দোহার নবাবগঞ্জে বিকাশে চাকরির সুযোগ

ঢাকার দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিকাশ লিমিটেডের মার্চেন্ট পয়েন্টের জন্য মেসার্স প্রতিভা এন্টারপ্রাইজের অধীনে মার্চেন্ট ডেভলপমেন্ট অফিসারের চাকরির সুযোগ।

চাকরি পদঃ মার্চেন্ট ডেভেলপমেন্ট অফিসার(MDO)

চাকরির স্থানঃ দোহার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা।

কাজের ধরন
১. প্রদত্ত রুট প্লান অনুযায়ী নির্ধারিত এলাকার প্রতিটি মার্চেন্ট পয়েন্ট ভিজিট করা।
২. নতুন মার্চেন্ট দোকান (একাউন্ট) তৈরি করা।
৩. মার্চেন্টকে মনিটরিং করা এবং মার্চেন্ট ভিত্তিক টার্গেট অর্জন করা।
৪. অফিসের ডিসিপ্লিন বজায় রাখা এবং মার্চেন্ট পয়েন্ট এবং বিকাশ টিমের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ ন্যূনতম এস.এস.সি পাশ।(SSC)

অন্যান্য যোগ্যতাঃ
১. এন্ড্রয়েড ফোন পরিচালনার দক্ষতা এবং নিজের অবশ্যই এন্ড্রয়েড ফোন থাকা লাগবে।
২.ভালো যোগাযোগের দক্ষতা এবং চাপের মধ্যে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

পারিশ্রমিকঃ
১. বেতন ১৫০০০/- (ফিক্সড ৯৫০০/- এবং ৫৫০০/- কে পি আই TADA)
২. ইনসেন্টিভ বোনাস বিকাশের প্রনোদনা অনুযায়ী।
৩.ভালো কাজের উপর ভিত্তি করে পদন্নোতির সুযোগ।

বিঃদ্রঃ বাইকারদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

আপনি আগ্রহী হলে সিভি পাঠান,
যোগাযোগঃ 01949658649 অথবা 01896290897,01842971257
ইমেইলঃ [email protected]
ঠিকানাঃ হাজের ম্যানশন ৩য় তালা,রেজিয়া ক্লিনিকের অপরপাশে,ডাকবাংলা রোড,জয়পাড়া বাজার,দোহার,ঢাকা।

২০২৬ সালের সেরা SEO ও AI টুলস: কন্টেন্ট র‍্যাঙ্কিং সহজ করার সম্পূর্ণ তালিকা

বর্তমান সময়ে ওয়েবসাইট র‍্যাঙ্কিং শুধু গুগল SEO-তেই সীমাবদ্ধ নয়—এখন AI সার্চ, ChatGPT, Bing Copilot এবং অন্যান্য AI প্ল্যাটফর্মেও কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ করা জরুরি। নিচে এমন ৯টি গুরুত্বপূর্ণ টুল ও প্ল্যাটফর্ম তুলে ধরা হলো, যেগুলো আপনার ওয়েবসাইটকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

) AI SEO Automation প্ল্যাটফর্ম

Ranked.ai
👉 https://www.ranked.ai

এটি একটি AI-চালিত SEO অটোমেশন সার্ভিস।

  • ChatGPT, Claude, Gemini, Perplexity সহ AI সার্চে কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ করে
  • ওয়েবসাইটের AI visibility বাড়াতে সাহায্য করে
  • পুরো SEO প্রসেস অনেকটা অটোমেটেড করে দেয়

) গুগল পারফরম্যান্স ট্র্যাকিং টুল

Google Search Console
👉 https://search.google.com/search-console

গুগলের অফিসিয়াল SEO মনিটরিং টুল।

  • ওয়েবসাইট গুগলে কেমন পারফর্ম করছে তা দেখা যায়
  • কোন কীওয়ার্ডে ভিজিট আসছে তা জানা যায়
  • ইন্ডেক্সিং সমস্যা শনাক্ত করা যায়

) Bing AI সার্চ অপ্টিমাইজেশন

Bing Webmaster Tools
👉 https://www.bing.com/webmasters

  • Bing সার্চে ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজ করার টুল
  • Microsoft Copilot ও Bing AI সার্চে ভিজিবিলিটি বাড়াতে সাহায্য করে
  • সাইট সাবমিশন ও SEO রিপোর্ট পাওয়া যায়

) স্ট্রাকচার্ড ডাটা স্ট্যান্ডার্ড

Schema.org
👉 https://schema.org

  • ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট AI ও সার্চ ইঞ্জিনকে বুঝতে সাহায্য করে
  • FAQ, Article, Product rich result তৈরি করে
  • SEO-এর টেকনিক্যাল ফাউন্ডেশন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ

) লোকাল বিজনেস SEO

Google Business Profile
👉 https://www.google.com/business

  • লোকাল সার্চ ও Google Maps-এ ব্যবসা দেখাতে সাহায্য করে
  • রিভিউ, লোকেশন ও সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায়
  • লোকাল SEO-তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুলগুলোর একটি

) AI কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন

NeuronWriter
👉 https://neuronwriter.com

  • NLP-ভিত্তিক SEO কন্টেন্ট তৈরি করতে সাহায্য করে
  • কীওয়ার্ড ও টপিক সাজেশন দেয়
  • সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার জন্য জনপ্রিয়

) কন্টেন্ট আইডিয়া রিসার্চ

AlsoAsked
👉 https://alsoasked.com

  • গুগলের “People Also Ask” প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে
  • ইউজারদের আসল সার্চ প্রশ্ন খুঁজে বের করে
  • ব্লগ কন্টেন্ট আইডিয়া তৈরি করতে সাহায্য করে

) সার্চ কোয়েশ্চন রিসার্চ টুল

AnswerThePublic
👉 https://answerthepublic.com

  • মানুষ কী প্রশ্ন করছে তা ভিজ্যুয়ালি দেখায়
  • কন্টেন্ট প্ল্যানিং সহজ করে
  • SEO কিওয়ার্ড আইডিয়া জেনারেট করে

) AI + SEO কন্টেন্ট অপ্টিমাইজার

Frase.io
👉 https://frase.io

  • AI দিয়ে SEO কন্টেন্ট তৈরি ও অপ্টিমাইজ করে
  • প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েবসাইট বিশ্লেষণ করে
  • সার্চ ইন্টেন্ট অনুযায়ী কনটেন্ট সাজেস্ট করে

এই টুলগুলোকে মূলত ৪টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়:

  • 📊 SEO Performance Tracking → Google Search Console, Bing Webmaster
  • ✍️ Content Optimization → NeuronWriter, Frase.io
  • 🔍 Keyword & Idea Research → AlsoAsked, AnswerThePublic
  • ⚙️ Technical SEO Foundation → Schema.org
  • 📍 Local SEO → Google Business Profile
  • 🤖 AI SEO Automation → Ranked.ai

বর্তমান ডিজিটাল যুগে শুধু Google SEO যথেষ্ট নয়—AI সার্চ এবং structured content এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই টুলগুলো ব্যবহার করলে ওয়েবসাইটের ট্রাফিক, র‍্যাঙ্কিং এবং AI visibility—সবই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

৬ হাজার টাকা ভর্তি সহায়তা: একাদশ ও আলিম শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন শুরু ১২ এপ্রিল

0

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে উচ্চ-মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ে (একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষ) ভর্তিকৃত আর্থিক অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন ছয় হাজার টাকা করে ভর্তি সহায়তা দেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে এই সহায়তা পেতে আগামী ১২ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) স্মৃতি কর্মকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা এই সহায়তার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। আগামী ৩০ এপ্রিল রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে (https://www.eservice.pmeat.gov.bd/admission) আবেদন প্রক্রিয়া সচল থাকবে।

আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভর্তি সহায়তা পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর পূর্বের শ্রেণিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ ৫.০০-এর ক্ষেত্রে ৩.৫০ থাকতে হবে।

আরও বলা হয়েছে, অভিভাবকের বার্ষিক আয় হতে হবে তিন লাখ টাকার কম। এ ছাড়া এতিম, প্রতিবন্ধী, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণ আপলোড করতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ‘হতদরিদ্র’ সনদ, প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্র, জন্মনিবন্ধন, মা-বাবার এনআইডি ও অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের স্পষ্ট কপি আবশ্যিকভাবে সংযুক্ত করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, পুরো কার্যক্রমটি অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় আবেদনের কোনো হার্ডকপি সরাসরি ট্রাস্টে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করার পর একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি তা যাচাই-বাছাই করবে। এরপর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অনুকূলে ছয় হাজার টাকা সরাসরি শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

সহায়তাসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য অফিস চলাকালীন হেল্পলাইন নম্বরে (০১৭৭৮৯৫৮৩৫৬, ০১৭৭৮৯৬৪১৫৬) যোগাযোগ করা যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামে আরও ৬ মৃত্যু, টিকাদান শুরু আজ

হামের প্রকোপ বাড়ায় জরুরি ভিত্তিতে আজ থেকে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, গতকাল হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রবিবার সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ঝুঁঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ২১ মের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা। তিনি বলেন, হামের টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থেকে এই কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে পাঁচটি স্থানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন এবং বাকি উপজেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনরা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক, এই বয়সসীমার সব শিশুকেই পুনরায় টিকা দেওয়া হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এ কারণে প্রথম পর্যায়ে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।

টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বরগ্রস্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলো ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি

সেন্টারে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও, ধীরে ধীরে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

হাম লক্ষণ নিয়ে আরও মৃত্যুদেশে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে এবং এ রোগের লক্ষণ নিয়ে ছয়টি শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে দুইজন এবং উপসর্গ নিয়ে বাকি চারজন মারা গেছে। এ নিয়ে দেশে ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। আর হামের লক্ষণ নিয়ে ৯৮ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইটার কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলীর গ্যাস লাইটার কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট চেষ্টা করে শনিবার বিকেল পৌনে ৩ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে গ্যাস লাইটার কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট। পরে যোগ দিয়েছে আরো ৪ ইউনিট।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিইউটি অফিসার রোজিনা আক্তার বলেন, আজ দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীতে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৩ ইউনিট। পরে যোগ দিয়েছে আরো ৪ ইউনিট।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া হতাহতের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আগুন লাগার পরপরই আমরা আশপাশের অন্তত ৫০টি বাড়িতে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করি, কিন্তু কোথাও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায়নি।’

স্থানীয় বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম মামুন জানান, এর আগেও এই গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তারপরও প্রশাসন কারখানাটি বন্ধ করতে পারেনি।

প্রবাসে মৃত্যু, তবু দেশে ফিরছে না লাশ—দোহারের আজগরকে ঘিরে স্বজনদের বুকভাঙা আহাজারি

সৌদি আরবের রিয়াদে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত ঢাকার দোহার উপজেলার আজগর বেপারীর (৩৮) মরদেহ দেশে আনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ এক বছরআকামাবা বৈধ কাগজপত্র বিহীন থাকায় এবং পরিবারের চরম আর্থিক অনটনের কারণে মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি থমকে আছে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে আনার জন্য রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাধানগর এলাকার আহম্মদ বেপারীর ছেলে আজগর বেপারী সাড়ে তিন বছর আগে ‘ফ্রি ভিসায়’ সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি ওয়েল্ডিং হেল্পার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিয়োগকর্তার অবহেলা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় গত এক বছর ধরে তিনি ‘আকামা’ নবায়ন করতে পারেননি। গত ২৪ মার্চ রিয়াদের হারা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান আজগর। স্থানীয় প্রবাসীরা তাকে উদ্ধার করে রিয়াদের ‘আজিজ আব্দুল্লাহ হাসপাতালে’ ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বড় ভাইয়ের স্ত্রী রোকসানা জানান, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আজগর গত সাড়ে তিন বছরে একবারও দেশে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে আজগরের মরদেহ দেশে আনতে আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকা প্রয়োজন, যা ভূমিহীন এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। আজগরের মা মমতাজ বেগম এবং স্ত্রী শিরিনা বেগম বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা। তারা জানান, শেষবারের মতো আজগরের মুখ দেখার আকুতি জানালেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অর্থের অভাবে আইনি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না।

রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, যেহেতু আজগর অবৈধ অবস্থায় মারা গেছেন, সেহেতু দূতাবাস বিশেষ ট্রাভেল পারমিট বা আইনি ছাড়ের ব্যবস্থা না করলে মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হবে না। রিয়াদ প্রবাসীদের পক্ষ থেকে জুনায়েদ নামে একজন জানান, তারা যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন কিন্তু সরকারি সহায়তা ছাড়া এই মরদেহ দেশে পাঠানো প্রায় অসম্ভব।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মৃত ব্যক্তির পরিবার বা স্বজনরা যদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন, তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সরকারি খরচে বা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহায়তায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

নবাবগঞ্জে বাঙ্গির ঘ্রাণে জেগে উঠেছে কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙ্গাভিটা

ঢাকার নবাবগঞ্জের কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙ্গাভিটা গ্রাম এখন সুমিষ্ট বাঙ্গির ঘ্রাণে মুখর, যেখানে কৃষকরা ভোরের আলো ফোটার আগেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন বাঙ্গি সংগ্রহ ও হাটে তোলায়। বাঙ্গির মৌসুমে এই গ্রাম থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বাঙ্গি রাজধানীসহ সারাদেশে পাঠানো হয়। সারবিহীন প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা এই বাঙ্গির সুবাসে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ।

রসালো ও সুস্বাদু বাঙ্গির কারণে এ গ্রামের বাঙ্গির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা জেলাসহ সারা দেশে। ফলে গ্রামটি প বাঙ্গির গ্রাম হিসেবে। এ বছরও ২০৩ হেক্টর জমির উর্বর এঁটেল মাটিতে আবাদ করা হয়েছে বাঙ্গি।ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘চিনাই’ ও গোল বাঙ্গি।

এখানে প্রথাগত হাট না বসলেও সকাল-বিকাল দুই বেলা ভাঙ্গাভিটা সেতুতে বসে জমজমাট আড়ত। যেখান থেকে স্থানীয় পাইকার ও খুচরা ব্যাবসায়ীসহ ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা ট্রাকবোঝাই করে নিয়ে যান এই বিখ্যাত বাঙ্গি। এছাড়াও কৃষকরা জমি থেকে বাঙ্গি তুলে সড়কের পাশে বসেই বিক্রি করছেন পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে। এবার পাইকারদের ব্যবসা জমজমাট হলেও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতিকূল আবহাওয়া আর পর্যাপ্ত রোদের অভাবে এবার বাঙ্গি পাকতে দেরি হয়েছে, অনেক বাঙ্গি মাঠেই নষ্ট হচ্ছে।

ভাঙ্গাভিটার এই সোনালি ফসলের পথে প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

নির্মাণাধীন একমাত্র সরু সড়ক দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া করা যেমন কঠিন তেমনি সিরাজদিখানের কামারগাঁও ১০০ ফিট থেকে তুলশিখালি পর্যন্ত সড়ক সংযোগ না থাকায় এবং ইছামতি নদীর শাখার ওপর সেতু না থাকায় সরাসরি ঢাকার সাথে যুক্ত হতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে যাতায়াত বিড়ম্বনায় পানির দরে পণ্য ছাড়তে হচ্ছে তাদের। পণ্য পরিবহনেও পোহাতে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনা। মৌসুমের শুরুতে প্রতি ঝাঁকা বাঙ্গি ২ হাজার ৫শ থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ১শ থেকে ৩শ টাকায়।

কৃষকদের অভিযোগ, এই অঞ্চলের প্রধান ফসল বাঙ্গি ও রসুন চাষ হলেও আমন ধান, ধইনা ও কালিজিরাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ করেন তারা। কয়েক দশক ধরে চাষাবাদ করেন উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সঠিক পরামর্শ নিয়েই তারা এ চাষাবাদ করে আসছেন। মূলত এঁটেল মাটির গুণের কারণেই এখানে বাঙ্গি ছাড়াও রসুন, ধনিয়া ও কালোজিরার বাম্পার ফলন হয় কিন্তু সরকারি বড় পৃষ্ঠপোষকতা আর আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে এই বিশাল কৃষি সম্ভাবনা জায়গাটি।

স্থানীয়রা মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী ভাঙ্গাভিটার এই বাঙ্গিপলি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন উন্নত সড়ক যোগাযোগ, কৃষি বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা ও নজরদারি এবং দ্রুত সড়ক ও সেতু নির্মাণ এখন ভাঙ্গাভিটাবাসীর প্রাণের দাবি। তবেই বাঁচবে কৃষক, রক্ষা পাবে এই অঞ্চলের ঐতিহ্য।

তথ্যমতে, বাঙ্গির পুরোটাই জলীয় অংশে ভরপুর। এটি ভিটামিন সি, শর্করা ও সামান্য ক্যারোটিনসমৃৃদ্ধ একটি ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড, যা রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। তাই মানুষের  জন্য, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য বাঙ্গি বিশেষ উপকারী একটি ফল। বাঙ্গিতে কোনো চর্বি নেই। যারা দেহের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে বিশেষ চিন্তায় ভোগেন, তারা এ ফল খেতে পারেন নির্দ্বিধায়। দেহের ওজন কমাতে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে বাঙ্গির ভূমিকা অপরিহার্য।

বাঙ্গিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি। বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। বাঙ্গিতে চিনির পরিমাণ রয়েছে খুবই কম, তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে। এছাড়াও বাঙ্গিতে রয়েছে প্রচুর পানি, যা গরমে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। বাঙ্গি ত্বকে বয়সের ছাপ এবং ত্বক কুচকে যাওয়া প্রতিরোধ করে। বাঙ্গি থেঁতো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখলে উজ্জ্বল ও সুন্দর ত্বক পাবেন। এতসব গুণের ফল বাঙ্গির গ্রাম ঢাকার নবাবগঞ্জে।

এ বিষয়ে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আসমা জাহান বলেন, কৃষি অফিস নিয়মিত ওই অঞ্চলের কৃষকদের খোঁজ খবর রাখেন এবং সঠিক পরামর্শ দিয়ে থাকেন তবে মাঝের একটি বৃষ্টি কৃষকদের অনেকটা ক্ষতির মুখে ফেলে দিছে।

নবাবগঞ্জে বাঙ্গির ঘ্রাণে জেগে উঠেছে কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙাভিটা

ঢাকার নবাবগঞ্জের কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙ্গাভিটা গ্রাম এখন সুমিষ্ট বাঙ্গির ঘ্রাণে মুখর, যেখানে কৃষকরা ভোরের আলো ফোটার আগেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন বাঙ্গি সংগ্রহ ও হাটে তোলায়। বাঙ্গির মৌসুমে এই গ্রাম থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বাঙ্গি রাজধানীসহ সারাদেশে পাঠানো হয়। সারবিহীন প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা এই বাঙ্গির সুবাসে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ।

রসালো ও সুস্বাদু বাঙ্গির কারণে এ গ্রামের বাঙ্গির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা জেলাসহ সারা দেশে। ফলে গ্রামটি প বাঙ্গির গ্রাম হিসেবে। এ বছরও ২০৩ হেক্টর জমির উর্বর এঁটেল মাটিতে আবাদ করা হয়েছে বাঙ্গি।ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘চিনাই’ ও গোল বাঙ্গি।

এখানে প্রথাগত হাট না বসলেও সকাল-বিকাল দুই বেলা ভাঙ্গাভিটা সেতুতে বসে জমজমাট আড়ত। যেখান থেকে স্থানীয় পাইকার ও খুচরা ব্যাবসায়ীসহ ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা ট্রাকবোঝাই করে নিয়ে যান এই বিখ্যাত বাঙ্গি। এছাড়াও কৃষকরা জমি থেকে বাঙ্গি তুলে সড়কের পাশে বসেই বিক্রি করছেন পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে। এবার পাইকারদের ব্যবসা জমজমাট হলেও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতিকূল আবহাওয়া আর পর্যাপ্ত রোদের অভাবে এবার বাঙ্গি পাকতে দেরি হয়েছে, অনেক বাঙ্গি মাঠেই নষ্ট হচ্ছে।

ভাঙ্গাভিটার এই সোনালি ফসলের পথে প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

নির্মাণাধীন একমাত্র সরু সড়ক দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া করা যেমন কঠিন তেমনি সিরাজদিখানের কামারগাঁও ১০০ ফিট থেকে তুলশিখালি পর্যন্ত সড়ক সংযোগ না থাকায় এবং ইছামতি নদীর শাখার ওপর সেতু না থাকায় সরাসরি ঢাকার সাথে যুক্ত হতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে যাতায়াত বিড়ম্বনায় পানির দরে পণ্য ছাড়তে হচ্ছে তাদের। পণ্য পরিবহনেও পোহাতে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনা। মৌসুমের শুরুতে প্রতি ঝাঁকা বাঙ্গি ২ হাজার ৫শ থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ১শ থেকে ৩শ টাকায়।

কৃষকদের অভিযোগ, এই অঞ্চলের প্রধান ফসল বাঙ্গি ও রসুন চাষ হলেও আমন ধান, ধইনা ও কালিজিরাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ করেন তারা। কয়েক দশক ধরে চাষাবাদ করেন উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সঠিক পরামর্শ নিয়েই তারা এ চাষাবাদ করে আসছেন। মূলত এঁটেল মাটির গুণের কারণেই এখানে বাঙ্গি ছাড়াও রসুন, ধনিয়া ও কালোজিরার বাম্পার ফলন হয় কিন্তু সরকারি বড় পৃষ্ঠপোষকতা আর আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে এই বিশাল কৃষি সম্ভাবনা জায়গাটি।

স্থানীয়রা মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী ভাঙ্গাভিটার এই বাঙ্গিপলি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন উন্নত সড়ক যোগাযোগ, কৃষি বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা ও নজরদারি এবং দ্রুত সড়ক ও সেতু নির্মাণ এখন ভাঙ্গাভিটাবাসীর প্রাণের দাবি। তবেই বাঁচবে কৃষক, রক্ষা পাবে এই অঞ্চলের ঐতিহ্য।

তথ্যমতে, বাঙ্গির পুরোটাই জলীয় অংশে ভরপুর। এটি ভিটামিন সি, শর্করা ও সামান্য ক্যারোটিনসমৃৃদ্ধ একটি ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড, যা রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। তাই মানুষের  জন্য, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য বাঙ্গি বিশেষ উপকারী একটি ফল। বাঙ্গিতে কোনো চর্বি নেই। যারা দেহের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে বিশেষ চিন্তায় ভোগেন, তারা এ ফল খেতে পারেন নির্দ্বিধায়। দেহের ওজন কমাতে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে বাঙ্গির ভূমিকা অপরিহার্য।

বাঙ্গিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি। বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। বাঙ্গিতে চিনির পরিমাণ রয়েছে খুবই কম, তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে। এছাড়াও বাঙ্গিতে রয়েছে প্রচুর পানি, যা গরমে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। বাঙ্গি ত্বকে বয়সের ছাপ এবং ত্বক কুচকে যাওয়া প্রতিরোধ করে। বাঙ্গি থেঁতো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখলে উজ্জ্বল ও সুন্দর ত্বক পাবেন। এতসব গুণের ফল বাঙ্গির গ্রাম ঢাকার নবাবগঞ্জে।

এ বিষয়ে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আসমা জাহান বলেন, কৃষি অফিস নিয়মিত ওই অঞ্চলের কৃষকদের খোঁজ খবর রাখেন এবং সঠিক পরামর্শ দিয়ে থাকেন তবে মাঝের একটি বৃষ্টি কৃষকদের অনেকটা ক্ষতির মুখে ফেলে দিছে।

 

সহোদরই যখন সর্বনাশের কারণ—নীরব আর্তনাদে ভেঙে পড়ছে রাহিমার জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, দোহার (ঢাকা) | ২ এপ্রিল, ২০২৬
জন্মের পর থেকেই তিনি শব্দহীন এক পৃথিবীতে বসবাস করছেন। না বলতে পারেন, না শুনতে পান। কিন্তু জীবনের এই নীরবতাই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল তার জন্য। যে ভাইদের কাঁধে ভর করে বড় হয়েছেন, যে স্বামীকে জীবনের ভরসা ভেবেছিলেন—তারাই আজ কেড়ে নিয়েছে তার শেষ আশ্রয়টুকু।
ঢাকার দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়া গাংপার এলাকার বাসিন্দা বাকপ্রতিবন্ধী রাহিমা বেগম এখন এক জীবন্ত ট্র্যাজেডির নাম। অভিযোগ উঠেছে—তারই তিন আপন ভাই এবং স্বামী কৌশলে তার ৩.২৫ শতাংশ পৈত্রিক জমি হাতিয়ে নিয়েছেন। যে জমিই ছিল তার মাথা গোঁজার শেষ ঠিকানা।

মিষ্টির প্যাকেটে লুকানো প্রতারণা
ঘটনাটি ঘটে গত ৯ ফেব্রুয়ারি। সেদিন সকালে ভাইয়েরা আসেন হাতে এক প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন—হয়তো কোনো সুখবর আছে।
কিন্তু না—সেই মিষ্টির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নির্মম প্রতারণা।
ইশারায় রাহিমা বোঝাতে চেষ্টা করেন—তার আঙুলের টিপসই নেওয়া হয়েছে কিছু কাগজে। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেননি, সেই টিপসই মানে তার জীবনের শেষ সম্বলটুকু হারানো।

সন্তানদের চোখে মায়ের নিঃশব্দ কান্না
রাহিমার ছেলে ফয়সাল রনি কাঁপা কণ্ঠে বলেন—“আমার মা কথা বলতে পারেন না, শুনতেও পান না। এই সুযোগটাই নিয়েছে সবাই। আমরা কিছুই জানতাম না। আমার বাবাও আরেকটা বিয়ে করে আলাদা থাকে। এখন আমার মা নিঃস্ব।”
তিনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন—মায়ের অজান্তেই জমিটি রেজিস্ট্রি করে ফেলা হয়েছে।
আজ সন্তানদের সবচেয়ে বড় কষ্ট—মা কাঁদছেন, কিন্তু তার কান্নার ভাষা নেই। আর তারা অসহায়ের মতো সেই কান্না দেখেই যাচ্ছেন।

আইনি প্রশ্নে জটিলতা, ন্যায়বিচার অনিশ্চিত
আইনজীবীদের মতে, একজন বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা এবং নিশ্চিত সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু এই ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কিনা—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানানো হয়েছে—প্রতিবন্ধী কার্ড থাকলে দলিল করা সম্ভব। তবে এখন যদি প্রতারণার অভিযোগ ওঠে, তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া উপায় নেই—যা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং একজন অসহায় পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব এক লড়াই।

নীরব চোখের জল—সমাজের বিবেকের সামনে প্রশ্ন
সরেজমিনে দেখা যায়—রাহিমা বেগম বারবার তার আঙুল দেখিয়ে বোঝাতে চান, কীভাবে তাকে দিয়ে সই নেওয়া হয়েছে। তার চোখ বেয়ে ঝরে পড়া অশ্রু যেন ভাষাহীন এক আর্তনাদ—“আমি জানতাম না… আমার সব নিয়ে যাবে…”
তার এই নীরব কান্না শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়।

অভিযোগ ও পাল্টা দাবি—সত্য কোথায়?
অভিযুক্তরা এটিকে “পারিবারিক সমঝোতা” বলে দাবি করলেও, কেন রাহিমা বা তার সন্তানরা কিছু জানলেন না—তার সঠিক উত্তর মেলেনি।
রাহিমার বোন দাবি করেছেন—সবাই সম্মত ছিল এবং টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—রাহিমা নিজেই বলছেন, তিনি জমি দেননি।

প্রশাসনের কাছে আকুতি—ফিরে পাবে কি ন্যায্য অধিকার?
এখন রাহিমার সন্তানরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন—মায়ের অধিকার ফিরিয়ে আনার আশায়।তাদের একটাই দাবি—“সুষ্ঠু তদন্ত হোক, মায়ের জমি ফেরত চাই।”

শেষ প্রশ্ন একজন বাকপ্রতিবন্ধী মায়ের নীরব কান্না—এটা কি শুধুই একটি পারিবারিক ঘটনা?নাকি এটি আমাদের সমাজের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি?
রাহিমার চোখের জল কি পৌঁছাবে প্রশাসনের কানে?নাকি নীরবতার আড়ালেই চাপা পড়ে যাবে এক অসহায় মায়ের অধিকার?

এক প্যাকেট মিষ্টি আর একটি প্রতারণার গল্প: বাকপ্রতিবন্ধী রাহিমার সবটুকু কেড়ে নিল আপনজনরাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, দোহার (ঢাকা) | ২ এপ্রিল, ২০২৬
বিধাতা তার কণ্ঠ থেকে শব্দ কেড়ে নিয়েছেন, শ্রবণেন্দ্রিয় ডুবিয়ে দিয়েছেন এক গভীর নীরবতায়। কিন্তু হৃদয়ের যে ভাষা আর চোখের যে আকুতি—তা বোঝার ক্ষমতা কি এই সমাজের আছে? ঢাকার দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়া এলাকার বাকপ্রতিবন্ধী রাহিমা বেগম কোনোদিন কল্পনাও করেননি যে, তার সেই নীরবতার সুযোগ নিয়ে তার বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নেবে তার নিজের জন্মদাতা ভাই আর জীবনসঙ্গী।

মিষ্টির প্যাকেটে মোড়ানো বিষাদের ছোয়া। দিনটি ছিল গত ৯ ফেব্রুয়ারি। রাহিমার তিন ভাই নুরুল, সিরাজুল আর জার্মান প্রবাসী সাইদুল। সকালে যখন দুই ভাই নুরুল এবং সিরাজুল এসে বোনকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যাচ্ছিলেন, রাহিমা হয়তো ভেবেছিলেন আপন রক্তের টানে ভাইয়েরা তাকে একটু সঙ্গ দিতে এসেছেন। বিকেলে যখন বাড়ি ফিরলেন, রাহিমার হাতে ছিল এক প্যাকেট মিষ্টি।
সন্তানরা যখন ইশারায় জিজ্ঞেস করলেন, “মা, কিসের মিষ্টি?”—রাহিমা তখন হাসি মুখে হাতের আঙুলের টিপসই দেখিয়ে বোঝাতে চাইলেন, কোনো এক কাগজে সই দিয়ে এসেছেন তিনি। সেই মুহূর্তের সেই হাসিটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। তিনি জানতেন না, ওই আনন্দময় মিষ্টির প্যাকেটের আড়ালে লুকিয়ে ছিল তার নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু কেড়ে নেওয়ার এক নিষ্ঠুর নীল নকশা।

যখন রক্ষকই ভক্ষক হয় এবং সেই ভক্ষক হয় যদি আপনজন, তাহলে সেই মর্মযন্ত্রণা আজ সীমাহীন।
রাহিমার ছেলে ফয়সাল রনি আজ দিশেহারা। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, “আমার মা কথা বলতে পারেন না, শুনতেও পান না। বাবা আরেকটা বিয়ে করে আলাদা থাকেন। আমার তিন মামা বাবাকে হাত করে আর খালার সহযোগিতায় মায়ের ৩.২৫ শতাংশ জমি আত্মসাৎ করেছেন। আমরা কিছুই জানতে পারলাম না। আমার মা জানতেনও না যে তিনি ভূমিহীন হয়ে গেছেন।”

পারিবারিক সম্মতির দোহাই দিয়ে ভাই নুরুল ইসলাম দাবি করছেন, সব নিয়ম মেনেই জমি নেওয়া হয়েছে। অথচ খোদ রাহিমা বেগমের ইশারা বলছে অন্য কথা। তার চোখের জল আর হাতের আঙুল বারবার ইশারায় বলছে—তাকে দিয়ে সই নেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর বিনিময়ে তার সবটুকু চলে যাবে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

আইনের ফাঁক নাকি মানবিকতার মৃত্যু? এই প্রশ্ন আজ জনমনে। সাধারণত বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে কঠোর আইনি বিধান থাকলেও, এই ঘটনায় ‘প্রতিবন্ধী কার্ড’ ব্যবহারের এক অদ্ভুত যুক্তি সামনে এনেছেন সংশ্লিষ্টরা। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দাবি, প্রতিবন্ধী কার্ড থাকলেই দলিল করা সম্ভব। কিন্তু একজন মানুষ যে তার জমি হস্তান্তরের পরিণাম বুঝতে পারছেন কি না, তা যাচাইয়ের নৈতিক দায়ভার কি রাষ্ট্র বা প্রশাসনের নেই?

রাহিমার বোন রজিফা আক্তার স্বীকার করেছেন, ভাইয়েরা তাদের ‘খুশি’ করেছে এবং রাহিমার ভাগের টাকা এখনো তার কাছেই জমা আছে। প্রশ্ন জাগে, যে জমির মালিক রাহিমা, সেই টাকা বোনের কাছে কেন? কেনই বা তার সন্তানদের অন্ধকার রাখা হলো?

প্রশাসনের দুয়ারে এক নীরব আর্তনাদ রহিমা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাহিমা বেগম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন। তার দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া জল যেন সমাজের বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। তিনি আদালতে যাওয়ার ভাষা জানেন না, আইনি প্যাঁচ বোঝেন না। তিনি শুধু বোঝেন, তার বাবার দেওয়া সেই ভিটেটুকু আজ আর তার নেই।
প্রশাসনের কাছে সন্তানদের এখন একটাই আকুতি—তদন্তের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চক্রের বিচার হোক। বাকপ্রতিবন্ধী এক মায়ের নীরব কান্না কি পৌঁছাবে ক্ষমতার কান পর্যন্ত? নাকি প্রভাবশালী ভাইদের চক্রান্তে একদিন নিঃস্ব হয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে অভাগী এই নারীকে? এই প্রতিবেদককে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন জার্মান প্রবাসী সাইদুল।

দোহারের আকাশ-বাতাস আজ রাহিমার সেই অব্যক্ত যন্ত্রণায় ভারাক্রান্ত। বিচার কি মিলবে?