প্রতিদিনের হাদিসঃ ঈমান

0

হাদিস নং ১: আবূ খায়সামা যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া’মার (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া’মার) বলেন, সর্বপ্রথম তাকদীর’ সম্পর্কে বসরা শহরে মাবাদ আল জুহানী কথা তোলেন। আমি (ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া’মার) এবং হুমায়দ ইবনু আব্দুর রহমান আল হিমায়রী হাজ্জ (হজ্জ) অথবা উমরা আদায়ের জন্য মক্কা মু’আযযামায় আসলাম। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম যে, যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পাই তাহলে তাঁর কাছে এসব লোক তাকদীর সম্পর্কে যা বলে বেড়াচ্ছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করতাম।

সৌভাগ্যক্রমে মসজিদে নববীতে আমরা আবদুল্লাহ ইবনু উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর দেখা পাই। আমরা তাঁর কাছে গিয়ে একজন তাঁর ডানপাশে এবং আর একজন বামপাশে বসলাম। আমার মনে হলো, আমার সাথী চান যে, আমিই কথা বলি। আমি আরয করলাম, হে আবূ আবদুর রহমান! আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর কুনিয়াত ছিল আবূ আবদুর রহমান। আমার দেশে এমন কতিপয় লোকের আবির্ভাব হয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং ইল্‌মে দ্বীন সম্পর্কে গবেষণা করে। তিনি তাদের অবস্হা সম্পর্কে আরো কিছু উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, তারা মনে করে তাকদীর- বলতে কিছু নেই। সবকিছু তাৎক্ষনিকভাবে ঘটে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, তাদের সাথে তোমাদের দেখা হলে বলে দিও যে, তাদের সাথে আমার কোন সস্পর্ক নেই এবং আমার সঙ্গে তাদেরও কোন সম্পর্ক নেই। আল্লাহর কসম! যদি এদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনার মালিক হয় এবং তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে, তাকদীরের প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত আল্লাহ তা কবুল করবেন না।

তারপর তিনি বললেন, আমাকে আমার পিতা উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাদীস শুনিয়েছেন যে, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে ছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাযির হলেন। তাঁর পরিধানের কাপড় ছিল সা’দা ধবধবে, মাথার কেশ ছিল কাল কুচকুচে। তাঁর মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন ছিল না। আমরা কেউ তাঁকে চিনি না। তিনি নিজের দুই হাঁটু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসে পড়লেন আর তার দুই হাত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দুই উরুর উপর রাখলেন।

তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইসলাম হল, তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রামাযানের রোযা পালন করবে এবং বায়তুল্লাহ পৌছার সামর্থ্য থাকলে হাজ্জ (হজ্জ) পালন করবে। আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। তার কথা শুনে আমরা বিষ্মিত হলাম যে, তিনই প্রশ্ন করেছেন আর তিনই-তা সত্যায়িত করছেন।

আগন্তুক বললেন, আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঈমান হল আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসুলগণের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে, আর তাকদিরের ভালমন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন।

তারপর বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইহসান হলো, এমনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে ভাববে তিনি তোমাকে দেখছেন।

আগন্তুক বললেন, আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে তিনি অধিক অবহিত নন। আগন্তুক বললেন, আমাকে এর আলামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল বললেনঃ তা হলো এই যে, দাসী তার প্রভুর জননী হবে; আর নগ্নপদ, বিবস্ত্রদেহ দরিদ্র মেষপালকদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে।

উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন যে, পরে আগন্তুক প্রস্হান করলেন। আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে উমর! তুমি জানো, এই প্রশ্নকারী কে? আমি আরয করলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই সম্যক জ্ঞাত আছেন। রাসুল বললেনঃ তিনি জিবরীল। তোমাদের তিনি দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মাহিন্দ্রের চাপায় ঝরে গেলে সরকারি পদ্মা কলেজের শিক্ষার্থীর প্রাণ

মাটি বোঝাই মাহিন্দ্রের চাপায় দোহারে ঝরে গেল আরেক শিক্ষার্থীর প্রাণ। রবিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার ফুলতলা বাজারের সরকারি পদ্মা কলেজের শিক্ষার্থী শাওন মাটি বোঝাই “মাহিন্দ্র” গাড়ীর চাপায় নিহত হয়েছে। নিহত শাওন দোহারের মুকসুদপুর ইউনিয়নের ডোলারপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মাইনুদ্দিন ব্যাপারির একমাত্র ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শাওনের সহপাঠি পদ্মা কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে জানা যায়, সকাল সাড়ে দশটার দিকে শাওন তার বন্ধুর মোটর সাইকেলে যাচ্ছিল। তখন পেছন থেকে আসা মাটি বোঝাই মাহিদ্রা শাওনদের ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় শাওন পড়ে গেলে মাহিন্দ্র গাড়ীটি শাওনের পেটের উপর দিয়ে উঠে যায়। এই সময় শাওনের সহপাঠিরা মূমুর্ষ অবস্থায় প্রথমে তাকে আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতালে নেয়, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তবরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘাতক ড্রাইভার দূর্ঘটনার সাথে সাথেই পালিয়ে গিয়েছে।

সরকারি পদ্মা কলেজ

এরই মাঝে শাওন হত্যার বিচারের দাবিতে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে পদ্মা কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।  তারা অতি দ্রুত মাহিন্দ্র চালককে গ্রেফতার ও দোহারের অবৈধ মাহিন্দ্র চলাচল বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানায়।

সরকারি পদ্মা কলেজ

নবাবগঞ্জে থামছে না ফসলী জমির মাটির বিক্রির মহোৎসব

ঢাকার নবাবগঞ্জে থামছে না ফসলী মাটি বিক্রির মহোৎসব। ভূমি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নবাবগঞ্জের কৈলাইল, নামা মেলেং খালপাড় মাতাপপুর, কাটাখালী, মালিকান্দা, দৌলতপুর, শোল্লার আওনা চক, চক সিংহরা, চক সিংজোর, নয়শ্রী এলাকার শৈল্যা ও কলাকোপা ইউপির সাহেবখালিসহ শিকারীপাড়া, বাহ্রা ইউনিয়নে কয়েকটি স্পটে চলছে ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎউৎসব। প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

এলাকাবাসীর দাবি, মাছচাষ করার কথা বলে পুকুর খনন করে শত শত বিঘা আবাদী কৃষি জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও স্থাপনা নির্মাণের কারীদের নিকট বিক্রি করছে মাটি বিক্রেতা সিন্ডিকেট। অন্যদিকে কৃষি কাজে জন্য ব্যবহার ভারত থেকে আমদানী করা মাহেন্দ্র দিয়ে দিয়ে মাটি আনা নেওয়ার ফলে অধিকাংশ গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করজে।

এ বিষয়ে সিংজোর গ্রামের অটোরিকসা(সি.এন.জি) চালক আব্দুস সালাম মোল্লা ও মেলেং গ্রামের রিকসা চালক মো. করিম নবাবগঞ্জের একটি চা স্টলে আলাপ কালে বলেন, রাস্তাঘাট যতই ঠিক করা হোক না কেন লাভ নেই, কারন মাটি বিক্রি বন্ধ না হলে মাহেন্দ্র চলাচল বন্ধ হবে না। মাহেন্দ্রর কারনে পাকা সড়কের পিচ উঠে যায় ও গর্তে সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে কাঁচা সড়ক ভেঙ্গে বড় বড় গর্ত হয় যা দেখার ও বলার কেউ নেই।

মাটি উত্তোলন হচ্ছে এমন সব এলাকার জনসাধারণের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই সারা বছরই এসব মাটিখেকোরা তাদের অবৈধ মাটি বিক্রির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এসব মাটিখেকোদের উৎপীড়নে দিশাহারা হয়ে উঠেছে ফসলি জমির মালিক ও কৃষি শ্রমিকরা।

ভূক্তভোগী কৈলাইল গ্রামের আমির মোহাম্ম্দ ও কাটাখালী গ্রামের মনির মিয়া বলেন, মাটি বিক্রির ব্যবসা চালাতে প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করতে সদা তৎপর থাকেন একটি প্রভাবশালী চিন্থিত সিন্ডিকেট চক্র। আর এই সিন্ডিকেট চক্রটি যখন যার হাতে ক্ষমতা ও যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিবছর লক্ষকোটি টাকা।

নবাবগঞ্জের দৌলতপুর গ্রামের অধিবাসী হারাধন বলেন, আমাদের অঞ্চলের ভূমিখেকো ক্ষুদু মেম্বার, মহরচাঁন, যুবলীগের বাবুল, হাবিব(ডয়েস) মেলেং গ্রামের কথিত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল ওহাব,কৈলাইল গ্রামের আবুল কাশেম, সহিদ সারাবছর মাটি বিক্রি করলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে না বরংথানার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসব ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন, তাদের সাথে পুলিশ কর্মকর্তাদের রয়েছে সুসর্স্পক। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালায় পুলিশ এমন কথাও বলেন তিনি। ইছামতিনদীর পাড়ের সাইলকা গ্রামের আজাদ খাঁন বলেন, মাটিখেকো ক্ষুদু মেম্বারের কারনে কৈলাইল ও বাহ্রা ইউনিয়নের শত শত বিঘা কৃষিজমি নষ্ট হলেও ক্ষুদু মেম্বারের কিছুই হয়। কারন পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সাথে ক্ষুদু মেম্বারের রয়েছে হটলাইন। প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা মাঝে মাঝে বেড়াতে আসেন তার বাড়িতে এমন তথ্যও জানান তিনি।

উপজেলার রাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা কালাম মিয়া বলেন, আমাদের পাশর্^বর্তী সাহেবখালী দোহার উপজেলার সিমান্তবর্তী ইসলামপুর এলাকায় অবস্থিত সাহেবখালীর জে.বি.সি, জেপিবি, ইটভাটার কারনে সড়ক ও কৃষিজমির ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। ভেকুদিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে মাহেন্দ্র গাড়ি দিয়ে ই্টভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে নেওয়ার কারনে সড়কগুলো যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসনের নিরবতাকে দায়ী করেন।

সমরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার শিকারীপাড়া এলাকার ডিএনবি ও চুনাকাটিবিল এলাকায় অবস্থিত জেবিসি, সাহেবখালীর জে.বি.সি, জেপিবি, মাঝিরকান্দা এলাকায় ডি.এন.বি ও শোল্লা পালিঝাপের এস.এসবি ব্রিকস্(এ.এ.বি) কৈলাইল ইউনিয়নে জে.বিসি(এনডিএস)ব্রিকস, এনবিএস, কে.এইচ.বি ,জে.বি.সি(এনডিএস) নামের ব্রিকফিল্ড মালিকরা শতশতবিঘা কৃষিজমির মাটি উত্তোলন করে কৃষি অধ্যুষিত এই অঞ্চলের কৃষককে ভাবিয়ে তুলেছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় কৃষক সমিতির নেতা আসলাম খাঁন বলেন, কৈলাইল , সাহেবখালী, শিকারীপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা জমি হারানোর দুশ্চিন্তায় এখন রাত দিন পাড় করছে। আর এসব আবাদযোগ্য কৃষিজমি বিভিন্ন কৌশলে খরিদ করে বছরের পর বছর মাটি বিক্রির ব্যবসা চালাচ্ছেন। মাটিখেকো নামে বহুল পরিচিত বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গ্রুপ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী পরিচয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সারাবছর মাটি বিক্রি করছে বিভিন্ন ইউনিয়নের বিক্রেতা সিন্ডিকেট। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তাদের সাথে তাদের রয়েছে মহরম দহরম সর্ম্পক। স্থানীয়রা অভিযোগ করেও কোন লাভ হয় না বরং হামলা,মামলার শংঙ্কায় পড়তে হয় তাদের। নয়নশ্রী ইউনিয়নের শৈল্যার চকে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে যুবলীগ নেতা খৈমদ্দিনসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী মাটি বিক্রির ব্যবসা চালাচ্ছে। এছাড়া শিকারীপাড়া এলাকায় তিনটি স্পটে ইট ব্যবসায়ী বাদলের নেতৃত্বে চলছে মাটি বিক্রি।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনজুর হোসেনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরীফ রায়হান কবির মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন কে জানানো হবে এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা কথাও বলা হবে।

উপজেলা কৃষিসম্প্ররারণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, নবাবগঞ্জে মোট আবাদী জমির পরিমান ১৭৫১১ হেক্টর। যারমধ্যে একফসলি জমি ৬৯৯৩ হেক্টর ,দুই ফসলিজমি ৮৬২৮ হেক্টর, তিন ফসলিজমি ২১৮১ হেক্টর। এছাড়া তিনের অধিক ফসলি জমির পরিমান২৫ হেক্টর আবাদ যোগ্য পতিত জমি ২৪৫ হেক্টর। কিন্ত বর্তমানে প্রতিদিন ২ থেকে ৩শ’ বিষা কৃষিজমি কথিত মাটি ব্যবসায়ীরা বিনষ্ট করছে। পুকুর খনন ও মাছ চাষের কথা বলে মাটি উত্তোলন করছে তারা।

নবাবগঞ্জে দুই ভূয়া সাংবাদিকের কারাদন্ড

ঢাকার নবাবগঞ্জের সেন্ট ইউফ্রেজিস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে চাঁদা দাবীর অভিযোগে আব্দুস সালাম মিন্টু (৪৮) ও মো. ডিপলু (৩৭) নামে দুই ভূয়া সাংবাদিকের তিন মাস করে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেনের আদালত এ সাজা দেন। সাজাপ্রাপ্ত আব্দুস সালাম মিন্টু নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর থানার মৃত লাল মিয়ার ছেলে এবং মো. ডিপলু উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের মাঝিরকান্দা গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ সেন্ট ইউফ্রেজিস বালিকা বিদ্যালয়ে যান ঐ দুই নামধারী সাংবাদিক। সেখানে গিয়ে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চাঁদা দাবী করেন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিস্টার মার্গারেট গমেজ ইউএনওকে জানান। খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঐ বিদ্যালয় থেকে তাদের আটক করেন। সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের দু’জনকে ১৮৭৯ সনের টাউট আইনে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।

ভ্রাম্যমান আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইটভাটা গুলো থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল বলে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল।

নবাবগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য পিনু খানের পুত্র রনির যাবজ্জীবন

রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল ঈমাম।

রায়ে বলা হয়, গুলির ঘটনার সময় স্বাভাবিক ছিলেন না রনি। তিনি মাতাল ছিলেন। তার মেয়ে হাসপাতালে থাকায় বিষণ্ণতায় ছিলেন। তাই তিনি মদপান করে নেশাগ্রস্ত ছিলেন। মামলার বিচারে তা প্রমাণিত হয়েছে।

রায়ে আরো বলা হয়, এ ঘটনায় তার (রনি) মৃত্যুদণ্ড শাস্তি হয়, কিন্তু শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলো।

২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল তিন বন্ধুসহ রনি শেলবারে মদ পান করেন। এরপর গভীর রাতে বাসায় ফেরার পথে নিউ ইস্কাটন রোডে জ্যামে পড়লে রনি তার পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। গুলিতে রিকশাচালক আবদুল হাকিম ও অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১৫ এপ্রিল মারা যান হাকিম। আর ২৩ এপ্রিল মারা যান ইয়াকুব।

পরে হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম রমনা থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। ২৪ মে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ মে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে রনিকে গ্রেফতার করে।

পরে ২০১৫ সালের ২১ জুলাই রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ঢাকা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার দাস।

রনির গাড়ির চালক ইমরান ফকির এবং ঘটনার দিন তার সঙ্গে থাকা কামাল মাহমুদ, টাইগার কামাল ও জাহাঙ্গীর আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, রনি তার পিস্তল দিয়েই গুলি ছোড়েন। এই গুলিতেই হাকিম ও ইয়াকুব গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান।

ঘটনার দিন কালো রঙের যে প্রাডো গাড়ি থেকে রনি গুলি চালিয়েছিলেন সেটি সাবেক সংসদ সদস্য পিনু খানের বলে গণমাধ্যমে খবর আসে সে সময়। সবশেষ আলোচিত এই মামলার রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় বখতিয়ার আলম রনিকে। এর আগে তিন দফা পেছায় রায়।

পিনু খান পুত্রের মামলার রায় আজ

বহুল আলোচিত রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করা হবে। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঞ্জুরুল ঈমাম এই রায় ঘোষণা করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাকসুদ বুধবার সকালে বলেন, রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলার রায় আজ বুধবার দুপুরের পর ঘোষণা হতে পারে।

এই মামলার একমাত্র আসামি আওয়ামী লীগের নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি।

এর আগে ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত। এ নিয়ে মামলার রায় ঘোষণার জন্য তৃতীয়বারের মতো দিন ধার্য করা হলো।

গত ৪ অক্টোবর মামলাটি রায়ের জন্য থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রয়োজন মনে করেন আদালত। ওইদিন রায় না দিয়ে ১৭ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য-জেরার জন্য দিন ধার্য করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঞ্জুরুল ঈমাম।

এ ছাড়া গত বছরের ৮ মে এ মামলায় রায়ের জন্য দিন ধার্য থাকলেও আদালত মনে করছেন মামলাটির বিষয়ে অধিকতর যুক্তিতর্কের প্রয়োজন আছে। ফলে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার বিষয়ে অধিকতর যুক্ততর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন। এরপর মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি হয়।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে নিউ ইস্কাটনে মদ্যপ অবস্থায় রনি নিজ গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে রিকশাচালক হাকিম ও অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল হাকিম এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান।

পরবর্তীতে হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম রমনা থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৪ মে মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ মে অ্যালিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে রনিকে গ্রেফতার করে। পরে ২০১৫ সালের ২১ জুলাই রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার দাস।

২০১৬ সালের ৬ মার্চ রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সামছুন নাহার। মামলায় ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ২৮ জন সাক্ষ্য দেন।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাঃ জেলায় ৫০ হাজারের বেশি আবেদন, পরীক্ষা হবে কয়েক ধাপে

0

প্রথমবারের মতো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা জেলাভিত্তিক পৃথক প্রশ্নে নেয়া হবে। যেসব জেলায় ৫০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে সেসব জেলার পরীক্ষা কয়েক ধাপে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

একই জেলার আবেদনকারীদের কয়েক ধাপে আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার এ সিদ্ধান্তের কারণে চাকরীপ্রার্থীরা বৈষম্যের আশঙ্কা করছেন। একই সময়ে জেলাভিত্তিক একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনকারীরা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮’ পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় কয়েক ধাপে পরীক্ষা নেয়া হবে। ৫০ হাজারের বেশি যেসব জেলায় আবেদন জমা পড়েছে সেসব জেলায় কয়েক ধাপে পরীক্ষা নেয়া হবে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সভা করে কোন জেলায় কবে পরীক্ষা হবে তা নির্ধারণ করা হবে।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনকারী একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, একই জেলা ও উপজেলার চাকরিপ্রার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হলে বৈষম্য সৃষ্টি হবে। কারোর প্রশ্ন সহজ হবে। আবার কারোর কঠিন প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নে কেউ এগিয়ে যাবেন। আবার কেউ পিছিয়ে পড়বেন, চাকরি বঞ্চিত হবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মানসম্মত প্রশ্ন তৈরি করা হবে। প্রশ্নের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না। এ ছাড়া একাধিক প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টির সুযোগ থাকবে না। তবে আসন সংকুলান হলে একই জেলার পরীক্ষা একই সময়ে একই প্রশ্নে নেয়া হবে।

অপরদিকে জানা গেছে, এবার পরীক্ষার কক্ষে পরিদর্শক নিয়োগের ক্ষমতা কেন্দ্র প্রধানের থাকছে না। এক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে অন্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেয়া হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকদের শুধু দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন কেন্দ্রপ্রধান। এবার একসঙ্গে সব জেলার ফল প্রকাশ করা হবে না। যেসব জেলার পরীক্ষা আগে শেষ হবে সেসব জেলার লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পর্যায়ক্রমে মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে এবং ফল প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার নিয়োগ পরীক্ষা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে নেয়া হবে। নির্ধারিত জেলায় পরীক্ষার আগের রাতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে প্রশ্নপত্রের সব সেট পাঠানো হবে। পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে তা কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে। পৌর এলাকার মধ্যে এবার পরীক্ষা নেয়া হবে। আবেদনকারীর আসন বুয়েটের অত্যাধুনিক সফটওয়ারের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর আসন বণ্টন অনুযায়ী প্রশ্নের সেট নির্ধারণ করে দেবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার ২০ সেট প্রশ্ন তৈরি করা হবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতি ডিজিটালাইজড করতে আমরা বুয়েটের সহায়তায় একটি আধুনিক সফটওয়্যার তৈরি করেছি। সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর সিটবিন্যাস, কক্ষ পরিদর্শক নির্বাচনসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩০ জুলাই ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। ১২ হাজার আসনের বিপরীতে সারাদেশ থেকে মোট ২৪ লাখ ৫ জন প্রার্থী আবেদন করেন। সে হিসাবে প্রতি আসনে লড়বেন ২০০ জন।

কোন জেলায় কত আবেদনঃ

ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, এবার সর্বোচ্চ আবেদন জমা পড়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। এ জেলায় মোট ৯৮ হাজার ৯৬৯টি আবেদন পড়ে। এরপরে ময়মনসিংহ জেলায় ৮৮ হাজার ২১৮টি, কুমিল্লায় ৮৪ হাজার ৭২৮টি, দিনাজপুরে ৬২ হাজার ৯৭১টি, রংপুরে ৫৯ হাজার ৭১টি, জয়পুরহাটে ১৮ হাজার ১৭৮টি, বগুড়ায় ৬৪ হাজার ৭২৭টি, জামালপুরে ৫০ হাজার ৫০টি, যশোরে ৫৫ হাজার ৯৩২টি, টাঙ্গাইলে ৬১ হাজার ৬৩০টি, নওগাঁয় ৪৯ হাজার ৮৬৩টি, রাজশাহীতে ৫৭ হাজার ৩৮২টি, ঢাকায় ৬৪ হাজার ৫৫৮টি, বরিশালে ৬১ হাজার ৮৮৩টি, সিলেট জেলায় ৫০ হাজার ৩৭০টি আবেদন জমা পড়েছে।

এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০ হাজার ২৭১টি, নাটোরে ৩৫ হাজার ২৫৭টি, সিরাজগঞ্জে ৫৮ হাজার ১৪৯টি, পাবনায় ৫১ হাজার ২৩১, কুষ্টিয়ায় ৩২ হাজার ৬০৯টি, মেহেরপুরে ১০ হাজার ৮৮৮টি, চুয়াডাঙ্গায় ১৮ হাজার ৬৬১টি, ঝিনাইদহে ৩৭ হাজার ৬১৭টি, মাগুরায় ২১ হাজার ৯৬২টি, নড়াইলে ১৫ হাজার ৬১৪টি, সাতক্ষীরায় ৪৫ হাজার ৬১টি, খুলনায় ৪৭ হাজার ১৮৮টি, বাগেরহাটে ৩২ হাজার ৯৭টি, শেরপুরে ২৫ হাজার ৪৬৬টি, নেত্রকোনায় ৪২ হাজার ৭৫৩টি, কিশোরগঞ্জে ৪৭ হাজার ৮৮৫টি, গাজীপুরে ৩৫ হাজার ৫১৭টি, নরসিংদীতে ৩৮ হাজার ১৪৩টি, মানিকগঞ্জে ২৫ হাজার ৭১১টি, নারায়ণগঞ্জে ২৭ হাজার ১২৭টি, মুন্সিগঞ্জে ১৮ হাজার ৭৫৯টি, রাজবাড়ীতে ২১ হাজার ৯০৬টি, ফরিদপুরে ৩৩ হাজার ৬৪৩টি, মাদারীপুরে ২৪ হাজার ৮০৭টি, শরীয়তপুরে ১৮ হাজার ৭৮৬টি, গোপালগঞ্জে ২৯ হাজার ২১৫টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৮ হাজার ৪০টি, চাঁদপুরে ৪৬ হাজার ৯১টি, লক্ষ্মীপুরে ২৩ হাজার ৩৩০টি, নোয়াখালীতে ৪০ হাজার ৭৩৯টি, ফেনীতে ২১ হাজার ৫০১টি, কক্সবাজারে ২৬ হাজার ৭৫০টি, পিরোজপুরে ২৯ হাজার ২৭৮টি, ঝালকাঠিতে ১৯ হাজার ১৩৮টি, বরগুনায় ২১ হাজার ৭১৭টি, পটুয়াখালীতে ৪০ হাজার ৮০৭টি, ভোলায় ২৫ হাজার ১৪৫টি, সুনামগঞ্জে ৩৫ হাজার ৫১২টি, হবিগঞ্জে ৩৩ হাজার ৪৭৫টি, মৌলভীবাজারে ৩২ হাজার ১০৬টি, পঞ্চগড়ে ২১ হাজার ৬২৯টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩১ হাজার ৭৯৭টি, নীলফামারীতে ৩৯ হাজার ৭৫২টি, লালমনিরহাটে ২৬ হাজার ১২২টি, কুড়িগ্রামে ৪৩ হাজার ২৯৪টি এবং গাইবান্ধায় ৫৫ হাজার ৫১৭টি আবেদন পড়েছে।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আলমগীর হোসেনই আওয়ামী লীগের প্রার্থী

আসন্ন আগামী  উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৯ এর  চেয়ারম্যান পদে আওয়ামিলীগের একক প্রার্থী হিসেবে দোহার উপজেলা পরিষদের সফল চেয়ারম্যান জনাব আলমগীর হোসেন কে পুনরায় মনোনীত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ধানমন্ডির বেল টাওয়ারে ঢাকা- ১ এর সংসদ সালমান এফ রহমানের কার্যালয়ে ঢাকা জেলা ও দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের এক সভায় সর্ব সম্মত ভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে একাদশ জাতীয়  নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যবসায়ী নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা জনাব সালমান এফ রহমান। আর এই নির্বাচনের অন্যতম সমন্নয়ক ও নীতিনির্ধারনী কাজে সালমান এফ রহমানের সাথে ছিলেন দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন। সংসদীয় আসনের বর্তমান এমপির ঘনিষ্ট সহচর আলমগীর হোসেন। দোহারের বাস্তব রাজনীতি বিবেচনায় জনপ্রিয়তায় অনেক এগিয়ে জনাব আলমগীর হোসেন। বিচক্ষন রাজনৈতিক মেধা সম্পন্ন এই রাজনীতিক একজন প্রভাবশালী ও সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে সুনাম কুরিয়েছেন। এছাড়া দোহারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে তার প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধান এলাকার মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে।

আলমগীর হোসেন

সদ্য সংসদীয় নির্বাচনে আলমগীর হোসেনের সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের পুরস্কার সরুপ তাই আবারো আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসাবে দোহার উপজেলা নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। তার এই পুনরায় মনোনয়নে উল্লাস প্রকাশ করেছে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিভিন্ন মানুষ ও সংগঠন।

ডিএনএসএমের সেলাইমেশিন ও অর্থ সহায়তা প্রদান

দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের উদ্যোগে দোহারের দুই জন অভাবী ও দুস্থ মানুষের মাঝে অর্থ সহায়তা ও সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়েছে। ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার তারিখে ডিএনএসএমের নিজস্ব ফান্ড থেকে চর জয়পাড়ার দুস্থ চেড়াই কাঠ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এলেমকে ১০ হাজার টাকা অর্থ সাহায্য করা হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের সভাপতি ও নিউজ৩৯.নেট-এর সম্পাদক তারেক রাজিব, সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নিউজ৩৯ এর চিফ নিউজ এডিটর পারভেজ রবিন, সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুমন।

রবিবার বিকালে পদ্মা কলেজের মেধাবী ছাত্র ও সদ্য পিতা হারানো শুভর হাতে তার মায়ের জন্য একটা সেলাই মেশিন তুলে দেয় ডিএনএসএম। শুভর পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন গ্রহন করেন ডিএনএসএম কর্মী আশিকুল গাজী।

ডিএনএসএম

অবৈধ বালু উত্তলনঃ এলাকাবাসীর প্রতিরোধ

ঢাকার নবাবগঞ্জের কৈলাইল ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম বাজার সংলগ্ন কালীগঙ্গা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার চেষ্টা করে দুবৃত্তরা। এ সময় স্থানীয় জনতা এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তখন গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে ড্রেজার ও পাইপ রেখে পালিয়ে যায় মাটিখেকো দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কৈলাইল ইউপি সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম ও কথিত সৈনিকলীগ নেতা রমজান আলীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তি শনিবার দুপুরে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

মোবাইল ফোনে মো. আলী হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কালীগঙ্গা নদীতে বালু উত্তোলন করা হলে, পাড়াগ্রাম হাটবাজার, মসজিদ, হাইস্কুলসহ সমগ্র গ্রামটি নদী গর্ভে চলে যাবে। ফলে অসংখ্য মানুষ গৃহহীণ হয়ে পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘পাড়াগ্রাম একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা। একটি কুচক্রি মহল নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে গ্রামটিকে নদীগর্ভে বিলিন করে দিতে তৎপর রয়েছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর নিকট জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান আলী হোসেন।

ঘটনায় অভিযুক্ত কৈলাইল ইউপি সদস্য মো. সাইদুল ইসলামকে তার মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সৈনিকলীগ নেতা রমজান আলী জানান, ‘এ ঘটনায় আমি জড়িত নই। প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলনের সাথে রয়েছেন।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে কৈলাইল ইউনিয়নে ফসলি জমির মাটি বিক্রিসহ নদী থেকে বালু উত্তোলনে তৎপর চক্রটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত।

সদা তৎপর  প্রভাবশালী চিন্থিত এই সিন্ডিকেট চক্রটি যখন যার হাতে ক্ষমতা ও যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে নদী থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিবছর লক্ষকোটি টাকা।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।