দোহার পৌরসভায় অটোরিকশায় লাইসেন্স বাধ্যতামূলকঃ বাৎসরিক ফি ১৮৫০ টাকা

দোহার পৌরসভায় অটোরিকশায় লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর এজন্য বাৎসরিক ফি নির্ধারণ হয়েছে ১৮৫০ টাকা ।  দোহার পৌরসভায় ট্রেড লাইন্সেস ছাড়া পৌর এলাকায় কোন বহি:রাগত ইজিবাইক প্রবেশ করতে পারবে না বলে ঘোষনা প্রদান করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ । তবে বিশেষ মানবিক কারনে যদি কোন চালক এই এরিয়াই প্রবেশ করে ,তার বিষয়ে বিবেচনা সুযোগ থাকবে ।এই ফ্রী বাৎসরিক হারে দিতে হবে ।যদি কোন ইজিবাইকের মালিক নিদিস্ট সময়ের মধ্যে ফ্রী পরিশোধ না করেন তাহলে ৫শত টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছেন । এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর একাধিক ইজিবাইক মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । দোহারের খাড়াকান্দার ইজিবাইক  চালক রশিদ মিয়া জানান,  আমরা সীমিত টাকা আয় করি ,এই দিয়ে কোন রকম পরিবার নিয়ে চলি । এরকম নতুন নতুন আইন করলে আমরা কি করে চলবো । অটোরিকশা চালক সালাম খান বলেন, যদি বছরে ৫শত টাকা করা হতো তাহলে নীরিহ ইজিবাইক মালিকদের জন্য সহজ হতো । এবিষয়ে পৌর প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান ,বাংলাদেশ সরকারে আদর্শ কর বিধি মালা আইন ২০১৪ সনের গেজেট অনুযায়ী সারা দেশ ব্যাপী এই আইন কার্যকর করা হয়েছে ।দোহার পৌরসভা নতুন কোন আইন নয় এটি । আমরা শুধু সরকারি নির্দেশ পালন করে থাকি । কম নেওয়া আমাদের সুযোগ নেই ।

দোহারে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগঃ মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে স্বামী

জুবায়ের হাসান,নিউজ৩৯ঃ ঢাকার দোহারে স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে স্বামী পালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত গৃহবধূ নাম সাদিয়া আক্তার (১৯)। শুক্রবার বিকালে ওই গৃহবধূকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বামী মোস্তফা ও শাশুড়ি বেবী বেগম। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎক ডা. ওমর ফারুক।

সাদিয়া উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মাঝিরচর পূর্বচর গ্রামের মো. জসীম খালাসির মেয়ে।

মেয়ের পিতার অভিযোগ, ৪ বছর আগে মোবাইল ফোনে তার মেয়ের সাথে বিয়ে হয়। এরপর জামাই ছুটিতে এই রমজানে দেশে এসে মোটরসাইকেল কেনার জন্য আমার কাছে টাকা চায়, আমি পরশু সে টাকা দেই। তাদের আরো অনেক আবদার ছিলো। এরমধ্য জামাই শ্বশুড় বাড়ি ঘুরতে এসে শুক্রবার দুপুরের খাবার পর নিজ বাড়ীতে যায়, এর কিছুক্ষণ পরেই আমি হত্যার খবর পায়। এটা পরিকল্পিত হত্যা।

স্থানীয়রা জানান, চার বছর আগে জয়পাড়া সাহেব বাজার এলাকার বেল্লাল শেখের ছেলে কুয়েত প্রবাসী মো. মোস্তফার সঙ্গে সাদিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। স্বামী কুয়েত প্রবাসী হওয়ায় মেয়ে বেশিরভাগ সময় তার মায়ের বাড়িতেই থাকতেন। গত রমজান মাসে তার স্বামী মোস্তফা ছুটিতে দেশে আসেন।

নিহত সাদিয়া আক্তারের মা আকলিমা বেগম জানান, শুক্রবার বিকালে সাদিয়া তার স্বামীকে নিয়ে মায়ের বাড়ি থেকে উত্তর জয়পাড়ার সাহেব বাজার এলাকার শ্বশুর বাড়িতে যান। এরপরই খবর আসে সাদিয়া আক্তার গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যাই। এ সময় কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান সাদিয়ার স্বামী ও শাশুড়ি। পরে দোহার থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সাদিয়ার মা বলেন, আমার মেয়ের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মেয়ের স্বামী মোস্তফা ও তার পরিবারের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে মোস্তফার বাড়ী তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।

দোহার থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

নবাবগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী গ্রেপ্তার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রীকে ছুরি মেরে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের মাঝিরকান্দা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘাতক স্বামী মো. আরফান আলী (৩৮) উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাগ বিবিরচরের মৃত সোহরাব উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় স্বামী আরফানের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয় স্ত্রী নুরজাহান (২৮)। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের একমাত্র কন্যা সুমাইয়া ইসলাম তিথী জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তার মা নুরজাহান আলমারিতে থাকা প্রশাধনী পন্য দোকানে নিয়ে বিক্রি করতে চাইলে আরফান তাতে দ্বিমত করলে তাদের মধ্যে বাকবিতাণ্ডা হয়। এক পর্য়ায়ে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে আরফান আলী। এতে নুরজাহানের পেটের অধিকাংশই কেটে যায়।

নিহতের মা রুবি বেগম বলেন, স্থানীয়রা আমার মেয়েকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে হাসপাতালে রুহুল নামে এক ব্যক্তি পরামর্শে মেয়েকে পাশ্ববর্তী প্যারাগন হাসপাতালে ভর্তি করি। ঐদিন রাতে ডাক্তার অপারেশনও করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় মেয়ের অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করি। বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা শুক্রবার দুপুরে নিহতের স্বামীকে একমাত্র আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সকালে আরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

নিহতের বাবা নুরু শিকদার বলেন, ঝগড়া বিবাদ সংসারের একটি অংশ। সেজন্য কি মেরে ফেলতে হবে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

মানবিক আবেদনঃ মোমবাতির আগুনে দগ্ধ জুঁই বাঁচতে চায়

ঢাকার নবাবগঞ্জে মোমবাতির আগুনে দগ্ধ শিশু জুঁই আক্তার (৮) বাঁচতে চায়। আগুনের লেলিহান শিখায় ঝলসে গিয়েছিল শিশু জুইয়ের শরীর। শিশুটির শরীরের ৩৫ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় ৩মাস ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। মেয়ের চিকিৎসার অর্থ যোগাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা।

গত ৩ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার কাশিমপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে মোমবাতি থেকে শরীরের জামায় আগুন লেগে দগ্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটে। সে উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের কবরস্থান সংলগ্ন মো. জুলহাসের মেয়ে। অগ্নিদগ্ধ জুঁই দোহার উপজেলার ধিৎপুরের কুয়েতি মহিলা মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

জানা যায়, মাদরাসা বন্ধ থাকায় মেয়ে আমার বাড়িতে আসে। এদিন সন্ধ্যায় জুঁই বাড়িতে একা একা খেলা করছিল। এ সময় পানির তৃষ্ণা পেলে পানি খাওয়ার জন্য গেলে মোমবাতির আগুন পিছন থেকে তার পরনের জামায় লেগে পুরো শরীর ঝলসে যায়। তার চিৎকারে আসে-পাশের লোকজন দৌঁড়ে এসে আগুন নেভালেও  শিশুটিকে আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। তাৎক্ষনিক তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার অবস্থার অবনতি দেখে হাসপাতালের চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করেন। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছে ছোট মেয়েটি।

এখানে শেষ নয় পরিবারের দুঃখের কাহিনী। এর আগে জুইয়ের বাবা জুলহাস মিয়া রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে ৪তলা থেকে পড়ে কোমরের হাড় ভেঙ্গে বেকার হয়ে পড়েন। সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কর্মহীন হয়ে পড়ায় অর্থাভাবে ছিল পুরো পরিবার। এ ঘটনার  দুই মাস আগে দুবাই চাকরিতে যান জুঁইয়ের মা তাছলিমা বেগম। মেয়ের জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকতে দুবাই থেকে চাকরি ছেড়ে চলে আসায় তিনিও বেকার হয়ে যান।

এব্যাপারে কথা হয় জুইয়ের মা তাছলিমা বেগমের সাথে। মেয়ের দগ্ধ ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, আমার মেয়ে ছোট। ও বাঁচতে চায়। সব সময় আমাকে বলে আমি আমি ভাল হয়ে যাব তো। চিকিৎসা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এখন প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা খরচ হয় ওর পিছনে। নবাবগঞ্জের অনেক বড় লোকের বাড়িতে গেছি। বেশির ভাগই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমি আর পারছি না।

হতদরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে সন্তানের চিকিৎসার খরচ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এর চিকিৎসার জন্য সকল হৃদয়বান ও দানশীল ব্যক্তির আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তার অসহায় পরিবার।

জুইকে সাহায্য করতে যোগাযোগ করতে পারেন সরাসরি জুইয়ের মায়ের সাথে। জুইয়ের মা’র বিকাশ নাম্বার-০১৯২-১৬৯৬৩১৫।

নবাবগঞ্জে জোড়া খুন; অংশ নেয় ১১ ডাকাত

সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরাই নবাবগঞ্জের জোড়া খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। ঢাকার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ডাকাত দলের অন্যতম সাইফুলসহ তিনজন জবানবন্দি দিয়েছেন। এই জোড়া খুনে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন ডাকাত দলের সাতজন সদস্য। দুজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। প্রত্যেক আসামির নামে ১০ থেকে ১১টি করে মামলা আছে।

নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশ ঢাকার আদালতকে এক প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, নবাবগঞ্জের এই জোড়া খুনে জড়িত আসামিরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। আসামিরা ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, দোহার, সাভার, আশুলিয়া, মাদারীপুর ও মুন্সিগঞ্জে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই করে আসছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ১০ থেকে ১১ জন সদস্য নবাবগঞ্জের শেখ কালাম ও জাহিদকে হত্যা করে। ইতিমধ্যে তিনজন আসামি জোড়া খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিরা সবাই পেশাদার অপরাধী। প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১১টি মামলা আছে।

গত ২৩ মে রাত ১১টার দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের ডাঙ্গারচর নামক জায়গায় দুর্বৃত্তদের হামলায় শেখ কালাম (৫২) ও জাহিদ খান (৪৪) নিহত হন। দুজনের বাড়ি নবাবগঞ্জের গালিমপুর গ্রামে। এ ঘটনায় নিহত শেখ কালামের ছেলে আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করেন।

মামলার এজাহার এবং পুলিশের তথ্য বলছে, ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে জাহিদ মোটরসাইকেলে করে কালামকে নিয়ে দেওতলা এলাকায় পীর নুরুল ইসলাম মোল্লার বাসায় যান। পীরের বাড়িতে কাজ শেষে রাত ১১টার সময় মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে কালাম ও জাহিদ রওনা হন। বান্দুরা ও মাঝিরকান্দা এলাকার ডাঙ্গারচর নামক স্থানের রাস্তায় কলাগাছ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। এ সময় জাহিদ মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দেন। তাঁরা রাস্তায় তিন ব্যক্তিকে দেখতে পান। দুর্বৃত্তরা ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যা করার জন্য গলায় কোপ মারে। এতে কালামের কণ্ঠনালি মারাত্মক জখম হয়। জাহিদকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। বাঁচার জন্য কালাম দৌড় দিয়ে কিছুদূর আসার পর রাস্তায় পড়ে যান। সুযোগ বুঝে জাহিদ তাঁর স্ত্রীকে এই হামলার কথা জানান। এই সংবাদ পেয়ে পীর নুরুল ইসলাম মোল্লার ভাই খোকন দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। গুরুতর জখম কালামকে নবাবগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়ার পথে জাহিদ মারা যান।

ওরা ১১ ডাকাতঃ শেখ কালাম কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। জাহিদের ইট-বালুর ব্যবসা ছিল। দুজনেই বাস করতেন নবাবগঞ্জের গালিমপুর গ্রামে।

কালামের ছেলে ও মামলার বাদী আবদুর রাজ্জাক বলেন, তাঁর বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেন জাহিদ। প্রতি সপ্তাহে তাঁর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে জাহিদ পীর নুরুল ইসলাম মোল্লার বাড়িতে যেতেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পীরের বাড়িতে কাজ শেষে কালাম ও জাহিদ মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। দুজনের কাছে টাকাও ছিল। মোটরসাইকেল এবং টাকা কেড়ে নেওয়াই ছিল ডাকাতদের উদ্দেশ্য। ডাকাতেরা জাহিদদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করার পর একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কালামকে আঘাত করে। এই খুনে জড়িত ডাকাত দলের ১১ সদস্য।

আদালতকে পুলিশ প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, ডাকাত দলের সদস্য শেখ নাসির, নুর ইসলাম মোল্লা এবং তাঁদের সহযোগীরা কালামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।

নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ডাকাত দলের প্রধান সাইফুল ইসলাম শেখ। সম্প্রতি নবাবগঞ্জে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের এই সদস্যরা আরও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত। নবাবগঞ্জের জোড়া খুনের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ডাকাত দলের এই সদস্যদের খুঁজে বের করা হয়।

ডাকাত দলের সদস্যদের ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম বলেন, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়ায় একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। প্রত্যেকের নামে কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, আশুলিয়া, সাভার, মাদারীপুরের থানায় দশ থেকে বারোটি করে মামলা রয়েছে। প্রত্যেকে পেশাদার অপরাধী।

গ্রেপ্তার ৭ জনঃ পুলিশ বলছে, ডাকাত দলের প্রধান হলেন সাইফুল ইসলাম (৪০)। তাঁর বাবার নাম করম আলী শেখ (মৃত)। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাহারা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। থাকতেন কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ঈদগাহ বড় মসজিদ এলাকায়।

শেখ নাসির (৩৫)। তাঁর বাবার নাম মোস্তফা শেখ। তিনি গোপালগঞ্জের গঙ্গারামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

নুর ইসলাম ওরফে নুর ইসলাম মোল্লার (৩৪) বাবার নাম মান্নান মোল্লা। তিনিও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের গঙ্গারামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বাবুল গাজীর (৫০) বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কনকসার গ্রামে।

শেখ হাবিবুর রহমান (৬০) ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার হরফদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)। তাঁর বাবার নাম অনাথ শেখ। তিনি পাবনার বেড়া উপজেলার মাসচিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

সুমন শেখ (৩১)। তাঁর বাবার নাম আইয়ুব শেখ। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী তেলজুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নবাবগঞ্জের জোড়া খুনে জড়িত ডাকাত দলের সদস্য রিপন মোল্লা এবং মোটা বাবুল বন্দুকযুদ্ধে সম্প্রতি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

নবাবগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জোড়া খুনের আসামী নিহত

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নবাবগঞ্জের জোড়া খুনের আসামী রিপন মোল্লা (৩১) নিহত হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার মাঝিরকান্দা-মহব্বতপুর সড়কের এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহত রিপন মোল্লা মাদারিপুর জেলার রাজৈর উপজেলার পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের এলেন মোল্লার ছেলে। সে নবাবগঞ্জের সাম্প্রতিক জোড়া খুনের মামলার আসামী। তার বিরুদ্ধে কেরাণীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও রাজৈরসহ বিভিন্ন থানায় দুইটি হত্যা, ৫টি ডাকাতি, ১টি অস্ত্র মামলাসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। সে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন। রোববার বেলা ১২টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নবাবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৩শে মে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের দেওতলা গ্রামের পীর নজরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ফেরার পথে বান্দুরা ইউনিয়নের মাঝিরকান্দা-বান্দুরা আঞ্চলিক প্রধান সড়কের মহব্বতপুর চাঁদ মসজিদ চকের সামনের সড়কে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শেখ কালাম (৫২)  নিহত হয়। এঘটনায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কালামের সঙ্গি জাহিদ খান (৪৪) মারা যায়।

ঐ জোড়া খুনের দায়ের করা মামলার আসামী রিপন মোল্লাকে শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ উপজেলার শুভাড্যা ইউনিয়নের চিতাখোলা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও তার অপর সহযোগী আসামীদের গ্রেফতার করতে উর্ধ্ববতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মধ্যরাত ১ টা ১০ মিনিটে পুলিশ রিপনকে নিয়ে অভিযানে বের হয়।

রাত পোনে ২টার দিকে মাঝিরকান্দা-বান্দুরা সড়কের মহব্বতপুর এলাকার ডাঙ্গারচর নামক স্থানে পৌছলে আগ থেকে ঔত পেতে থাকা রিপন মোল্লার ৭/৮ জন সহযোগী পুলিশের কাছ থেকে রিপনকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এসময় পুলিশও আত্মরাক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এসময় রিপন মোল্লা তার সহযোগীদের গুলিতে আহত হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এঘটনায় নবাবগঞ্জ থানা ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উপপরিদর্শক আবুল হোসেন, কাজী নাসের, এএসআই মিজানুর রহমান প্রধান, কনস্টেবল সেলিম রেজা, আ. রহমান, ড্রাইভার নোমান আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী রিভরবার, ৩ রাউন্ড গুলিসহ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে লিখিতভাবে জানানো হয়।

ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম আরো জানান, ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত রিপন মোল্লাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মৈনটের ভাঙন না থামানো গেলে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব নয়: বেজা চেয়ারম্যান

ঢাকার দোহারের মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট ভাঙন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন (বেজা) এর চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। শুক্রবার সকালে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিদর্শন করেন।

এই সময় সাংবাদিকদেরও বেজা’র চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশের বেশ কিছু উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার দোহার উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাট এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা থাকলেও তীব্র ভাঙনের কারনে এই স্থানে এই মূহুর্তে এটি করা সম্ভব নয়।

প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা পরিদর্শন করে তিনি আরও বলেন, ভাঙন রোধ করা না গেলে দোহারের অন্যত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড খুব দ্রুত ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা, মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সহ অনেকে।

ইছামতিতে মুরগির বর্জ্য; অতিষ্ঠ বান্দুরাবাসী

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি নদীর বান্দুরা ব্রিজের নিচে মুরগির বর্জ্যরে স্তূপের গন্ধে অতিষ্ট বান্দুরাবাসী। বর্জ্যের তীব্র গন্ধে পুরাতন বান্দুরা ও নতুন বান্দুরা বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বান্দুরা ব্রিজ দিয়ে চলাচলকারী পথযাত্রীদের নাক চেপে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ঈদ উপলক্ষে বেড়ে যায় মুরগির চাহিদা। পুরাতন বান্দুরা বাজারে মুরগির দোকানগুলোতে ঈদের আগেরদিন মঙ্গলবার দিনভর ছিল ভীড়। সারাদিন মুরগি বেঁচার পর দোকানদাররা রাতে বান্দুরা ব্রিজের উপর থেকে মুরগির বর্জ্য ফেলে ইছামতি নদীতে। ব্রিজের নিচে সৃষ্টি হয় বিশাল ময়লার স্তূপ। সকাল থেকে তীব্র র্দুগন্ধ বের হতে থাকে সেই ময়লা থেকে। দিন যত গড়াতে থাকে গন্ধ বাড়তে থাকে। এতে ঈদের দিন থেকেই চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় ইছামতি নদীর তীরবর্তী মানুষজনকে। গন্ধ এতই তীব্র যে ব্রিজ উপর দিয়ে গাড়িতে চলাচলকারী অনেককে উগলে দিতে দেখা যায়। শনিবার বিকালেও বর্জ্যের গন্ধ ছিল তীব্র।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিনই বাজারের মুরগীর ব্যবসায়ীরা রাতে ইছামতি নদীতে মুরগির বর্জ্য ফেলে। এতে নদীর পানির সাথে পরিবেশ দূষিত হলেও বাজার কমিটি সম্পূর্ণ নির্বিকার। নদীতে নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারনে স্থানীয়রা নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছে না। ইছামতি নদীতে স্রােত না থাকায় ময়লা সরে যায় না।

নতুন বান্দুরা কলেজ ছাত্র সাব্বির আহমেদ জানান, গন্ধ এতই প্রকট ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। নাক চেপেও গন্ধ অনুভব হচ্ছে। আমরা গোসলসহ বিভিন্ন কাজে ইছামতি নদীর পানি ব্যবহার করতাম। কিন্ত এখন বর্জ্যের কারনে পানির অবস্থা এতই খারাপ যে পানি কোন কাজেই আসছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পুরাতন বান্দুরা বাজার একটি ব্যস্ততম বাজার। তবে সেই তুলনায় উন্নয়নের ছোঁয়া নেই। মুরগি ব্যবসায়ীরা বর্জ্য কোথায় ফেলবে তার নির্দিষ্ট কোন স্থান নির্ধারণ করতে পারেনি বাজার কমিটি। নিরুপায় হয়ে ইছামতি নদীকেই ডাস্টবিন হিসেবে বেছে নিয়েছে মুরগী ব্যবসায়ীরা। এতে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে তেমনি দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। প্রশাসনের উচিত যারা ইছামতি নদীতে মুরগীর বর্জ্যসহ আবর্জনা ফেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় : এন.মল্লিককে লাখ টাকা জরিমানা

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ঢাকা-বান্দুরা রোডে চলাচলকারী এন. মল্লিক পরিবহনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এইচএম সালাউদ্দিন মঞ্জু এই আদালত পরিচালনা করেন।

ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন যাবত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছিল এন.মল্লিক পরিবহন। অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার আইনে এন. মল্লিক পরিবহনকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ  ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এবিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দিন মঞ্জু বলেন, টানা কয়েকদিন যাবত এই পরিবহনটি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে এন. মল্লিক পরিবহনকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপরও যদি ঐ পরিবহনটি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে সেক্ষেত্রে ভ্রাম্যমান আদালত চলমান থাকবে।

ঐদিকে, ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছরই এই এন. মল্লিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকে। সেক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ায় আহ্বান জানান সাধারণ যাত্রীরা।

উল্লেখ্য, বান্দুরা থেকে ঢাকার দূরত্ব আনুমানিক প্রায় ৩৮কিলোমিটার। এই দূরত্বে জন্য নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হয় ৮০টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ঈদের আগেরদিন মঙ্গলবার থেকে পরিবহন কর্তৃপক্ষ ১০০ থেকে ১২০ টাকা ভাড়া আদায় করে।

দোহারে শিশু ভাতিজীকে ধর্ষনের অভিযোগে আপন চাচা আটক

আদালত প্রতিবেদক,নিউজ৩৯ঃ দোহার উপজেলার দোহার পৌরসভাধীন উত্তর জয়পাড়া চৌধুরীপাড়ায় নিজের আপন শিশু ভাতিজীকে ধর্ষনের অভিযোগে চাচাকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ।  ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৮ মে মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৬টায় নিজ ঘরে সাড়ে পাচ বছর বয়সী ভাতিজি ইশরা-কে ধর্ষণ করে আপন মেজো চাচা আবুল কাশেম(৫০)। এতে আহত অবস্থায় ভাতিজি তার মায়ের কাছে ঘটনার বিবরণ দিলে আবুল কাশেম বিষয়টি জানাজানি না করতে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ইশরার মা লাইজু আক্তারকে চাপ ও হুমকি প্রদান করে। এরপরও বিষয়টি নিয়ে প্রতিকারের জন্য শিশুটির মা সচেষ্ট হলে স্থানীয় ২/৩ জন প্রভাবশালীর আশ্রয় নেয় আবুল কাশেম। ক্রমাগত চাপের জন্য, লাইজু আক্তার অন্যত্র গমন করে এবং দোহার থানায় ৯(১) ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন ২০০৩ ধারায় অভিযোগ করে  । দোহার থানা অফিসার ইন চার্জ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ প্রাপ্ত হয়ে অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে থানা থেকে একটি টিম আবুল কাশেমকে আটক করে রবিবার কোর্টে প্রেরণ করে। উল্লেখ্য ইশরার বাবা প্রবাসী।

তবে লাইজু আক্তারের স্বজনেরা জানান, বিষয়টি সুরাহা করতে আসামী আবুল কাশেমের পক্ষের স্থানীয় প্রভাবশালীরা সচেষ্ট রয়েছে। ইতঃমধ্যে এলাকাবাসী আসামির বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে।

এই ব্যাপারে সামাজিক সংগঠন দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেণ্টের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ হরগবিন্দ অনুপ নিউজ৩৯কে বলেন , “কোনও একটা কারণ তো নয়, অনেকগুলো কারণ  হয়তো আছে। এর মধ্যে শিশু ধর্ষণের প্রধান কারণ নিশ্চিতভাবেই মানসিক বিকৃতি। আর ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনটা নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতা দেখানোরও চেষ্টা। তাই প্রথমে আমাদের ঘা দিতে হবে এর পিছনে ইন্ধনদাতা গোষ্ঠির উপরে।”