নবাবগঞ্জে নির্ধারিত সময় পর দোকান-পাট খোলা রাখলে কঠোর ব্যবস্থা: সালাউদ্দিন মনজু

ঢাকার নবাবগঞ্জে বিকাল ৪ টার পর ফার্মেসী বাদে সকল দোকান-পাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। গত বুধবার(১০জুন) নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মনজু এ নির্দেশ দেন।

বিশ্বব্যাপী প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলছে৷ নবাবগঞ্জ এর বাইরে না। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় শুরু থেকেই নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন৷ এই পযর্ন্ত ১৯৪ জন শনাক্ত হয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ জন । অনেক জেলার থেকেও বেশী । প্রবাসী অধ্যুসিত হওয়ায় পরিমান বেশীর অন্যতম কারন । সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত সকল দোকানপাট খোলা থাকবে৷ বিকেল ৪ টার পর ওষুধের ফার্মেসী ছাড়া সকল ধরনের দোকান বন্ধ থাকবে৷ সরকার দেওয়া এই নির্দেশনা কেউ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ.এম সালাউদ্দীন মনজু।

এ বিষয়ে সালাউদ্দিন মনজু জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার থেকে সকল দোকানপাট বিকেল ৪ পর থেকে বন্ধ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে দেওয়া হয়েছে৷ বিকেল ৪ টার পর শুধু ওষুধের দোকান ছাড়া সকল ধরনের দোকান বন্ধ থাকবে। ৷ প্রতিটি হাটবাজারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হবে৷ এছাড়া যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকারি নির্দেশনা না মেনে পরিচালনা করবে সেসব দোকানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নবাবগঞ্জবাসীকে সুস্থ রাখতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন৷ আপনারা নিজে সুস্থ থাকতে এবং আপনার পরিবার ও অন্যকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন৷

করোনায় প্রাণ হারালেন দোহারের করোনাযোদ্ধা ড. জহিরুল হাসান গাজী

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ছোবলে প্রাণ গেল আরো একজন করোনা যোদ্ধা দোহারের কৃতি সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর শিশু সার্জন অধ্যাপক ড. জহিরুল হাসান গাজী রকেট। তার বাড়ি দোহারের উত্তর জয়পাড়া গাজিকান্দায়। তিনি জয়পাড়া হাসপাতালে দীর্ঘ সময় দোহারের মানুষকে সেবা দিয়েছেন।

গতকাল (১১জুন) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মজুমদার জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া শুক্রবার মিডিয়াকে বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে গাজী জহিরুল হাসানের করোনা ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে গত ৫ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দোহারে করোনা উপসর্গে আরো একজনের মৃত্যু

ঢাকার দোহারে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত মো. তারিকুল ইসলাম সুতারপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মরহুম সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

শুক্রবার(১২জুন) সকালে সুতারপাড়ার আল-আমিন করবস্থানে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক টিম।

জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৮টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক টিম দোহার শাখার  সমন্বয়ককে ফোন করেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জসিম উদ্দিন, তিনি বলেন দোহারের সুতারপাড়া গ্রামে একজন করোনা আক্রান্ত লোক মারা গেছে তাকে দাফনের ব্যাবস্থা করতে হবে। খবর পেয়ে টিমের সদস্যদের নিয়ে মৃত ব্যাক্তির গোসল, জানাযা ও দাফন কাজ সম্পন্ন করে তারা।

দোহারে করোনা উপসর্গে আরো একজনের মৃত্যু

 

উল্লেখ্য মৃত ব্যাক্তির বাড়ি সুতারপাড়া হলেও লাশবাহী গাড়ি এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আল আমিন কবরস্থান কর্তৃপক্ষ তাদেরকে লাশ দাফনের অনুমতি দেয়।

দোহারে বসত বাড়িতে ঢুকে সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা, মামলা করলে ফের হামলার হুমকি

স্থানীয় পত্রিকা নিউজ৩৯ এর চিফ রিপোর্টার আছিফুর রহমান সজলের বসত বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী । মোহন মেম্বরের ছেলে রাকিব, তারার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী বাবু ও বোরহান ব্যাপারীর ছেলে সোহেলসহ আরো বেশ কয়েকজন হামলায় অংশ গ্রহন করে।বৃহস্পতিবার(১১জুন) বিকেলে উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নে ওই সাংবাদিক নিজ বাড়িতে এ হামলার স্বীকার হন। ব্যাপক মারধরের ফলে গুরুতর আহত হন তিনি। মামলা করলে ফের হামলার হুমকি দেন ওই সন্ত্রাসীরা।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছ। এই সময় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে আসলে সাংবাদিক আছিফের মোবাইল ফোনে ফোন দিয়ে হামলাকারীরা মামলা করতে নিষেধ করে এবং মামলা করলে ফের বাড়িতে হামলা চালানোর হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক থানায় অভিযোগ দিয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

সূত্র জানায়, আছিফ তার নিজ বাড়ির আঙিনায় বসার জন্য একটি বেঞ্চ তৈরি করেন। সরকার লকডাউন তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিলে সেই বেঞ্চে এলাকার বখাটে যুবকরা নেশা করতো এবং জোয়ার আসর বসাতো। আছিফ বিষয়টি জানতে পেরে তার তৈরিকৃত বেঞ্চটি ভেঙ্গে ফেলে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এরপর আজ এলাকার মোহন মেম্বরের ছেলে রাকিব, তারার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী বাবু ও বোরহান ব্যাপারীর ছেলে সোহেলসহ আরো অনেকে আছিফেরর বাসায় ঢুকে হামলা চালায় এবং তাকে গুরুতর আহত করে। এ সময় ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে এবং বাড়ির গেট ভাংচুর করে। পরবর্তী সময়ে তারা আবার হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
এই সময় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে আসলে সাংবাদিক আছিফের ফোনে ফোন দিয়ে হামলাকারীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে মানা করে এবং অভিযোগ দায়ের করলে ফের হামলা চালানোর হুমকি দেয়। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তার পরিবার।

দোহারে করোনা সংক্রমণ রোধে উপজেলা প্রশাসনঃ ১১ জনকে জরিমানা

করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি শেষে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে শুরু হয়েছে চলাচল। খুলেছে মার্কেট, দোকান-পাট। কিন্তু সবখানে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। নাগরিকদের মধ্যে মাস্ক, গ্লাভস পরার প্রবণতাও খুবই কম।
বৃহস্পতিবার ( ১১জুন) দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজার থেকে বাহ্রাঘাটসহ দোহারে বিভিন্ন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সামাজিক দুরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্য বিধি মানাতে মোবাইল কোর্ট ও জনসচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। নূন্যতম স্বাস্থ্যবিধি না মান্য করার অপরাধে

১১টি মামলায় ১১ জনকে ২২০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করে ও সতর্ক করা হয়।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতেই দোহার উপজেলা প্রশাসন এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এজন্য সবাইকে করোনা সংক্রমণ থেকে বাচঁতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়।
সে সময় জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে এবং সচেতন করতে ও জনগণ যাতে মাস্ক পরে বাহিরে আসে সে জন্য
এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সে সময় তাকে সহযোগিতা করেন দোহার থানা পুলিশ প্রশাসন।

তরুনদের ভাবনাঃ সচেতনার কোন বিকল্প নাই

দোহার -নবাবগঞ্জে করোনাভাইরাসকে আমি একটি ভয়ংকর রুপ হিসেবে দেখছি। দিনে দিনে দোহার – নবাবগঞ্জে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে, কিন্তু তারপরও এই এলাকার মানুষদের মধ্যে পুরোপুরি সর্তকতার সাথে/স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা নেই। করোনায় আক্রান্ত রোগী বাড়ার সাথে সাথে জনগণের অসর্তকতা বেড়েই চলছে বলে আমার মনে হয়। জনগণের একটি ভুল ধারণা আছে, যে করোনাভাইরাস হলে এমনেই হবে; সৃষ্টিকর্তা মৃত্যু লেখে রাখলে এমনেই মরব। বিষয়টা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে আপনি বিষ খাবার আগে বলতেছেন সৃষ্টিকর্তা মৃত্যু লেখে রেখেছে তাই এইভাবে মৃত্যুবরণ করছি। যখন আপনার পরিবার এবং আপনার প্রিয় মানুষগুলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে, তখন আপনি সর্তক হবেন! তাহলে তারা অসুস্থ হওয়ার আগে আপনি সর্তক হচ্ছেন না কেন? খারাপ লাগছে বাসায় থাকতে? ও তো আমারও লাগছে। আমার এমন দিন ছিল না যে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতাম না, দোকানে বসে চা খেতাম না। কিন্তু প্রায় তিন মাস ধরে আমি এইসব থেকে পুরপুরি বিরত। কারণ আমার জন্য আমার পরিবারের ভালোর জন্য সর্বপরি দেশের ভালোর জন্য। নিজে কষ্ট করে থাকলেও যখন অন্য মানুষদের অসর্তকার সাথে চলতে দেখি তখন নিজের কাছে অনেক খারাপ অনুভব হয়। তখন ভাবি মানুষ এইভাবে চললে আরও কতদিন এইভাবে থাকতে হবে আমাদের। এই করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় তিনমাস ধরে ইউনিভার্সিটি থেকে দূরে রয়েছি, এই কারণে পড়াশোনার অনেক ব্যাঘাত ঘটছে এবং তার সাথে সাথে মানসিকভাবেও অনেক অসুস্থ বোধ করছি। পড়াশোনার একটা বিশাল গ্যাপ এসে পড়লে, পরে পড়াশোনার প্রতি একটা অনিহা চলে আসবে। ফলে আমাদের মতো স্টুডেন্টরা বিশাল একটা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাবে। আমি এর থেকে মুক্তি চাই, আবার সুন্দর একটি পৃথিবী চাই। তাই সকল জনগণের কাছে আমার অনুরোধ সকলে যেন সচেতনতার সাথে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করে। আপনার একটু সচেতনতা দিতে পারে সুন্দর একটি পৃথিবী, দিতে পারে আবার আগের মতো জীবন-যাপন করতে পারার সুযোগ। তানাহলে, দোহার -নবাবগঞ্জের জনগণের ভবিষ্যৎতে অনেক খারাপ সময় পার করতে হতে পারে বলে আমার মনে হয়।

সৌরভ ঘোষ

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

মালিকান্দা, দোহার, ঢাকা।

দোহারে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা দেড়শ ছাড়ালো

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে। দোহার উপজেলায় আজকে নতুন করে ২৩ জন করোনা সংক্রমিত রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। এই নিয়ে দোহারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়ালো ১৫২ জন। দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা জসিমউদ্দিন নিউজ৩৯ কে নতুন আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ৪ জুন ও ৬ জুন পাঠানো ৮১ জনের নমুনা থেকে ২৩ জনের করোনা পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে। এর মাঝে ৪ জুন পাঠানো ৪০ জনের নমুনা থেকে ১৩ জন ও ৬ জুন পাঠানো ৪১ জনের নমুনা থেকে ১০ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। আক্রান্তদের ইউনিয়ন তাদের সামাজিক নিরাপত্তার কারনে প্রকাশ করেনি দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে তাদের হোম আইসোলেশন নিশ্চিত করতে কাজ করবে প্রশাসন বলে জানিয়েছে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

দোহারে স্বাস্থ্যবিধি অমান্যঃ ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭ জনকে আইনি ব্যবস্থা

করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি শেষে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে শুরু হয়েছে চলাচল। খুলেছে মার্কেট, দোকান-পাট। কিন্তু সবখানে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। নাগরিকদের মধ্যে মাস্ক, গ্লাভস পরার প্রবণতাও খুবই কম।
বুধবার ( ১০জুন) দোহার উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সামাজিক দুরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্য বিধি মানাতে মোবাইল কোর্ট ও জনসচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। নূন্যতম স্বাস্থ্যবিধি না মান্য করার অপরাধে

৭টি মামলায় ৭ জনকে ১৪০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করে ও সতর্ক করা হয়।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতেই দোহার উপজেলা প্রশাসন এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এজন্য সবাইকে করোনা সংক্রমণ থেকে বাচঁতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়।
সে সময় জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে এবং সচেতন করতে ও জনগণ যাতে মাস্ক পরে বাহিরে আসে সে জন্য
এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সে সময় তাকে সহযোগিতা করেন দোহার থানা পুলিশ প্রশাসন।

তরুনদের ভাবনা: সম্মেলিত প্রয়াসেই করোনাকে মোকাবেলা করতে হবে

ইতোমধ্যে কিন্তু আমাদের দেশে এই রোগটি মহামারী আকার ধারণ করতে শুরু করেছে।কিন্তু আমরা অনেকেই এই রোগটাকে তেমন গুরুত্বই দিচ্ছি না।আমরা অনেকেই বেপরোয়া ভাবে নিজেদের মন মতো চলাফেরা করছি।আসলে ভাইরাসটি চোখে দেখিনা বলে আমরা তেমন গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি না।তার ফল কিন্তু আমাদের চোখের সামনেই! কারন আমাদের দেশে কিন্তু তরুণরাই বেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত।তাই আমাদের এই ভাইরাস সম্পর্কে ধারণাটা একটু হলেও পাল্টানো উচিত।নয়তো ফল ভয়াবহ হবে।আমাদের একটু ভাবা উচিত যে আমরা যা চোখে দেখি সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।কিন্তু এটি তো চোখে দেখছি না,তাই আমরা তেমন কোনো কার্যকরী প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও গ্রহণ করতে পারবো না।সেজন্য একটু বেশি  সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।

যেহেতু আমাদের দেশে এ রোগটি মহামারী আকার ধারণ করতে শুরু করেছে,তাই আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে আরও বেশি সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। কারন আজকের একটু সর্তকতাই পারে আমাদেরকে সুস্থ রাখতে।আমাদের মনে রাখা উচিত”একটি দূর্ঘটনার সারা জীবনের কান্না “।আজকে আমরা বাহিরে ঘুরছি,সরকারের দেয়া নির্দেশ মানছি না।কালকে আমি এই ভাইরাসটা বহন করে আনলে শুধু আমার না,আমার আপনজনগুলোকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি।আপন মানুষগুলোকে নিজের হাতে মৃত্যুর দিকে আরও একধাপ এগিয়ে দিচ্ছি। তাই আমার মতে সকলের সরকারের দেয়া সকল নিয়মাবলি পালন করার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা উচিত।এই সময়টা সাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকলে নিজের পাশাপাশি অন্যেরও উপকার করা হবে।বার বার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে,স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে,প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে না গেলে,অতি প্রয়োজনে বাহিরে গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে যদি চলাচল করি তাহলেই এই সময়ে আমাদের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক হবে।

লকডাউন উঠিয়ে দেওয়ায় আগামী ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানিগঞ্জ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে–

১. বিদেশ থেকে আগত লোকের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা।

২. যারা ঠাণ্ডা -কাশিতে আক্রান্ত তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা।

৩. প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে যাতে কেউ ঘুরাফেরা না করতে যায় সেটা নিশ্চিত করা।

৪. বাজার/মুদিমালের দোকানগুলোরে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নিদিষ্ট দূরত্বে মার্ক করে দেয়া।

৫. রাস্তাঘাটে কিছু জায়গায় সাবান এবং পানি রাখার ব্যবস্থা করা।

৬. সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করার জন্য লিফলেট লাগিয়ে দেয়া যেতে পারে দোকান/গাড়িগুলোতে।

৭. সবাই যাতে দূরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ জায়গা থেকে সআেতন হয় এ বিষয়ে বুঝানোর জন্য মাইকিং করা যেতে পারে।

সারা পৃথিবী এখন থমকে গেছে এই ভাইরাসের জন্য। তাই এই ক্রান্তিলগ্নে এসে আমাদেরও পড়াশোনায় অনেক প্রভাব পড়ছে।আমাদের দেশের সরকার কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ছোট সোনামনিদের জন্য লাইভ ক্লাস “ঘরে বসে শিখি ” এবং ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির লাইভ ক্লাস “আমার ঘরে আমার স্কুল”। যদিও এটা বাস্তব জীবনের পড়াশোনার চেয়ে অনেক আলাদা তারপরও এই সময়ে এটাই আমাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।এত দীর্ঘ সময় পড়াশোনা ছেড়ে থাকার ফলে আমাদের পড়াশোনায় অনেকটা ব্যাঘাত ঘটবে কিন্তু তারপরও আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

এই ভাইরাসের জন্য সবকিছু বন্ধ। আবার অনেকে আক্রান্ত হয়ে মারাও যাচ্ছে। তাই আপনজনকে হারিয়ে পৃথিবী আবার আগের অবস্থানে আসলেও সবকিছু অনেকটা পাল্টে যাবে।তাছাড়া এটা তো একদিন দুদিনের বিষয় না।ঔষধ আবিষ্কার হলেও সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে কয়েক বছর।তাই সবকিছুতেই পরিবর্তন আসবে।কাজের জায়গা,চলাফেরা, মেলামেশা সবকিছুর একটা পরিবর্তন সাধিত হবে। অনেকের জন্যই এটা বিরম্বনার কারন হয়ে দাঁড়াবে।

একজন তরুন হিসেবে সকল তরুণ মিলে যে ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে–

১. আমাদের নিজেদের স্বার্থে যেন নিজেরা সচেতন হই এটা মানুষকে তারা নানা রকম উদ্যোগ নিয়ে বুঝাতে পারে।

২. এই সময়ে গরিব অসহায় মানুষগুলো খেতে না পেরে নানা রকমভাবে কষ্ট করছে।তাদের পাশে দাঁড়াতে পারে।

৩. রোগীদের সেবা করার জন্য অনেক জায়গায় স্বেচ্ছাসেবক নিচ্ছে, সেখানে তারা নিজেরা সাবধান থেকে যোগদান করতে পারে।

৪. সাধারণ মানুষ যারা অজ্ঞ তারা যাতে সরকারের দেয়া সকল নিয়মাবলি মেনে চলে সেগুলো বুঝাতে পারে।

৫. সর্বাপরি সবাই যেন সচেতন থাকে,স্বাস্থ্যকর খাবার খায়,পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে এগুলো মাথায় রাখতে হবে।

আমাদের একটু সচেতনতাই পারে এই সময়ে নিজেদের সুস্থ রাখতে।ভালো রাখতে।সবাই মিলে সবার সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা উচিত যেন আমাদের সুস্থ রাখেন।

#Stay home

Stay safe…….

ধন্যবাদ

মিতানূর শরীফ মাসনা

সরকারি পদ্মা কলেজ

দোহার- ঢাকা

নবাবগঞ্জে করোনাভাইরাস আক্রান্তের দুইশ’ ছুইছুই

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আরও ১২ জন করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।  নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টায় পাওয়া পরীক্ষার ফলাফলে নতুন ওই ১২ রোগী শনাক্তের বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ জানান, গত ৪ জুন তারিখে নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪০টি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। এর মাঝে ১২ জনের নমুনা পজেটিভ এসেছে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা চূড়াইন,আগলা, কলাকোপা,বাহ্রা,যন্ত্রাইল ও বান্দুরা ইউনিয়নে বাসিন্দা। নতুনদের নিয়ে এ উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯৪ জন। নতুন আক্রান্তদের তাদের নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানান ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ।

উল্লেখ্য এ নিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯৪ ও মৃত্যুবরণ করেছেন ৪জন।