মাহমুদুল হাসান সুমন, দোহার (ঢাকা)
ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে কাটতে শুরু করেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার ভোগান্তি। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় পাম্পগুলোতে আগের সেই উপচে পড়া ভীড় ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি আর দেখা যাচ্ছে না। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও এই আসনের সংসদ সদস্যের কার্যকরী ব্যবস্থাপনায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে এই তেল জটের।
কয়েক সপ্তাহ আগেও এমনকি গত সপ্তাহেও দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার তেলের পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল, পরিবহন যানযট ও ব্যক্তিগত গাড়ির কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেককে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। তবে বর্তমানে সেই অস্থিরতা কেটে গিয়ে পাম্পগুলোতে ফিরে এসেছে চিরচেনা স্বাভাবিক পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্র ও চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মূলত দুটি কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছ, প্রথমটি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরের শুরুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের যে হিড়িক পড়েছিল, তা এখন নেই।
আর মূলত সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় গ্রাহকরা এখন প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করছেন।
এই ব্যাপারে নিয়মিত গ্রাহক মো আল-আমিন বলেন,
“এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়তে হচ্ছে না। পাম্পে আসামাত্রই দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং আগের মতো কোনো বিশৃঙ্খলাও নেই। স্থানীয় এমপি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ঢাকায় তেল ডিপোতে ও মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন বলে জানতে পেরেছি।
দোহার পেট্টোল পাম্পের ম্যানেজার মোস্তফা আহমেদ জানান, “আগে তেলের দাম বাড়ার গুজবে মানুষ আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল নিতে ভিড় করেছিলেন। এতে পাম্পে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এবং ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক না থাকায় গ্রাহকরা অনায়াসেই তেল নিতে পারছেন। এই ব্যাপারে মাননীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এমপি ও উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এই ব্যাপারে ট্যাগ অফিসার এবং দোহার উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার আব্দুস সাত্তার বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা যদি এভাবেই নিয়মিত থাকে এবং সাধারণ মানুষ যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত মজুত করার প্রবণতা থেকে বিরত থাকে, তবে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল থাকবে।
