দোহারে পদ্মা থেকে অজ্ঞাত তরুনীর লাশ উদ্ধার

0

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের চর পুরুলিয়া গ্রাম সংলগ্ন পদ্মানদীর তীর হতে অজ্ঞাত এক যুবতির ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে কুতুবপুর নৌ-পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় ভাসমান অবস্থায় লাশটিকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর পুরুলিয়া গ্রাম সংলগ্ন পদ্মানদীতে ভাসমান লাশ দেখে পেয়ে নৌ পুলিশকে জানালে কুতুবপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা নদীর কিনারায় ভাসমান অবস্থায় থাকা লাশটিকে উদ্ধার করা করে।

কুতুবপুর নৌ-ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই শামসুল আলম জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে লাশটি একটি নারীর। তার বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ বছর হবে। লাশটি প্রায় ২০ দিনের আগের হবে লাশটিতে পচঁন ধরেছে। ধারনা হচ্ছে অন্য কোথাও থেকে ভেঁসে দোহারে সীমানায় চলে এসেছে লাশটি। লাশের কোমড়ে সূতা দিয়ে মাটির কলস ও বস্তা বাঁধা ছিলো। আমরা লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দোহারে সংবাদ সম্মেলন নাজমুল হুদাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ঢাকার দোহার উপজেলায় বিএনপির সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলন করেছে দোহার উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বেপারী।

রবিবার বিকাল চারটায় দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারের এবি ব্যাংকের তৃতীয় তালায় ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন দোহার উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে বহিস্কৃত এক জন নেতা। তিনি বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় দোহারে আমাদের আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উপর নির্যাতন চালিয়ে। এমনকি আমার গাড়ি পুরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আগামী ২৭ জুলাই দোহার পৌর নির্বাচন প্রশ্ন বৃদ্ধ করার জন্য পৌর এলাকায় গতকাল পশ্চিম বানাঘাটায় টুকেছেন। যা বহিরাগত তিনি পৌর এলাকার ভোটার নন। তিনি পৌরসভার নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য এধরনের কাজ করছেন। এর আগে নুরুল ইসলাম তার নির্বাচনী প্রচারণা ভাল ভাবেই চালাচ্ছিলেন। কিন্তু নাজমুল হুদা দোহার পৌরসভার ভিতরে আসার সাথে সাথে সমস্যা সৃষ্টি হয় যা গতকাল দোহারবাসী দেখেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বেপারী, সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ, দেলোয়ার হোসেন মাঝি, তাবারক বেপারী প্রমুখ।

মৈনটে নিহত সানির মামলা: ১৫ বন্ধু রিমান্ড শেষে কারাগারে

0

ঢাকার দোহারের মৈনটে বেড়াতে গিয়ে বুয়েট ছাত্র তারিকুজ্জামান সানির পদ্মায় ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় মামলায় তার ১৫ বন্ধুকে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

গত ১৬ জুলাই এ ১৫ আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দোহার থানার কুতুবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শামসুল আলম আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন। তিনি মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।  আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন না দিয়ে তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবীর বাবুল এসব তথ্য জানান।

আসামিরা হলেন- সেজান আহম্মেদ, মো. রুবেল, মো. সজীব, শরীফুল হোসেন, শাকিল আহম্মেদ, মো. নুরুজ্জামান, মো. নাসির, মো. নোমান, মো. জাহিদ, এ টি এম শাহরিয়ার মোমিন, মো. মারুফ, মো. আশরাফুল আলম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন, মো. মারুফুল হক ও রোকনুজ্জামান ওরফে জিতু।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই বিকেলে ঢাকা জেলার দোহার থানাধীন মৈনট ঘাটে ১৫ বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে যান। সেখানে সন্ধ্যায় বাল্কহেডে দাড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে পিছলে পদ্মায় পড়ে  নিখোঁজ হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানি। পরে ১৫ জুলাই বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে মৈনট ঘাট থেকে সানির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের পঞ্চম সেশনের ছাত্র সানির বাবার নাম হারুন অর রশিদ। বাড়ি রাজধানীর হাজারীবাগে।

মরদেহ উদ্ধারের পর শুক্রবার বিকেলে সানির বড় ভাই হাসাদুজ্জামান দোহার থানায় মামলা করেন। এতে আসামি করা হয় সানির সঙ্গে ঘুরতে see যাওয়া ১৫ বন্ধুকে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়।

পৌরসভা মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলামের উঠান বৈঠক পণ্ডের অভিযোগ

দীর্ঘ ২২বছর পর আগামী ২৭ জুলাই ঢাকার দোহার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২৩ জুলাই শনিবার বিকালে দোহার পৌরসভার পশ্চিম বানাঘাটা মৃধা বাড়ি সংলগ্ন ৭নং ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম তার নির্বাচনী প্রচারণার উঠান বৈঠক করছিলেন। এসময় দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও বিলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিলাশপুর (ইউপি) চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদারের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি দল এসে নুরুল ইসলামের উঠান বৈঠক পণ্ড করে দেন বলে অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে আরও বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে উঠান বৈঠক করছিলাম সেখানে ছাত্রলীগের সভাপতি ও বিলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদারের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি বাহিনী আমাদের উপর হামলা চালায় এবং উঠান বৈঠকটি পন্ড করে দেয়। গণতন্ত্র দেশে এরকম সন্ত্রাসীপনা চলতে পারে না। আমি এর সঠিক বিচার চাই। আগামীদিন নিরাপত্তার সাথে প্রচারণা চালাতে প্রশাসনের সাহায্য এবং সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদার বলেন, আমি কেন তার উঠান বৈঠকে বাঁধা দিবো? উল্টো আমি তার উঠান বৈঠকে সাহায্য করেছি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম আজ তার নির্বাচনী প্রচারণায় দোহারে অবাঞ্চিত বিএনপি নেতা নাজমুল হুদাকে সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করতেছেন। আমরা তার প্রতিবাদ করেছি কিন্তু তার উঠান বৈঠক পণ্ড করি নি।

দোহার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন প্রার্থী অভিযোগ করেনি অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হচ্ছে নবাবগঞ্জ উপজেলা

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ৩৯, নবাবগঞ্জঃ ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হচ্ছে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা। দেশের ৫২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাঁচটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে যুক্ত হয়ে এই ঘরগুলো হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আরও ২৬ হাজার ২২৯টি পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর।

নবাবগঞ্জ উপজেলায় নদীতে সবহারা মানুষ পেয়েছে স্থায়ী ঠিকানা। এছাড়া, সমাজের প্রতিবন্ধী, অসহায়, দুস্থ মানুষের রয়েছে এখন আশ্রয়। তবে, রাজনৈতিক তদবিরে কিছু ঘর পাওয়ায় এখন অনেকেই এসব আশ্রায়নের ঘরে থাকেন না। প্রশাসন থেকে বার বার তাগিদ দিলেও তাদের দেখা মিলে না। এতে কিছু ক্ষেত্রে বঞ্ছিত হয়েছে যোগ্য মানুষ। তাই, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সফল করতে প্রকৃত ভূমিহীনদের হাতে উঠবে আশ্রায়ন সকল ঘরের চাবি – এটাই স্থানীয়দের

উপজেলাগুলো হলো- ঢাকার নবাবগঞ্জ, মাদারীপুরের মাদারীপুর সদর, শরীয়তপুরের ডামুড্যা, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মানিকগঞ্জের ঘিওর, সাটুরিয়া, রাজবাড়ীর কালুখালী। ফরিদপুরের নগরকান্দা, নেত্রকোনার মদন, ময়মনসিংহের ভালুকা, নান্দাইল, ফুলপুর, ফুলবাড়িয়া, জামালপুর বক্সীগঞ্জ। চট্টগ্রামের পটিয়া, কর্ণফুলী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, রামগঞ্জ, ফেনীর ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী, পঞ্চগড় সদর, দেবীগঞ্জ, তেঁতুলিয়া, বোদা। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওর বালিয়াডাঙ্গী। নীলফামারীর ডিমলা, নওগাঁর রানীনগর, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, রাজশাহীর মোহনপুর, চারঘাট, বাঘা, বগুড়ার নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া নাটোরের বাগাতিপাড়া। পাবনা ঈশ্বরদী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহ হরিণাকুণ্ডুু, সাতক্ষীরার তালা, মাগুরার মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর, শালিখা, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, পটুয়াখালীর দশমিনা।

দোহার পৌরসভায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া

ঢাকার দোহার উপজেলার ২২ বছর পরে পৌরসভার নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীদের প্রতীকে পোস্টারে ছেয়ে গেছে রাস্তাঘাট। চায়ের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পাড়া-মহল্লায় চলছে প্রার্থীদের এবং তাদের প্রতীক নিয়ে আলোচনা। ঈদের পর দিন থেকেই প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে মেয়র, কাউন্সিল ও মহিলা কাউন্সিলরা প্রার্থীরা। প্রচার প্রচারণা তালিকায় রয়েছে মাইকিং, উঠান বৈঠক, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া। এই ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে মহিলাদেরকে বিভিন্ন প্রার্থীর হয়ে তারা বিভিন্ন গ্রুপ ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছে প্রার্থীদের জন্য সেই সাথে দেওয়াও হচ্ছে চকলেট ও সিগারেট।

দীর্ঘ ২২ বছর পর দোহার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৭ জুলাই। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ার এবার মেয়র পদে ৮ জন লড়বে এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলের লোকই বয়েছে ৬ জন। বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলন হাত পাখার হয়ে মেয়র পদে লড়বেন আমজাদ হোসেন এবং বিএনপির সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী নাজমুল হুদার পছন্দের প্রার্থী মোঃ নুরুল ইসলাম লড়বে ইস্রি মার্কা নিয়ে। এছাড়া দোহার পৌরসভার কাউন্সিল পদে ৬১ জন ও সংরক্ষিত আসনে ১২ জন প্রার্থী লড়বে পৌরসভার নির্বাচনে।

পৌর প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণাও থেমে নেই। তেমনি পৌর নির্বাচনের প্রার্থীরা নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন ভোটর দের কাছে। ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন খান রাজিব বলছেন, আমি কাউন্সিল হলে ১০০ শতাংশ বয়স ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করব। যুবসমাজকে ধ্বংস করছে মাদক, আমি নির্বাচিত হলে এই ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করবো ইনশা আল্লাহ।’ এভাবে পৌর নির্বাচনের প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে।

অন্য দিকে ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ সেলিম বলেন, মানুষের চাওয়া অল্প কিছু বেশী চাওয়া না, মানুষ চায় তাদের জন্য যে, সরকারি বরাদ্দ থাকে সেগুলো সঠিক ভাবে বন্টনের। আর আমি নির্বাচীত হলে বয়স্ক ভাতা, ভিজিএফের চাউল, সরকারি ত্রাণ, নাগরিক সনদ ইত্যাদি সঠিক ভাবে বন্টন করবো।

৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ রাজিব শরীফ জানান, গতকাল সোমবার ঢাকা-১ আসনের সংসদ সালমান এফ রহমান আমাদেরকে ডাকছিলেন তিনি আমাদেরকে বলেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনী কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও থাকবে।

দোহার পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মোঃ আলমাছ তার ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বলেন, পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা রয়েছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সমস্যা রয়েছে। আমি বিগত বাইশ বছর দোহার পৌরসভার কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেছি সেই স্থান থেকে আমি যতটুকু পেরেছি কাজ করেছি। আমি আশা করি পৌর মেয়ের হতে পারলে আরো বেশি উন্নয়ন করতে পারবো পৌর বাসির জন্য। তাই আপনারা আমাকে জগ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।’

তবে আওয়ামী লীগের অন্য অন্য প্রার্থী থাকলেও বেশির ভাগ নেতা কর্মীকেই মেয়ের প্রার্থী আলমাছের হয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচন সম্পর্কে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, ব্যক্তি হিসেবে যে কেউকে আমার পছন্দ হতে পারে। তবে দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচনে যারা অংশ গ্রহণ করেছে তারা সবাই আমার প্রার্থী।

দোহার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, দীর্ঘ দিন পর পৌরসভার নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মাঝে ভোটের আনন্দ ফিরে এসেছে। আগামী ২৭ জুলাই পৌর নির্বাচন ইভিএম এ হবে এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

দোহারে পানিতে ডুবলো চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী

ঢাকা দোহার উপজেলা লটাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের সাথে থাকা খালের ঘাটলায় গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় রাহাত (৯)। তার পিতার নাম খলিল চোকদার।

পরিবারের স্বজনেরা অনেক খোজাখুজির পর না পেয়ে পরে তারা দোহার থানা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল এসে অনেক সময় ধরে অনুসন্ধান করে রাহাতের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় রাহাতের পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

রাহাতের বাবা খলিল চোকদার বলেন, আমার ছেলে নদীতে গোসল করতে যায়। আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমি বাসায় এসে জিজ্ঞেস করি আমার ছেলে কোথায়। না পেয়ে খোজাখুজি করে খালের দিকে গেলে আমি আমার ছেলের জুতা ঘাটে দেখতে পাই। তখন আমি বুঝতে পারি, আমার ছেলে এখানেই আছে। আমার ছেলে বিলের পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতেন।

কোন মিসিং ডাইরি বা অভিযোগ করছেন কিনা এমন প্রশ্নে উত্তরে মৃত রাহাতের বাবা বলেন,আমি আর কি অভিযোগ করুম! আমার ছেলেতো চলেই গেলো। আমি এখানে লটাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে মাস চারের ধরে শাহাজাহান এর বাড়িতে ভাড়া থাকি। আমার দেশের বাড়ি শরিয়তপুর।

ফায়ার সার্ভিসের লিডার আব্দুল হাদি বলেন, আমরা যাওয়ার পরে জানতে পারি যে একটি শিশু গোসল করতে এসে পানিতে ডুবে গেছে। পাশেই একটি ছেলে ছিলো, সে কিছু বুঝতে পারেনি। ডুবে যাওয়ার পর এলাকাবাসী খোজাখুজি পর আমাদের কে খবর দেয়। তারপরে কিছুক্ষন খোজাখুজি পরই রাহাতের মৃতদেহ আমরা উদ্ধার করি। লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মৈনটে বুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যু: দূর্ঘটনা না হত্যা?

news39.net: দোহারের মৈনট ঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে বুয়েট ছাত্র তারিকুজ্জামান সানির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেছে নিহতের পরিবার। বিষয়টি নিয়ে শংকা জেগেছে যে এটি দূর্ঘটনা নাকি হত্যা। কারণ ইতঃমধ্যে তার ১৫বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মৈনট ঘাট থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) রাতে দোহার থানায় মামলা করেছে নিহত সানির পরিবার। আর এই মামলায় তার সাথে ঘুরতে যাওয়া ১৫ বন্ধুকে আটকের পর গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

নিহত তারিকুজ্জামান সানি (২৫) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি শরীয়তপুরের জাজিরা থানার বাসিন্দা হারুন-উর-রশিদের ছেলে।

দোহার থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, গতকাল রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের বড় ভাই হাসানুজ্জামান দোহার থানায় মামলা করেন।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মিডফুড স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে তার আত্মীয় স্বজনরা নিহতের লাশ তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়েছে। গ্রেফতার কারী ১৫ জনকে আজকে সকলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দোহারে নির্মল রঞ্জন গুহের স্মরণসভা সম্পন্ন

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদ্য প্রয়াত সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ’র স্মরণসভা ও শ্রাদ্ধ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া একইস্থানে শোক সভার আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার ঢাকার দোহার উপজেলার বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই আয়োজন করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাহাউদ্দীন নাসিম বলেন, এমন সময়ে রাজনৈতিকভাবে এমন নিখাঁদ মানুষ খুব কঠিন। নির্মল সত্যই নির্মল ছিলেন। তার যে জনপ্রিয়তা আমরা দেখেছি, সত্যই তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আজ যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, একদিন তার যোগ্য পুত্র নয়ন- অঞ্জন নিশ্চয় তা পূরণ করবে। আপনারা সবাই নির্মলের জীবনের থেকে রাজনৈতিক শিক্ষা নিবেন, এটাই প্রত্যাশা।

স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আফজাল বাবু বলেন, দাদা ছিলেন আমার বড় ভাই। তিনি ছিলেন আমার রাজনৈতিক অভিভাবক। তিনি নেই, এটা ভাবলেই আজ সকল নেতা-কর্মীদের মাঝে শূন্যতা বিরাজ করে। এই শূণ্যতা অপূরণীয়। আজ এখানে উপস্থিত সবাই কে দাদার আদর্শ, তার জীবনধারা অনুসরণ করে রাজনীতি করতে হবে, তাহলে দাদার আত্মা শান্তি পাবে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান জয় বলেন, ছাত্রলীগের দুর্দিনের পূর্বসূরি দাদা। আমরা যখনই দাদাকে ডেকেছি কাছে পেয়েছি। ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মীকে তিনি আপন ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন। জাতীয় নেতা হিসেবে তার যে জনপ্রিয়তা, সেটাই আমাদের শিক্ষা।

শোক সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম. বাহা উদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবজাল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মিনাল কান্তি দাস, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যান সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।

আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান,
সাবেক আইজিআর খান মো. আব্দুল মান্নান, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হালিমা আক্তার লাবন্যসহ প্রয়াত নেতা নির্মল রঞ্জন গুহের স্ত্রী আলো রানী গুহ, দুই পুত্র, মা, ভাই ও বোনসহ আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খিরা উপস্থিত ছিলেন।

শোকসভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য সুরুজ আলম সুরুজ।
বৃহস্পতিবার দোহারের বাস্তা গ্রামের নিজ বাড়িতে শ্রাদ্ধক্রীয়া সম্পন্ন হয়।

শুক্রবার বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে স্মরণসভা ও শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে মৎস্যমুখীর আয়োজনে বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার অতিথিকে আপ্যায়ন করা হয়।

দোহার পৌর নির্বাচনে আচরণবিধি সংক্রান্ত মত বিনিময় সভা 

ঢাকার দোহার উপজেলার দোহার পৌর নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালন সংক্রান্ত মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোহার পৌরসভা সাধারণ নির্বাচন-২০২২ উপলক্ষে নির্বাচনে প্রতিদন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে আচরণবিধি প্রতিপালন সংক্রান্ত মত বিনিময় সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল ইসলাম।

এসময় তিনি বলেন, দোহার পৌরসভার নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ। আপনারা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন, আপনাদের নেতাকর্মীদের মেনে চলতে বলবেন। যদি কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করে, সে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হবে। ইভিএম দ্বারা ভোট গ্রহন করা হবে। ইভিএম এ কিভাবে ভোট দেওয়া হয় এবং এই মেশিনে কোনো ত্রুুটি আছে কিনা এবিষয়ে আপনাদের সামনে ড্রেমো হিসেবে ভোট দিয়ে দেখানো হবে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার, ঢাকা জেলা স্থানীয় সরকার পিএএ মো. আবুজাফর রিপন, ঢাকা জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মুনীর হোসাইন খান, কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার আশ্রাফুল আলম। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি, দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল, দোহার পৌরসভার মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী এবং সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীগণ।