দোহারে পুলিশের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: দোহার ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া এলাকায় পুলিশের পরিচয়ে এক যুবককে আটকের পর ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী লিমন হোসেন ও তার পরিবারের অভিযোগ, দোহার থানার দুই এএসআই আরিফ ও মনির এই ঘটনায় জড়িত। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থানা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩ মে দুপুরে সুতারপাড়া হলের বাজার থেকে ব্যক্তিগত কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন লিমনের ছোট ভাই ইমন। বাড়ির মাত্র ১০০ গজ দূরে পৌঁছালে, হঠাৎ দুই ব্যক্তি তার গতিরোধ করে নিজেদের দোহার থানার এএসআই আরিফ ও মনির পরিচয় দেন। তারা লিমনকে নানা প্রশ্ন করে এবং সার্চ করার নামে তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। পরে একজন মাস্ক পরা ব্যক্তি এসে পুলিশের কাছে কিছু হস্তান্তর করেন।

পুলিশ সদস্যরা এরপর লিমনকে জানায়, তার পকেটে ইয়াবা পাওয়া গেছে এবং তাকে আদালতে চালান দেওয়া হবে। তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল বিকাশে থাকা ১৪,৮০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। সেই টাকা বিকেল ৪:৩৩ মিনিটে ‘মোবাইল হসপিটাল’ নামক একটি বিকাশ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশআউট করা হয়। এরপর পকেটে থাকা আরও ৮,৬০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর দুই এএসআই বলেন, মোবাইল ফেরত পেতে হলে আরও ৪০,০০০ টাকা দিতে হবে, নতুবা লিমনকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসানো হবে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত লিমন তার ভাই ইমনকে ফোন দেন। ইমন কর্মস্থল থেকে অগ্রিম বেতনের ২০,০০০ টাকা নিয়ে আসেন এবং কাজীরচরের বড় ব্রিজের উপর রাত ৭:৩০ মিনিটে দুই পুলিশ সদস্যের হাতে সেই টাকা তুলে দেন। বিনিময়ে মোবাইলটি ফেরত দেওয়া হয়। এভাবে তিন ধাপে মোট ৪৩,৪০০ টাকা আদায় করেন দুই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা।

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই মনিরকে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেন। পরে জানান, “একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ভাইয়ের সাথে মিটমাট হয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “ভাই, আপনি চাইলে আমার ক্ষতি করতে পারেন। আমার চাকরি নিয়ে সমস্যা হবে। বিকেলে দেখা করেন, কথা বলি, তারপর প্রয়োজন হলে নিউজ করেন।”

ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, ইতোমধ্যে পুলিশের হেডকোয়ার্টার ও রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে। একই সাথে তারা নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন। লিমন বলেন, “ভাই, বিভিন্ন দিক থেকে ফোন ও চাপ আসছে। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি।”

স্থানীয় এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক) বলেন, “পুলিশ যদি ভয় দেখিয়ে টাকা তোলে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা তো পুলিশের কাছেই নিরাপত্তা চাই। অথচ এখন পুলিশকেই ভয় পাই।”

এই বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, “এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য হয়, তবে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা চাইলে, তা নিশ্চিত করা হবে।”

দোহার সার্কেল এএসপি আশরাফুল আলম বলেন, “আমাদের কাছে সরাসরি কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

বান্দুরা থেকে সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পুরাতন বান্দুরা পিত্তিতলা এলাকা থেকে তৌকির নামে এক সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে স্থানীয় যুবসমাজ।...

দোহারে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

স্টাফ রিপোর্টার : দেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির দোহার উপজেলা শাখার...

জয়পাড়ায় দোকান থেকে কর্মচারীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, আটক ২

ঢাকার দোহারে এক দোকান কর্মচারীকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে দুই যুবককে আটক...

দোহার ও নবাবগঞ্জে আওয়ামীলীগের ১২ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে...