পদ্মা পাড়ে ‘ঈদ আনন্দ’ দোহারের ‘মিনি পতেঙ্গায়’

 এক দশক আগেও যেখানে ছিল ঘর বাড়ি হারানোর কান্না। পদ্মার করাল গ্রাসে যেখানে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে হাজারো মানুষ। সেই পদ্মার পাড় এখন দর্শনার্থীদের নজর কারছে। ছুুটির দিনগুলোকে ভ্রমণ পিপাসুদের ভীড় থাকে চোঁখে পড়ার মতো। এবারের ঈদ ও ঈদের ছুটিতে তেমনটি হয়েছিল দোহারের বাহ্রাঘাট এলাকায়।

প্রিয়জন কিংবা পরিবার নিয়ে একদিনেই ঘুরে আসার মতো জায়গা দোহারের বাহ্রাঘাট ( মিনি পতেঙ্গা)। দিন দিন স্থানটি ‘মিনি পতেঙ্গা’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। পদ্মার উত্তাল ঢেউ আর সূর্যাস্তের দৃশ্য মুহূর্তগুলোকে আরও রঙিন করে তোলে। পাল তোলা নৌকার দৃশ্য মনে জানান দিবে প্রকৃতির অসীম সৌন্দর্যের কথা। এখানে ঘুরতে আসলে যে কেউ হারিয়ে যাবে পদ্মার জলরাশির টানে। ঢাকা থেকে খুব কাছে হওয়ায় দিন দিন স্থানটি দেখতে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে এই ‘মিনি পতেঙ্গা’।

সুযোগ পেলে যে কেউ পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করতে পারেন স্থানটিতে। দিনে এসে আবার দিনেই ফিরতে পারবেন আপনার গন্তব্যে। ছুটির দিনে মানুষের উপস্থিতি থাকে চোঁখে পড়ার মতো। বিশেষ দিবস গুলোতেও নদীর পাড় জুড়ে ভ্রমণ পিপাসুদের থাকে সরব উপস্থিতি। এই মিনি পতেঙ্গাকে কেন্দ্র করে আশপাশে গড়ে উঠেছে হোটেল সহ বিভিন্ন দোকান। মিনি কক্সবাজারের মতো এখানেও উপভোগ করতে পারবেন প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য। ঢাকার গুলিস্থান থেকে প্রায় ৫৬ কি.মি. দূরে এটি অবস্থিত। আপনিও ঘুরে আসতে পারেন আপনার ছুটির দিনে। জানেন তো, মৈনট ঘাটকে ‘মিনি কক্সবাজার’ আর বাহ্রাঘাট পরিচিত ‘মিনি পতেঙ্গা’ নামে! অনেকেই এবারের ঈদের ছুটিতে ভিড় করেছেন এসব স্থানে।

গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার ঈদে ভ্রমণপিপাসুদের ভীড় ছিল ভিন্ন রকম। কয়েক বছর ঘরবন্দি ঈদ করেছে সবাই। এ বছরই সুযোগ হয়েছে পরিবার পরিজন নিয়ে ভ্রমণ করার। তাই ঈদের দিন থেকেই ভীড় বাড়তে থাকে স্থানটিতে। পদ্মার পাড় জুড়ে জেলেদের সারি সারি নৌকা আর জলরাশির ঢেউ যে কাউকে মুগ্ধ করবে নিমিষেই।

পদ্মা পাড়ে ‘ঈদ আনন্দ’ দোহারের ‘মিনি পতেঙ্গায়’

ভ্রমণ করার জন্য রয়েছে ট্রলার। অল্প খরচেই খুব স্বাচ্ছন্দভাবে এই ট্রলার নিয়ে পুরো পদ্মা ভ্রমণ করতে পারবেন। এছাড়াও আছে স্পিড বোটে পদ্মা ভ্রমণের সুযোগ।

যেভাবে যাবেন মিনি পতেঙ্গায় : ঢাকার গুলিস্থান থেকে বাসে সেখানে যেতে সময় লাগে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। গোলাপশাহ মাজার থেকে দোহারের মৈনট ঘাটে সরাসরি বাসে যেতে জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা হলেও ঈদ কেন্দিক একটু বেশী ভাড়া।

ঢাকার বসিলা ব্রিজ পার হয়ে কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া, আটিবাজার হয়ে নবাবগঞ্জ চৌরঙ্গী পেড়িয়ে দোহারের কার্তিকপুর বাজার থেকে বামে গেলে মৈনট ঘাট। তারপর সোজা গেলে বাহ্রাঘাট। আবার বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়েও পৌঁছানো যায় একই গন্তব্যে।

দোহারের সুন্দরীপাড়ায় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নে সুন্দরীপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ঝমকালো ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। শুক্রবার (৬ মে) রাত ১০ টায় সুন্দরীপাড়া রুপলী যুব সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে সুন্দরীপাড়া প্রিমিয়ার লীগ-২০২২ অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে সুন্দরীপাড়া ওয়ারিওরসকে ৯ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সুন্দরীপাড়া ভিক্টোরি।

কুসুমহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ইঞ্জিনিয়ার এম.এ খান সোহেল, কুসুমহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মন্ডল, বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদার_ , স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাফর ইকবাল লাভলু শিকদার, ডা. মো. শামীম হোসেনসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

দোহারে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন ভাসছে পানিতে

হঠাৎ করে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকার দোহারের কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন ভাসছে পানিতে। দোহার ও পার্শবর্তী জেলা ফরিদপুরের চর ভদ্রাসন উপজেলায় এবার বোরো এবং আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে । এই দুই উপজেলার সর্বত্র পাকা ধানের সোনালী শীষ যেন হাতছানি দিচ্ছিলো । নুতন ধানের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছিল গ্রামের পর গ্রাম। আশায় বুক বেঁধেছিল স্বপ্নে বিভোর কৃষকেরা । ধান কাটার আর কটা দিন বাকি। ঠিক তার আগ মুহূর্তে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেল দোহার উপজেলার মাহমুদপুর, কুসুমহাটি, বিলাশপুর এবং ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর ঝাউকান্দা, গোপালপুরের প্রায় ১৯০ একর জমির পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান ।

জোয়ারের পানি পদ্মার কয়েকটি শাখা নদী দিয়ে ঢুকে পড়ায়। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকা বোরো ধান ও আউশ ধানের জমি তলিয়ে গেছে। পদ্মা নদীর আশেপাশের এলাকার ধানের সাথে তলিয়ে গেছে কৃষকের বুকভরা স্বপ্নও।

আর এ তলিয়ে যাওয়া ধান নিয়ে কৃষক পড়েছেন বিপাকে। অনেকেই আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন । কৃষি শ্রমিকের চরম সংকট দেখা দিয়েছে এই এলাকায় । চড়া মজুরি দিয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া না যাওয়ায় দুশ্চিন্তাই পড়েছেন কৃষক। আবার ধান না তুললেও কৃষককে না খেয়েই মরতে হবে । তাইতো জীবন পণ করে এলাকার নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ, যুবকরা পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কেটে নৌকাযোগে পারে আনার চেষ্টা করছেন।

চর মাহমুদপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন জানান, জোয়ারের পানিতে তার প্রায় ৭ বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। ১০০০ টাকা করে ছয়জন শ্রমিক এনে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। পানিতে শ্রমিকরা তেমন ধান কাটতে পারছেন না।

নারানপুর গ্রামের কৃষক সামাদ বেপারী বলেন, অন্য বছর ধান কাটার এক দেড় মাস পর তাদের জমিতে পানি আসে। এবার ধান কাটার আগ মুহূর্তে হঠাৎ পানি এসে কৃষকের সর্বস্বান্ত করে ফেলেছে। যেভাবে ধান কাটা হচ্ছে এতে প্রতি মণ ধানে প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হবে।

চর ঝাউকান্দার কৃষক বাবুল জানান, ” আমি ১৩ বিঘা ধান বুনছিলাম। সব ধান এখন পানির নিচে। ডুবিয়ে ডুবিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে আমাদের। অনেক লোকশান হবে এবার।

নারানপুর গ্রামের আরেক কৃষক লতিফ ভুইয়া বলেন, ” পানিতে সব ধান তলিয়ে গেছে। অনেক পানি বাড়ছে আর একারণে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। “

চর বৈতা গ্রামের কৃষক হোসেন মোল্লা জানান, ” আমরা কয়েকজন মিলে ৩৪ বিঘা জমিতে ধান রোপন করছি। অর্ধেক জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আমরা ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছি না। তিনি আরো জানান, কৃষকরা তাদের ৫০ ভাগ ধান কাটতে পারবে না বলে আমি মনে করেছি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোহারের পদ্মা পাড়ের এলাকার শত শত কৃষকের বোরো ও আউশ কয়েকদিনের জোয়ারের পানিতে অনেক জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে। আবার অনেক জমির ধান ভাসছে বন্যার পানিতে। অথচ গত সপ্তাহেও খেতের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছিল সবুজের সমারোহ। যা নিয়ে স্বপ্নে বিভোর ছিলেন কৃষকরা।

কৃষকের সোনালী স্বপ্ন পানিতে ভাসার কারনে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের। সরকারি সহয়তায় এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন কৃষকরা এমনটাই প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।

এবিষয়ে দোহার উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মামুন ইয়াকুব বলেন, দোহারে কিছু স্থানে ধান খেতে পানি টুকেছে এতে কৃষকরা কিছু টা ক্ষতির মধ্যে পরবে বলে আমরা আশা করি। আমাদের কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছে আর এতে হয়তো কিন্তুটা ক্ষতি কম হবে এবং এতে পানির নিচে ধান থাকলে পঁচে যাবে সে থেকেও তারা রক্ষা পাবে এই ধান কাটার জন্য। আমাদের দোহারে ক্ষতির পরিমান ২% হবে। সারাদেশে সরকার ক্ষতিগ্রহস্থ কৃষকদের সহায়তা দিলে দোহারের কৃষকরাও এ সহায়তা পাবে।

আরাম ও নগরের কাছে জিম্মি দোহারবাসী 

ঢাকার দোহার উপজেলায় ঈদকে সামনে রেখে গন পরিবহনে চরম নৈরাজ্য চলছে। এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে এপথ দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা। জানা যায়,দোহার টু-শ্রীনগর হয়ে গুলিস্থান পর্যন্ত চলাচলকারী পরিবহন দুটি নগর ও আরাম পরিবহন লিমিটেড। পরিবহন সমিতির ও পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রী সেবার শৃঙ্খলার পরিবর্তে যাত্রীদের হয়রানী ও ভোগান্তি বহুগুনে বৃদ্ধি করেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। অপরদিকে ফিটনেসবিহীন হিসাবে গন্য অধিকাংশ পরিবহনগুলো চলছে এই রুট দিয়ে।

দোহার উপজেলায় ব্যাংক-বীমা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,হাসপাতাল,উপজেলা পরিষদ,পৌরসভা,থানা,বিশ্ববিদ্যালয় সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা প্রতিদিনই ঢাকা গিয়ে এসে অফিস ও প্রয়োজনীয় কাজে স্থানীয়রা চলাচল করে থাকে এই রুটে। এসকল যাতায়াতকারী যাত্রীদের তুলনায় গনপরিবহনের সংখ্যা খুবই কম । তাছাড়া সময় নিয়ন্ত্রনের জন্য ঈদ উপলক্ষ বিশেষ কোন সার্ভিস চালু করা হচ্ছেনা। পাশাপাশি সড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা এক পরিবহন আরেক পরিবহনের গাড়ীকে আটকে রাখছে। ফলে যাত্রী সেবার মান নেই বললেই চলে এমন অভিযোগ প্রায় কয়েক হাজার যাত্রীদের। সাধারনত এই সব বাসের আসন ৩৬/৪৮ টি হলেও প্রতিটি বাসে শতাধিক যাত্রী নিয়ে বহন করে। যাত্রীভাড়া তুলনামুলক মাত্র ৫০ কিলোমিটারে যাত্রীদের ভাড়া ৯০ থেকে ১১০ টাকা।

দোহারের বাস সার্ভিসগুলোর মধ্যে আরাম পরিবহন লিমিটেড,নগর পরিবহন,জয়পাড়া পরিবহন,ডিএনকে পরিবহন ও ফুলতলা সেবা পরিবহন নামে পাঁচটি গনপরিবহনের প্রায় একশত বত্রিশ খানা বাস রয়েছে যা প্রায় তিন লক্ষাধিক জনসাধারনের জন্য অপ্রতুল। আবার এদের মধ্যে ফিটনেসবিহীন হিসাবে গন্য অধিকাংশ পরিবহনগুলো চলছে এই রুট দিয়ে। প্রশাসনকে ফাকিঁ দিয়ে প্রভাবশালী পরিবহন সমিতির ও পরিবহন শ্রমিকদের নেতা-কর্মিরা যাত্রী সেবার শৃঙ্খলার পরিবর্তে যাত্রীদের হয়রানী,ভোগান্তি ও পরিবহন সমিতির নামে প্রতিটি গাড়ি থেকে ১৩৫০ টাকা করে জিপি ফান্ডের নামে চাদাঁ উত্তোলন করছেন এই পাঁচ পরিবহনের নেতারা। কাউন্টার সার্ভিস এর নামে আরাম পরিবহন ও নগর পরিবহন পুরোটাই ভেল্কিবাজি করে যাত্রীদের সাথে। জয়পাড়া থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত বিরতিহীন কাউন্টার থাকলেও এর আগে-পরেও যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানামা করায় এবং আসন শেষ হওয়ার পরও যাত্রীদের দাড়িয়ে শুধু নয় একজনের সাথে আরেকজনের শরীর মিলিয়ে বহন করে থাকে। এছাড়াও সময়মতো গাড়ি চলাচল করে না। যাত্রীরা যেন মানুষ নয়,পন্যের সামগ্রীর মতো সাজিয়ে বাসের ছাদের উপর মালামাল তুলতেও ভুল হয় না এদের। সময় নিয়ন্ত্রনের নামে বেপরোয়াভাবে চলে তারা যার ফলে দূর্ঘটনা হয় সবচেয়ে বেশী। সন্ধ্যা হলেই এসব গাড়ীর চালক হিসেবে হয়ে উঠে গাড়ির হেলপাররা। পাশাপাশি দোহার জয়পাড়া-গালিমপুর হয়ে ঢাকা রুটে চলাচলকারী জয়পাড়া পরিবহনের ও ডিএনকে পরিবহন বাসগুলোর সময় নিয়ন্ত্রন না থাকায় এবং ফিটনেসবিহীন বাসগুলোর অবস্থা আরও করুন থাকায় এ পথ দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের হয়রানী ও ভোগান্তির শেষ নেই। এছাড়াও ফুলতলা সেবা পরিবহন সার্ভিসটির অবস্থা একই রকমের থাকায় যাত্রীদের হয়রানী ও ভোগান্তির শেষ নেই।

জয়পাড়া থেকে প্রতিদিন পদ্মা সরকারি কলেজে যাতায়াত করেন ইংরেজি প্রভাষক তারেক তিনি জানান, আমি যখন অটোরিকশা যায়ই তখন প্রায়ই দেখি দুটি পরিবহনের ছয়টি,চারটি বা দুটি বাস এক সাথে চলাচল করে একটি আরেকটিকে সাইড দেয় না। একটি আরেকটিকে ধরে রাখে আর এতে আমাদের সময়মত গন্তব্য স্থানে যেতে অনেক সমস্যা হয়।

এ বিষয়ে আরাম পরিবহনের পরিচালনা দায়িত্ব থাকা জামাল হোসেনকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি একটু অসুস্থ ঢাকায় থেকে ডাক্তার দেখিয়ে এসেছি তাই কথা বলতে পরিতেছি না পরে আপনার সাথে কথা বলবো।

এ বিষয়ে নগর পরিবহনের দায়িত্ব থাকা আবদুল রশিদ বলেন, আমাদের বাস লোকাল বাস তাই আমরা লোকাল যাত্রী উঠাই এবং নামাই। কিন্তু আরাম পরিবহন লিমিটেড তাদের বাস সিটিং সার্ভিস
তারা কাউন্টার ছাড়া যাত্রী উঠায় ও নামায়। আমাদের বাসের আগে তাদের বাস ছাড়া হয়। কিন্তু আমাদের বাস ছাড়ার পর তাদের বাস কিছু দূর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ কারনেই এক বাস আরেক বাসের সাথে চলাচল করতে দেখা যায়। এ নিয়ে অবেক বার বসা হয়েছে এবং চিঠিও দেওয়া হয়েছে কিন্তু কেন সমাধানে আসছে না আমরাও চাই এটির সমাধান। আর ঈদে ড্রাইভার ও হেলপারদের বকশিশ দিতে হয়।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মোস্তফা কামাল জানান, জনসাধারনের চলাচলের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূন তবে চাদাঁবাজির বিষয়টি তার জানা নেই। পরিবহন মালিকরা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন জানান, জনসাধারনের চলাচলের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন। প্রতিদিনই এ পথ দিয়ে ঢাকা টু দোহার এবং দোহার টু ঢাকা মুখে চলাচলকারীর সংখ্যা অনেক অনেক বেশী। আর এর সুযোগ লুফে নিচ্ছে এক শ্রেনীর লুটেরা। খুব শ্রীঘ্রই আমরা এর প্রতিকার করবো এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ী জব্দ করবো।

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার, দোহারে ঘর ও জমি পেল ৩০ পরিবার

মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সরকারের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের পরিক্রমায় আগামী ২৬ এপ্রিল ৩য় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই উপলক্ষে ঢাকার দোহার উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেছে দোহার উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পড়ে শুনান দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবাশ্বের আলম।
তিনি জানান, আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্পের আওতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্মিত ৩য় পর্যায়ের ঘরে ১ম ও ২য় পর্যায়ে নির্মিত ঘরের তুলনায় বেশ কিছু টেকসই ও গুনগত মানের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ২৬ এপ্রিল সারা দেশের ন্যায় ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় মোট ৩০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতক করে ৬০ শহতক জমির কবুলিয়ত দলিল ও নামজারি খতিয়ানসহ নতুন ঘর হস্তান্তর করা হবে। প্রতিটি ঘর নির্মানে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৬০ শতক জমির আনুমানিক বাজার মূল্য ১৮ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রীর পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমিসহ ঘর প্রদানের সীদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দোহার উপজেলায় এ জমি ও ঘর দেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল- সাঈদ, সহকারী প্রকৌশলী শেখ রাজিবসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

ঈদে আওয়ামিলীগের ন্যায় বিএনপিকে গরীবের পাশে দাঁড়ানোর আহবান নির্মল গুহের

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে সহায়তা নিয়ে বিএনপি নেতাদের গরিবের পাশে দাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ।
রোববার বিকাল ৫টায় ঢাকার দোহার উপজেলার বাস্তা গ্রামের নিজ বাড়িতে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে এ আহ্বান জানান নির্মল রঞ্জন গুহ।
তিনি চলমান রমজানে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবারে মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছেন বলে জানান।
নির্মল রঞ্জন গুহ বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বসে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতারা ষড়যন্ত্র করে আর এই ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনার উন্নয়ন বানচাল করতে পারবেন না। করোনা মহামারি, বন্যা পরিস্থিতে দুস্থ, অসহায় মানুষের সহায়তায় আপনাদের দেখা যায়নি। আপনারা শুধু দলীয় কার্যালয়ে বসে বসে বড় বড় বক্তব্য রাখেছেন। তাই আসুন পবিত্র ঈদুল ফিতরে গরিব, অসহায় ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পাশে দাড়াই। তাদের উপহার সামগ্রী দিয়ে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি।

তিনি আরো বলেন, আমরা নেতা নয়ই। আমরা প্রত্যেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। তাঁরই নির্দেশে স্বেচ্ছাসেবকলীগ করোনা মহামারী, বন্যা, ঈদ, রোজা, পূজায় দুস্থ, অসহায় মানুষের পাশে থাকে।

দোহারে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ঢাকা জেলা দোহার উপজেলার লটাখোলা পালবাড়ি এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আতর আলী (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, দুর্ঘটনায় নিহত আতর আলী দোহার উপজেলার লটাখোলা পালবাড়ি এলাকার মৃত আজগর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার (২৩) এপ্রিল বেলা পৌনে ১১ টার দিকে মুদি দোকানদার আতর আলী দোকান থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময়ে একটি মোটরসাইকেল বেপরোয়া গতিতে এসে আতর আলীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

এমনত অবস্থায় পথচারিরা তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহত আতর আলীর পরিবার ও এলাকাবাসি হাসপাতালে ছুটে আসেন। দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এঘটনায় আহত মোটরসাইকেল চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

দোহারে পৌর প্রশাসক নিয়োগ

ঢাকা দোহার উপজেলায় এই প্রথম দোহার পৌরসভা পৌর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে আজাদ হোসেন খান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ঢাকা জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম এই দোহার পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। আগামী পৌর নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি দোহার পৌরসভার দায়িত্ব পালন করবে। তিনি এর আগে জয়পাড়া পূর্ব বাজারের সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই নিয়োগে পৌরবাসী চাচ্ছেন সুস্থ অবাধ নির্বাচন এবং তিনি যতদিন থাকবে পৌর বাসীর উন্নয়নে কাজ করবেন এই কামনা করছেন তারা।

এবিষয়ে দোহার পৌরসভার ইন্জিনিয়ার মশিউর রহমান বলেন, গতকালকে পৌর প্রায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর সরকার সরকারি কর্মকর্তা বা যে কেউকে পৌর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারে আইন আছে।

এবিষয়ে দোহার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম বলেন, গতকালকে পৌর প্রসাশক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যত দিন পর্যন্ত নির্বাচন না হবে ততোদিনে জন্য সে এই পৌরসভার দায়িত্ব পালন করবে। তিনি তো সরকারি কোন লোক নয় কেন তাকে নিয়োগ দেওয়া হল সে বিষয় জনতে চাইলে তিনি বলেন এটা জেলা প্রসাশক দিতে পারে সে জন্য তাকে পৌর প্রসাশক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দোহারে বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

0

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। সোমবার ১৮ই এপ্রিল জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠিত ও আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এসময় ভীষণ গরমকে উপেক্ষা করে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপস্থিত সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে ধন্যবাদ জানান দোহার উপজেলা প্রশাসন ও দোহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার ফলাফলঃ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যঃ”ক” বিভাগের প্রথম, জান্নাতুল ইসলাম – বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। খ” বিভাগের প্রথম, সিয়ামুর রশিদ সিয়াম – মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল এন্ড কলেজ। ” গ” বিভাগের প্রথম, তানহা – বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।

বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধঃ “ক” বিভাগের প্রথম, নূরে জান্নাত নিশাত-নারিশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। খ” বিভাগের প্রথম, আনজুম জুবাইদা- মুকসুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়, দোহার,ঢাকা। ” গ” বিভাগের প্রথম, সাবিকুন নাহার- মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল এন্ড কলেজ।

গনিত ও কম্পিউটারঃ “ক” বিভাগের প্রথম, মাহিদুল ইসলাম – মুকসুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়।”খ” বিভাগের প্রথম,লামিয়া আক্তার-বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দোহার,ঢাকা। “গ” বিভাগের প্রথম, মিথিলা রানী দাশ- মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল এন্ড কলেজ।

বিজ্ঞানঃ “ক” বিভাগের প্রথম, সানজিয়া- ইকরাশী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।” খ” বিভাগের প্রথম, শিকদার মোহাম্মদ জিয়া- জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।”গ” বিভাগের প্রথম, ইসরাত জাহান – মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল এন্ড কলেজ।

ইসলামি ব্যাংক দোহার শাখার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঢাকার দোহারে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ইফতার মাহফিল-২০২২অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টায় উপজেলার জয়পাড়া ইসলামি ব্যাংক দোহার শাখায় এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ঢাকা দক্ষিণের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জোন প্রধান মীর রহমত উল্লাহ সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ব্যস্ততার জন্য উপস্থিত ছিলেন না দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন।

প্রধান অতিথি বক্তব্য মীর রহমত উল্লাহ বলেন, একটি কথা না বললেই না, খুব সিম্পল খুব সাধারন লোকেরা বলে ইসলামি ব্যাংকে সুধখায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। সুদ ও প্রফিট ব্যবস্থাটা আগে বুঝতে হবে। সুধ এক বিষয় আর প্রফিট হলো আরেকটা বিষয় গ্রাহকদের আগে এটা বুঝতে হবে। ইসলামি ব্যাংক যখন চালু করা হয় তখন অনেকের ধারনা ছিল ইসলামি ব্যাংক চলবে না। কিন্তু এখন ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ একটি অন্যতম ব্যাংক। অনেকেই চায় এই ব্যাংকে দমিয়ে দিতে কিন্তু আল্লাহ রহমতে তা পারবে না। আমাদের ব্যাংক চালু হওয়ারপর আরো অনেক ব্যাংক চালু হয়েছে। কিন্তু তারা এখন পিছিয়ে আছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাইদুর রহমান ইসলামি ব্যাংক নবাবগঞ্জ শাখার ম্যানেজার,
দোহার শাখার ম্যানেজার আবদুল আলীম সরকার, বিলাশপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদারসহ ব্যাংকটির কর্মকর্তা এবং গ্রাহকবৃন্দ। এ সময় “সিয়াম, তাকওয়া, সাদকাহ ও ওয়াকফ” শীর্ষক আলোচনা করেন কুসুমহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুল ওয়াহাব দোহারী। পরে দোয়া ও মোনাজাত করেন আলহাজ্ব মাওলানা আহমদ আলী ফরাজী ইমাম ও খতিব, নিকড়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা।