ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার রায়পাড়া ইউনিয়নের ইকরাসী গ্রামের সমাজসেবক ডাঃ মহিউদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না-লিল্লাহ ওইন্নাইলাহি রাজিউন। ডাঃ মহিউদ্দিন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় ইন্তেকাল করেন। শুক্রবার বাদ জুম্মা ইকরাসী নবীন সংঘের মাঠে মরহুম ডাঃ মহিউদ্দিন সাহেবের নামাজে জানাযা সম্পন্ন হয়। মরহুমের পরিবারের পক্ষে রাইপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব একলাল উদ্দিন আহমেদসহ পরিবারের সবাই ও এলাকাবাসী মরহুম মহি উদ্দিন সাহেবের নামাজের জানাযায় উপস্থিত থেকে জানাজা সম্পন্ন করেন।
কেরানীগঞ্জে ক্ষেতে দোহারের যুবকের লাশ
কেরানীগঞ্জের তারানগর ইউনিয়নের উত্তর ভাওয়াল এলাকার একটি ক্ষেত থেকে মিলন (৩০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মিলন পেশায় ছিলেন একজন হোটেল কর্মচারী। তার বাড়ি দোহার উপজেলায়। করোনা মহামারীর কারণে তিনি বেকার হয়ে পড়েছিলেন। তার স্ত্রী সৌদি আরব প্রবাসী।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আটিবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. খায়রুজ্জামান জানান, নিহতের গলায় দাগ রয়েছে। শরীরের আরও কোথাও আঘাত বা ক্ষতের চিহ্ন নেই। এতে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
নিহতের মা হাজেরা বেগম জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিলন বাসা থেকে বের হয়। রাতে সে বাসায় ফেরেনি। সকালে তিনি ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পান।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, মিলনের বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলায়। তার স্ত্রী সৌদি প্রবাসী। দুই সন্তান নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলের আধা কিলোমিটার দূরের একটি বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকেন। দুই সন্তানের মধ্যে এক ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। আর মেয়ের বয়স ৫।
ওসি আরও জানান, মিলন ওই এলাকার একটি হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে হোটেল বন্ধ হয়ে গেলে তিনি বেকার হয়ে পড়েন।
জয়পাড়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার হেফজখানায় অগ্নিকাণ্ড
দোহার উপজেলার জয়পাড়া মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসায় হেফজখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকাল তিনটার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এই অগ্নিকান্ডে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটে নি।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার আনুমানিক তিনটার দিকে মাদ্রাসার হেফজ খানায় এ আগুন লাগে। এ সময় প্রচন্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে দেড় ঘন্টার চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। এঘটনায় হেফজখানায় থাকা মাদ্রাসায় শিক্ষক ও ছাত্রদের বই, খাতা, জামা কাপড়,কোরআন শরীফ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে যায়।
এ অগ্নিকান্ডের বিষয় দোহার ফায়ার সার্ভিসের অফিসার আব্দুল হক বলেন, তিনটার দিকে আমাদেরকে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেয়া হলে আমরা দ্রুতই ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। আমরা প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ আগুনের সুত্রপাত ঘটে।
এ ব্যাপারে জয়পাড়া মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আব্দুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় আমাদের ৭ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় ছাত্ররা কেউ ভেতরে ছিলো না বিধায় প্রাণহানি হয়নি।
জয়পাড়া বাজারে যানজট কমছে না; দেখার কেউ নেই
ঢাকার দোহার উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া বাজার সাথে আছে উপজেলা পরিষদ ও স্কুল কলেজ,পৌরসভা,উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্স যেখানে মানুষের আনাগুনা লেগেই আছে।দোহার উপজেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম বাজার এটি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন জয়পাড়ার প্রধান প্রবেশ পথ থানার মোড় দিয়ে। অথচ এই প্রবেশ পথটির দুইপাশ প্রতিনিয়ত দখল হয়ে থাকে অবৈধভাবে ইজিবাইক, অটো চালিত রিক্সা পার্কিং যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানো নামানো ও রাস্তার দুপাশে ফুটপাত দোকান বসায় এ যানজট লেগেই আছে জয়পাড়া ব্যস্ত সড়কে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থানার মোড় আঞ্চলিক মহাসড়কে সারিবদ্ধভাবে সিরিয়াল দিয়ে ইজিবাইক পার্কিং করে রাখেন চালকরা।ফলে রাস্তাটির অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল হওয়ার কারনে প্রতিদিন সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। চরম ভোগান্তিতে পরেন যাত্রী সহ সাধারণ পথচারীরা। প্রতিনিয়ত থানার মোড়ে ঘটছে যাত্রী ও ইজিবাইক চালকদের সাথে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতীর ঘটনা ঘটে। এসময় যানজট আরও তীর্ব আকার ধারন করে। মাঝে মাঝে পুলিশের তৎপরতা দেখা গেলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার শুরু হয় একই চিত্র। এক যাত্রী জানান,আমরা যখন কোন অসুস্থ রোগী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে দীর্ঘক্ষনের যানজটের কারণে আরও আসুস্থ হয়ে পরেন সে রোগী।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য আরো বলেন, এমন পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত হচ্ছে অর্থাৎ প্রশাসন কোনো স্থায়ী সমাধান করছে না। আমাদের ভোগান্তী কি দেখার কেউ নেই।
এদিকে এমন ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন থানার মোড়সহ আশেপাশের ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, প্রশাসন যদি দ্রুত এই অবৈধ পার্কিং সরিয়ে না দেয় তাহলে আগামীতে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
এক পথচারী রায়হান বলেন, করোনার কারনে স্কুল কলেজ বন্ধ তার পরেও আমাদের যানজটের দূর্ভোগ পহাতে হয়। স্কুল কলেজ খুলে গেলে তখন আরো বেশি সমস্যার সম্মুক্ষিন হতে হবে আমাদের।
এক বাজার ব্যবসায়ী বলেন, কলেজ মোড়ে গাড়ি পার্কিং আয়োজনের সামনে গাড়ি পার্কিং এবং রাস্তার দুপাশে ফুটপাত দোকান থাকায় এ যানজট সৃষ্টি হয়।
কেরানীগঞ্জে প্রেমে ধরা খেয়ে বিয়েঃ পরিবার না মানায় ধর্ষন মামলা
রাজধানীর ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের বোরহানিরভাগ এলাকায় ১৬ বছর বয়সী এক অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রাজন মাহমুদ (২৮)নামে যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ধর্ষিতা নারীর মা বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। ধর্ষক রাজন মাহমুদের পিতা রাজন গিয়াস উদ্দিন।
ধর্ষিতা শিক্ষার্থীর মা বলেন, ধর্ষক রাজন মাহমুদ আমার মেয়েকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে মিথ্যা ও ভুল বুঝিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার বাসা ফাঁকা পেয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। বাদী আরো জানান, আমার মেয়ে ধর্ষণের ঘটনা আমাকে জানালে আমি এর প্রতিবাদ করি। পরে ধর্ষক রাজন মাহমুদ, গত ৩১ অক্টোবর মধ্যে রাতে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে স্থানীয় এক কাজীর মাধ্যমে দেনদরবার করে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে দিয়ে বিয়ে পড়ান। যা আমাদের ও আমার মেয়ের ইচ্ছার বিপরীতে এ বিয়ে পরিয়েছেন। কিন্তু ধর্ষণের ফলে আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ওর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কাজি মাইনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে রাজন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । এতে ধর্ষিতা মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে দোহারে বিক্ষোভ মিছিল
ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিতর্কিত ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)কে উদ্দেশ্য করে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে আসরের নামাযের পরে দোহারের মুকসুদপুর ইউনিয়নের দুবলি বাজারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুবলি বাজারসহ আশেপাশের ধর্মপ্রাণ, নবী প্রেমী মুসলমানরা উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণ করে।
মুকসুদপুর ইউনিয়নস্থ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সচেতন নবী প্রেমীদের উদ্যোগে উক্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দুবলি বাজার জামে মসজিদ থেকে মিছিল শুরু হয়ে দুবলি বাজার প্রদক্ষিণ করে ডাচ বাংলা ব্যাংক বুথের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যর মধ্যেমে মিছিল শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি সঞ্চালনা করেন
তাজওয়ার মুনির এবং দোয়া ও মোনাজাত করেন দুবলি বাজার জামে মসজিদের ঈমাম ও খতিব মাওলানা সেলিম রেজা।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে ফ্রান্সের পণ্য বয়কট সহ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জানানোর জন্য মাননীয় সরকারের কাছে আহবান জানানো হয়। দলমত নির্বিশেষে সকল মুসলিমদের এক কাতারে এসে রাসূল (সাঃ) এবং ইসলাম বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে একাত্ন হতে বলেন সভার বক্তারা।
সে সময় বক্তব্য পেশ করেন মোঃ সোলায়মান বেপারি, মাওলানা আসলাম, আদনান মাহমুদ প্রমুখ।
দোহারে যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
দোহার উপজেলার বহুল কাঙ্ক্ষিত যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হলো শনিবার। শনিবার জয়পাড়া সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা যুবলীগের সভাপতির অনুপস্থিতিতে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্ধিত সভার মূল বিষয় ছিলো কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটির নির্বাচন।
ঢাকা জেলা যুবলীগ সভাপতি শফিউল আলম বারকু বলেন, যুবলীগ এদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের স্থান। বংগবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে, উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে যেতে এদেশে যুবলীগের বিকল্প নেই। সবাই দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলবেন। কোন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়লে তাকে ছাড় দেয়া হবে না, তার দায় যুবলীগ নিবে না।
দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যুবলীগ করেছি। দলকে শক্তিশালী ও পুনর্গঠন করেছি। এখন আমরা চাই যারা আগামীতে যুবলীগের দায়িত্বশীল হবেন, তারা কাউন্সিলের মাধ্যমে দক্ষ ব্যাক্তিই নির্বাচিত হবেন।
উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, ঢাকা জেলা যুবলীগের সভাপতি সফিউল আজম ( বারকু), ঢাকা জেলা আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নারিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব সালাউদ্দিন দরানি, ঢাকা জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, দোহার পৌরসভা যুবলীগের আহ্বায়ক মোশারফ দেওয়ান প্রমুখ
নবাবগঞ্জে পুত্র হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ‘খুনীদের আটক করুন, নাহলে আমারে করুন’
- খুনী শফিক আমার ছেলে রে ফোন কইরা বাসায় নিছে। ওগো বাড়িতে যাওয়ার পর খুনী জাকির ইনজেকশন দিয়া আমার ছেলেরে মাইরা দুয়ারে (উঠানে) ফালাইয়া রাখছে। এরপর ওগো দলের স্বজিব নামের একটা ছেলে আমাগো বাড়িতে আইয়া আমাগো খবর দেয়। শফিকগো বাড়িতে গিয়া দেখি আমার পোলারে মাইরা অজ্ঞান কইরা ফালায় রাখছে। কেউ আমার ছেলেরে হাসপাতালে নেয়নি। অইখ্যানে জাকির, জুয়েল মাষ্টার, স্বজিপসহ আরো অনেকে ছিল। কিন্তু কেউ আমার ছেলেরে বাচানোর চেষ্টা করেনি। উল্টা ছেলেরে ধরতে গেলে জাকির আমার স্বামীরে ধমক দিইয়া ওর কাছে যাইতে কয়। বলে এখানে সাইন দে, নইলে তোর ছেলেরে দেব না। আপনারাই বলেন, আমার ছেলে রে যদি ওরা না মারত, তাইলে কেন ওরা আমার ছেলেরে নেয়ার জন্য স্বাক্ষর নিলো? কেন ওরা আমার ছেলেরে ধরলো না। এভাবে মানববন্ধনে কান্না জড়িত কন্ঠে নিহত জাকিরের বৃদ্ধ মা পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পুলিশ বাবারা, আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। আজ যদি আমার যায়গায় আপনার মা থাকতো, তখন কি করতেন? আমারে যারা সন্তান হারা করেছেন, তাগো আটক করেন। ওগো আটক না করতে পারলে আমারে আটক করো।
- সোমবার সকালে নবাবগন্জ উপজেলার নয়নশী ইউনিয়নের খেজুরবাগ গ্রাম বাসীর উদ্যেগে নিহত জাকির হত্যাকারীদের আটক ও বিচারদাবীতে আয়োজিত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী অংশ নেন। তারা জাকির হত্যায় জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে বক্তৃতা করেন। থানা পুলিশের নিকট, পুত্র হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাকিরের মা-বাব, ভাই-বোনসহ এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য যে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাকিরকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এমন অভিযোগ করে ৪-৫ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ১ মাস ২ দিন পার হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ করেন জাকিরের পরিবার। - জাকিরের পিতা আবুল কালাম বক্তৃতায় বলেন, বাবার আগে ছেলের বিদায় বড়ই কষ্টের। পৃথিবীতে এর চাইতে বড় শোক আর নেই। আমরা এখন জীবিত থাকতেও মৃত। আসামি শফিক ও জাকির আমার ছেলেকে বাসায় ডেকে নিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য সামগ্রী খাইয়ে মারধর করে শফিকের বসত বাড়িতে ফেলে রাখে। ওরাই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। কিন্ত এখনো কোনো আসামি ধরা পড়েনি। আসামি জাকিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। হত্যা করেও ওরা প্রকাশ্যে ব্যবসা করছে। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নে চর শৈল্যা গ্রামে ডেকে নিয়ে নেশা জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ জাকিরের পরিবারের। পরের দিন ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাকির হোসেন।জাকিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। ঘটনায় ১০দিন পর পুলিশ জাকিরের সস্ত্রীকে বাদী করে মামলা নেয়। মামলায় আসামী করা হয় পুরান তুইতালের মো. শফিক ও আফজালনগরের মো. জাকিরসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের নামে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেন। কিন্তু ঘটনার এক মাস দুদিন অতিবাহিত হলেও এখনো কোন আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ফ্রান্সে মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে দোহারে ইসলামী শাষনতন্ত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ
ফ্রান্সে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবমাননা ও ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দোহার শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার ডাকবাংলো থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে করম আলী মোড় হয়ে জয়পাড়া বাজার মসজিদের সামনে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দোহার থানার সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন , বিশ্বের বেশিরভাগ সম্পদ মুসলমানদের হাতে। মুসলমানদের প্রতি ফ্রান্সের এই বৈরি ও বিদ্ধেষমূলক আচরণের কঠোর জবাব মুসলমানদের দেওয়া উচিত। বিশেষ করে ফ্রান্সের সকল পণ্য বয়কট ও কুটনৈতিক সর্ম্পক ছিন্ন করাসহ তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে কোনঠাসা করতে হবে। এ ছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দোহার থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হাফিজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আমজাদ হুসাইন, সদস্য মুফতী জিল্লুর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলন দোহার থানা শাখার সভাপতি মুফতী আলমাস হুসাইন, মুফতী মাসউদুর রহমান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দোহার থানা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব হাফেজ ইসমাইলের সভাপতিত্বে ও সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা যুবায়ের আহমাদ সাকীর পরিচালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দোহার থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সুলাইমান বেপারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হাফেজ রুহুল আমিন দেওয়ান অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণ।
জয়পাড়াতে খাল দখল করে ভবন নির্মাণ
ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী খাল দখল করে পুনরায় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া এলাকায় খাল দখল করে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও ২০১৮ সালের ৮ই জুন দোহার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া এলাকায় খাল দখল করে নির্মাণাধীন ওই বাড়ি ভেঙে দেয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পার্শ্ববর্তী খালের একপাড় অবৈধভাবে দখল করে ভবন নির্মাণ করেছে স্থানীয় শাহিন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। ফলে খালটিতে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ির নেমপ্লেটে দেখা যায়, করদাতা হিসেবে উত্তর জয়পাড়া চৌধুরীপাড়ার জনি শিকদারের নাম রয়েছে। কিন্তু জনি শিকদারের দাবি ভবনটি তিনি নির্মাণ করেনি। শাহিন শিকদার ভবনটি নির্মাণ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, এরআগে ২০১৮ সালের জুন মাসে ভবনটি ভেঙে দিয়েছিল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তবে কিছুদিন পর আবারো ভবনটি সংস্কার করেন শাহিন শিকদার। এরপর আর কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দখলকারী শাহীন বলেন, “বাড়িটি মালিক জনি শিকদার, আমরা থাকি। তবে ভবন নিজস্ব জমিতে করা হয়েছে। সরকারি খাল দখল করেনি।” এসময় তিনি স্থানীয় এক সাংবাদিকের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে বলেন।
এ ব্যাপারে জনি শিকদার বলেন, “সরকারি জায়গায় ভবনটি শাহিন শিকদার কিভাবে নির্মাণ করেছে তা আমার জানা নেই। আমি সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ঐ ভবনটি আমার নয়।” ভবনের নেম প্লেটে তার নাম দেয়ার কারণ জানতে চাইলে জনি শিকদার বলেন, “ওরা কেন নাম দিয়েছে ওরাই বলতে পারবে। তবে সেখানে একসময় আমাদের জমি ছিল যা বর্তমান খাস হয়ে গেছে। সেই জন্যও নাম দিতে পারে। কিন্তু ভবনটি আমি নির্মাণ করিনি।”
দোহার পৌর প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, “ভবনটি সরকারি খালের উপর করা হয়েছিল। যার কারনে এর আগে আমরা ভেঙে দিয়েছিলাম। খাস জমির উপর ভবন নির্মাণের সাথে হোল্ডিং ট্যাক্সের কোন সম্পর্ক নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি ভূমি অফিসকে নির্দেশনা দিব যদি এটি খালের মধ্যে হয় তাহলে অতি দ্রুত এটি উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেব।”
