বুধবার দোহার জয়পাড়া পৌরসভাধীন আল হাকিম ফাউন্ডেশনের রোড উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই রাস্তাটি অনুমোদন পাশ করলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান ফজলুর রহমান। রাস্তাটির মোট ব্যয় ধরা হবে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা। এই রাস্তাটি জয়পাড়াস্থ হাজি বাড়ির মোড় থেকে শুরু হয়ে উত্তর জয়পাড়াস্থ লস্কর কান্দা ব্রিজের সাথে গিয়ে মিলিত হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, পৌরমেয়র আলহাজ আব্দুল রহিম, পৌরসভার ইন্জিনিয়ার মশিউর রহমান, কাউন্সিলর আলমাস হোসেন, ্দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব শরীফ, পৌর যুবলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন রাজিবসহ দোহার উপজেলার ছাএলীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ সভাপতি উদয়, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম সহ ও এলাকাবাসী।
১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার দোহার পৌরসভার রাস্তার কাজের উদ্বোধন
১১তম তারাবিতে পঠিতব্য আয়াতের বিষয়বস্তু
আজ ১১তম তারাবিতে সূরা হিজর এর শুরু থেকে সূরা নাহল এর শেষ পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৪তম পারা।
পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের মূলবিষয়বস্তু তুলে ধরা হল।
১৫. সূরা হিজর : (১-৯৯)
সূরা হিজর। অবতীর্ণ হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৯৯ এবং রুকু সংখ্যা ছয়। আজ পঠিত হবে পুরো সূরা-ই।
প্রথম রুকু, ১ থেকে ১৫ নম্বর আয়াত। সত্য অস্বীকারকারীদের হাশর কেমন হবে সেই বর্ণনা দিয়ে সূরা শুরু হয়েছে। মক্কার কাফেররা নবীজী (সা.) এর সঙ্গে যে ধরণের আচরণ করছে পূর্ববর্তী নবীদের সঙ্গেও ঠিক এ ধরণের আচরণই করা হয়েছে। তাই হতাশ না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে দাওয়াতি কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় রুকু। ১৬ থেকে ৪৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এই বিশ্ব চরাচর ও তার নিজের মাঝে কত নেয়াতমরাজি ছড়িয়ে আছে। অন্তত এর শোকরিয়া আদায় করার জন্য হলেও আল্লাহর পাঠানো সত্য গ্রহণ করা উচিত। আমাদের আদি পিতা হজরত আদম (আ.) এর প্রসঙ্গ আলোচনা করা হয়েছে। আদম (আ.)কে কীভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তার মর্যাদা কত ওপরে তুলে ধরেছেন সে কথাও বলা হয়েছে। ইবলিস কীভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে তাও বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য, মানুষ যেন নিজের মর্যাদা বোঝে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
চতুর্থ ও পঞ্চম রুকু। ৪৫ থেকে ৭৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বান্দার প্রতি ক্ষমাশীল- এ কথা বলে রুকু শুরু করা হয়েছে। পরে হজরত ইবরাহিম (আ.) এর কাছে মেহমান বেশে দুইজন ফেরেশতা এসেছিল- সে ঘটনা বলা হয়েছে। ফেরেশতারা ইবরাহিম নবীকে পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দেয়ার পর বলেছে, আমরা লূত (আ.) এর কওমের কাছে যাচ্ছি। তাদেরকে আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দিব। তারপর হজরত শোয়াইব (আ.) এর সম্প্রদায়ের ধ্বংসের ঘটনা বলে রুকু শেষ করা হয়েছে।
ষষ্ঠ তথা শেষ রুকু। ৮০ থেকে ৯৯ নম্বর আয়াত। সামুদ সম্প্রদায়কে ধ্বংসের ঘটনা দিয়ে রুকু শুরু হয়েছে। আমাদের নবীকে উপদেশ দেয়া হয়েছে মক্কার কাফেরদের বিরোধীতা দেখে হতাশ হয়ো না। ‘আমৃত্যু আল্লাহর দাসত্ব করতে থাকো’-বলে সূরা শেষ করা হয়েছে।
১৬. সূরা আন-নাহল : (১-১২৮)
সূরা নাহল। মক্কায় অবতীর্ণ হওয়া এ সূরার আয়াত ১২৮ টি এবং রুকু ১৬টি। পূর্ণ সূরা তেলাওয়াতের মাধ্যমেই শেষ হবে আজকের তারাবি।
প্রথম রুকু থেকে তৃতীয় রুকু। ১ থেকে ২৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা তার বিভিন্ন নেয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন। মানুষকে বলেছেন, আমার অনুগ্রহ তোমরা যদি গণনা কর তারপরও শেষ হবে না। তাই আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না। তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। তারই দাসত্ব করো।
চতুর্থ ও পঞ্চম রুকু। ২৬ থেকে ৪০ নম্বর আয়াতে পূর্ববর্তী কাফেরদের দৃষ্টান্ত দিয়ে বলা হয়েছে, তাদের জন্য কঠিন আজাবের ব্যবস্থা রয়েছে। যারা আল্লাহভিরুতার জীবনযাপন করেছে তাদেরকে তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে হবে। তারা সঠিক জবাব দিতে পারবে। ওই জবাবের ভিত্তিতেই তাদেরকে সুখময় জান্নাত দান করা হবে। আর যারা আল্লাহরভিরুতার জীবনযাপন করেনি, তাদের যতই বলা হোক না কেন তারা আল্লাহর রঙে জীবন রাঙাবে না। তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।
ষষ্ঠ রুকু, ৪১ থেকে ৪২ নম্বর আয়াত। মোহাজিরদের মর্যাদা বলে রুকু শুরু করা হয়েছে। আর যারা সত্য অস্বীকার করে তাদেরকে সহজ কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সপ্তম রুকু, ৫১ থেকে ৬০ নম্বর আয়াত। শিরক থেকে দূরে থাকার নির্দেশ ও যৌক্তিকতা বর্ণনা করা হয়েছে।
অষ্টম, ৯ম, ১০ম ও ১১তম রুকু। ৬১ থেকে ৮৩ নম্বর আয়াতে আগের ধারাবাহিকতায় শিরক এর অসারতা ও তাওহিদ তথা এক আল্লাহর ওপর ইমান আনার যৌক্তিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে কিছু উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে খোলা মনে চিন্তা করলে মানুষের বিবেক নাড়া দেবেই। এরপরও যদি কেউ সত্যের প্রতি ইমান না আনে, তাহলে দাওয়াত পৌঁছে দেয়া ছাড়া আর কোন দায়িত্ব নবীর ওপর নেই।
১২তম রুকু। ৮৪ থেকে ৮৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, এই দুনিয়ায় ওরা ইমান না আনলেও পরকালে তাদের বাঁচার কোন সুযোগ নেই। সে দিন তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবেই।
১৩, ১৪ ও ১৫তম রুকু। ৯০ থেকে ১২৮ নম্বর আয়াতে উম্মতে মুহাম্মাদিকে উদ্দেশ করে বিশেষ বিশেষ নসিহত করা হয়েছে। যাতে পরকালের পাকড়াও থেকে তারা বাঁচতে পারে।
১৬তম তথা শেষ রুকুতে বিশ্বাসীদের জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.) এর জীবনাদর্শ তুলে ধরা হয়েছে। ইবরাহিমী ধর্ম ও মোহাম্মাদি ধর্ম এক ও অভিন্ন। তারপরও যারা এর মধ্যে বৈপরীত্য খোঁজে তাদের সঙ্গে আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই।
নারিশায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীর মৃত্যু
ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা বাজারে সোমবার সকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক মুরগি ব্যবসায়ী মারা গেছেন। নিহত ব্যবসায়ীর নাম মোঃ শহিদুল ইসলাম শহীদ (৩৫)। নিহত শহিদুল উপজেলার নারিশা উত্তর চক এলাকার হাসেন বেপারির ছেলে ও নারিশা বাজার বণিক সমিতির সদস্য।
বাজারের দোকানীরা জানান, সোমবার সকালে শহিদুল দোকানে এসে লাইট-ফ্যানের সুইচে সমস্যা দেখেন। নিজেই তা মেরামত করতে গেলে শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে দাড়িয়ে থাকেন। পরে পাশের দোকানিরা তাকে কাছে গিয়ে ডাকলে তার কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি। সবাই অনুমান করেন যে, তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দোহার থানার শাইনপুকুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মাহবুবুল হক রনি দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ না থাকায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
দোহারে বিড়ি ভোক্তাদের মানববন্ধন
বিড়ির উপর কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের বিড়ি ভোক্তারা মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় দোহারের মুকসুদপুর ইউনিয়নের শাইনপুকুর-বেথুয়া গ্রামে ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমানের বাড়ির সামনে তারা এ মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধন কালে বিড়ি ভোক্তারা ‘বিড়ির উপর কর বৃদ্ধি, বিড়িকে শিল্প ঘোষণাসহ ৭ দফা দাবি’ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। প্রায় আধ ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধনে শতাধিক বিড়ি ভোক্তা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দোহার নবাবগঞ্জ বিড়ি ভোক্তা সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি মো. লাল মিয়া, আশরাফুল আলম, নিশার ঈমাম প্রমূখ। পরে তারা সাংসদের বাড়ির দায়িত্বে থাকা মো.কালু মিয়ার হাতে দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেন।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ডিএনএসএমের শরীফ হাসান সহ দোহার-নবাবগঞ্জের তিন ছাত্রনেতা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের র্পূণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী ও ডিএনএসএম সম্পাদক শরীফ হাসান সহ-সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন। তিনি সহ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন দোহার ও নবাবগঞ্জের তিন ছাত্রলীগ নেতা। সোমবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর স্বাক্ষরিত প্যাডে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
ছাত্রলীগের র্পূণাঙ্গ এই কমিটিতে নবাবগঞ্জের এস.এম জহিরুল আলম স্বপ্নীল সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া দোহারের আরমান হোসেন অপু উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ
ঢাকার নবাবগঞ্জের নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বৃহ¯পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মাসিক সমন্বয় সভার মধ্য দিয়ে তারা এ দায়িত্ব বুঝে নেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি এবং আপনার অফিসকে অবশ্যই দুর্নীতি মুক্ত রাখতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে জনগণের জীবন মান উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে।
এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ.এম সালাউদ্দিন মঞ্জু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার, থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, প্রকৌশলী মো.আনোয়ার রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জি. সাগর হোসেন সৈকত, শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ প্রমুখ।
ছবিতে এশিয়া-ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ
-
রাতের তাশামালিজা মসজিদের মিনার শহরজুড়ে চোখ জুড়ানো অনন্য সৌন্দর্যের আবহ তৈরি করে। বিশাল মসজিদ কমপ্লেক্সের বাইরে প্রায় ৯০ একর জমি সবুজ সমারোহে আচ্ছাদিত।
-
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোগান গত ৬ বছর আগে ২০১৩ সালের আগস্টে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আর প্রিয় নবি ঘোষিত বরকতের মাস রজবের প্রথম দিনে তা ফজরের আজান ও নামাজ আদায়ের মাধ্যমে ইবাদতের জন্য খুলে দেয়া হলো।
-
এশিয়া ও ইউরোপের এ বিশাল মসজিদের মূল স্থাপনায় ২৫ হাজার, বাইরের আঙ্গিনায় সাড়ে ১২ হাজার, প্রবেশ পথ করিডোরে সাড়ে ২২ হাজারসহ মোট ৬৩ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবে। ৬৩ হাজার মুসলিমের নামাজ আদায়ের জন্যই সীমাবদ্ধ নয় এই মসজিদ। এখানে রয়েছে বিশাল ইসলামি কমপ্লেক্স।
-
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য রয়েছে চোখ ধাঁধানো ১১ হাজার বর্গফুটের মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি, সুপরিসর লাইব্রেরি ও ১ হাজার অত্যাধুনিক সিটিং ব্যবস্থার বিশাল হলরুমসহ সাড়ে ৩ হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের বিশেষ সুবিধা।
-
উসমানি সালজুক আমলের ডিজাইনে সবুজের সমারোহে সুউচ্চ পাহাড় চূড়ায় নির্মিত তাশামালিজা মসজিদটিতে ১০৭.১ মিটার উচ্চতার ২টি মিনারসহ ৬টি মিনার। যা ১৭০১ সালের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। সেলজুকি সুলতান আলাব আরসালান ১৭০১ সালে এ অঞ্চলের বিজয় লাভ করেন।
৪২ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল বোঝেন না
প্রায় একযুগ আগে সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হলেও অদ্যাবধি তা আয়ত্ত করতে পেরেছেন মাত্র ৫৮ শতাংশ শিক্ষক।
তবে বাস্তবে এ চিত্র আরও করুণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বরিশাল অঞ্চলের এক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, সৃজনশীল বোঝে এবং প্রশ্ন করতে পারে এমন শিক্ষকের সংখ্যা ২০ শতাংশের মতো।
সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা পরীক্ষার প্রশ্ন নিজেরা প্রণয়ন করেন না। কোথাও শিক্ষক সমিতি আবার কোথাও বিভিন্ন পেশাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রশ্ন কিনে আনে স্কুলগুলো। আবার অনেকে গাইড বই দেখে প্রশ্ন তৈরি করেন। অথচ গাইড ও নোটবইয়ের দাপট কমাতে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
মাউশি পরিচালক অধ্যাপক আবদুল মান্নান সৃজনশীল পদ্ধতি বাস্তবায়নের এ করুণ হালের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন তৈরি করতে যে পরিমাণ দক্ষতা দরকার তা অনেক শিক্ষকেরই নেই।
হয়তো টেনেটুনে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্ন শিক্ষকরা করেন। কিন্তু ষান্মাসিক ও বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন অনেকেই গাইড বই দেখে তৈরি করেন। অনেকে আবার নানাভাবে প্রশ্ন সংগ্রহ করেন।
এটা থেকে বাস্তবে কোনো উত্তরণ ঘটেনি। সৃজনশীল বোঝেন এ সংখ্যাটা কম, যা আছে তা আশানুরূপ নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেসিপ প্রকল্পের মাধ্যমে একমুখী শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে সৃজনশীল পদ্ধতি চাপিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এরই অংশ হিসেবে ২০০৪ সালে প্রথম এ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তখন এর নাম ছিল কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতি।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নেতৃত্বে গড়ে উঠা আন্দোলনের মুখে ২০০৬ সালে সরকার আর একমুখী শিক্ষা চালু করতে পারেনি।
পরে অবশ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের উদ্যোগে দেশের শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
এ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকও যোগ দেন। সেখানেই কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতির পরিবর্তে এর নামকরণের সিদ্ধান্ত হয় সৃজনশীল পদ্ধতি।
এরপর ২০০৭ সালের জুনে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের সরকারি আদেশ জারি হয়। ২০০৮ সাল থেকে পদ্ধতিটি নবম শ্রেণীতে চালু হয়। ২০১০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম প্রবর্তন ঘটে। সেই হিসাবে জুনে এ পদ্ধতি প্রবর্তনের একযুগ হচ্ছে।
কিন্তু এতদিনেও এ পদ্ধতি শিক্ষকরা পুরোপুরি আয়ত্বই করতে পারেননি। এ ব্যাপারে মাউশির ‘একাডেমিক তদারকি প্রতিবেদন’ শীর্ষক সমীক্ষা বলছে, ৫৮ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল বিষয়ের দক্ষতা অর্জন করেছেন।
তারা এ পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন করতে পারেন। বাকি ৪১ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল বিষয়ের প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন না। এদের মধ্যে ১৩ দশমিক ১২ শতাংশের অবস্থা খুবই নাজুক। এ ধরনের শিক্ষকরা নতুন পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারেন না।
তারা শিক্ষকদের বিভিন্ন সমিতি থেকে ‘রেডিমেড’ প্রশ্ন কিনে ছাত্রদের পরীক্ষা নেন। বাকি ২৮ দশমিক ৬১ শতাংশ শিক্ষক অন্য স্কুলের শিক্ষকদের সহায়তায় আংশিক প্রশ্নপত্র তৈরি করেন। মাউশির আওতাধীন নয়টি অঞ্চলের ৬ হাজার ৯৯৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা করা হয় ওই সমীক্ষা।
সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৫৮ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল বিষয়ের প্রশ্ন প্রণয়ন করতে পারেন। এর মধ্যে নিজস্ব শিক্ষকদের দিয়ে প্রশ্ন প্রণয়নের হার সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহ অঞ্চলে, ৭৮ দশমিক ১৩ ভাগ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশকিছু কারণে সৃজনশীল পদ্ধতি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এর মধ্যে এক নম্বরে আছে শিক্ষকদের সদিচ্ছার অভাব। এছাড়া আছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না পাওয়া, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দুর্বল মনিটরিং, শিক্ষকদের কোচিং মানসিকতা এবং বিভিন্ন শিক্ষক সমিতির ব্যবসা।
সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করতে সরকার বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু) নামে একটি সংস্থা গঠন করেছে। এ সংস্থার পরিচালক অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা শিক্ষকের মান। সাধারণ শিক্ষক দূরের কথা, মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণেও আমরা এমন অনেক শিক্ষক পাচ্ছি যারা ঠিকমতো সৃজনশীল বোঝেন না। এমনকি প্রশিক্ষণের ভাষাও বোঝেন না অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি কম হলে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।
বেডু পরিচালক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, এটা ঠিক যে, সৃজনশীলে প্রশ্ন প্রণয়ন অত সহজ নয়। এর জন্য শিক্ষকের ওই বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকা দরকার। বুঝতে হবে শিক্ষা মনঃস্তত্ত্ব। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রত্যেক স্কুলে প্রত্যেক বিষয়ে অন্তত একজন শিক্ষক সৃজনশীলে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। কথা ছিল, তারা গিয়ে বাকিদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এ প্রশিক্ষণ কতটা কার্যকর, সেটা নিয়ে অনেকেই কথা বলছেন। তবে আমরা প্রশিক্ষণ আরও কার্যকরী করতে চাই। এজন্য আসন্ন জুনে ৬ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হবে।
নসরুল হামিদ বিপুকে প্রবাসী নারীর আইনি নোটিশ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মানবাধিকার কর্মী
শামীমুন নাহার লিপি। এতে তার প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য প্রতিমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সাত দিন সময় দেয়া হয়েছে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ডাক ও রেজিস্ট্রিযোগে লিপির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ নোটিশ পাঠান। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে আমার ক্লায়েন্ট শামীমুন নাহারের ক্ষতি করতে না পারে সেটা জানাতেই মন্ত্রীকে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, আমি আমার মক্কেলের সঙ্গে পূর্ণ আলোচনা শেষ করে ও তার অনুমতি নিয়ে আপনাকে এই নোটিশ প্রদান করছি। আমার মক্কেল যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক। তিনি একজন মানবাধিকারকর্মী ও হোপ’স ডোর বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান।
আমার মক্কেল ও আপনি দীর্ঘ সময় পারিবারিক বন্ধু ছিলেন।
তিনি ও তার পরিবার হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়ে অনেক নিপীড়িত হয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, আপনার উপস্থিতিতে তার সঙ্গে বেআইনি কার্যক্রম করা হয়। তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করা হয়। আমার মক্কেলের ওপর বেশ কয়েকবার আক্রমণ করা হয়। যার কারণে তিনি রামপুরা, শাহবাগ, বাড্ডা ও কাফরুল থানায় যথাক্রমে ১১৪, ৯৪৩, ৪৪৬, ৮৮০ ও ১০০ নং জিডি করেন ও মামলা করেন। তার কার্যালয়, হোপ’স ডোর বাংলাদেশ-এর ভবনে ঢুকে সন্ত্রাসীরা ভাংচুর করেছে। আমরা মক্কেলের ধারণা, এসব ঘটনার পেছনে আপনি জড়িত ছিলেন, যেগুলো ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত।
ওইসব বেআইনি কার্যক্রমের কারণে আমার মক্কেল মানসিকভাবে নিদারুণ যন্ত্রণা, নির্যাতন ভোগ করেছেন এবং অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তার সুনামও নষ্ট হয়েছে। এসব হয়েছে আপনার ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে।
সাত দিনের মধ্যে এসব কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়েছে নোটিশে। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতেও বলা হয়। তা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে সালমান এফ রহমানকে দোহার সমিতির(ইউকে) সংবর্ধনা
৭ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যে অবস্থিত দোহার সমিতির (ইউকে) পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৬টায় লন্ডনের আল কাসার রেস্টুরেন্টে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, সারা দেশে যে উন্নয়নের জোয়ার বইছে তাতে দোহার ও নবাবগঞ্জ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবে। দোহার-নবাবগঞ্জের অন্যতম বড় সমস্যা পদ্মা ভাঙ্গন অনেকাংশে দূর হয়েছে। সারা দোহারে পদ্মা বাধ হচ্ছে। ভাঙ্গন রোধে পদ্মার মাঝে ড্রেজিং হচ্ছে। দোহারে শিপ ইয়ার্ড হচ্ছে। ইপিজেড হচ্ছে। আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দোহার-নবাবগঞ্জ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবে। এই সময় লন্ডনে উপস্থিত বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান সালমান এফ রহমান।
