নির্বাচনী হালচাল: ঢাকা-১ আসনে মহাজোটে জটিল সমীকরণ

ঢাকা-১ সংসদীয় আসনটি দোহার ও নবাবগঞ্জ দু’টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দোহার ও নবাবগঞ্জ পৃথক দু’টি আসন ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর থেকে দোহার ও নবাবগঞ্জ দু’টি উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১ আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান।

ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নানকে পরাজিত করে বিজয়ী হন তিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী হন অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান আর বিএনপির প্রার্থী না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আবদুল মান্নান খান সালমা ইসলামের কাছে পরাজিত হওয়ায় অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বর্তমানে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও এ অঞ্চলের মহাজোটের কর্মী-সমর্থকেরা কাকে প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে পাচ্ছেন সেই হিসাব-নিকাশ থেকে অনেকটা দূরে থাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা।

এ বছর দোহার নবাবগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন দু’জন। একজন সাবেক গৃহায়ন ও গণ পূর্তপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ও অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমান। অন্য দিকে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। স্থানীয় আওয়ামী লীগে দীর্ঘ দিন দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিভাজন থাকায় কে মনোনয়ন পাচ্ছেন এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

আর মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন এমন সিদ্ধান্তে অনেক আগ থেকেই অটল রয়েছেন। সালমা ইসলাম নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সমাবেশে নিজের পক্ষে ভোটারদের ভোট চাইলেও এখনো আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর মধ্যে কাউকেই এখনো কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার কিংবা গণসংযোগ করতে দেখা যায়নি, যে কারণে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী দুই প্রার্থীর নেতাদের মধ্যে একধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ভোট দরজায় কড়া নাড়ছে অথচ তেমন তৎপর নেই দলটির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক সিনিয়র নেতা অভিযোগ করেন, এখনো কোনো নেতাকেই এখানে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে দেখা যায়নি; যে কারণে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হলে দেখা দেবে অসন্তোষ।

এ বিষয়ে কথা হয় জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, “পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যদি এবার মহাজোটের সাথে নির্বাচন করেন তাহলে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে যেহেতু আমি বর্তমান এমপি, সেহেতু আমাকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে। আর যদি জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে বেরিয়ে নির্বাচন করে তাহলে সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করব।”

অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর একজন আস্থাভাজন ও পরীক্ষিত কর্মী, সে হিসেবে আমি বিশ্বাস করি এ আসন থেকে আমাকেই আগামী নির্বাচনের জন্য মনোনীত করা হবে। আর যদি দল থেকে অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে আমি তার পক্ষে কাজ করে নৌকার বিজয়কে নিশ্চিত করব।” সালমান এফ রহমানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নবাবগঞ্জে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

১০ সেপ্টেম্বর সোমবার নবাবগঞ্জের খানেপুরে ইছামতি নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নৌকা বাইচের উদ্ভোধন করেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন। নবাবগঞ্জের খানেপুর আয়োজিত এই নৌকা বাইচে নবাবগঞ্জের ছাড়াও অংশ গ্রহন করে হরিরামপুর ও মানিকগঞ্জের নৌকা। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ আসনের এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ(দক্ষিন) এর সভাপতি গিয়াসউদ্দিন সোহাগ, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সুরুজ আলম সুরুজ, দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক উদয় হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও এর অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

নবাবগঞ্জে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

এই সময় নৌকা বাইচের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঢাকা-১ আসনের এমপি সালমা ইসলাম ও দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

নবাবগঞ্জে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

 

নবাবগঞ্জে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

 

নবাবগঞ্জে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

বাংলাদেশে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গভীর খাদ

0

সমুদ্রের বিশালতার যেমন শেষ নেই, তেমনি তার রহস্যেরও শেষ নেই। সমুদ্রের সৌন্দর্যে অবাক হয় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এই সমূদ্রের তলদেশে হাজার হাজার প্রজাতির প্রাণীর অবাধ বিচরণ। বিশাল সমূদ্রের কিছু অংশ প্রাণীরা প্রজননের জন্য বেছে নেয়। বঙ্গোপসাগরের বুকেও আছে এমনই একটি প্রজনন অঞ্চল, বিলুপ্তপ্রায় কিছু সামুদ্রিক প্রাণীদের অভয়ারণ্য। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে বাংলাদেশেই রয়েছে ‘সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড’ বা SONG নামে বিশ্বের অন্যতম গভীরতম খাদ।

অনেক আগে ব্রিটিশরা সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড নামকরণ করে এই স্থানটির। সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড যেখান থেকে শুরু সেখান থেকেই হঠাৎ করে পানির গভীরতা অনেক বেড়ে গেছে। ব্রিটিশরা ধারণা করেছিলো সমুদ্রের এই স্থানে খাদের কোন তলদেশ নাই, এজন্যই এমন নামকরণ করেন তাঁরা।

সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড বিশ্বের সেরা ১১টি গভীর খাদ বা ক্যানিয়ন এর মাঝে অন্যতম একটি খাদ। অনেকের মতে আবার সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গভীর খাদ। যা আজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিল বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের অবস্থান দূরে কোথাও নয় আমাদের দেশেই বঙ্গপোসাগরে অবস্থিত। মংলা সুন্দরবনের দুবলার চর বা সোনার চর থেকে থেকে সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডের দূরত্ব ৩০-৪০ কিলোমিটার। এছাড়াও কুয়াকাটা থেকে সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড প্রায় ৯০ কি.মি.। সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরের তলায় একটি গভীর উপত্যকা বা মেরিন ভ্যালি। একে আন্ডার ওয়াটার ক্যানিয়নও বলা হয়। সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড প্রায় ৩,৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত।

সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড কে স্থানীয় জেলেরা ‘নাই বাম’ বলে ডাকে। সাগরের গভীরতা তারা ফুট কিংবা মিটারে না, বাঁশের হিসাব ‘বাম’ অনুযায়ী সাগরের হিসাব করে। এই স্থানের কোনো হিসাব তাদের কাছে না থাকায় ‘নাই বাম’ বলে ডাকে। এই স্থানটি মারিয়ানা ট্রেঞ্চের মতো। বাংলায় যাকে বলে অতল স্পর্শী।

এই জায়গায় পানির আলাদা রঙের কারণে দূর থেকে নজরে পড়ে। পানির গভীরতা অন্যান্য অংশ থেকে সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড এ বেশি বলে এখানে পানির রং সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণ সমুদ্রের তলদেশ থেকে সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড সর্বোচ্চ ১৩৪০ মিটার পর্যন্ত গভীর।

সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রানির অবাধ বিচরণের কারণে বিখ্যাত। সমুদ্রের অন্যান্য অংশ থেকে গভীর হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো: তিমি, পপাস ডলফিন, পৃথিবীর বৃহত্তম ইরাবতী ডলফিন, গোলাপি পিঠকূজো ইন্দো প্যাসিফিক ডলফিন, মসৃন পিঠের (পাখনাহীন) ইমপ্লাইস ডলফিন। আসলে সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড ডলফিন ও তিমির হটস্পট। ‘সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড’ পৃথিবীর একমাত্র স্থান যেখানে এই তিনটি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী একসঙ্গে পাওয়া যায়।

আরেকটা বিষয় লক্ষণীয়, সী-গাল পাখির অবস্থান নির্ভর করে অনেক সময় ডলফিন বা তিমির অবস্থান বোঝা যায়। যদি দেখেন সী-গাল পাখি পানির কাছাকাছি চক্কর দিচ্ছে তাহলে আশাপাশে ডলফিন বা তিমি আছে বলে অনুমান করে নিতে পারেন।

জানা যায়, সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডে ১৮৬৩ সালে গ্যাডফ্লাই নামে ২১২ টন ওজনের একটি ব্রিটিশ জাহাজ ভারত থেকে ইংল্যান্ডে বিপুল পরিমান ধনরত্ন নিয়ে যাওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায় এইখানে।

সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড যেতে হলে ঢাকা থেকে মংলা যেতে হবে। মংলা থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার ট্রলার সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড যায়। তাদের সঙ্গে কথা বলে যেকোন একটি ট্রলারে উঠে চলে যেতে পারেন সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড।

সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডের একটি নির্দিষ্ট স্থান আছে যেখানে রাতে মাছ ধরার ট্রলারগুলো অবস্থান করে, যদি সম্ভব হয় তাহলে এইখানে একটা রাত কাটিয়ে আসতে পারেন। এখানে রাত কাটানোর অনুভুতিটা নিশ্চয় আপনার জীবনে অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা হবে।

প্রতিদিনের হাদিস: আন্‌-নওয়াবীর চল্লিশ হাদীস(পর্ব-১)

0

হাদিস নং ১: আমীরুল মুমিনীন আবূ হাফস্ উমার ইবনু আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন—

আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি— “সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়্যতের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়্যত করেছে, তাই পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত দুনিয়া (পার্থিব বস্তু) আহরণ করার জন্য অথবা মহিলাকে বিয়ে করার জন্য তার হিজরত সে জন্য বিবেচিত হবে যে জন্য সে হিজরত করেছে।”

[সহীহ্ আল-বুখারী: ১, সহীহ্ মুসলিম: ১৯০৭। মুহাদ্দিসগণের দুই ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইব্রাহীম ইবনু মুগীরা ইবনু বারদেযবাহ্ আল-বুখারী এবং আবূল হাসান মুসলিম ইবনু হাজ্জাজ ইবনু মুসলিম আল-কুশায়রী আন্-নিশাপুরী আপন আপন সহীহ্ গ্রন্থে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। যা সবচেয়ে সহীহ্ গ্রন্থদ্বয় বলে বিবেচিত হয়।]

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২: এটাও উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন,

একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয়, যার কাপড় ছিল ধবধবে সাদা, চুল ছিল ভীষণ কালো; তার মাঝে ভ্রমণের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতে পারে নি। সে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে গিয়ে বসে, নিজের হাঁটু তার হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে নিজের হাত তার উরুতে রেখে বললেন: “হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন”।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “ইসলাম হচ্ছে এই- তুমি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত আদায় কর, রমাদানে সওম সাধনা কর এবং যদি সামর্থ থাকে তবে (আল্লাহর) ঘরের হজ্জ কর।”

তিনি (লোকটি) বললেন: “আপনি ঠিক বলেছেন”। আমরা বিস্মিত হলাম, সে নিজে তার নিকট জিজ্ঞাসা করেছে আবার নিজেই তার জবাবকে ঠিক বলে ঘোষণা করছে। এরপর বলল: “আচ্ছা, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন”।

তিনি (রাসূল) বললেন: “তা হচ্ছে এই- আল্লাহ্, তাঁর ফিরিশ্‌তাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও আখেরাতর উপর ঈমান আনা এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনা।”

সে (আগন্তুক) বলল: “আপনি ঠিক বলেছেন”। তারপর বলল: “আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন”।

তিনি বলেন: “তা হচ্ছে এই- তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ, আর তুমি যদি তাঁকে দেখতে নাও পাও তবে তিনি তোমাকে দেখছেন”।

সে (আগন্তুক) বলল: “আমাকে কেয়ামত সম্পর্কে বলুন”।

তিনি (রাসূল) বললেন: “যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে সে জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশী কিছু জানে না”।

সে (আগন্তুক) বলল: “আচ্ছা, তার লক্ষণ সম্পর্কে বলুন”।

তিনি (রাসূল) বললেন: “তা হচ্ছে এই- দাসী নিজের মালিককে জন্ম দেবে, সম্পদ ও বস্ত্রহীন রাখালগণ উঁচু উঁচু প্রাসাদে দম্ভ করবে”।

তারপর ঐ ব্যক্তি চলে যায়, আর আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থাকি। তখন তিনি (রাসূল) আমাকে বললেন: “হে উমার, প্রশ্নকারী কে ছিলেন, তুমি কি জান? আমি বললাম: “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অধিক ভাল জানেন”। তিনি বললেন: “তিনি হলেন জিবরীল। তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন।”

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ আন্‌-নওয়াবীর চল্লিশ হাদীস

পাবলিশারঃ ইসলাম হাউস

সফলতার দৃষ্টান্ত দেখালেন টার্কি খামারি বান্দুরার আবু সাঈদ

নিজের চেষ্টায় টার্কি পালন করে সফলতার মুখ দেখেছেন ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার নতুন বান্দুরা এলাকার আবু সাঈদ টুটুল। আবু সাঈদকে এ অঞ্চলের একজন আদর্শ টার্কি খামারি বললে ভুল হবে না। টার্কির ডিম ও গোশত সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা না পেলেও ভবিষ্যতে টার্কি আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, টার্কির ডিম ও গোশত অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।

১০ বছর আগে সখের বশে রাজধানীর কাঁটাবন এলাকা থেকে ১ জোড়া টার্কি কিনে আনেন আবু সাঈদ। সেই সময়ে কয়েক ধরনের পোষা পাখি ছিল তার শখের তালিকায়। একটা সময়ে তিনি মনে মনে চিন্তা করেন শখের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে টার্কি পালন করলে কেমন হয়। আর সেই ভাবনার জায়গা থেকে শুরু করেন টার্কি পালন। ২০১৪ সালে শুরুর দিকে তিন মাস বয়সী কয়েকটি টার্কি দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। দিন দিন উন্নতির দিকে ধাপিত হচ্ছে তার খামার। তিনটি টিনের শেডে লালনপালন করছেন টার্কিগুলো। সঠিক লালনপালনের মাধ্যমে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে খামারের টার্কিগুলো। বান্দুরা এগ্রো নামের খামারটিতে ছোট বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিক টার্কি রয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা আর সময়মতো প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন প্রয়োগ করায় রোগ ব্যাধিমুক্ত রয়েছে এই খামারের টার্কি। বর্তমানে তার খামারে সব মিলিয়ে প্রায় সাত লাখ টাকার টার্কি রয়েছে। টার্কি ছয় মাস বয়সে ডিম পারতে শুরু করে আর সাধারণত চার বছর পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। বছরে সর্বোচ্চ ২০০টি ডিম দেয়। তবে ডিম ও এক দিনের বাচ্চার দামও ভালো পাওয়া যায় বলে ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন এই খামারি।

বর্তমানে এক হালি ডিমের দাম ৪ শ’ থেকে ৫ শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে আর ১৫ দিন বয়সী একটি টার্কির বাচ্চার দাম ৩ শ’ থেকে থেকে ৪ শ’ টাকা। আবু সাঈদের খামারে রয়েছে নানা জাতের টার্কি। কোনোটার রঙ কালো, কোনোটা সাদা, কোনোটা সাদা-কালোর মিশেল। একটি টার্কির বাচ্চা ঠিকমতো পালন করলে এক বছরেই ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয় বলে জানান তিনি। আর একটি টার্কির সর্বোচ্চ ১৭ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়, যা একটি মাঝারি গড়নের ছাগলের সমান।

প্রতিদিন একটি টার্কি খাবার খায় গড়ে মাত্র ১৫০ গ্রাম। টার্র্কির জন্য আলাদা কোনো খাবার তৈরি হয়নি বলে পোলট্রির লেয়ার খাবারই খাওয়ানো হচ্ছে। দানাদার খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির ঘাসও টার্কির পছন্দ। তাই দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস কুচিকুচি করে কেটে খাওয়ানো হয়। খামার দেখাশোনার জন্য রয়েছেন একজন শ্রমিক। এলাকার অনেকেই বান্দুরা এগ্রোর সফলতা দেখে টার্কি পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে টার্কি পালনে আগ্রহীরা এই খামার থেকে ডিম ও বাচ্চা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

আবু সাঈদ জানান, বর্তমানে টার্কির বাজার দর, পালন পদ্ধতি সবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেগুলোয় সহজে জানা যায়। আমিও আমার খামারের ডিম ও বাচ্চা অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করছি।

দেশে এখনো টার্কির বড় বাণিজ্যিক হ্যাচারি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় উদ্যোক্তারা নিজ উদ্যোগে ছোট আকারে গড়ে তুলছেন ইনকিবিউটর; যা চাহিদার তুলনায় একেবারে নগণ্য। আবু সাঈদও তাদের মধ্যে একজন।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: জাকির হোসেন বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমতে সব খামারিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে থাকি। কেউ যদি ঋণ নিতে চায় তাদেরকেও আমরা সহযোগিতার করি।

নতুন সিরিজে গ্রামীণফোন-বাংলালিংকের ৩ কোটি সিম

0

নতুন নম্বর সিরিজে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন দুই কোটি এবং বাংলালিংককে এক কোটি সিম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক জানান, বুধবার কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জহুরুল হক জানান, গ্রামীণফোনের জন্য বরাদ্দ ০১৩ সিরিজে ০১৩০ দিয়ে এক কোটি এবং ০১৩১ দিয়ে এক কোটি অর্থাৎ দুই কোটি সিম বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর বাংলালিংক ০১৪ সিরিজে এক কোটি সিম বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে।

গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোন ০১৭ সিরিজের প্রায় ১০ কোটি নম্বর শেষ হয়ে আসছে জানিয়ে ২০১৫ সালে নতুন সিরিজের আবেদন করে। ০১৭ এর পাশাপাশি নতুন করে ০১৩ সিরিজ গ্রামীণফোনকে দিতে বিটিআরসি ২০১৬ সালে প্রাথমিক সম্মতি দিলেও বিষয়টি আটকে ছিল দীর্ঘদিন।

জাতীয় নম্বর পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশে মোবাইল ফোন অপারেটরদের নম্বর শুরু হয় ০১ সিরিজ দিয়ে। এর মধ্যে গ্রামীণফোন ০১৭,  সিটিসেল ০১১, টেলিটক ০১৫, এয়ারটেল ০১৬, রবি ০১৮ ও বাংলালিংক ০১৯ সিরিজ ব্যবহার করে আসছে।

বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, একেকটি সিরিজে ১০ কোটি নম্বর অপারেটররা ব্যবহার করতে পারে। ০১০, ০১২, ০১৩ ও ০১৪ সিরিজ এতদিন অব্যবহৃত ছিল। তার মধ্যে দুটি সিরিজ গ্রামীণফোন ও বাংলা লিংককে দেওয়া হয়েছে।

বিটিআরসির জুলাই মাসের তথ্য অনুযায়ী গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ৭ কোটির  বেশি; আর বাংলালিংকের গ্রাহক ৩ কোটি ৩৩ লাখ ছাড়িয়েছে।

প্রতিদিনের হাদিস: রাসুল(সা) এর আংটি

0

হাদিস নং ৪২১৪: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় অনারব বাদশাহদের নিকট চিঠি প্রেরণ করতে চাইলে তাঁকে বলা হলো যে, তারা তো সিল মোহরবিহীন কোনো চিঠি পড়ে না। সুতরাং তিনি রূপা দিয়ে একটি আংটি বানান, এবং তাতে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অংকিত করান।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪২১৫: আনাস (রাঃ) সূত্রে ঈসা ইবনু ইউনুসের বর্ণিত উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে আরো রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রূপার আংটি তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর হাতেই ছিলো। অতঃপর সেটি আবূ বাকর (রাঃ)-এর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর হাতে, এরপর উমার (রাঃ)-এর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর হাতে ছিলো, অতঃপর উসমান (রাঃ)-এর হাতে এলে তিনি কূপের নিকট অবস্থানকালে হঠাৎ তাঁর হাত থেকে সেটি কূপে পড়ে যায়। পরে তার নির্দেশে কূপের সমস্ত পানি নিষ্কাষন করা হয় কিন্তু সেটি আর পাওয়া যায়নি।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪২১৬: আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি রূপার আংটি ছিলো এবং এর পাথর ছিলো আবিসিনীয়।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪২১৭: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আংটি ও তাঁর পাথর পুরাটাই ছিলো রূপার।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪২১৮: ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি আংটি বানিয়েছিলেন স্বর্ণের এবং এর উপরিভাগ ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অংকন করিয়েছিলেন। ফলে লোকেরাও স্বর্ণের আংটি বানালো। তিনি তা দেখে স্বর্ণের আংটি বর্জন করে বললেনঃ আমি এটি আর কখনই পরবো না। অতঃপর তিনি রূপা দিয়ে একটি আংটি বানালেন এবং তাতে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অংকিত করালেন। তাঁর মৃত্যুর পর আবূ বাকর (রাঃ) তা ব্যবহার করেন। তার মৃত্যুর পর উমার (রাঃ) তা ব্যবহার করেন এবং তার পরে উসমান (রাঃ) তা ব্যবহার শুরু করেন। একদিন তার হাত থেকে সেটি ‘আরীস’ নামক কূপে পড়ে যায়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘উসমান (রাঃ)-এর হাত থেকে আংটিটি পড়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত লোকেরা তার সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়নি।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ

অধ্যায়ঃ আংটি

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী

কী ঘটেছিলো যে কারণে বঙ্গবন্ধু আপস-ফর্মুলা থেকে বেরিয়ে আসলেন

0

বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ‘নিউক্লিয়াস’-এর কতিপয় সিদ্ধান্ত ও ঘটনা আজো প্রকাশিত হয়নি। স্বাধীনতার প্রশ্নে ‘নিউক্লিয়াস’-এর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কও পুরোপুরি জানা যায়নি। ’৬২ থেকে ’৭১-এর ২৬ মার্চ পর্যন্ত ‘নিউক্লিয়াস’ এবং পরবর্তীতে ‘নিউক্লিয়াস’-এর রাজনৈতিক উইং ‘বিএলএফ’ এবং সামরিক উইং ‘জয় বাংলা বাহিনী’ সম্পর্কে কিছু অংশ প্রকাশিত হলেও অনেক কিছুই এখন পর্যন্ত অপ্রকাশিত।

একথা বুঝতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কারণ নেই যে, কোনো একটি ভাষণ (৭ মার্চ, ১৯৭১) অথবা কোনো একটি রেডিও থেকে বিশেষ বক্তব্য (২৬-২৭ মার্চ, ১৯৭১) অথবা পতাকা উত্তোলন (২ মার্চ, ১৯৭১) এবং ইশতেহার পাঠ (৩ মার্চ, ১৯৭১); এই ধরনের ঘটনা হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো বিষয় নয়। তাহলে ঘটনাগুলো কীভাবে ঘটলো এবং এ ঘটার পেছনের ইতিহাস কি?

বাংলাদেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে ‘নিউক্লিয়াস-বিএলএফ’-এর আট বছরের অদম্য সাহসী ও বিচক্ষণমূলক সাংগঠনিক উদ্যোগ এবং ’৭১-এর ১ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঘটনাবলী ও নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধ নিয়ে হোমার-এর ‘ইলিয়াড’-এ বর্ণিত ট্রয় নগরীকে নিয়ে ঘটিত যুদ্ধের মতো কাব্যিক না হলেও উল্লিখিত কর্মযজ্ঞের মধ্যদিয়ে একটি জাতির নবজন্মের যে আত্মপ্রত্যয়ী ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার সূত্রপাত হলো তাকে নিয়ে ‘মহাকাব্য’ রচিত হতে পারে।

জাতিভিত্তিক একটি রাষ্ট্রের অভ্যুদয় কেবলমাত্র রাজনৈতিক-প্রাকৃতিক ইচ্ছার ফসল নয়। বহু দিনের বহু ঘটনার মধ্যদিয়ে যা, শত বছর ধরে অতিক্রম করতে হয় তাকে কেবলমাত্র ব্যক্তিবিশেষ বা গোষ্ঠী বিশেষের কার্যকলাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে সে জাতির সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেও অসম্মান করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন কেবল গণতান্ত্রিক অথবা সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে তাও স্বাধীনতার পুরো ইতিহাসকে তুলে ধরা তো হবেই না বরং তা হবে জাতি গঠনে শত বছরের বীরত্বব্যঞ্জক ঘটনাবলী এবং ত্যাগের ইতিহাসকে পরবর্তী বংশধরদের কাছে গোপন করে রাখারই অপকৌশল। কেন এই অপকৌশল? আমাদের নতুন প্রজন্ম একদিন অবশ্যই তা জানতে চাইবে।

মার্চ মাসের প্রথম ২৬ দিনের প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতি ২৪ ঘণ্টা, পুরো সপ্তাহ এবং যতই ২৬ মার্চ ঘনিয়ে আসছিলো ততোই তখনকার জনগোষ্ঠীর মধ্যকার ছাত্র-যুবসমাজের যে অদম্য এবং সাহসী প্রত্যয়, অনেক জল্পনা-কল্পনা, অনেক পিছুটান, অনেক অনিচ্ছা এবং অনেক ধীরে চলার প্রচেষ্টাকে অতিক্রম করে স্বাধীনতার জন্য শেষ লড়াই সশস্ত্র যুদ্ধ সংঘটিত করার প্রস্তুতি নিয়েছিলো তা-ও প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন।

২২ মার্চ সংবাদপত্রসমূহে ইয়াহিয়া-ভুট্টো-মুজিবের আলোচনার সফলতা প্রকাশিত হলো। পাকিস্তানকে রেখেই (নামে মাত্র হলেও) দুই অংশের দুই প্রধান মন্ত্রিত্ব নিয়ে এই আপস ফর্মুলা।

২৩ মার্চ এ আপস ফর্মুলার বহিঃপ্রকাশ ঘটলো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইয়াহিয়ার সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে। আবার অন্যদিকে ২৩ মার্চ ছিলো পাকিস্তান দিবসের বিপরীতে ‘নিউক্লিয়াস’ ঘোষিত ‘প্রতিরোধ দিবস’ পালন কর্মসূচি। ২৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু অনির্ধারিত সাক্ষাৎ করেন ইয়াহিয়ার সঙ্গে। জানাজানি হলো আপস-চুক্তি হবে না। তারই ফলাফল ২৫ মার্চে পাকিস্তানিদের আক্রমণ।

২৩ মার্চ গভীর রাতে ‘নিউক্লিয়াস’ ও ‘বিএলএফ’ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর চার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। এই বৈঠকে কী ঘটেছিলো যে কারণে বঙ্গবন্ধু আপস-ফর্মুলা থেকে বেরিয়ে আসলেন।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতার ঘোষণার বক্তব্য ও ভাষা নিয়ে কয়েক ধরনের বিবরণ (version) শুনতে পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার প্রকৃত কথাগুলো কি তা আজো অজানা।

২৬-২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার থেকে প্রচারিত তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান-এর আহ্বান সম্পর্কিত বিতর্কের অবশ্যই অবসান হওয়া প্রয়োজন।

বাঙালির স্বাধীনতার বিষয়টি কখন কোথায় কার দ্বারা সূত্রপাত ঘটেছিলো তার সম্যক উপলব্ধির জন্য ইতিহাসবিদরা প্রয়োজনীয় দলিল অবশ্যই খুঁজে বের করবেন। সেই ইতিহাস লেখার শুরুতেই ইতিহাসবিদদের মাথায় যে কথাটি থাকতে হবে, তা হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাটি আসে সাহসী ছাত্র-যুব নেতৃবৃন্দের বক্তব্য থেকেই। আর স্বাধীনতার জন্য ছাত্র-যুবকদের গোপন সংগঠন এবং তাদের কর্মকা- স্বাধীনতার প্রশ্নটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি। তবে বাংলাদেশ প্রথম স্বাধীন হয় সাহসী ছাত্র-যুব নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের    মধ্যদিয়ে যা আজ সবমহলে স্বীকৃত। এরপর যা কিছু ঘটেছে এবং যার যার যে অবদান অনস্বীকার্য সেগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েই বলতে হবে স্বাধীনতার শুরুটা ঠিক কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল দিয়েই হয়নি। ছাত্র-যুবসমাজের আপসহীন মনোভাব এবং কালোত্তীর্ণ সাংগঠনিক উদ্যোগ ও সংগঠনশক্তিই হবে স্বাধীনতার উপর লেখা সেই ‘মহাকাব্যে’র অন্যতম প্রধান উপাদান।

দোহারে ট্রাকের ধাক্কায় ধ্বসে পরল বৈদ্যুতিক খুটি

0

দোহারের মেঘুলা বাজার সংলগ্ন মালিকান্দা স্কুলের সামনে একটি মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ধ্বসে পরে একটি বৈদ্যুতিক খুটি।

৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে মালিকান্দা স্কুল সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। মালবাহী ট্রাকটির সাথে রাস্তার পাশে স্থাপন করা বৈদ্যুতিক খুটির সাথে ধাক্কা লাগে, ফলে মুহুর্তের মধ্যেই ধ্বসে পরে সেই বৈদ্যুতিক খুটি।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৈদ্যুতিক খুটিটি অনেক দিন ধরেই বেশ নড়বড়েভাবে ছিল। ফলে ট্রাকটির সাথে ধাক্কা লাগার সাথে সাথেই মাঝখান থেকে ভেঙ্গে পরে।

ট্রাকটিকে জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সরকারি হচ্ছে নবাবগঞ্জ ও জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

অবশেষে সরকারি হচ্ছে দোহারের প্রানকেন্দ্র জয়পাড়াতে অবস্থিত জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ। সরকারিকণের লক্ষ্যে এই দুইটি স্কুল সহ ৬০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ডিড অব গিফট সম্পাদনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নিয়োগ কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ৬০ প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকাসহ এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠি জেলা শিক্ষা অফিসার, প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পাঠিয়ে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের নিকট হস্তান্তরের জন্য ‘ডিড অব গিফট’ সম্পাদন করতে বলা হয়েছে।

একই চিঠিতে  ৬০ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের ২টি উৎসব ভাতাসহ বেতনভাতা বাবদ বাৎসরিক কত টাকা প্রয়োজন হবে সে সংক্রান্ত তথ্যও ৭ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

দেশের প্রতি উপজেলায় একটি করে বেসরকারি স্কুল ও কলেজ সরকারিকরণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণার প্রেক্ষিতে দেশের ৬০ উপজেলায় ৬০টি বিদ্যালয় সরকারিকরণের প্রস্তাবে গত ২৯ আগস্ট অনাপত্তি জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ অনাপত্তির প্রেক্ষিতেই এসব প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।