করোনার উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু: নবাবগঞ্জে দাফন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা প্রমীলা ভেরনীকা গমেজ (৮৮) নামে এক বৃদ্ধার লাশ কবরস্থ করা হয়েছে। মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান যুব ঐক্য পরিষদ ও ছাত্র ঐক্য পরিষদের স্বেচ্ছাসেবীরা গোল্লা গির্জার কবরস্থানে তাকে কবরস্থ করে।

গত ১৩ জুন রাতে গাজীপুর পাগার এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত প্রমীলা ভেরনীকা গমেজ নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের বালির ডিয়র গ্রামের সিমফম গমেজের স্ত্রী । সে গাজীপুর পাগার এলাকায় থাকতেন বলে জানা গেছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রমিলা গমেজ ১০/১২ দিন ধরে সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তিনি হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতে চিকিৎসায় নিচ্ছিলেন। গত ১৩ জুন রাতে গাজীপুরে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান যুব ঐক্য পরিষদের সৎকার টিমের সভাপতি অনুপম দত্ত নিপুর নেতৃত্বে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গোল্লা গির্জায় তার মরদেহ কবরস্থ করা হয়।

অনুপম দত্ত নিপু জানান, মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে মহাখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে কিন্তু এখনো রিপোর্ট আসেনি।

মুজিববর্ষে বর্ষায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী’র নির্দেশক্রমে আজ সোমবার ১৫ জুন বেলা ১২ টায় রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র খেলার মাঠে জাতীয় বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।

উক্ত কর্মসূচি উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ’র প্রেসিডিয়াম সদস্য জননেতা আব্দুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম।

অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতা গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, মজিবুর রহমান স্বপন, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন, দেবাশীষ বিশ্বাস, আব্দুল আলীম, সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, এড. মানিক কুমার ঘোষ, মোবাশ্বের চৌধুরী, নাফিউল করিম নাফা, আব্দুল্লাহ আল সায়েম , কৃষিবিদ আ ফ ম মাহবুবুল হাসান মাহবুব, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান হেলাল, রফিকুল ইসলাম বিটু, আজিজুল হক আজিজ, মহানগর দক্ষিণ সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, উত্তর সভাপতি ইসহাক মিয়া, দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ, উত্তর সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান নাঈম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দেশব্যাপী ” গাছ লাগাও পরিবেশ বাচাও “এই স্লোগানকে স্বাগত জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বস্তরের প্রত্যেকজন নেতাকর্মীকে বনজ, ফলজ ও ঔষধি এই তিন ধরনের বৃক্ষ রোপন করার নির্দেশ প্রদান করা হয় ।

নেতৃবৃন্দ বলেন বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বৈশ্বিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে ভারসাম্য এবং বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা সম্ভব।

দোহারে প্রেম নিয়ে দ্বন্দ্বে ভয়াবহ সংঘর্ষ: প্রতিবেশীর মৃত্যু

স্পেশাল করসপন্ডেণ্ট; নিউজ৩৯: দোহারে প্রেম নিয়ে সংঘর্ষের জেরে একজন মারা গিয়েছে। মৃত ব্যাক্তির নাম মো. রাসেল, পিতার নাম – আব্দুর রশিদ (সাবেক মেম্বার), মইতপাড়া, দোহার । মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ৭/৮ টি মোটর বাইক ভাংচুর করে ও ৭টি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয়।


ঘটনার সরেজমিন প্রতিবেদনে জানা যায়, দোহারের মালিকান্দা এন্ড মেঘুলা কলেজের একাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী – মনির ও সোহান প্রেমে পড়ে রাকা নামে একই কলেজের একই শ্রেণীর এক ছাত্রীর। সোহান ও মনিরের বাড়ী মইতপারায়, খালের এপার আর ওপার। আর রাকার বাড়ী নারিশায়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মাঝে প্রথমে দ্বন্দ্ব ও পরে শত্রুতার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি চরম আকার ধারণ করে, মনিরের সাথে রাকার ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেলে ও সোহানের সাথে রাকার দূরত্ব সৃষ্ট হলে। রাকার কাছে সোহান ও মনিরের একে অপরের নামে বানোয়াট কথা বলেছে, এই অভিযোগে তাদের মাঝে শত্রুতা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে, রবিবার মনির ও সোহানের মধ্যকার কথা কাটাকাটি থেকে মনির সোহানকে মারধর করে।

সোমবার সকাল ১০টার পরে, সোহানের মারধরের বিষয়ে জানতে ও ঘটনার মীমাংসার জন্য কথা বলতে মইতপাড়া আসে সোহানের পরিচিত শাকিল, সাইম মোল্লা, আল-আমিনসহ আরো অনেকে।

কিন্ত সোহানের পক্ষ ও মনিরের পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা ও তর্কাতর্কির একপর্যায়ে উত্তেজনা থেকে উভয় দলেরর মধ্যে কথাকাটি, ধস্তাধস্তি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এসময় রাসেল নামে একজন জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


রাসেলকে মাথায় ইটের আঘাত করা হয়েছে বলে তার স্বজনেরা অভিযোগ করেন। রাসেলের মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত মইতপাড়া গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা এসময় উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া দিলে তারা মটরবাইক ফেলে পালিয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা তাদের ফেলে রাখা মটরসাইকেলগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ-র‍্যাব ঘটনাস্থলে পৌছে টানা তিন ঘন্টার চেষ্টায় সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ২ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন শাকিল (ছোট) ও রাজন।


সংবাদ পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে দোহার সার্কেল এসপি মাসুম, এএসপি জহিরুল ইসলাম, দোহার থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন, ওসি (তদন্ত) আরাফাত রহমান, ফুলতলা পুলিশ ফাড়িঁর ইন-চার্জ জাহাঙ্গীর আলম, র্যা ব-১১এর সদস্যসহ মুকসুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান খান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে চেষ্টা চালান। দোহার ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থানে গিয়ে মটরসাইকেলের আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন । মটরসাইকেলগুলো দোহার থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।


দোহার সার্কেল এসপি মাসুম আহমেদ বলেন, বন্ধুদের মধ্যকার বিবাদকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত, প্রাথমিকভাবে আমরা তাদেরকে সনাক্ত করেছি এবং ২(দুই) জনকে আটক করেছি। অন্যদেরও আমরা দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবো।
জানা গেছে, ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইন-চার্জ জাহাংগীর হোসেন আইও বা তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হচ্ছেন।
দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডা. ওমর ফারুক নিউজ৩৯কে জানান, মৃতের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন নেই। হাতাহাতির ঘটনায় হয়তোবা স্ট্রোক করে করে মারা যেতে পারে। তবে মাথার পিছনে ফোলা ছিলো, সেখান থেকে কিছুটা রক্ত বের হয়েছে। এখন ময়নাতদন্ত শেষে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে যে সেটি কি আঘাত জনিত নাকি মাটিতে পড়ে যাওয়ার কারণে হয়েছে।

ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিণের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন সোহাগ নিউজ৩৯কে বলেন, আইন সবার জন্য সমান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। আর এই ঘটনায় কেও যদি ছাত্রলীগকে ব্যবহারের অপচেষ্টা করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাস্তায় মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় পিটিয়ে আহত

মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় ঢাকার দোহারে হামলা করে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের বাস্তা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বাবুল নামে একজন আহত হয়।

হামলায় আহত মো. বাবুল বলেন, এক সপ্তাহ আগে একই গ্রামের আক্কাস আলীকে তার ছেলেদের ইয়াবা সেবনের বিষয়ে বলতে গেলে উল্টো আক্কাস আলী তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এরপর শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় আমি বাস্তা বাজারে গেলে আক্কাস আলী ও তার দুই ছেলে আল-আমিন ও মিলন এবং একই এলাকার মজনুর ছেলে মিহাদ সহ অজ্ঞাত ২/৩ জন লাঠিশোটা নিয়ে আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

চর মাহমুদপুর ফাঁড়ির এসআই শাহ আলম নিউজ৩৯কে বলেন, আহত বাবুলের স্ত্রী ফরিদা পারভীন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করলে আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে আক্কাসকে শনিবার রাতেই গ্রেপ্তার করেছি। তাকে আজ সকালে কোর্টে চালান করে দেয়া হয়েছে। বাকীরা পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জয়পাড়া বাজারে রাইস মিলে আগুন

ঢাকার দোহার উপজেলার প্রানকেন্দ্র জয়পাড়া বাজারে ‘পাঁচভাই রাইস মিল’ নামে একটি কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওই কারখানার ভেতরে থাকা বিভিন্ন ধরনের মেশিন, মোটর, মিলে থাকা বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য ও মালামাল পুড়ে গেছে।

সোমবার (১৫ জুন) ভোর পৌনে চারটার দিকে পাচভাই রাইস মিলে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। জয়পাড়া বাজারে মো. শহিদুলের মালিকানাধীন কারখানায় অগ্নিকান্ডের সাথে সাথেই মসজিদের মাইকে আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। ঘটনার সাথে সাথে খবর পেয়ে দোহার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে মিলের ভেতরে থাকা মেশিন, খৈল, ডাল, চাল, সরিষা সহ বিভিন্ন রকম মসলা পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে আসায় আগুন ছড়াতে পারেনি।

কারখানাটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আব্দুর রহিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আনুমানিক ১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

করোনা লক্ষন নিয়ে মারা যাওয়া তরিকুলের করোনা পজিটিভ: নতুন আক্রান্ত ১৩ জন

ঢাকার জেলার দোহার উপজেলায় নতুন করে ১৩ জন করোনা সংক্রমিত রোগী পাওয়া গেছে। নতুন করে ১৩ জন আক্রান্ত হওয়ায় দোহারে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৭৬ জন। এরই মাঝে সুতারপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত  সিরাজুল ইসলামের ছেলে করোনা লক্ষন নিয়ে মারা যাওয়া তরিকুলের করোনা পজেটিভ এসেছে। এই নিয়ে দোহারে করোনা সংক্রমনে মারা গেল ৩ জন।

দোহারে নতুন করে করোনা শনাক্ত হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ৭ জন জয়পাড়া, ৫ জন চরকুশাই ও ১ জন সুতারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা আক্তার রিবা।

আফরোজা আক্তার রিবা জানান, গত ৯ জুনের পাঠানো নমুনা থেকে ১৩ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে সুতারপাড়ায় মারা যাওয়া ব্যক্তি তরিকুল ইসলামের করোনা পজিটিভ এসেছে। নতুন করে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হবে।

উল্লেখ্য যে, দোহার উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হওয়া ১৭৬ জনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন ৪২ জন। মৃত্যুবরণ করা তিনজনের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী।

বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের মৃত্যুতে বাবু নির্মল রঞ্জন গুহের শোক প্রকাশ  

সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রিয় সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ। আজ সকালে তিনি এক শোক বার্তায় এই শোক প্রকাশ করেন।

শোক বার্তায় তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য জনাব বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বিগত রাত ২.৪৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তৃনমূল থেকে উঠে আসা দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা জনাব বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এর নমুনা পরীক্ষার পর তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তাঁকে প্রথমে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আনা হয়। তার এই অকাল মৃত্যুতে দেশ্ন হারালো একজন দেশপ্রেমিককে ও আওয়ামী লীগ হারালো একজন সহযোদ্ধাকে।  জনাব বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।

নবাবগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। এই উপজেলায় নতুন করে ১২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে করোনায় আক্রান্তরা উপজেলার কলাকোপা, বান্দুরা, বক্সনগর, আগলা, শিকারীপাড়া ও শোল্লা ইউনিয়নের ১০ জন এবং  দোহারের ২ জন। এ নিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মোট ২১৫ জন।

 

রোববার রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ নিউজ৩৯ কে জানান, গত ৯ জুন ঢাকায় পাঠানো ৩৬ জনের নমুনা থেকে ১২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে করোনায় আক্রান্তরা উপজেলার কলাকোপা, বান্দুরা, বক্সনগর, আগলা, শিকারীপাড়া ও শোল্লা  ইউনিয়নের ১০ জন এবং  দোহারের ২ জন। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে আক্রান্তদের স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

২১৫ জন করোনা আক্রান্তের মাঝে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩২ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ভজন রাজবংশী(চুড়াইন), গৌরাঙ্গ বণিক(বান্দুরা) ও সুরুজ খান(আগলা), তৈয়ব আহমেদ(কলাকোপা)।

দোহারের সন্তান হিসেবে আমার দেখা বদরুদ্দীন কামরান: দেব কুমার

প্রিয় বদরুদ্দীন আহমেদ কামরান ভাই, সাবেক মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

সাবেক সভাপতি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ, সদস্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।

সময় টা ছিলো ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরবর্তী সময়।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলছিলো। আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন এর মতো আমাদের ছাত্রলীগের হেল্প ডেস্কে বসে ছিলাম। ডেস্ক থেকে বের হবার আগমুহুর্তে Mahmudur Rahman Jony ভাই,সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, আমাদের কে জিজ্ঞাসা করলেন আমরা সিলেটের কামরান ভাই কে চিনি কিনা?আমি হ্যাঁ বললে জনি ভাই বললেন, যে তিনি ডেইরী গেইট আসছেন। তার ছেলে (আদনান কামরান) এর ভর্তি পরীক্ষা আছে।তখন আমি আর বন্ধু Jewel Rana(বর্তমান সভাপতি, জাবি ছাত্রলীগ) ডেইরী গিয়ে কামরান ভাই কে কল দিলে তার গাড়ির কাছে গিয়ে জনি ভাই পাঠিয়েছে বললে সে আমাদের কে তার গাড়িতে উঠতে বলেন। পরবর্তী আমরা কামরান ভাই,আছমা ভাবি সহ আমাদের কামালউদ্দিন হলের গেষ্ট রুমে গিয়ে বসি।এর পর সেই দিন প্রায় বিকাল পর্যন্ত আমাদের সাথে ছিলেন আপনি। দুপুরে আপনি, জনি ভাই সহ সবাই বাঙ্গালীর দোকানে বসে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম। সারাদিন আপনি আমাদের সাথে ছাত্রলীগের রাজনীতি, আওয়ামী লীগ এর রাজনীতি নিয়ে অনেক কথা বলেছিলেন।আদনান এর পরীক্ষা শেষে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দিন মাত্র কিছু সময়ের পরিচয়ে আপনি যেইভাবে আমাদের মায়ার বাধনে গেথে গিয়েছিলেন। যাবার আগে বলেছিলেন কখনও সিলেট গেলে আপনার বাসায় উঠতে।চাকুরী তে যোগদান করায় আর সিলেট যাওয়া হয়নি।আর আপনার সাথে ও দেখা করা হয়নি।তবে আপনার সাথে ফোনের যোগাযোগ টাও ছিলো। সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এ দলীয় কিছু বেইমান এর বিরোধিতার জন্য আপনি হেরেছিলেন।সর্বশেষ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ এর সভাপতি পদ ও সাবেক হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আপনার যায়গা ঠিক ছিলো। আর আমার মতো হাজারো মানুষের কাছে সিলেট এর আওয়ামী লীগ বলতে ছিলেন শুধু আপনি। আপনার এই চলে যাওয়া আমরা কিছুতেই মানতে পারছি না প্রিয় কামরান ভাই। স্রষ্টা আপনাকে জান্নাতবাসী করুক।

প্রিয় সিলেট এর অভিভাবক, ভালো থাকুন পরপারে।

লেখকঃ দেব কুমার

এসআই, সূত্রাপুর থানা

নাসিরউদ্দিন হোজ্জার কবর ও বাঙালির করোনা সতর্কতা

0

নাসিরউদ্দিন হোজ্জা, গাধার পিঠে উল্টো হয়ে বসা সুপরিচিত রসিক লোকটি, যার “স্বত্ব” দাবী করে তুরস্ক, আফগানিস্তান, ইরান, আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, এমনকি চীনও। বহু-মালিকানা সূত্রে তার কবরও পাওয়া যাবে দেশে-বিদেশে। হোজ্জা নাকি তার কবর কেমন হবে সেটা নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন, তৈরি হয়েছিল সেই মত- উঁচু দেয়াল, মোটা ফটকে ভারি তালা ঝুলানো, অতি সুরক্ষিত কবরখানা। কোনো ভক্ত পর্যটক যদি তার কবর দেখতে যান তবে নিরাশ হয়ে ফিরতে হবে। তিনি যদি অতি উৎসাহী হন, চারপাশটা ঘুরে দেখেন তবে দারুণ জিনিস আবিস্কার করবেন। সামনে উচু দেয়াল হলেও পেছনের তিন দিকেই হাটু সমান উঁচু দেয়াল কবরকে ঘিরে রেখেছে যা সহজেই টপকানো যায়। বিদগ্ধরা বলেন হোজ্জা মরে গিয়েও পৃথিবীর মানুষকে একটা এসএমএস (বার্তা) দিতে চেয়েছেন তার পদ্ধতিতে। বাংলাতে একটা কথা আছে, “মানুষের সামনে দিয়ে দুই টাকা গেলে কামড়ে ধরে, পেছন দিয়ে বস্তা ভর্তি চলে গেলেও পাত্তা দেয় না”, হোজ্জার বার্তাটা ঠিক এটাই। তুরষ্কের আকশিরে তার একটা কবর আছে, সেটি দেখিয়ে তুর্কিরা বেশ পয়সা কামাই করে। যদি কোনো দিন দেখার সুযোগ হয় তবে জানতে পারব কথাটা সত্য কিনা নাকি হোজ্জার আরেকটা গল্প নাকি তার অন্য কোনো কবর।

চীন-য়ুউরোপ যখন করোনায় পুড়ে বাঙালি তখন ভেবেছিল করোনাভাইরাস দেশে আসবে না। যখন এসে গেলে তখন ভেবেছিল আর সবার হলেও আমার হবে না। করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা যখন ৮০ হাজার ছাড়িয়ে (লেখা যখন শুরু করেছি তখন ৬০ হাজার ছিল), অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাঙালি এখনও ভাবছে “আমার হবে না”। কিন্তু মানুষ সতর্ক হচ্ছে, খুব সতর্ক! কে আক্রান্ত হয়েছে শুনল, তার বাড়ি গিয়ে ভাংচুর করল, দরজায় তালা মেরে দিল, যে চিকিৎসক-নার্স রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি নিচ্ছে না, এলাকায় হাসপাতাল বানাতে দিচ্ছে না, এলাকায় কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র বানাতে দিচ্ছে না, রোগী মরে যাচ্ছে আত্মীয়রা ফেলে যাচ্ছে, রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে জরুরি চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে, এক মাসের যায়গায় তিন মাসের খাবার কিনে বাজারে সংকট তৈরি করেছে! মৃত মানুষের নিঃশ্বাস নেই, প্রশ্বাস নেই, হাঁচি নেই, কাঁশি নেই, ভাইরাস ছড়ানোর রাস্তাগুলো বন্ধ তারপরও এলাকার কবরস্তানে তাকে কবর দিতে দেন নি। সামনের দিকে সতর্কতার এতো উঁচু দেয়াল তুলেই বাঙালি নিশ্চিন্ত!

কিন্তু করোনাভাইরাসের জন্য পেছনে তিন দিক ঠিকই খোলা আছে! লকডাউনের প্রথম দিনগুলো যখন সত্যিকারের সতর্কতা ভাইরাসের প্রসার ঠেকিয়ে দিতে পারত সেই সময় মানুষের সবকিছু ভাল লাগত শুধু ঘর ছাড়া। লকডাউনের অভিনয় শেষে আশি হাজার আক্রান্ত আর এগারশ’ মৃত্যুর পর এখনও অনেকে করোনাভাইরাস বিশ্বাস করেন না।

যার সপ্তাহে এক বা দুই দিন বাজারে গেলে চলে তিনি ঐহিত্য বজায় রাখতে প্রতিদিন বাজারে যাচ্ছেন, পরিবার-বাচ্চাকাচ্চার বিশাল বহর নিয়ে কেনাকাটা করছেন, ঘরে ভাল লাগে না বলে সড়কে গিয়ে হাটাহাটি করছেন, পাশের বাড়ী ঢু মারছেন, যেখানে না গেলেও চলে সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন, বন্ধুরা মিলে খোলা মাঠে আড্ডা দিচ্ছেন- খোলা মাঠে কোনো বন্ধু ভাইরাস নিয়ে গেলে যেন সেখানে ছড়াবে না!

চাকুরি, ব্যবসায়, জীবীকার জরুরি প্রয়োজনের পরেও স্বাভাবিক চলাফেরায় খুব একটা ছাড় দেন নি, যে কাজগুলো করলে ভাইরাসের প্রবাহ সীমিত থাকত সেগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন। বাজারের সব হ্যান্ডওয়াশ আর স্যানিটাইজার কিনে ভেবেছেন নিরাপদ থাকা যাবে- এই হল বাঙালির সতর্কতা।

পারভেজ রবিন
www.pervezrob.in