আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মাতল হাজারো দর্শনার্থী ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ও কোমরগঞ্জ এলাকায় ইছামতী নদীতে এক যুগ পর আয়োজিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাহ্রা ও বক্সনগর ইউনিয়ন এবং কোমরগঞ্জ-বাহ্রা এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
ইছামতী নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শক জমে ওঠেন প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে। অনেকে ইঞ্জিনচালিত টলার, স্পিডবোট ও পানসি নৌকা নিয়ে নদীতে ভীড় করেন। দর্শকের হর্ষধ্বনি, তালি আর ঢোল-তবলার তালে মাঝিরা হেঁইয়ো রে হেঁইয়ো স্লোগানে বাইচকে মাতিয়ে তোলেন। দীর্ঘদিন পর এ আয়োজন ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে।
নৌকা বাইচ ঘিরে নদীর দুই পারে মেলায় বসে খেলনা ও মাটির সামগ্রীর দোকান। বিভিন্ন নৌকাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। মাঝি-মাল্লারা জারিগান গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তোলে।
এবারের প্রতিযোগিতায় ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ থেকে মোট ১৫টি বড় নৌকা অংশ নেয়। এর মধ্যে করম আলী এক্সপ্রেস, লিটন-২, বলধারার ঐতিহ্য, লিটন-৩, তুফান, আব্দুল খালেক, খাঁন বাড়ী, মামা-ভাগ্নিনা, সোনারতরী, তুফান-২, সিকদার বাড়ীসহ বেশ কয়েকটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। সবার পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করে ‘লিটন-২’। তাদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি ১২৫সিসি হিরো গ্লামার মোটরসাইকেল। অন্য অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল ফ্রিজ ও এলইডি টেলিভিশন।
নৌকা বাইচ ঐতিহ্যরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য। এটি যাতে হারিয়ে না যায়, আমরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। ইছামতী নদীর পদ্মা অভিস্থলে স্লুইচগেট হলে পানির সমস্যা দূর হবে এবং আরও অনেক জায়গায় বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হবে।”
কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, নতুন প্রজন্মকে নৌকা বাইচের সঙ্গে পরিচিত করানোর পাশাপাশি মানুষের বিনোদনের জন্যই এই আয়োজন করা হয়েছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। আরও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালাম খন্দকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আল মামুন, অ্যাডভোকেট খলীলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
