নবাবগঞ্জ থেকে ইয়াবাসহ আটক ৩

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোহনপুর থেকে ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার  দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর এলাকার আমিনুল ইসলামে বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

নবাবগঞ্জ থানার গালিমপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক নাজমুল হক জানায়, আমিনুল ইসলাম রনি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে আমিনুল ইসলাম বাড়িতে ইয়াবা বিক্রয় করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে আমিনুল, হেদায়েত ও কক্সবাজারের আরিফকে আটক করা হয়। এসময় আটকৃতদের কাছে ১৯৫ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩০ টাকা পাওয়া যায়।

গালিমপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আব্দুর রাশিদ জানান, তারা দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার আগলা ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আমিনুল ইসলাম রনি (৩২), টিকরপুরের হারুন অর রশিদের ছেলে হেদায়েত (২৪) ও কক্সবাজার জেলার লাইট হাউস এলাকার  মো. খোকার ছেলে আরিফ (২৫)।

সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মিছিল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরস্কুশ বিজয় উদযাপনের লক্ষ্যে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে শনিবার দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা বিশাল মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অংশগ্রহন করেন৷ মিছিলটি গুলিস্তান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার, দোয়েল চত্বর হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে প্রবেশ করেন। এসময় মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া কিসমত, কেন্দ্রীয় যুব লীগের সহ- সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন ঝিলু, সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন, ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান রনি, আওয়ামী লীগ নেতা অসীম সরকার প্রমুখ৷

জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আলমগীর হোসেন

ঢাকা-১ আসন দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যবসায়ী নেতা সালমান এফ রহমান। আর এই নির্বাচনের অন্যতম সমন্বয়ক ও নীতিনির্ধারনী কাজে সালমান এফ রহমানের সাথে ছিলেন দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন। সংসদীয় আসনের বর্তমান এমপির ঘনিষ্ট সহচর আলমগীর চেয়ারম্যান বিগত নির্বাচনে নির্বাচিত হন।

এবার দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী কে হচ্ছেন তাই নিয়ে গুঞ্জন চলছে। চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন নাকি নতুন কেউ??

উল্লেখ্য আগামী মার্চ মাসে সারাদেশ ব্যাপি উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

দোহারের বাস্তব রাজনীতি বিবেচনায় এগিয়ে থাকবেন আলমগীর হোসেন। রাজনৈতিক মেধা সম্পন্ন এই রাজনীতিক প্রভাবশালী ও সফল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ সহ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপুর্ণ অনেক নেতা তার দিক নির্দেশে কাজ করছেন। দলের ভেতরে বিভিন্ন সমালোচনা থাকলেও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করার মত শক্ত ক্যান্ডিডেট কম। দোহার উপজেলা আওয়ামী সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারন সম্পাদক আলী আহসান খোকন, আঃরউফ, ও ব্যাবসায়ী নেতা ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবিরের নাম শোনা যাচ্ছে।

আলী আহসান খোকন শিকদার একবার বিপুল ভোটে পরাজিত হন। সালমান এফ রহমানের সুপরিচিত আঃ রউফ, বাবুল চেয়ারম্যান আর মাসুদ মোল্লা পৌর মেয়র ক্যান্ডিডেট হিসেবে অনেক দিন যাবত আলোচনায় থাকায় আলমগীর চেয়ারম্যান উপজেলায় এগিয়ে থাকবেন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমেও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা লক্ষ করা যাচ্ছে।

আর এর পেছনে কাজ করছে প্যানেল ভিত্তিক রাজনীতির হিসাব নিকাশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্র তার কর্মীদের মুল্যায়ন করেন এবং কর্মীবান্ধব রাজনীতি করেন। বাস্তবতা বিবেচনায় কে হচ্ছেন আগামী দিনের আওয়ামীলীগের দোহার উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী? আলমগীর হোসেন নাকি অন্য কেউ তা দেখতে হলে আরও কিছু দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে।

নবাবগঞ্জে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র নিহত

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় শেখ সিয়াম খান (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে মোটর সাইকেলের পেছনে থাকা আরও দুই ছাত্র। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কঠুরী এলাকার আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান নবাবগঞ্জ থানার বারুয়াখালি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নাসির উদ্দিন মৃধা।
নিহত শেখ সিয়াম খান ওই এলাকার শেখ সেকেন্দার আলী খানের ছেলে ও শিকারীপাড়া তোফাজ্জল হোসেন কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ১ম বর্ষের ছাত্র। আহত অপর দুই ছাত্ররা হলেন নিহত সিয়ামের সহপাঠি আকাশ (১৮) ও প্রকাশ (১৭)।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ পরিদর্শক নাসির উদ্দিন মৃধা বলেন, সিয়াম তার দুই সহপাঠীকে নিয়ে কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় তারা কঠুরী এলাকায় ব্রীজের ঢাল দিয়ে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় মোটর সাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনজনই আহত হয়। স্থানীয়রা আকাশ ও প্রকাশকে উদ্ধার করে বারুয়াখালির একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। আর গুরুতর আহত সিয়ামকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে আনা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।

জামিন পেলেন নাজমুল হুদা

0

ঘুষ নেয়ার মামলায় দণ্ডিত সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে জামিন দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাজমুল হুদাকে জামিন দেয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের দেয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করে সোমবার এ আদেশ দেয়া হয়।

আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে কারাগারে থাকা নাজমুল হুদার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

আদালতে নাজমুল হুদার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ, মুনসুরুল হক চৌধুরী, সিগমা হুদা ও আশানুর রহমান।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

দোহার- নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে একসময়কার অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ ঢেঁকি।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্রামীণ ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিতে পাল্টে যাচ্ছে বিজ্ঞানের ছোয়ায়। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সারাদেশের মত দোহার- নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে একসময়কার অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ ঢেঁকি। এখন আর কোন বিশেষ উৎসব বা ধান ভানার জন্য শোনা যায় না সেই শব্দ।

বর্তমানে দোহার ও নবাবগঞ্জ এ গুটি কয়েকটা বাড়িতেই আজো টিকে আছে এই ঢেঁকি। অথচ একসময় ছিল যখন ঢেঁকি গ্রামের মানুষের প্রতিটি বাড়িতে ছিল। পরিবারের নারীরা সেসময় দৈনন্দিন ধান,গম ও যব ভাঙার কাজ ঢেঁকিতেই করতেন।
পাশাপাশি চিড়া তৈরির মত কাজও ঢেঁকিতেই করতো।

বিশেষ করে বাংলার বিশেষ উৎসব যেমন শীতকাল, ঈদ, পূজা, নববর্ষ বা পৌষের পিঠা পার্বণ সব অনুষ্ঠানেই বাড়িতে বাড়িতে শোনা যেত ঢেঁকির শব্দ। সেসময় গ্রামের বধুদের ধান ভাঙার গান আর শব্দ ছন্দেও মত সারা গ্রামে ছড়িয়ে পরতো।

ওই সময় নিজ বাড়ির ধান ভানার কাজ করার পাশাপাশি ধনীদের ধান ভানার কাজ করে বাড়তি আয় রোজগারও করতো। ঢেঁকিতে ভাঙা চাল ছিল সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর।

কিন্তু ধান গম ভাঙা যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ায় ঢেঁকি আজ প্রায় বিলুপ্ত। ক্রমেই গ্রাম বাংলা থেকে ঢেঁকি হারিয়ে যাচ্ছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারিপাড়া সংকরদিয়া গ্রামের গৃহিনী রকেয়া বেগম জানায়ঃ- আমি নতুন বউ হয়ে আসার পর আমার শাশুড়ির সঙ্গে ঢেঁকিতে চালের গুড়ি ভেঙে শীতের পিঠা বানাতাম। কিন্তু সেই ঢেঁকি এখন আর তেমন দেখা যায় না। আর সেই কারনে এখন বাজারে নিয়ে মেশিনে চাল ভাঙাতে হয়।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে জন্মদিন আজ

0

জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছেন।

আজ তার শুভ জন্মদিন। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তার ডাক নাম ছিলো কমল।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন।

পিতার চাকরির কারণে জিয়াউর রহমান কলকাতা হেয়ার স্কুলে লেখাপড়া করেন। ভারতবর্ষ ভাগের পর তার পিতা সপরিবারে পাকিস্তানের করাচিতে চলে গেলে তখন জিয়াউর রহমান করাচি একাডেমী স্কুলে ভর্তি হন।

করাচি একাডেমী থেকে তিনি ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ১৯৫৩ সালে করাচিতে ডি.জে. কলেজে ভর্তি হন। একই বছর তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন।

সামরিক বাহিনীতে তিনি একজন সুদক্ষ প্যারাট্রুপার ও কমান্ডো হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন এবং স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

করাচীতে দুই বছর চাকুরি করার পর ১৯৫৭ সালে তিনি ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন। তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত কবে।

১৯৬৯ সালে মেজর পদে উন্নীত হয়ে জিয়াউর রহমান জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। এডভান্সড মিলিটারি এন্ড কমান্ড ট্রেনিং কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানিতে যান এবং কয়েক মাস বৃটিশ আর্মির সাথেও কাজ করেন।

১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন।

১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে প্রথমে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন এবং চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, মিরসরাই, রামগড়, ফেনী প্রভৃতি স্থানে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন।

জুন হতে অক্টোবর পর্যন্ত যুগপৎ ১১ নম্বর সেক্টরের ও জেড-ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানকে কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর ৪৪তম ব্রিগেডের কমান্ডার নিয়োগ করা হয় যে ব্রিগেডের সদস্যরা তারই অধীনে ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো। ১৯৭২ এর জুন মাসে তিনি কর্নেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপসেনাপ্রধান পদে নিযুক্ত হন।

১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে এবং ঐ বছরের শেষের দিকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত হবার ১০ দিন পর জিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হতে অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি জনতা বিপ্লবের পর জিয়াউর রহমান রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ১৯৭৬ সালের ৮ মার্চ তিনি মহিলা পুলিশ গঠন করেন। ১৯৭৬ সালে কলম্বোতে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সম্মেলনে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ সাত জাতি গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

সে বছরেই তিনি উলশি যদুনাথপুর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন উদ্বোধন করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর মেজর জিয়া প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। ১৯ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে তাকে পুনরায় সেনাবাহিনীর চীফ অফ আর্মী স্টাফ পদে দায়িত্বে প্রত্যাবর্তন করা হয়।

১৯৭৬ সালে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন, ১৯৭৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি একুশের পদক প্রবর্তন করেন এবং রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত সায়েম এর উত্তরসূরি হিসেবে ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়াউর রহমান দেশে আবার গণতন্ত্রায়ণের উদ্যোগ নেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন। দেশের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির আভাস দিয়ে তিনি বলেন, I will make politics difficult for the politicians. ১৯৭৮ সালের ৩রা জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান জয়লাভ করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনাকালীন সময়ে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অনেক উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বিপদের সমূহ সম্ভবনা জেনেও জিয়া চট্টগ্রামের স্থানীয় সেনাকর্মকর্তাদের মধ্যে ঘঠিত কলহ থামানোর জন্য ১৯৮১ সালের ২৯ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে থাকেন।

পরদিন ৩০ মে গভীর রাতে সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার জানাজায় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম ঘটে যেখানে প্রায় ২০ লক্ষ্যাধিক মানুষ সমবেত হয়।

“দোহার উপজেলার সেরা সরকারি পদ্মা কলেজ”

১৬ ডিসেম্বর দোহার উপজেলায় সরকারি জয়পাড়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে -তে সেরা হয়েছে সরকারি পদ্মা কলেজ। অত্র কলেজের রোভার স্কাউট দলটি সম্পাদক মোল্লা মোঃ ইমদাদুল হক চান স্যারের নেতৃত্বে ডিসপ্লেতে অংশগ্রহন করে প্রথম স্থান অধিকার করে। কলেজের এই সাফল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সরকারি পদ্মা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জনাব জালাল হোসেন নিউজ৩৯ কে বলেন,এটি একটি সামষ্টিক ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া ও প্রচেষ্টার সফলতা। দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা দক্ষিণে সরকারি পদ্মা কলেজ ফলাফল ও সহ- শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত সফলতা অর্জন করে আসছে। ইনশাআল্লাহ, আগামীতেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

“মেঘুলা বাজারে প্রকাশ্যে যুবতীকে কুপিয়ে জখম”

দোহারের মেঘুলা বাজারের ন্যাশনাল ব্যাংকের নিচে দোহার ফ্যাশন হাউজে নিপা আক্তার নামে এক যুবতীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিপা আক্তার জানায়, ঝন্টু নামে এক লোক তাকে কুপিয়ে জখম করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঝন্টু নিপা আক্তারের পিছু নিয়ে দোহার ফ্যাশন হাউজে ঢুকে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় দোহার থানা পুলিশ আসামি ঝন্টুকে আটক করেছে। এর আগে আটককৃত ঝন্টুকে স্থানীয় জনসাধারন আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পেলেন সালমান এফ রহমান

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পেয়েছেন সালমান ফজলুর রহমান (সালমান এফ রহমান)। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রুলস অব বিজনেসের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সালমান ফজলুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এ নিয়োগ অবৈতনিক। উপদেষ্টা পদে থাকাকালে তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদা পাবেন। যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হয়ে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালমান এফ রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে একই দিনে সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা পদে আবারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা হিসেবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিয়োগ খণ্ডকালীন ও অবৈতনিক। এই দায়িত্ব পালনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।

এ দিকে গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ উপদেষ্টাকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয়ী হয়। এরপর ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৭ জনের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। নতুন মন্ত্রিসভায় ৩১ জনই নতুন। এর মধ্যে ২৭ জন জীবনের প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন। আর সদ্য বিদায়ী মন্ত্রিসভার ৪৮ জনের মধ্যে ৩৪ জনকেই বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী তফসিলের আগে পদত্যাগ করা চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর মধ্যে দুজনকে নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হলেও বাকি দুজন বাদ পড়েছেন।