চাকরি খুঁজবেন কোথায়? চাকরি খোঁজার সহজ উপায়

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

আশির দশকের বাংলা সিনেমায় নায়ককে দেখা যেত ফাইল বগলে নিয়ে শহরের এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ছুটছে। রিসেপশনে ঢুকেই চোখ পড়ত সেই অমোঘ সাইনবোর্ডে— “কর্ম খালি নেই”। কোথাও কোথাও গেইট থেকে ফিরিয়ে দিত, ভেতরে ঢুকতেই দিত না। ইলিয়াস কাঞ্চন বা জসিমের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে না? দিন শেষে জুতা পুরোনো হতো, মুখে ক্লান্তির ছাপ পড়ত, কিন্তু চাকরিটা আর ধরা দিত না।

বাস্তব জীবনও খুব আলাদা ছিল না। চাকরির খবর মানেই ছিল পত্রিকার ভেতরের পাতায় ছোট ছোট বিজ্ঞাপন, কিন্তু কয়টা পত্রিকা একজন বেকার কিনতে পারে? এক প্রতিষ্ঠান সব পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে পারত না। কিংবা পরিচিত কোনো বড় ভাইয়ের অস্পষ্ট আশ্বাস— “দেখি কিছু করা যায় কি না”। তথ্যের অভাবে অনেকেই জানতেই পারতেন না কোথায় কোন সুযোগ আছে।

কিন্তু সময় বদলেছে। আজকের বাংলাদেশে চাকরি খোঁজার জন্য আর অফিসে অফিসে ঘুরে বেড়াতে হয় না, দেয়ালে ঝোলানো “কর্ম খালি নেই” সাইনবোর্ডও আর খুব একটা চোখে পড়ে না। এখন স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের স্ক্রিনেই মিলছে হাজারো চাকরির তথ্য—সরকারি থেকে বেসরকারি, দেশি থেকে বিদেশি, ফ্রেশার থেকে অভিজ্ঞ—সব এক জায়গায়। সমস্যা এখন তথ্যের অভাব নয়, বরং সঠিক পথে খোঁজ না করা।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন হলো—আজকের দিনে বাংলাদেশে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলো কী? কোন পথে গেলে সময় বাঁচে, সুযোগ বাড়ে? সেসব নিয়েই এই লেখা।

১. বিডিজবস: অনলাইন চাকরি পোর্টাল

বর্তমান সময়ে বেসরকারি চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো অনলাইন জব পোর্টাল। এখানে প্রতিদিন হাজারো নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। প্রার্থীরা প্রোফাইল খুলে সিভি আপলোড করে সহজেই আবেদন করতে পারেন এবং ই-মেইলের মাধ্যমে আপডেট পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশের বৃহত্তম জব সাইট হল Bdjobs.com. এখানে আপনার সিভি তৈরি করে খুব সহজেই আবেদন করতে পারবেন। সবচে জনপ্রিয় সাইট হিসেবে দেশের প্রায় সব বৃহৎ ও মাঝারি বেসরকারী কোম্পানি এখানে চাকুরির বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এমনকি ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান ও বিদেশী প্রতিষ্ঠানও এখানে চাকুরির বিজ্ঞাপন প্রকার করে। বিডিজবস ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশী জব পোর্টাল আছে, তবে সেগুলো স্বল্পআয়ু হওয়ায় এখানে উল্লেখ করা হল না।

২. কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ক্যারিয়ার পেজ

অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরির বিজ্ঞপ্তি জব পোর্টালে দেওয়ার আগেই নিজস্ব Career বা Jobs সেকশনে প্রকাশ করে। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আগ্রহ থাকলে তাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখা কার্যকর উপায়। তবে এটা একটু কঠিন পদ্ধতি, ওই অনেকটা বাংলা সিনেমার নায়কদের মত করে কোম্পনিদের ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা। খুব অল্প প্রতিষ্ঠান আছে যারা বিডিজবসে বিজ্ঞাপন দেয় না, দিলেও সব দেয় না, তাদের ওয়েব সাইট দেখা যেতে পারে।

৩. লিংকডইন ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

বর্তমানে ফেসবুক ও লিংকডইন চাকরি খোঁজার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে লিংকডইন। অনেক প্রতিষ্ঠান ও রিক্রুটার সরাসরি লিংকডইনে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেন। লিংকডইনে প্রোফাইল হালনাগাদ রাখা এবং প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক তৈরি করলে চাকরির সুযোগ বাড়ে।

ফেসবুকের যদিও ট্রাস্ট ইস্যু আছে এবং সুনির্দিষ্ট কোনো জব পোর্টাল নেই তবু এখানেও চাকরির খবর পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ফেসবুক পেজে চাকরির বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞাপনের লিংক শেয়ার করে। বেশ কিছু গ্রুপ আছে যেখানে নিয়মিত চাকরির সন্ধান পাওয়া যায়।

৪. নেটওয়ার্কিং ও রেফারেন্স

বাংলাদেশের চাকরি বাজারে নেটওয়ার্কিং এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিচিত সিনিয়র, সহকর্মী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের মাধ্যমে অনেক সময় অঘোষিত চাকরির খবর পাওয়া যায়। তবে রেফারেন্সের পাশাপাশি নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. জব ফেয়ার

বাংলাদেশে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান ক্যারিয়ার নিয়ে কাজ করে। তারা দেশের বিভিন্ন শহরে নিয়মতি জব ফেয়ার করে। জব ফেয়ারগুলো সাধারণ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়, সেখানে ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আবেদন করার সুযোগ পায়। বিভিন্ন কনভেনশন সেন্টারেও জব ফেয়ার হয়, এগুলো উন্মুক্ত থাকে, যে কেও গিয়ে আবেদন করতে পারে। জব ফেয়ারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের স্টলে জব অফার করে। সেখানে সরাসরি আবেদন করে সেখানেই ইন্টারভিউ’র ব্যবস্থা থাকে। জব ফেয়ারে পড়া লেখা শেষ হবার আগেই চাকরি পাবারও সুযোগ থাকে।

৫. ইন্টার্নশিপ ও ট্রেইনি প্রোগ্রাম

ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বেসরকারি চাকরিতে ঢোকার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো ইন্টার্নশিপ ও ট্রেইনি প্রোগ্রাম। অনেক প্রতিষ্ঠান এখান থেকেই স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করে।

৬. মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি

বাংলাদেশী চাকরিপ্রার্থীদের বিদেশেও চাকরি খোঁজা উচিৎ, সেখানেও দারুণ সব সুযোগ রয়ে গেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে। মধ্যপ্রাচ্যের সবচে’ বড় ও জনপ্রিয় জব সাইট হল bayt.com.
বায়ৎ.কম মধ্যপ্রাচ্যের সবগুলো দেশের চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়, এজন্য এটা একটা সুবিধা যে এক যায়গায় সব অনেকগুলো দেশের চাকরি সুযোগ দেখা যায়। বায়ৎ.কমে আবেদন মধ্যপ্রাচ্যে চাকরির সুযোগ বাংলাদেশীদের নেয়া উচিৎ।

সরকারি চাকরি খোঁজার উপায়

১. সরকারি গেজেট ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখা

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য আসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)–এর ওয়েবসাইটে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটেও আলাদা করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

২. জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন সংস্করণ

এখনও অনেক সরকারি দপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রথমে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করে। পত্রিকার চাকরি পাতার অনলাইন সংস্করণ নিয়মিত দেখলে একাধিক সরকারি নিয়োগ একসঙ্গে পাওয়া যায়।

৩. সরকারি চাকরির জন্য নির্দিষ্ট ওয়েব পোর্টাল

বর্তমানে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি সংগ্রহ করে এমন বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ তথ্য এক জায়গায় প্রকাশ করে। এসব পোর্টাল সময় বাঁচাতে সাহায্য করে, তবে আবেদন করার আগে মূল বিজ্ঞপ্তি অফিসিয়াল উৎস থেকে যাচাই করা জরুরি।

৪. প্রস্তুতি ও পরীক্ষার সময়সূচি নজরে রাখা

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে শুধু বিজ্ঞপ্তি জানলেই যথেষ্ট নয়। লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও ফলাফলের সময়সূচি নিয়মিত খেয়াল রাখা দরকার। অনেক প্রার্থী সময়মতো তথ্য না জানার কারণে সুযোগ হারান।

– পারভেজ রবিন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

দোহারে কুকুরের কামড়ে আহত শিশু, ভ্যাকসিন মেলেনি হাসপাতালে

ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা খালপাড় এলাকার ১৩ বছর বয়সী আব্দুল আলীমকে আজ সন্ধ্যায় একটি কুকুর কামড়ে দেয়। পরে...

পদ্মায় স্পিডবোটের তলা ফেটে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু, আহত ৮

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর গোপালপুর ঘাট থেকে মৈনট ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি স্পিডবোট ডুবে দুর্গা রায়...

ইছামতি বাঁচাতে দোহারে সুইচ গেট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরল দুই সংগঠন

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার ইছামতি নদী বাঁচাতে সুইচ গেট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে ‘সেভ...

তালের শাঁসের মায়াবী মধুবেলা: দোহারে গ্রীষ্মের গল্প

মাহমুদুল হাসান সুমন : রোদের উত্তাপে যখন জনজীবন হাঁসফাঁস, চারপাশের ধূসর ধুলোর স্তব্ধতায় মন যেন পুড়ে যায়, তখনই এক...