নবাবগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে যুবলীগ নেতা খুন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে মাদক কারবারিদের হাতে খুন হলেন মো. আরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবলীগ নেতা। রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আটকাহুনিয়া এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আরিফুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত জামাল হোসেনের ছেলে এবং শোল্লা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আবুল হোসেন বলেন, আরিফের সাথে তার বন্ধু ও একই এলাকার মাদক কারবারি রতন, পিয়াসসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে পূর্ব বিরোধ ছিল। এর জেরে সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়ির সামনে ওৎ পেতে ছিল। সে বাড়ি আসা মাত্র তার উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে অর্তকিত হামলা চালায়। এসময় বাঁচার জন্য আরিফুল দৌড়ে চাচার ঘরের ভিতর প্রবেশ করে দরজা ভিতর থেকে লাগিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হামলাকারীরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে আরিফুলকে এলোপাথারি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। হামলায় ঘটনাস্থলের তার মৃত্যু হয়।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেইসঙ্গে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সোমবার সকালে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপপরিদর্শক আবুল হোসেন।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে নবাবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, যারা আরিফুলকে হত্যা করেছে তারা সকলেই তার বন্ধু ছিল। একসময় তারা সকলেই একসঙ্গে চলাফেরা করতো। কিছুদিন আগে আরিফুলের বন্ধু রতন ইয়াবাসহ মানিকগঞ্জে গ্রেফতার হয়েছিল। তার ধারণা ছিল আরিফুলই তাকে ধরিয়ে দিয়েছিল। তার জের ধরেই সে কয়েকজনকে নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড চালায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেন জানান, রোববার সন্ধ্যায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ধারালো দেশীয় অস্ত্রসহ আরিফুলের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় আরিফুল বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসলে তারা ধাওয়া দেয়।

এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

দোহারে মাদকসেবীর সাজা

ঢাকার দোহারে সোহেল মোড়ল (২০) নামে এক মাদকসেবীকে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। সোহেল মোড়ল উপজেলার উত্তর রাধানগর এলাকার জামাল মোড়লের ছেলে বলে জানা যায়। রবিবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও একশত টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।

পুলিশ সূত্রে যায়, রবিবার সকালে উপজেলার রাধানগর থেকে গাজা সেবনের সময় সোহেল মোড়লকে আটক করে দোহার থানা পুলিশ। পরে সোহেলকে দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও একশত টাকা অর্থদন্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

মেঘুলায় হেরোইনসহ আটক ১

ঢাকার দোহার উপজেলায় ৭০ পুরিয়া হেরোইনসহ মিশা মোল্লা (৩০) নামে এক মাদক কারবারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১’র সদস্যরা। সে নারিশা পশ্চিমচর এলাকার  মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। শনিবার দুপুরে উপজেলার মেঘুলা বাজার গরুর হাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-১১ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় র‌্যাব-১১’র কমান্ডার পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নানের নেতৃত্বে দোহারে অভিযান চালিয়ে উপজেলার মেঘুলা বাজার থেকে মিশাকে ৭০ পুরিয়া হেরোইনসহ আটক করে। সে এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারী। এ ব্যাপারে দোহার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র‌্যাব।

দিনে ওরা রিকশা চালক, রাতে ভয়ংকর ডাকাত

ঢাকা জেলার সাভার, আশুলিয়া, নবাবগঞ্জ, দোহার ও মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযানে তিনটি ডাকাত চক্রের ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি অত্যাধুনিক শর্টগান, পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ ডাকাতি করা একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। দিনের বেলায় রিকশা-ভ্যান চালালেও চক্রটির সদস্যরা রাতে ভয়ংকর ডাকাত।

শুক্রবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান।

গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের সদস্যরা হলো- রিপন (৩২), বাবুল মিয়া ওরফে লম্বা বাবুল (৫৫), আনোয়ার হোসেন বাবু (৩০), হাসান শেখ ওরফে (৩১), হবিবুর রহমান হবি (৬৫), সাইদ (৫০), আলামিন (৩৫), নাসির শেখ (৩৫), নুর হোসেন ওরফে নুরুল ইসলাম মোল্লা (৩৫), সাইফুল আলম শেখ (৪৫)। বাকিদের নাম জানা যায়নি। পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত সদস্যরা জানায়, ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে তারা বসবাস করে। দিনের বেলায় তারা লুঙ্গি পড়ে রিকশা-ভ্যান চালায় এবং রাতে ডাকাতি করে। ডাকাতির আগে তারা আলাদাভাবে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ডাকাতি করে। পরে বিভিন্ন জঙ্গলে অবস্থান নেয়। ভোর হলে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র ফেলে দিয়ে বাসায় ফেরে। প্রত্যেকবার ডাকাতির সময় তারা নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতরা জানায়, কুখ্যাত ডাকাত সাইফুল আলম শেখের নেতৃত্বে সাইফুল গ্রুপ, বাবুল ওরফে মোটা বাবুলের নেতৃত্বে বাবুল গ্রুপ এবং রিপন মোল্লার নেতৃত্বে রিপন গ্রুপসহ মোট তিনটি গ্রুপে প্রায় অর্ধশতাধিক ডাকাত সদস্য আছে। তারা ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালঞ্জ, ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত রাস্তা ও বাসাবাড়িতে ডাকাতি, ছিনতাই, গরু চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

ডাকাত সর্দার সাইফুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ৯টি, রিপনের বিরুদ্ধে ১২টি এবং মোটা বাবুলের নামে ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রিপন গ্রুপের সর্দার রিপন মোল্লা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এবং অপর ডাকাত সর্দার মোটা বাবুল গত ১০ জুন আশুলিয়ায় মরাগাং এলাকায় দুই দল ডাকাতের বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। বাকি ডাকাত সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার মাসুদ আহমেদ ভূইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাইদুর রহমান, সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এএফএম সায়েদ, আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ রিজাউল হক দিপু, ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আবুল বাশার প্রমুখ।

দোহারে ঢাকা জেলা পরিষদের অর্থায়নে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ

ঢাকার দোহারে ঢাকা জেলা পরিষদের অর্থায়নে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা কবি নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৪০টি পরিবারের মাঝে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মাহবুবুর রহমান শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান মোল্লা, নারিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মো: শাহাবু্িদ্দন আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ মোল্লা, নারিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা সুলায়মান, সাজ্জাদ হোসেন, আ: খালেক, ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

রোহটাং পাসে বেড়াতে যেতে হলে হাতে রাখুন অন্তত ১৯ ঘন্টা!

তীব্র গরমে মানালি-রোহটাং পাস বেড়াতে যেতে চান? তাহলে তৈরি থাকুন পথেই ১৮ থেকে ১৯ ঘন্টা সময় কাটানোর জন্যে। না, কোনও সম্ভাবনা নয়। এমনটাই বাস্তবে ঘটেছে দিল্লির বাসিন্দা রজত ঠাকুরের সঙ্গে।

মানালি থেকে ভোররাত ১টায় একটি ছয় আসনের ট্যাক্সিতে সওয়ার হয়েছিলেন রজত ঠাকুর। ইচ্ছে ছিল রোহটাং পাস-এ ঘন্টা তিনেক সময় কাটিয়ে আসবেন। অংশ নেবেন কিছু অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসেও। কিন্তু রাস্তার ভোগান্তি তাঁর সব পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিল। রাস্তার ভিড় ঠেলে তিনি যখন রোহটাং পাস পৌঁছালেন তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ১২টা। অতএব মাত্র ৫১ কিমি পথ অতিক্রম করতে গত বুধবার তাঁর সময় লেগেছিল প্রায় ১১ ঘন্টা। ফিরতি পথেও একই ভোগান্তি। দুপুর ৩টে রোহটাং পাস থেকে বেরিয়ে যখন মানালি ঢুকলেন তখন বাজে রাত ১১টা।

রবিবার টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া একটি সাক্ষাত্‍কারে রজত ঠাকুর জানিয়েছেন তাঁর এই দুর্ভোগের বর্ণনা। মানালির মল রোড থেকে রোহটাং পাস যাওয়া আসার জন্যে তাঁরা ১২ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি। ২০১৫ সালে পরিবেশ রক্ষার খাতিরে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের তরফে রোহটাং, সোলাং এবং মারহি অঞ্চলে বাণিজ্যিক গতিবিধির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এই নিয়ম মেনে প্রতিদিন ১২০০টি ট্যাক্সি এবং ১০০টি প্রাইভেট গাড়িকে রোহটাং পর্যন্ত যাওয়া এবং ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এতে যাতে ব্যবসার ক্ষতি না হয়, সেই কারণে বহু ট্যাক্সিই বেআইনিভাবে পর্যটকদের নিয়ে রোহটাং পাসের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে, যার ফলে রাস্তায় এই অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে।

দোহারে গৃহবধূর নগ্ন ভিডিও ধারণ, গ্রেপ্তার ২

দোহার উপজেলায় এক গৃহবধূর নগ্ন ভিডিও কৌশলে মুঠোফোনে ধারণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন উপজেলার লটাখোলা বিলেরপাড় গ্রামের আবদুস সালাম (৩৫) ও একই গ্রামের মো. মাসুদ রানা (৩২)।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, উপজেলার লটাখোলা বিলেরপাড় গ্রাম থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় রবিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ওই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আব্দুস সালাম (৩৫) ও মনছুর মোল্লার ছেলে মো. মাসুদ রানা (৩২)।

ওসি সাজ্জাদ জানান, গত ২৭ জুন রাতে ওই গৃহবধূ তার নিজঘরে পোশাক পরিবর্তন করছিল। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় ওই দুই বখাটে ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে কৌশলে গৃহবধূর নগ্ন ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে তা সংরক্ষণ করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বখাটেরা গৃহবধূকে তার নগ্ন ছবি দেখিয়ে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করলে প্রথম ধাপে তাদের ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে আবার চাঁদা চেয়ে গৃহবধূকে চাপ দিলে সে স্থানীয়দের সহায়তায় দোহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। এর পর পুলিশ ওই গৃহবধূকে দিয়ে ফাঁদ পাতে। রবিবার রাতে চাঁদা দেবে বলে ওই দুই বখাটেকে কৌশলে ডেকে আনেন গৃহবধূ। তখন ওই দুই বখাটে উপস্থিত হলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দুটি মেমোরিকার্ডসহ জব্দ করা হয়।

ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ রাতেই তিনজনের নামসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনকে আসামি করে পর্নোগ্রাফি আইনে দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার সকালে ওই দুই বখাটেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

দোহার পৌর নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হতে পারেন যারা

যতই দিন যাচ্ছে ততই গুঞ্জন বাড়ছে দোহার পৌর নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদেরকে নিয়ে। দীর্ঘ ১৯ বছরের  আইনি জটিলতা নিস্পত্তি হতে যাচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জের সাংসদ জনাব সালমান এফ রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। আর এতেই নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে। যদিও নির্বাচনী তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি, যে  কোনো দিন হতে পারে এই তফসিল।

এরই মধ্যে ঈদ শুভেচ্ছাসহ বিভিন্ন রঙ্গিন পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে রাস্তা ঘাট আর বিভিন্ন দেয়াল। কারা হচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থী তা নিয়েও চলছে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ। প্রার্থীদের উৎসাহ-আগ্রহ প্রকাশ জনসংযোগ পর্যবেক্ষণ করে নিউজ৩৯ সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা করেছে।

সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা হচ্ছেন:

নজরুল ইসলাম বাবুল ( সাবেক চেয়ারম্যান-সুতারপাড়া ইউনিয়ন ও বর্তমান সভাপতি, দোহার উপজেলা আওয়ামিলীগ)

মো. নুরুল ইসলাম (সাবেক চেয়ারম্যান, সুতারপাড়া ইউনিয়ন ও বিএনপি সমর্থক),

আব্দুর রউফ মোল্লা ( সদস্য – এফ রহমান ফাউণ্ডেশন)

মাসুদ মোল্লা – ( সাংগাঠনিক সম্পাদক – যুবলীগ – ঢাকা জেলা)

ভিপি আলমাস উদ্দিন (সভাপতি – যুবলীগ, দোহার উপজেলা)

জিএস আব্দুর রহমান আকন্দ ( সাধারণ সম্পাদক- যুবলীগ)

শফিকুল ইসলাম সেণ্টু ( সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ)।

ডাঃ জালাল হোসেন (সভাপতি – আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, দোহার উপজেলা)

মো. আমির আলী ওরফে আমির কোম্পানী (আওয়ামিলীগ সমর্থক)।

“দোহারে গৃহবধুর ফাসিঁ দিয়ে আত্মহত্যা”

তৌহিদুল ইসলাম, নিউজ৩৯ঃ ঢাকার দোহার উপজেলার মেঘুলায় মন্দিরা নামে এক গৃহবধূ ফাসিঁ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত মন্দিরা ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানান তার পরিবার। মন্দিরা মেঘুলার গোবিন্দ রাজবংশীর স্ত্রী বলে জানা গেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মন্দিরা বাইরে কাজ করছিল, হটাৎ সে ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষন পর ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় তার শাশুড়ি। বাড়ির লোকজন চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকে এবং মন্দিরার লাশ নামায়। তাদের সাংসারিক জীবনে কোনো সমস্যা ছিলনা বলে জানান তার স্বামী গোবিন্দ রাজবংশী। তাদের ১ বছরের একটি বাচ্চা আছে।

এ খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে দোহার থানা পুলিশ।দোহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম  বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখেছি। কিন্তু গলায় একটি আঘাতের চিহ্ন মতো দেখা যাওয়ায় মরদেহ ময়না-তদন্তের জন্য পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠোনো হবে।

জনকল্যাণেই বাচতে চাইঃ শামীমা রাহিম শিলা

দূরে থেকেও যে মানুষকে সেবা করা যায়, কাছে না থেকেও যে ভালোবাসার প্রতিদান দেয়া যায় তেমনি শামীমা রাহিম শিলা – দোহার উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে অনেকটা বিস্ময় নিয়েই দোহারের রাজনীতির মাঠে তিনি আসেন, পরিচ্ছন্ন রাজনীতি, মানুষকে আপন করার ক্ষমতা নিয়ে। সরকারি বরাদ্দের ছাড়াও নিজস্ব অর্থায়নে কল্যাণমুখী কাজ করেছেন। অনেক ঈদ করেছেন লন্ডনের পরিবার থেকে আলাদা থেকে এই দোহারে। তার উদ্যোগে দোহারের বিভিন্ন স্থানে দুস্থদের বাসস্থান, স্বকর্মসংস্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিয়ে অনুদান দেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দীতা করেননি। কিন্তু তিনি ছিলেন জনগণের পাশে। পুরো রমযান মাস জুড়েই শামীমা রাহিম শিলা তার কর্মি-সমর্থকদের মাধ্যমে জনকল্যাণমুলক বিভিন্ন কাজ করে গিয়েছেন। রমজানের ২৫ তারিখে নারিশা উওর চকে বায়তুল আকসা নতুন জামে মসজিদে নারিশা উওর চকে বায়তুল আকসা নতুন জামে মসজিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্বিতীয় বারের মতো ব্যক্তিগত ভাবে আর্থিক সহায়তা দেন।

রমযানে ২৩ তারিখে দোহারের মধুর চর গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ১০০ বছরেরে সন্তান পরিত্যাক্ত বৃদ্ধার দায়িত্ব নেন শামীমা রাহিম শিলা। বেগম নামে সেই বৃদ্ধার স্বামী মারা গিয়েছে অনেক আগেই । নিজের নেই কোন ছেলে,মেয়ে । তাই দত্তক হিসেবে এক ছেলে এবং এক মেয়েকে নিয়ে আসেন । নিজের সবটুকু দিয়ে সেই ছেলে এবং মেয়ের জন্য সব করেছেন এই বৃদ্ধা । কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম অবিচার ! সেই পালিত ছেলে, মেয়ের দ্বারাই আজ সে সব চেয়ে অবহেলিত।

রমযানের ১২ তারিখে দোহার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এতিম ছাত্র ও মুসল্লিদের মাঝে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন দোহার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী মহিলাদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিসেস শামিমা_রাহিম_শিলা।

নিউজ৩৯কে এসব ব্যাপারে শামীমা রাহিম শিলা বলেন,  দোহার উপজেলার মানুষের পাশে থাকতে পেরে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে । দোহারের জনপ্রতিনিধিত্ব করতে পেরে, আমার জনগণের  সেবা করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ । এই সেবার মাধ্যমেই আমি শ্রেষ্ঠ ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম । অর্জন করেছিলাম মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক । পদক কোন বড় বিষয় নয় বড় বিষয় হলো মানুষের সেবা করতে পেরেছি । শীলা বলেন আমি দীর্ঘ ৫ বছর এই উপজেলা বাসীর জনপ্রতিনিধি ছিলাম । তাই আমার নিজের দায়িত্ব কর্তব্য থেকে আমি মানুষের পাশে থাকি। আমি সদ্য বিদায়ি জনপ্রতিনিধি এটা ঠিক তবে আগে যেমন দোহার বাসীর পাশে ছিলাম আগামী দিনেও থাকবো ইনশাআল্লাহ্‌। তাদের ভালবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই আরো অনেক দূরে । দোহার বাসীর জন্য রইল আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি সকলের দোয়া চাই।এই জনকল্যাণের মাধ্যমেই আমি বেঁচে থাকতে চাই দোহারবাসীর মাঝে।