প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রেজড মেটেরিয়াল নদীর দু’পাড়ে ফেলে ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রায় ২৫ বর্গ কি. মি. (২৫শ’ হেক্টর) ভূমি পুনরুদ্ধার করা হবে। পদ্মা নদীর হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল স্টাডি বিবেচনায় নিয়ে ফিজিক্যাল ও ম্যাথমেটিক্যাল মডেলিং এর মাধ্যমে ড্রেজিং এর পরিমাণ, এ্যালাইনমেন্ট ও ড্রেজড মেটেরিয়াল ডাম্পিং এরিয়া নির্ধারণ করা হবে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিআইডবিউটিএ এবং পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ড্রেজিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর গত ২৩ জুলাই এবং ২ আগস্ট প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)’র দু’টি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিদিনের হাদিস: পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া

0

হাদিস নং ২৪২৬: উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি থলে পেয়েছিলাম, যার মধ্যে একশ’ দ্বীনার ছিল এবং আমি (এটা নিয়ে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এলাম। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দাও। আমি তাই করলাম। কিন্তু এটি সনাক্ত করার মতো লোক পেলাম না। তখন আবার তাঁর কাছে এলাম। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আরো এক বছর ঘোষণা দাও। আমি তাই করলাম। কিন্তু কাউকে পেলাম না। আমি তৃতীয়বার তাঁর কাকে এলাম। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, থলে ও এর প্রাপ্ত বস্তুর সংখ্যা এবং এর বাঁধন স্মরণ রাখ। যদি এর মালিক আসে (তাকে দিয়ে দিবে।) নতুবা তুমি তা ভোগ করবে। তারপর আমি তা ভোগ করলাম। [শু‘বা (রহ.) বলেছেন] আমি এরপর মক্কায় সালামা (রহ.)-এর সঙ্গে দেখা করলাম, তিনি বললেন, তিন বছর কিংবা এক বছর তা আমার মনে নেই। (২৪৩৭)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ  ২২৬৫)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)

হাদিস নং ২৪২৭: যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পড়ে থাকা বস্তু গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এক বছর যাবৎ এর ঘোষণা দিতে থাক। এরপর থলে ও তার বাঁধন স্মরণ রাখ। এর মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি আসে এবং তোমাকে তার বিবরণ দেয় (তবে তাকে দিয়ে দিবে), নতুবা তুমি তা ব্যবহার করবে। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হারানো বস্তু যদি বক্রী হয়? তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] বললেন, সেটা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ের জন্য। সে আবার বলল, হারানো বস্তু উট হলে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারায় রাগের ভাব ফুটে উঠল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এতে তোমার কী প্রয়োজন? তার সাথেই (জুতার ন্যায়) ক্ষুর ও পানির পাত্র রয়েছে, সে পানি পান করবে এবং গাছের পাতা খাবে। (৯১)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৬৬)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ)

হাদিস নং ২৪২৮: যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পড়ে থাকা বস্তু সম্পর্কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হলো রাবীর বিশ্বাস যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, থলেটি এবং তার বাঁধন চিনে রাখ। এরপর এক বছর যাবৎ ঘোষণা দিতে থাক। ইয়াযীদ (রহ.) বলেন, যদি এর সনাক্তকারী না পাওয়া যায়, তবে যে এটা উঠিয়েছে সে খরচ করবে। কিন্তু সেটা তার কাছে আমানত স্বরূপ থাকবে। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, আমার জানা নেই যে, এ কথাটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীসের অন্তর্ভুক্ত ছিল, না তিনি নিজ হতে বলেছেন। এরপর সে জিজ্ঞেস করল, হারিয়ে যাওয়া বক্রী সম্পর্কে আপনি কী বলেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা নিয়ে নাও। তা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ে বাঘের। ইয়াযীদ (রহ.) বলেন, এটাও ঘোষণা দেয়া হবে। তারপর আবার সে জিজ্ঞেস করল, হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে আপনি কী বলেন? বর্ণনাকারী বলেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা ছেড়ে দাও। এর সাথেই রয়েছে পায়ের ক্ষুর ও তার পানির পাত্র। সে নিজেই পানি পান করবে এবং গাছপালা খাবে, যতক্ষণ না এর মালিক একে ফিরে পায়। (৯১)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৬৭)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ)

হাদিস নং ২৪২৯: যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে পড়ে থাকা জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, থলেটি এবং এর বাঁধন চিনে রাখ। তারপর এক বছর যাবৎ ঘোষণা দিতে থাক। যদি মালিক আসে (তবে তাকে তা দিয়ে দাও) আর যদি না আসে তা তোমার দায়িত্বে। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, যদি বকরী হারিয়ে যায়? তিনি বললেন, সেটা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের নতুবা সেটা নেকড়ের। তারপর সে হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এতে তোমার কী? এর সাথেই এর পানির পাত্র ও পায়ের ক্ষুর রয়েছে। মালিক তাকে না পাওয়া পর্যন্ত সে পানি পান করবে এবং গাছপালা খাবে। (৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ  ২২৬৮)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ)

হাদিস নং ২৪৩০. আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, তিনি বনী ইসরাঈলের জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে উল্লেখ করেন এবং সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন। (শেষ পর্যায়ে বলেন) সে ব্যক্তি দেখার জন্য বের হল, হয়ত কোন জাহাজ তার মাল নিয়ে এসেছে। তখন সে একটি কাঠ দেখতে পেল এবং তা পরিবারের জন্য জ্বালানী কাঠ হিসাবে নিয়ে এল। যখন তাকে চিরে ফেলল তাতে সে তার মাল ও একটি চিঠি পেল। (১৪৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ কিতাবুল লুকতাহ অনুচ্ছেদ-৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ ১৫১৬)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

প্রতিদিনের হাদিস: ঈদের সালাত

0

হাদিস নং ১৯১৭: মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর, উমর ও উসমান (রাঃ) এর সঙ্গে ঈদুল ফিতরের সালাতে শরীক হয়েছি। তাঁরা সবাই খুতবা প্রদানের পূর্বেই এ সালাত আদায় করতেন। তারপর খুতবা দিতেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি যেন এখন দেখছি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর হতে নামছেন হাতের ইশারায় সবাইকে বসিয়ে দিচ্ছেন এরপর পুরুষদের কাতার ভেদ করে অগ্রসর হলেন এবং মহিলাদের নিকট গিয়ে পৌছলেন। তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল (রাঃ)। তারপর এ আয়াত পাঠ করলেন “হে নবী! মু’মিন নারী যখন তোমার কাছে এসে বায়আত করে এ মর্মে যে, তারা আল্লাহব সাথে কোন শরীক স্থির করবে না। (সূরা মুমতাহিনাঃ ১২)। সম্পূর্ণ আয়াত পাঠ করার পর তিনি বললেন, তোমরা কি এ আয়াতের শর্তের উপর স্থির আছ? তখন একজন মহিলা উত্তর দিল। এ মহিলা ব্যতীত অন্য কেউ কথা বলেননি। হ্যাঁ হে আল্লাহর নাবী! কিন্তু সে মহিলা কে তা জানা যায়নি। তিনি বললেন, তোমরা সাদাকা কর। বিলাল (রাঃ) তার কাপড় দিলেন এবং বললেন, এসো আমার মাতাপিতা তোমাদের জন্য উৎসর্গকৃত। মহিলাগণ তাদের বালা ও আংটি বেলালের কাপড়ে দিতে লাগলেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৯১৮: আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবার পূর্বে সালাত আদায় করতেন। তারপর খুতবা দিতেন। একবার তার মনে হল যে, মহিলারা (খুতবা) শুনতে পায়নি। তাই তিনি তাদের নিকট গেলেন। অতঃপর তাদের উদ্দেশ্যে ওয়ায-নসীহত করলেন এবং সাদাকা করতে আদেশ দিলেন। আর বিলাল (রাঃ) তার কাপড় পেতে রাখলেন এবং মহিলাগণ আংটি, কানের দুল ইত্যাদি অলংকার ফেলতে লাগল।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৯২০: ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিনে প্রথমে খুতবার পূর্বে সালাত আদায় করলেন। এরপর লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা শেষ করার পর মিম্বর হতে অবতরণ করলেন এবং মহিলাদের নিকট গেলেন এবং তাদেরকে উপদেশ দিলেন। তখন তিনি বিলালের হাতের উপর হেলান দিয়েছিলেন। আর বিলাল (রাঃ) কাপড় পেতে রেখেছিলেন। মহিলারা সাদাকা দিচ্ছিল। আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, এসব কি সাদাকায়ে ফিতরা ছিল? তিনি বললেন, না। তবে তারা নফল সাদাকা দিচ্ছিল। ঐ সময়ে মহিলাগণ সাদাকা করছিল তাদের কানের বালা এবং অন্যান্য জিনিস। আমি আতাকে বললাম, এখনও কি ইমামের খুতবা শেষ করার পর মহিলাদের নিকট যাওয়া এবং তাদের উপদেশ দেয়া কর্তব্য। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম। এ হল তাদের দায়িত্ব। কিন্তু তাদের কি হয়েছে? তারা কেন তা করেন না?

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৯২১: মুহাম্মাদ ইবনু নুমায়র (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ঈদের দিন সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খূতবার পূর্বে প্রথমে সালাত আরম্ভ করলেন। তাতে আযান ও ইকামত ছিল না। তারপর তিনি, গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার জন্য আদেশ দিলেন। তার (আল্লাহর) অনুগত্যের প্রতি উৎসাহিত করলেন। লোকদের ওয়ায-নসিহত করলেন। তারপর মহিলাদের নিকট গেলেন। তাদের উদ্দেশ্যে ওয়ায-নসীহত করলেন এবং বললেন, সাদাকা কর। কেননা তোমাদের অধিকাংশ হবে জাহান্নামের ইন্ধন। মহিলাদের মধ্যে থেকে একজন মহিলা দাঁড়াল। যার উভয় গালে কাল দাগ ছিলা সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তা কেন? তিনি বললেন। তোমরা বেশী অভিযোগ করে থাকো। তোমরা উপকারকারীর উপকার অস্বীকার কর।

রাবী বলেন তখন মহিলাগণ তাদের অলংকারাদি সাদাকা করতে লাগল। তারা বিলাল (রাঃ) এর কাপড়ে তাদের আংটি, কানের দুল ইত্যাদি ফেলতে শুরু করল।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৯২২: মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিবসে আযান দেয়া হত না। ইবনু জুরায়জ (রহঃ) বলেন, কিছুকাল পর আমি তাকে [আতাকে] এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে বললেন যে, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ঈদুল ফিতরের সালাতের জন্য কোন আযান নেই। ইমাম (হুজরা থেকে) বের হওয়ার মূহৃর্তেও নয়, পরেও নয়। ইকামতও নেই, নেদা-আহবান কিছুই নেই। সেদিন আহবানও নেই, ইকামতও নেই।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ দুই ঈদের সালাত

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন