দোহারে আবারও ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

ঢাকার দোহার উপজেলার বিখ্যাত জয়পাড়া ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আর অভিযোগের তীর শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মানিক কুমার তালুকদারের বিরুদ্ধে। সোমবার (৪ জুলাই) সাড়ে তিনটায় জয়পাড়া ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিয়মিতই দোহারে বিভিন্ন ক্লিনিকে এমন দূর্ঘটনা ঘটে চলেছে। কিন্তু কোন এক রহস্যজনক কারণে এসব ঘটনার সুষ্ঠু কোন সুরাহা হচ্ছে না, ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।

জানা যায়, দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর গ্রামের সালাউদ্দিন চৌকিদারের মেয়ে ৬ মাস বয়সী ছোট মেয়ে মুসকান ভুল চিকিৎসায় মারা যায়।

এবিষয়ে মৃত মুসকানের বাবা সালাউদ্দিন ও মা চাঁদনী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে জয়পাড়া ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে আসি। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঐ ক্লিনিকের ডা. মানিক কুমার তালুকদার আমার মেয়েকে দেখে একটি ইনজেকশন ও অক্সিজেন দেয়। ইনজেকশন দেয়ার পরে আমার মেয়ের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। পুনরায় মানিক কুমারকে দেখালে অক্সিজেন দিতে বলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন না দিয়ে, আমার মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলে। সাথে সাথে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মেয়ে মারা গেছে বলে জানায়।

এই সংবাদ পেয়ে মৃতের আত্নীয় স্বজনসহ মৃত শিশুকে নিয়ে জয়পাড়া ক্লিনিকে গেলে, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ও মৃতের আত্মীয় স্বজনের উপর চড়াও হয়। এসময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের সাথে মুসকানের আত্মীয় স্বজনের বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এসময় পরিস্থিতি চরমে উঠে যায় এবং হাতাহাতি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোহার থানা পুলিশের এসআই বারেক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ক্লিনিক মালিকপক্ষের হস্তক্ষেপে বিকেল ৬টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. মানিক কুমার তালুকদারের সাথে কথা বলতে জয়পাড়া ক্লিনিকে তার চেম্বারে গেলে দেখা যায় ডাক্তারকে ভেতরে রেখে; বাহির থেকে তালা লাগিয়ে রাখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনেক চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলতে দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এবিষয়ে জয়পাড়া ক্লিনিকের পরিচালক শফিকুল ইসলাম তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঐ শিশুর হার্টে সমস্যা ছিল। আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে আসলে বাচ্চার অবস্থার অবনতি দেখে, আমরা ঢাকায় নিয়ে যেতে বলি এবং ঢাকায় নেওয়ার পথে ঐ শিশুর মৃত্যু হয়।

দোহার থানা পুলিশের এসআই বারেকের কাছে মৃত্যুর বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোন কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

নবাবগঞ্জে দোকানীকে কারাদন্ড

আব্দুর রাহিম, নিউজ৩৯ঃ নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরে নবাবগঞ্জে সড়ক দখল করে দোকান পরিচালনা করায় দোকানীকে কারাদন্ড দিয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। দোকানী মো. আনোয়ার (৫০) নামে এক ফল বিক্রেতাকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার বিকালে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউর রহমান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, সড়কের  জমি দখল করে দীর্ঘ ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছিলেন আনোয়ার। বারবার সর্তক করার পরও তিনি সড়ক দখল করে ব্যবসা করে আসছিলেন। এজন্য ফল বিক্রেতা মো. আনোয়ারকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী  ও উপজেলা প্রশাসনের আদেশ অমান্য করে দীর্ঘ দিন যাবত সড়ক দখল করে জনভোগান্তির সৃষ্টি করার অপরাধে উপজেলার সমসাবাদ এলাকার মৃত সইজুদ্দিনের ছেলে আনোয়ারকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

চোখের জলে নিজ এলাকায় বিদায় নিলেন নির্মল গুহ

চোখের জলে বিদায় নিলেন নির্মল রঞ্জন গুহ। এক জীবনে এতো ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পাওয়া সত্যিই দুস্কর। দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের ভাষায়, নির্মলের বিদায় রাজসিক। নির্মলের বিদায় ঐতিহাসিক।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক আফজাল বাবুর ভাষায়, তিনি মানুষের হৃদয়ের সম্রাট হিসেবে বিদায় নিয়েছেন।

ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মাহাবুব বেপারী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, দাদার সাথে ৩৩ বছরের স্মৃতি কিভাবে ভুলি?

দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি বাশার চোকদার বলেন, দাদা আমারে কই রেখে গেলেন, কই ফেলে গেলেন।

দোহার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেত্রী রুনুর ভাষায়, আমাদের এতিম করে গেলেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরুদ্দিন ঝিলুর ভাষায়, বন্ধু বলি, সহযাত্রী সব কিছুই নির্মল। আজ দোহার নবাবগঞ্জে একজন সর্ব সাধারণের অভিভাবক হারিয়ে গেলেন। এই অভাব আওয়ামী লীগের জন্য অপরিমেয়।

শুক্রবার দুপুর ২টায় নবাবগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মরদেহ আনা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ’র। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এসময় উপস্থিত সকলের চোখ জলে ছলছল করছি। মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত, প্রিয় ‘নির্মল দা’ নেই এটা কেউ ভাবতে পারছিলেন না। একদিকে চলছিল আওয়ামী, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা, অন্যদিকে শহীদ মিনার বেদিতে চলছিল স্মৃতিচারণ সভা।

সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী মেজবাউল হাসান, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক বরুণ মৌমিক নয়ন, নির্মল রঞ্জন গুহ’র বড় ছেলে ও ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনুপম গুহ নয়ন প্রমুখ।

পরে বিকাল ৩টায় দোহার উপজেলার জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ অশ্রুশিক্ত নয়নে ও ফুলেল শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানিয়েছেন নির্মল রঞ্জন গুহকে। সে সময় সৃতিচারন করেন, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, ঢাকা জেলা দক্ষিণ সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মাহাবুব বেপারী।

শুক্রবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত নিজবাড়ি দোহারের বাস্তা গ্রামে পারিবারিক অন্তষ্টিক্রীয়া (ধর্মীয় ক্রীয়া) করে। ঐ বাড়িতেই তাকে সমাধি (কবর) দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, নির্মল রঞ্জন গুহ গত বুধবার সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

দোহারে তুচ্ছ ঘটনায় কুপিয়ে গুরুতর যখম

ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের দেবীনগর এলাকায় চয়না ধৌয়াইর জাল কারখানায় এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ন’টায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে তারা কিছুই জানে না অথচ বিলাসপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদার সাধারণ ডায়েরি করিয়েছেন।

আহত নাঈমের মা নাজমা (৩২) বলেন, দেবীনগর এলাকার আবু বয়াতির ছেলে নাঈম বয়াতি(১৮) ও কুলছুরি এলাকার মহম্মদ সারেং এর ছেলে নুরুদ্দিন সারেং (২৫) এর চায়না জাল তৈরির কারখানায় কাজ করা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এ ঘটনার কিছুক্ষন পরেই নুরুদ্দিন তার দলবল নিয়ে আমার ছেলে নাঈম বয়াতির উপর চড়াও হয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে যখম করে। পরে তাকে আহত অবস্থায় প্রথমে আমরা দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। ঢাকা থেকে চিকিতসা নিয়ে আজকে আবার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তাকে ডাক্তার ভর্তি রাখে। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানান চিকিৎসক। এখন আমরা চাই, যারা আমার ছেলেকে মারছে তাদের সঠিক বিচার যেন হয়।

এবিষয়ে দোহার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে আমি কিছু জানি না, মামলা হলে হয়তো জানতাম।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বড় ভাইএর মৃত্যু

সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বড় ভাই জনাব খাইরুল হুদা মঙ্গলবার রাতে ইন্তেকাল করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে খাইরুল হুদার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি বার্ধক্য জনিত রোগে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।  খাইরুল হুদা শিল্প ব্যাংকের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।  মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজ বাদ যোহর ধানমণ্ডি ৭, বাইতুল আমান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় জানাজা বাদ আছর দোহার শাইন পুকুর নিজ গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে শাইনপুকুর পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হয়।
আল্লাহ মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন এবং তার শোকার্ত পরিবারকে শোক সইবার শক্তি দান করুক। (আমিন)

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের মৃত্যু; প্রধানমন্ত্রীর শোক 

আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্তিশালী সহযোগী সংগঠন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আর নেই। স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুন) সকালে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। নির্মল রঞ্জন গুহের ছোট ভাই চঞ্চল গুহ নিউজ৩৯কে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

নির্মল রঞ্জন গুহের রাজনীতিতে পথচলা শুরু ছাত্রলীগের হাত ধরে। ছাত্রাবস্থায় তিনি নয়াবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তি হন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে। তিনি ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত ১২ জুন দিনগত রাতে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় নির্মল রঞ্জন গুহকে। এরপরই তাকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। হার্টে দুটি ব্লক ধরা পড়লে সেখানে রিং বসানো হয়। তাতেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।

পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৬ জুন দুপুরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির মৃত্যুতে পৃথক শোক বিবৃতিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোক বিবৃতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নির্মল রঞ্জন গুহের পবিতে আত্মার শান্তি কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহীদের প্রতি সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে মোল্লা কাওছার ও পঙ্কজ দেবনাথের কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ছিলেন নির্মল রঞ্জন গুহ। মোল্লা কাওছারকে অব্যাহতি দেওয়ার পর তিনি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হন। ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন নির্মল রঞ্জন গুহ। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন আফজালুর রহমান বাবু।

Experience a smooth and efficient home selling process in Iowa by visiting https://www.companiesthatbuyhouses.co/texas/home-buying-company-austin-tx/ and receiving a fair cash offer for your property.

নবাবগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাওয়ায় বাবার কান ও জিহ্বা কেটে দিল ছেলে!

দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাওয়ার কারণে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে বাবার কান ও জিহ্বা কেটে দিয়েছেন ছেলে। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের আলগীচর গ্রামে গতকাল রোববার দিবারাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা আমিন উদ্দিনকে (৫২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে তার স্বজনেরা। আহত আমিন উদ্দিন ওই গ্রামের খাজা আহমদের ছেলে। ঘটনার মুল হোতা আরমান(১৯) পলাতক রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, তিন মাস আগে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরমানের (১৯) মা। এরপর বাবা আমিন উদ্দিন (৫২) দ্বিতীয় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। এই খবর শোনার পর রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে বাবার সঙ্গে ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আরমান ক্ষিপ্ত হয়ে বিছানায় আগুন দেন। হৈ চৈ শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে পানি ঢেলে আগুন নেভান।

এরপর বাবা ছেলেকে ঘর থেকে বের করে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে আরমান সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে চাকু দিয়ে বাবার কানের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলেন। এরপর চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি শরীরের কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে চাকুর আঘাতে জিহ্বা কেটে যায়। আমিন উদ্দিনের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে আরমান দরজা খুলে পালিয়ে যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আারমান এলাকার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করেন এবং অনৈতিক কাজ করে বেড়ান। প্রতিবেশী ও স্বজনেরা ঘটনার বর্ণনা দিলেও নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এসআই সোহেল মুফতি বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় কেউ জানায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দোহার পৌর মেয়র পদে প্রার্থী ৮ জন

ঢাকার দোহার উপজেলার দোহার পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয়েছে। দোহার পৌর মেয়র পদে ৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬২ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শুরু করে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই মনোনয়ন পত্র জমা নেওয়া হয়।

দলীয় নমিনেশন পাওয়ার বিষয় দোহার উপজেলার আওয়ামীলীগের সভাপতি ও দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনকে কয়েকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

দলীয় নমিনেশনের বিষয় দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের  বলেন, আমরা কোন মেয়র বা কাউন্সিল প্রার্থী দিচ্ছি না। কারণ এই সরকার সুষ্ঠু ভোটের নির্বাচনে বিশ্বাসী নয় আর এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। দলীয় এই সিদ্ধান্ত যে বা যারা না মানবে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি নমিনেশন কিনেও থাকে, তাহলে তাকে আমরা বলবো নমিনেশন প্রত্যাহার করতে। যদি সে নমিনেশন প্রত্যাহার না করে এবং দলের কোন পদে থাকে, তবে সেই পদ থেকে তাকে এবং একইসাথে দলীয় সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

৩০ জুন, ২০২২ ২০২২ প্রার্থিতা বাছাই
৭ জুলাই, ২০২২ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন
৮ জুলাই, ২০২২ প্রতীক বরাদ্দ
২৭ জুলাই, ২০২২ ভোট গ্রহণ

 

আগামী ২৭ জুলাই সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দোহার পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দোহার পৌর মেয়র পদে যে ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারা হলেন:

  1. বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি 
  2. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি
  3. মো. নুরুল ইসলাম বেপারী
  4. জামাল উদ্দিন আহম্মেদ, ঢাকা জেলা দক্ষিণ তাঁতীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি
  5. আনোয়ার সফি চৌধুরী
  6. আব্দুর রহমান আকন্দ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক
  7. মো.আলমাছ উদ্দিন, সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক 
  8. আমজাদ হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলন
  9. সফিকুল ইসলাম সেন্টু ওরফে পীর সেন্টু, পৌরসভা আওয়ামীলীগ নেতা

আপডেট: সফিকুল ইসলাম সেন্টু’র মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তাই প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট এ।

নির্বাচন কমিশনারের অফিসের তথ্য মতে দোহার উপজেলার জয়পাড়া, রাইপাড়া, সুতারপাড়া ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের আংশিক অংশ নিয়ে ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সীমানা জটিলতা ও ভোটার তালিকা নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হওয়ায় বিগত ২২ বছর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

এদিকে দোহার পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে জনগণের ও প্রার্থীদের মাঝে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। কে হবেন মেয়র ও কে হবেন কাউন্সিলর এ নিয়ে শুরু হয়েছে পৌর নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে আলোচনার ঝড়। দোহারের পৌর নাগরিকগণ দীর্ঘ ২২ বছর পর ইভিএমে এই প্রথম ভোট প্রদান করবেন।

পদ্মা সরকারি কলেজের অধ্যাপক মুজাহিদুল ইসলাম ইন্তেকাল

নিউজ৩৯ঃ চাকুরী থেকে পূর্ণকালীন অবসরের পূর্বে জীবন থেকে অবসর নিলেন পদ্মা সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, কলেজের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক মুজাহিদুল ইসলাম মর্তুজা। মংগলবার দুপুরে ১২টায় রক্ত শূন্যতা জনিত অসুস্থতার কারণে ৫৯ বছরে তিনি মৃত্যবরণ করেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। আজ আসরের নামাযের পর পদ্মা সরকারি কলেজ মাঠে তার নামাযের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। তার মৃত্যু পদ্মা কলেজসহ দোহারের শিক্ষাংগনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতঃপূর্বে রোযার ঈদের সময় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়, তিনি মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এই মাসেই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করেছিলেন হয়তো জীবনদশায় জাতীয়করণের সুযোগ সুবিধা পাবেন না। তার সে আশংকা আজ সত্য পরিণত হয়েছে।
বহু শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন জনপদকে আলোকিত করতে, জীবনে নিজ এলাকার প্রতি ভালোবাসা ধারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেধাবী শিক্ষার্থী চলে আসেন সদ্য প্রতিষ্ঠিত পদ্মা কলেজে। তিনি পদ্মা সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক।

পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নবাবগঞ্জের দুই তরুনের মৃত্যু 

পদ্মা সেতুতে ঘুরতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোঘণা করেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. আলমগীর হোসেন (২৫) ও মো. ফজলু (২৫)। তাঁরা ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। নিহত আলমগীর মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ করেন। আর ফজলু বিদেশে থাকেন। এক মাস আগে দেশে আসেন তিনি।

নবাবগঞ্জ উপজেলা সমসাবাদ এলাকার চিনু বেপারীর ছেলে মো. আলমগীর মোটর মেকানিকের কাজ করতেন। আলমগীরের বাবা অন্ধ ও মা অসুস্থ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আলমগীরের আয় দিয়েইও চলছিলো তাদের সংসার।  রবিবার বিকেলে হঠাৎ বন্ধুদের সাথে দেখতে যান পদ্মা সেতু। কিন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে যায় তার জীবন প্রদীপ। প্রিয়জনকে হারিয়ে দিশেহারা আলমগীরের পরিবারের সদস্যরা।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের অপরজন উপজেলা যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুলের মৃত আবু মিয়ার ছেলে মো. ফজলু। সদ্য বিয়ে করেছিলেন বিদেশফেরত ফজলু, একদিন আগেই কিনেছিলেন মোটরসাইকেল। কে জানতো সেই মোটরসাইকেলই কেড়ে নেবে তার প্রাণ! দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার পর প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধোধনের পরদিনই অর্থাৎ রোববার (২৬ জুন) ভোর থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় পদ্মা সেতু। সেতু পাড়ি দিতে ৩ মোটরসাইকেলে নবাবগঞ্জ থেকে গিয়েছিলেন ৬ বন্ধু। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ক্ষণস্থায়ী উচ্ছ্বাস মুহূর্তেই পরিণত হয় ঘোর অন্ধকারে। মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাশ হয়ে ফেরেন আলমগীর ও ফজলু দুই বন্ধু। শেষ পর্যন্ত আনন্দ উচ্ছ্বাস পরিণত হলো বিষাদে।

নিহত ফজলু’র মামাতো ভাই আবদুল ও বোন কহিনুর বেগম জানান, ফজলু ইরাকে ছিলেন। সাড়ে তিন বছর পর রমজান মাসে সে দেশে এলে গত মাসের ২০ তারিখে বিয়ে করেন সে। মার ইচ্ছা অনুযায়ী ঘোড়ার গাড়িতে বিয়ে করেছিল ফজলু। রবিবার কিনে এনেছিলেন নতুন মোটর সাইকেল। সেই মোটর সাইকেল নিয়েই বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যায় পদ্মা সেতুতে। রাতে টিভিতে ফজলু ও আলমগীরের মৃত্যুর খবর পাই আমরা।

আলমগীর ও ফজলুকে যাঁরা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের একজন জয়দেব রায়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা ছয় বন্ধু মিলে তিনটি মোটরসাইকেলে পদ্মা সেতু দেখতে গিয়েছিলেন। সেতুর জাজিরা প্রান্ত ঘুরে ফেরার সময় মাওয়া প্রান্তে এসে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

জয়দেব বলেন, তিনি যে মোটরসাইকেলে ছিলেন, সেটি সামনে ছিল। তিনি সেতু থেকে নামার পর ফোনে দুই বন্ধুর দুর্ঘটনার শিকারের কথা জানতে পারেন। পরে তাঁদের আর মোটরসাইকেল নিয়ে সেতুর দিকে যেতে দেওয়া হয়নি। তাঁরা হেঁটে কিছু দূর এগোলে দেখেন, আহত দুই বন্ধুকে একটি পিকআপে তুলে নিয়ে আসা হচ্ছে। পরে ওই পিকআপে করেই তাঁরা ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।