দোহারের ধাপারিয়া খাল খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত মধুরচর-সুতারপাড়া ধাপারিয়া খাল উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সুতারপাড়া বাসী। ধাপারিয়া খাল উন্মুক্ত করে খালের মাঝে একটি ব্রিজ নির্মানের দাবি করে এলাকাবাসী। ১৯ জুলাই রবিবার সুতারপাড়ার হলের বাজারে এই মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

পদ্মা নদী থেকে জন্ম নিয়ে মধুরচর, সুতারপাড়া, মেঘুলা হয়ে আড়িয়াল বিল ও ইছামতি নদীতে যেয়ে মিশেছে এই খাল। কিন্তু বিগত ৩০ বছর ধরে বাধের কারনে খালের মধুরচর অংশে প্রতিবছরই বন্যায় আক্রান্ত হয়। অপরদিকে বাধের সুতারপাড়া অংশে পানি চলে না যাওয়ায় বাধের একদিকে পানির প্রচন্ড চাপের কারনে মধুরচর অংশে যেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় ঠিক তেমনি ভাবে সুতারপাড়া অংশে খালটি ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে ও ভূমি দস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। পদার পানি আসার ফলে মধুরচরে দেখা দেয় বছরব্যাপী জলাবদ্ধতা, মশার ও কচুরিপানা। ফলে একদিকে স্বাস্থ্যঝুকি যেমন বাড়ছে ঠিক তেমনিভাবে বাড়ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ।

এই সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খালটি ঢাকা-দোহার আঞ্চলিক মহাসড়কের সংযোগস্থলে ব্রিজ নির্মান করা হলে প্রতিবছর বন্যা সহ জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে মধুরচর, ঝনকি, ডাইয়ারকুম, মিজানগরের সাধারন মানুষ।  

দোহারে আশা ক্লিনিকের বিরুদ্ধ নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ

দোহারে বেসরকারি ক্লিনিকের ভুল চিকিৎসদোহার উপজেলার লটাখোলা এলাকায় ‘আশা ক্লিনিকে’ ভুল চিকিৎসার কারনে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটে। শনিবার( ১৮ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মৃত নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র কোন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী সামসুন্নাহার জানান, গতকাল শুক্রবার দোহার উপজেলার বাস্তা এলাকা থেকে রাতে প্রসবজনিত ব্যাথা নিয়ে ভর্তি হন আশা ক্লিনিকে। সে সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আলট্রা করতে বলেন। আমরা আলট্রা করলে তারা বলে যে বাচ্চা বের করার জন্য তাকে দ্রুত অপারেশন করার কথা বলেন। আজ সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে অপারেশন করেন ডা. বিরেন্দ্র কুমার বিশ্বাস। তিনি আরও বলেন, অপারেশনের কিছুক্ষন পর আমার বাচ্চা মারা যায়। আমার বাচ্চা জীবিত থাকা অবস্থায় কোন প্রকার চিকিৎসা না দিয়েই তারা আমার মৃত বাচ্চাটিকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন।

সামসুন্নাহারের মা রেনু বেগম জানান, আমার মেয়ের অপারেশন শেষ হলে, আমরা বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনতে পাই। পরে অপারেশনের আধাঘন্টা পর আমার নাতনীকে আমার কোলে দেয় এক নার্স। এসময় আমার নাতনী কোনো সারা শব্দ না দেয়ায় আমি তাদের বলি বাচ্চা নীল হয়ে গিয়েছে কেন , কোনো সারা দিচ্ছেনা কেন? আমার নাতনী তো মারা গেছে । এসময় ক্লিনিকের লোকজন আমাকে বাচ্চা নিয়ে অন্যত্র চিকিৎসা দিতে বলেন। আমরা তখন তাড়াতাড়ি করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানায় বাচ্চাটি অনেক আগেই মারা গেছে। সঠিক চিকিৎসা না দেয়ার কারনে এই বাচ্চাটি মারা গেছে। তারা আমাদের মৃত বাচ্চাকে নিয়ে কেন এত হয়রানি করলো। আমরা গরীব বলে এর বিচার কি পাব না।

এদিকে ক্লিনিকের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও অপারেশন রুমে ঘুরে দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে চিকিৎসা সেবা।

এবিষয়ে আশা ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন মোল্লা জানান, বাচ্চাটির বয়স ছিলো মাত্র ৩৫ মাস। অক্সিজেন কম পাওয়ায় আমরা দ্রুত অপারেশন করতে বলি। অপারেশনের পর বাচ্চা জীবিত ছিলো কিন্তু অবস্থা খারাপ থাকায় অন্যত্র নিয়ে যেতে বলি আমরা।

সে সময় তার আরেক আত্মীয় শামীম হোসেন জানান যে আমার মামির অপারেশন করার পর তারা বলে তাকে রক্ত দিতে হবে তাড়াতাড়ি রক্তের ব্যাবস্থা করেন আমি তখন আমার রক্ত দেই কিন্তু রক্ত দেওয়া ৪৫ মিনিট পার হয়ে যায় তারা আমার মামিকে রক্ত দেয় না তখন আমি কাউন্টার এ যোগাযোগ করলে তারা বলে যে আমরা কিছু জানি না ডাক্তার বলতে পারবে তখন আমি ডাক্তার এর কাছে গেলে ডাক্তার বলে আমি তো তাদেরকে বলে দিয়েছে রক্ত দেওয়ার জন্য এ ভাবে তারা আমাদের কে ১৫ মিনিট ঘুরায় তার পর অবশেষে তারা ১ ঘন্টা পরে রক্ত দেয় আমার মামিকে।

এসময় ডা. বিরেন্দ্র কুমার বিশ্বাস কে তার চিকিৎসক সনদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার, তার কাছে তার কাগজ পত্র চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে পারেন না এমনকি তার কাছে তার ভিজিটিং কার্ড চাইলেও তিনি না করেন যে আমার কোন ভিজিটিং কার্ড নাই।

তারপর ক্লিনিকের বৈধ কাগজপত্র চাইলে ডাক্তারের শুধুমাত্র বিএমডিসির সার্টিফিকেট দেখাতে পারলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৭ সালের ক্লিনিকের নবায়নকৃত একটি সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন না।

এসময় তিন বছর ধরে সার্টিফিকেট কেন নবায়ন করেননি জানতে চাইলে শাহাদাৎ হোসেন মোল্লা বলেন, আমার গত বছর নবায়ন করতে দিয়েছি। সেই সময় তার কাছে নবায়েনের আবেদনের কপি চাইলে সেটিও তিনি দেখাতে পারেননি।

এবিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ জানান, আমার খুব শীঘ্রই দোহারের ক্লিনিকগুলোতে অভিযান পরিচালনা করবো। এছাড়া আশা ক্লিনিকে যদি কোনো ভুল চিকিৎসা দিয়ে থাকে ও লাইসেন্স নবায়ন না থাকে আমরা সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ ২৫/৫/২০১৮ সালে তারা এই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটায়। দুবলী থেকে দেলোয়ার হোসাইন তার স্ত্রী কে নিয়ে আসেন লোটা খোলা আশা ক্লিনিক এ তারা বলেন তার কিছু পরীক্ষা করতে তিনি তার স্ত্রীর সেই পরিক্ষা গুলো করেন তারপর তারা বলেন তার স্ত্রীর পেটে যে বাচ্চা আছে সেটি মরে গিয়েছে তাই সেই বাচ্চা ফেলে দিতে হবে। তখন দেলোয়ার হোসেইন বললেন যে আচ্ছা তাহলে আপনারা যেটা ভাল হয় সেটা করেন তখন তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা তার স্ত্রীর বাচ্চা ফেলে দেন। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই তার স্ত্রীর পেটে আবার ব্যাথ্যা শুরু হয় তখন দেলোয়ার হোসেইন তার স্ত্রী কে অন্য হাসপাতালে নিলে তারা বলেন যে তার পেটে বাচ্চা রয়েছে। তখন দেলোয়ার হোসেইন আশা ক্লিনিক এ জানতে চাইলে তারা কিছু বলেন না বলেন অপারেশন করতে হবে তখন তিনি বলেন আচ্ছা তাই করেন। তখন ডাঃ লাকি রহমান অপারেশনের করেন। তারপর অপারেশন শেষ দেলোয়ার কে জানানো হয় যে তার স্ত্রী মৃত সন্তান জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু তখন তিনি বলেন যে আমার বাচ্চা টি তো জীবিত ছিল। তখন হাসপাতাল থেকে তাকে কিছু বলেন না পরবর্তীতে তিনি জানান যে এটি মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে ক্ষতি পূরনের মাধ্যমে।

পদ্মার পানি বাড়ছেই; দোহার-নবাবগঞ্জে পানি বন্দি ৫হাজারের অধিক পরিবার

দোহারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রমত্তা পদ্মার পানি প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নবাবগঞ্জের সর্বপশ্চিমের ইউনিয়ন জয়কৃষ্ণপুরও আক্রান্ত হয়েছে বন্যায়। প্রতিদিনই পানি বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে বন্যা আক্রান্ত অঞ্চলের সংখ্যা। পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারনে মাহমুদপুর, বিলাসপুর, নারিশা , নয়াবাড়িসহ নবাবগঞ্জের সিমান্তবর্তী জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অনেক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার ৫হাজারের অধিক পানিবন্দি পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট এলাকাটি পদ্মার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায়, ও ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পর্যটন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে হিক তেমনি ভাবে আতংকে আছেন এই অঞ্চলের সাধারন মানুষেরা।

টানা এক সপ্তাহ ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়  দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের ধোয়াইর বাজারের অংশ ও জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রাজাপুর, বালেঙ্গা, ঘোষাইল গ্রামের বশেীর ভাগ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা বাজার, বিলাসপুরের মধুরচর ,রানীপুর, কৃষ্ণদেবপুর,রাধানগর, মাহমুদপুরের নারায়ণপুর, হরিচন্ডি ও মুকসুদপুরের পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সরেজমিনে দোহারের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, এক করুন চিত্র, বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারনে, মাহমুদপুরের হরিচন্ডি গ্রামের প্রায় হাজার খানেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটছে। পানিতে কারো ঘরের অর্ধেকটা ডুবে গেছে। কারো বাড়ির উঠান পানি ঢুকে থৈ থৈ করছে। কোথাও নড়াচাড়ার সুযোগ পর্যন্ত নেই। বিলাসপুরের মধুরচর, রানীপুর, কৃষ্ণদেবপুর, কুসুমহাটী ইউনিয়নের চর কুশাই, চরকুসুমহাটী গ্রামেরও বিরাট অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।

পদ্মার ভাঙন ও পানিতে ভাসমান অবস্থায় জীবন কাটছে বিলাসপুর, নয়াবাড়ি, নারিশা, মাহমুদপুরসহ নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কান্তারটেক, ঘোষাইল, রাজাপুর, কেদারপুর,রায়পুরের সাধারণ মানুষ। এসব এলাকার বেশীর ভাগ মানুষের বাড়ীতে পানি ঢুকে পড়েছে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এস.এম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, দোহারে পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। বন্যা আক্রান্ত সাধারন মানুষের জন্য ত্রানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

খাল উদ্ধার করে সচল না করলে দোহার-নবাবগঞ্জে পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব নয়ঃ মাসুদ মোল্লা

দীর্ঘদিন যাবত একটি বিষয়ের উপর লেখার মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও জনমত গঠনকল্পে  আমাদের রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেত্রীবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে চিন্তাভাবনা করছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশ পরিস্থিতি ও মহামারির এই অস্বাভাবিক সময়ে অনেক কিছু থেকেই  বিরত থাকতে বাধ্য হচ্ছিলাম।

প্রকৃতিকে যখন তার স্বাভাবিক গতিপথে প্রাকৃতিক নিয়মকে চলতে বাঁধাগ্রস্থ করা হয়,তখনই পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনে। আমাদের প্রিয় দোহার উপজেলা প্রকৃতির এক নৈসর্গিক স্নিগ্ধতা ও শুভ্রতায় পূর্ণ সমারোহে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায়। যার পশ্চিমে বয়েচলা উত্তাল পদ্মা নদী  আর পূর্ব দিকে অপরূপ আরিয়েল বিল। এই পদ্মা আর আরিয়েল বিলের প্রাকৃতিক সেতুবন্ধনে অসংখ্য খরোস্রতা খাল যার মধ্যে বর্ষায় বয়ে চলা পলি আর মৎস সম্পদের অবাধ বিচরণ। আমি যেহেতু কবি-সাহিত্যক নই তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চমৎকার বিবরনে আপনাদের মনকে বিমোহিত করতে পারছি না চরম ইচ্ছা সত্যেও।

মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সর্বোপরি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ পাশাপাশি জোড়ালো মতামত তুলে ধরা জরুরী এবং সময়ের দাবী বলে মনে করছি। দোহার উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান   উত্তর ও দক্ষিণে দীর্ঘ যার পূর্ব পশ্চিমে যথাক্রমে আরিয়েল বিলে এবং পদ্মা নদী। আমাদের প্রধান সড়ক (Dhaka  to Dohar)মুকসুদপুর থেকে নয়াবাড়ী পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রধান সড়কটিতে একসময় অসংখ্য অগণিত খাল চলমান ছিলো,যাহা পদ্মা আর আরিয়েল বিলের প্রাকৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবে গণ্য করা হয়। যায় উপরে ছিলো কাঠের তৈরি অসংখ্য  পুল কিছু কিছু জায়গায় ছোট্ট খালগুলিতে বাঁশে সাঁকো আর নৌকায় পারাপার।

পঁচাত্তর এর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরে তৎকালিন সরকার ও তাদের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তে এইসব খালগুলি একসময় তথাকথিত উন্নয়নের ধোঁয়া তুলে মাটি ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার ফলস্রতিতে বর্ষা মৌসম এলেই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাথে সাথে  সারা দোহারে প্রধান বড় সড়কের পশ্চিমাঞ্চলের অসংখ্য সাধারণ জনগণের চরম দুর্ভোগ দুঃখ দুর্দশা শুরু হয়ে যায় যাহা অবর্ণনীয় হৃদয়বিদারক কষ্টেরবিষয়। আবার পানি কমার সাথে সাথে শুরু হয়ে যায় পদ্মার নদী ভাঙন।এই চরম দুর্যোগপূর্ণ কঠিন নির্মম নিষ্ঠুর অসহায় মানুষের জন্য সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সমস্যা হচ্ছে শুধুমাত্র দূরদর্শী অপরিকল্পিত নগরায়ন বা অবৈজ্ঞানিক ভাবে উন্নয়ন আর অগ্রগতি নামে প্রকৃতিকে বাধাদান করার মধ্যেদিয়ে। কারণ এই খালগুলি যদি খোলা থাকতো তবে বর্ষাকালে পূর্ব-পশ্চিমের পানি সমতায় থাকতো,তাহলেই প্রকৃতির ভারসাম্যের কোন সমস্যা সৃষ্টি  হতো না। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার কারণেই নদী ভাঙন থেকে দোহারবাসী শতচেষ্টার পরেও রক্ষা পাচ্ছে না।

এই অগণিত খালগুলি খোলা থাকলে প্রাকৃতিক মৎস অবাধ বিচরণের সুযোগ পেত এবং পদ্মা-আরিয়েল বিলের প্রাকৃতিক মৎস সম্পদের অভয়ারণ্য আবার ফিরে পেতে পারতো দোহার নবাবগঞ্জের জনগণ। তাই সুস্থ সুন্দর এবং নিরাপদ আগামীর জন্য নতুন প্রজন্মকে আধুনিক এবং  প্রাকৃতিক সুযোগ সুবিধায় সুন্দর ভবিষ্যত ফিরিয়ে দিতে, অনতিবিলম্বে মুকসুদপুর থেকে নয়াবাড়ী পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কের প্রধান প্রধান খালগুলি খুলে দিয়ে সময় উপযোগী ব্রীজ কালভার্ট নির্মাণ করে, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মধ্য দিয়ে দোহার উপজেলাকে বাসযোগ্য আধুনিক সুষম উন্নয়নের মহাপরিকল্পা গ্রহণের জন্য প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি  শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা দোহার নবাবগঞ্জের গণমানুষের আশা আকাঙ্খা ও প্রত্যাশার প্রতীক জনাব সালমান এফ রহমান এমপিকে সবিনয়ে অনুরোধ করছি।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আপনাদের মূল্যবান মতামত প্রদানের মাধ্যদিয়ে জনমত গঠনে।

আহমেদ মাসুদ মোল্লা

সাংগঠনিক সম্পাদক

ঢাকা জেলা যুবলীগ

দোহারে গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা সেবা দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন এর মাধ্যমে গরীব- দুস্থ ও গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
দোহার উপজেলার ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০২০ (বৃহস্পতিবার) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেনাবাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এর দিক নির্দেশনা এরিয়া সদর দপ্তর সাভার এবং ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দোহারে বিনামূল্যে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার আয়োজন করা হয়। এ আয়োজন এর মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্থানীয় গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ( নাড়ীর গতি,রক্তচাপ, রক্তশূন্যতা, ওজন,ফিটাল মুভমেন্ট, অক্সিজেন সম্পৃক্ততা) এবং ল্যাব পরীক্ষা ( রক্তের গ্রুপ,কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর পরীক্ষা, সুগার পরীক্ষা এবং ইউরিন পরীক্ষা) সহ তাদের প্রয়োজনীয় সহায়ক বাক্স ( ম্যাক্সি, এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্যাড) বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, লে, কর্নেল মোঃ ফখরুল আলম, দোহার উপজেলার ইউএনও এফ এম ফিরোজ মাহমুদ, দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র মেজর রাজিয়া সুলতানা, ক্যাপ্টেন জায়েদীদ হাসান আবীর, ডাঃ ইশমত জাহান, দোহার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডাঃ মোঃ জসিম উদ্দিনসহ অসংখ্য সেনাসদস্যরা।
বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে চলমান পরিস্থিতিতে অসহায়, দুস্থ এবং নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের এই মানবিক কার্যক্রম সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে প্রতীয়মান হয়। উল্লেখ্য যে, এরিয়া সদর দপ্তর সাভার এবং ১৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত ১৩ জুন ২০২০ তারিখে মানিকগঞ্জ, ১৬ তারিখে নরসিংদী, ১৮ তারিখে গাজীপুর,২২ জুন শরীয়তপুর, ৫ জুলাই ধামরাইল এবং ১২ জুলাই মুন্সিগঞ্জে একই কর্মসূচির মাধ্যমে যথাক্রমে ৯০জন. ৮৪জন, ৫৭ জন, ২২০ জন, ১০৯জন ও ১৪৫ জন গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
উল্লেখ, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘Operation Covid Shield ‘এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গত ২৪ মার্চ ২০২০ তারিখ হতে নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। সেনাসদস্যরা দায়িত্বপূর্ণ এলাকা ৮ টি পূর্ণঙ্গ জেলা (নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর) ও ঢাকা জেলার ৫টি উপজেলায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারন জনগনের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, মাস্ক বিতরণসহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করে আসছে। এসকল আয়োজনের মধ্যে ‘ সাম্প্রতিক বাজার, সাম্প্রতিক ইফতার, এবং ঈদ বাজার অন্যতম

সাদাপুর ও হযরতপুরে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন; উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভাঙ্গন রোধের কাজ শুরু

পদ্মায় পানি বাড়ছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে বন্যার পানিতে প্রতিদিনই ডুবছে নতুন নতুন অঞ্চল। পানি বাড়ার সাথে পদ্মার শাখা নদী ও খালগুলোর পানিও বাড়ছে দ্রুততার সাথে। জয়পাড়া সাহেবখালি খালের পানি বাড়ার সাথে সাথে নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সাদাপুর ও হযরতপুর খালে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ওই দুটি খাল পাড়ের দুই শ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার পথে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদী থেকে আসা পানির স্রোতে খালগুলোর দুই পাড়ের অসংখ্য বসতভিটা বিলীন হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নবাবগঞ্জ উপজেলার উদ্যোগে সাময়িক ভাবে ভাঙ্গন রোধের জন্য বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে।

খালের দুই পাড়ের একাধিক বাসিন্দা জানান, কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা খালে ভাঙন শুধু পরিদর্শনই করে যাচ্ছেন। ভাঙনরোধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে খালের দুই পাড়ের দুই শ পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে রয়েছে।

খালের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আমেনা বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে পানির স্রোতে আমার বসতভিটা ভেঙে খালে চলে গেছে। নিজের জমি হারিয়ে পরিবার–পরিজন নিয়ে এখন কোনো রকমে অন্যের জমিতে ঘর তৈরি করে বাস করছি।’

এ বিষয়ে বান্দুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুল হক বলেন, গত ৭ বছরে প্রায় ৫০০–এর বেশি বসতবাড়ি খালে বিলীন হয়ে গেছে। তাঁদের অনেকেই এখন পরিবার–পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কেউ কেউ এলাকায় গিয়ে বসবাস করছেন।

বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হিল্লাল মিয়া বলেন, পদ্মা নদীর পানি সরাসরি সাদাপুর ও হযরতপুর খালে প্রবেশ করে ইছামতী নদীতে গিয়ে পড়ছে। পদ্মায় পানি বাড়ায় ওই দুই খালে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করছে। খালের ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে সাদাপুর, হযরতপুরসহ আশপাশ এলাকার অসংখ্য মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম সালাউদ্দীন মনজু বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘নবাবগঞ্জে ভাঙনকবলিত সাদাপুর ও হযরতপুর খালটি আমরা পরিদর্শন করেছি। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাদাপুর ও হযরতপুরে ভাঙ্গন শুরুর সাথে সাথেই নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন রোধের জন্য খালের পাড়ে বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলুর নির্দেশে ও উপস্থিতিতে এই এই বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়। এই সময় নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের সাথে সর্ব্দা যোগাযোগ রেখে এই কাজ শুরু করা হয়েছে। সালমান এফ রহমানের নির্দেশে আমরা কয়েকবার খালের ভাঙ্গনপ্রবন এলাকা পরিদর্শন করছি। খালের ভাঙ্গন স্থায়ীভাবে কিভাবে রোধ করা যায় সেই ব্যাপারে কাজ ও পরিকল্পনা চলছে।

এই সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাবিথ আহমেদ পাভেলসহ নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিল।

দোহারে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন

দোহার উপজেলার পূর্ব লটাখোলা এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন কর্মকার(৪৫) কে গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২ টার দিকে তার নিজ বাড়িতে এক দল মুখোশধরী দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে পালিয়ে যায় । পরে চিকিৎসার জন্য তাকে দোহার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন। তখন তারা দ্রুত তপন কর্মকারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আজ বুধবার বেলা ১১ টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানান। তপন ওই এলাকার মৃত গোপাল কর্মকারের ছেলে ও জয়পাড়া বাজারের লক্ষী জুয়েলার্সের মালিক বলে জানাযায়।

নিহতের স্ত্রী লক্ষী কর্মকার বলেন, তপনের হঠাৎ চিৎকারে জেগে উঠি। ঘরের বাহিরে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামীকে দেখতে পাই। চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামীকে দেখে অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপরের ঘটনা সর্ম্পকে আমি আর কিছু বলতে পারি না।

তপনের বড় ভাই কৃষ্ণ কর্মকার বলেন, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে আমি রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। আমার স্ত্রীও আমার সঙ্গে ছিল। অন্যরা যার যার ঘরে ঘুমাচ্ছিল। এসময় মুখোশ ও রেইনকোট পড়া কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাড়ির সামনের প্রধান ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের হাতে রামদা ছিল। আমাদের চিৎকারের শব্দ পেয়ে ঘরে থাকা আমার ছোট ভাই তপন বেরিয়ে এলে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে দুর্বৃত্তরা। আমার স্ত্রী মনি কর্মকার তার ঘর থেকে বাহিরে বের হলে দুর্বৃত্তরা মনি কর্মকারকে তুলে নিয়ে যায়। সকালে তাকে হাত পা বাধা অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

দোহার থানার ওসি তদন্ত মো. আরাফাত হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয় মামলা প্রক্রিয়াধীন। অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

দোহার-নবাবগঞ্জের গরুর রয়েছে আলাদা চাহিদা

ঢাকার দক্ষিনের পাশাপাশি দুইটি উপজেলা দোহার ও নবাবগঞ্জের গরুর আলাদা চাহিদা রয়েছে ঢাকায়। সম্পুর্ন প্রাকৃতিক উপায়ে লালিত-পালিত এই দুই উপজেলার গরুর সুনাম আছে সারা দেশেই। কোরবানীর ইদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন এই দুই উপজেলার গরুর খামারীরা। কোনো প্রকার ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

আর কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের গরুর খামারিরা। প্রতি বছর ঈদে দেশীয় গরুর চাহিদা ভালো থাকায় খামারিদের পাশাপাশি পারিবারিকভাবে লালন পালন করছেন কৃষকরাও। প্রতি বছর এসব সুস্থ গরু নিজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ আশেপাশের জেলাগুলোর হাটে বিক্রি করা হয় বলে জানিয়েছেন খামারিরা। তবে এবার করোনার কারণে খামার থেকেই গরুগুলো বিক্রির চিন্তা ভাবনা করেছে খামারিরা।

দোহার উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে দোহার উপজেলায় দেশি জাতের প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা এসব গরু কোরবানির বাজারে আলাদা কদর তৈরি হয়েছে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে গরুর রিস্টু পুষ্টুকরণ (মোটাতাজাকরণ) খামার রয়েছে ২৫০টি।

এছাড়াও ডেইরি ফার্ম রয়েছে বড় ৭৪টি। উপজেলায় বড় ২১টি ও মাঝারি ৫৩টি সহ ছোট-বড় মিলিয়ে উপজেলায় মোট ১৫০৭ টি খামার রয়েছে।

দোহার উপজেলায় বিলাশপুরের খান ডেইরি ফার্ম, দোহার খালপাড় এলাকার রফ রফ ডেইরি ফার্ম, দোহার গ্রামের মা-বাবার দোয়া ডেইরি ফার্ম, ভাই-ভাই ডেইরি ফার্ম ঘুরে দেখা যায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পশুর যত্ন নিচ্ছেন খামারিরা। পশুগুলোকে রাখা হয়েছে শুষ্ক জায়গায়। ঘরের ভেতরে রয়েছে ফ্যান। খাওয়ানো হচ্ছে ঘাস, খড়, ভুসি ও খৈলসহ দেশীয় খাবার। গরু মোটাতাজাকরণে কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য খাওয়ানো হচ্ছে না বলে জানান খামারিরা। কৃত্রিমতা ছাড়াই গরু হৃষ্টপুষ্ট করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন খান ডেইরি ফার্মের মালিকরা।

দোহার উপজেলার বিলাশপুর এলাকায় অবস্থিত খান ডেইরি ফার্মের পরিচালক মো. রুবেল জানান, আমরা গরুর খাবারের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল। এখানে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার গরুকে খাওয়ানো হয়। সাধারণত গরুকে প্রাকৃতিক পন্থায় মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে খড়, লালি-গুড়, ভাতের মাড়, তাজা ঘাস, খৈল, গম, ছোলা, খেসারি, মাসকলাই, মটরের ভুসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেয়া হয়। এ নিয়মে গরু মোটাতাজা করা হলে ক্রেতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না এবং এ ধরনের গরুর মাংস খেয়েও মানুষের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। মোটাতাজা করার জন্য কোনো প্রকার রাসায়নিক খাবার দেয়া হয় না।

তিনি আরো জানান, তাদের খামারে মোট ৮১টি গরু রয়েছে। যার মধ্যে গাভী ২০টি, ষাঁড় ৪০টি, বকনা ২১টি। এছাড়া ছাগল-ভেড়া মিলিয়ে রয়েছে ৪০টি। এসব গরুর আলাদা চাহিদা রয়েছে জানিয়ে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি। করোনাভাইরাসের কারণে এবার গরুগুলো বাড়ি থেকে বিক্রি করা হবে। ইতিমধ্যে বেশ সাড়াও পেয়েছেন বলে জানান তিনি। মাংসের পাশাপাশি উপজেলার দুধের চাহিদাও পূরণ করছে খান ডেইরি ফার্ম। ২০টি গাভী থেকে দৈনিক প্রায় ১৫০ লিটার দুধ উৎপন্ন হন বলে জানান খান ডেইরি ফার্মের পরিচালক রুবেল। দুধগুলো উপজেলার বিভিন্ন মিষ্টির কারখানার চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয়দের মাঝে সরবরাহ করা হয়।

দোহার উপজেলার মধ্যে খান ডেইরি ফার্ম একটি আদর্শ ফার্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শামীম হোসেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহযোগিতায় ফার্মটি গড়ে উঠেছে। খান ডেইরি ফার্মের পরিচালক মো. রুবেল আরো জানান, ২০১৮ সালে তারা সাত ভাই যৌথভাবে ১৪টি গরুর নিয়ে নির্মাণ করেন খান ডেইরি ফার্ম। ছোট একটি শেডে ফার্মের কার্যক্রম শুরু হয়। মাত্র ২ বছরের ব্যবধানে ৩টি শেডে বর্তমান গরু রয়েছে ৮১টি। মাত্র ১০ লাখ টাকা নিয়ে মূলধন শুরু করলেও মূলধন বাড়িয়ে তা এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। খামারে জার্সি, ফ্রিজিয়ান, শাহী ওয়াল, শংকর জাতের গরু রয়েছে।

এখন খামারে তারা ৩ ভাই এবং ৪ জন কর্মচারী গরুগুলো পরিচর্যা করেন থাকেন। কয়েকজন খামারি জানান, গত বছর ও তার আগের বছরগুলোতে ঈদুল আজহা সামনে রেখে এ অঞ্চলের কিছু কিছু অসাধু মৌসুমি ব্যবসায়ী গরুকে মোটাতাজা করতে স্টেরয়েড জাতীয় নানা ওষুধ ব্যবহার করেছে। অস্বাধু উপায়ে গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে গরু মরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এবার খামারিরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ মনোযোগী হয়েছেন। এখন দোহারের বেশিরভাগ খামার মালিকরাই প্রাকৃতিক উপায়েই গরু মোটাতাজাকরণ করেন।  তাদেরও প্রত্যাশা খামার থেকেই বিক্রি হয়ে যাবে গরুগুলো।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. শামীম হোসেন বলেন, এ উপজেলার খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে যত্ন নিয়ে গরু লালন-পালন করছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা খামারগুলোতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। করোনার এমন দুর্যোগের মধ্যেও আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।

নবাবগঞ্জের জনপ্রতিনিধিদের সাথে সালমান এফ রহমানের অনলাইন সভা

ঢাকা-১ সংসদের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান নবাবগঞ্জ উপজেলার তৃনমূলের জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছেন। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন আহমেদ ঝিলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দীন ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে জুমের মাধ্যমে এক সভা করেন।

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা-১) আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিটি ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি, করোনাভাইরাস, জনগণের সমস্যা ও তার প্রতিকার, বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের অবস্থা, বর্ষায় এলাকার রাস্তাঘাট ও কাশিয়াখালী বেড়ীবাঁধ ইত্যাদি নিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী সভা করেন। পরিশেষে করোনাকালীন এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ব্যক্তিগত মানবিক সহযোগিতা সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ায় চেয়ারম্যানদের ধন্যবাদ জানান।

সালমান রহমান বলেন, যেকোনো জাতীয় দুর্যোগ আমরা সকলে সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে মোকাবিলা করবো যাতে করে জনগণ উপকৃত হয়।

জুম কনফারেন্সিংয়ে অংশগ্রহণ করেন- মো. ইব্রাহীম খলিল (চেয়ারম্যান- কলাকোপা ইউপি), আলীমুর রহমান খান (চেয়ারম্যান- শিকারীপাড়া ইউপি), আবিদ হোসেন (চেয়ারম্যান- আগলা ইউপি), এড. সাফিল উদ্দিন মিয়া (চেয়ারম্যান- বারহা ইউপি), ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান (চেয়ারম্যান- বারুয়াখালী ইউপি),  মো. হিল্লাল মিয়া (চেয়ারম্যান- বান্দুরা ইউপি), আঃ জলিল বেপারী (চেয়ারম্যান চুড়াইন ইউপি), মো. তপন মোল্লা (চেয়ারম্যান- গালিমপুর ইউপি), নন্দলাল সিং (চেয়ারম্যান- যন্ত্রাইল ইউপি) ও মাসুদুর রহমান খান (চেয়ারম্যান- জয়কৃষ্ণপুর ইউপি)। করোনা পরিস্থিতি পরিবর্তনের পূর্ব-পর্যন্ত জুম অ্যাপ এর মাধ্যমে জনগণের সমস্যা ও তার সমাধানকল্পে দোহার, নবাবগঞ্জ উপজেলার জনগণের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চালকের অভাবে কাজে আসছে না নবাবগঞ্জ হাসপাতালের দুইটি এম্বুলেন্স

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় রোগী পরিবহনের জন্য রয়েছে দুটি এম্বুলেন্স । কিন্তু চালকের অভাবে নবাবগঞ্জ উপজেলা বাসীর কোন কাজেই আসছে না এম্বুলেন্স দুটি।   দুটি এম্বুলেন্সই  পড়ে আছে উপজেলাতে।  কারণ হিসেবে জানা যায়,  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য ।  ফলে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা দরিদ্র অসহায় রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মধ্যে পড়ছে। সময় মতো  উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পৌঁছাতে পড়তে হচ্ছে নানান বিড়ম্বনাসহ অপ্রীতিকর অবস্থায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে পড়ে ছিল। ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে তৎকালিন ঢাকা-১ দোহার নবাবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম ও আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাকিল আহম্মেদ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূইয়া উপস্থিতিতে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন  ১টি অ্যাম্বুলেন্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চাবি হস্তান্তর করা হলেও নবাবগঞ্জ বাসী অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে প্রায় বঞ্চিত।

এরি মাঝে মাস খানিক আগে ঢাকা ১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সালমান এফ রহমান করোনা আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতেরর লক্ষ্যে আরো একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেন। কিন্তু চালকের অভাবে এখনো সেই অ্যাম্বুলেন্সটি রাস্তায় নামেনি।

কথা হয় করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তির সাথে। তিনি জানান, গত ৭ই জুলাই আমি করানোর টেস্ট করি। ১০ জুলাই আমার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাই পরিবারের অন্য সদস্যদেরও টেস্ট করার জন্য সিদ্ধান্ত নেই। এ লক্ষ্যে উপজেলায় এম্বুলেন্স সার্ভিস পাওয়ার জন্য ফোন দেই কিন্তু তারা জানান অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় আপনাদেরকে সেই সুযোগ দেয়া যাচ্ছে না।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ৩ বছরের শিশু ইয়াসিনের পিতা আব্দুল আলিম বলেন, আমার ছেলেকে চিকিৎসক ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। জরুরি ভাবে ভাড়ায় চালিত অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকায় যেতে অনেক  টাকা খরচ, যা আমার জন্য খুবই কষ্টকর। কিন্তু কি করবো হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চালক নেই।

নবাবগঞ্জের শোল্লা খতিয়া এলাকার তানিয়া আক্তার বলেন, আমার স্বামীকে  উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছে চিকিৎসক। কিন্তু  সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক নেই। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না। হাতে তেমন টাকাও নেই ।