আমার পিতৃভূমি ‘বিক্রমপুরে’ কোনদিন না যাওয়ার আক্ষেপ এখনো আছে : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

0

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর। ময়মনসিংহ জেলায়, ব্রহ্মপুত্র নদীর ধারে। ভারতীয় রেলে কর্মরত ছিলেন বাবা। ফলত শৈশব-যৌবন কেটেছে নানান ঠাঁইয়ে। মহাবিদ্যালয় স্তরের অধ্যয়ন কলকাতাতে, স্নাতকোত্তর স্তরে অধ্যয়ন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বৃত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন শিক্ষকতা, পরে সাংবাদিকতা। প্রথম উপন্যাস ঘুণপোকা তাঁর কীর্তিপথ প্রশস্থ করে দেয়। ১৯৮৯ সালে ‘মানবজমিন’ উপন্যাসের জন্য অর্জন করেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার। ছোটদের জন্য অবিরাম লিখেছেন। শিশুকিশোর সাহিত্যের অনন্য কৃতির প্রতি স্বীকৃতি জ্ঞাপন করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৮৫ সালে তাকে অর্পণ করা হয় বিদ্যাসাগর স্মৃতি পুরস্কার। অনন্ত মানবজমিন ধরে অবিরাম সৃজনকর্মে এখনও হেঁটে-চলা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঢাকা আগমণের ঠিক আগে গতকাল ৯ নভেম্বর বিকেলে কলকাতা বিমান বন্দরে কথা বললেন অরুণাভ রাহারায়

শীর্ষন্দুদা, আপনাকে প্রথমেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনি ৮৩ বছরে পা দিলেন। এখন নিশ্চয়ই আপনি অনেক কচিকাঁচার দাদু। এই বয়সে এসে নিজের প্রিয় দাদুকে আর মিস করেন?

নিজের দাদুকে মিস করা বলতে ছেলেবেলায় যে শোকটা হয়েছিলো সেটা তো এখন নেই। কিন্তু কোন স্থান থেকে মানুষ যখন একটি ভালোবাসা পায় এবং সে ভালোবাসাটি অনুপস্থিত থাকে, তখন মানুষ একটা কিছু মিস করে। দাদুকে আমার এখনো মনে পড়ে এইটে হচ্ছে সবথেকে বড় কথা। আমার প্রতি তার যে সাংঘাতিক একটা পক্ষপাত সেটার কথা ভুলতে পারি না। আমার জন্য দাদুর একটি শর্তহীন ভালোবাসা ছিলো। দাদুর অনেক নাতি-নাতনী ছিলো, কিন্তু তিনি বিশেষ দুর্বল ছিলেন আমার উপর। যাই হোক, যদি বলো দাদুকে মিস করি, তা ঠিক নয়, কিন্তু তার কথা আমার খুব মনে পড়ে। এবং তখন মনটা খুব মেদুর হয়ে যায়।

বেশ কিছুদিন পর ঢাকা যাচ্ছেন। আপনার পিতৃভূমি তো বিক্রমপুর।

হ্যাঁ, ঢাকা যাচ্ছি অনেকদিন পর। এখন একটু ঘোরাঘুরি কমই হচ্ছে। খুব একটা ঘোরাঘুরি এখন করি না। সামলে নিয়েছি নিজেকে। বাড়ি থেকেও পছন্দ করছেনা ঘোরাঘুরি, ডাক্তারও বারণ করেছেন। তারপরও ঢাকা যাচ্ছি অনেকদিন পর। আমার বিক্রমপুরের পিতৃভূমিতে কখনো যাওয়া হয়নি। আমার পিতৃভূমি বিক্রমপুরে কোনদিন না যাওয়ার আক্ষেপ এখনো আছে। এটার জন্য আমার জীবনে মস্ত বড় একটা অভাববোধ হয়। জানিনা, এবার পারবো কি না। কিন্তু আরো কোন বার এসে বিক্রমপুরে আমার গ্রামটায় আমি একবার যাবো, আমার ইচ্ছে আছে। গ্রামটার নাম বানিখারা।

ঢাকা লিট ফেস্টে অংশ নেবেন। আপনার সঙ্গে প্রশ্নময় কথপোকথনে থাকছেন সাহিত্যিক ইমদাদুল হল মিলন। কেমন লাগছে?

ইমদাদুল হক মিলন আমার অনেকদিনের চেনা। খুব ভালো ছেলে। মানুষও খুব ভালো। আমি ইমদাদুল হক মিলনের বাড়িতেও একবার গিয়েছিলাম। তার ভদ্রতা, সৌজন্যবোধ অসাধারণ। আমি শুনেছি এখন বাংলাদেশে সে খুব জনপ্রিয় লেখক। তাছাড়া আমাদের দেশেও ইমদাদুল হক মিলনের পাঠক অনেক আছে। এবং তার লেখা নিয়মিত ‘দেশ’, ‘আনন্দমেলায়’ ছাপা হয়। হ্যাঁ, সে আমার সাক্ষাৎকার নেবে, তার সাথে আমার কথা হবে এটা শুনে ভালো লাগছে। সে আমার খুব স্নেহের পাত্র বটে।

যে তরুণ ‘ঘুণপোকা’ লিখেছিল তাঁর সঙ্গে কি আপনার দেখা হয়? এখন তাঁকে আপনি কতটা চিনতে পারেন?

যে ঘুণপোকা লিখেছিলো, সত্যিই তো, সে কোথায় গেলো। সে হারিয়ে গেলো কি না, কে জানে। তবে হ্যাঁ এটা ঠিক যে, যখন আমি ঘুণপোকা লিখেছিলাম তখন অপ্রস্তুত অবস্থায় লিখেছিলাম। ‘ঘুণপোকা’ লেখার সময় আমার জীবনে একটি সঙ্কটময় মুহূর্ত চলছিলো। তবে বরাবর আমি যেভাবে লিখি, সেভাবেই লিখেছি এটাও। লেখার সময় আমি একটি লাইন ভাবি, পুরো গল্পটা কখনো ভাবি না। ভাবতে পারি না বলতে পারো। লাইন দিয়েই শুরু করি। কখনো যদি একটি লাইন মাথায় চলে আসে এবং সেটা পছন্দের হয় সেখান থেকেই শুরু করি। এবং এরপর এগোতে থাকি। এভাবে এগোতে এগোতে কিছু একটা দাঁড়ায়। এজন্য কখনো কখনো নতুন না পুরাতন, ভালো না মন্দ এ রকম ব্যাপারটা আমি জাজ করতে পারি না। ‘ঘুণপোকা’ ওই একইভাবে লেখা।  একটি লাইন ভেবেছিলাম, এরপর ওই লাইনটা ধরে ধরে অন্ধের মতো এগোলাম, একসময় উপন্যাসটা শেষও করে ফেললাম। কি হলো না হলো, কিছুই বুঝতে পারি নি। আর ওই লেখাটা বের হওয়ার পর বেশ একটা সাড়া শব্দও হয়নি, এবং লোকে যে পড়েছে সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। ‘ঘুণপোকা’ আসলে জনপ্রিয় হয়েছে প্রকাশের অনেক দিন পর। প্রথম চার-পাঁচ বছর তো ‘ঘুণপোকা’ সম্পর্কে কোন উচ্চবাচ্যই শুনিনি।  এক আধটা মন্তব্য কানে এসেছে, এ পর্যন্তই। আমার মনে হয় তখনকার পাঠক এটা গ্রহণই করেনি, কিন্তু পরবর্তীকালে মানুষের কাছে গ্রহিত হয়েছে, এবং এটা আমার সৌভাগ্য। তবে ‘ঘুণপোকা’র যে লোকটা আমি ছিলাম সেটা তো এখন আর নেই। আমি পাল্টে গেছি অনেকটাই, এবং সরে এসেছি।  চিন্তা-ভাবনাটাও বার বার পাল্টছে, তবে হ্যাঁ, পাল্টে গেলেও আমার শব্দ চয়ন, ভাবনা-চিন্তার যে একটা ধাঁচ, সেটা তো পাল্টায় নি, সেটা এখনো আছে। তবে ঘুণপোকা আমি দ্বিতীয়বার আর পড়ি নি। ওই যে লেখা হয়েছিলো ওই পর্যন্তই। বলতে পারো সাহস পাই নি। যে কারণে ‘ঘুণপোকা’ আমার কাছে কিছুটা অচেনা উপন্যাস হয়েই আছে, কারণ উপন্যাসটিতে কি কি লিখেছিলাম, অধিকাংশই আমার মনে নেই।

‘দূরবীন’ উপন্যাসের নায়ক ধ্রুব কাপুরুষ। অথচ তাকে সবাই ভালবাসে। এমন কি মেয়েরাও…

এটা আমার কাছেও একটা ধাঁধা। প্রথম কথা দূরবীন উপন্যাসটা কোন জনপ্রিয় উপন্যাস হওয়ার কথাই নয়। এটাকে বলতে পারো দোতালার উপন্যাস। কারণ প্রতি চ্যাপ্তারেই আমি পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে গেছি। আবার এগিয়েও এসেছি। প্রথম চ্যাপ্টার শুরু হলো পঞ্চাশ বছর আগে আর দ্বিতীয়তে চলে এলাম আধুনিক যুগে। এইভাবে কোন উপন্যাস লেখা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এই যে দোলাচল, এজন্যই নামটা দিয়েছিলাম ‘দূরবীন’। একপিঠ দিয়ে দেখলে কাছে, অন্যপিঠ দিয়ে দেখলে দূরে। এই উপন্যাসটা যখন লিখছিলাম তখন অনেকদূর লেখার পর বুঝতে পারছিলাম উপন্যাসটি কেউ পড়বে না। আমার মনে হচ্ছিলো এই উপন্যাসের মধ্যে প্রচুর আত্মকথন আছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে দুই বাংলাতেই উপন্যাসটার ভালোই পাঠক আছে। আমি দেখি অনেকেই দূরবীনের রেফারেন্স দেয়। আমার কাছে খুব বিস্ময়কর লাগে যে, ধ্রুব’র মতো চরিত্র একটি চরিত্রকে যখন পাঠকেরা ভালোবাসে।

‘বিস্ময় আছে বলেই আমাদের সাদামাটা জীবনটা পুরোপুরি একঘেয়ে হয়ে যায়নি’ এমনই মনে করেন আপনি। বাঙালি লেখক হিসেবে আকাশছোঁয়া সাফল্য পেয়েছেন। এখন আর কিছুতে নতুন করে বিস্ময় জাগে?

বিস্ময় আমার সবসময়ই জাগে। আমাদের সমস্ত পৃথিবীটা, আমরা যে বেঁচে আছি, আমাদের চৈতন্য, এই সবকিছুই আমার বিস্ময়েই উদ্রেগ করে। জীবন আমার কাছে কখনই একঘেয়ে নয়। ঠাকুরকে আশ্রয় করার পর থেকে আমার জীবনে ধাঁচটা পাল্টে গেছে। আমি আর জীবনকে একঘেয়ে মনে করি না। এই ধরো আমরা বেঁচে আছি। আমাদের চৈতন্য, আমরা জাগ্রত অবস্থায় সবকিছু দেখছি এই ব্যাপারটিই তো বিজ্ঞানের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আমার কাছে মনে হয় চৈতন্য এমন একটা জিনিস, যা বিজ্ঞানের গবেষণার বাইরের জিনিস। যেমন একটি গ্রহ আরেকটি গ্রহকে আকর্ষণ করে তার কিন্তু ব্যাখ্যা নেই। বলা হয় মাধ্যাকর্ষণের কারণে। কিন্তু একটা Mass আরেকটি Mass কে আকর্ষণ করে এর পুরো ব্যাখ্যা বিজ্ঞান এখনো দিতে পারে নি। যেমন আলোটা কি দিয়ে তৈরি, এটা আমরা জানি না। সুতরাং আমাদের চারিপাশে বিস্ময়ের অন্ত নেই। জীবন আমার কাছে একটি বিস্ময় বলেই মনে হয়। জীবন আমার কাছে একঘেয়ে নয়।

এবার গল্পের প্রসঙ্গে আসা যাক। অদূর অতীতে আপনার ‘পোকা’ গল্পটি পড়েছিলাম। একটি ছেলে বেকার ছেলে ইলেকট্রিকের কাজ শেখে। একদিন একটা পোকাকে সে মেরে ফেলে এবং তার খুব দুঃখ হয়। ইলেকট্রিকের দোকান খুলবে ভাবে। কিন্তু স্কুলে তাঁর চাকরি হয়ে যায়। স্কুলের সহকর্মীর বাড়িতে ফ্যান খারাপ হলে তার ডাক পড়ে। কিছুদিন পর আরও এক সহকর্মীর বাড়িতে সে ফ্যান সারিয়ে আসে। সে অর্থবান হয়। এসি কেনে। দেখতে পায় এসির সামনে একটি পোকাকে সে মেরে ফেলেছে। কিছু তার দুঃখ হয় না। একই ঘটনা কিন্তু রায়্যাকশন বদলে গেল।

‘পোকা’ গল্পটা আমি অনেক হেলাফেলা করে লিখেছিলাম। অনেক সময় লিখতে হয় সেভাবে লিখেছিলাম। কিন্তু মানুষের রিএকশন পেয়েছি, ব্যাপারটি আমার কাছে অন্যরকম লেগেছে।

কিছুদিন আগে সমরেশ মজুমদার আপনাকে কচ্ছপের সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাশেই বসে ছিলেন আপনি…

হ্যাঁ। সমরেশ মজুমদার আমাকে বলেছেন। খরগোশ আর কচ্ছপের রেসের কথা বলেছেন। কিন্তু সাহিত্য তো আর রেসের জায়গা নয়, কে কার সঙ্গে রেস করবে? আমার সবাই নিজের স্থান থেকে যে যার মতো করে, যা সাধ্য সেটা লিখি , কিন্তু এখানে কারো সাথে কারো কমপিটিশন আছে, সেটা মনে হয় না। আর এরকম কেন থাকবে। সাহিত্য তো কোন পরিক্ষা নয় যে এখানে আমাকে প্রথম হতে হবে। সাহিত্য একটা সাধনার ব্যাপার, একটা তপস্যার ব্যাপার। এক সাধুর সাথে আরেক সাধুর যেমন কোন তুলনা নেই, সাহিত্যটাও তাই। আমি সুনীলের, সমরেশের পাশাপাশি লিখেছি। তবে সমরেশ কচ্ছপের সাথে তুলনা করে খুব খারাপ করেন নি। আমি নিজেকে উইনার বলি না। তবে এটা ঠিক যে আমি একটু ধীরে ধীরে , যেমন ‘ঘুণপোকা’ বের হওয়ার অনেক পরে সাড়া পেয়েছি তেমন ধীরে ধীরে। আমাকে অনেক অপেক্ষা করে থাকতে হয়েছে অনেক ধীরে ধীরে এগোতে হয়েছে এটা সত্য। কাজেই কচ্ছপের সাথে তুলনা দিয়ে ভালোই করেছে। তবে উইনার হিসেবে দেখলে আমি দুঃখ পাবো, কারণ আমি উইনার নই, বলতে পারো সামান্য একটু জায়গায় অবস্থান করার সুযোগ পেয়েছি, এতটুকুই।

শ্রুতিলিখন: অহ নওরোজ

ইসরায়েলে ‘ইহুদি-নাৎসি প্রবণতা’র উত্থান ঘটছে: চমস্কি

ইসরায়েলে ‘ইহুদি-নাৎসি’ প্রবণতার উত্থান হচ্ছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিখ্যাত ইহুদি বুদ্ধিজীবী নম চমস্কি। গত সপ্তাহে আই টোয়েন্টিফোর নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক সমালোচক, ভাষাবিদ ও পণ্ডিত চমস্কি আরেক ইহুদি পণ্ডিত ইয়েশায়াহু লেইবোবিৎজ’র সতর্ক বাণীর পুনরাবৃত্তি করেন। চমস্কি নির্যাতিত ও অত্যাচারীর ভিত্তিতে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নিষ্ঠুর দখলদারিত্বের অমানবিক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

লেইবোবিৎজকে এই বছর ইসরায়েল প্রাইজের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তার বিষয়ে বলতে গিয়ে চমস্কি বলেন, ‘‘লেইবোবিৎজ সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ‘যদি দখলদারিত্ব চলতে থাকে তাহলে ইসরায়েলিরা ‘ইহুদি-নাৎসি’তে রুপান্তরিত হবে’।’’ চমস্কি তার ‘ইহুদি-নাৎসি’ শব্দটিকে একটি ‘শক্তিশালী পরিভাষা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, এইভাবে ইসরায়েলকে বর্ণনা করা হলে বেশিরভাগ মানুষই তা থেকে নিস্তার পাবে না। চমস্কি ব্যাখ্যা করেন, লেইবোবিৎজের এই অবস্থানের কারণেই তিনি রাগান্বিত না হয়েই ইসরায়েল সম্পর্কে কথা বলতে সমর্থ ছিলেন।

 লেইবোবিৎজ ইসরায়েলের একজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, প্রাণরসায়নবিদ ও পণ্ডিত ছিলেন। তিনি ১৯৯৪ সালে জেরুজালেমে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন যে, ইহুদি মানবিক মূল্যবোধের চেয়ে ইসরায়েল রাষ্ট্র ও জায়নবাদই বেশি পূজনীয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া ফিলিস্তিনি এলাকায় ইসরায়েলের চালানো দখলদারিত্বকে তিনি প্রকৃতগতভাবে ‘ইহুদি-নাৎসি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

১৯৫৩ সালে কিবয়া গ্রামে ভয়ঙ্কর ইসরায়েলি কমান্ডো ইউনিট ১০১ হামলা চালিয়ে ৬০ জনকে হত্যা করে। নিষ্ঠুরতার জন্য ওই ঘটনায় পরিচিত। ওই সময় লেইবোবিৎজ বলেন, ‘আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে যে, আমাদের এই তরুণরা কোথা থেকে এসেছে, যাদের মধ্যে এই নৃসংশতা চালানোর বিষয়ে কোনও মানসিক সংশয় নেই? এই ধরনের কাজ করার জন্য ভেতরকার কোন প্রেরণা তাদের মধ্যে কাজ করেছে? এই তরুণরা কোনও উচ্ছৃংখল জনতা নয়, তারা জায়নবাদী সামাজিক শিক্ষার ফল।’

লেইবোবিৎজ’র কথা সঙ্গে সুর মিলিয়ে চমস্কি বলেন, ‘যদি আপনি কারও গলায় পা দিয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই তার বৈধতা দেওয়ার উপায় খুঁজতে হবে’। লেইবোবিৎজ’র সতর্কতার পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের দোষারোপ করা চলমান দখলদারিত্ব, মানুষকে অপমান করা ও ইসরায়েলি সরকারের সন্ত্রাসী হামলারই প্রতিফলন’।

ভাষাতত্ত্ববিদ নম চমস্কি বলেন, এখন ইসরায়েলি দখলদারির সমালোচনা করলেই তাকে দেশদ্রোহী অ্যাখ্যা দেওয়া হয়। এই ব্যাপারটির কারণে রাজনৈতিক বৈচিত্র্যতা থেকে বিকল্পপন্থীরা দৃশ্যত হারিয়ে গেছে। গাজা উপত্যকার পরিস্থিতির বিরোধিতার ঘটনায় বিরোধিদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্নকরণকে একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আর গাজা উপত্যকাকে তিনি একটি ‘বন্দি শিবির’ হিসেবে মনে করেন।

চমস্কি বলেন, ‘গাজার কথাই ধরুন। যদি আপনি ২০ লাখ মানুষকে একটি বন্দি শিবিরে আটকে রাখেন আর যদি সহিংস অবরোধ আরোপ করেন তাহলে তার কী প্রভাব পড়বে? আপনার নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে- আমি কি এই কাজকে বৈধতা দিচ্ছি? যেসব মানুষ এর বিরোধিতা করেন তাদের দেশদ্রোহী, আরবপ্রেমীসহ আরও নানা কিছু বলা হয়। আমি আপনাদের উদাহরণ দেবো না, আপনারা ইউরোপীয় ইতিহাসেও এই ব্যাপারটি লক্ষ্য করতে পারবেন।’

ইসরায়েলি সমাজে একটি সাধারণ ধারণা আছে যে, নিরাপত্তার কারণে পশ্চিম তীরে সামরিক উপস্থিতির দরকার রয়েছে। চমস্কি এই ধারণা বাতিল করে দিয়ে বলেন, এর উল্টোটাই সত্য। পশ্চিম তীরে সামরিক দখলদারিত্ব ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে শুধু বিপদেই ফেলবে। তিনি বলেন, ‘যেকোনও ইসরায়েলি কৌশল বিশ্লেষককে জিজ্ঞেস করে দেখুন। তারা সবাই বোঝেন যে, পশ্চিম তীরে দখলদারিত্ব ইসরায়েলি নিরাপত্তার জন্য হুমকি’।

চমস্কি বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে পশ্চিম তীর থেকে সরে আসার বিনিময়ে আরব নেতারা শান্তির প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবারই ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা হুমকিকে বেছে নিচ্ছে।

আওয়ামী লীগের এমপি হতে চান যেসব তারকা

0

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিনোদন অঙ্গনের বেশ কয়েকজন তারকা। গত কয়েক দিনে রাজধানী ধানমন্ডিতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে তাদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা তারকাদের মধ্যে আছেন ‘মিঞা ভাই’ হিসেবে খ্যাত অভিনেতা ফারুক, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও অভিনেত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, চিত্রনায়ক শাকিল খান, খলনায়ক মনোয়ার হোসেন ডিপজল, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, চলচ্চিত্র পরিচালক মাসুদ পথিক ও গীতিকার সুজন হাজং।

দেশের ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া ও এমপি হওয়ার বিষয়ে বেশ আশাবাদী ফারুক। গাজীপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচনের লক্ষ্যে রবিবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র নেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, সাইমন সাদিক, জয় চৌধুরীসহ চলচ্চিত্রের অনেক সহকর্মী ও কালীগঞ্জের নেতাকর্মীরা।

ফারুক বলেছেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি জিতবো, ইনশাআল্লাহ। কালিগঞ্জ আমাদের নিজ ভূমি। আমাদের ৪০০ বছরের বসতি। ভাওয়াল ছাড়া এত পুরনো লোক নেই ওখানে। ঈশা খাঁ, ভাওয়াল ও পাঠান এই তিন বংশ থেকে বেরিয়ে এসেছি আমি ফারুক পাঠান।’

সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তারানা হালিম। তবে এবার তিনি টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার নাগরপুর) আসন থেকে নির্বাচন করবেন। শনিবার (১০ নভেম্বর) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এক সময়ের এই অভিনেত্রী।

একই দিন মনোনয়নপত্র কিনেছেন ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এবারও একই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছে তার।

শনিবার টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছেন অভিনেতা সিদ্দিক। একই দিন বাগেরহাট-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন চিত্রনায়ক শাকিল খান।

নোয়াখালী-১ আসনের জন্য গোলাম কুদ্দুছ ও সুজন হাজং, নরসিংদী-৫ আসনের জন্য মাসুদ পথিক এবং ঢাকা-১৪ (মিরপুর) আসনের জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছেন ডিপজল। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ডিপজলের ফরম তোলা ছিল বেশ চমকপ্রদ। কারণ, ১৯৯৪ সালে বিএনপি থেকে ঢাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

এদিকে ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। ফেনী জেলার সোনাগাজী-দাগনভূঞা উপজেলায় নৌকার হাল ধরতে চান কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক এই সম্পাদক। তিনি মনোনয়নপত্র নিয়েছেন গত ৯ নভেম্বর।

এছাড়াও দলটির মাধ্যমে সংসদ সদস্য হওয়ার ইচ্ছে আছে অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য কবরী সরোয়ার, অভিনেত্রী শমী কায়সার, জ্যোতিকা জ্যোতি ও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এজন্য গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপরই আওয়ামী লীগ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য ফরম বিতরণ শুরু করে।

ঢাকা-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পত্র নিলেন বাবা-মেয়ে

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান ও তাঁর মেয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেণ তারা। বাবা-মেয়ের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন বিক্রির সাথে সম্পৃক্তরা।

দোহারে উৎসবমূখর পরিবেশে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে দোহার উপজেলা যুবলীগ। রবিবার বিকেল ৪টায় উপজেলার জয়পাড়া বাজারে যুবলীগের কার্যালয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন দোহার উপজেলা যুবলীগের নেতা কর্মীরা। পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করে আবারও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন যুবলীগ কর্মীরা।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমাছ উদ্দিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি সালাহউদ্দিন রসু, সহ সভাপতি স্বপন বেপারী, মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বশির উদ্দিন,শেখ সেলিম, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা তুহিন হুসাইন, শাহিন খন্দকার, কুসুমহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কালাম বিশ্বাস, সাধারন সম্পাদক স্বপন খান,  নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আলমাছ হাওলাদার, সুতারপাড়া যুবলীগের আহবায়ক আবেদ সওদাগর,যুগ্ন আহবায়ক রনি মাহমুদ, যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির,এস এম আক্তার হোসেন সহ অন্যন্য ইউনিয়ন ও উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দোহার উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মৃধা।সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে একটি আনন্দ মিছিল জয়পাড়া বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রতন স্বাধীনতা ভাষ্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়।

সালমান এফ রহমানের পক্ষে মনোনয়ন জমা দিলেন আলমগির হোসেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগির হোসেন। দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মিছিল সহকারে মনোনয়ন পত্র জমা দেন আলমগির হোসেন।  আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে ঢাকা-১ আসনে সংসদ সদস্য পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সালমান এফ রহমানের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহও করেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগির হোসেন।

সালমান এফ রহমানের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেয়ার পর  আলমগির হোসেন নিউজ৩৯কে বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জের উন্নয়নের জন্য সালমান এফ রহমানের কোন বিকল্প নেই। পদ্মা বাধ, নদী শাষন ইত্যাদি কাজে তার অবদান দোহার-নবাবগঞ্জের সবাই অবগত। তাই দোহার ও নবাবগঞ্জের জন্য সালমান এফ রহমানের বিকল্প এখন নেই।

সালমান এফ রহমানের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিনের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন সোহাগসহ আরো নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দলীয় মনোনয়ন জমা দিলেন নির্মল রঞ্জন গুহ 

নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মিছিল সহকারে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ সহভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে ঢাকা-১ আসনে সংসদ সদস্য পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গত শুক্রবার দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের পর সোমবার দুপুরে তা জমা দেন তিনি।

মনোনয়ন জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে বেশ কয়েকটি বাস যোগে কয়েক’শ নেতাকর্মী ধানমন্ডি দলীয় কার্যালয়ের অদূরে সমেবত হয়। এছাড়া ঢাকা থেকে অসংখ্য নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হয়। সেখান থেকে মিছিল সহকারে স্লোগান দিয়ে নেতাকর্মীরা নির্মল রঞ্জন গুহকে নিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে দলীয় কার্যালয়ে যান। মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউসার সহ সংগঠনটির সিনয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 নির্মল রঞ্জন গুহ 

মনোনয়ন জমা দেয়ার পর নির্মল রঞ্জন গুহ নিউজ৩৯কে বলেন, রাজনীতির শেকড় তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। দলের আন্দোলন, সংগ্রাম সহ বিভিন্ন দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। এলাকার মানুষের বিপদে, আপদে, দূর্যোগে পাশে আছি সবসময়। যে কারণে দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছি। মনোনয়ন না পেলে দলের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবে তাঁর পক্ষে কাজ করব।

ছেলে চায় নৌকা, মা লাঙ্গল

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান অন্যতম শিল্পগ্রুপ যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম। সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তিনি মনোনয়ন ফরম তোলেন। এদিনই তা জমা দেন।

এদিকে তার মা ও যমুনা গ্রপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। একই দলের টিকিট পেয়ে তিনি গতবার এমপিও হয়েছেন।

সালমা ইসলাম ঢাকা-১ থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চান। তার ছেলে শামীম ইসলাম ঢাকা-১১ থেকে নৌকার মনোনয়ন চান।

ছেলে চায় নৌকা, মা লাঙ্গল

আমরা এক থাকলে দোহার সমৃদ্ধশালী জনপদ হবে – ভাইয়ের জানাযায় আব্দুল মান্নান খান

আমরা এক থাকলে দোহার সমৃদ্ধশালী জনপদ হবে। আমার আসা আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে এই অঞ্চলে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও নির্মিত হবে। সেই জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সোমবার বাদ মাগরিব নিজের ছোট ভাই বোরহান উদ্দিন খানের জানাযায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান এই কথা বলেন। এই সময় ছোট ভাই এর মৃত্যুর শোকে তিনি কান্নায় ভেংগে পড়েন।

এ সময় এ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান বলেন, এমন কষ্ট যেন কোন শত্রুর ও না হয়। আমি কিভাবে আমার ভাইয়ের হাসিমাখা মুখ ভুলে যাবো? আপনারা আমার ভাই ও আমাদের জন্য দোয়া করবেন।  তিনি বলেন, আল্লাহ যেন এই শোককে বইবার শক্তি আমাকে দেন। তিনি আরো বলেন, এইখানে আজ উপস্থিত আছেন হুদা ভাই, সালমান ভাই সহ দোহার নবাবগঞ্জের নেতৃবৃন্দ। আমি আশা করি, এই নেতৃবৃন্দ একসাথে থাকলে আমার স্বপ্নের আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর হবেই। বংগবন্ধু স্যাটালাইট সিটি হবেই।

আব্দুল মান্নান খান

বোরহান উদ্দিন খানের জানাযায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা।

শিলাকোঠা থেকে মাদকব্যবসায়ী আটক

দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলাকোঠা এলাকায় রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও হেরোইনসহ মো. জনি মিয়া (২৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। আটটকৃত জনি স্থানীয় মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে।

 দোহার থানার এসআই সৌমেন মিত্র জানান, রবিবার রাত সোয়া ৯টায় শিলাকোঠায় অভিযান চালিয়ে জনিকে আটক করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ৫৬ পিচ ইয়াবা ও ৫২৫ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালে তাকে মাদক মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়।