দোহার পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা কেড়ে নিচ্ছে জনগণের জায়গা

ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বছরের পর বছর ধরে আবার কোন স্থানে কয়েক মাস ধরে বেশ কয়েকটি সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটি সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজও শেষ হয়েছে অনেক দিন ধরে। কিন্তু সে গুলোতেও দেখা যাচ্ছে ড্রেনের পাশ দিয়ে রাস্তা ভেঙে ড্রেনের ভিতরে টুকে যাচ্ছে। কিন্তু এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাস্তা গুলো যান চলাচলের জন্য সড়কগুলো সংস্কার না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সড়কগুলো ব্যবহারকারীদের।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার গাংপাড় এলাকা থেকে খারাকান্দা পশু হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় দুই বছর খানিক ধরে রাস্তা খুরে ফেলে রাখা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য। আবার খারাকান্দা মাঝি বাড়ি থেকে আবেদ আলী মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত এই রাস্তাটিও প্রায় বছর খানেক ধরে খুরে রাখা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য।

অন্যদিকে উত্তর জয়পাড়া কুটি বাড়ি থেকে সাহেব বাজারের রাস্তা পর্যন্তও একই অবস্থা। এই রাস্তা গুলোতে দির্ঘ দিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা জন্য পাইপ ফেলে রাখা হয়েছে। আর এতে ভোগান্তিতে পরছে ঐ স্থানের বাসিন্দারা। এসব রাস্তায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা জন্য পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। তবে পাইপ বসানো শেষ হলেও রাস্তা যান চলাচলের উপযোগী করা হয়নি। এতে ভোগান্তির শেষ নেই ঐস্থানের বাসিন্দাদের। আর এতে ধুলাবালুতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। সাথে বৃষ্টি নামলে বৃষ্টির পানি জমে জন্মাচ্ছে মশা।

পৌরসভার মাঝিবাড়ি থেকে আবেদ আলী মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত এই রাস্তার বিষয় জানতে চাইলে স্থানীয় রফিক, সোনামিয়া ও রাহেলা বলেন, এই রাস্তাটি বছর খানিক ধরে পরে আছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য। ড্রেনেজ ব্যবস্থা জন্য পাইপ বসালেও রাস্তাটি এখনো ঠিক করা হয়নি আর এতে আমাদের কারো কোন অসুবিধা হলে ডাক্তারের কাছে রোগীকে নিতে অনেক কষ্ট হয়। এখন এই রাস্তার জন্য আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।

মোজ্জাফর ও দোলাল বলেন, এই রাস্তাটি ঠিক করা হচ্ছে না। পৌরসভার উন্নয়ন এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভা বলছে এই রাস্তাটি এখন বিশ ফুট চড়াও হবে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে বাড়িঘর ভাঙতে হবে। আমাদের জায়গা আছে অল্পএকটু তার মধ্যে যদি রাস্তার জন্য নিয়ে যায় তাহলে কি করে আমরা থাকবো। সে জন্য এবিষয়ে আমরা পৌরসভার কাছে আমরা দরখাস্ত দিয়েছি রাস্তা যাতে বড় না করার সে জন্য। কিন্তু মাঝি বাড়ি থেকে খারাকান্দা মোড় পর্যন্ত ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তা বড় করা হয়েছে। এখন আমরা চাই আমাদের এই পাশে যতটুকু রাস্তা আছে সেই টুকুই থাক আমাদের রাস্তা বড় লাগবে না।

কুটি বাড়ির এলাকার হারুন রশীদ (৪৮) বলেন, আমাদের এই রাস্তাটি পায়ে হাটার জন্য আমরা নিজেদের জায়গা দিয়ে তৈরী করেছিলাম। পরবতীতে এই রাস্তাটি নয় ফুট করা হয় যাতায়াতের জন্য। পৌরসভা যখন ড্রেন নেয় তখন আমাদের বলা হয়েছিল রাস্তা বড় হবে না যতটুকু আছে ততোটুকই হবে। পরে তারা বলে রাস্তা বিশ ফুট হবে আমরা আগে জানলে এই রাস্তা দিয়ে ড্রেন নিতে দিতাম না।তাছাড়া যেখানে মেইন রোড ১৩ ফিট রাস্তা সেখানে এই রাস্তা কি করে বিশ ফুট হয় এটাই আমার প্রশ্ন?

আমরা সবাই মিলে এ জন্য কোটে মামলা করেছি যাতে রাস্তা বড় না হয় সে জন্য রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। এই রাস্তাটি একশত ফুট আর এই একশত ফুট রাস্তায় চওড়া বিশফুট কি করে হয় আপনারাই বলেন?

পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা কেড়ে নিচ্ছে জনগণের জায়গা

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা সরকার অনেক উন্নয়ন করতেছে। এমনকি ভূমি হীনদের ভূমি, আশ্রয় হীনদের আশ্রয় দিচ্ছে। সেই জায়গায় পৌরসভার ড্রেন ও রাস্তার উন্নয়নের জন্য তারা আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে ভূমিহীন করছে। তাই আমরা ঘরবাড়ি বিলিন করে দিয়ে রাস্তা ও ড্রেনের উন্নয়ন চাই না।

এ বিষয় দোহার পৌরসভার পৌর প্রশাসক বলেন, আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কাজ করে যাচ্ছি এবং আমার মেয়াদ অল্প দিনের জন্য। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক দিন ধরে পরে আছে আর এতে কিছু রাজনৈতিক সমস্যা ছিল। তাছাড়া আগের মেয়র অসুস্থ থাকার কারনে ঘটনা স্থানে যেতে পারিনি সে জন্য তদারকি না থাকায় এত দিন ধরে পরে আছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে বর্তমানে সালমান এফ রহমান নিজে পৌরসভার দিকে নজর দিয়েছে পৌরসভার সমস্ত উন্নয়নের কাজ তিনি নিজে করছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা টিকাদারদের সাথে কথা বলেছি তারা বলতেছে রাস্তার মধ্যে যে ঘর এসে পরেছে সে ঘরগুলো ভেঙ্গে দিলেই আমরা কাজ দ্রুত করে দিব। রাস্তা যেন বড় না করার হয় সে জন্য জনগণ যে দরখাস্ত দিয়েছে সে বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আবার সবার সাথে বসবো বসে যেটা ভাল হয় সেটাই করবো।

দোহারে জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পরিসংখ্যান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ কতৃক আগামী ১৫ থেকে ২১ জুন তারিখে সপ্তাহব্যাপী জনশুমারি ও গৃহগণনার মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তারি ধারাবাহিকতায় দোহার উপজেলাও জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম শুরু হবে। সে লক্ষ্যে দোহার উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের আওতায় ১১৩ জন গনণাকারী ও ১৬ জন সুপারভাইজারদের ট্রেনিং সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। গত ৪ জুন শনিবার হতে ৭ জুন মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রথম শিফট এর প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় প্রশিক্ষণ আগামী ৯ জুন হতে ১২ জুন পর্যন্ত হবে। আগামী ১৫-২১ জুন ২০২২ তারিখকে শুমারি সপ্তাহ হিসেবে এবং ১৪ জুন তারিখ দিবাগত রাত ১২টা শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট বা শূন্য মুহূর্ত ধরে গণনা শুরু হবে।

১ম শিফট এর শেষ দিনে প্রশিক্ষন কেন্দ্রে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম। দোহার পৌর প্রশাসক মোঃ আজাদ হোসেন খান, ইউসিসি মোঃ ফুরকান আহমেদ।

সে-সময় দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম জানান, সরকার ইতিমধ্যে জনগণের তথ্য গ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ কারীদের ১১৩ জনের মাঝে গননার জন্য ওয়ালটন কোম্পানির ওয়ালটন ট্যাবলেট বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, যারা আজকে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন তারা যখন তথ সংগ্রহ করবেন তখন অবশ্যই সঠিক তথ্য গ্রহণ করবেন যা কোন ভুল না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখবেন।

দোহার পৌরসভা হলরুমে প্রতিদিন সকাল ৯ টা হতে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ‌দোহার পৌরসভার দক্ষ জোনাল অ‌ফিসার মোঃ সোহেল রানা এবং আইটি বিভাগের কর্মরত শারমিন সুলতানা মেরি প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন এই ১১৩ জন কর্মীকে।

নতুন সীমানা গেজেটেই ২৭জুলাই দোহার পৌরসভা নির্বাচন

দীর্ঘ ২২ বছর পর আগামী ২৭জুলাই দোহার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৌরবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় এ নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব আতাউর রহমান। প্রজ্ঞাপনে বলা হয় নতুন সীমানা গেজেট অনুসারে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৮ জুন ও মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ ৩০ জুন। প্রার্থীতা প্রতাহারের তারিখ ৭ জুলাই এবং ২৭ জুলাই ২০২২ দোহার পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণ করা হবে ইভিএম এ মধ্যেমে। এই ভোট গ্রহণ চলবে সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দোহার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা যায়।

এরইমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের ফেসবুকে পোষ্ট দিচ্ছে ও দোয়া চাচ্ছে। এতো বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেনে ভোটাররাও আনন্দিত।

দোহার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনার পৌরসভার নির্বাচনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। দোহার পৌরসভার নির্বাচন নতুন সীমানা গেজেটে হবে। সেই ক্ষেত্রে যারা ৫নং ওয়ার্ডে ছিলো, তারা তো ৪নং ওয়ার্ডে চলে এসেছে। তারা কোন স্থানে ভোট দিবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের সব কিছু ঠিক করা আছে। নির্বাচনের আগে তা জনগন জানতে পারবে।

ইভিএম এর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন,

দোহারে পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন যে ভাবে হয়েছে সেই ভাবেই দোহার পৌরসভার নির্বাচন হবে।

দোহার উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, দোহার উপজেলার জয়পাড়া, রাইপাড়া, সুতারপাড়া ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের কিছু এলাকা নিয়ে ২০০০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দোহার পৌরসভা গঠিত হয়। ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম দোহার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভোটার তালিকা, সীমানা জটিলতা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ২২ বছর নির্বাচন বন্ধ ছিল।

২০১৩ সালে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও নির্বাচনের ঠিক ৩ দিন আগে চরলটাখোলা গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুস সোবাহান ও কাঁঠালিঘাটা গ্রামের মৃত ফায়জুদ্দিন বেপারির ছেলে মজিবর রহমান পৌর এলাকার সীমানা জটিলতা নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। এরপর পৌরসভার নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লেখ ২০২১ সালের ২৬ জুলাই, সোমবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৭তম সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সীমানা জটিলতার সমাধান হয়। দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন এর প্রচেষ্টায় এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং দোহার উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দোহার পৌরসভার সীমানা সংকোচন এবং সম্প্রসারণ করা হয়।

দোহারে ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ঢাকার দোহার উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযান পরিচালনা করে ২২৫০(দুই হাজার দুইশত পঞ্চাশ) পিছ ইয়াবাসহ চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ।

রবিবার রাতে দোহার থানার ওসি মোস্তফা কামালের নির্দেশে এসআই নান্টু কৃষ্ণ মজুমদার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুতারপাড়া ইউনিয়নের দোহার বাজার এলাকা হতে সীতা শর্মা(৪০), ও আনোয়ার হোসেন আনু(৩৮) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য অনুযায়ী মোঃ হাসান ওরফে চায়না হাসান(২৩) ও মোঃ ফিরোজ রহমান(৪৫) কে আটক করা হয়। পরে তাদেdOharর কাছ থেকে ২২৫০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬,৭৫,০০০/= (ছয় লক্ষ পঁচাত্তর হাজার) টাকা।

গ্রেফতারকৃত সীতা শর্মা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার পশ্চিম ডেলাপাড়া কেতিবিল গ্রামের স্বর্গীয় জয়ন্ত কুমার শীলের কন্যা। মোঃ আনোয়ার হোসেন আনু ঢাকার দোহার উপজেলার রায়পাড়া ইউনিয়নের বৌ বাজার খালপাড় এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে, চায়না হাসান দোহার থানার পৌরসভার উত্তর ইউসুফপুর এলাকার রজব আলীর ছেলে, ফিরোজ রহমান একই উপজেলার নিকড়া গ্রামের মৃত সোহরাব বেপারীর ছেলে।

সোমবার সকালে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এসব তথ্য জানান দোহার থানার পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

রাজনীতির মোকাবিলা হবে রাজনীতি দিয়েঃ আলমগীর হোসেন

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে সরাদেশের ন্যায় ঢাকার দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

” একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার” এই শ্লোগানে শ্লোগানে ৪ জুন সকাল এগারো টায় দোহার উপজেলার করম আলী মোড় থেকে শুরু হয়ে জয়পাড়া রতন চত্বর এসে বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয় এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা।

বক্তব্যে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সভাপতি ও দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সরকার নিয়ে বিএনপি নেতাদের বিদ্রূপ বক্তব্যের প্রতিবাদে আজকে আমাদের এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা।

সম্প্রতি ‘পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’ বিএনপির অঙ্গসংঠনের নেতা-কর্মীরা এমন দূরভীসন্ধীমূলক স্লোগান দেন। আর আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্লোগান দেই ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জ উঠুক আরেক বার।’

তিনি আরো বলেন, যারা রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করে তারাই আবার স্বৈরাচারীতার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। তাই তারা শ্লোগান দেয়, পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারা আমাদের হামলা-মামলা দিয়েছে এবং আমাদের বাড়িঘর লুট করেছে। এমনকি আমাদের নিকটআত্মীয় মারা গেলে তাদের জানাযায় আমরা যেতে পারিনি। তাই আমরা ঘোষণা করছি, আপনারা যদি রাজনীতি করেন তাহলে আমরা রাজনীতি দিয়ে আপনাদের সাথে মোকাবেলা করবো আর যদি স্বৈরাচারী কায়দায় রাজনীতি করতে চান, তাহলে আমরা তার উচিত জবাব দিব।

সেসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদীন, দোহার উপজেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা।

দোহারে ৬ জুয়ারী আটক ও সাজা

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে ৬ জন মাদকসেবিদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১ টায় মুকসুদপুর ইউনিয়নের এ আর খান প্রজেক্ট, বেথুয়া, মোকসেদপুর থেকে মাদক সেবন ও প্রকাশ্যে জুয়া খেলার অপরাধে ৬ জন কে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় প্রত্যেকে বংগীয় প্রক্যাশ্য জুয়া আইন১৮৬৭ এর ধারা ৪ অনুযায়ী ০১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়৷

দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি বলেন,দোহারে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। যে কেউ আমাদেরকে মাদকসেবিদের ব্যাপারে তথ্য দিবেন আমরা তার পরিচয় গোপন রাখবো। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। জনসাধারণকে আমাদেরকে তথ্য দেয়ার জন্য আহবান জানাই।

দোহারে ছাগলের ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে যুবকের মৃত্যু

ঢাকা জেলা দোহার উপজেলার ধীৎপুর এলাকায় ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে মোঃ সুলতান মাহমুদ ( মানিক) (১৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত সুলতান ধীৎপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ নুর আলম মোল্লার (৪০) এর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৬( মে) দুপুর ২ টার সময় ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে অসচেতন থাকার কারণে পারিবারিক মৎস্য খামারের পাশে (নিরাপত্তা হীনতা)বিদ্যুৎস্পর্শ লেগে মৃত্যু বরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন।

পরে, বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন সুলতান মৃত্যু বরণ করেছেন।

শেষে মাগরিবের পর জানাযা দিয়ে ধীৎপুর কবরস্থানে মৃত সুলতানের লাশ দাফন করা হয়।

সুলতানের অকাল মৃত্যুতে তার চাচা রফিকুল ইসলাম (২৪) বলেন, সুলতান এর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। এত অল্প বয়সে আমাদের কাদিয়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন। এই মৃত্যু থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত মুসলিম যুবক ভাইয়েরা। দুনিয়াতে সিরিয়াল আছে কিন্তু চলে যাওয়ার কোন সিরিয়াল নেই। এখন থেকে আখেরাতের বাজার করতে হবে।
যে কোন কাজে সচেতন থাকার কথা আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন ইসলাম। আমরা কখনো বিদ্যুতের তার ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে কোথাও ফেলে রাখবো না। হতে পারে আপনার অসচেতনার কারণে একজন মানুষের প্রাণ চলে যাবে।

তিনি আরো বলেন, থানায় থেকে লোক এসেছিল কিন্তু আমরা কোন অভিযোগ করি নাই।

দোহারে আনসার-ভিডিপির আধুনিক ও ডিজিটাল ভবন হচ্ছে

সারা বাংলাদেশে কয়েকটি আনসার ভিডিপি ডিজিটাল ভবন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। তারমধ্যে দোহার উপজেলায় একটি সুন্দর আধুনিক ও ডিজিটাল ভবন হচ্ছে। বুধবার দোহার উপজেলায় আনসার ভিডিপি সমাবেশ-২০২২ এর অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

বুধবার সকাল এগারোটায় বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সালেহা বেগমের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আফজাল হোসেন ঢাকা জেলা কমান্ড্যান্ট, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

ঢাকা জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্ট আফজাল হোসেন বলেন, ১৯৪৮ সালের ১২ ই ফেব্রুয়ারী আনসার বাহিনি প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭৬ সালে যুক্ত হয় ব্যাটালিয়ন ও ভিডিপি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে বাংলাদেশ আনসার বাহিনি এবং প্রায় চল্লিশ হাজার রাইফেল নিয়ে যুদ্ধ করে আনসার বাহিনি এবং ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধাদের ট্রেণিং করাই বাংলাদেশ আনসার।

১৯৭১ সালে আমরাকাননে গঠিত বাংলাদেশের ১ম অস্থায়ী সরকারকে জনাব মোঃ ইয়াদয়ালী কমান্ডে বাংলাদেশের ১ম অস্থায়ী সরকারকে বাংলাদেশ আনসার ১ম গার্ড অফ অনার করেন।

আমরা পুলিশ,বিজিবি,সেনাবাহিনীর সাথে সম্মিলিত দায়িত্ব পালন করে থাকি। আমাদের ৪২ টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এরমধ্যে ২ টি মেয়ে ব্যাটালিয়ন এবং ৪০ টি পুরুষ ব্যাটালিয়ন। তারা বিভিন্ন বাহিনির সাথে এক সাথে কাজ করে যাচ্ছে এছাড়াও আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষ দিয়ে থাকি।

আমরা আইন শৃঙ্খলার পাশাপাশি একটি ক্রীড়া ধর্মি বাহিনি। আমরা এই পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে ১২০ টি স্বর্ণ পদক লাভ করেছি।এছাড়াও করোনা কালীন সময় আমরা মাঠে অনান্য বাহিনির সাথে কার্যক্রম করেছি।আমরা সারাবাংলাদেশে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করেছি। এককথায় আমরা সবসময় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরো জানান, আমরা সারা বাংলাদেশে কয়েকটি আনসার ভিডিপি ডিজিটাল ভবন প্রতিষ্ঠা করতেছি। তারমধ্যে দোহার উপজেলায় একটি সুন্দর আধুনিক ও ডিজিটাল ভবন হচ্ছে।

এসময় বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোস্তফা কামাল, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, উপজেলা আনসার ভিডিপি ব্যাংক অফিসার,বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষিকা কুলছুম বেগম, দোহার উপজেলায় আনসার পশিক্ষক শুভজিৎ সেনসহ উপজেলা আনসার ভিডিপির সকল কর্মকর্তা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের লিডারগণ।

দোহারে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলেন নিউজ৩৯ সম্পাদক ও পদ্মা কলেজের শিক্ষক তারেক রাজিব

শরিফ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: দোহার উপজেলায় কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হয়েছেন পদ্মা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক ও news39.net এর সম্পাদক মুহাম্মদ তারেক রাজীব। দোহার উপজেলা প্রশাসন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস তাকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত করেন। তারেক রাজীব বর্তমানে দোহার – নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট ( DNSM) এর সভাপতি, দোহার – নবাবগঞ্জ পেশাজীবি পরিষদের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক, তিনি দোহার প্রেসক্লাবের সাবেক আহবায়ক ছিলেন। তার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। তিনি দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সুপরিচিত স্বেচ্ছাসেবী। তিনি বান্দুরা হলিক্রস উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি, নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট থেকে সাংবাদিকতায় পিজিডি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৩ সালে পদ্মা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন।
news39.net তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি অপ্রত্যাশিত। এরকম কোন কিছু চিন্তা করিনি। নিজ দায়িত্ববোধ, শিক্ষকতা পেশার প্রতি ভালোবাসা, শিক্ষার্থীদের আলোকিত করতে মোটিভেট করাটা আমার একধরনের ভালোলাগা। মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া যে তিনি আমাকে এই বয়সে সম্মানিত করেছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার পিতা-মাতা পরিবারসহ পদ্মা কলেজ পরিবারের নিকট, একইসাথে আমার শিক্ষার্থীদেরসহ বিশেষ ধন্যবাদ জানাই অধ্যক্ষ মহোদয় ও উপজেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা অফিসকে। এই পুরস্কার ইনশাআল্লাহ আমাকে আরও দায়িত্বশীল করবে। সবার নিকট দোয়া কামনা করছি। জাযাকাল্লাহ খায়ের।

দোহার-নবাবগঞ্জে কৃষক বিপাকে, ধান কাটতে হচ্ছে নৌকা দিয়ে

ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে ধান কাটা চলছে। নৌকা দিয়ে ধান কেটে নিতে হচ্ছে কৃষককে। এছাড়াও ধানকাটা শ্রমিক সংকটের কারনে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। যাও পাওয়া যাচ্ছে তাও আবার বেশী টাকা দিতে নিতে হচ্ছে। ন্যুইয়ে পড়া ধান কাটতে বেশী মজুরি চাচ্ছেন শ্রমিকরা।  উপজেলার চালনাই, বাহ্রা, চুড়াইন, বারুয়াখালী, টিকরপুর, হাড়িকান্দা, কাঠালীঘাটাসহ উপজেলার সব আবাদি এলাকায় বোরো এবং আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানা যায় উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে। কিন্তু বন্যা ও বৃষ্টির পানির কারনে বাম্পার ফলনের লাভ উঠাতে পারে নি কৃষক।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাঠালীঘাটার চকে স্থানীয় এলাকার কিছু নানা পেশার মানুষ পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটছেন। পেশায় কেউ রাজমিস্ত্রী,কেউ ব্যবসায়ী, কেউ মাটি কাটে, কেউ রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। গতকাল ও ঈদের পর বৃষ্টির কারণে ধান ডুবে তলিয়ে গেছে পানিতে। যার কারনে ধান কাটতে হচ্ছে নৌকা দিয়ে।

ধান কাটার ব্যপারে জিজ্ঞেস করলে, মোঃ লোকমান (৪৫) বলেন, আমি একজন পেশায় রাজমিস্ত্রি। রাজমিস্ত্রি পেশার মজুরীর চেয়ে ধান কাটার মজুরি বেশি। তার মধ্যে আমরা ধান কাটি নাহ, আমরা ইস্কিমের ধান কাটি। বৃষ্টিতে ধান তলিয়ে গেরা জালিয়ে গেছে দেখে আমরা আসছি। তাছাড়া আমরা এলাকার মানুষ; সাধারনত  ধান কাটার কাজ আমরা করি নাহ। রংপুর, বরিশাল,কুড়িগ্রাম বিভিন্ন জায়গায় থেকে আমাদের এখানে লোক এসে ধান কাটেন। এবার শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টির কারনে ধান কাটতে পারছে নাহ কৃষক। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই ধান কাটছি।

স্থানীয় এলাকার কৃষক রমজান আলী (৫৯) বলেন, আমি একজন পেশায় কৃষক ও মাটি কাটি। এবার আমার জমিতে ১০ পাখি ধান রোপন করছি। কিছু ধান কাটছি আর কিছু আছে। এবার অসময় বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারনে ধান কাটতে পারছি নাহ, ধান পেকে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রতি বছর রংপুর, কুড়িগ্রাম, পাবনার মানুষ দিয়ে ধান কাটি। এবার দুই জেলার কৃষকের ধান একসাথে কাটা শুরু হয়েছে যার কারনে শ্রমিক পাচ্ছি নাহ, তার ওপরে শ্রমিকের মজুরি বেশি। ১১০০-১২০০ টাকা দিতে হয় তাদের। এক মণ ধান দাম দিয়ে একজন শ্রমিক।

ধান ভাগ করতে আসা কৃষক মোঃ সেলিম (৪৫) বলেন, আমি একজন পেশায় কৃষক। প্রতিবছর ১০-১৫ বিঘা ধান রোপন করি এবার ওও করছি। নিজেদেরই ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিক পাচ্ছি না। ধান ও পানিতে তলিয়ে গেছে, উনাদের মত আমার ধান ও মাজাফটি পানিতে আছে, নৌকা দিয়ে কাটবো। এমনেই এবার ধান এ অনেক লোকসান এর মুখ দেখতে হচ্ছে। পাশের ধান ক্ষেত দেখিয়ে বলেন, এই যে এই জমির মালিক ৫০০০ টাকা বছরে রংপুরের এক কৃষককে জমি দিয়েছিল। ধানের বর্তমান অবস্থা দেখে এখন ধান না কেটে পালিয়ে গেছে। এখন এই ধান মালিকে কেটে নিতে হবে। কি করবে সব কিছুর যে দাম, মানুষ খাবে কি?

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুজ্জামান হলে তিনি জানান, এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১০,৯৭০ (দশ হাজার নয়শত সওর) হেক্টর । সবজি- ৫৭০, সরিষা -৩০০০ হেক্টর চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে ধান কিছু কাটা হচ্ছে। আমরা দেখেছি যে বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি এখনো তেমন হয়নাই, তবে যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চলমান রয়েছে। ক্ষতি হলে তার বিররণ তুলে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।