মৈনটে পদ্মায় ডুবে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

ঢাকার দোহার উপজেলার পর্যটনস্পট মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানির (২৫) লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল। শুক্রবার বেলা ১১:৩০ টার দিকে মৈনট ঘাট থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

দোহার ফায়ার সার্ভিসের জরুরি বিভাগের কর্মরত ফায়ার ফাইটার এস এম জসিম লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেন। জানান আমাদের ইনর্চাজ আবদুল হাদি উদ্ধারের নেতৃত্ব দেন এবং ডুবুরি দলের নেতৃত্ব দেন সব ইন্সপেক্টর আবুল খায়ের। লাশ চরমোহাম্মদপুর পুলিশ ফাড়িতে রাখা হয়েছে স্বজনরা আসলে পরাবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়নাতদন্তের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তোবা ময়নাতদন্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘাটের তীরে অবস্থানরত ড্রেজার বাল্কহেডে উঠে মোবাইলে সেলফি তুলতে গিয়ে পা পিছলে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় সানী।

নিখোঁজ তারিকুজ্জামান সানি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)-এর আর্কিটেকচার বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শরীয়তপুরের জাজিরা থানার বাসিন্দা হারুন উর রশিদের ছেলে। তিনি ঢাকার হাজারীবাগে থাকতেন বলে জানা যায়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সানিকে উদ্ধারে কাজ করছিল দুটিদল ডুবুরি। পদ্মার পাড়ে অপেক্ষায় ছিলেন শত মানুষ। ডুবুরি দলেন নেতৃত্ব দেন বঙ্গবাজার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি আবুল খায়ের। এ সময় আবুল খায়ের বলেন, আমরা খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে এখানে এসেছি। তবে নদীতে প্রচর- স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান কিছুটা ব্যাহত হয়। আমরা প্রায় ১৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আজকে শুক্রবার সকাল ১১:৩০ টায় মরদেহ উদ্ধার করেছি।

তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, সানিসহ ১৬ জন বন্ধু মিলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৈনট ঘাটে ঘুরতে আসে। পাড়ে রাখা একটি ড্রেজার মেশিনের উপরে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান সানি। এ সময় তার বন্ধুরা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে তারা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশ ডাকে। পুলিশ এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

চল্লিশ দিন নামাজের উপহার জিতলেন ইউসুফপুরের কিশোররা

ঢাকার দোহার উপজেলার পৌরসভার ইউসুফপুর গ্রামের কিশোর ছেলেদের জন্য একাধারে চল্লিশ দিন জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় করার উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিশোরেরা সেই জামায়াতে নামাজের উপহার জয় করেছেন। উপহার হিসেবে ছিল বাইসাইকেল। “হাতেম আলী ফাউন্ডেশন “উদ্যাগে এ আয়োজন করা হয়। 

এই আয়োজনে ১৭ জন কিশোর অংশ গ্রহণ করে। আগামী ১৫ জুলাই ২২ বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার প্রদান করা হবে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের একটি করে মোট তিনটি সাইকেল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাতেম আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যাক্তারা। হাতেম আলী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আরো জানান, আমাদের বিশ্বাস এই কিশোরেরা আমৃত্যু মহান রবের হুকুম (নামাজ) আদায়ে ব্রত থাকবে। তাছাড়া আমরা আমাদের এই হাতেম আলী ফাউন্ডেশনের মধ্যামে করোনা ভাইরাসের সময়সহ বিভিন্ন সময় হত দারিদ্রের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছি।

দোহার পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা যে প্রতীক পেলেন

দোহার পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা যে প্রতীক পেলেন:

বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবুল – হেলমেট

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.জাহাঙ্গীর আলম – চামুচ

মো. নুরুল ইসলাম বেপারী – ইস্ত্রি (আইরন মেশিন)

জামাল উদ্দিন আহম্মেদ – মোবাইল ফোন

মো. আলমাছ উদ্দিন – জগ

আব্দুর রহমান আকন্দ – নাড়িকেল গাছ

আমজাদ হোসেন – হাত পাখা

ফরহাদ হোসাইন কম্পিউটার 

৮ জুলাই শুক্রবার সকালে বেগম আয়শা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। ২৭ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দোহার পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীর তালিকা ও মার্কা

৮ জুলাই শুক্রবার সকালে দোহার পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই বাছাই শেষে ৫৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়, বাকি ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। রিভিউর পর বেশ কয়েকজন বৈধতা ফিরে পান। চুড়ান্তভাবে ৬১ জন সাধারণ কাউন্সেলর প্রার্থী ও ১২ জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সেলর প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পান।

সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়।

নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের প্রাপ্ত মার্কার তালিকা:

ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী 
নাম্বার ওয়ার্ড

১৩ জন

বদরুল ইসলাম বদু – ব্ল্যাকবোর্ড
আলমগীর মুবিন – টেবিল ল্যাম্প
মো. উজ্জল হোসেন – পানির বোতল
তুষার পাল – ব্রিজ
মো. সোহেল আহমেদ – ডালিম
আবুল কালাম – পাঞ্জাবি
সাদ্দাম হোসেন – ফাইল কেবিনেট
মাহমুদুল হাসান পান্নু – গাজর
এহসানুল মুকিত – স্কু ড্রাইভার
নেছার আহমেদ- টিউবলাইট
মো. আনছারী খান – ঢেঁড়স
মো. রাছেল – উটপাখি
সফিকুল তালুকদার – টিউবওয়েল
  নাম্বার ওয়ার্ড

৫ জন

দেওয়ান আব্দুল হক ফরিদ – গাজর
মো. শওকত হোসেন – উটপাখি
শেখ মনির হোসেন- টেবিল ল্যাম্প
শেখ সেলিম – পানির বোতল
হালিম মাহমুদ সেন্টু- ডালিম
নাম্বার ওয়ার্ড

৫ জন

মো. ফারুক – ব্রিজ
মো. আলী খান – ডালিম
আব্দুস সালাম শুকুর – টেবিল ল্যাম্প
আব্দুল হামিদ ইন্তাজি – পানির বোতল
শহিদ চৌধুরী – উটপাখি
১, ২, ৩ সংরক্ষিত আসন হামিদা বানু – আনারস
ইসরাত জাহান বনানী – চশমা
সানজিদা আক্তার (খালেদা) জবাফুল
নাম্বার ওয়ার্ড

৮ জন

মো. আমির হোসেন খান – টেবিল ল্যাম্প
মো. আবুল হোসেন – ডালিম
মো. জহির (জহু)- পাঞ্জাবি
পাপেল মাহমুদ নিজাম – ব্রিজ
মো. সাদ্দাম হোসেন – গাজর
মো স্বপন – পানির বোতল
মো. হাবিবুর রহমান খান- ঢেঁড়স
সাইফুল কবির – উট পাখি
নাম্বার ওয়ার্ড

৯ জন

ওয়াসিম চোকদার – পানির বোতল
লুৎফর রহমান শিকদার – উট পাখি
মো. আব্দুল হামিদ – ব্রিজ
ফারুক আহমেদ – টেবিল ল্যাম্প
মাহবুব আলম – ব্লাকবোর্ড
মো. মিলন হোসেন – ফাইল কেবিনেট
মো. কাজী জাফর – গাজর
মো জিয়া উদ্দিন – পাঞ্জাবি
মো. সুরুজ – ডালিম
নাম্বার ওয়ার্ড

৩ জন

মো. রফিকুল ইসলাম – পাঞ্জাবি
মো. সালাহউদ্দিন – উট পাখি
মো. হুমায়ুন কবির – ডালিম
৪, ৫, ৬ সংরক্ষিত আসন ফাতেমা আক্তার আনারস
স্মৃতি আক্তার – জবাফুল
নারগিস আক্তার – চামচ
নাম্বার ওয়ার্ড

২ জন

আব্দুল আওয়াল – পানির বোতল
মো. উদয় হোসাইন – উটপাখি
নাম্বার ওয়ার্ড

৯ জন

রাজিব শরীফ – ডালিম
আপন খান – ফাইল কেবিনেট
আব্দুল বাতেন – পাঞ্জাবি
জাফর ইকবাল – ব্লাকবোর্ড
আ. রহিম – উট পাখি
মো. শামীম আহম্মেদ – গাজর
মো খোকন আহম্মেদ – পানির বোতল
মো. জুলহাস উদ্দিন – টেবিল ল্যাম্প
শেখ মো. আলী – ব্রিজ
নাম্বার ওয়ার্ড

৭ জন

মো. আলমগীর হোসেন – উটপাখি
তারিকুল ইসলাম – টেবিল ল্যাম্প
মোহাম্মদ আলী – গাজর
মোহাম্মদ ইসলাম – পাঞ্জাবি
মো. ইস্রাফিল গাজী – ঢেঁড়স
মো. মুরাদ হাসান – ডালিম
মো. জামাল হোসেন – পানির বোতল
৭, ৮, ৯ সংরক্ষিত আসন

৬ জন

হালিমা আক্তার (রুমা) – অটোরিকশা
ফরিদা ইয়াসমিন – আনারস
সুলতানা পারভীন জবাফুল
হাসিনা আক্তার টেলিফোন
লতা আক্তার – বল পেন
সাইফুন নাহার- চশমা

কাউন্সিলর প্রার্থী

দোহারে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার

ঢাকার দোহার থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে অস্ত্র, গুলি, হেরোইন ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানে ২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন দোহার উপজেলার উত্তর রাইপাড়া গ্রামের মো.রিয়াদ (২৮) ও মো.সিজান(২১)। এদের থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ভর্তি ম্যাগজিন, ৫০০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মোস্তফা কামাল এর নির্দেশনায় এএসআই (নি:) নান্টু কৃষ্ণ মজুমদার অভিযান পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে এসআই (নি:) সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে উক্ত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করত: আসামীদ্বয়ের বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করেন।

দোহারে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

শরিফ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: বুধবার বিকেলে দোহার উপজেলার দুই ব্যবসায়ীকে ওজন ও পরিমাপ মানদ- আইন ২০১৮ এর ২৮ ও ৪৫ ধারায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নন-মেট্রিক গজ ব্যবহার এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় বিল্লাল বস্ত্র বিতান এবং নিউ ভাইবন্ধু ফুড প্রডাক্টসকে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবাশ্বের আলম জানান, জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিএসটিআই এর পরিদর্শক(মেট্রোলজি) মো. নাজমুস সায়াদতের দাখিলকৃত প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

এ সময় দোহার পেট্রোল পাম্প, বেগম আয়েশা সুপার মার্কেট এবং থানার মোড় এলাকায় কয়েকটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দোহার থানা পুলিশ অভিযানে সহযোগিতা করেন।

দোহার পৌরসভার ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের ৩১ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষণা

ঢাকার দোহার পৌরসভার ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের ৩১ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার পৌরসভা কার্যালয়ে ২৪তম এ বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক আজাদ হোসেন খান।

এসময় দোহার পৌরসভার প্রশাসক আজাদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, পৌরসভার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল জনগন পৌর কর দেয় না। আমি সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মিয়া সাথে কথা বলেছি তিনি আমাকে এ বিষয় টা জানান। যার জন্য পৌরসভার উন্নয়ন করা সম্ভব কম হয়েছে। তবে এবার আমাদের এমপি মহোদয় সালমান এফ রহমান তিনি নিজে এই পৌরসভার উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে যার ফলশ্রুতিতে দোহার পৌরসভার ৩২ কোটি টাকা ব্যায়ে পৌর এলাকায় পানি সাপ্লাই এর ব্যবস্থা করেছে। তিনি দোহার উপজেলা এবং পৌরসভাকে মডেল করবেন বলেছেন। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এ সুবিধা ভোগ করতে পারে।

এ বাজেটে কোনো কর বৃদ্ধি করা হয়নি। নিজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ টাকা। তারমধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা এবং পরোক্ষ কর বাবদ ৫ কোটি ৯ লক্ষ টাকা।

রাজস্ব ব্যয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ কোটি ৮৯.৭৭ লক্ষ টাকা। তন্মধ্যে:

  • সাধারণ সংস্থাপন খাতে ব্যয় ৩ কোটি ৬৩.৪৭ লক্ষ টাকা
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলা খাতে ব্যয় ৫.২০ লক্ষ টাকা
  • জনস্বাস্থ্য খাতে ১৪.৫০ লক্ষ
  • পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ৬৫ লক্ষ
  • সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২৩.৫০ লক্ষ
  • জাতীয় দিবস ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান খাতে ৫.৫০ লক্ষ
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরী ত্রাণ খাতে ১৫ লক্ষ টাকা
  • ভ্যাট পরিশোধ খাতে ১১ লক্ষ টাকা
  • আয়কর পরিশোধ খাতে ১২ লক্ষ
  • যানবাহন ও অফিস আসবাবপত্র খাতে ১৫ লক্ষ
  • উন্নয়ন খাতের ঋণ পরিশোধ খাতে ২৫ লক্ষ
  • রাজস্ব উন্নয়ন খাতে ২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা

মোট উন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ কোটি ৫৬.৫০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে :

  • রাস্তা উন্নয়ন খাতে ৪ কোটি ১০ লক্ষ
  • ড্রেন উন্নয়ন খাতে ১২ কোটি ৬৫ লক্ষ
  • স্ট্রীট লাইট খাতে ২০ লক্ষ
  • পৌর ভবন নির্মাণ ও মেরামত প্রকল্পে ব্যয় ৩০ লক্ষ
  • ডিজাইন, টেস্টিং, কনসালটেশন খাতে ৩১ লক্ষ
  • উন্নয়ন মিলে সর্বমোট ব্যয়ের লক্ষ ৩৫ কোটি ৩.৬৮ লক্ষ টাকা

বাজেটে সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল হতে ১ কোটি ২০ লক্ষ, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ৬ কোটি, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমন প্রকল্প থেকে ৮ কোটি এবং বিএমডিএফ উপ-প্রকল্প থেকে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এ সময় বাজেট সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান। পৌর সচিব নাসরিন জাহানের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীগণ, সাংবাদিক এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেকে।

এমন সংকট কখনও দেখে নি তাঁত শিল্প

দোহার নবাবগঞ্জে তাঁত শিল্প তথা লুঙ্গি শিল্পের সংকট প্রায় তিন দশক ধরে। গত শতকের নব্বইর দশকে দেশে পাওয়ারলুমের উত্থানে হস্তচালিত তাঁত প্রথম হুমকি পায়। ২০০০ সালের পর গণহারে দোহার-নবাবগঞ্জে তাঁত বন্ধ হতে থাকে। তাঁতীরা ভিন্ন ভিন্ন পেশা নিতে থাকে। তারপরও টিকে ছিল ধুকে ধুকে হলেও। কিন্তু এখনকার মত অস্তিত্ব সংকট দেখেনি আগে। করোনার আগেও মনে হচ্ছিল এই শিল্প আরও অন্তত বারো-পনের বছর টিকে থাকবে। কিন্তু বর্তমান সুতোর মূল্যের উর্দ্ধগতি ও মন্দা বাজারের কারণে দোহার-নবাবগঞ্জের তাঁতীরা  শিল্পের শেষ দেখে ফেলেছেন কিনা সেটিই ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি সংকটের শুরু করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর ২০২১ সালের শুরু থেকে। করোনায় তুলার আমদানী বন্ধ থাকায় সুতোর দাম বাড়তে থাকে। তখন ব্যাপারটি গ্রহণযোগ্য ছিল। কিন্তু তারপর যখন আমদানী-রপ্তানী স্বাভাবিক হয়ে আসে তারপরও আর কখনওই সুতোর দাম কমে নি, বরং লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। শুধু ২০২২ সালের রমাজনের আগে থেকে দুই মাসের মধ্যে একেক পিস কাপড়ে সুতোর খরচ বেড়েছে ১০০ টাকার মত।

সংকট শুধু হস্তচালিত তাঁত শিল্প দেখছে না, দেশের বৃহৎ পাওয়ারলুম তথা গার্মেন্টস শিল্পও সংকটে। এই সময় বেড়েছে সুতির সকল ধরণের কাপড়ের দাম। একারণে টেক্সটাইল শিল্প আর গার্মেন্টস শিল্প মুখোমুখি অবস্থানে দাড়িয়েছে, যদিও একই মালিকের অধীনে দুই ধরণের শিল্পই দেখা যায়। পোশাক শিল্প মালিকদের অভিযোগ, চাহিদা বাড়ায় ইচ্ছে করে সুতার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বস্ত্রকল মালিকরা। আর বস্ত্রকল মালিকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় তারাও বাড়িয়েছেন। 

২০২০ সালের নভেম্বরে ৩০ কাউন্টের সুতোর দাম ছিল প্রতি কেজি ২ ডলার ৮০ সেন্ট। তিন মাস পর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেটি হয় ৩ ডলার ৭০ সেন্ট। দোহার-নবাবগঞ্জে ৩০ কাউন্টের সুতোর কাজ হয় না, বর্তমানে শুধু ৮৪ কাউন্টের সুতো ব্যবহার করা হয় হস্তচালিত তাঁতে, পাওয়ালুমে ৬০, ৭০ কাউন্টের ব্যবহার আছে। কিন্তু মূল্য বৃদ্ধির হার বোঝার জন্য প্রাপ্ত তথ্য দেয়া হল।

২০২১ এর আগস্টেও এক মাসের ব্যবধানে বস্ত্রকল মালিকরা প্রতি কেজি সুতার দাম ৭০ সেন্ট থেকে ১ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছে। বিটিএমএর নেতারা জানান, ২০২০ এর ডিসেম্বর থেকে ২০২১ এর আগস্ট পর্যন্ত নয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। তার বিপরীতে দেশের বাজারে সুতার দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশ।

পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, “চাহিদা বাড়তে থাকায় স্থানীয় স্পিনিং মিল মালিকরা অস্বাভাবিক দর বাড়িয়ে প্রচুর মুনাফা করছেন।” যদিও এমন অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছিলেন টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা। এই চিত্র আমরা দোহার-নবাবগঞ্জেও দেখছি। গতবছর সেপ্টেম্বরে সুতোর দাম কমলেও দোহারে কমতে দেখি নি। সুতোর দাম বাড়লে বেপারী পর্যায়ে বাড়ে, কিন্তু দাম কমলে বেপারীদের কাছে কমে না। জাতীয় পর্যায়ে বড় আকারের পোশাক কারখানার মালিকরা প্রতিবেশী ভারতসহ একাধিক দেশ থেকে সুতো আমদানি শুরু করেছেন। আমাদের গরীব তাঁতীরা তো আর সুতো আমদানী করতে পারেন না।

পোশাক শিল্প মালিক ও টেক্সটাইল মিল মালিকসূত্রে জানা গিয়েছে, দেশে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের খবর, “গত দুই মাস ধরে পোশাক খাতে বহুল ব্যবহার হওয়া ৩০ কাউন্ট মানের ইয়ার্নের দাম ৪.২০ ডলার থেকে ৪.৩০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়। তবে বর্তমানে তা ৪.১০ থেকে ৪.১৫ ডলারে নেমে এসেছে। পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা এ দর আরো কমবে বলে আশা করছেন।”

কিন্তু আর না কমে অক্টোবরে আবারও বেড়েছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পাউন্ড প্রতি সুতার দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ টাকা। একবস্তা সুতা কিনতে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে । এই সময়ে দাম এলাকায় প্রতি সপ্তাহেই বাড়তে থাকে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দাম বাড়ে পাউন্ড প্রতি ৪ থেকে ১০ টাকা।

দোহার-নবাবগঞ্জের পরিস্থিতি:

করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর থেকেই সুতোর মূল্য ক্রমাগত বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে দোহার-নবাবগঞ্জের স্থানীয় বাজারে। এক মুঠো ৮৪ কাউন্টের সাদা সুতোর দাম ছিল ৪০ টাকা, সেটি এখন ৬১ টাকা, রঙ্গিন সুতো যেগুলোর দাম ছিল ৫৮ টাকা সেগুলো এখন ৭৯ থেকে ৮১ টাকা! ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি ভিমে লুঙ্গির পাইকারি মূল্য বেড়েছে সানাভেদে ৪০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত!

এমনিতেই তাঁতের লুঙ্গির মূল্যের কারণে পাওয়ারলুমের বানানো লুঙ্গির সাথে টেক্কা দিয়ে টিকে থাকতে পারছে না, তার উপর এই মূল্য বৃদ্ধি তাঁতীদের ভয়াবহ সংকটে ফেলেছে। অনেকেই তাঁত বন্ধ রেখেছেন। যে বাড়ীতে পাঁচটি তাঁত আছে তারা দুটো বা তিনটি বন্ধ রেখেছে, যার বাড়ীতে দুটো আছে সে একটি বন্ধ রেখে অন্যটা চালাচ্ছেন। যার বিকল্প সুযোগ আছে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এক সময় তাঁতের শব্দে মুখরিত থাকতে যে দোহার-নবাবগঞ্জ সেই তাঁত এখন হারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয়। জয়পাড়া-রোহিতপুরি লুঙ্গির খ্যাতির বাইরে  মালিকান্দা স্বতন্ত্র ডিজাইন ও কোয়ালিটি দিয়ে নিজস্ব আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিল সেই মালিকান্দায় এখন হাতে গোনা চার-পাঁচ বাড়িতে তাঁত চলছে! 

সুতো শুকানো হচ্ছে

সুতোর দাম কমলেও স্থানীয় বাজারে কমে না: সুতোর দামের উর্ধগতির মাঝে কখনও কখনও দাম কমেও, এক নাগাড়ে কখনও বাড়ে না, মাঝে মাঝে কমেও। কিন্তু কখনও স্থানীয় বাজারে সুতোর দাম কমতে দেখা যায় নি।

২০২২ সালে মে মাসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুতার দাম বেড়েছে পাউন্ডে ১০ টাকা। এরপর জুন মাসে এসে ক্রমাগত দাম বাড়তে থাকা সুতোর মূল্য কমার খবর আসে। ৮০ কাউন্টের সুতা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ৩৪০৩৬০ টাকা দরে। একই কাউন্টের সুতা কয়েক দিন আগেও বাজারে বেচাকেনা হয়েছে ৩৫০৩৭০ টাকা দরে। পাউন্ডপ্রতি দাম কমেছে ১০ টাকা।

এরপর চলতি জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই মূল্য আরও কমল, ৮০ কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ৩৩০-৩৫০ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছিল ৩৪০-৩৬০ টাকা দরে। দাম কমেছে পাউন্ডপ্রতি ১০ টাকা। 

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

আশার ব্যাপার হল গত এক মাসে দুইবার সুতোর দাম কমেছে, জুনে ও জুলাইর প্রথম সপ্তাহে। তবে স্থানীয় বাজারে সুতোর মূল্য না কমলে এটিকে সুখবর বলা যায় না। কারণ অতীতেও জাতীয় পর্যায়ে দাম কমেছে, স্থানীয় বাজারে বেপারিরা সুতোর দাম কমান নি। আমরা চাই দাম কমার ধারা নিয়মিত হয়ে মূল্য স্বাভাবিক হোক। তাহলে তাঁত শিল্প বাঁচবে, তাতীরা তাঁত চালাতে পারবে, সুতোর ব্যবসাও টিকে থাকবে। নয়তো শুরুতে যে শেষ দেখার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে সেটিই বাস্তব হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বি.দ্র: লিংক করা লেখাগুলোতে টাচ/ক্লিক করলে সংবাদ সূত্র দেখা যাবে।

দোহারে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন

ঢকার দোহার উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের বেসামরিক গেজেট যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত করেছে জামুকা (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল)। কমিটির কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান(এমপি)। মঙ্গলবার দোহার উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এই যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়।

এসময় যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আসা ৬২ জন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় ও তাদের সকল কাগজপত্রাদি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় ৬জন মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের লোকজন অনুপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭৫তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দোহার উপজেলার গেজেটে প্রেরিত তালিকার সাথে প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তালিকার গরমিল রয়েছে ৷ এছাড়া এই তালিকা নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল(জামুকা) এর এক চিঠিতে পুনরায় নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে বেসামরিক গেজেট যাচাই-বাছাই করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সেই নির্দেশনা মোতাবেক মঙ্গলবার ৬২ জন মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।

যাচাই-বাছাই কমিটির কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান(এমপি)। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল(জামুকা) এর সহকারী পরিচালক আব্দুল খালেক, সিস্টেম অ্যানালিস্টর মো. নুরুল ইসলাম, ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশন এর মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ মোল্লা, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রজ্জব আলী মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবুল কালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল রহমান(সোনা মিয়া) গাজী, বীর মুক্তিযোদ্ধা৷ এইচ এম মহিউদ্দিন, নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু বকর সিদ্দিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বেপারী, দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

লোডশেডিং নিয়ে কোন সুসংবাদ নেই 

সরকারের সাশ্রয় নীতিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চ দরের এলএনজি আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে কমেছে গ্যাস সরবরাহ। কমেছে বিদ্যুতের উৎপাদন। অনুসন্ধান বলছে, দিনে অন্তত ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি কম সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা। তাই সহসা লোডশেডিং থামবে বলে আশা করা হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকারের এই সাশ্রয়ের কথা উল্লেখ করে জনগণকে সহনশীল হওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

গত ২৯ জুন দেশে গ্যাস সরবরাহ ছিল ৩ হাজার ১৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট। তাতে আমদানি করা গ্যাস অর্থাৎ এলএনজি ছিল ৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এরপর থেকে প্রতিদিনই গ্যাস সরবরাহ একটু একটু করে কমানো হয়েছে। আজ গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ২ হাজার ৮২২ মিলিয়ন ঘনফুট। এরমধ্যে এলএনজি ৫০৭ মিলিয়ন ঘনফুট।

পেট্রোবাংলা বলছে, সোমবার দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৯১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ২৯ জুন ছিল ১ হাজার ৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। এই দুই দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৬৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমাতে দেখা গেছে। এই গ্যাস-রেশনিংয়ের ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হলে তেল বা কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানো হতো। এবার তা হতে দেখা যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি।

যদিও সরকারি সূত্রগুলো দাবি করছে, স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সেখান থেকে কেনা বন্ধ রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এলএনজির নিয়মিত সরবরাহ চুক্তিতে কাতার এবং ওমান ট্রেডিংয়ের ওপর ভরসা করছে সরকার।

উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় সারা দেশেই কম বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে এটি ফোর্স লোডশেডিং। অর্থাৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ালে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন পড়তো না। তারপরও করা হচ্ছে। খোদ রাজধানীতে এতদিন যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল, সেখান থেকেও সরে আসা হয়েছে।

ঢাকার দুই বিতরণ কোম্পানি জানিয়েছে, সব মিলিয়ে তাদের ৩০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ ঘাটতি হচ্ছে। ঘাটতি মেটাতে এলাকা ভেদে ৩০ মিনিট করে লোডশেডিং করা হচ্ছে।