দোহারে গান্ধীজি আশ্রম পরিদর্শনে আসছেন ভারতীয় হাই কমিশনার

0

দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর এলাকায় অবস্থিত গান্ধীজী আশ্রম। ভারতের জাতির জনক মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধী ওরফে মহাত্মা গান্ধী দোহারের এই আশ্রম পরিদর্শন করেছিলেন। সেই থেকে এটি মহাত্মা গান্ধী আশ্রম। স্থানীয়দের কাছে মেঘুলা – মালিকান্দা শ্মশান ঘাট৷ সেই আশ্রমের রয়েছে চার একর জমি। আর অনেক দিন ধরেই এই জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এই আশ্রম পরিদর্শনের কথা রয়েছে বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাই কমিশনারের।
তাই এই পরিত্যক্ত জমি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ পুলিশ ঢাকা রেঞ্জর ডিআইজি মোঃ হাবিবুর রহমান ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ সরদার। এই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। শুক্রবার বিকাল ৫ঃ৩০ টার দিকে, তারা সকলে এই পরিত্যক্ত জমি পরিদর্শন করেন।

ডিআইজি মোঃ হাবিবুর রহমান নিউজ৩৯ কে বলেন, আগামী ২৩ তারিখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামল ও ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী পরিদর্শন করবেন। তাই আশ্রমের সার্বিক অবস্থা দেখার জন্য আমরা এখানে এসেছি। আমি মনে করি এখানে যে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি রয়েছে সেটা সরকারিভাবে যথাযথ সংরক্ষণ করা হবে।

মহাত্মা গান্ধী আশ্রমের পরিদর্শনের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী সেচ্ছাসেবীলীগের সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জুর গুহ। নিউজ৩৯ কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নির্মল গুহ বলেন, এই আশ্রম জাতীয় সম্পদ। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের যে ভূমিকা তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সেই দেশের একজন হাই কমিশনার দোহারে আসবেন, সেটা আমাদের জন্য আনন্দের। দোহারে তার আগমনের মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে বিশ্বাস করি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি ফজলুল হক, দোহার থানা ওসি মোস্তফা কামাল, নবাবগঞ্জ থানার ওসি শেখ সিরাজুল ইসলাম পিপিএম, নারিশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন দরানীসহ প্রমূখ।

বন্যায় দোহার-নবাবগঞ্জে কৃষি খাতে ক্ষতি ১৩ কোটি টাকা

শরিফ হাসান,নিউজ৩৯: কিছু দিন আগেই প্রলয়ঙ্করী বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সারাদেশের মতো ঢাকা জেলার পদ্মা তীরবর্তী দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাও আক্রান্ত হয়েছিল বন্যায়। বন্যার পানি নেমে গেলেও বন্যার ক্ষত রেখে গেছে এই দুই উপজেলায়। শুধু কৃষি খাতেই ক্ষতির পরিমাণ ১৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বন্যায় এবার বন্যার পানিতে কৃষি ফসল, মাছের খামার ও গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাস্তাঘাট, মৎস্য খামার ও কৃষি খাত মিলে প্রায় শতাধিক কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার টাকার কৃষি ফসল বন্যার পানিতে বিনষ্ট হয়েছে। ধান,পাটসহ মৌসুমি কৃষি ফসলের ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়ন গুলো অন্যতম, জয়কৃষ্ণপুর, শিকারীপাড়া, বারুয়াখালী, কৈলাইল চুড়াইন, বাহ্রা, নয়নশ্রী, যন্ত্রাইল ও শোল্লা ইউনিয়ন।

নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষক সুনিল রায় বলেন, এবার বন্যার পানিতে তার ৩ বিঘা পাট তলিয়ে যায় ও ৪ বিঘা জমির ধান বিনষ্ট হয়। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছে। উপজেলা বন্যা কবলিত এসব ইউনিয়নের বিভিন্ন মাছের খামার ও পুকুর থেকে প্রায় ৩কোটি ৩৫ লাখ টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সবিতা রানী বলেন, তার স্বামী ৭ লাখ টাকা মাছের পোনা পুকুরে ছাড়েন, যা পদ্মার পানিতে ভেসে গেছে চলে গেছে।

নবাবগঞ্জের মেলেং গ্রামের মাছ চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, তার মাছের খামারে রুই, কাতল, পুটি, তেলাপিয়া, বাটা মাছের ৩ লাখ টাকা পোনা ছাড়েন তিনি। বর্তমান বাজার মূল্য ৯ লাখ টাকা। হঠাৎ কালিগঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার পুকুরে সব মাছ ভেসে যায়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য খামারীদের খোঁজ নিয়ে তালিকা তৈরী করেছি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

এছাড়া ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তরের আওতায় নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২৫কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১১টি কালভার্ট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া নদীর পানিতে বিভিন্ন্ পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়াসহ গর্ত সৃষ্টির কারনে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও নবাবগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে।

অপরদিকে দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন ইয়াকুব জানান, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বন্যার পানিতে সাড়ে ৪শ’ হেক্টর কৃষি জমির ফসল নষ্ট হয় হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩কোটি টাকা। তিনি বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধিসহ অতিবৃষ্টির কারনে চর অঞ্চলের সবজি ক্ষেতে পানি প্রবেশ করায়, এ বছর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ফসলের। ফলে অধিকাংশ কৃষকের ধান,পাট ও মৌসুমি সবজি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন।

এছাড়া দোহার উপজেলায় প্রায় ১০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক চলাচলে অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা সড়ক এবছর, বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাইদ।

দোহার উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী, হানিফ মোহাম্মদ মুরশির্দী বলেন, পদ্মার তীরবর্তী দোহারে এবার বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে উপজেলার অধিকাংশ অভ্যান্তরিন সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে যার পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

নবাবগঞ্জে ডোর টু ডোর হোম ডেলিভারি সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন

নবাবগঞ্জ ও দোহার তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা আরো সহজ ও প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে” গ্রীন এক্সপ্রেস “নামক একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করলো ডোর টু ডোর হোম ডেলিভারি সার্ভিস। আজ বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জে নিজ অফিসে সকাল ১১ টায় পন্য গ্রাহকের নিকট পৌছে দেওয়ার মাধ্যমে এই সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এ সময় নবাবগঞ্জ দোহার উদ্যোক্তা পরিবার অনলাইন গ্রুপ এর এডমিন রিয়াজুর করিম অঞ্জন সহ দোহার ও নবাবগঞ্জের বেশ কিছু তরুণ উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রিয়াজুর করিম অঞ্জন বলেন, আমি বিশ্বাস করি নিজেদের ক্রিয়েটিভিটিকে কাজে লাগিয়ে পরিশ্রম করে গেলে একদিন দোহার ও নবাবগঞ্জ এর মুখ উজ্জ্বল করবে আজকের এই তরুন উদ্যোক্তারা।

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসুম বিন মোশাররফ বলেন, এখন থেকে খুব সহজেই গ্রীন এক্সপ্রেসের মাধ্যমে আপনারা দোহার-নবাবগঞ্জ ও ঢাকা সিটির মধ্যে যেকোনো প্রোডাক্ট বা পার্সেল ডেলিভারি দিতে বা নিতে পারবেন! আশা করছি আপনারা, দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ও ব্যবসা প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত “গ্রীন এক্সপ্রেস” এর পাশে থাকবেন এবং সেবা নিবেন।

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, উদ্বোধন উপলক্ষে চলতি সেপ্টেম্বর মাস জুড়েই দোহার নবাবগঞ্জ বাসীরা পাবেন দোহার নবাবগঞ্জের মধ্যে মাত্র ৩০/- টাকায় হোম ডেলিভারি সার্ভিস।

দোহারে পিয়াজের মূল্যে ঝাজঃ অভিযানে প্রশাসন 

0

দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ভারত থেকে পিয়াজের আমদানি বন্ধের ঘোষণার সাথে সাথে অতিরিক্ত  মূল্য নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ী। আর এতে ভোক্তারা হয়ে পড়েছেন নিরুপায়।

মংগলবার দোহারের প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়ায় বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সরেজমিনে বাজার পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন যে সাধারন ভোক্তারা বেশি মূল্য দিয়ে পিয়াজ কিনছে কি না?  এছাড়া বাজারের কোন আড়ৎদার বা খুচরা বিক্রেতারা কোন সিণ্ডিকেট করে বেশি মূল্যে বিক্রি করছে কি না। ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বুঝতে পারেন,  জয়পাড়া সহ আশে পাশের বাজারে অযৌক্তিক ভাবে কিছু অসাধু বিক্রেতা গুজব ছড়িয়ে ও সিন্ডিকেট করে বাজারে পেয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করছে।

নিউজ৩৯ থেকে জয়পাড়া বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আলিফ বলেন, আমরা কেজিতে পূর্বের তুলনায় কিছুটা বেশি টাকা করে রাখি পিয়াজের কেজিতে।

এবিষয়ে খুচরা ব্যাবসায়ী সুমন সাহা জানান , আমরা আড়ৎদারের কাছ থেকে পিয়াজ যে দামে ক্রয় করে, তার থেকে বেশি দামে বিক্রয় করতে হয়। এখন স্বাভাবিকভাবেই আড়তদার বেশিদামে বিক্রি করলে, আমাদেরও একটু বেশি দামেই খুচরা বিক্রি করতে হয়।

নিউজ৩৯ এর এই প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, পিয়াজের কেজি ইন্ডিয়ান – ৬০ টাকা, দেশী পিয়াজের কেজি ৭০-৮০ টাকা কেজি বিক্রয় করা হচ্ছে। বাজারে পেঁয়াজের কোন কমতি নেই। কিন্তু ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় পিয়াজ মজুদদার করা হচ্ছে এবং অধিক মুনাফার আশায় বেশিদামে বিক্রি হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের ঠকিয়ে।

নিউজ৩৯ কে দোহার উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, বাজার আমাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে থাকবে। কেউই সিন্ডিকেট বা অবৈধ কিছু করতে চাইলে, কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।

এসময় জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ক্রয়মূল্য থেকে ৫/৭ টাকা বেশি মূল্যে পেয়াজ বিক্রি করবেন। অতিরিক্ত মূল্যে পেয়াজ বিক্রি করবেন না। যদি কোন পাইকার বা খুচরা ব্যবসায়ী বেশি মূল্য রাখে, তাহলে তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই অভিযানে সহযোগীতা করে দোহার থানা পুলিশ প্রশাসন।

দোহারে বসতবাড়িতে রাতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ।

0

ঢাকার দোহার উপজেলায় (১২ই সেপ্টেম্বর) রবিবার রাতে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও দেশি অস্ত্র দিয়ে ঘর কোঁপানোর অভিযোগ উঠেছে।দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মধুরখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল রবিবার রাত ১ টায় মধুরখোলা গ্রামের মৃত নুরু চকিদারের ছেলে শেখ তোফাজ্জল বাড়িতে এক দল সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে বতসবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও দেশি অস্ত্র দিয়ে কোঁপানোর অভিযোগ করে থানায়, শেখ তোফাজ্জল জানায়, প্রতিবেশি মৃত সামাদ শেখের স্ত্রী আমাদের পৈতিক সম্পাতিতে গাছ লাগানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগীতায় বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সামাদের ছেলে মাহাবুর আমাদের মারতে চেষ্টা করে এবং হুমকি প্রদান করে। তার পর রাতে দরজায় বাহির থেকে সিকল দিয়ে আমাদের বসতবাড়ি উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়, গ্রিল ছাড়া জানালা দিয়ে বের হলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় ও স্থানীয়দের সহযোগীতায় আগুন নিভানো হয়। এই ব্যাপারে মাহাবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, এ ঘটনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়। স্থানীয়রা জানায়, মাহাবুরের নামে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। যে ছেলে ভূতের ভয়ে সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বেড় হয়না সে কি করে আবার অগ্নিসংযোগ ও বসতবাড়িতে হামলা করবে।এবিষয়ে দোহার থানার এ এসআই এনামুলের সাথে কথা বললে তিনি নিউজ৩৯ কে জানায় , এবিষয়ে ফারিতে অভিযোগ করা হয়েছে , তবে হামলা বা অগ্নিসংযোগ এ ব্যাপারে কোন মামলা ও অভিযোগ করেনি,তবে জমিসংক্রাত বিষয়ে, স্থানীয় খোকা দাদা, দুই পক্ষের আমিন সহ জমির মাপঝোপ করতে ৩১তারিখ ধার্য করে,এতে দুই পক্ষ রাজি হয়।

ইউএনও ওয়াহিদা খানম ওপর হামলার প্রতিবাদে দোহারে মানব বন্ধন

0

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীর ওপর দুর্বৃত্তদের ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে  ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। ঢাকার দোহারে বৃহস্পতিবার ৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১ টায় দোহার উপজেলায়  উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড,সকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল দোহার শাখার আয়োজনে উপজেলা প্রাঙ্গণ হতে একটি  র‌্যালী বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে দোহার উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আয়োজনে পৃথকভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ সভা করা হয়। সভায় হামলাকারীদের দুষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।এসময় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা, এস এম মহিউদ্দিন, শাজজাহান বিশ্বাস, রজ্জব আলী মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সহ আরও অনেকে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনে নিরাপত্তা জোরদার

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে তার পেক্ষিতে ঢাকার দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদের বাসভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তার নিরাপত্তা জোরদারের জন্য সশস্ত্র আনসার মোতায়েন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)দের নিরাপত্তার স্বার্থে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর উপর হামলার ঘটনায় সতর্কতা স্বরূপ দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে চারজন সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত আনসার সদস্যরা হলো মোঃ আনিছুর রহমান, মোঃ মন্জিল, আরিফুল ইসলাম এবং আব্দুল আলীম।

শুক্রবার রাত আটটার দিকে জেলা প্রশাসক দিলশাদ বেগম জানান ইউএনওদের নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন জেলার সদর উপজেলা ও উপজেলার ইউএনওর বাসভবনে চারজন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাকি উপজেলাতেও মোতায়েন করা হবে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে কর্তব্যরত আনসার এর আব্দুল আলীম বলেন শুক্রবার থেকে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিরাপত্তার স্বার্থে তার বাসভবনে আমি সহ মোট চারজন আনসার সদস্য কর্মরত আছি এবং পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কর্তব্যরত থাকবো। এবং ইউএনও স্যারের বাসভবনকে নিরাপদ রাখবো।দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউ এন ওর বাসভবনে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে সশস্ত্র আনসার মোতায়েন রয়েছে। এবং আমরা সর্বদা স্যারের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। স্যার যেখানে যাচ্ছে তার সাথে আমাদের কমপক্ষে এক জন আনছার সদস্য উপস্থিত থাকছে সর্বদা।

দোহারে স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার জেরে স্বামীর আত্মহত্যা

স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যর জেরে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নে এক যুবক বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যাকারী যুবকের নাম জাহাঙ্গীর। নিহত জাহাঙ্গীর রিক্সা চালক ছিলেন। নিহত জাহাঙ্গীরের ৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে।

 এলাকাবাসীদের থেকে জানা যায়, দোহার উপজেলা মুকসুদপুর ইউনিয়নের মৌড়া গ্রামের ইস্রাফিলের ছেলে  জাহাঙ্গীর টানা দশ বছর সংসার করেন তার স্ত্রীর সাথে। কিন্তু অর্থনোইতিক অবস্থা শক্তিশালী না হওয়ার কারনে স্ত্রীর সাথে এই বিষয় নিয়ে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। ডায়বেটিকসের রোগী জাহাঙ্গীর ঘাষ কাটতে যেয়ে পায়ে আঘাত পেলে তার চিকিৎসা খরচ বেড়ে যায়। এই সময় তিনি রিক্সা চালানো শুরু করেন। কিন্তু জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তার এই পেশা মেনে নেন নি। ফলে তাদের মাঝে দুরুত্ব তৈরি হয়। এই সময় তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে তার বাবার বাসায় চলে যায় এবং জাহাঙ্গীরকে বলে সে তার সাথে আর সংসার করতে ইচ্ছুক নয়। জাহাঙ্গীর তার শ্বশুরু বাড়িতে তার স্ত্রীকে আনতে গেলে তার স্ত্রী তাকে অপমান করে বাসা থেকে বের করে। ফল শ্রুতিতে ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২:৩০ দিকে বিষ খেয়ে  আত্মাহত্যা করে জাহাঙ্গীর। তার বিষ খাবার ঘটনা জানাজানি হলে তাকে দোহার উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে রাত ৩ টায়  মৃত ঘোষনা করে।

দোহারের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়ালো

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছুয়েছে। নতুন করে ১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় দোহার উপজেলায় সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছুয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ উপজেলায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থতার হার বেশি। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩৯৬ জন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন ২ জন এবং বাড়িতে ৯৪ জন। এ পর্যন্ত দোহার উপজেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২৬৬৮ জনের।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন জনান, দোহার উপজেলার করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিনিয়ত মনিটরিংয়ের কারণে সুস্থতার হার বেশি। এছাড়া ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান সার্বক্ষণিক আক্রান্ত রোগীদের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখছেন বলে জানান তিনি। করোনা প্রতিরোধে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

দোহার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানা

অযত্ন অবহেলায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে, ঢাকার দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের, লক্ষ্মীপ্রসাদ গ্রামে অবস্থিত পোদ্দার বাড়িখ্যাত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরটি। স্থানীয়রা অভিযোগ জানিয়ে বলেছে, সংস্কারের অভাবে জাদুঘরটি ধীরে ধীরে রুপ নিচ্ছে মাদকসেবীদের আখড়ায়। এখানে প্রদিদিন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করছে মাদকসেবীরা৷

খোঁজ নিয়ে জানা যায় , স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটির জমি প্রায় ৫২ শতাংশ। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ইশরাশী গ্রামের মৃত আনোয়ার খান মেম্বার এই বাড়িটি লিজ নেন। দীর্ঘদিন তিনি বাড়িটি ভোগ দখল করেন। পরে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করলে দোহার উপজেলার তৎকালিন নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন লিজ বাতিল করে ভবন ও জমি দখলমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করেন ও তাদের দলিলপত্র বুঝিয়ে দেন।

২০১২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দোহার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর করার ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী অখিল পোদ্দারের বাড়িটি বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরের নিজস্ব সম্পত্তি হিসাবে বিবেচিত।

মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষায় এই বাড়িটি দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। সমাজের বিত্তশালীরা কেউ এগিয়ে আসলেই স্বপ্ন ব্যস্থবায়ন হতে পারে। গড়ে উঠতে পাড়ে একটি দর্শনীয় মুক্তিযোদ্ধাদের যাদুঘর। যা আগামী প্রজন্মকে দেশের প্রতি ভালবাসা ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হতে সাহায্য করবে। এমটাই প্রত্যাশা দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ভবন সংস্কারের জন্য টাকার ব্যবস্থা হয়েছিলো। সেই টাকার কী অবস্থা এখন জানি না।

জাদুঘরটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে নিউজ৩৯ কথা বলে দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব মোল্লার সাথে। তিনি বলেন, দোহারের পরিত্যক্ত এই পোদ্দার বাড়িটিতে ১৯৭১ সালে দোহার এবং নবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি (ক্যাম্প) ছিল। স্বাধীনতার পর বাড়িটিকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর ঘোষণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

দোহার থানা ওসি(তদন্ত) মো, আরাফাত হোসেন বলেন, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযান করে আসছে। মাদকসেবন,বহন ও মৌজুদকরা অপরাধ। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরটিতে প্রবেশ করে কেউ মাদক গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।