দোহার থেকে ঢাকা সরাসরি সড়ক নির্মান হবে: সালমান এফ রহমান এমপি

দোহার থেকে ঢাকা সরাসরি সড়ক নির্মান হবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন সদ্য নির্বাচিত ঢাকা-১ আসনের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ১৫ জানুয়ারি দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষনা দেন। এই সময় তিনি আরো ঘোষনা দেন এই অঞ্চলে যত সড়ক ভাঙ্গা আছে তা অতি দ্রুত সংস্কার করা হবে। এবং পদ্মা ব্রীজ থেকে পদ্মার পাড় হয়ে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ তৈরির ঘোষনা দেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, তিনি কিছু দিন আগে যোগাযোগমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে আমার কথা হয়েছে। আমি তাকে বলেছি এই অঞ্চলে পদ্মা ব্রীজ থেকে অরংঙাবাদ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের প্রয়োজনীয়তার কথা। সে বলেছে অতি দ্রুতই এই কাজ শুরু করা হবে।

এই সময় তিনি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ বালুব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অবৈধ কাজ করে কেউ পার পাবে না। আমি প্রশাসনকে বলে দিয়েছি এরা যদি আমার দলের লোকও হয় তাহলে তাদের কোন ছাড় দেয়া হবে না।

সালমান এফ রহমান

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলি আহসান খোকন শিকদারের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর আলী ও দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আঁকটার রিবা, আই জি আর ড. খান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সাবেক গণপরিষদের সদস্য আবু মোহা. সুবেদ আলী টিপু, সাবেক এমপি খন্দকার হারুন অর রশিদ, জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, পেসার রুবেল হোসেন, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আ. বাতেন মিয়া, সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান কিসমত, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন, বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক সায়ান এফ রহমান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম মুস্তফা শিমু, সবাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সুরুজ আলম সুরুজ, ঢাকা জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মোল্লা, দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি আলমাস প্রমুখ।

দোহার ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

ঢাকা জেলা দক্ষিণের সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দোহার ব্লাড ব্যাংকের পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়ায় সরকারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক অনাড়ম্বর পরিবেশে কেক কেটে উদযাপন করা হয়েছে।

দোহার ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী তৌহিদ রাসেল বলেন, ২০১২ সালের শীতকাল। ফরিদ স্যার আমাদের একদিন ক্লাস নিচ্ছিলেন। তিনি বললেন- “টাকা ছাড়াও মানুষকে অনেক বড় সাহায্য করা যায়। আর তা হলো রক্তদান যাতে একজন মানুষের জীবন বেচে যায়।” এরপর তিনি সুন্দর সুন্দর অনেক কথাই বললেন। কিন্তু একটা কথা মনে গেথে গেলো, আর তা হলো  টাকা না থাকলেও মানব সেবা করা যায়। তার ঐকথাতে মোটিভেটেড হয়ে রক্তদান শুরু হয়।

কিন্তু আমি একা রক্ত দিলেই হবেনা সবাই যেন রক্ত দিতে আগ্রহী হয় সে লক্ষ্যে আগাতে হবে। ২০১৩ সালের দিকে পাশে পেয়েছিলাম দেলোয়ার ভাই, বন্ধু ওয়াসিম এবং ফেইসবুকে ফরহাদ ভাইকে। এরপর ঢাকার কয়েকটি ব্লাড সংগঠনের মিটিং এ উপস্থিত হয়ে সংগঠন তৈরি টা একটু বুঝাবুঝি শুরু হয়। এরপর ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারিতে কিছু কর্মী নিয়ে শুরু হয় দোহার ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম। তখন মূলত অফলাইনেই কার্যক্রম চলতো। ২০১৫ সাল থেকে অনলাইনে শুরু হয়। এরপর হাটি হাটি পা পা করে কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় আজ এতদূর। আজ দোহার ব্লাড ব্যাংক এর পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দোহার-নবাবগঞ্জের সবাই যদি এভাবে সব সময় পাশে থাকে তাহলে এই সংগঠন অনেক এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

উক্ত অনুষ্ঠানে দোহার ব্লাড ব্যাংকের অর্ধশত কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকার মাদক, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়েছে – সালমান এফ রহমান

0

মাদক, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন ঢাকা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমান। আজ নবাবগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

দোহার ও নবাবগঞ্জ থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে তাকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মাদক, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়েছেন। আমি আমার সরকারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আমার এলাকাকে এসব কীটদের প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করছি। যারা মাদকের ব্যবসা করেন, যারা অবৈধ ভাবে মাটি কাটেন, যারা সংখ্যালঘুদের জমি দখল করেন তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যদি আপনারা আমাদের পার্টির লোকও হন আমি কিন্তু কোনো ছাড় দেবো না। আর যদি প্রশাসনও এই অবৈধ কাজের সঙ্গে লিপ্ত থাকেন তাহলে তাদেরও কোনো ছাড় নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণের মঙ্গলের জন্য।

জনগণ চেয়েছে বিধায় এবারও ইতিহাস গড়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশ ও দশের উন্নয়ন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় মানে উন্নয়নের জোয়ার বইবে। উন্নয়নের এ প্রধানমন্ত্রী অনেক দেশের এখন আইকন। তাই তো দেশের জনগণ মন থেকে এ সরকারকে রায় দিয়েছেন।


নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর আলী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তোফাজ্জল হোসেন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এতে সাবেক গণপরিষদের সদস্য আবু মোহা. সুবেদ আলী টিপু, সাবেক এমপি খন্দকার হারুন অর রশিদ, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আ. বাতেন মিয়া, সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মনজুর হোসেন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান কিসমত, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক আবুল হোসেন, বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক সায়ান এফ রহমান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম মুস্তফা শিমু প্রমুখ। সভা শেষে সংগীত পরিবেশন করেন নগর বাউল ও জেমস।

দোহারে ইয়াবাসহ তিন ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক

ঢাকার দোহার উপজেলায় শনিবার অভিযান চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব। আটককৃতরা হলেন দোহার উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মৃত তারা বেপারীর ছেলে মো. রুবেল বেপারী (২৫), শ্রীকৃষ্ণপুরের মৃত শেখ মুন্নাফের ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম (২৭) এবং ওই এলাকা শেখ জয়নালের ছেলে মো. রুবেল (১৮)। এসময় তাদের কাছ থেকে ১০৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাব সূত্রে জানা, শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এর কোম্পানী কমান্ডার পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নানের নেতৃত্বে দোহার উপজেলার মুকসুদপুরে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় মাদক বেচাকিনির সময় রুবেল বেপারী, সিরাজুল ও রুবেলকে ১০৫ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ৮,৯০০ টাকা ও মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহ্নত ৩টি মোবাইল সেটসহ আটক করা হয়।

মুকসুদপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আটক

দোহারে নাশকতার অভিযোগে ও জঙ্গীবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মুকসুদপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো.আব্দুল হালিম(৫৫)কে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। ১৩ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় তার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সাজ্জাদ হোসেন জানান,নাশকতার অভিযোগে সাকে চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে দোহার থানায় তিনটি মামলার এজাহার নামীয় আসামী। এছাড়াও মৌড়া,ধীৎপুর এলাকায় বৃহৎ দুইটি মাদ্রাসায় জঙ্গী কাযক্রমের সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ আছে।

সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের স্বজনরা দাবী করেন তিনি সাবেক বিএনপির নেতা ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদার অনুসারী ছিলেন তিনি। তার আমলে তিনি মুকসুদপুর ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন। তিনি বিএনপির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তিনটি নাশকতার মামলা দেন পুলিশ।

এ বিষয়ে দোহার থানার সেকেন্ড অফিসার সমেন মিত্র জানান, জঙ্গী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগটির বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাছাড়াও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে নাশকতায় জড়িত থাকার দায়ে তিনটি মামলার এজাহারনামীয় আসামী।

নবাবগঞ্জে পাঁচ মাদক কারবারী আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের একটি দল অভিযান চালিয়ে পাঁচ মাদক কারবারীকে আটক করেছে। আটককৃত মধ্যে- মাদকসেবী পলাশ গমেজ (৪৯), হারু দাস (৩২) ও হাসান মৃধাকে মঙ্গলবার রাতে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন প্রত্যেককে ৩ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন।

এছাড়া ১৫০টি ইয়াবাসহ আটক প্রদীপ সরকার (৪২) ও মো. রাব্বি (২২) কে মাদক আইনে মামলা দিয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের নবাবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুব্রত সরকার শুভ’র নেতৃত্বে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ও নয়নশ্রী ইউনিয়নে খেজুরবাগ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

সরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়স ৩২ হচ্ছে

0

 

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর নথি নিয়ে কাজ শুরু করছে নতুন সরকার। বিদায়ী সরকারের শেষ সময়ের উদ্যোগ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ করার প্রস্তাবটি দ্রুতই নতুন মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব গতকাল বলেছেন, বিদায়ী সরকারের শেষ সময়ে গত আগস্ট মাসে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। সে সময়  এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা গঠনের পর প্রতিমন্ত্রী এর সারসংক্ষেপ দেখেছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ  ব্যাপারে বলেন,  এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি যেহেতু সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, তাই এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চিন্তাভাবনা করেই এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুপরিকল্পনা ছাড়া তিনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এ বিষয়ে দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নিতে চাই। কারণ প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তিনি তা করেন- যোগ করেন সরকারের এই প্রতিমন্ত্রী

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বয়স বাড়ানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব তৈরি করেছে কি না জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, মাত্রই তো এই মন্ত্রণালয়ে যোগ দিলাম। এখন এ বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের সাধারণ গড় আয়ু বেড়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাধারণ জনগণও সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন। এর সঙ্গে বিভিন্ন মহলও চাইছেন এই বিষয়ে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে আসুক সরকার। তাই বলতে পারি সহসাই এ বিষয়ে একটি পজিটিভ সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ বয়স বর্তমানে ৩০ বছর। আর অবসরের বয়স ৫৯ বছর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, এ ব্যাপারে প্রস্তাব তৈরি করা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালের আগে দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ বছর। ১৯৯১ সালের জুলাই মাসে সেটা বাড়িয়ে করা হয় ৩০ বছর। এরপর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সরকারি চাকরিতে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়স দুই বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়স এক বছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯তম সভায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়। এর আগে কমিটির ২১তম সভায় ৩২ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

আয় বাড়াতে যে আমলগুলো করবেন

0

আয় বৃদ্ধি, রিযিকের স্বচ্ছলতা বা সংকীর্ণতা এক রহস্যঘেরা বিষয়। অনেকেই মনে করেন, রিযিক হচ্ছে অর্থকড়ি ও বিপুল ধন-ঐশ্বর্য। কিন্তু, সঠিক হলো রিযিক একটি ব্যাপক পরিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাঝে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সুস্বাস্থ্য, বুদ্ধিমত্তা, সময় ও জীবনের বরকত, সন্তান-সন্ততি ও তাদের সুস্থতা এবং সার্বিক কল্যাণ-উন্নতি। আর এ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণই কেবল আল্লাহর হাতে। মহান রাবুল আলামিন তার সমগ্র সৃষ্টিকূলকে রিযিক দান করেন, তাই তিনি তার মহান গুণবাচক একটি নামও ধারণ করেছেন আর-রাজ্জাক। আর তিনিই সমস্ত রিযিকের উৎস এবং একমাত্র রিযিকদাতা- এ বিশ্বাস আমাদের আকিদার অংশ। তবে এসব বান্দা লাভ করে তার জন্য বরাদ্দ উপায়-উপকরণগুলোর মাধ্যমে। তাই আমাদের কর্তব্য হলো হাত গুটিয়ে বসে না থেকে এর জন্য র্নিধারিত উপায়-উপকরণ সংগ্রহে চেষ্টা করা। যেমন চাষাবাদ, ব্যবসায়-বাণিজ্য, শিল্প-চারু, চাকরি-বাকরি বা অন্য কিছু। আল্লাহ তা‌‘আলা বলেন-

﴿هُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ ذَلُولٗا فَٱمۡشُواْ فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُواْ مِن رِّزۡقِهِۦۖ وَإِلَيۡهِ ٱلنُّشُورُ ١٥﴾

‘তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিযক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান।’ (সূরা আল-মুলক, আয়াত : ১৫)

আয়-রোজগার বৃদ্ধি পাক, জীবনে স্বচ্ছলতা আসুক, অন্তত প্রয়োজন পরিমাণ রিযিক আমার থাকুক- এ কামনা সবার। তবে ব্যক্তিভেদে সবার নিয়্যত এক নয়। বহু মানুষ- যারা দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত হওয়ার জন্য রিযিক কামনা করেন, এ লেখা তাদের জন্য নয়। এ লেখা তাদের জন্য যারা প্রশান্তচিত্তে এক আল্লাহতে সমর্পিত হয়ে থাকতে প্রয়োজন পরিমাণ হালাল রিযিক কামনা করেন।

রিযিকে স্বচ্ছলতা কামনার পেছনে একজন মুসলমানের যে নিয়ত থাকতে পারে— তার নিয়ত হতে পারে তার উপর তার পরিবারের আল্লাহ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব ও অধিকারগুলো আদায় করা। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী এবং বিশ্বের অপরাপর মুসলমানদের ও বিশেষত আল্লাহর যমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের মেহনতে সাহায্য করা। বেশি বেশি দান-খয়রাত করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং সর্বোপরি ইসলামী সমাজকে সর্বোচ্চে তুলে ধরা। আসলে একজন মুসলমানের সম্পদ উপার্জন ও রিযিক কামনার নেপথ্যে এমন নিয়্যতই থাকা উচিত এবং তার ব্যয়ও হওয়া উচিত এসব বৃহৎ স্বার্থেই।

কি কি আমল করলে আয় বাড়ে – আজ আমরা এর উপায়সমূহের মধ্যে কুরআন ও হাদীস থেকে ১৪টি আমলের কথা আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

প্রথম আমল : তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল অবলম্বন করা

আল্লাহর ভয় তথা তাকওয়া অবলম্বন করা, তাঁর নির্দেশাবলি পালন ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জন করা। পাশাপাশি আল্লাহর ওপর অটল আস্থা রাখা, তাওয়াক্কুল করা এবং রিজিক তালাশে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা। কারণ, যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمۡرِهِۦۚ قَدۡ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَيۡءٖ قَدۡرٗا ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সূরা আত-তালাক, আয়াত : ২-৩)

অর্থাৎ যে আল্লাহকে ভয় করবে এবং আনুগত্য দেখাবে, আল্লাহ তার সকল সংকট দূর করে দেবেন এবং তার কল্পনাতীত স্থান থেকে রিজিকের সংস্থান করে দেবেন। আর যে কেউ তার উদ্দেশ্য হাসিলে একমাত্র আল্লাহর শরণাপন্ন হয় তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। বলাবাহুল্য এই তাকওয়ার পরিচয় মেলে হালাল উপার্জনে চেষ্টা এবং সন্দেহযুক্ত কামাই বর্জনের মধ্য দিয়ে।

দ্বিতীয় আমল : তাওবা ও ইস্তেগফার করা

অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার এবং বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও রিজিক বাড়ে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অন্যতম নবী ও রাসূল নূহ আলাইহিস সালামের ঘটনা তুলে ধরে ইরশাদ করেন,

﴿ فَقُلۡتُ ٱسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّكُمۡ إِنَّهُۥ كَانَ غَفَّارٗا ١٠ يُرۡسِلِ ٱلسَّمَآءَ عَلَيۡكُم مِّدۡرَارٗا ١١ وَيُمۡدِدۡكُم بِأَمۡوَٰلٖ وَبَنِينَ وَيَجۡعَل لَّكُمۡ جَنَّٰتٖ وَيَجۡعَل لَّكُمۡ أَنۡهَٰرٗا ١٢ ﴾ (نوح: ١٠، ١٢)

‘আর বলেছি, ‘তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল’। (তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে) ‘তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ‘আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা’। (সূরা নূহ, আয়াত : ১০-১২)

হাদীসে বিষয়টি আরেকটু খোলাসা করে বলা হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُ ».

‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন।’ (আবূ দাঊদ : ১৫২০; ইবন মাজা : ৩৮১৯; তাবরানী : ৬২৯১)

অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَنْ أَكْثَرَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَمِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُ ‘যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (বাইহাকী : ৬৩৬; হাকেম, মুস্তাদরাক : ৭৬৭৭ সহীহ সূত্রে বর্ণিত।)

তৃতীয় আমল : আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা

আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের হক আদায়ের মাধ্যমেও রিজিক বাড়ে। যেমন : আনাস ইবন মালেক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি ইরশাদ করেন, مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ ‘যে ব্যক্তি কামনা করে তার রিজিক প্রশস্ত করে দেওয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারী : ৫৯৮৫; মুসলিম : ৪৬৩৯)

চতৃর্থ আমল : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠেও রিজিকে প্রশস্ততা আসে। যেমনটি অনুমিত হয় নিম্নোক্ত হাদীস থেকে। তোফায়েল ইবন উবাই ইবন কা‘ব রাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন,

قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّى أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِى فَقَالَ « مَا شِئْتَ ». قَالَ قُلْتُ الرُّبُعَ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قُلْتُ النِّصْفَ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قَالَ قُلْتُ فَالثُّلُثَيْنِ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قُلْتُ أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِى كُلَّهَا. قَالَ « إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ ». قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.

আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার প্রতি অধিকহারে দরূদ পড়তে চাই, অতএব আমার দু‘আর মধ্যে আপনার দরূদের জন্য কতটুকু অংশ রাখব? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। কা‘ব বলেন, আমি বললাম, এক চতুর্থাংশ। তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে যদি তুমি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, অর্ধেক? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। কা‘ব বলেন, আমি বললাম, তাহলে দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, আমার দু‘আর পুরোটা জুড়েই শুধু আপনার দরূদ রাখব। তিনি বললেন, তাহলে তা তোমার ঝামেলা ও প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (তিরমিযী : ২৬৪৫; হাকেম, মুস্তাদরাক : ৭৬৭৭ (আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি ‘হাসান’ সহীহ।)

পঞ্চম আমল : আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা

আল্লাহর রাস্তায় কেউ ব্যয় বা দান করলে তা বিফলে যায় না। সে সম্পদ ফুরায়ও না। বরং তা বাড়ে বৈ কি। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- قُلۡ إِنَّ رَبِّي يَبۡسُطُ ٱلرِّزۡقَ لِمَن يَشَآءُ مِنۡ عِبَادِهِۦ وَيَقۡدِرُ لَهُۥۚ وَمَآ أَنفَقۡتُم مِّن شَيۡءٖ فَهُوَ يُخۡلِفُهُۥۖ وَهُوَ خَيۡرُ ٱلرَّٰزِقِينَ ٣٩

‘বল, ‘নিশ্চয় আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিযকদাতা।’ (সূরা আস-সাবা’, আয়াত : ৩৯)

ষষ্ঠ আমল : বারবার হজ-উমরা করা

হজ ও উমরা পাপ মোচনের পাশাপাশি হজকারী ও উমরাকারীর অভাব-অনটন দূর করে এবং তার সম্পদ বাড়িয়ে দেয়। আবদুল্লাহ ইব্ন মাসঊদ রাদিআল্লাহু আনহুমা কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِى الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ

‘তোমরা হজ ও উমরা পরপর করতে থাক, কেননা তা অভাব ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেমন দূর করে দেয় কামারের হাপর লোহা, সোনা ও রুপার ময়লাকে।’ (তিরমিযী : ৮১৫; নাসাঈ : ২৬৩১)

সপ্তম আমল : দুর্বলের প্রতি সদয় হওয়া বা সদাচার করা

মুস‘আব ইবন সা‘দ রাদিআল্লাহু আনহু যুদ্ধজয়ের পর মনে মনে কল্পনা করলেন, তিনি বোধ হয় তাঁর বীরত্ব ও শৌর্য-বীর্য হেতু অন্যদের চেয়ে নিজেকে বেশি মর্যাদাবান। সেই প্রেক্ষিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- هَلْ تُنْصَرُونَ وَتُرْزَقُونَ إِلاَّ بِضُعَفَائِكُمْ ‘তোমাদের মধ্যে থাকা দুর্বলদের কারণে কেবল তোমাদের সাহায্য করা হয় এবং রিজিক প্রদান করা হয়।’ (বুখারী : ২৮৯৬)

অষ্টম আমল : ইবাদতের জন্য ঝঞ্ঝাটমুক্ত হওয়া

আল্লাহর ইবাদতের জন্য ঝামেলামুক্ত হলে এর মাধ্যমেও অভাব দূর হয় এবং প্রাচুর্য লাভ হয়। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ يَا ابْنَ آدَمَ تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِى أَمْلأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسُدَّ فَقْرَكَ وَإِلاَّ تَفْعَلْ مَلأْتُ يَدَيْكَ شُغْلاً وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি ঝামেলামুক্ত হও, আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাত ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না।’ (তিরমিযী : ২৬৫৪; মুসনাদ আহমদ : ৮৬৮১; ইবন মাজা : ৪১০৭)

নবম আমল : আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করা

আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে হিজরত তথা স্বদেশ ত্যাগ করলে এর মাধ্যমেও রিজিকে প্রশস্ততা ঘটে। যেমনটি অনুধাবিত হয় নিচের আয়াত থেকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

وَمَن يُهَاجِرۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ يَجِدۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ مُرَٰغَمٗا كَثِيرٗا وَسَعَةٗۚ وَمَن يَخۡرُجۡ مِنۢ بَيۡتِهِۦ مُهَاجِرًا إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ يُدۡرِكۡهُ ٱلۡمَوۡتُ فَقَدۡ وَقَعَ أَجۡرُهُۥ عَلَى ٱللَّهِۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا

‘আর যে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করবে, সে যমীনে বহু আশ্রয়ের জায়গা ও সচ্ছলতা পাবে। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে মুহাজির হয়ে নিজ ঘর থেকে বের হয় তারপর তাকে মৃত্যু পেয়ে বসে, তাহলে তার প্রতিদান আল্লাহর উপর অবধারিত হয়। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত : ১০০)

আয়াতের ব্যাখ্যা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস প্রমুখ সাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুদ বলেন, স্বচ্ছলতা অর্থ রিজিকে প্রশস্ততা।

দশম আমল: আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা

সাধারণভাবে আল্লাহ যে রিজিক ও নিয়ামতরাজি দান করেছেন তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া করা এবং তাঁর স্তুতি গাওয়া। কারণ, শুকরিয়ার ফলে নেয়ামত বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ وَإِذۡ تَأَذَّنَ رَبُّكُمۡ لَئِن شَكَرۡتُمۡ لَأَزِيدَنَّكُمۡۖ وَلَئِن كَفَرۡتُمۡ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٞ ٧ ﴾

‘আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আযাব বড় কঠিন।’ (সূরা ইবরাহীম, আয়াত : ০৭)

আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা শুকরিয়ার বদৌলতে নেয়ামত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আর বলাবাহুল্য আল্লাহর বাড়ানোর কোনো সীমা-পরিসীমা নাই।

দ্বাদশ আমল : বিয়ে করা

আজকাল মানুষের দুনিয়ার প্রাচুর্য ও বিলাসের প্রতি আসক্তি এত বেশি বেড়েছে, তারা প্রচুর অর্থ নেই এ যুক্তিতে প্রয়োজন সত্ত্বেও বিয়ে বিলম্বিত করার পক্ষে রায় দেন। তাদের কাছে আশ্চর্য লাগতে পারে এ কথা যে বিয়ের মাধ্যমেও মানুষের সংসারে প্রাচুর্য আসে। কারণ, সংসারে নতুন যে কেউ যুক্ত হয়, সে তো তার জন্য বরাদ্দ রিজিক নিয়েই আসে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ وَأَنكِحُواْ ٱلۡأَيَٰمَىٰ مِنكُمۡ وَٱلصَّٰلِحِينَ مِنۡ عِبَادِكُمۡ وَإِمَآئِكُمۡۚ إِن يَكُونُواْ فُقَرَآءَ يُغۡنِهِمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ ٣٢ ﴾ (النور : ٣٢)

‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।’ (সূরা আন-নূর, আয়াত : ৩২)

উমর ইবন খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহুমা বলতেন, ওই ব্যক্তির ব্যাপার বিস্ময়কর যে বিয়ের মধ্যে প্রাচুর্য খোঁজে না। কারণ স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন।’

ত্রয়োদশ আমল : অভাবের সময় আল্লাহমুখী হওয়া এবং তার কাছে দু‘আ করা

রিজিক অর্জনে এবং অভাব দূরীকরণে প্রয়োজন আল্লাহর কাছে দু‘আ করা। কারণ, তিনি প্রার্থনা কবুল করেন। আর আল্লাহ তা‘আলাই রিজিকদাতা এবং তিনি অসীম ক্ষমতাবান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدۡعُونِيٓ أَسۡتَجِبۡ لَكُمۡۚ “আর তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব।” (সূরা আল-মু‘মিন, আয়াত : ৬০)

এ আয়াতে আল্লাহ দু‘আ করার নির্দেশ দিয়েছেন আর তিনি তা কবুলের জিম্মাদারি নিয়েছেন। যাবৎ না তা কবুলে পথে কোনো অন্তরায় না হয়। যেমন ওয়াজিব তরক করা, হারাম কাজে জড়ানো, হারাম আহার গ্রহণ বা হারাপ পরিচ্ছদ পরা ইত্যাদি এবং কবুলকে খানিক বিলম্বিতকরণ। আল্লাহর কাছে দু‘আয় বলা যেতে পারে-

‘হে রিজিকদাতা আমাকে রিজিক দান করুন, আপনি সর্বোত্তম রিজিকদাতা। হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে পবিত্র সুপ্রশস্ত রিজিক চাই। হে ওই সত্তা, দানের ঢল সত্ত্বেও যার ভাণ্ডারে কমতি হয় না। হে আল্লাহ, আমাকে আপনি আপনার হালাল দিয়ে আপনার হারাম থেকে যথেষ্ট করে দিন আর আপনার দয়া দিয়ে আপনি ছাড়া অন্যদের থেকে যথেষ্ট হয়ে যান। হে আল্লাহ আপনি আমাকে যে রিজিক দিয়েছেন তা দিয়েই সন্তুষ্ট বানিয়ে দিন। আর যা আমাকে দিয়েছেন তাতে বরকত দিন।’

অভাবকালে মানুষের কাছে হাত না পেতে আল্লাহর শরণাপন্ন হলে এবং তাঁর কাছেই প্রাচুর্য চাইলে অবশ্যই তার অভাব মোচন হবে এবং রিজিক বাড়ানো হবে। আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« مَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ وَمَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِاللَّهِ فَيُوشِكُ اللَّهُ لَهُ بِرِزْقٍ عَاجِلٍ أَوْ آجِلٍ ».

‘যে ব্যক্তি অভাবে পতিত হয়, অতপর তা সে মানুষের কাছে সোপর্দ করে (অভাব দূরিকরণে মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়), তার অভাব মোচন করা হয় না। পক্ষান্তরে যে অভাবে পতিত হয়ে এর প্রতিকারে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হয় তবে অনিতবিলম্বে আল্লাহ তাকে তরিৎ বা ধীর রিজিক দেবেন। (তিরমিযী : ২৮৯৬; মুসনাদ আহমদ : ৪২১৮)

চতুর্দশ আমল : গুনাহ ত্যাগ করা, আল্লাহর দীনের ওপর সদা অটল থাকা এবং নেকীর কাজ করে যাওয়া

গুনাহ ত্যাগ করা, আল্লাহর দীনের ওপর অটল থাকা এবং নেকীর কাজ করা- এসবের মাধ্যমেও রিজিকের রাস্তা প্রশস্ত হয় যেমন পূর্বোক্ত আয়াতগুলো থেকে অনুমান করা যায়।

তবে সর্বোপরি আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা দুনিয়াতে চিরদিন থাকার জন্য আসি নি। তাই দুনিয়াকে প্রাধান্য না দিয়ে উচিত হবে আখিরাতকে অগ্রাধিকার ও প্রাধান্য দেয়া। আমাদের এদেন অবস্থা দেখে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ بَلۡ تُؤۡثِرُونَ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا ١٦ وَٱلۡأٓخِرَةُ خَيۡرٞ وَأَبۡقَىٰٓ ١٧ ﴾ (الاعلى: ١٦، ١٧)

‘বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছ। অথচ আখিরাত সর্বোত্তম ও স্থায়ী।’ (সূরা আল-আ‘লা, আয়াত : ১৬-১৭

আর পরকালের মুক্তি ও চিরশান্তিই যার প্রধান লক্ষ্য তার উচিত হবে রিজিকের জন্য হাহাকার না করে অল্পে তুষ্ট হতে চেষ্টা করা। যেমন : হাদীসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আ‘স রাদিআল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللَّهُ بِمَا آتَاهُ ».

‘ওই ব্যক্তি প্রকৃত সফল যে ইসলাম গ্রহণ করেছে আর তাকে জীবন ধারণে (অভাবও নয়; বিলাসও নয়) পর্যাপ্ত পরিমাণ রিজিক দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে তুষ্টও করেছেন। (মুসলিম : ২৪৭৩; তিরমিযী : ২৩৪৮; আহমদ : ৬৫৭২)

পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের এসব উপায়-উপকরণ যোগাড় করে রিজিক তথা হালাল উপার্জনে উদ্যোগী ও সফল হবার তাওফীক দান করেন। তিনি যেন আপনাদের রিজিক ও উপার্জনে প্রশস্ততা দান করেন। আমীন।

মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় ঝড়ে গেল আরেকটি প্রান

মোটর সাইকেলে ঝড়ে গেল আরেকটি তাজা প্রাণ। রবিবার দুপুরে দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়া (চৌধুরী পাড়া) গ্রামের বাবুলের ছেলে পিয়াস (১৮) মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন। রবিবার দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলার মাঝিরকান্দায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বন্ধু দের সুত্রে জানা যায়, পয়াস মাঝিরকান্দা হয়ে নবাবগঞ্জে জরুরী কাজে মোটর সাইকেল নিয়ে  আনুমানিক দুপুর ১২ টার দিকে নবাবগঞ্জ যাচ্ছিলেন। মোটর সাইকেলটি মাঝিরকান্দা মোড়ে গেলে অটো রিক্সার সাথে ধাক্কা লাগে সুপারি গাছের গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পিয়াসকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য জয়পাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন কিন্তু  ঢাকা নেয়ার সময় পথেই মৃত্যু হয় তার। এ সময় জানা যায় মোটরসাইকেলে পিয়াস ছাড়াও তার দুই বন্ধু ছিল। এই সময় মনি (১৭) ও তার আরেক বন্ধুও আহত হয়।

প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র সরকারি পদ্মা কলেজঃ সর্বোচ্চ মানের প্রত্যাশা অধ্যক্ষের

এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা-২০১৯। এবার ঢাকার দোহার উপজেলার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন কেন্দ্র হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে সরকারি পদ্মা কলেজ। এ ছাড়া পূর্বের কেন্দ্র হিসাবে রয়েছে জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকারের সাক্ষরিত এক পরিপত্রে (নং৪৭০/উঃমাঃপরি/৯১/৪৮০) সরকারি পদ্মা কলেজ নতুন কেন্দ্র হিসাবে পদ্মা কলেজকে অনুমোদন দিয়েছে।

এর ফলে জয়পাড়া কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে সরকারি পদ্মা কলেজে, আর মালিকান্দা স্কুল এন্ড কলেজ, বেগম আয়েশা স্কুল এন্ড কলেজ ও সরকারি পদ্মা কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে জয়পাড়া কলেজে। এতে সব কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি সদয় ও সম আচরনের পথ খুলে গেছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারনা।

দোহারের এইচ এস সি পরীক্ষার নতুন কেন্দ্র হয়েছে পদ্মা কলেজ। এই ব্যাপারে পদ্মা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জালাল হোসেন নিউজ৩৯ কে বলেন, দোহার উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজ হওয়ায় এবং অবকাঠামো ভালো হওয়ায় আমরা সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে ভালো পরীক্ষা উপহার দিবো। শিক্ষার্থীরা যেন স্বচ্ছন্দে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, আমরা সরকারি পদ্মা কলেজ পরিবার সে ব্যাপারে সচেষ্ট। তিনি আরো বলেন, আমার সন্তান বর্তমানে সে বুয়েটে অধ্যয়নরত। তার জন্য যেমন পরীক্ষা কেন্দ্র আমি প্রত্যাশা করি, একই রকমভাবে আমার কাছে প্রতিটি শিক্ষার্থী, আমার সন্তান। আমি তাদের জন্য স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ এবং মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করবো।আর গতবার ভেন্যু কেন্দ্র হিসাবে আমরা আমাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসন ও কেন্দ্রের সহায়তায় শিক্ষার্থীবান্ধব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে । আমি সার্বিকভাবে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা, বিশেষ করে জয়পাড়া কলেজের অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান সহ জয়পাড়া কলেজকে ধন্যবাদ জানাই সার্বিক সহায়তা করার জন্য। এছাড়া মালিকান্দা ও মেঘুলা কলেজের অধ্যক্ষ অজয় রায় কেও বিশেষ ধন্যবাদ সার্বিক সহায়তা করায়।

এছাড়া নতুন ভেন্যু হওয়ায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, দোহার-নবাবগঞ্জের সাংসদ সালমান এফ রহমান এমপি, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদ্বেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) ডাঃ এ আর খান, আই জি আর বাংলাদেশ ও সাবেক জেলা জজ ড. খান মোঃ আব্দুল মান্নানসহ স্থানীয়  এলাকাবাসী, শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে  আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।